📘 পুণ্যময় আখেরাত > 📄 চলে মুসাফির ফুরিয়ে বেলা

📄 চলে মুসাফির ফুরিয়ে বেলা


আমাদের চলমান এই সফর দুনিয়া থেকে আখেরাতের দিকে ধাবমান। প্রতিনিয়ত দুনিয়ার পথ সমাপ্ত করে আমরা আখেরাতের দিকে যাত্রা করছি। যেটি আমাদের উদ্দিষ্ট লক্ষ্য। পেছনের পথ যত পেরিয়ে যাচ্ছি আখেরাত ততই আমাদের নিকটবর্তী হচ্ছে। আমি প্রায়শই একটি উপমা পেশ করে থাকি; যাতে প্রস্ফুটিত হয়ে ওঠে প্রকৃত বাস্তবতা। আর তা হলো, জনৈক ব্যক্তি একটি অট্টালিকা নির্মাণ শুরু করল। দীর্ঘ প্রচেষ্টা এবং অবিরাম শ্রমের পর সেটির নির্মাণ সমাপ্ত হলো। আর তখনই তার মালিক একটি ভারী ও শক্ত শাবল দিয়ে প্রাসাদের দেয়ালে প্রচণ্ডভাবে আঘাত করতে লাগল।

শাবলের ক্রমাগত আঘাতে অট্টালিকাটি ভেঙে পড়ল। কিছুক্ষণ পূর্বে যেটি সৌন্দর্য আর ঐশ্বর্য নিয়ে দাঁড়িয়েছিল, সেটি এখন দুমড়ে মুচড়ে পড়ে আছে। দেখতে কী অসুন্দর আর কুৎসিত। আমরা ওই ব্যক্তিকে ঠিক কী বলে সম্বোধন করব? যদি কিছু না বলি, অন্তত এতটুকু তো বলব, সে একজন পাগল, বদ্ধ উন্মাদ। বিবেক-বুদ্ধির ন্যূনতম বালাই নেই তার মাঝে।

হে আল্লাহর বান্দাগণ! বর্তমানে আমাদের প্রকৃত অবস্থা হলো ওই ব্যক্তির মতোই। যখন রহমত মাগফেরাত ও নাজাতের বার্তা নিয়ে আগমন করে মহিমান্বিত রমজান মাস, তখন দলে দলে লোকেরা মসজিদের দিকে ছুটে। আল্লাহর নিকট অনুনয়-বিনয়ের সাথে দোয়া করে। দীর্ঘ এক মাস অত্যন্ত আগ্রহ-উদ্দীপনার সাথে রমজানের সিয়াম পালন করে। কুরআন তিলাওয়াত এবং জিকিরের মাধ্যমে আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ করে। এসব হলো পাথেয়, যার দ্বারা মুসাফির পথিমধ্যে নিজের প্রয়োজনাদি পূরণ করে। কিন্তু যখনই রমজান বিদায় নিয়ে চলে যায় অমনি সে তার পূর্বাবস্থায় ফিরে আসে।

পূর্বের ন্যায় অবাধ্যতা ও নাফরমানিতে লিপ্ত হয়ে যায়। গুনাহ ও পাপাচারের সাগরে নিমজ্জিত হয়ে পড়ে। ফলে সে তার এক মাসের পালিত সিয়াম বিনষ্ট করে। নামাজ আদায় করে না। আজান হলেও মসজিদের দিকে ছুটে যায় না। কুরআন তিলাওয়াত, জিকিরের পরিমাণ কমিয়ে দেয়। কেমন যেন দীর্ঘ এক মাস সিয়াম পালন করে, কুরআন তিলাওয়াত, জিকির, দোয়া, কান্নাকাটি করে যে অট্টালিকাটি নির্মাণ করেছে সেটি ভেঙে ফেলেছে রমজানের পর।

