📘 সাইকোলজি ইসলামি দৃষ্টিকোণ > 📄 ক্ল্যাসিক্যাল ও অপারেট কন্ডিশনিং (CLASSICAL AND OPERANT CONDITIONING):

📄 ক্ল্যাসিক্যাল ও অপারেট কন্ডিশনিং (CLASSICAL AND OPERANT CONDITIONING):


সেক্যুলার বিহেভিয়ারিস্ট (behaviourist) তত্ত্ব অনুসারে দুটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শিক্ষণ (লার্নিং) ঘটে; (১) চিরায়ত প্রশিক্ষণ (classical conditioning) এবং (২) অপারেন্ট প্রশিক্ষণ (operant conditioning)। এসব তত্ত্বে আচরণ ও পরিবেশের প্রভাবের উপর ফোকাস করা হয়।
চিরায়ত প্রশিক্ষণ (classical conditioning) হলো দুটি উদ্দীপকের মধ্যে সম্পর্ক বোঝার প্রশিক্ষণ। এখানে নিরপেক্ষ উদ্দীপকেই (neutral stimulus) সাড়া পাওয়া যায়, কেননা সেই নিরপেক্ষ উদ্দীপকের সাথে একই সময়ে আরেকটি স্বয়ংক্রিয় সহজাত উদ্দীপক (natural stimulus) রাখা হয়। সহজাত উদ্দীপকের দ্বারা ব্যক্তি নিরপেক্ষ উদ্দীপকের অর্থ শিখে নেয়।
যেমন ধরুন, সন্তানদের দুপুরের খাবারের জন্য ডাকতে গিয়ে কোনো মা যদি একটি ঘন্টা বাজান, প্রথম প্রথম সন্তানরা বুঝবে না কেন ঘন্টা বাজানো হচ্ছে, (যেহেতু এর কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই)। ফলে তারা খাবার টেবিলে আসতে দ্বিধাগ্রস্ত থাকতে পারে। কিন্তু ঘন্টা বাজানোর একই সাথে যদি খাবার পরিবেশন করতে থাকা হয় তখন সবাই খাবার টেবিলে দৌড়ে আসবে। (এখানে ঘন্টা বাজানো নিরপেক্ষ উদ্দীপক, খাবার পরিবেশন করা সহজাত উদ্দীপক)। শিখে নেবে যে, ঘন্টা বাজানোর উদ্দেশ্য খেতে ডাকা। এরপর থেকে শুধু ঘণ্টাধ্বনি শুনলেই টেবিলে চলে আসবে।
অপারেন্ট প্রশিক্ষণ (operant conditioning) হলো আচরণ-পরবর্তী ফলাফল দেখে শিখে নেয়া। কোনো আচরণের পর (behaviour) যদি পুরস্কার (আকাঙ্ক্ষিত কিছু) পাওয়া যায় তবে আচরণটি বাড়িয়ে দেয়। আর যদি শাস্তি (অনাকাংক্ষিত কিছু) আসে তবে সেই আচরণ কমিয়ে দেয়। যেমন কিনা, ঘর পরিষ্কার করলে যদি কোনো শিশুকে ক্যান্ডি দেয়া হয় তবে এটা পুরস্কার, সে আবারও করতে উদ্বুদ্ধ হলো। আর শাস্তি হলো ফুলদানী ভেঙ্গে ফেললে প্রহার করা, এরপর সে আর ভাঙবে না। শিখে গেল।
সাধারণত এই মূলনীতিগুলো নির্দিষ্ট কিছু আচরণ (behaviour) ও তাদের উপর পরিবেশের প্রভাব বুঝতে সাহায্য করে। তারপরও বলতে হয়, এগুলোর সীমাবদ্ধতা রয়েছে; কেননা এর মাধ্যমে সব ধরনের শিক্ষণ ও আচরণকে ব্যাখ্যা করা যায় না। মানুষের আচরণ এতই জটিল যে নিছক পরিবেশের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত বলা ঠিক নয়। সেক্যুলার আচরণবিদরা (বিহেভিয়ারিস্ট) শেখার ক্ষেত্রে ইন্দ্রিয় ও বোধশক্তির মাধ্যমে জ্ঞান অর্জন ও অনুধাবন (cognition); ইচ্ছাশক্তি (volition) ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের (choice) মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ভূমিকাকে উপেক্ষা করেন। তাদের চিন্তাধারা অনুসারে কোনো ব্যক্তিকে তার কাজের জন্য জবাবদিহিতা বা দায়দায়িত্ব আরোপ করা যায় না। নিঃসন্দেহে এটি ইসলামি চিন্তাধারার সাথে সাংঘর্ষিক, কেননা মানুষের স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি ও তার ভিত্তিতে জবাবদিহিতা ইসলামের মৌলিক বৈশিষ্ট্য।

