📘 পুণ্যবান বন্ধু জীবনসফরে উত্তম সহযাত্রী > 📄 হাসি-ঠাট্টা ও কৌতুক সম্পর্কে সালাফের নীতি

📄 হাসি-ঠাট্টা ও কৌতুক সম্পর্কে সালাফের নীতি


আহনাফ বিন কাইস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'আমাকে উমর বিন আব্দুল আজিজ বলেছেন, "হে আহনাফ, যে ব্যক্তি অতিরিক্ত হাসে, মানুষের অন্তরে তার ভয় ও ভক্তি কমে যায়। যে ব্যক্তি অতিরিক্ত কৌতুক করে, তার গুরুত্ব কমে যায় এবং তাকে অবজ্ঞা করা হয়। কোনো ব্যক্তি সে কাজের মাধ্যমে পরিচয় লাভ করে, যে কাজটি সে অধিক হারে করে। যে ব্যক্তি অতিরিক্ত কথা বলে, তার ভুল বেশি হয় এবং লজ্জা কমে যায়। আর যে ব্যক্তির লজ্জা কমে যায়, তার আল্লাহভীতি কমে যায়। এবং যার আল্লাহভীতি কমে যায়, তার অন্তর মরে যায়।""১০৭
ভবিষ্যৎ জীবন নিয়ে যারা চিন্তা করে, তাদের অনেক পরিশ্রম করা চাই। অতিরিক্ত হাসি-কৌতুক তাদের মাঝে শোভা পায় না। এসব অহেতুক বিষয়ে সময় নষ্ট না করে ইবাদতে সময় কাটানোই তাদের একমাত্র ব্যস্ততা হওয়া চাই।
মুসা বিন ইসমাইল বলেন, 'আমি যদি তোমাদের বলি যে, আমি কখনো হাম্মাদ বিন সালামাকে হাসতে দেখিনি, তাহলে এটা মোটেই মিথ্যা হবে না। তিনি প্রতিটি মুহূর্তই কোনো না কোনো নেক আমলে ব্যস্ত থাকতেন। কখনো হাদিস বর্ণনা করতেন, কখনো কুরআন তিলাওয়াত করতেন, কখনো তাসবিহ পড়তেন, কখনো সালাত আদায় করতেন... এভাবে জীবনের প্রতিটি ক্ষণকে ইবাদতের মাধ্যমে অতিবাহিত করতেন।'
আমাদের সালাফ তাদের ভবিষ্যৎ তথা আখিরাত নিয়ে এভাবেই শঙ্কিত থাকতেন। তারা সেই দিনটিকে খুব বেশি ভয় করতেন, যেদিনের ভয়াবহতা শরীরের প্রতিটি অঙ্গকে কাঁপিয়ে দেবে। আব্দুল্লাহ আবু ইয়ালা বলতেন, 'তোমরা কী করে এত হাসতে পারো আমার বুঝে আসে না; অথচ তোমাদের কাফন কারখানা থেকে দোকানে চলে এসেছে?'১০৮
জনৈক পুণ্যবান বান্দা সম্পর্কে বর্ণিত আছে, তিনি একবার এক লোককে অতিরিক্ত হাসতে দেখে বললেন, 'হে ভাই, তুমি কি মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করে ফেলেছ? সে বলল, 'না।' তিনি বললেন, 'আমল পরিমাপের মানদণ্ডে তোমার নেকির পাল্লা কি ভারী হয়েছে?' সে বলল, 'না।' তিনি বললেন 'তুমি কি পুলসিরাত অতিক্রম করে ফেলেছ?' সে বলল, 'না।' তখন তিনি বললেন, 'তাহলে এত হাসি ও আনন্দ কীভাবে? তার এ কথা শুনে লোকটি কেঁদে দিল এবং বলল, 'আল্লাহর কসম! আজকের পর থেকে আমি কখনো হাসব না।'
আল্লাহর অনুগ্রহে লোকটি তার গাফিলতি ভেঙে জেগে উঠল এবং হোঁচট খাওয়ার পর সোজা হয়ে দাঁড়াল। হায়, এই ঘটনা যদি অনর্থক হাসি-ঠাট্টা ও খেল-তামাশায় মত্ত লোকেরা শুনতে পেত!
অনর্থক হাসি-ঠাট্টা ও খেল-তামাশায় মত্ত লোকেরা যদি ওয়াকি ইবনুল জাররাহ-এর একটি মাত্র দিন দেখতে পেত, তাহলে তারা বুঝতে পারত, কী অধঃপতন ও নিম্নপর্যায়ে তারা অবস্থান করছে! ওয়াকি ইবনুল জাররাহ প্রতি রাতে কুরআনের এক-তৃতীয়াংশ (দশ পারা) তিলাওয়াত করার পূর্বে ঘুমাতেন না। তাও অল্পক্ষণ ঘুমানোর পর শেষরাতে উঠে তিওয়ালে মুফাসসাল (দীর্ঘ সূরা) দিয়ে তাহাজ্জুদের নামাজ পড়তেন। অতঃপর ফজর নামাজের সময় হওয়া পর্যন্ত জায়নামাজে বসে ইসতিগফার পড়তেন। ফজরের সময় হলে ফজরের দুই রাকআত সুন্নাত পড়ে মসজিদ পানে রওনা হতেন। প্রিয় ভাই, সালাফের পথ ছেড়ে কোথায় আমরা!?
হারিস আল-গুনবি বলেন, 'রাবি বিন হাররাশ শপথ করেছিলেন যে, তিনি যতদিন পর্যন্ত নিশ্চিত হবেন না যে, তিনি জান্নাতি নাকি জাহান্নামি, ততদিন পর্যন্ত হাসবেন না। এরপর যখন তার মৃত্যু হলো, তখন তাকে গোসল দানকারী লোকটি আমাকে বললেন, "আমরা যখন তাকে গোসল দেওয়া আরম্ভ করলাম, তখন তার মুখে ভেসে উঠল এক অপার্থিব হাসি।"" আল্লাহ তাআলা আমাদের দুর্বলতা, শিথিলতা ও দীর্ঘ গাফিলতির ওপর রহম করুন।
উমর বিন আব্দুল আজিজ ইসমাইল বিন আব্দুল্লাহ-কে জিজ্ঞেস করলেন, 'ইসমাইল, তোমার বয়স কত?' তিনি উত্তর দিলেন, 'সত্তরের কিছু বেশি।' তখন তিনি বললেন, 'তাহলে এবার হাসি-কৌতুক একদম ছেড়ে দাও।'

