📘 সাইকোলজি ইসলামি দৃষ্টিকোণ > 📄 ইসলামে মাতৃত্ব

📄 ইসলামে মাতৃত্ব


ইসলামে মাতৃত্বকে সর্বোচ্চ মর্যাদা দেয়া হয়েছে, এতেই বোঝা যায় এর গুরুত্ব। একটি সুপরিচিত হাদিস থেকে জানা যায়: একবার জনৈক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সা.) এর কাছে গিয়ে প্রশ্ন করলেন, 'হে আল্লাহর রাসূল! আমার কাছ থেকে সদাচরণ ও উত্তম সঙ্গ পাওয়ার সবচেয় বেশি হকদার কে? তিনি বললেন, তোমার মা। সে বলল, তারপর কে? তিনি বললেন, তোমার মা। সে বলল, তারপর কে? তিনি বললেন তোমার মা। সে বলল, অতপর কে? তিনি বললেন, তোমার বাবা।' (বুখারি ও মুসলিম)
ইসলামে মায়েরা অত্যন্ত দামী ও মূল্যবান, কেননা পরবর্তী প্রজন্মকে তৈরি ও অনুপ্রাণিত করার কাজে তারাই দায়িত্বশীল। একজন মায়ের অধিকাংশ সময় চলে যায় মাতৃত্বের ভূমিকা পালনে; যেমন: শিশুর পরিচর্যা, শিক্ষা ও দীক্ষা প্রদানে। এসব কারণে তারা যে সম্মান ও মর্যাদার যোগ্য, তা অবশ্যই তাদেরকে দেয়া উচিত।
আল্লাহ তাআলা তার প্রজ্ঞা অনুসারে, নারীদের জন্যেই সুনির্দিষ্টভাবে মাতৃত্বের ভূমিকাকে সৃষ্টি করেছেন। এই দায়িত্ব কার্যকরভাবে পালন করতে যেসকল অনন্য চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য প্রয়োজন, তিনি সেগুলোও নারীদেরকেই দিয়ে রেখেছেন, যেমন- সহমর্মিতা, নম্রতা, ধৈর্যশীলতা এবং দয়ামায়া। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, 'আকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টির দিন আল্লাহ তাআলা একশত রহমত সৃষ্টি করেছেন। প্রত্যেকটি রহমত আকাশ ও পৃথিবীর দূরত্বের সমপরিমাণ। এই একশত রহমত হতে একভাগ রহমত পৃথিবীর জন্য নির্ধারণ করেছেন। এই (এক ভাগের) কারণেই মা সন্তানের প্রতি দয়া করে এবং বন্য পশু ও পাখিরা পরস্পর পরস্পরের প্রতি অনুগ্রহ প্রদর্শন করে।' (মুসলিম)
মাতৃত্ব একটি 'ফুলটাইম ক্যারিয়ার'। এখানে রয়েছে গর্ভধারণ, সন্তান জন্মদান, বুকের দুধ পান করানো এবং অনেক বছর ধরে ক্রমাগত শিশুর যত্ন নেওয়া ও তাকে বড় করে তোলার কাজ। এটিই একজন ব্যক্তির দায়িত্ব হিসেবে যথেষ্ট। এজন্যই একজন মায়ের ঘাড়ে পরিবারের আর্থিক ভরণপোষণের দায়িত্ব চাপিয়ে দেয়া হয়নি। আল্লাহর রহমত যে তিনি নারীদের জন্য ঘরের বাইরে কাজ করাকে জরুরি করে দেননি। সন্তানের রিজিক উপার্জন করা মায়ের কাজ নয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই বোঝা বহন করা নারীদের জন্য সাধ্যাতীত হয়ে দাঁড়ায়। যে পরিস্থিতে একজন মা নিজের প্রধান দায়িত্বগুলোয় তাঁর সর্বশক্তি নিয়োগের সুযোগ পান, সেটাই কাম্য।