সেক্যুলার বিহেভিয়ারিস্ট (behaviourist) তত্ত্ব অনুসারে দুটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শিক্ষণ (লার্নিং) ঘটে; (১) চিরায়ত প্রশিক্ষণ (classical conditioning) এবং (২) অপারেন্ট প্রশিক্ষণ (operant conditioning)। এসব তত্ত্বে আচরণ ও পরিবেশের প্রভাবের উপর ফোকাস করা হয়।
চিরায়ত প্রশিক্ষণ (classical conditioning) হলো দুটি উদ্দীপকের মধ্যে সম্পর্ক বোঝার প্রশিক্ষণ। এখানে নিরপেক্ষ উদ্দীপকেই (neutral stimulus) সাড়া পাওয়া যায়, কেননা সেই নিরপেক্ষ উদ্দীপকের সাথে একই সময়ে আরেকটি স্বয়ংক্রিয় সহজাত উদ্দীপক (natural stimulus) রাখা হয়। সহজাত উদ্দীপকের দ্বারা ব্যক্তি নিরপেক্ষ উদ্দীপকের অর্থ শিখে নেয়।
যেমন ধরুন, সন্তানদের দুপুরের খাবারের জন্য ডাকতে গিয়ে কোনো মা যদি একটি ঘন্টা বাজান, প্রথম প্রথম সন্তানরা বুঝবে না কেন ঘন্টা বাজানো হচ্ছে, (যেহেতু এর কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই)। ফলে তারা খাবার টেবিলে আসতে দ্বিধাগ্রস্ত থাকতে পারে। কিন্তু ঘন্টা বাজানোর একই সাথে যদি খাবার পরিবেশন করতে থাকা হয় তখন সবাই খাবার টেবিলে দৌড়ে আসবে। (এখানে ঘন্টা বাজানো নিরপেক্ষ উদ্দীপক, খাবার পরিবেশন করা সহজাত উদ্দীপক)। শিখে নেবে যে, ঘন্টা বাজানোর উদ্দেশ্য খেতে ডাকা। এরপর থেকে শুধু ঘণ্টাধ্বনি শুনলেই টেবিলে চলে আসবে।
অপারেন্ট প্রশিক্ষণ (operant conditioning) হলো আচরণ-পরবর্তী ফলাফল দেখে শিখে নেয়া। কোনো আচরণের পর (behaviour) যদি পুরস্কার (আকাঙ্ক্ষিত কিছু) পাওয়া যায় তবে আচরণটি বাড়িয়ে দেয়। আর যদি শাস্তি (অনাকাংক্ষিত কিছু) আসে তবে সেই আচরণ কমিয়ে দেয়। যেমন কিনা, ঘর পরিষ্কার করলে যদি কোনো শিশুকে ক্যান্ডি দেয়া হয় তবে এটা পুরস্কার, সে আবারও করতে উদ্বুদ্ধ হলো। আর শাস্তি হলো ফুলদানী ভেঙ্গে ফেললে প্রহার করা, এরপর সে আর ভাঙবে না। শিখে গেল।
সাধারণত এই মূলনীতিগুলো নির্দিষ্ট কিছু আচরণ (behaviour) ও তাদের উপর পরিবেশের প্রভাব বুঝতে সাহায্য করে। তারপরও বলতে হয়, এগুলোর সীমাবদ্ধতা রয়েছে; কেননা এর মাধ্যমে সব ধরনের শিক্ষণ ও আচরণকে ব্যাখ্যা করা যায় না। মানুষের আচরণ এতই জটিল যে নিছক পরিবেশের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত বলা ঠিক নয়। সেক্যুলার আচরণবিদরা (বিহেভিয়ারিস্ট) শেখার ক্ষেত্রে ইন্দ্রিয় ও বোধশক্তির মাধ্যমে জ্ঞান অর্জন ও অনুধাবন (cognition); ইচ্ছাশক্তি (volition) ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের (choice) মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ভূমিকাকে উপেক্ষা করেন। তাদের চিন্তাধারা অনুসারে কোনো ব্যক্তিকে তার কাজের জন্য জবাবদিহিতা বা দায়দায়িত্ব আরোপ করা যায় না। নিঃসন্দেহে এটি ইসলামি চিন্তাধারার সাথে সাংঘর্ষিক, কেননা মানুষের স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি ও তার ভিত্তিতে জবাবদিহিতা ইসলামের মৌলিক বৈশিষ্ট্য।

📘 সাইকোলজি ইসলামি দৃষ্টিকোণ > 📄 আধ্যাত্মিক নমুনা প্রদর্শন (মডেলিং)

📄 আধ্যাত্মিক নমুনা প্রদর্শন (মডেলিং)