📘 পুণ্যময় আখেরাত > 📄 কুরআনের ভাষায় ওরা নির্বোধ

📄 কুরআনের ভাষায় ওরা নির্বোধ


আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে তাদের ব্যাপারে বড় চমৎকার একটি উপমা পেশ করেছেন,

وَلاَ تَكُونُوا كَالَّتِي نَقَضَتْ غَزْلَهَا مِنْ بَعْدِ قُوَّةٍ أَنكَانًا

'তোমরা সেই নারীর মতো হয়ো না, যে তার সুতা শক্তভাবে পাকানোর পর তার পাক খুলে দেয়।'

আল্লাহ তায়ালা আমল বিনষ্টকারী লোকদের ওই মহিলার সাথে তুলনা করেছেন যে তার দীর্ঘ প্রচেষ্টা ও শ্রমের পর সুতাকে শক্তভাবে পাকিয়েছে। আর যখন সেটি পূর্ণতায় পৌঁছল তখনই সুতার পাক খুলে দিয়ে সেটিকে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়েছে। দীর্ঘ সময়ের প্রচেষ্টার কোনো মূল্য আর অবশিষ্ট রইল না। অযথা বৃথা গেল তার শ্রমটুকু। নামাজ, রোজা, ইবাদত, কুরআন তিলাওয়াত, জিকিরসহ যাবতীয় পুণ্য কাজ করার পর যখন মুসাফির পথের পাথেয় ও সামগ্রী সঞ্চয় করেছে, তখন সে যেন নিমিষেই তা পুড়িয়ে দিয়েছে। এখন পূর্বের ন্যায় পাথেয় এবং সামগ্রীবিহীন পথ পাড়ি দিতে হবে। আর মাঝখানে অযথাই কষ্ট করল। পরিশেষে তার ভাগ্যে জুটলো নিদারুণ পরিহাস, দুর্ভোগ ও লাঞ্ছনা। দুনিয়ার অসম্মান এবং আখেরাতের শাস্তি।

টিকাঃ
১. সুরা নাহল: ৯২।

📘 পুণ্যময় আখেরাত > 📄 ধ্বংস নয় এসো নির্মাণ করি

📄 ধ্বংস নয় এসো নির্মাণ করি


হে আমার প্রিয় বন্ধুরা! ধ্বংস অত্যন্ত সহজ, কিন্তু নির্মাণ খুবই কঠিন। প্রতিটি নির্মাণই সীমাহীন প্রচেষ্টা ও শ্রমের মাধ্যমে গড়ে ওঠে। প্রয়োজন হয় দীর্ঘ সময়ের। কিন্তু সেটি ধ্বংস করতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হয় না। অধিক চেষ্টা ও শ্রমের দরকার পড়ে না। চার বা ছয় তলার একটি ভবন এক মুহূর্তে ভেঙে ফেলা সম্ভব। কয়েক মাস কিংবা কয়েক বছরব্যাপী যেটি নির্মাণ করা হয়েছে সেটি কয়েক মুহূর্তে ধ্বংস করা অসম্ভব নয়। চূড়ায় আরোহণ করা বেশ কঠিন। প্রচুর সাহস ও আত্মবিশ্বাসের প্রয়োজন হয়। প্রচণ্ড কষ্ট ও পরিশ্রম শেষে তবেই পাহাড়ের চূড়ায় আরোহণ করতে হয়। কিন্তু সেখান থেকে নিচে অবতরণ করা খুবই সহজ। তখন কষ্ট ও পরিশ্রমের দরকার হয় না। খুব সহজেই সেখান থেকে অবতরণ করা যায়।