📘 সাইকোলজি ইসলামি দৃষ্টিকোণ > 📄 নারী-পুরুষের পৃথক ভূমিকা

📄 নারী-পুরুষের পৃথক ভূমিকা


আল্লাহ তাআলা নারী ও পুরুষকে একই ধরনের 'আধ্যাত্মিক প্রকৃতি' দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। তাদের উভয়কে বিচার দিবসে দুনিয়ার কাজের জন্য জবাবদিহিতা করতে হবে। নারী-পুরুষ উভয়ের ধর্মীয় দায়িত্ব ও বাধ্যবাধকতা একই, কিছু ছোটখাটো পার্থক্য বাদে। যেমন: ঋতুবতী অবস্থায় নারীরা সালাত ও সিয়াম থেকে অব্যাহতি লাভ করেন। ঈমান ও নেক-আমলের জন্য উভয়েই আখিরাতে পুরস্কৃত হবে। ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে লৈঙ্গিক কারণে কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই। এখানে শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারিত হয় কেবলমাত্র তাকওয়া ও সৎকর্মের মাধ্যমে। শুধুমাত্র আল্লাহ বলেন:
• '... আমি তোমাদের কোন পরিশ্রমকারীর পরিশ্রমই বিনষ্ট করি না, তা সে পুরুষ হোক কিংবা স্ত্রীলোক। তোমরা পরস্পর এক। ...' (সূরাহ আলে ইমরান, ৩:১৯৫)
• অন্যত্র বলেছেন, 'যে সৎকর্ম সম্পাদন করে এবং সে ঈমাণদার, পুরুষ হোক কিংবা নারী আমি তাকে পবিত্র জীবন দান করব এবং প্রতিদানে তাদেরকে তাদের উত্তম কাজের কারণে প্রাপ্য পুরষ্কার দেব যা তারা করত।' (সূরাহ নাহল, ১৬: ৯৭)
• অন্যত্র বলেছেন, 'যে লোক পুরুষ হোক কিংবা নারী, কোন সৎকর্ম করে এবং বিশ্বাসী হয়, তবে তারা জান্নতে প্রবেশ করবে এবং তাদের প্রাপ্য তিল পরিমাণ ও নষ্ট হবে না।' (সূরাহ নিসা, ৪:১২৪)
এই সার্বজনীন কাঠামোর অধীনে আল্লাহ তাআলা নারী-পুরুষের জন্য সমাজে বিভিন্ন সুনির্দিষ্ট ভূমিকা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। সমাজ ও পরিবারের সুষ্ঠু কার্যক্রমের জন্য নারী ও পুরুষের ভূমিকা পরস্পরের পরিপূরক। উভয়কে আল্লাহ তাআলা নিজ নিজ দায়িত্ব পূরণ করার জন্য দরকারী ও উপযুক্ত যোগ্যতা এবং চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য দিয়েই পাঠিয়েছেন। তিনি বলেছেন,
• 'পুরুষেরা নারীর কর্তা, কারণ আল্লাহ তাদের এককে অপরের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন এবং এই জন্য যে, পুরুষ তাদের ধন সম্পদ ব্যয় করে। সুতরাং সাধ্বী স্ত্রীরা অনুগতা এবং লোকচক্ষুর অন্তরালে আল্লাহ যা সংরক্ষিত করেছেন তা হিফাযত করে।...' (সূরাহ নিসা, ৪:৩৪)
আল্লাহ তাআলা পুরুষদেরকে পরিবারের রক্ষক, যোগানদাতা এবং পরিবারের কর্তা হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। নারীদের দায়িত্ব সন্তান প্রতিপালন করা, তাদেরকে নেককার হিসেবে গড়ে তোলা এবং গৃহস্থালী সকল বিষয়ের যত্ন নেওয়া। নারীদের কাছে এটাই প্রত্যাশিত যে, তারা স্বামীর অনুগত থাকবে (যতক্ষণ না স্বামী তাকে আল্লাহর আদেশের বিরুদ্ধাচরণের নির্দেশ করছে)। আল্লাহ তাআলা সিস্টেমগুলোকে ভারসাম্যপূর্ণ ও সুশৃংখল করে সৃষ্টি করেছেন। একটি পরিবারকে কার্যকরভাবে কার্যক্ষম রাখতে নারী-পুরুষের ভূমিকা বণ্টন খুবই জরুরি। আর একটি পরিবার তখনই সবচেয়ে কার্যকর থাকে যখন সেখানে আল্লাহর বিধি-বিধানগুলো মেনে চলা হয়。

