📘 সাইকোলজি ইসলামি দৃষ্টিকোণ > 📄 মৃত্যুপ যন্ত্রণা ও বিচ্ছন্নতা

📄 মৃত্যুপ যন্ত্রণা ও বিচ্ছন্নতা


মৃত্যুবরণের প্রক্রিয়াটি কষ্টকর ও যন্ত্রণাদায়ক, আল্লাহ বলেন,
• 'মৃত্যুযন্ত্রণা নিশ্চিতই আসবে। এ থেকেই তুমি টালবাহানা করতে।' (সূরাহ কাফ, ৫০:১৯)
এই আয়াতে ব্যবহৃত (সাকারাতুল মাউত) শব্দটিকে 'মৃত্যুযন্ত্রণা' অনুবাদ করা হয়েছে। এটি একটি নেশাগ্রস্থ, ঘোরাচ্ছন্ন অবস্থা। মৃত্যুকালে একজন ব্যক্তি যন্ত্রণাদায়ক সেই অবস্থা অনুভব করবে। এটি মাতাল বা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় অনুরূপ, কেননা মুমূর্ষু ব্যক্তি থেকে সেরকম লক্ষণ প্রকাশ পেতে পারে। যেমন ধরুন, কথা জড়িয়ে যাওয়া, মনোযোগ হারিয়ে ফেলা, স্মৃতিভ্রম, হতবুদ্ধিতা ও প্রলাপ বকা। সামগ্রিকভাবে এই অভিজ্ঞতা কষ্টকর ও মর্মান্তিক।
মুমিনদের চেয়ে কাফির ও গুনাহগারদের মৃত্যুকালে অধিক দুর্ভোগ পোহাতে হবে। তারা ব্যাপক আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে যাবে, যখন তারা বুঝতে পারবে তাদের সামনে কী ভয়াবহ শাস্তি অপেক্ষা করছে। আল্লাহ বলেন:
• 'ঐ ব্যক্তির চাইতে বড় জালেম কে হবে, যে আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করে অথবা বলেঃ আমার প্রতি ওহী অবতীর্ণ হয়েছে। অথচ তার প্রতি কোন ওহী আসেনি এবং যে দাবী করে যে, আমিও নাজিল করে দেখাচ্ছি যেমন আল্লাহ নাজিল করেছেন।
যদি আপনি দেখেন যখন জালেমরা মৃত্যু যন্ত্রণায় থাকে এবং ফেরেশতারা স্বীয় হস্ত প্রসারিত করে বলে, বের কর স্বীয় আত্মা! অদ্য তোমাদেরকে অবমাননাকর শাস্তি প্রদান করা হবে। কারণ, তোমরা আল্লাহর উপর অসত্য বলতে এবং তাঁর আয়াত সমূহ থেকে অহংকার করতে।' (সূরাহ আনয়াম, ৬:৯৩)
এমনকি স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (সা.) মৃত্যুযন্ত্রণার অভিজ্ঞতা লাভ করেছেন। এ বিষয়ে হাদিসে বর্ণনা এসেছে। আযইশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) কে দেখেছি তখন তিনি মৃত্যুর নিকটবর্তী। তাঁর সামনে একটি পেয়ালা ছিল, তাতে পানি ভরা ছিল। তিনি পেয়ালার মধ্যে হাত প্রবেশ করাচ্ছিলেন তারপর (হাতের সাথে লেগে থাকা) পানি দিয়ে চেহারা মুবারক মুছলেন তারপর বললেন, لَا إِلَهَ إِلَّا الله، إِنَّ لِلمَوْتِ لَسَكَرات
'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ! ইন্না লিল মাওতি সাকারাত! নিশ্চয়ই মৃত্যুর সাথে রয়েছে (সাকারাত) যন্ত্রণা।' এরপর তিনি দুই হাত উপরে উত্তোলন করে বারবার বলতে থাকেন, فِي الرَّفِيقِ الْأَعْلَى
সর্বোচ্চ সাথীর সান্নিধ্য! সর্বোচ্চ সাথীর সান্নিধ্য!
এ অবস্থায় তাঁর ইন্তিকাল হলো আর হাত শিথিল হয়ে গেল। (বুখারি)。
রাসূলুল্লাহ (সা.) কে সেই অবস্থায় আল্লাহ তাআলা যেকোনো একটি বিষয় বেছে নিতে সুযোগ দিয়েছিলেন, চাইলে তিনি এই দুনিয়াতে অনন্তকাল বেঁচে থাকবেন অথবা তিনি জান্নাতে নেক ব্যক্তিদের সাহচর্যে চলে যাবেন (নবি, সিদ্দিক, শহীদ ও সত্যনিষ্ঠ ব্যক্তিবর্গ)। তখন তাঁর চূড়ান্ত বক্তব্য ছিল, 'সর্বোচ্চ সাথী (আল্লাহর)র সান্নিধ্য!' এভাবে তিনি দুনিয়ার উপরে আখিরাতকে বেছে নিয়েছেন।

