📄 প্রজ্ঞা ও বিজ্ঞতা
জীবনের অর্থ ও উদ্দেশ্য কী— তা নিয়ে যুগে যুগে মানব জাতি বহু আলোচনা ও তর্ক-বিতর্ক করেছে। কিভাবে এ বিষয়ে প্রজ্ঞা অর্জন করা যেতে পারে, এ নিয়েও যথেষ্ট আলোচনা হয়েছে। সেক্যুলার পরিভাষায় প্রজ্ঞা (উইজডম) অর্থ: সঠিক বিষয়টি বাছাই করার ও উপযুক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সামর্থ্য। এটি অভিজ্ঞতালব্ধ বুদ্ধি এবং গভীর অনুধাবন শক্তি ও অন্তর্দৃষ্টির মাধ্যমে পরিশীলিত তথ্যকে বোঝায়। যদিও এ বিষয়টিকে অনেকাংশেই আনুষ্ঠানিক শিক্ষার সাথে সংযুক্ত করা হয়, কিন্তু দুনিয়াবী বিষয়ে জ্ঞানার্জন প্রজ্ঞাবান হওয়ার জন্য কোনো জরুরি শর্ত নয়। পূর্বের আলোচনা থেকে আমরা জেনেছি, সেক্যুলার শিক্ষা পদ্ধতির প্রধান মনোযোগ থাকে বুদ্ধিমত্তা ও জ্ঞানের উপর; আধ্যাত্মিক বিষয়ের উল্লেখ পাওয়া যায় খুব অল্পই।
এখানে একটি বিষয় উল্লেখ করা প্রয়োজন। সাম্প্রতিক সময়ে 'স্পিরিচুয়াল ইন্টেলিজেন্স' নামে নতুন একটি পরিভাষা আনা হচ্ছে। এর সংজ্ঞা হিসেবে বলা হচ্ছে; ('স্পিরিচুয়াল ইন্টেলিজেন্স' হলো) আধ্যাত্মিক তথ্য উপাত্তের মানানসই (adaptive) ব্যবহার যা দৈনন্দিন সমস্যার সমাধানে ও লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করে。[৫] নিম্নের বিষয়গুলোর প্রস্তাব করা হয়েছে 'স্পিরিচুয়াল ইন্টেলিজেন্স' এর উপাদান হিসেবে;
১। দৈহিক ও মানসিক (সীমাবদ্ধতা) অতিক্রমের ক্ষমতা。
২। আশপাশ সম্পর্কে আরও বেশি সচেতন থাকার সামর্থ্য।
৩। দৈনন্দিন অভিজ্ঞতাকে পরিশুদ্ধ করার সামর্থ্য।
৪। আধ্যাত্মিক উপাদান ব্যবহারের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের সামর্থ্য।
৫। নিষ্ঠাবান বা গুণবান হবার ক্ষমতা। [৬]
স্পিরিচুয়ালিটির (আধ্যাত্মিকতা) সংজ্ঞা অনেক ব্যাপক। এরমধ্যে নানাবিধ চিন্তাচেতনা, বিশ্বাস, মতাদর্শ ও আচার-অনুষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত। ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গি অনুসারে, প্রজ্ঞার ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক সংজ্ঞাটিকে ফোকাস করা হয়, সর্বজ্ঞানী আল্লাহর নাজিলকৃত ওহীর উপর ভিত্তি করে।
আল্লাহর প্রজ্ঞা
চূড়ান্ত প্রজ্ঞা আসে একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকে। তিনি সর্বজ্ঞানী, মহা প্রজ্ঞাবান। বিষয়টি একেবারে সুস্পষ্ট। কুরআনের বিভিন্ন আয়াতে এর উল্লেখ রয়েছে,
• 'যে কেউ পাপ করে, সে নিজের পক্ষেই করে। আল্লাহ মহাজ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়।' (সূরাহ নিসা, ৪:১১১)
• 'নভোমন্ডলে ও ভূ-মন্ডলে তাঁরই গৌরব। তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।' (সূরাহ জাছিয়া, ৪৫:৩৭)
• অন্যত্র বলেছেন, 'আপনার পালনকর্তাই তাদেরকে একত্রিত করে আনবেন। নিশ্চয় তিনি প্রজ্ঞাবান, জ্ঞানময়।' (সূরাহ হিজর, ১৫:২৫)
• অন্যত্র বলেছেন, 'হে আমাদের পালনকর্তা, আর তাদেরকে দাখিল করুন চিরকাল বসবাসের জান্নাতে, যার ওয়াদা আপনি তাদেরকে দিয়েছেন এবং তাদের বাপ-দাদা, পতি-পত্নী ও