নমুনা প্রদর্শনের মাধ্যমেও শিক্ষণ ঘটে। মডেলিং (নমুনা প্রদর্শন) বা 'দেখে শেখা' (অবজারভেশনাল লার্নিং) হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে অপর ব্যক্তির সুনির্দিষ্ট আচরণ প্রত্যক্ষ করে অনুকরণ করা হয়। বিজ্ঞানীরা বাস্তবিকই মস্তিষ্কের ফ্রন্টাল লোব অংশে 'প্রতিরুপী নিউরন' (মিরর নিউরন) আবিষ্কার করেছেন যা এ ধরনের শিক্ষণের নিউরাল ভিত্তি প্রদান করেছে。[২] সঙ্গতকারণেই নমুনা (মডেল) সবচেয়ে কার্যকরী হয় যখন মডেলের কথা ও কাজে সামঞ্জস্য থাকে।
আলবার্ট বান্ডুরা (Albert Bandura) নামের একজন তাত্ত্বিক (social learning theorist) মনোবিজ্ঞানের 'মডেলিং কনসেপ্ট' সম্পর্কে প্রচুর লেখালেখি করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, 'কোনো নির্দিষ্ট আচরণ কার্যকর করতে বা নির্দিষ্ট দিকে প্রবাহিত করতে নমুনা প্রদর্শনের শক্তিশালী ভূমিকা বিশদভাবে নথিবদ্ধ করা হয়েছে... মানুষের সামনে কোনো আচরণের দৃষ্টান্ত বা নমুনা উপস্থিত থাকলে তারা সেসব কাজ বা কর্মধারায় সহজে সংযুক্ত হয়, যেমন- পরোপকারী আচরণ, স্বেচ্ছাশ্রম প্রদান, নগদ বা বিলম্বিত পুরস্কার অনুসন্ধান, সহমর্মিতা প্রকাশ, শাস্তিমূলক আচরণ বা নির্দিষ্ট খাদ্য ও পোশাক পছন্দ করা, নির্দিষ্ট বিষয়ে কথাবার্তা বলতে আগ্রহী হওয়া, কোনো কিছুতে কৌতূহলী বা নিষ্ক্রিয় হওয়া, নতুন বা প্রথাগতভাবে চিন্তা করা ইত্যাদি。[৩]
অবজারভেশনাল লার্নিং বিষয়ে (দেখে শিখা) সাম্প্রতিক সংযোজন হলো 'স্পিরিচুয়াল মডেলিং'। কোনো ধর্মীয় অনুকরণযোগ্য ব্যক্তিত্বের জীবন ও আচরণ নকল করার মাধ্যমে মানুষ যে আধ্যাত্মিকভাবে বিকশিত হতে পারে, তা সহজেই বোঝা যায়। হতে পারে সেই ব্যক্তিত্ব অতীতের কোনো ব্যক্তি (নবি) অথবা সাম্প্রতিক ব্যক্তিত্ব (কোনো ধর্মীয় পরিবার বা গোষ্ঠী)。[৪] এখানে মূল চালিকাশক্তি হলো 'অবজারভেশনাল স্পিরিচুয়াল লার্নিং', যেখানে একজন ব্যক্তি অন্যদেরকে প্রত্যক্ষ করার মাধ্যমে প্রাসঙ্গিক ধর্মীয় দক্ষতা ও আচরণ শিখে নেয়。[৫]
রাসূলুল্লাহ (সা.) আধ্যাত্মিক মডেলের শ্রেষ্ঠ নমুনা। জীবনে আত্মিক প্রশান্তি ও 'ভালো থাকা'র জন্য ইসলামে নির্দেশিত আচার অনুষ্ঠান, সামগ্রিক জীবনবোধ ও দর্শনের দিক দিয়ে তিনিই আমাদের সর্বোৎকৃষ্ট আদর্শ। কিয়ামত পর্যন্ত তাকেই মুসলিমদের জন্য চূড়ান্ত ও বিশ্বজনীন রোলমডেল-এর মর্যাদায় বিভূষিত করা হয়েছে। অনন্যসাধারণ নৈতিকতা, ন্যায়সঙ্গত আচরণবিধি ও উন্নত চরিত্রমাধুর্যের নমুনা রয়েছে তাঁর জীবনে। আরও রয়েছে অসাধারণ দক্ষতা। এগুলো সবই সেই বিশেষ লক্ষণ যা নবি হিসেবে তাঁর মর্যাদা ও অবস্থানকে ফুটিয়ে তোলে。[৬]
পবিত্র কুরআনে আক্ষরিকভাবেই তাকে 'রোল মডেল' হিসেবে পেশ করা হয়েছে,
• 'যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে, তাদের জন্যে রাসূলুল্লাহর মধ্যে উত্তম নমুনা রয়েছে।' (সূরাহ আহযাব, ৩৩:২১)
(أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ) শব্দটিকে এখানে 'উত্তম নমুনা' হিসেবে অনুবাদ করা হয়েছে। এর অর্থ এমন দৃষ্টান্ত ও উদাহরণ, যাকে অবশ্যই অনুকরণ ও আনুগত্য করতে হবে। কোনো ব্যক্তি যখন অন্যকে অনুসরণ করে, তখন তার আচার-আচরণ ও ভঙ্গি সবকিছু নকল করে। এই আয়াতের মাধ্যমে মুসলিমদের জীবনে নবি মুহাম্মদ (সা.) এর সুন্নতের গুরুত্ব ফুটে উঠেছে। মুসলিমরা তাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তাঁর পথ ও মত অনুসরণ করতে আদিষ্ট।
