📄 বন্ধুদের সাথে মেলামেশা ও দেখা-সাক্ষাতের বিধান
বন্ধুদের সাথে মেলামেশা ও দেখা-সাক্ষাৎ দুই কারণে হয়:
১. স্বাভাবিক মনের টান ও সময় কাটানোর জন্য। এই প্রকারের মেলামেশা ও দেখা-সাক্ষাতে উপকারের চেয়ে ক্ষতি বেশি হয়। এর কারণে সবচেয়ে মারাত্মক যে ক্ষতিটা হয়, তা হলো অন্তর অসুস্থ হওয়া এবং সময় নষ্ট হওয়া।
২. আখিরাতে নাজাত (মুক্তি) লাভ এবং পরস্পরকে সত্য ও ধৈর্যের প্রতি উদ্বুদ্ধকরণের জন্য। এতে অনেক উপকার রয়েছে। তবে তিন কারণে এ প্রকারের মেলামেশা ও দেখা-সাক্ষাৎও ক্ষতিকর হয়ে ওঠে: ক. পরস্পরকে আকৃষ্ট করার জন্য অতিরিক্ত সাজগোজ করা। খ. প্রয়োজনের চেয়ে বেশি কথা বলা ও বেশি মেলামেশা করা। গ. এ মেলামেশা ও দেখা-সাক্ষাৎ এমন অভ্যাসে পরিণত হওয়া, যা মূল উদ্দেশ্যকে বাধাগ্রস্ত করে।
সারকথা হলো, কারও সাথে মেলামেশা ও দেখা-সাক্ষাৎ করা হয়তো নফসে আম্মারার (কুপ্রবৃত্তি) প্ররোচনায় হয়, কিংবা নফসে মুতমায়িন্নার (পরিশুদ্ধ হৃদয়) উৎসাহে হয়। প্রথমটি মানুষকে ধ্বংস ও ভ্রষ্টতার পথে পরিচালিত করে। দ্বিতীয়টি হিদায়াত ও কল্যাণের পথে পরিচালিত করে। ১৮
আবু হাতিম বলেন, 'ভালো মানুষের নিকট যখন সহানুভূতি কামনা করা হয়, তখন সহানুভূতি দেখায় এবং কোমল আচরণ করে। আর খারাপ মানুষ যেখানে সহানুভূতির প্রয়োজন, সেখানেও কঠোরতা করে। ভালো মানুষ সম্মানিত ব্যক্তিদের সম্মান করে এবং নিকৃষ্ট লোকদেরও অসম্মান করে না। সে জ্ঞানীদের কষ্ট দেয় না। নির্বোধদের সাথে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করে না। পাপীদের সাথে মেলামেশা করে না। সে নিজের বন্ধুকে সর্বদা নিজের ওপর প্রাধান্য দেয়। বন্ধুর পক্ষ থেকে অবন্ধুসুলভ কোনো আচরণ প্রকাশ পেলে তার প্রতিশোধ নেয় না। কারও পক্ষ থেকে বন্ধুত্বের আমন্ত্রণ পেলে পুরোনো শত্রুতা ভুলে তাকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করে নেয়। যথাসম্ভব বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন টিকিয়ে রাখতে সচেষ্ট থাকে; কখনো নিজের পক্ষ থেকে তা ভঙ্গ করে না।'১৯
টিকাঃ
১৭. সুরা আল-আসর: ০
১৮. আল-ফাওয়ায়িদ: ৬৮
১৯. রওজাতুল উকালা: ১৭৩
📄 প্রকৃত বন্ধুর পরিচয়
প্রকৃত বন্ধু সে, যার বন্ধুত্ব তোমার বেঁচে থাকা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ নয়। বরং প্রকৃত বন্ধু সে, যে তোমার মৃত্যুর পরও সত্যিকারের বন্ধুত্বের হক ও আবেদন পালন করে যাবে। এ সম্পর্কে মুহাম্মাদ বিন ইউসুফ ইস্পাহানি-এর একটি কথা প্রসিদ্ধ আছে। তিনি বলেন, 'সে ব্যক্তি প্রকৃত বন্ধু নয়, যে বন্ধুর মিরাস বষ্টিত হওয়ার পর তাকে ভুলে যায়। প্রকৃত বন্ধু তো সে, যে বন্ধুর বিয়োগব্যথা আজীবন বয়ে বেড়ায় এবং গভীর রাতে কবরের শায়িত বন্ধুর জন্য আল্লাহর দরবারে অশ্রু বিসর্জন দেয়।'২০
সত্যিকারের বন্ধুত্বের এমন নজির আজও দেখা যায় পুণ্যাত্মা ব্যক্তিদের মাঝে। বন্ধুর মৃত্যুর অনেক বছর পরেও বন্ধুর জন্য তাদের দুআ করতে দেখা যায়। কোনো মজলিসে বন্ধুর কথা আলোচিত হলে সাথে সাথে তার জন্য রহমত ও মাগফিরাতের দুআ করে। আমি ও তুমি কি সেই পুণ্যাত্মা বন্ধুদের অন্তর্ভুক্ত হতে পেরেছি?