📘 সাইকোলজি ইসলামি দৃষ্টিকোণ > 📄 পরিবার কাঠামো পুনসংস্থাপনের প্রচেষ্টা

📄 পরিবার কাঠামো পুনসংস্থাপনের প্রচেষ্টা


প্রতিনিয়ত পরিবারকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করার চেষ্টা চলছে। পরিবারের কার ভূমিকা কী হবে, চলছে সেটাকেও বদলানোর চেষ্টা। যেমন, কিছু কিছু সমাজে সাম্য বা সমতা প্রতিষ্ঠার নামে (equality) নারীপুরুষের ঐতিহ্যগত পারিবারিক ভূমিকাকে বদলানোর চেষ্টা করা হয়েছে। নারীকে পুরুষের সমান ধরা হচ্ছে জীবনের সকল ক্ষেত্রে এবং পুরুষের সাথে সমপর্যায়ে প্রতিযোগিতা করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। এই সব মতাদর্শে মাতৃত্বের ভূমিকাকে একটি অপমানজনক কাজ মনে করা হয়। অর্থ, ক্ষমতা ও দুনিয়াবী লক্ষ্য পূরণকারী ক্যারিয়ারের চেয়ে মাতৃত্বকে কম মূল্যবান বিবেচনা করা হয়। 'সমতা' (equality) অর্জনের পথে নারীর জন্য বাধা হয়ে দাঁড়ায় বলে, গর্ভধারণ ও শিশু পালনকে দেখা হয় একটি উপদ্রব বা ঝামেলা হিসেবে।
এই বাস্তবতার একটি সুস্পষ্ট উদাহরণ হলো 'নারীর ক্ষমতায়ন' ('Empowerment of women')। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান একে সমর্থন দিচ্ছে। জাতিসংঘের United Nations Human Development Report এবং Arab Human Development Report-এ 'নারীর পূর্ণ ক্ষমতায়ন' এর লক্ষ্য-উদ্দেশ্যসমূহের উল্লেখ রয়েছে। এমনকি এই 'মানব উন্নয়ন রিপোর্ট'-এ (gender empowerment measure; GEM) বা 'লৈঙ্গিক ক্ষমতায়ন পরিমাপক' নামক সূচকের মাধ্যমে বিভিন্ন রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক লিঙ্গবৈষম্যের মাত্রাও মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
জাতিসংঘের 'হাই কমিশনার অফ হিউম্যান রাইটস' অফিস থেকে পরিচালিত 'নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপ'- সনদটি এই লৈঙ্গিক ভূমিকা বদলে দেবার সবচেয়ে সুচিন্তিত প্রচেষ্টা। এই কমিটির একটি প্রধান লক্ষ্য নিম্নরূপঃ
'জেনে রাখুন, নারী ও পুরুষের মধ্যে পূর্ণ সমতা (equality) অর্জনের জন্য সমাজে ও পরিবারে পুরুষের পাশাপাশি নারীদের প্রথাগত ভূমিকার পরিবর্তন প্রয়োজন... এ ব্যাপারে 'স্টেইট পার্টি'* যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন: তারা নারী পুরুষের ঐসব সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আচরণ, কুসংস্কার, প্রথা ও রীতিনীতি পরিবর্তন করবেন, যেগুলো লৈঙ্গিক শ্রেষ্ঠত্ব বা নিম্নতার উপর প্রতিষ্ঠিত অথবা নারী-পুরুষের প্রথাগত ভূমিকা নির্ধারণ করে。[২৭] (*স্টেইট পার্টি হলো সেসব দেশ যারা ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ কনভেনশন এ চুক্তিবদ্ধ)।
এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, এই কমিটি খোলাখুলিভাবে ধর্ম ও সংস্কৃতিকে টার্গেট করেছে, তারা মত প্রকাশ করেছে যে, 'সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের কারণে নারীর অধিকারের বিশ্বজনীনতার অবমাননা ঘটতে দেওয়া যায় না।'[২৮] এই কমিটির মত অনুসারে, 'সব দেশে যেসব প্রভাবকের মাধ্যমে জীবনের মূল স্রোতে নারীর অংশগ্রহণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক হলো সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ কাঠামো ও ধর্মীয় বিশ্বাস'[২৯]।