রাসূলের সুন্নাতকে অনুসরণ করা মূলত আল্লাহর আনুগত্য করারই আরেক রূপ। আল্লাহ বলেছেন,
• 'যে লোক রসূলের হুকুম মান্য করবে সে আল্লাহরই হুকুম মান্য করল। আর যে লোক বিমুখতা অবলম্বন করল, আমি আপনাকে (হে মুহাম্মদ), তাদের জন্য রক্ষণাবেক্ষণকারী নিযুক্ত করে পাঠাইনি।' (সূরাহ নিসা, ৪:৮০)
রাসূলের কাছ থেকে যে জ্ঞান এসেছে তার উৎসও আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা ওহী। এ বিষয়টি কুরআনের বিভিন্ন আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে এবং মুসলিমদেরকে রাসূলের অনুকরণ ও অনুসরণের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে,
• 'হে ঈমানদারগণ, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশ মান্য কর এবং শোনার পর তা থেকে বিমুখ হয়ো না।' (সূরাহ আনফাল, ৮:২০)
• অন্যত্র বলেছেন, '... রসূল তোমাদেরকে যা দেন, তা গ্রহণ কর এবং যা নিষেধ করেন, তা থেকে বিরত থাক...' (সূরাহ হাশর, ৫৯:৭)
• অন্যত্র বলেছেন, 'আর তোমরা আনুগত্য কর আল্লাহ ও রসূলের, যাতে তোমাদের উপর রহমত করা হয়।' (সূরাহ আলে ইমরান, ৩:১৩২)
• অন্যত্র বলেছেন, 'বলুন, আল্লাহর আনুগত্য কর এবং রসূলের আনুগত্য কর। অতঃপর যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে তার উপর ন্যস্ত দায়িত্বের জন্যে সে দায়ী এবং তোমাদের উপর ন্যস্ত দায়িত্বের জন্যে তোমরা দায়ী। তোমরা যদি তাঁর আনুগত্য কর, তবে সৎ পথ পাবে। রসূলের দায়িত্ব তো কেবল সুস্পষ্টরূপে পৌঁছে দেয়া।' (সূরাহ নূর, ২৪:৫৪)
শেষোক্ত দুটি আয়াতে এসেছে, যে ব্যক্তি রাসূলের আনুগত্য করবে সে সঠিক হিদায়াত ও আল্লাহর রহমতের উপর থাকবে। সর্বোচ্চ সাধ্যমত রাসূলের সুন্নাত অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। বিদায় হজ্বের ভাষণে তিনি বলেছেন, 'আমি তোমাদের মাঝে দুটি বিষয় রেখে যাচ্ছি, যদি সেগুলো আঁকড়ে ধরো তাহলে তোমরা পথভ্রষ্ট হবে না: আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহ।' (উত্তম সনদে বর্ণিত, মালিক, আল-হাকিম, আল- বাইহাকি)。
আরেক হাদিসে এসেছে, 'বনি ইসরাইল বাহাত্তর ফিরকায় বিভক্ত হয়েছে। আমার উম্মাত তিহাত্তর ফিরকায় বিভক্ত হবে, তাদের সবাই জাহান্নামী একটি ব্যতীত। তারা (সাহাবিরা) বললেন, সেই এক দল কারা, ইয়া রাসূলাল্লাহ? তিনি বললেন: (যারা) আমার ও আমার সাহাবিদের পথের উপর থাকবে।' (তিরমিযি, সনদ নির্ভরযোগ্য)
রাসূলের সুন্নাত বর্ণিত হয়েছে হাদিসের মাধ্যমে। হাদিস হলো তাঁর কথা, কর্ম ও মৌন সম্মতির সমষ্টি। গুরুত্ব ও সাক্ষ্য-প্রমাণ বিবেচনায় কুরআনের পরেই হাদিসের স্থান। কেননা, আল্লাহর অনুপ্রেরণায়ই তিনি যা যা বলেছেন ও করেছেন, সেগুলোই হাদিস হিসেবে আমাদের কাছে পৌঁছেছে। রাসূলের এসব সুন্নাতকে সংরক্ষণ করা হয়েছে বিভিন্ন কিতাবে, যার মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত ও বিশুদ্ধ হাদিস গ্রন্থ হলো সহীহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম। রাসূলের সঙ্গীসাথীগণ (সাহাবায়ে কেরাম) তাঁর প্রতিটি কথা ও কাজকে সংরক্ষণ করেছেন ও মুখস্ত করে রেখেছেন। এগুলোই প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে আলিমগণ প্রচার করেছেন। তাঁরা হাদিসের বিশুদ্ধতা যাচাইয়ের জন্য এক সূক্ষ্ম ও কঠোর পদ্ধতিও তৈরি করে গেছেন যাতে বিশুদ্ধ হাদিস থেকে দুর্বল ও জাল হাদিস আলাদা হয়ে যায়।
