📘 সাইকোলজি ইসলামি দৃষ্টিকোণ > 📄 সাইকোথেরাপি যেভাবে কাজ করে

📄 সাইকোথেরাপি যেভাবে কাজ করে


মূল কর্মপদ্ধতির ব্যাপারে আলোচনার আগে একটি বিষয় লক্ষ্য করা জরুরি। সকল সাইকোথেরাপি পদ্ধতিতেই অপরিহার্য শর্তটি হলো- ক্লায়েন্টের নিজেকে পরিবর্তনের ইচ্ছা ও তাড়না। অধিকাংশ মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের মতে, এটি না থাকলে কোনো অগ্রগতি অর্জন করা খুবই কঠিন বা অসম্ভব। সুতরাং নিজের আচরণ ও সিদ্ধান্তের দায় ক্লায়েন্টকেই নিতে হবে এবং প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের জন্য প্রচেষ্টা চালাতে হবে। এই বিষয়টি সম্পর্কেই আল্লাহ তাআলা কুরআনে আলোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন,
• 'তার কারণ এই যে, আল্লাহ কখনও পরিবর্তন করেন না, সে সব নিয়ামত, যা তিনি কোনো জাতিকে দান করেছিলেন, যতক্ষণ না সে জাতি নিজেই পরিবর্তিত করে দেয় নিজের জন্য নির্ধারিত বিষয়। বস্তুতঃ আল্লাহ শ্রবণকারী, মহাজ্ঞানী।' (সূরাহ আনফাল, ৮:৫৩)
এই আয়াত থেকে জানা যায়, যে মানুষ নিজের নেতিবাচক বৈশিষ্ট্যসমূহ পরিবর্তন করে সুস্থ ব্যক্তিত্ব বিকাশের ক্ষমতা রাখে। নিজের আভ্যন্তরীণ দুর্বলতাগুলোকে চাইলে সে অতিক্রম করতে পারে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে পরিবেশের প্রতিবন্ধক জয়ের সামর্থ্যও সে রাখে। কার্যকর সাইকোথেরাপির জন্য এটি একটি বুনিয়াদী দর্শন।
সাইকোথেরাপির বহুল প্রচলিত পদ্ধতিগুলোর মধ্যে রয়েছে কগনিটিভ থেরাপি, বিহেভিয়ার থেরাপি, ব্যক্তি-কেন্দ্রিক বা হিউম্যানিস্টিক থেরাপি, সাইকো-এনালাইসিস ও এক্সিসটেন্সিয়াল সাইকোথেরাপি। সাইকোথেরাপি নানানভাবে করা যায়, যেমন- এককভাবে বা গ্রুপ হিসেবে অথবা পারিবারিকভাবে। সাইকোথেরাপি অধিকাংশ তত্ত্বই সেক্যুলার দৃষ্টিভঙ্গির উপর গড়ে উঠেছে, (কোনো নির্দিষ্ট শিরোনাম বা প্রেক্ষাপট নির্বিশেষে), যা পূর্বেই আলোচনা করা হয়েছে।
বিভিন্ন কারণে সাইকোথেরাপিকে কার্যকর ভাবা হয়। প্রত্যেক চিন্তাধারার নিজস্ব সাইকোথেরাপি পদ্ধতি রয়েছে। তবে কর্সিনি (Corsini) কিছু রূপরেখা নির্ধারণ করেছেন যা মানুষের মানসিক অবস্থা পরিবর্তনের জন্য জরুরি। সেগুলো হলো:
কগনিটিভ বা বুদ্ধিমত্তা প্রভাবক:
১। সার্বজনীনতা: যখন ক্লায়েন্ট বুঝতে পারে যে সে একা এই সমস্যার ভুক্তভোগী নয়, বরং আরও অনেক মানুষের একই সমস্যা রয়েছে, তখন তার অবস্থার উন্নতি হয়। তাকে বুঝতে দিতে হবে যে, এমন সমস্যায় সে একা ভুগছে না, তার মতো আরো অনেকেই আছে।
২। অন্তর্দৃষ্টি: ক্লায়েন্ট যখন নিজেকে ও আশেপাশের মানুষকে বুঝতে শিখবে, তখন তার অবস্থার উন্নতি হতে থাকবে। নিজের অভিপ্রায়, চিন্তা-চেতনা, অনুভূতি ও আচার-আচরণকে বিভিন্ন আঙ্গিকে বোঝার চেষ্টা তাকে জীবনের ভিন্ন অর্থ দেখাবে।
৩। মডেলিং (নমুনা প্রদর্শন): মানুষ অন্যান্যদের দেখে ও অনুকরণের মাধ্যমে শিখে থাকে।
আবেগিক প্রভাবক:
১। গ্রহণযোগ্যতা: যখন ক্লায়েন্ট অনুভব করে যে সে কারো কাছে স্বতঃস্ফূর্ত ইতিবাচক মনোযোগ লাভ করছে, বিশেষত থেরাপিস্টের কাছ থেকে; তখন অপেক্ষাকৃত ভালো বোধ করে।
২। পরোপকারিতা: যখন ক্লায়েন্ট থেরাপিস্ট বা গ্রুপের অন্য সদস্যের কাছ থেকে ভালোবাসা ও যত্ন পায়; কিংবা নিজেই অন্যদের ভালোবাসে ও যত্ন করে এবং অনুভব করে যে সে অন্যের উপকার করছে, তখন এর ফলাফল হিসেবে তার নিজের অবস্থার উন্নতি ঘটে।
৩। স্থানান্তরকরণ (Transference): যখন একাধিক ক্লায়েন্ট নিজেদের পারস্পরিক আবেগ বুঝতে পারে অথবা থেরাপিস্টের সাথে ক্লায়েন্ট আবেগিক সম্পর্ক অনুভব করে তখন অবস্থার উন্নতি হয়।
আচরণগত প্রভাবক:
১। বাস্তবতা যাচাই: যখন থেরাপিস্ট ক্লায়েন্টকে নিজের তত্ত্বাবধানে রেখে আচরণ পরীক্ষণ করে এবং ক্লায়েন্ট একটা অবলম্বন ও ফিডব্যাক লাভ করে, তখন পরিবর্তন সম্ভব হয়।