ধর্মীয় মূল্যবোধ, ধর্মীয় জীবন ও পরিবারের উপর অশুভ আক্রমণের নিদর্শন এসব প্রচেষ্টা। এসব অর্গানাইজেশনের প্রধান লক্ষ্য নারী-পুরুষের ঐতিহ্যগত পৃথক ভূমিকা নির্মূল করা এবং 'সাম্য ও সমতার' ধারণায় সাজানো। এটি একটি নারীবাদী (ফেমিনিস্ট) এজেন্ডা, যা বিগত প্রায় ৫০ বছর বা ততোধিক সময় ধরে চলে আসছে। নারীবাদীদের দৃষ্টিভঙ্গি অনুসারে, নারীদেরকে মাতৃত্বের বাঁধন ছিঁড়ে অবশ্যই বেরিয়ে আসতে হবে এবং ঘরের বাইরে এসে জীবনের সকল ক্ষেত্রে পুরুষের সাথে সমানভাবে অংশগ্রহণ করতে হবে (অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক)। বৈবাহিক কাঠামো, পরিবার গঠন ও সন্তান প্রতিপালনের চিরায়ত ধারণার বিরুদ্ধে শত্রুতামূলক মানসিকতা নিহিত রয়েছে এসব চিন্তাচেতনা ও কার্যক্রমের ভেতরে।
নারীর ক্ষমতায়নের কিছু ইতিবাচক দিক রয়েছে বটে। যেমন- বৈষম্য হ্রাস, শিক্ষা ও স্বাক্ষরতার হার বৃদ্ধি, জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ইত্যাদি। তবে এসকল 'লাভের' সাথে অনেক বিপদজনক বিষয়ও জড়িত। বাহ্যিকদৃষ্টিতে যদিও কিছু মহান লক্ষ্য-উদ্দেশ্য পূরণ হচ্ছে বলে মনে হয়, কিন্তু চূড়ান্ত পরিণতি হলো পরিবার কাঠামো দুর্বল হয়ে যাওয়া, যার উপর দাঁড়িয়ে আছে পুরো সমাজ।
'নারীর ক্ষমতায়ন' ('Empowerment of women') এর অর্থ কি? বিশ্লেষণী দৃষ্টিতে দেখলে নারীর ক্ষমতায়নের আসল অর্থ হল-
১। নারীদের একটির জায়গায় একত্রে দুইটি কাজ করতে হচ্ছে। ঘর ও সন্তান দেখাশোনা করা নারীদের মৌলিক কাজ, এর সাথে অতিরিক্ত যুক্ত হচ্ছে ঘরের বাইরে অর্থ উপার্জনের কাজ।
২। নারী কাজ করছে পুরুষ-প্রধান (male dominated) পরিবেশে। দৈনিক পুরুষদের সাথে উঠাবসা করা; অথচ এ ধরনের পুরুষদের (গায়রে মাহরাম; যাদেরকে বিয়ে করা বৈধ) সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের অনুমতি নেই।
৩। নারীরা ছোট সন্তানদেরকে অন্যত্র রেখে আসতে বাধ্য হচ্ছে। যেমন, ডে-কেয়ার সেন্টার; এমনকি ছয় সপ্তাহের শিশু পর্যন্ত সেখানে রেখে আসতে দেখা যায়।
৪। নিজের সন্তানদের সাথে অর্থবহ আলাপ-আলোচনায় সপ্তাহে গড়ে মাত্র ৩০ মিনিট সময় লাভ করছেন একজন নারী।
৫। বিষণ্ণতা; কর্মজীবী নারীদের মধ্যে ডিপ্রেশনের হার পুরুষের তুলনায় দুই থেকে তিনগুণ পর্যন্ত দেখা যায়। এর সঙ্গে রয়েছে অন্যান্য মানসিক যাতনা; যেমন- উদ্বেগ, স্ট্রেস ইত্যাদি।
৬। নিজের সহজাত নারীসুলভ বৈশিষ্ট্যের সাথে সংঘাত অনুভব করেন নারীরা; যেমন পরিচর্যা (nurturance), নমনীয়তা (deference), নির্ভরতা (affiliation) ইত্যাদি নারীসুলভ গুণাবলী। অন্যদিকে ক্যারিয়ার গঠনে প্রয়োজন নিজেকে জাহির করার মানসিকতা, স্বায়ত্তশাসন, স্বনির্ভরতা ইত্যাদি।
মাতৃত্বের ভূমিকা অবমূল্যায়নের কারণে সম্পূর্ন সমাজব্যবস্থা ভুক্তভোগী হয়। শিশুরা তাদের প্রয়োজনীয় ভালোবাসা, যত্ন ও মনোযোগ পায়না। ফলে অনাগত জীবনের উত্থানপতন ও পরীক্ষার সামনে তারা ভঙ্গুর হয়ে বেড়ে ওঠে। যেমন- বয়সন্ধিকালীন/শৈশবকালীন বিষণ্ণতা, উদ্বিগ্নতা, আত্মহত্যার প্রবণতা, মাদক, অ্যালকোহল সেবন, কিশোর অপরাধ ইত্যাদি দেখা যায়। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা এই মাতৃত্ব। একে সামাজিকভাবে খাটো করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। পরিবার ও সমাজে স্থিতিশীলতা আনেন মায়েরাই। সমাজে অবদান রাখার উপযুক্ত, উত্তম চরিত্রবান হিসেবে সন্তানকে বড় করতে অনেক ত্যাগ স্বীকার করেন এই মায়েরাই।