দুই বন্ধুর উপমা হলো দুই হাত, যারা একে অপরকে ধৌত করে পরিচ্ছন্ন রাখে। অনুরূপভাবে দুই বন্ধুও এমন হওয়া চাই, যারা সংশোধনের ক্ষেত্রে পরস্পরকে সাহায্য করবে। সুখে-দুঃখে একে অপরের পাশে থাকবে। একে অপরের জন্য সাহায্যকারী ও কল্যাণকামী হবে। একে অপরকে দুনিয়া থেকে আখিরাতের সফরের পাথেয় সংগ্রহ করতে সাহায্য করবে।
প্রিয় মুসলিম ভাই, তুমি যদি উত্তম ও পুণ্যবান বন্ধু খুঁজে না পাও, তাহলে একাকী থেকে কুরআন তিলাওয়াত করবে; বিভিন্ন উপকারী বই পড়ে সময় কাটাবে এবং একাকিত্বের সুযোগ নিয়ে ইবাদত ও নেক আমলের পরিমাণ উত্তরোত্তর বাড়িয়ে নেবে। ভালো মানুষ ছাড়া অন্য লোকদের সাথে বন্ধুত্ব করার চেয়ে এটাই তোমার জন্য অধিক উপকারী ও কল্যাণকর।
মালিক বিন দিনার বলেন, 'যে বন্ধুর কাছ থেকে কোনো উপকার পাওয়া যায় না, তার সঙ্গ ত্যাগ করো।'২১
বকর বিন মুহাম্মাদ আল-আবিদ বলেন, 'আমাকে দাউদ আত-তায়ি বলেছেন, “হে বকর, তুমি (খারাপ) মানুষ থেকে দূরে থাকবে, যেভাবে তুমি হিংস্র প্রাণী থেকে দূরে থাকো।”'২২
আব্দুল আজিজ ইবনুল খাত্তাব বলেন, 'একদা মালিক বিন দিনার-এর পাশে একটি বিশাল ও ভয়ংকর আকৃতির কালো কুকুর বসে থাকতে দেখা গেল। তখন লোকজন তাকে বলল, “হে আবু ইয়াহইয়া, আপনার পাশে যে কুকুর বসে আছে?” তিনি উত্তর দিলেন, এটি খারাপ বন্ধুর চেয়ে উত্তম।”২৩
ইবরাহিম বিন আদহাম-কে জিজ্ঞেস করা হলো, 'আপনি মানুষের সাথে মেলামেশা করেন না কেন?' তিনি বললেন, 'আমি যদি আমার চেয়ে উঁচু পর্যায়ের কারও সাথে মেলামেশা করি, তখন সে আমার সাথে অহংকার করবে। আর যদি আমার চেয়ে নিচু পর্যায়ের কারও সাথে মেলামেশা করি, সে আমার যথাযথ হক ও অধিকার আদায় করতে পারবে না। আর যদি আমার সমপর্যায়ের কারও সাথে মেলামেশা করি, তখন সে আমার প্রতি হিংসা করবে।'
প্রিয় ভাই আমার, যারা আল্লাহর জন্য একে অপরকে ভালোবাসে, তাদের উচিত, আল্লাহর জন্যই একে অপরকে ঘৃণা করা। সুতরাং তুমি যদি কাউকে এ জন্যই ভালোবাসো যে, সে আল্লাহর বিধান মেনে চলে এবং সে আল্লাহ তাআলার প্রিয় বান্দা; অতঃপর সে যদি আল্লাহর নাফরমানي করে, তাহলে অবশ্যই তুমি তাকে ঘৃণা করবে। কারণ এখন সে আল্লাহ তাআলার বিধান অমান্যকারী এবং তাঁর নিকট ঘৃণিত। ২৪