২। আবেগের বহিঃপ্রকাশ (Ventilation): নিজের ভেতরে জমে থাকা আবেগ-অনুভূতি প্রকাশের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। ক্লায়েন্ট কখনো চিৎকার, কান্নাকাটি অথবা রাগের বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে যদি সে দেখে তার এসব আচরণ মেনে নেয়া হচ্ছে, তখন পরিবর্তন ঘটে।
৩। মিথস্ক্রিয়া: অবস্থার উন্নতির সম্ভাবনা বাড়ে, যদি ক্লায়েন্ট প্রকাশ্যে স্বীকার করতে পারে যে তার আচরণে কিছু একটা ভুল বা সমস্যা রয়েছে。[৩]
মজার ব্যাপার হলো গবেষকগণ এই তিনটি প্রভাবককে এভাবে সহজ করে ফুটিয়ে তুলেছেন: 'নিজেকে জানো, প্রতিবেশীকে ভালোবাসো এবং ভালো কাজ চালিয়ে যাও' ('Know thyself, love thy neighbour, and do good works.')[8]
সেক্যুলার পদ্ধতির বৈজ্ঞানিক প্রকৃতিবাদী দৃষ্টিভঙ্গিতে বেশ কিছু সমস্যা রয়েছে, বিশেষত স্বাস্থ্য সমস্যার ক্ষেত্রে। রিচার্ড ও বার্জিন এর মতে, এটি মনোঃচিকিৎসক ও গবেষকদের জন্য সমাধান-অযোগ্য সমস্যা তৈরি করে। তারা বলেন যে:
'বৈজ্ঞানিক প্রকৃতিবাদ'[৫] মানবসত্তার একটি অপূর্ণাঙ্গ দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করে। ফলে এর উপর ভিত্তি করে ব্যক্তিত্বের থিওরি এবং থেরাপির পদ্ধতি গড়ে তোলা কঠিন। বৈজ্ঞানিক প্রকৃতিবাদ মতবাদের সংকীর্ণতা ও একপেশে মনোভাবের কারণে থেরাপিস্ট ও গবেষকদের কাছে অনেক তাত্ত্বিক (কনসেপচুয়াল) ও ব্যবহারিক (ক্লিনিকাল) সম্ভাবনার দরজা চিরতরে বন্ধ হয়ে গেছে। পরিশেষে, 'বৈজ্ঞানিক প্রকৃতিবাদ' বিশ্বের প্রধান ঈশ্বরবাদী ধর্মসমূহের দৃষ্টিভঙ্গির সাথে সাংঘর্ষিক। ফলে ধার্মিক ক্লায়েন্টদের জন্য সাইকোথেরাপি পদ্ধতি প্রদানে এই মতবাদ ব্যর্থ, যা তাদের সংস্কৃতির সাথে যায়。[৬]
আধুনিক মনোবিজ্ঞানে, সেক্যুলার সাইকোথেরাপি পদ্ধতিগুলোর মাধ্যমে যদিও মানবিক দুঃখ-দুর্দশার কিছু উপশম করা যায়, কিন্তু মানুষের আত্মিক চাহিদা ও আত্মার জটিলতাকে ব্যাখ্যা করতে এটি ব্যর্থ। এসব চিন্তাধারার সমালোচনা করে বাদরি বলেন:
'এসব মনোবৈজ্ঞানিক চিন্তাধারা (বিহেভিয়ারিজম, ফ্রয়েডীয় মনোবিশ্লেষণ ও নিউরোসাইকিয়াট্রি) এবং আবেগ-বুদ্ধিবৃত্তির জটিলতাকে জোরপূর্বক অতিসরলীকরণের যে চেষ্টা তারা করছে, তা ব্যর্থ হয়েছে। এগুলোর মাধ্যমে যে সন্তোষজনক ফলাফল আসেনি, তা মোটেও আশ্চর্যজনক নয়। যদিও মানব আচরণের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা করে বহু বছর ধরে শ্রদ্ধার চোখে দেখেছে সেক্যুলার বিজ্ঞান; কিন্তু পঞ্চাশ বছর আগের উৎসাহ (optimism) আজকে উধাও। পশ্চিমা সমাজের সামাজিক ও মানসিক সমস্যার (ঊর্ধমুখী গ্রাফ) সম্ভবত একমাত্র সূচক যা তাদের দ্রুত বর্ধমান অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির গ্রাফকেও ছাড়িয়ে গেছে। তাদের এই ব্যর্থতা মোটেও আশ্চর্যজনক নয়। কেননা, মানুষের আধ্যাত্মিক দিকগুলো ও মনস্তত্ত্ব এতই জটিল যে এগুলোকে নিছক গবেষণাগারের কেমিক্যাল এক্সপেরিমেন্ট ও ভৌত পরিসংখ্যানের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার সুযোগ নেই। [৭]
মানসিক যন্ত্রণা ও অসুস্থতার পিছনের কারণটা মূলত আধ্যাত্মিক, আল্লাহ ও তাঁর নির্দেশ থেকে দূরত্ব থেকে এর সৃষ্টি—এই কথাটি বুঝলে আমরা সহজেই বের করতে পারব যে, নিরাময় কোথা থেকে হবে। ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গি মতে, থেরাপির চূড়ান্ত লক্ষ্য কেবলমাত্র ক্লায়েন্টের চিন্তাচেতনা, আবেগ বা আচরণের পরিবর্তন ঘটানো নয়; বরং তার আত্মার উপর প্রভাব ফেলা। এই প্রভাবের ফলশ্রুতিতে ক্লায়েন্টের সত্তার অন্যান্য উপাদানগুলো পরিবর্তিত হবে। সকল প্রচেষ্টার উদ্দেশ্য আবর্তিত হবে ক্লায়েন্টের আধ্যাত্মিক উন্নতিকে কেন্দ্র করে। আধ্যাত্মিক দিকগুলোতে মনোযোগ দিলে স্থায়ী ও কার্যকর ফলাফল অর্জনের সম্ভাবনা বেড়ে যায়, এটি সেক্যুলার পদ্ধতির বিপরীত পদ্ধতি। সেক্যুলার পদ্ধতিতে সমস্যার মূল কারণ আলোচনার পরিবর্তে উপসর্গের প্রতি মনোযোগ দেয়া হয়। ফলে সাধারণত সেগুলোর ফলাফল হয় ক্ষণস্থায়ী。