📘 সাইকোলজি ইসলামি দৃষ্টিকোণ > 📄 মৃত্যুর পূর্ব তাউবা

📄 মৃত্যুর পূর্ব তাউবা


রূহ কণ্ঠাগত না হওয়া পর্যন্ত মুমূর্ষু ব্যক্তির তাওবা কবুলের দরজা খোলা থাকে। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, রূহ কণ্ঠাগত না হওয়া (মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্ত) পর্যন্ত মহামহিম আল্লাহ বান্দার তওবা কবুল করেন (তিরমিযি, আহমাদ, সনদ নির্ভরযোগ্য)。
এখানে হাদিসের অনুবাদ করা হয়েছে 'কণ্ঠাগত না হওয়া পর্যন্ত', এর আক্ষরিক অনুবাদ হলো, 'যতক্ষণ না সে গরগর আওয়াজ করতে শুরু করে' ততক্ষণ পর্যন্ত। যখন রূহ দেহ ছেড়ে চলে যাওয়ার মুহূর্ত উপস্থিত হয়, সেই অবস্থায় মৃতব্যক্তি গরগর আওয়াজ করতে থাকে। এখানে সেটি বোঝানো হয়েছে。[১]
যখন রূহ দেহ ছেড়ে চলে যেতে থাকে সে অবস্থায় তওবা করলে কিংবা ঈমানের সাক্ষ্য প্রদান করলেও সেটা কবুল হয় না। আল্লাহ বলেছেন,
• 'আর এমন লোকদের জন্য কোন ক্ষমা নেই, যারা মন্দ কাজ করতেই থাকে, এমন কি যখন তাদের কারো মাথার উপর মৃত্যু উপস্থিত হয়, তখন বলতে থাকেঃ আমি এখন তওবা করছি। আর তওবা নেই তাদের জন্য, যারা কুফরী অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে। আমি তাদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছি।' (সূরাহ নিসা, ৪:১৮)

টিকাঃ
[১] al-Kanadi, 1996, p. 20 (footnote).

📘 সাইকোলজি ইসলামি দৃষ্টিকোণ > 📄 মৃত্যুকালে মুমিনের আনন্দ ও কাফিরের দুঃখ

📄 মৃত্যুকালে মুমিনের আনন্দ ও কাফিরের দুঃখ


মুমিন বান্দার মৃত্যুকালে যখন আল্লাহর পক্ষ থেকে সুসংবাদ নিয়ে ফেরেশতারা উপস্থিত হন, তখন মুমিন ব্যক্তি আনন্দিত হয়ে আল্লাহর সাক্ষাত লাভে ব্যাকুল হয়ে উঠে। বিপরীতে যখন গুনাহগার ও কাফিরদেরকে তাদের দুর্দশাগ্রস্ত ভবিষ্যতের খবর দেওয়া হয়, তখন তারা মর্মযাতনায় দিশেহারা হয়ে পড়ে ও আল্লাহর সাক্ষাতকে অপছন্দ করতে থাকে।
রাসুলুল্লাহ্ (সা.) বলেছেন, 'যে ব্যাক্তি আল্লাহর সাক্ষাৎ লাভ করা ভালোবাসে, আল্লাহ ও তার সাক্ষাত লাভ করা ভালোবাসেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সাক্ষাৎ লাভ করা পছন্দ করে না, আল্লাহ্ ও তার সাক্ষাৎ লাভ করা পছন্দ করেন না। তখন আইশা (রা.) অথবা তাঁর অন্য কোনো সহধর্মিনী বললেন, আমরাও তো মৃত্যুকে পছন্দ করি না। তিনি বললেন, বিষয়টা এমন নয়। আসলে ব্যাপারটা হলো, যখন মুমিন বান্দার মৃত্যু উপস্থিত হয়, তখন তাকে আল্লাহর সন্তুষ্টিলাভ ও সম্মানিত হওয়ার সুসংবাদ শুনানো হয়। তখন তার কাছে সামনের সুসংবাদের চাইতে বেশি পছন্দনীয় কিছু থাকে না। সুতরাং তখন সে আল্লাহর সাক্ষাৎ লাভ করাকেই পছন্দ করে, আর আল্লাহ্ ও তার সাক্ষাৎ লাভ করা ভালোবাসেন। আর কাফিরের যখন অন্তিমকাল উপস্থিত হয়, তখন তাকে আল্লাহর আজাব ও শাস্তির সংবাদ দেওয়া হয়। তখন তার কাছে সামনের আজাবের সংবাদের চাইতে অধিক অপছন্দনীয় কিছুই থাকে না। সুতরাং সে (এ সময়) আল্লাহর সাক্ষাৎ লাভ করা অপছন্দ করে, আর আল্লাহ ও তার সাক্ষাতকে অপছন্দ করেন।' (বুখারি)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00