বিভিন্ন কারণ ও উপলক্ষকে কেন্দ্র করে মানুষের মাঝে পরস্পর বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। যেমন: পরস্পর প্রতিবেশী হওয়ার কারণে, একই অফিসে চাকরি করার সুবাধে, একই মাদ্রাসায় অধ্যয়ন করার কারণে কিংবা দূরপাল্লার কোনো বাস, ট্রেন, লঞ্চ বা বিমানে পাশাপাশি বসার কারণে একে অপরের সাথে পরিচিতি হয় এবং পরস্পরের মাঝে বন্ধুত্ব সৃষ্টি হয়। তা যে উপলক্ষকে কেন্দ্র করে বন্ধুত্ব হোক-এর পূর্বে অবশ্যই জেনে নিতে হবে, তুমি যার সাথে বন্ধুত্ব করতে যাচ্ছ, লোকটি ভালো কি না? জেনে নিতে হবে, সে আল্লাহর আনুগত্যশীল বান্দা কি না? কারণ উত্তম ও দ্বীনদার বন্ধু দুনিয়াতে আল্লাহর পরে সবচেয়ে উত্তম সহযোগী এবং আখিরাতের সফরে উত্তম সহযাত্রী হয়ে থাকে।
টিকাঃ
২০. আল-ইহইয়া: ২/২০২
২১. হিলইয়াতুল আওলিয়া: ২/৩৭২
২২. রওজাতুল উকালা: ৮২
২৩. রওজাতুল উকালা: ৮২
২৪. আল-ইহইয়া: ২/১৮১
📄 বর্তমান যুগের বন্ধুত্বের বেহাল দশা
প্রিয় মুসলিম ভাই, বর্তমানে আমাদের পারস্পরিক বন্ধুত্ব তাকাল্লুফ বা কৃত্রিমতায় ভরা। সবাই শুধু বন্ধুত্বের অভিনয় করে চলে। নিঃস্বার্থতা ও আন্তরিকতার প্রচুর অভাব আমাদের বন্ধুত্বে। এর কারণ কী? এর কারণ হলো, আমরা আল্লাহর জন্য বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্বের হক ও দাবি সম্পর্কে তেমন জানি না। আমরা বুঝি না, বন্ধুত্বের এই বন্ধন আসলে কতটা শক্তিশালী। সুতরাং আমরা যদি চাই, আমাদের বন্ধুত্ব সালাফের বন্ধুত্বের মতো নির্ভেজাল ও অকৃত্রিম হোক, তাহলে বন্ধুত্বের অধিকার ও দাবিসমূহ জানা একান্ত আবশ্যক।
আব্দুল্লাহ বিন ওয়ালিদ বলেন, 'আবু জাফর মুহাম্মাদ আলি আমাকে ও আমার বন্ধুদের উদ্দেশ্য করে বললেন, "তোমরা কি একে অপরের পকেটে হাত দিয়ে যা খুশি তা-ই নিয়ে নিতে পারো?” আমরা বললাম, “না।” তখন তিনি বললেন, “তাহলে তোমরা এখনও পরস্পর আন্তরিক বন্ধু হতে পারোনি।”২৮
উত্তম বন্ধুর চরিত্র হয় পবিত্র এবং গুণাবলি হয় প্রশংসনীয়। পক্ষান্তরে খারাপ বন্ধুর চরিত্র ও গুণাবলিও তার মতো খারাপ হয়। জনৈক কবি উত্তম বন্ধু ও খারাপ বন্ধুর পার্থক্য নির্ণয় করে বলেন:
وَتَرَى الكَرِيمَ إِذَا تَصَرَّمَ وَصْلُهُ * يُخْفِي الْقَبِيْحَ وَيُظْهِرُ الْإِحْسَانَا وَتَرَى اللُّثِيمَ إِذَا تَقَضَّى وَصْلُهُ * يُخْفِي الْجَمِيلَ وَيُظْهِرُ الْبُهْتَانَا
‘সেই হলো উত্তম বন্ধু, যে সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার পরও তোমার নেতিবাচক বিষয়গুলো গোপন রাখে এবং ইতিবাচক বিষয়গুলো প্রকাশ করে। আর খারাপ বন্ধু হলো সে, যে বন্ধুত্ব ছিন্ন হওয়ার পর তোমার ভালো গুণসমূহ গোপন রাখে এবং খারাপ গুণসমূহ প্রকাশ তো করেই, তার সাথে তোমার কুৎসা রটিয়ে বেড়ায়।’২৯