টিকাঃ
[e] Ibid., pp. 9-10.
[8] Ibid.
[৫] সংক্ষেপে বৈজ্ঞানিক প্রকৃতিবাদ হচ্ছে এরকম একটা দর্শন যে, মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তু ও ঘটনাই প্রাকৃতিক, অতিপ্রাকৃতিক বলে কিছু নেই। যেহেতু সবকিছুই প্রকৃতির অংশ, মানে স্থান-কালের অংশ। সুতরাং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সবকিছুই সরাসরি বা ইনডিরেক্টভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব, এমনকি মনোজগতও। এবং পর্যবেক্ষপযোগ্য বিজ্ঞানই একমাত্র নির্ভরযোগ্য জ্ঞান। -সম্পাদক
[] Richards & Bergin, 2005, p. 41.
[৭] Badri, 2000, p. 5.

📘 সাইকোলজি ইসলামি দৃষ্টিকোণ > 📄 ধর্মীয় সাইকোথেরাপি (RELIGIOUS OR THEOLOGICALPSYCHOTHERAPY

📄 ধর্মীয় সাইকোথেরাপি (RELIGIOUS OR THEOLOGICALPSYCHOTHERAPY


মানসিক রোগের চিকিৎসায় ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক বিষয়গুলোর গুরুত্ব মূলধারার পশ্চিমা মনোবিজ্ঞান স্বীকার করছে, এবং এই প্রবণতা সম্প্রতি বৃদ্ধি পেয়েছে। [৮] একইভাবে সাইকোথেরাপির পদ্ধতিতেও (psychotherapeutic process) ধর্ম ও আধ্যাত্মিকতার প্রতি স্বীকৃতি ও গ্রহণযোগ্যতা দেখা যাচ্ছে। তারা মেনে নিচ্ছেন মানসিক সমস্যার সমাধানে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। [৯]
কিছু গবেষক ধর্মীয় বিষয়কে সাইকোথেরাপি প্রক্রিয়ার সাথে সংযুক্ত করে একটি নতুন পরিভাষা চালু করেছেন। তারা এর নাম দিয়েছেন 'ঈশ্বরবাদী সাইকোথেরাপি' (Theistic psychotherapy)। লক্ষণীয় বিষয় হলো, তারা এই পদ্ধতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হিসেবে ইসলামকে তালিকাভুক্ত করেছেন। রিচার্ড ও বার্জিন (Richard and Bergin) এর মতে, এই পদ্ধতির দার্শনিক ভিত্তিসমূহের মধ্যে রয়েছে:
ক. বৈজ্ঞানিক ঈশ্বরবাদ (Scientific theism): 'গড' বিশ্বজগতের চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রক। মানুষ তাকে ও বিশ্বজগতকে সীমিতভাবে বুঝতে সক্ষম। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মাধ্যমে বাস্তবতার কিছু অনুষঙ্গ আবিষ্কার করা যায়, কিন্তু আধ্যাত্মিক উপায়ে জানার প্রচেষ্টাও জরুরি।
খ. ধর্মীয় সমন্বয়বাদ (Theistic holism): মানুষ একটি সমন্বিত আধ্যাত্মিক সত্তা। যার আছে একটি চিরস্থায়ী আত্মা বা রূহ, যেটি বিভিন্ন বাস্তব বিষয়ের সাথে ক্রিয়া করে; যেমন- দৈহিক, বুদ্ধিবৃত্তিক, আবেগিক, আন্তঃব্যক্তি সম্পর্ক, সাংস্কৃতিক বিষয়কে এই মানবাত্মা প্রভাবিত করে। কেবলমাত্র দেহ, মন ও পারস্পরিক সম্পর্কের মধ্যেই মানুষকে সীমাবদ্ধ করার অবকাশ নেই।
গ. কর্তৃত্ব (agency): নিজের আচরণের উপর নৈতিক কর্তৃত্ব, নিয়ন্ত্রণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা মানুষের রয়েছে। পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতার (বায়োলজিক্যাল ও পরিবেশগত) মাধ্যমে মানুষের আচরণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা সীমাবদ্ধ হয়ে যায় কিন্তু তার কর্তৃত্ব সীমাবদ্ধ হয় না। নিজ সিদ্ধান্তের পরিণতির প্রতি মানুষ দায়বদ্ধ।
ঘ. সার্বজনীন নৈতিকতা (Moral universalism): কিছু সার্বজনীন মূল্যবোধ রয়েছে যা মানুষের স্বাস্থ্য, মানসিক ও আধ্যাত্মিক বিকাশকে প্রভাবিত করে। তবে স্থান-কাল-পাত্র ও অন্যান্য বিষয়ের উপর নির্ভর করে এগুলোর প্রয়োগ ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে।
ঙ. ঈশ্বরবাদী সম্পর্ক (Theistic relationism): মানুষ সহজাতভাবে সামাজিক ও সম্পর্ক প্রিয়। অন্য মানুষের সাথে সম্পর্ক ও আল্লাহর সাথে সম্পর্ক কেমন, তা অধ্যয়নের মাধ্যমে ব্যক্তি সম্পর্কে সর্বোত্তম ধারণা লাভ করা যায়।
চ. পরোপকারিতা (Altruism): মানুষ অনেক সময় অপরের কল্যাণের জন্য নিজের প্রাপ্তি উপেক্ষা করে। দায়িত্ববোধ, আত্মত্যাগ ও পরোপকারের মতো বিষয়গুলো ব্যক্তিগত পরিতৃপ্তির চেয়ে মূল্যবান। [১০]
সাইকোথেরাপির এই সুনির্দিষ্ট তাত্ত্বিক পদ্ধতির কিছু উপকারিতার মধ্যে রয়েছে:
১। দুনিয়া ও মানুষের প্রকৃতি সম্পর্কে অধিকতর ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করে।
২। মানুষের আধ্যাত্মিক বৈশিষ্ট্য ও সামর্থ্য স্বীকার করে।
৩। যন্ত্র ও নিয়ন্ত্রিত যান্ত্রিক উপাদানের সাথে মানুষের সাদৃশ্য স্থাপন করে না।
৪। মানুষের সীমাবদ্ধ স্বাধীন কর্তৃত্ব, ইচ্ছাশক্তি ও দায়িত্বশীলতার বাস্তবতা স্বীকার করে।
৫। একটি ধর্মীয় ও নৈতিক কাঠামো প্রদান করে, যার ভিত্তিতে ব্যক্তির মূল্যবোধ ও জীবনযাত্রার শুদ্ধতা মূল্যায়ন করা যায়।
৬। সমাজ ও সামাজিক সম্পর্কের গুরুত্ব স্বীকার করে, সামাজিক ও ধর্মীয় সম্পর্ককে (আল্লাহর সাথে) উৎসাহিত করে।
৭। আত্মত্যাগ, পরোপকারিতা এবং পরিবার-সমাজের কল্যাণে কাজ করাকে মূল্যায়ন করে। [১১]
ধর্মীয় সাইকোথেরাপির একটি বহুল প্রচলিত পদ্ধতি হলো, এখানে ধর্মীয় বিশ্বাস ও চিন্তাধারাকে একটি 'কগনিটিভ বিহেভিয়ার থেরাপি' কাঠামোতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সাধারণত এর মাধ্যমে নিজের, অন্যের ও বিশ্ব সম্পর্কে নেতিবাচক বিশ্বাস ও বৈশিষ্ট্যকে বদলে দেয়া হয় অধিকতর ইতিবাচক ধর্মীয় বিশ্বাস ও বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে। এখানে অন্যান্য বুদ্ধিবৃত্তিক পদ্ধতিও কাজে লাগানো হয়। গবেষণার মাধ্যমে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর উপর এসব পদ্ধতি হতে কয়েকটির কার্যকারীতা পাওয়া গিয়েছে। [১২]