সন্তানদের মধ্যে যারা সৎকর্ম করে তাদেরকে। নিশ্চয় আপনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।' (সূরাহ মুমিন, ৪০:৮)
মানুষের কখনো এমন ধারণা পোষণ করা উচিত নয় যে তারা আল্লাহর থেকেও প্রজ্ঞাবান! কেননা, এটি শিরকের অন্তর্ভুক্ত যা মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনে। বাস্তবে মানুষের প্রজ্ঞা মহান আল্লাহর প্রজ্ঞার ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র একটি অংশমাত্র। তিনি নিজ ইচ্ছামাফিক প্রজ্ঞা ও অনুধাবন শক্তি প্রদান করেন, আর যাকে ইচ্ছা তা থেকে বঞ্চিত করেন।
কুরআনে প্রজ্ঞা
মানুষ কুরআনের মাধ্যমে আল্লাহর দেয়া প্রজ্ঞার কিছু অংশ অর্জন করতে পারে। বিভিন্ন আয়াতে বর্ণিত হয়েছে, কুরআন প্রজ্ঞাবান গ্রন্থ। আল্লাহ বলেছেন,
• 'প্রজ্ঞাময় কোরআনের কসম।' (সূরাহ ইয়াসীন, ৩৬:২)
• অন্যত্র বলেছেন, 'আমি একে করেছি কোরআন, আরবী ভাষায়, যাতে তোমরা বুঝ। নিশ্চয় এ কোরআন আমার কাছে সমুন্নত অটল রয়েছে লওহে মাহফুযে।' (সূরাহ যুখরুফ, ৪৩:৩-৪)
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর প্রজ্ঞা
রাসূলুল্লাহ (সা.) কে আল্লাহর প্রজ্ঞা থেকে কিছু বিশেষ প্রজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে। এই উদ্দেশ্যে তাকে নবি ও রাসূল হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। সেই প্রজ্ঞা সংরক্ষিত হয়েছে হাদিস ও সুন্নতের মাধ্যমে। এগুলো আল্লাহর ওহীরই অংশ। ফেরেশতা জিবরাইল রাসূলের অন্তরে প্রজ্ঞা স্থাপন করেছেন। নবিজি (সা.) বলেছেন, 'আমি কাবা ঘরের নিকট নিদ্রা ও জাগরণ-এ দু' অবস্থার মাঝামাঝি অবস্থায় ছিলাম। এরপর (ফেরেশতা) দু' ব্যক্তির মাঝে থাকা ব্যক্তিকে (আমাকে) উল্লেখ করে বললেন, 'আমার নিকট স্বর্ণের একটি তশতরী নিয়ে আসা হলো-যা হিকমত ও ঈমানে পরিপূর্ণ ছিল। তারপর আমার বুক থেকে পেটের নীচ পর্যন্ত বিদীর্ণ করা হল। এরপর আমার পেট যমযমের পানি দ্বারা ধুয়ে ফেলা হলো। তারপর হিকমত ও ঈমান পরিপূর্ণ করা হল...' (বুখারি)
রাসূলকে যে প্রজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে তার আলোচনা কুরআনের বিভিন্ন স্থানে এসেছে। সাধারণত তাকে যে কিতাব প্রদান করা হয়েছে অর্থাৎ কুরআনের প্রসঙ্গে সেই হিকমতের কথা উল্লেখ করা হয়,
• 'তিনিই নিরক্ষরদের মধ্য থেকে একজন রসূল প্রেরণ করেছেন, যিনি তাদের কাছে পাঠ করেন তার আয়াতসমূহ, তাদেরকে পবিত্র করেন এবং শিক্ষা দেন কিতাব ও হিকমত। ইতিপূর্বে তারা ছিল ঘোর পথভ্রষ্টতায় লিপ্ত।' (সূরাহ জুমুয়াহ, ৬২:২)
• অন্যত্র বলেছেন, ‘...আল্লাহ আপনার প্রতি ঐশী গ্রন্থ ও প্রজ্ঞা অবতীর্ণ করেছেন এবং আপনাকে এমন বিষয় শিক্ষা দিয়েছেন, যা আপনি জানতেন না। আপনার প্রতি আল্লাহর করুণা অসীম।’ (সূরাহ নিসা, ৪:১১৩)
• অন্যত্র বলেছেন, ‘... আল্লাহর সে অনুগ্রহের কথা স্মরণ কর, যা তোমাদের উপর রয়েছে এবং তাও স্মরণ কর, যে কিতাব ও জ্ঞানের কথা তোমাদের উপর নাজিল করা হয়েছে যার দ্বারা তোমাদেরকে উপদেশ দান করা হয়....' (সূরাহ বাকারাহ, ২:২৩১)