অন্য এক কবি বলেন :
إِنَّ الْكَرِيمَ الَّذِي تَبْقَى مَوَدَّتُهُ . وَيَحْفَظُ السِّرَّ إِنْ صَافَى وَإِنْ صَرَمَا لَيْسَ الْكَرِيمُ الَّذِي إِنْ زَلَّ صَاحِبُهُ * بَثَّ الَّذِي كَانَ مِنْ أَسْرَارِهِ عِلْمَا
‘সেই হলো উত্তম ও প্রকৃত বন্ধু, যে কোনো কারণে বন্ধুত্ব ছিন্ন হয়ে গেলেও বন্ধুত্বের আবেদন রক্ষা করে চলে এবং বন্ধুর গোপনীয় বিষয়গুলো কারও সামনে প্রকাশ করে না। সে বন্ধু উত্তম ও প্রকৃত বন্ধু নয়, যে বন্ধুর সাথে সম্পর্ক শীতল হয়ে গেলে বন্ধুর সব দোষ সবার সামনে উগরে দেয়।’৩০
জনৈক উপদেশদাতা বলেন, ‘এমন ব্যক্তিকে বন্ধু বানাও, যে তোমার গোপন বিষয় ও দোষ-ত্রুটি গোপন রাখবে; বিপদাপদে তোমার সাথে থাকবে; তোমার আগ্রহ ও আকাঙ্ক্ষাকে প্রাধান্য দেবে; তোমার ভালো ও ইতিবাচক বিষয়সমূহ প্রকাশ করবে এবং তোমার দোষ-ত্রুটি ও নেতিবাচক বিষয়গুলো গোপন রাখবে। যদি এমন বন্ধু পাওয়া না যায়, তখন কাউকে বন্ধু না বানিয়ে নিজের সাথেই বন্ধুত্ব করবে।'
আবু হাতিম বলেন, 'জ্ঞানী ব্যক্তির জন্য এমন লোকের বন্ধুত্ব থেকে আল্লাহর পানাহ চাওয়া আবশ্যক, যে ব্যক্তি তার বন্ধুর ভালো কাজে উৎসাহ দেয় না এবং খারাপ কাজ থেকে অনুৎসাহিত করে না; বন্ধু আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফিল হয়ে পড়লে তাকে সেই গাফিলতির ওপর অটল থাকার প্রতি উদ্বুদ্ধ করে। মনে রাখবে, যে ব্যক্তির বন্ধুবান্ধব খারাপ, সে ব্যক্তি তার বন্ধুদের চেয়েও খারাপ। কারণ, ভালো মানুষ ভালো মানুষদের সাথেই বন্ধুত্ব করে; আর খারাপ মানুষ বন্ধু হিসেবে খারাপ লোকদেরই বেছে নেয়। সুতরাং কারও সাথে বন্ধুত্ব করতে চাইলে একমাত্র ভালো লোকদের সাথেই বন্ধুত্ব করবে।'৩১
টিকাঃ
২৬. রওজাতুল উকালা: ১৭৪
২৭. আজ-জুহদ, বাইহাকি: ৩১০
২৮. হিলইয়াতুল আওলিয়া: ৩/১৮৭
২৯. আল-ইহইয়া: ১৯৫/২
৩০. তারিখু বাগদাদ: ৫/১৫৮
৩১. রওজাতুল উকালা: ১০২
📄 বিপদে বন্ধুর পরিচয়
প্রিয় ভাই, তোমার জন্য যখন পৃথিবী সংকীর্ণ হয়ে যাবে, তোমার চলার পথ যখন পিচ্ছিল হয়ে যাবে, বিপদাপদ এসে চার পাশ থেকে যখন তোমাকে ঘিরে ধরবে, তখনই তোমার প্রকৃত বন্ধু কে তা প্রকাশ পাবে। প্রকৃত বন্ধু তখন তোমার পাশে দাঁড়াবে। সব বাধা পেরিয়ে সামনে এগিয়ে চলার সাহস জোগাবে এবং যথাসধ্য সহযোগিতা করে তোমার কষ্টের বোঝাকে হালকা করার চেষ্টা করবে।
আর যখন তোমার পৃথিবী উর্বর হবে এবং দুনিয়া তোমার জন্য প্রশস্ত ও অনুকূল হবে, তখন সবাই তোমার বন্ধু হবে।