টিকাঃ
[৮] Richards & Bergin, 2005, pp. 6-7; Dein, S., & Loewenthal, K. M., 1998, Holy healing: The growth of religious and spiritual therapies, Mental Health, Religion & Culture, 1(2), pp. 85-89.
[৯] Pargament, K. I., Murray-Swank, N. A., & Tarakeshwar, N., 2005, An empirically based rationale for a spiritually integrated psychotherapy, Mental Health, Religion and Culture, 8(3), pp. 155-165.
[১০] Richards & Bergin, 2005, pp. 98-99.
[১১] Ibid.
[১২] Hawkins, R. S., Tan, S. Y., & Turk, A. A., 1999, Secular versus Christian inpatient cognitive-behavioral therapy programs: Impact on depression and spiritual well-being, Journal of Psychology and Theology, 27, pp. 309-311; Johnson, W. B., 2001, To dispute or not to dispute: Ethical REBT with Religious Clients, Cognitive & Behavioral Practice, 8(1), pp. 39-47; Johnson W. B., & Ridley, C. R., 1992, Brief Christian and non-Christian rational- emotive therapy with depressed Christian clients: An exploratory study, Counseling and Values, 36(3), pp. 220-229; Johnson, W. B., DeVries, R., Ridley, C. R., Pettorini, D., & Peterson, D. R., 1994, The comparative efficacy of Christian and secular rational-emotive therapy with Christian clients, Journal of Psychology and Theology, 22(2), pp. 130-140; Peucher, D. & Edwards, K.J., 1984, A comparison of secular and religious versions of cognitive therapy with depressed Christian college students, Journal of Psychology and Theology, 12, pp. 45-54; Propst, L. R., Ostrom, R., Watkins, P., Dean, T., & Mashburn, D., 1992, Comparative efficacy of religious and nonreligious cognitive-behavioral therapy for the treatment of clinical depression in religious individuals, Journal of Consulting and Clinical Psychology, 60(1), pp. 94-103.

