📄 শয়তান ও বদ জিন থেকে সুরক্ষা
শয়তান ও দুষ্ট জিনের প্রভাব থেকে নিজেদেরকে রক্ষা করার অনেক পদ্ধতি রয়েছে। যদি শয়তান কুমন্ত্রণা দেওয়ার চেষ্টা করে তখন অবিলম্বে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতে হবে। আল্লাহ বলেছেন,
• 'যদি শয়তানের পক্ষ থেকে আপনি কিছু কুমন্ত্রণা অনুভব করেন, তবে আল্লাহর শরণাপন্ন হোন। নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।' (সূরাহ ফুসসিলাত, ৪১:৩৬)
• অন্যত্র বলেছেন, 'আর যদি শয়তানের প্ররোচনা তোমাকে প্ররোচিত করে, তাহলে আল্লাহর শরণাপন্ন হও তিনিই শ্রবণকারী, মহাজ্ঞানী।' (সূরাহ আরাফ, ৭:২০০)
এছাড়াও আমরা কুরআনের বিভিন্ন সূরাহ ও আয়াত পাঠ করতে পারি, যেমন- শেষের দুটি সূরা (ফালাক ও নাস), আয়াতুল কুরসি, সূরাহ বাকারার শেষ দুই আয়াত ইত্যাদি। নিয়মিত জিকির-আজকার, দুআ পাঠ ও কুরআন তিলাওয়াতের মধ্যে অনেক উপকারিতা রয়েছে। একটি উদাহরণ সামনের হাদিসে উল্লেখ করছি,
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, 'যে ব্যক্তি প্রতিদিন ১০০ বার লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ওয়াহদাহু লা- শারীকালাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদীর- (আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, শরীকবিহীন, তাঁর জন্যেই সার্বভৌমত্ব ও সকল প্রশংসা, তিনি সমস্ত বস্তুর ওপর শক্তিশালী) বলবে সে দশটি গোলাম আজাদ করার সমান সাওয়াব লাভ করবে। আর তার নামে লেখা হবে ১০০টি নেকী এবং তার নাম থেকে ১০০টি গুনাহ মুছে ফেলা হবে। আর সেদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত সে শয়তানের প্ররোচনা থেকে সংরক্ষিত থাকবে এবং কিয়ামতের দিন কেউ তার অপেক্ষা ভালো আমল আনতে পারবে না, একমাত্র সেই ব্যক্তি ব্যতীত যে তার অপেক্ষা বেশি আমল করেছে।' (বুখারি)。
আল্লাহ তাআলা কুরআনে অনেক বার উল্লেখ করেছেন যে তিনি মুমিনদেরকে শয়তানের চক্রান্ত থেকে রক্ষা করবেন,
• 'অতএব, যখন আপনি কোরআন পাঠ করেন তখন বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয় গ্রহণ করুন। তার আধিপত্য চলে না তাদের উপর যারা বিশ্বাস স্থাপন করে এবং আপন পালন কর্তার উপর ভরসা রাখে। তার আধিপত্য তো তাদের উপরই চলে, যারা তাকে বন্ধু মনে করে এবং যারা তাকে অংশীদার মানে।' (সূরাহ নাহল, ১৬: ৯৮-১০০)
• অন্যত্র বলেছেন, 'আমার বান্দাদের উপর তোর কোন ক্ষমতা নেই আপনার পালনকর্তা যথেষ্ট কার্যনির্বাহী।' (সূরাহ ইসরা, ১৭:৬৫)