• অন্যত্র বলেছেন, 'আর আল্লাহ যখন নবিগনের কাছ থেকে অঙ্গীকার গ্রহন করলেন যে, আমি যা কিছু তোমাদের দান করেছি কিতাব ও জ্ঞান এবং অতঃপর তোমাদের নিকট কোন রসূল আসেন তোমাদের কিতাবকে সত্য বলে দেয়ার জন্য, তখন সে রসূলের প্রতি ঈমান আনবে এবং তার সাহায্য করবে....' (সূরাহ আলে ইমরান, ৩:৮১)
রাসূলের প্রজ্ঞার বাস্তব নিদর্শন হলো তার সুন্নাহ। মুসলিমরা সুন্নাহর সাথে লেগে থাকতে এবং নিজেদের জীবনে বাস্তবায়ন করতে বাধ্য। একজন প্রাজ্ঞ ব্যক্তির জীবনযাপন কেমন হতে পারে, আল্লাহর রাসূল (সা.) তার সর্বোৎকৃষ্ট উদাহরণ। রাসূলের সুন্নতের পেছনে কি কি হিকমত বা প্রজ্ঞা রয়েছে সেগুলোর সবটা আমরা নাও জানতে পারি, কিন্তু এরপরেও আমরা সেগুলো পালন করে চলি আল্লাহর আদেশ বলে। কেননা, আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন আমাদের জন্য কোনো কোনো বিষয় উপকারী এবং তিনি সেগুলোর নির্দেশনাই প্রদান করেছেন।
লুকমান হাকিমের বিজ্ঞতা
কুরআনে যে সকল প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিদের আলোচনা এসেছে তাদের মধ্যে লুকমান হাকিম অন্যতম। তাকে অনুসরণযোগ্য ব্যক্তিত্ব হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। লুকমান দুনিয়াবী রাজত্ব ও ক্ষমতা প্রত্যাখ্যান করে সাধারণ জীবনযাপন করেছেন। তিনি ছিলেন একজন কাঠমিস্ত্রি কিংবা ভিন্ন বর্ণনায় গোলাম। তাঁর 'প্রকৃত মানবিয় প্রজ্ঞা' উৎসারিত হয়েছে আসমানী প্রজ্ঞার উৎস হতে। সুতরাং সকল প্রজ্ঞার সূত্রপাত তখনই ঘটে যখন আল্লাহর ইচ্ছা মোতাবেক জীবনকে চালানো হয়- অর্থাৎ আল্লাহর সাথে আমাদের সম্পর্ক কী তা বুঝতে হবে এবং তাঁর ইবাদাত করতে হবে যথোপযুক্তভাবে। লুকমান (আ.) এর এই গভীর বোধশক্তি ছিল। আল্লাহ বলছেন:
• 'আমি লোকমানকে প্রজ্ঞা দান করেছি এই মর্মে যে, আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ হও। যে কৃতজ্ঞ হয়, সে তো কেবল নিজ কল্যানের জন্যই কৃতজ্ঞ হয়। আর যে অকৃতজ্ঞ হয়, আল্লাহ অভাবমুক্ত, প্রশংসিত。
• যখন লোকমান উপদেশচ্ছলে তার পুত্রকে বলল, হে বৎস, আল্লাহর সাথে শরীক করো না। নিশ্চয় আল্লাহর সাথে শরীক করা মহা অন্যায়。
• আর আমি মানুষকে তার পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহারের জোর নির্দেশ দিয়েছি। তার মাতা তাকে কষ্টের পর কষ্ট করে গর্ভে ধারণ করেছে। তার দুধ ছাড়ানো দু বছরে হয়। নির্দেশ দিয়েছি যে, আমার প্রতি ও তোমার পিতা-মাতার প্রতি কৃতজ্ঞ হও। অবশেষে আমারই নিকট ফিরে আসতে হবে।
• পিতা-মাতা যদি তোমাকে আমার সাথে এমন বিষয়কে শরীক স্থির করতে পীড়াপীড়ি করে, যার জ্ঞান তোমার নেই; তবে তুমি তাদের কথা মানবে না এবং দুনিয়াতে তাদের সাথে সদ্ভাবে সহঅবস্থান করবে। যে আমার অভিমুখী হয়, তার পথ অনুসরণ করবে। অতঃপর তোমাদের প্রত্যাবর্তন আমারই দিকে এবং তোমরা যা করতে, আমি সে বিষয়ে তোমাদেরকে জ্ঞাত করবো।