চলুন, পূর্বের আলোচনায় ফেরত যাই। সাধারণভাবে ‘অবজারভেশনাল লার্নিং’কে (দেখে শেখা) নিয়ন্ত্রণ করার জন্য চারটি প্রক্রিয়া প্রস্তাব করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়াগুলো ‘অবজারভেশনাল স্পিরিচুয়াল লার্নিং’ এর ক্ষেত্রেও সমভাবে প্রযোজ্য [৭]。
১। মনোনিবেশ (attention): মনোনিবেশ চর্চা করা হয় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কিছু আচারের মধ্য দিয়ে, যা সেই অনুকরণযোগ্য ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের দিকে সকলকে মনোযোগী করে তোলে。[৮] যেমন, ইসলামে দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত সালাতে আল্লাহর রাসূলের উপর দরুদ পেশ করার মাধ্যমে তাকে স্মরণ করা হয়, এভাবে প্রত্যেক মুসল্লীকে প্রতিনিয়ত মনোযোগী করে তোলা হয় নবিজির দৃষ্টান্ত অনুকরণের দিকে।
২। স্মৃতিশক্তি (retention): ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের জীবনের নানা ঘটনা ও শিক্ষা বারবার আলোচনার মাধ্যমে অনুকরণকারীদের অন্তরে অনুকরণকৃত ব্যক্তির স্মৃতি চাঙ্গা রাখা হয়। এটি বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান বা বক্তব্যের মাধ্যমে হতে পারে। [৯] ইসলামে এই পদ্ধতির একটি স্পষ্ট নমুনা হলো রাসূলের সীরাত ও হাদিস অধ্যয়ন করা।
৩। অনুকরণ (reproduction): ব্যক্তি যা শিখেছে সেগুলো দৈনন্দিন জীবনে পালন করার মাধ্যমে ও দক্ষতা অর্জনের চেষ্টার মাধ্যমে এটি ঘটে। [১০] ইসলামে এর উদাহরণ হলো জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে রাসূলের সুন্নাত অনুসরণ করা, যেমন দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত সালাত, জিকির-আজকার, উত্তম আচার-ব্যবহার ইত্যাদি।
৪। প্রেষণা (motivation): আধ্যাত্মিক উৎকর্ষতা সাধনের চেষ্টায় এটি চূড়ান্ত ধাপ। এখানে মনোযোগ প্রদান করা হয় পুরস্কারের দিকে। যদি ব্যক্তি আধ্যাত্মিকতার উপর অটল থাকতে পারে তবে সেই পুরস্কার সে অর্জন করবে。[১১] ইসলামে মুমিনদের প্রতি ওয়াদাকৃত শান্তি ও পুরস্কারের বিষয়গুলো এই মর্মে সুপরিচিত।

টিকাঃ
[২] Ibid., p. 341.
[৩] Bandura, A., 1986, Social Foundations of Thought and Action, Englewood Cliffs, NJ: Prentice Hall, p. 206.
[৪] Oman, D., & Thoreson, C.E., 2003, Spiritual modeling: A key to spiritual and religious growth?, The International Journal for the Psychology of Religion, 13 (3), p. 150.
[৫] Ibid.
[৬] al-Mubarakpuri, S., 1996, The Sealed Nectar: Biography of the Noble Prophet, Riyadh, Saudi Arabia: Dar-us-Salam Publications, pp. 496-503.
[৭] Bandura, 1986, pp. 51-55; Oman and Thoreson, 2003, p. 154.
[৮] Oman and Thoreson, 2003, p. 154.
[৯] Ibid.
[১০] Ibid.