কবি বলেন: وَكُلُّ النَّاسِ إِخْوَانُ الرَّخَاءِ إِنَّمَا * الَّذِي أَخَاكَ عِنْدَ الشَّدَائِدِ
'সুখের সময় সকলেই তোমার বন্ধু। কিন্তু তোমার প্রকৃত বন্ধু সেই, যে কষ্টের মুহূর্তেও তোমার বন্ধু থাকে।'৩২
দুনিয়ার সবচেয়ে বড় ও সর্বাপেক্ষা কঠিন মুসিবত হলো মৃত্যু। প্রকৃত বন্ধু এই মুসিবতের সময়েও বন্ধুর পাশে দাঁড়ায়। মৃত্যুর সময় কালিমার তালকিন করে তাকে ইমান নিয়ে মৃত্যুবরণ করতে সহযোগিতা করে। মৃত্যুর পরে তাকে স্মরণ রাখে; ভুলে যায় না। তার এতিম ও অসহায় সন্তানসন্ততির খোঁজখবর রাখে। তাদের অভিভাবকত্ব করে।
আমাদের সালাফের মধ্যে কেউ কেউ তো বন্ধুর মৃত্যুর পর চল্লিশ বছর পর্যন্ত তার পরিবারের খোঁজখবর নিয়েছেন এবং তাদের প্রয়োজন পূর্ণ করেছেন।৩০_৩৪
এ জন্যই উমর বিন খাত্তাব বলেন, 'তোমরা সৎ ও পুণ্যবান লোকদের বন্ধু বানাও। কারণ তারা সচ্ছলতার সময় তোমাদের সৌন্দর্য ও অস্বচ্ছলতার সময় তোমাদের সম্বল হবে। কাউকে চূড়ান্তভাবে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করার জন্য তোমার এমন অবস্থা আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করো, যা সে অপছন্দ করে। শত্রু থেকে দূরে থাকবে এবং বিশ্বস্ত বন্ধু ব্যতীত অন্যদের থেকে সতর্ক থাকবে। বিশ্বস্ত বন্ধু সে, যে আল্লাহকে ভয় করে। কোনো পাপীকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ কোরো না, তাহলে তুমিও তার থেকে পাপ কাজ শিখবে। এবং কোনো পাপীর কাছে তোমার গোপন বিষয় প্রকাশ কোরো না।'৩৫
মালিক বিন দিনার বলেন, 'পাপিষ্ঠদের সাথে থেকে উন্নতমানের খাবার খাওয়ার চেয়ে পুণ্যবান বন্ধুদের সাথে থেকে পাথর বহন করে জীবিকা অর্জন করা উত্তম। '৩৬
আবু হাতিম বলেন, 'বুদ্ধিমান ব্যক্তি তার ইজ্জত-আবরু অক্ষুণ্ণ রাখে। খারাপ বন্ধুদের সঙ্গে মিশে কোনো খারাপ কাজে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে না। ভালো মানুষের সঙ্গ গ্রহণ করে নিজের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করার কাজে অলসতা করে না। কেননা, অভিজ্ঞ ও ভালো মানুষের সঙ্গ গ্রহণ করলে নিজের ভেতর অনেক গোপন দোষ ধরা পড়ে, ফলে তা দূর করতে সহজ হয়।'
টিকাঃ
৩২. আল-আজলাহ: ৫৪
৩৩. আমিও ব্যক্তিগতভাবে এমন একজনকে চিনি, যিনি ১৮ বছর পর্যন্ত প্রয়াত বন্ধুর পরিবারের খোঁজখবর নিয়েছেন। (লেখক)
৩৪. মিনহাজুল কাসিদিন: ১০৮
৩৫. মিনহাজুল কাসিদিন: ১০৮
৩৬. রওজাতুল উকালা: ১০০