টিকাঃ
১০৭. তারিখু উমর, ইবনুল জাওজি: ২০০
১০৮. আল-ইহইয়া: ৩/১৩৭

📘 পুণ্যবান বন্ধু জীবনসফরে উত্তম সহযাত্রী > 📄 সীমিত পর্যায়ের হাসি-কৌতুক প্রশংসিত

📄 সীমিত পর্যায়ের হাসি-কৌতুক প্রশংসিত


প্রিয় মুসলিম ভাই, সালাফের বিভিন্ন কথা ও ঘটনা শুনে মনে মনে খুব চিন্তিত হয়ে পড়েছ, তাই না? মাথার ভেতর প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, তাহলে কি হাসি- কৌতুক একদম ছেড়ে দিতে হবে? বন্ধুদের সাথে একটু মজা করার সুযোগও কি নেই?
একটু ধৈর্য ধরো ভাই। দেখো, সালাফ এ প্রশ্নের কী উত্তর দেন।
জাহাবি বলেন, 'অল্প হাসি ও মুচকি হাসি উত্তম। এর চেয়ে অতিরিক্ত হাসির ব্যাপারে উলামায়ে কিরামের দুই ধরনের মতামত রয়েছে। ১. আল্লাহর ভয়ে এবং নিজের নিঃস্ব নফসের দিকে তাকিয়ে অতিরিক্ত হাসি ত্যাগ করা।
উত্তম। ২. তবে হাসি যদি অহংকার ও আত্মম্ভরিতার কারণে হয়, তবে তা চরম নিন্দিত, যা বর্জন করা আবশ্যক। কারণ বেশি হাসলে অন্তর মরে যায়। অবশ্য যৌবনকালের হাসি বার্ধক্যের হাসির চেয়ে কিছুটা ক্ষমাযোগ্য।'
পক্ষান্তরে, মুচকি হাসি ও চেহারাকে হাস্যোজ্জ্বল রাখা একটি ফজিলতপূর্ণ আমল। রাসুল ইরশাদ করেন:
تَبَسُّمُكَ فِي وَجْهِ أَخِيكَ صَدَقَةٌ
'তোমার ভাইয়ের সামনে মুখে মুচকি হাসি রাখা সদাকা।'১১২
জারির বলেন:
وَلَا رَآنِي إِلَّا تَبَسَّمَ فِي وَجْهِي
'রাসুল যতবারই আমাকে দেখেছেন, ততবারই আমার মুখে মুচকি হাসি ছিল।'১১৩
এটাই হলো ইসলামের চরিত্র। এর সর্বোচ্চ স্তর হলো, রাতের অন্ধকারে আল্লাহর সামনে অশ্রু ঝরানো আর দিনের আলোতে মুখে মুচকি হাসা রাখা।
রাসুল ইরশাদ করেন:
لَنْ تَسَعُوا النَّاسَ بِأَمْوَالِكُمْ، فَلْيَسَعُهُمْ مِنْكُمْ بَسْطُ وَجْهِ، وَحُسْنُ خُلُقٍ
'তুমি কখনো সম্পদ দিয়ে মানুষকে পরিপূর্ণ সন্তুষ্ট করতে পারবে না, সুতরাং হাস্যোজ্জ্বল চেহারা ও উত্তম চরিত্র দিয়ে তাদের পরিপূর্ণ সন্তুষ্ট করো।'১১৪
হাসির ব্যাপারে সুষ্ঠু ভারসাম্য ও মধ্যম পন্থাই ইসলামে কাম্য। সুতরাং যারা বেশি হাসে তাদের উচিত, হাসি কমিয়ে দেওয়া এবং অধিক হাসির কারণে নিজেদের তিরস্কার করা। আর যারা একদমই হাসে না; সব সময় মুখ গোমড়া করে থাকে, তাদের উচিত চেহারায় মৃদু হাসি ফুটিয়ে রাখা। এটাই উত্তম চরিত্রের অন্তর্ভুক্ত। মনে রাখতে হবে, মধ্যম পন্থার বাইরে সবকিছুই খারাপ—চাই সেটা বাড়াবাড়ি হোক বা ছাড়াছাড়ি। এ মধ্যম পন্থা ও সুষ্ঠু ভারসাম্য অর্জনের জন্য প্রয়োজনে কঠিন মেহনত করা আবশ্যক। ১১৫