📘 সাইকোলজি ইসলামি দৃষ্টিকোণ > 📄 মুসলিমদের সাথে ধর্মীয় সাইকোথেরাপি

📄 মুসলিমদের সাথে ধর্মীয় সাইকোথেরাপি


পশ্চিমা ও ইসলামি সাইকোথেরাপির পদ্ধতির মধ্যে জাফরি চারটি মৌলিক পার্থক্য নির্ণয় করেছেন, [১৩]
১। আত্মকেন্দ্রিক জীবনধারা বনাম ধর্মীয় পরার্থতা : পশ্চিমা কাউন্সিলিং প্রক্রিয়া ব্যক্তিকেন্দ্রিক। এখানে ব্যক্তির ব্যক্তিগত অর্জন, পরিতৃপ্তি, প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান, আগ্রহ, আত্মবিশ্বাস এবং স্বাধীনতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। অপরদিকে ইসলামি পদ্ধতিতে ব্যক্তিগত অধিকার ও স্বাধীনতাকে বিবেচনায় আনার পাশাপাশি সমান বা অধিকতর গুরুত্ব প্রদান করা হয় পারস্পরিক দায়িত্বশীলতার প্রতি, যেমনটি রয়েছে উম্মাহ ও ইসলামি ভাতৃত্ববোধের চেতনায়। ইসলামি কাউন্সেলিং পদ্ধতির মাধ্যমে নি:স্বার্থতা, পরোপকারিতা ও অন্যকে সুখী করতে উৎসাহিত করা হয়।
২। বস্তুবাদী দৃষ্টিভঙ্গি বনাম সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি: পশ্চিমা মূল্যবোধে সফলতার ভিত্তি হলো জীবনের বস্তুগত অর্জন, যেমন- শ্রেষ্ঠত্ব, সামাজিক সম্মান ও পুরস্কার অর্জন। ওদিকে ইসলাম উৎসাহিত করে বস্তুগত ও আধ্যাত্মিক উভয় ক্ষেত্রেই সমন্বিত উন্নয়নকে। ব্যক্তির আত্ম-উপলব্ধি তখনই ঘটবে, যখন নিজের চিন্তা-আবেগ-আচরণকে আল্লাহর ইচ্ছামাফিক ও সন্তুষ্টি অর্জনে পরিচালিত করা হবে।
৩। লাগামহীন স্বাধীনতা বনাম নিয়ন্ত্রিত স্বাধীনতা: পশ্চিমা কাউন্সেলিং পদ্ধতিতে (ধরে নেয়া হয়) একজন ব্যক্তি তার ব্যক্তিগত লক্ষ্য অর্জনে স্বাধীন; এক্ষেত্রে কোনো ধরনের ধর্মীয় বা নৈতিক সীমাবদ্ধতা নেই। লক্ষ্য অর্জনের জন্য বিশ্বস্ততার অভাব, প্রতিশ্রুতিভঙ্গ, দায়িত্বে অবহেলা ইত্যাদি প্রয়োজন হলে, তাও করা যায় অবলীলায়। অপরদিকে ইসলামি মানদন্ডে ব্যক্তি স্বাধীনতা লাভ করে শরিয়াহ নির্ধারিত সীমার মধ্যে। ব্যক্তিজীবন ও জনজীবন উভয় ক্ষেত্রেই ইসলামে বৈধ-অবৈধ স্পষ্টভাবে নির্ধারিত; যা বাস্তবায়িত হয় জবাবদিহিতার মাধ্যমে।
৪। অপরাধবোধ যুক্তিযুক্তকরণ বনাম তাওবা (Guilt Rationalization versus Repentance): পশ্চিমা কাউন্সিলিং পদ্ধতিতে ব্যক্তির সকল অন্যায়-অপরাধকে যুক্তি দিয়ে সমর্থন প্রদান করা হয়, যেন ব্যক্তি অপরাধবোধের গ্লানি থেকে মুক্তি পায়। সবকিছু নিঃশর্তে ইতিবাচক হিসেবে মেনে নেয়া হয়, ক্লায়েন্টকে সাহায্য-সমর্থন ও সমবেদনা প্রদান করা হয়। ইসলামি পদ্ধতিতে গুনাহের কাজকে উপেক্ষা করা বা সমর্থনের কোনো সুযোগ নেই; বরং তাওবার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যক্তিকে নিজের ভুল সংশোধন ও আচরণ উন্নয়নের আধ্যাত্মিক সহায়তা প্রদান করা হয়। [১৪]
উল্লেখিত কারণে সাইকোথেরাপিকে এমনভাবে সাজানো প্রয়োজন, যেন এটা মুসলিম ক্লায়েন্টদের দৃষ্টিভঙ্গির সাথে মানানসই হয়। বিভিন্ন গবেষণা ও অধ্যয়নের মাধ্যমে দেখা গেছে, মুসলিম ক্লায়েন্টদের এংজাইটি, ডিপ্রেশন ও অন্যান্য কষ্ট লাঘবের ক্ষেত্রে ধর্মীয় সাইকোথেরাপি ফলদায়ক হয়। [১৫] এ ধরনের প্রত্যেকটি স্টাডিতে দেখা গেছে, ধর্মীয় সাইকোথেরাপি গ্রুপের ক্লায়েন্টরা সাধারণ ক্লায়েন্টদের থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অধিক দ্রুততার সাথে সাড়া প্রদান করেছেন। ইসলামি সাইকোথেরাপিতে কগনিটিভ থেরাপিরই একটি ধরন ব্যবহার করা হয়, এবং ভ্রান্ত চিন্তাধারাগুলোকে পরিবর্তন ও সংশোধন করে ইসলামি চিন্তাধারার (কুরআন ও সুন্নাহ) মাধ্যমে প্রতিস্থাপিত করা হয়। [১৬] ক্লায়েন্টের অসুস্থতার সাথে সম্পৃক্ত ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বিষয় আলোচনা করা যেতে পারে, যেমন- কিভাবে রাসূলুল্লাহ (সা.) এর সুন্নাহর মাধ্যমে নিজের লাইফস্টাইল সংশোধন করা যায় ইত্যাদি। ক্লায়েন্ট পাপের কারণে অনুতপ্ত হলে তাকে তাওবার জন্য উৎসাহিত করা যায়。[১৭]
অত্র গ্রন্থের লেখক (ড আইশা হামদান) ইসলামি পদ্ধতিসমূহ থেকে বেশকিছু উপকারী রূপরেখা নির্ণয় করেছেন যা ধর্মীয় ক্লায়েন্টদের ক্ষেত্রে সাইকোথেরাপি পদ্ধতির সাথে সমন্বয় করা যায়。[১৮] এগুলোর মধ্যে রয়েছে—
১। দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী বাস্তবতা উপলব্ধি করা,
২। আখিরাতের উপর মনোযোগ প্রদান করা,
৩। দুঃখ-দুর্দশা ও বিপদাপদের অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য ও প্রভাব নিয়ে চিন্তা করা,
৪। আল্লাহর উপর ভরসা ও নির্ভর করা, এবং
৫। আল্লাহ তাআলার নিয়ামতসমূহের উপর মনোযোগ দেয়া।
মূলত এই পয়েন্টগুলো ইসলামি আকিদার বিভিন্ন উপাদান, যা মানুষের আত্মার খোরাক। মানব আত্মা এসবের জন্যই আকুতি জানিয়ে যাচ্ছে দিনরাত।
ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সাইকোথেরাপির আরেকটি লক্ষ্য হলো, আধ্যাত্মিকতার পুনর্জাগরণ করা, যেন এর মাধ্যমে মানসিক অসুস্থতা ও জীবনের কঠিন পরিস্থিতিগুলো মানিয়ে (কোপিং) নেওয়া যায়। সাইকোথেরাপি চলাকালে মুসলিম ক্লায়েন্টকে বিভিন্ন ইবাদতের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া যেতে পারে, যেমন- নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করা, কুরআন তিলাওয়াত, যিকির-আজকার, আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল ও অধিক দুআ করা ইত্যাদি। সার্বিকভাবে এ সকল পদ্ধতি ব্যক্তিকে অধিকতর স্বস্তি ও 'ভালো থাকা'র অনুভূতি প্রদান করবে。[১৯]