[১১] Ibid., p. 155.

নমুনা প্রদর্শনের মাধ্যমেও শিক্ষণ ঘটে। মডেলিং (নমুনা প্রদর্শন) বা 'দেখে শেখা' (অবজারভেশনাল লার্নিং) হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে অপর ব্যক্তির সুনির্দিষ্ট আচরণ প্রত্যক্ষ করে অনুকরণ করা হয়। বিজ্ঞানীরা বাস্তবিকই মস্তিষ্কের ফ্রন্টাল লোব অংশে 'প্রতিরুপী নিউরন' (মিরর নিউরন) আবিষ্কার করেছেন যা এ ধরনের শিক্ষণের নিউরাল ভিত্তি প্রদান করেছে。[২] সঙ্গতকারণেই নমুনা (মডেল) সবচেয়ে কার্যকরী হয় যখন মডেলের কথা ও কাজে সামঞ্জস্য থাকে。
আলবার্ট বান্ডুরা (Albert Bandura) নামের একজন তাত্ত্বিক (social learning theorist) মনোবিজ্ঞানের 'মডেলিং কনসেপ্ট' সম্পর্কে প্রচুর লেখালেখি করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, 'কোনো নির্দিষ্ট আচরণ কার্যকর করতে বা নির্দিষ্ট দিকে প্রবাহিত করতে নমুনা প্রদর্শনের শক্তিশালী ভূমিকা বিশদভাবে নথিবদ্ধ করা হয়েছে... মানুষের সামনে কোনো আচরণের দৃষ্টান্ত বা নমুনা উপস্থিত থাকলে তারা সেসব কাজ বা কর্মধারায় সহজে সংযুক্ত হয়, যেমন- পরোপকারী আচরণ, স্বেচ্ছাশ্রম প্রদান, নগদ বা বিলম্বিত পুরস্কার অনুসন্ধান, সহমর্মিতা প্রকাশ, শাস্তিমূলক আচরণ বা নির্দিষ্ট খাদ্য ও পোশাক পছন্দ করা, নির্দিষ্ট বিষয়ে কথাবার্তা বলতে আগ্রহী হওয়া, কোনো কিছুতে কৌতূহলী বা নিষ্ক্রিয় হওয়া, নতুন বা প্রথাগতভাবে চিন্তা করা ইত্যাদি。[৩]
অবজারভেশনাল লার্নিং বিষয়ে (দেখে শিখা) সাম্প্রতিক সংযোজন হলো 'স্পিরিচুয়াল মডেলিং'। কোনো ধর্মীয় অনুকরণযোগ্য ব্যক্তিত্বের জীবন ও আচরণ নকল করার মাধ্যমে মানুষ যে আধ্যাত্মিকভাবে বিকশিত হতে পারে, তা সহজেই বোঝা যায়। হতে পারে সেই ব্যক্তিত্ব অতীতের কোনো ব্যক্তি (নবি) অথবা সাম্প্রতিক ব্যক্তিত্ব (কোনো ধর্মীয় পরিবার বা গোষ্ঠী)。[৪] এখানে মূল চালিকাশক্তি হলো 'অবজারভেশনাল স্পিরিচুয়াল লার্নিং', যেখানে একজন ব্যক্তি অন্যদেরকে প্রত্যক্ষ করার মাধ্যমে প্রাসঙ্গিক ধর্মীয় দক্ষতা ও আচরণ শিখে নেয়。[৫]
রাসূলুল্লাহ (সা.) আধ্যাত্মিক মডেলের শ্রেষ্ঠ নমুনা। জীবনে আত্মিক প্রশান্তি ও 'ভালো থাকা'র জন্য ইসলামে নির্দেশিত আচার অনুষ্ঠান, সামগ্রিক জীবনবোধ ও দর্শনের দিক দিয়ে তিনিই আমাদের সর্বোৎকৃষ্ট আদর্শ। কিয়ামত পর্যন্ত তাকেই মুসলিমদের জন্য চূড়ান্ত ও বিশ্বজনীন রোলমডেল-এর মর্যাদায় বিভূষিত করা হয়েছে। অনন্যসাধারণ নৈতিকতা, ন্যায়সঙ্গত আচরণবিধি ও উন্নত চরিত্রমাধুর্যের নমুনা রয়েছে তাঁর জীবনে। আরও রয়েছে অসাধারণ দক্ষতা। এগুলো সবই সেই বিশেষ লক্ষণ যা নবি হিসেবে তাঁর মর্যাদা ও অবস্থানকে ফুটিয়ে তোলে。[৬]
পবিত্র কুরআনে আক্ষরিকভাবেই তাকে 'রোল মডেল' হিসেবে পেশ করা হয়েছে,
• 'যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে, তাদের জন্যে রাসূলুল্লাহর মধ্যে উত্তম নমুনা রয়েছে।' (সূরাহ আহযাব, ৩৩:২১)
(أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ) শব্দটিকে এখানে 'উত্তম নমুনা' হিসেবে অনুবাদ করা হয়েছে। এর অর্থ এমন দৃষ্টান্ত ও উদাহরণ, যাকে অবশ্যই অনুকরণ ও আনুগত্য করতে হবে। কোনো ব্যক্তি যখন অন্যকে অনুসরণ করে, তখন তার আচার-আচরণ ও ভঙ্গি সবকিছু নকল করে। এই আয়াতের মাধ্যমে মুসলিমদের জীবনে নবি মুহাম্মদ (সা.) এর সুন্নতের গুরুত্ব ফুটে উঠেছে। মুসলিমরা তাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তাঁর পথ ও মত অনুসরণ করতে আদিষ্ট।