ঠিক তেমনি মানুষের ক্ষেত্রে। অধিকাংশ মানুষ এমন, যারা দীর্ঘ কষ্ট ও পরিশ্রমে আমল করে। নেক কাজের মাধ্যমে সমৃদ্ধ করে তার আমলের পাল্লা। নির্মাণ করে আখেরাতের জন্য সুদৃঢ় প্রাসাদ। কিন্তু শয়তান তাদের ধোঁকায় ফেলে নিমিষেই সকল আমল নষ্ট করে দেয়। দীর্ঘ প্রচেষ্টা শেষে অর্জন বলতে কিছুই থাকে না তখন। শয়তান মানুষের অগ্রযাত্রা ও সমৃদ্ধি অর্জনের জন্য বড় প্রতিবন্ধক। সরল-সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত করতে শয়তান অসংখ্য কর্মপন্থা ছড়িয়ে রেখেছে চারপাশে।

📘 পুণ্যময় আখেরাত > 📄 ঈমান পুণ্যময় প্রাসাদের শিকড়

📄 ঈমান পুণ্যময় প্রাসাদের শিকড়


মূল বিষয় হলো ঈমান। আখেরাতের জন্য নির্মিত সেই পুণ্যময় প্রাসাদ ধ্বংস হবে নাকি অটুট থাকবে এর সমাধান হবে ঈমানের ভিত্তিতে। কারো ঈমান যদি সুদৃঢ় ও শক্তিশালী হয় তাহলে তার আমল দ্বারা নির্মিত প্রাসাদ ধ্বংস হবে না। শয়তান তাকে পরাস্ত করতে পারবে না। সরল-সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত করতে সক্ষম হবে না। পক্ষান্তরে কারো ঈমান যদি হয় দুর্বল ও ভঙ্গুর, তাহলে তার আমলের মাধ্যমে নির্মিত অট্টালিকা ধ্বংস হয়ে যাবে। শয়তান তাকে সহজেই পরাস্ত করতে সক্ষম হবে। যার ঈমান যত শক্তিশালী হবে তার আমল ততই অধিক হবে। আখেরাতের জন্য নির্মিত প্রাসাদ ততই অটুট ও মজবুত থাকবে। আর যার ঈমান যত দুর্বল হবে তার আমল হবে তত নড়বড়ে।

ইরশাদ হয়েছে, عِنْدَ اللَّهِ خَيْرٌ وَأَبْقَى لِلَّذِينَ آمَنُوا وَعَلَى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ 'আল্লাহর নিকট যা আছে তা উত্তম ও স্থায়ী তাদের জন্য, যারা ঈমান আনে এবং তাদের প্রতিপালকের ওপর ভরসা করে।'

কারো আমল বিনষ্ট হয় না, আবার কারো আমল বিনষ্ট হয়ে যায়। কারো প্রাসাদ অক্ষত থাকে আবার কারো প্রাসাদ ধসে পড়ে। দুই শ্রেণির মাঝে ব্যবধান হবে ঈমান শক্তিশালী ও দুর্বল হওয়ার ভিত্তিতে। যাদের ঈমান শক্তিশালী তাদের কোনো ভয় নেই। আর যাদের ঈমান দুর্বল তাদের জন্য রয়েছে সমূহ দুর্গতি। আমল করে তারা আখেরাতের জন্য যে প্রাসাদ নির্মাণ করতে থাকবে, ঈমানের দুর্বলতার কারণে তা ধ্বংস হয়ে যাবে। ঈমান দুর্বল হওয়ার কারণে আমল করার পরও তারা শয়তানের ধোঁকায় পতিত হয়। প্রবৃত্তির তাড়নায় অবাধ্যতা ও নাফরমানিতে লিপ্ত হয়ে পড়ে। গুনাহ ও পাপাচারিতায় জড়িয়ে পড়ে। ফলে তা নেক আমলকে ধ্বংস করে দেয়। ঈমান যদি শক্তিশালী ও সুদৃঢ় হয় তাহলে মসজিদ থেকে যখনই মুয়াজ্জিনের আজানের সুর ভেসে আসবে তখনই সে ছুটে যাবে মসজিদের দিকে। সকল

টিকাঃ
২. সুরা শুরা: ৩৬।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00