টিকাঃ
[১৩] Jafari, 1993, pp. 330-333.
[১৪] Ibid.
[১৫] Azhar, M. Z., Varma, S. L., & Dharap, A. S., 1994, Religious psychotherapy in anxiety disorder patients, Acta Psychiatrica Scandinavica, 90(1), pp. 1-3; Azhar, M. Z., & Varma, S. L., 1995a, Religious psychotherapy in depressive patients, Psychotherapy and Psychosomatics, 63, pp. 165-168; Azhar, M. Z., & Varma, S. L., 1995b, Religious psychotherapy as management of bereavement, Acta Psychiatrica Scandinavica, 91(A), pp. 233-235; Razali, S.M., Hasanah, C. I., Aminah, K., & Subramaniam, M., 1998, Religious-sociocultural psychotherapy in patients with anxiety and depressions Australian and New Zealand Journal of Psychiatry, 32(6), pp. 867-872.
[১৬] Azhar et al., 1994, pp. 1-3; Azhar et al., 1995b, pp. 233-235.
[১৭] Hamdan, A., 2008b, Cognitive restructuring: An Islamic perspective, Journal of Muslim Mental Health, 3(1), p. 103.
[18] Ibid., pp. 104-108.
[১৯] Azhar et al., 1994, pp. 1-3; Azhar et al., 1995a, pp. 165-168; Azhar et al., 1995b, pp. 233-235.

