📘 সাইকোলজি ইসলামি দৃষ্টিকোণ > 📄 সারাংশ ও উপসংহার

📄 সারাংশ ও উপসংহার


মানবপ্রকৃতি অত্যন্ত জটিল। এ ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে খুবই সীমিত জ্ঞান দান করেছেন। কিন্তু কুরআন ও হাদিসের মাধ্যমে যতটুকু জ্ঞান দেয়া হয়েছে, তা দুনিয়ার জীবনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য পূরণের জন্য যথেষ্ট। বস্তুত আমাদেরকে যথাযথ ও বাহুল্যবর্জিত জ্ঞান প্রদান করা হয়েছে দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতা অর্জনের জন্য।

ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে আমরা এমন এক সৃষ্টি যাদের দেহ, মন ও আবেগ রয়েছে। আরও রয়েছে একটি আত্মা যা এগুলোকে প্রভাবিত করে ও পরিচালিত করে। নিজেকে ও নিজের আত্মাকে জানার একমাত্র সঠিক উপায় হচ্ছে আল্লাহ তাআলা সম্পর্কে জানা। একমাত্র আল্লাহকে জানার মাধ্যমে ব্যক্তি নিজের আত্মা সম্পর্কে জানতে পারে। এটিই কুরআন ও সুন্নাহর উপর প্রতিষ্ঠিত মানব মনস্তত্বের মৌলিক ভিত্তি।

সমকালীন মনোবিজ্ঞানের অসংখ্য তত্ত্বের মাধ্যমে মানুষকে কেবল জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য হতে পথভ্রষ্ট ও বিচ্যুত করা হয়। মানুষের জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো আন্তরিকভাবে আল্লাহর ইবাদাত করা, জীবনের অন্যান্য অনুষঙ্গ এই প্রধান লক্ষ্যের বিপরীতে একেবারেই গৌণ।

জার্নালে প্রকাশিত গাদা গাদা আর্টিকেল, বই পুস্তকের অসংখ্য অধ্যায়, নানাবিধ বিশদ তথ্য-উপাত্ত সম্বলিত কনফারেন্সের কার্যবিবরণী কিংবা বিশেষজ্ঞ মতামতসমূহ হাশরের দিনে তাদের কোনো কাজেই আসবে না, যদি সেগুলোর মাধ্যমে আল্লাহর নাজিলকৃত মৌলিক সত্যকে উপেক্ষা করা হয়। বাস্তবে তাদের গবেষণাগুলোও ইসলামের সত্যতার দিকেই ইঙ্গিত করে, কিন্তু তারা সেদিকে ভ্রুক্ষেপ করে না। আল্লাহ বলেছেন,

• 'তোমরা তাদের মত হয়ো না, যারা আল্লাহ তাআলা কে ভুলে গেছে। ফলে আল্লাহ তাআলা তাদেরকে আত্ন বিস্মৃত করে দিয়েছেন। তারাই অবাধ্য।' (সূরাহ হাশর, ৫৯:১৯)

ব্যক্তির আত্মশুদ্ধি, সুখ-শান্তি ও 'ভালো থাকা'র পরিপূর্ণতা দানের জন্য দ্বীন ইসলাম বিস্তারিত এবং পদ্ধতিগত সহযোগিতা প্রস্তাব করে। এই পরিপূর্ণতা অর্জন করা যাবে জীবনের সকল ক্ষেত্রে আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করে এবং কুরআন-সুন্নাহ নির্দেশিত উপায়ে তাঁর ইবাদাতের মাধ্যমে। কার্যতঃ ইসলাম নিজেই সকল অসুস্থতার সমাধান, হোক সেটা আত্মিক, আধ্যাত্বিক, মানসিক, আবেগিক, শারীরিক কিংবা সামাজিক। মানুষের এখন প্রয়োজন কেবল আল্লাহর নির্দেশনা অনুসরণ করে চলা।

তিনি বলেছেন,

• 'আমি সৃষ্টি করেছি মানুষকে সুন্দরতর অবয়বে। অতঃপর তাকে অধঃপতিত করেছি নীচ থেকে আরও নীচে। কিন্তু যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে ও সৎকর্ম করেছে, তাদের জন্যে রয়েছে অশেষ পুরস্কার।' (সূরাহ তীন, ৯৫:৪-৬)

এই আয়াতে ইসলামি দৃষ্টিকোণ হতে মানুষের মনস্তত্ত্বের সারাংশ ফুটে উঠেছে। চাইলে আমরা বিশ্বাস ও সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আমাদের আধ্যাত্মিক মর্যাদাকে উন্নত করতে পারি, অথবা নির্দেশনা অস্বীকারের মাধ্যমে নিজেদের মর্যাদাহানি ঘটাতে পারি।

প্রথম ক্ষেত্রে আমরা পাব আল্লাহর সন্তুষ্টি ও পুরস্কার, আর দ্বিতীয় ক্ষেত্রে প্রাপ্তির খাতায় যোগ হবে শাস্তি ও আল্লাহর ক্রোধ। এটাই মানব জীবনের সারকথা। শেষ কথাটি মনে থাকবে তো? যে পথ আমরা বেছে নেব, তা কেবল দুনিয়াতে আমাদের ভালো থাকা মন্দ থাকাকেই নির্ধারণ করবে না শুধু; বরং ঠিক করে দেবে আমাদের অনন্তকালের চূড়ান্ত ঠিকানাও!

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00