টিকাঃ
১১২. আল-মুজামুল আওসাত লিত তাবারানি: ৮৩৪২
১১৩. সহিহুল বুখারি: ৩০৩৫, সহিহু মুসলিম: ২৪৭৫
১১৪. মুসান্নাফু ইবনি আবি শাইবা: ২৫৩৩৩
১১৫. আস-সিয়ার: ১০/১৪০

📘 পুণ্যবান বন্ধু জীবনসফরে উত্তম সহযাত্রী > 📄 যখন বন্ধুহীন থাকা উত্তম

📄 যখন বন্ধুহীন থাকা উত্তম


প্রিয় ভাই, যদি সত্য ভালোবাসা ও প্রকৃত বন্ধুত্ব ইবাদতে সহায়ক হয় এবং কুপ্রবৃত্তি দমন করে, তখনই তা মুসলমানদের জন্য জরুরি। আর যদি এর উল্টো হয়, কিংবা এর মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য কোনো উপকার পাওয়া না যায়, তখন সম্পর্কহীন থাকাই উত্তম।
উমর বিন খাত্তাব বলেন, 'তোমরা প্রয়োজনে মানুষ থেকে সম্পর্কহীন থাকো। '১১৬
এখানে সম্পর্কহীন থাকার অর্থ এটা নয় যে, মানুষ সমাজ থেকে একদম বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে এবং জামাআতবদ্ধভাবে করার যে সকল ইবাদত ও আমল রয়েছে, তাও একাকী করতে শুরু করবে। যেমন: জামাআত সহকারে নামাজ পড়া, মানুষের সাথে হাসিমুখে কথা বলা, সালাম বিনিময় করা, অভিনন্দন জানানো ইত্যাদি। এখানে সম্পর্কহীন থাকার অর্থ হলো, মানুষের সাথে এমন মেলামেশা বন্ধ করা, যা দ্বীনের ক্ষতি করে এবং অন্যায়ের দিকে ধাবিত করে।
এ জন্যই ইবরাহিম নাখয়ি এক ব্যক্তিকে বলেন, 'তুমি বিচ্ছিন্নতা অবলম্বন করার পূর্বে দ্বীনি জ্ঞান অর্জন করো। অতঃপর যে বিচ্ছিন্নতা খারাপ কাজ ও গুনাহ থেকে বিরত রাখে, তা-ই অবলম্বন করো। এ বিচ্ছিন্নতা উত্তম ও প্রশংসনীয়। বিচ্ছিন্নতার এ প্রকারের দিকেই ইঙ্গিত করে উমর বিন খাত্তাব বলেন, “বিচ্ছিন্নতা খারাপ লোকদের সাথে মেলামেশা থেকে বিরত রাখে।""১১৭
আবু জার বলেন, 'চুপ থাকার চেয়ে কল্যাণের কথা লেখানো উত্তম; আর খারাপ জিনিস লেখানোর চেয়ে চুপ থাকা উত্তম। '১১৮
'প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য এমন কিছু মজলিস থাকা চাই, যেখানে সে একাকী বসে নিজের গুনাহ স্মরণ করবে এবং আল্লাহর কাছে তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে।'১১৯
যেসব মজলিসে পরচর্চা ও পরনিন্দা করা হয়, সেসব মজলিস থেকে বিচ্ছিন্নতা ও নির্জনতা অবলম্বন করার অনেক উপকারিতা রয়েছে।
ইসমাইল বিন মুহাম্মাদ বলেন, 'আমি ইবনে ইবরাহিম-কে বলতে শুনেছি, “একাকিত্ব গ্রহণের মাধ্যমে যদি শুধু এতটুকু ফায়দা হয় যে, এর কারণে গিবতকারী সঙ্গী থেকে বেঁচে থাকা যায়—তাহলে একাকিত্ব উত্তম হওয়ার জন্য এটাই যথেষ্ট।""১২০
অধিকাংশ লোক একাকিত্ব ও বিচ্ছিন্নতাকে অপছন্দ করে। এর কারণ সম্পর্কে জনৈক দার্শনিক বলেন, 'মানুষ একাকিত্বকে অপছন্দ করার কারণ হলো, নিজ সত্তার সাথে স্বস্তিবোধ না করা। অর্থাৎ তারই আপন সত্তা যখন তার উত্তম বন্ধু হতে না পারে, তখন মানুষ অন্য লোকদের সাথে সম্পর্ক করে, যেন তার অস্বস্তিবোধ কেটে যায় এবং নিজের চিন্তা-চেতনা ও ধ্যান-ধারণা তাদের সাথে শেয়ার করতে পারে। তবে যাদের অন্তরাত্মা উন্নত, তারা নিজেরাই নিজেদের ভালো বন্ধু হতে পারে। তখন একাকিত্বই তার নিকট প্রিয় হয়ে ওঠে।'
মুসলমানদের জন্য সর্বোত্তম সঙ্গী হলো আল্লাহর কিতাব—নির্জনতার সময় যার তিলাওয়াত ও গবেষণার মাধ্যমে স্বস্তি ও প্রশান্তি অনুভব করা যায়।
জনৈক দার্শনিক বলেন, 'মানুষের সাথে অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতা দারিদ্র্যের আলামত।'১২১