📘 সাইকোলজি ইসলামি দৃষ্টিকোণ > 📄 রুকাইয়া

📄 রুকাইয়া


আমরা আগেই জেনেছি, রুকইয়া একটি ইসলামি চিকিৎসা পদ্ধতি যেখানে যথাযথ ক্রমানুসারে কুরআনের বিভিন্ন আয়াত ও দুআ পাঠের মাধ্যমে আক্রান্ত ব্যক্তিকে নিরাময়ের প্রচেষ্টা করা হয়। নিঃসন্দেহে আল্লাহই একমাত্র সুস্থতা দানকারী। রুকইয়া কার্যকর হবার জন্য শুরুতে সঠিক সমস্যা চিহ্নিত করা জরুরি। কেননা, সমস্যার ভিত্তিতে তিলাওয়াতকৃত আয়াত ও দুআর তারতম্য ঘটে। যেমন বলা যায়, জাদুটোনার চিকিৎসা বদনজর ও জিনে আছরের চিকিৎসা থেকে ভিন্ন। আধ্যাত্মিক বা গায়েবী সমস্যাসমূহ নিরাময়ের জন্য শুধুমাত্র রুকইয়াই যথেষ্ট। আর অন্যান্য শারীরিক সমস্যার ক্ষেত্রে মেডিকেল ট্রিটমেন্ট এর পাশাপাশি রুকইয়া ব্যবহার করা যায়। এই প্রক্রিয়া কার্যকর হওয়ার জন্য একজন অভিজ্ঞ ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব (রাকী) প্রয়োজন, এবং তার তাকওয়া যত উন্নত পর্যায়ের হবে রুকইয়া কার্যকর হবার সম্ভাব্যতা তত বৃদ্ধি পাবে। বাস্তবে যদি কোনো ব্যক্তি নিজেই নিজের রুকইয়া করতে পারেন সেটাই সর্বোত্তম; কিন্তু অনেক সময় ব্যক্তির অসুস্থতা ও পরিস্থিতির তীব্রতা অনুসারে সেটা সম্ভব নাও হতে পারে।
আল-ক্রেনাবী এবং গ্রাহাম (Al-Krenawi and Graham) মন্তব্য করেছেন যে, আরব ক্লায়েন্টরা প্রায়ই মানসিক স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের পাশাপাশি প্রথাগত (ধর্মীয়) নিরাময় পদ্ধতি যুগপৎভাবে গ্রহণ করেন। সাধারণত প্রথাগত (ধর্মীয়) নিরাময় পদ্ধতিই গ্রহণ করা হয় আগে, এরপর আধুনিক মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নেয়া হয়। এসব প্রক্রিয়াতে পরিবারের সদস্যরাও অন্তর্ভূক্ত থাকেন এবং তারা ক্লায়েন্টকে উপযুক্ত সেবা বেছে নিতে সাহায্য করেন। লেখকদ্বয় মন্তব্য করেছেন, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ব্যাকগ্রাউন্ড অনুসারে ক্লায়েন্টকে সহযোগিতা প্রদানের ক্ষেত্রে প্রথাগত (ধর্মীয়) নিরাময় পদ্ধতিকে যুক্ত করতে হবে。[২০]
সৌদি আরবে ধর্মীয় চিকিৎসকদের (রাকী) মধ্যে পরিচালিত একটি স্টাডিতে দেখা গেছে বদনজর, জাদুটোনা এবং জিনে আছরের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি যে চিকিৎসা বাতলে দেওয়া হয়েছে সেটা হলো রুকইয়া। অন্যান্য বহুল ব্যবহৃত পদ্ধতি সমূহের মধ্যে রয়েছে নিয়মিত সালাত আদায়ের নির্দেশনা প্রদান; জিন তাড়ানো, রূপক দৈহিক শাস্তি প্রদান ও শ্বাস আটকানোর ভান করা, দম দেয়া (জিনে আছরের ক্ষেত্রে), ভেষজ উপাদান মিশ্রিত পানি পান করানো, কুরআনের আয়াত লিখিত পানি পান করানো (বিশেষত জাদুটোনার ক্ষেত্রে) ইত্যাদি。[১১]