• হে বৎস, কোন বস্তু যদি সরিষার দানা পরিমাণও হয় অতঃপর তা যদি থাকে প্রস্তর গর্ভে অথবা আকাশে অথবা ভূ-গর্ভে, তবে আল্লাহ তাও উপস্থিত করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ গোপন ভেদ জানেন, সবকিছুর খবর রাখেন।
• হে বৎস, নামায কায়েম কর, সৎকাজে আদেশ দাও, মন্দকাজে নিষেধ কর এবং বিপদাপদে সবর কর। নিশ্চয় এটা সাহসিকতার কাজ।
• অহংকারবশে তুমি মানুষকে অবজ্ঞা করো না এবং পৃথিবীতে গর্বভরে পদচারণ করো না। নিশ্চয় আল্লাহ কোন দাম্ভিক অহংকারীকে পছন্দ করেন না।
• পদচারণায় মধ্যবর্তিতা অবলম্বন কর এবং কন্ঠস্বর নীচু কর। নিঃসন্দেহে গাধার স্বরই সর্বাপেক্ষা অপ্রীতিকর।' (সূরাহ লুকমান, ৩১:১২-১৯)
এই আয়াতগুলোতে প্রজ্ঞার মূল বিষয়গুলোর বিস্তারিত বর্ণনা এসেছে এবং কিভাবে সেগুলো জীবনে প্রয়োগ করা যেতে পারে, তা আলোচিত হয়েছে। সেই প্রকৃত জ্ঞানী যে এই নির্দেশনাগুলো বুঝতে সক্ষম এবং স্বেচ্ছায় সেগুলো অনুসরণ করে পরিপূর্ণভাবে। পরিতৃপ্ত ও পরিপূর্ণ জীবনের জন্য এগুলো এক সুমহান নির্দেশিকা।
টিকাঃ
[২] Emmons, R. A., 2000, Is spirituality an intelligence? Motivation, cognition, and the psychology of ultimate concern, The International Journal of the Psychology of Religion, 10, p. 3.
[৬] Ibid., p. 10.
📄 জ্ঞানী সম্প্রদায়
আল্লাহ যাকে ইচ্ছা প্রজ্ঞা প্রদান করেন। কুরআনের ভাষায় তাদেরকে বলা হয় প্রজ্ঞাবান সম্প্রদায় (أُولُو الألباب)। আল্লাহর পক্ষ থেকে এই উপহার লাভ করা এক অসাধারণ নিয়ামত। তিনি বলেন,
• 'তিনি যাকে ইচ্ছা বিশেষ জ্ঞান দান করেন এবং যাকে বিশেষ জ্ঞান দান করা হয়, সে প্রভুত কল্যাণকর বস্তু প্রাপ্ত হয়। উপদেশ তারাই গ্রহণ করে, যারা জ্ঞানবান।' (সূরাহ বাকারাহ, ২:২৬৯)
• অন্যত্র বলেছেন, 'আমি এদের পূর্বে অনেক সম্প্রদায়কে ধবংস করেছি। যাদের বাসভূমিতে এরা বিচরণ করে, এটা কি এদেরকে সৎপথ প্রদর্শন করল না? নিশ্চয় এতে বুদ্ধিমানদের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে।' (সূরাহ ত্বহা, ২০:১২৮)
বুদ্ধিমান ব্যক্তিবর্গ বোঝাতে এখানে যে আরবি শব্দ (أولي النهى) ব্যবহৃত হয়েছে তার অর্থ বুদ্ধিমত্তা, অনুধাবন শক্তি, বোধশক্তি ইত্যাদি। আর পুরো আয়াতে জ্ঞানী, বুদ্ধিমান ও বিচক্ষণ ব্যক্তি বলতে বোঝানো হয়েছে যারা পূর্ববর্তী উম্মাতের ঘটনাগুলো পাঠ করে এবং সেখান থেকে শিক্ষা আহরণ করে তাদেরকে।
বাস্তবতা হলো, দুনিয়াবী বিষয়ের বিচক্ষণতা, বুদ্ধিমত্তা ও অনুধাবন শক্তিকে প্রজ্ঞা বলা হয় না; বরং প্রজ্ঞা হলো আল্লাহ ও তাঁর আদেশ-নিষেধের কাছে আত্মসমর্পণ করা। আল্লাহর সর্বব্যাপী জ্ঞান ও প্রজ্ঞার উপর বিশ্বাস স্থাপন করে আত্মসমর্পণ করাই হলো প্রজ্ঞা। মানুষের প্রজ্ঞা সম্পর্কে বিনয়ের সঙ্গে কেবল এতটুকু বলা যায় যে, আমাদের প্রজ্ঞাটুকু মহাপ্রজ্ঞার একচ্ছত্র অধিকারী আল্লাহর প্রজ্ঞার ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র একটি অংশমাত্র, আর এটাও যে তিনি আমাদেরকে দিয়েছেন, তা তাঁর অপার করুণা আর অনুগ্রহ ছাড়া আর কিছুই না।