টিকাঃ
১১৬. আল-আজলাহ: ১৮
১১৭. আল-আজলাহ: ১৮
১১৮. আল-আজলাহ: ৫৭
১১৯. সিফাতুস সাফওয়াহ: ৩/২৬
১২০. আল-আজলাহ: ৩১
১২১. আল-আজলাহ: ২২

📘 পুণ্যবান বন্ধু জীবনসফরে উত্তম সহযাত্রী > 📄 ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্বের আসল অর্থ

📄 ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্বের আসল অর্থ


ইবনুল মুবারক -কে জিজ্ঞেস করা হলো, 'আপনি নামাজ পড়ার পর আমাদের সাথে বসেন না কেন?' তিনি বললেন, 'আমি সাহাবি ও তাবিয়িগণের সাথে বসি। তাঁদের কিতাব ও জীবনচরিত পড়ার মাধ্যমে তাঁদের সাথে সময় কাটাই। তা ছাড়া তোমাদের সাথে বসে কী করব? তোমরা তো মানুষের গিবত করো।'১২২
বন্ধুর সাথে চুটিয়ে আড্ডা দেওয়া বা হাসি-কৌতুক করা ঘনিষ্ঠ ও অন্তরঙ্গ বন্ধুত্ব নয়। বরং বন্ধুর উপস্থিতিতে তনুমন প্রশান্ত ও আনন্দিত হওয়া এবং অনুপস্থিতিতে অস্থিরতা অনুভব করাই হলো ঘনিষ্ঠ ও অন্তরঙ্গ বন্ধুত্বের আলামত। যার ব্যাপারে তোমার এ অনুভূতি হয়, সেই তোমার ঘনিষ্ঠ ও অন্তরঙ্গ বন্ধু। যদিও দীর্ঘদিন পরপর তার সাথে দেখা হোক।
শাবিব বিন শাইবা বলেন, 'আমার বন্ধুদের মধ্যে কিছু বন্ধু এমন রয়েছে, যারা আমার নিকট বছরে একবার আসে। তারাই আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং তাদের আমি খুব ভালোবাসি। আর কিছু বন্ধু আছে, তারা প্রতিদিন আমার কাছে আসে এবং তাদের সাথে প্রতিদিন আড্ডা দিই। কিন্তু যদি সম্ভব হতো, আমি এদের আমার নিকট আসতে নিষেধ করতাম।'১২৩

টিকাঃ
১২২. আস-সিয়ার: ৮/৩৯৮
১২৩. আল-আজলাহ: ৪৫

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00