📄 তিন ধরনের মানুষ
বাস্তবে মূলত তিন ধরনের মানুষ দেখতে পাওয়া যায়;
(১) সত্যিকার ঈমানদার, (২) ঈমানদার তবে ভালো-মন্দ উভয় ধরণের আমল মিশ্রিত রয়েছে, এবং (৩) কাফির। এই তিন ধরনের মানুষের প্রতি তাদের বিশ্বাসের লেভেল অনুসারে আচরণ করতে হয়। ঈমানদারদের পরিপূর্ণ ভালোবাসা ও সমর্থন প্রাপ্য। কেননা, তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উপর ঈমান রাখেন, ইলম অনুসারে ঈমান-আমল রক্ষা করেন, নিজেদের দায়দায়িত্ব ও আদিষ্ট বিষয়াদি পালন করেন এবং নিষিদ্ধ বিষয় পরিত্যাগ করেন। তাদের ভালোবাসা, আনুগত্য, বৈরিতা ও অসন্তুষ্টি সবকিছু আল্লাহর উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়। কাজেই ঈমানদারদেরকে অবশ্যই পরিপূর্ণ মিত্রতা, সমর্থন এবং সুরক্ষা প্রদান করতে হয়।
যেসব মুসলিমরা ভালো-মন্দ এবং আল্লাহর আনুগত্য-অবাধ্যতা মিশ্রিত অবস্থায় রয়েছেন, তারা উত্তম আমলের অবস্থা অনুযায়ী ভালোবাসা ও আনুগত্য প্রাপ্য এবং মন্দ কাজের মাত্রা অনুযায়ী বৈরিতা প্রাপ্য。[৩২] বুখারির একটি হাদিসে এমন এক ব্যক্তির বর্ণনা এসেছে তিনি মদ পান করতেন ফলে আরেকজন ব্যক্তি তাকে অভিশাপ প্রদান করলেন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (সা.) তাকে অভিশাপ প্রদান করতে নিষেধ করলেন, কেননা সেই মদ্যপায়ী ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালোবাসতেন।
আর তৃতীয় ক্যাটাগরি হলো কাফিরদের ক্যাটাগরি। আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতা, কিতাব, নবি-রাসূল, বিচার দিবস ও আখিরাতের প্রতি ইচ্ছাকৃত কুফরীর কারণে তারা ঈমানদার মুসলিমদের কাছ থেকে সহমর্মিতা লাভের যোগ্যতা রাখেন না। গাইরুল্লাহর ইবাদাতের মাধ্যমে তারা শিরক করে। নবি-রাসূল, জীবিত বা মৃত ব্যক্তি, মূর্তি ইত্যাদিকে উপাস্য সাব্যস্ত করে। তাদের ভালোবাসা, দুআ, ভয়, আশা, ইবাদাত, প্রশংসা ও ভরসা ইত্যদি পরিচালিত হয় গাইরুল্লাহর প্রতি।
ইবনুল কাইয়িম (রহ.) লিখেছেন, 'যে বা যারাই আল্লাহর রাসূলকে অস্বীকার করে, তাঁর আনুগত্য প্রত্যাহার করে, কর্তৃত্ব নিয়ে বিতর্ক করে, তাঁর আনীত দ্বীন পরিত্যাগ করে অন্য পথ অনুসরণ করে, সে এই নিশ্ছিদ্র দ্বীনে প্রবেশ করতে ব্যর্থ হয়েছে। এর পরিবর্তে সে নিজের নফস ও অজ্ঞতার কাছে আত্মসমর্পণ করেছে, কলবের খেয়ালখুশি দ্বারা পরিচালিত হয়েছে, তার অন্তরে রয়েছে কুফর। সত্য অস্বীকারের মাধ্যমে যে নিজেই নিজের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে সে মূলতঃ শয়তানের মিত্র。[৩৩] মিত্রতা ও বৈরিতার ন্যূনতম পর্যায় হলো অন্তরে এই অনুভূতি উপস্থিত থাকা。
ইবনে তাইমিয়া (রহ.) লিখেছেন, 'অন্তরে থাকা ঘৃণা-ভালোবাসা অথবা পছন্দ-অপছন্দের ক্ষেত্রে কোনো কমতি থাকার সুযোগ নেই। সেখানে অবশ্যই পূর্ণতা থাকতে হবে। সেখানে কোনো রকমের কমতি থাকার অর্থ ঈমানের ঘাটতি। (এছাড়া) অন্যান্য আমল ব্যক্তির সামর্থ্য ও পরিস্থিতি অনুসারে সম্পাদিত হয়। অন্তরের পছন্দ-অপছন্দ সঠিক হলে ব্যক্তির আমল সে অনুসারে পরিচালিত হবে। সক্ষম হলে সে আমল করবে, কিন্তু পরিপূর্ণ পুরস্কার পাবে কিনা সেটা নির্ভর করবে অন্তরে থাকা ইখলাস তথা আন্তরিকতার ওপর。[৩৪]
টিকাঃ
[৩১] al-Qahtani, 1999, p. 79.
[৩২] Ibid., p. 84.
[৩৩] Ibn al-Qayyim, Hidayat al-Hayara, p. 7; as quoted in al-Qahtani, 1999, p. 59.
[৩৪] Ibn Taymiyyah, Majmu' al-Fatawa, pp. 108-201: as quoted in al-Qahtani, 1999, p. 86.