মানসিক যন্ত্রণা থেকে মুক্তির জন্য হাদিসে বিভিন্ন দুআ উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, 'হে আল্লাহ! আমি তোমারই বান্দা এবং তোমারই এক বান্দার পুত্র আর তোমারই এক বান্দীর পুত্র। আমার ভাগ্য তোমার হাতে, আমার উপর তোমার নির্দেশ সর্বদা কার্যকর। আমার প্রতি তোমার ফয়সালা ন্যায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত। আমি সেই সমস্ত নামের প্রত্যেকটির বদৌলতে চাইছি যে নাম তুমি নিজের জন্য নিজে রেখেছ অথবা যে নাম তুমি তোমার কিতাবে অবতীর্ণ করেছ অথবা তোমার সৃষ্ট জীবের মধ্যে কাউকে নাম শিখিয়েছ অথবা নিজের জন্য হিফাজত করে রেখেছ, আমি তোমার নিকট এই কাতর প্রার্থনা করি যে তুমি কুরআনকে বানিয়ে দাও আমার অন্তরের জন্যে। প্রশান্তি, বক্ষের আলো, আমার চিন্তা ভাবনা অপসারণকারী এবং উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দূরকারী। (আহমাদ, তাবারানি, উত্তম সনদে বর্ণিত)
আব্দুল্লাহ্ ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) কষ্টের সময় বলতেন,
لا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ الْعَظِيمُ الْحَلِيمُ لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ لا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ رَبُّ السَّمَوَاتِ وَرَبُّ الْأَرْضِ وَرَبُّ الْعَرْشِ الْكَرِيمِ
'আল্লাহ ছাড়া আর কোনো সত্য মা'বুদ নেই, যিনি সুমহান ও সহিষ্ণু। আল্লাহ্ ছাড়া আর কোনো সত্য উপাস্য নেই, যিনি সুবৃহৎ আরশের প্রতিপালক। আল্লাহ্ ছাড়া আর কোনো সত্য ইলাহ নেই, যিনি আকাশমণ্ডলী, পৃথিবী ও সন্মানিত আরশের অধিপতি।' (বুখারি ও মুসলিম)
আনাস (রা.) বর্ণনা করেছেন, তিনি রাসূলুল্লাহ (সা.) কে দুআ করতে শুনেছেন, 'ইয়া আল্লাহ! আমি দুশ্চিন্তা ও পেরেশানী থেকে, অক্ষমতা ও অলসতা থেকে, কৃপণতা ও ভীরুতা থেকে, ঋণভার ও লোকদের প্রাধান্য থেকে আপনার কাছে পানাহ চাচ্ছি।' (বুখারি)
দুর্ভাগ্যজনকভাবে বর্তমান যুগে ঈমানি দুর্বলতার কারণে লোকেরা শরিয়ত সম্মত চিকিৎসাপদ্ধতি বর্জন করেছে এবং নানা ধরনের মেডিক্যাল ও সাইকোলজিক্যাল চিকিৎসা পদ্ধতির উপরই কেবল নির্ভর করছে। অথচ অনেক ক্ষেত্রে এসব পদ্ধতি অনুসরণের মাধ্যমে দীর্ঘস্থায়ী দুর্দশাও সৃষ্টি হয়। ক্ষেত্রবিশেষে কিছু উপকার লাভ হলেও তাওহিদের দাবি হলো, সর্বদা এই বিশ্বাস অন্তরে রাখা যে নিরাময় একমাত্র আল্লাহই করে থাকেন, যে পদ্ধতি অনুসরণ করেই নিরাময় করা হোক না কেন। যদি বলা হয় অমুক ঔষধের মধ্যে নিরাময় আছে বা অমুক চিকিৎসক নিরাময় করেছেন, তাহলে এটা শিরকের অন্তর্ভুক্ত। অসুস্থতা থেকে মুক্তির জন্য ঈমান খুবই গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, অথচ বিষয়টি আমরা ভুলে গেছি! যখন ঈমান বিশুদ্ধ ও মজবুত হবে, তখন রুকইয়া করলে আল্লাহর রহমত ও ইচ্ছা অনুসারে নিরাময় লাভ হবে দ্রুত ও মজবুতভাবে。

টিকাঃ
[२०] al-Krenawi, A., & Graham, J. R., 2000, Culturally sensitive social work practice with Arab clients in mental health settings, Health & Social Work, 25(1), p. 18.
[১১] al-Habeeb, 2004.

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00