টিকাঃ
[২৭] United Nations, Division for the Advancement of Women, Convention on the Elimination of all Forms of Discrimination against Women (CEDAW), retrieved October 14, 2009 from http://www.un.org/womenwatch/daw/cedaw/text/econvention.htm.
[২৮] Ibid.
[২৯] Ibid.

📘 সাইকোলজি ইসলামি দৃষ্টিকোণ > 📄 মুসলিম সমাজের বৈশিষ্ট্য

📄 মুসলিম সমাজের বৈশিষ্ট্য


ইসলাম অনুসারে, উম্মাহ একটি সামাজিক ধারণা। এর দ্বারা ঈমানদার মুসলিমদের সমাজকে বোঝায়। এটি একটি বিশ্বজনীন সমাজ ব্যবস্থা, যা ঈমানের কাঠামোর উপর নির্মিত ও ঐক্যবদ্ধ। যা ছাপিয়ে যায় জাতীয়তা, নৃতাত্ত্বিকতা, বর্ণ, গোত্র ও অন্যান্য সকল পার্থক্যকে। পৃথিবীর সকল স্থান, কাল, প্রজন্ম, জাতি, শ্রেণী, বর্ণ, গোত্র, সংস্কৃতি নির্বিশেষে উম্মাহ একটি পরিবার, একটি জাতি এবং একটি গোষ্ঠী। এটি এমন এক সমাজ; যারা একই মূল্যবোধ-বিশ্বাস-লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ধারণ করে; একতাবোধ লালন করে; যারা গঠনমূলক ভাব বিনিময়ের দ্বারা পরস্পরের প্রতি প্রদর্শন করে সত্যিকারের পরোপকারী মানসিকতা ও সহমর্মিতা।
আল-হাশিমির বর্ণনা করেছেন যে একটি আদর্শ মুসলিম সমাজে নিম্নরুপ বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান থাকে;
১। একমাত্র আল্লাহর নিকট পরিপূর্ণ আত্মসমর্পণ
২ নিখুঁত শরিয়া
৩। সকল আইন-কানুন আল্লাহর দিকে ন্যস্ত করা
৪। ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্ব
৮। পরস্পর পরামর্শ করা
৯। ঐক্য ও সমৃদ্ধি
১০। ন্যায়বিচার ও সমতা
১১। ইলম ও আমল
৫। নৈতিকতা ও মূল্যবোধ
১২। সহনশীলতা
৬। পরিশুদ্ধ চরিত্র ও মানবতা
১৩। স্বাধীনতা
৭। সৎকাজের আদেশ ও মন্দ কাজে নিষেধ
১৪। শক্তি ও জিহাদ
১৫। উন্নতি, অগ্রগতি。[৩০]

টিকাঃ
[৩০] al-Hashimi, M. A., 2007, The Ideal Muslim Society: as Defined in the Quran and Sunnah, Riyadh: International Islamic Publishing House, pp. 25-26.

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00