রাসূলের সুন্নাতকে অনুসরণ করা মূলত আল্লাহর আনুগত্য করারই আরেক রূপ। আল্লাহ বলেছেন,
• 'যে লোক রসূলের হুকুম মান্য করবে সে আল্লাহরই হুকুম মান্য করল। আর যে লোক বিমুখতা অবলম্বন করল, আমি আপনাকে (হে মুহাম্মদ), তাদের জন্য রক্ষণাবেক্ষণকারী নিযুক্ত করে পাঠাইনি।' (সূরাহ নিসা, ৪:৮০)
রাসূলের কাছ থেকে যে জ্ঞান এসেছে তার উৎসও আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা ওহী। এ বিষয়টি কুরআনের বিভিন্ন আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে এবং মুসলিমদেরকে রাসূলের অনুকরণ ও অনুসরণের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে,
• 'হে ঈমানদারগণ, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশ মান্য কর এবং শোনার পর তা থেকে বিমুখ হয়ো না।' (সূরাহ আনফাল, ৮:২০)
• অন্যত্র বলেছেন, '... রসূল তোমাদেরকে যা দেন, তা গ্রহণ কর এবং যা নিষেধ করেন, তা থেকে বিরত থাক...' (সূরাহ হাশর, ৫৯:৭)
• অন্যত্র বলেছেন, 'আর তোমরা আনুগত্য কর আল্লাহ ও রসূলের, যাতে তোমাদের উপর রহমত করা হয়।' (সূরাহ আলে ইমরান, ৩:১৩২)
• অন্যত্র বলেছেন, 'বলুন, আল্লাহর আনুগত্য কর এবং রসূলের আনুগত্য কর। অতঃপর যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে তার উপর ন্যস্ত দায়িত্বের জন্যে সে দায়ী এবং তোমাদের উপর ন্যস্ত দায়িত্বের জন্যে তোমরা দায়ী। তোমরা যদি তাঁর আনুগত্য কর, তবে সৎ পথ পাবে। রসূলের দায়িত্ব তো কেবল সুস্পষ্টরূপে পৌঁছে দেয়া।' (সূরাহ নূর, ২৪:৫৪)
শেষোক্ত দুটি আয়াতে এসেছে, যে ব্যক্তি রাসূলের আনুগত্য করবে সে সঠিক হিদায়াত ও আল্লাহর রহমতের উপর থাকবে। সর্বোচ্চ সাধ্যমত রাসূলের সুন্নাত অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। বিদায় হজ্বের ভাষণে তিনি বলেছেন, 'আমি তোমাদের মাঝে দুটি বিষয় রেখে যাচ্ছি, যদি সেগুলো আঁকড়ে ধরো তাহলে তোমরা পথভ্রষ্ট হবে না: আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহ।' (উত্তম সনদে বর্ণিত, মালিক, আল-হাকিম, আল- বাইহাকি)。
আরেক হাদিসে এসেছে, 'বনি ইসরাইল বাহাত্তর ফিরকায় বিভক্ত হয়েছে। আমার উম্মাত তিহাত্তর ফিরকায় বিভক্ত হবে, তাদের সবাই জাহান্নামী একটি ব্যতীত। তারা (সাহাবিরা) বললেন, সেই এক দল কারা, ইয়া রাসূলাল্লাহ? তিনি বললেন: (যারা) আমার ও আমার সাহাবিদের পথের উপর থাকবে।' (তিরমিযি, সনদ নির্ভরযোগ্য)
রাসূলের সুন্নাত বর্ণিত হয়েছে হাদিসের মাধ্যমে। হাদিস হলো তাঁর কথা, কর্ম ও মৌন সম্মতির সমষ্টি। গুরুত্ব ও সাক্ষ্য-প্রমাণ বিবেচনায় কুরআনের পরেই হাদিসের স্থান। কেননা, আল্লাহর অনুপ্রেরণায়ই তিনি যা যা বলেছেন ও করেছেন, সেগুলোই হাদিস হিসেবে আমাদের কাছে পৌঁছেছে। রাসূলের এসব সুন্নাতকে সংরক্ষণ করা হয়েছে বিভিন্ন কিতাবে, যার মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত ও বিশুদ্ধ হাদিস গ্রন্থ হলো সহীহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম। রাসূলের সঙ্গীসাথীগণ (সাহাবায়ে কেরাম) তাঁর প্রতিটি কথা ও কাজকে সংরক্ষণ করেছেন ও মুখস্ত করে রেখেছেন। এগুলোই প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে আলিমগণ প্রচার করেছেন। তাঁরা হাদিসের বিশুদ্ধতা যাচাইয়ের জন্য এক সূক্ষ্ম ও কঠোর পদ্ধতিও তৈরি করে গেছেন যাতে বিশুদ্ধ হাদিস থেকে দুর্বল ও জাল হাদিস আলাদা হয়ে যায়।
চলুন, পূর্বের আলোচনায় ফেরত যাই। সাধারণভাবে ‘অবজারভেশনাল লার্নিং’কে (দেখে শেখা) নিয়ন্ত্রণ করার জন্য চারটি প্রক্রিয়া প্রস্তাব করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়াগুলো ‘অবজারভেশনাল স্পিরিচুয়াল লার্নিং’ এর ক্ষেত্রেও সমভাবে প্রযোজ্য [৭]。
১। মনোনিবেশ (attention): মনোনিবেশ চর্চা করা হয় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কিছু আচারের মধ্য দিয়ে, যা সেই অনুকরণযোগ্য ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের দিকে সকলকে মনোযোগী করে তোলে。[৮] যেমন, ইসলামে দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত সালাতে আল্লাহর রাসূলের উপর দরুদ পেশ করার মাধ্যমে তাকে স্মরণ করা হয়, এভাবে প্রত্যেক মুসল্লীকে প্রতিনিয়ত মনোযোগী করে তোলা হয় নবিজির দৃষ্টান্ত অনুকরণের দিকে।
২। স্মৃতিশক্তি (retention): ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের জীবনের নানা ঘটনা ও শিক্ষা বারবার আলোচনার মাধ্যমে অনুকরণকারীদের অন্তরে অনুকরণকৃত ব্যক্তির স্মৃতি চাঙ্গা রাখা হয়। এটি বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান বা বক্তব্যের মাধ্যমে হতে পারে। [৯] ইসলামে এই পদ্ধতির একটি স্পষ্ট নমুনা হলো রাসূলের সীরাত ও হাদিস অধ্যয়ন করা।
৩। অনুকরণ (reproduction): ব্যক্তি যা শিখেছে সেগুলো দৈনন্দিন জীবনে পালন করার মাধ্যমে ও দক্ষতা অর্জনের চেষ্টার মাধ্যমে এটি ঘটে। [১০] ইসলামে এর উদাহরণ হলো জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে রাসূলের সুন্নাত অনুসরণ করা, যেমন দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত সালাত, জিকির-আজকার, উত্তম আচার-ব্যবহার ইত্যাদি।
৪। প্রেষণা (motivation): আধ্যাত্মিক উৎকর্ষতা সাধনের চেষ্টায় এটি চূড়ান্ত ধাপ। এখানে মনোযোগ প্রদান করা হয় পুরস্কারের দিকে। যদি ব্যক্তি আধ্যাত্মিকতার উপর অটল থাকতে পারে তবে সেই পুরস্কার সে অর্জন করবে。[১১] ইসলামে মুমিনদের প্রতি ওয়াদাকৃত শান্তি ও পুরস্কারের বিষয়গুলো এই মর্মে সুপরিচিত।

টিকাঃ
[২] Ibid., p. 341.
[৩] Bandura, A., 1986, Social Foundations of Thought and Action, Englewood Cliffs, NJ: Prentice Hall, p. 206.
[৪] Oman, D., & Thoreson, C.E., 2003, Spiritual modeling: A key to spiritual and religious growth?, The International Journal for the Psychology of Religion, 13 (3), p. 150.
[৫] Ibid.
[৬] al-Mubarakpuri, S., 1996, The Sealed Nectar: Biography of the Noble Prophet, Riyadh, Saudi Arabia: Dar-us-Salam Publications, pp. 496-503.
[৭] Bandura, 1986, pp. 51-55; Oman and Thoreson, 2003, p. 154.
[৮] Oman and Thoreson, 2003, p. 154.
[৯] Ibid.
[১০] Ibid.
[১১] Ibid., p. 155.

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00