📄 সম্পদ ও সুখের পারস্পরিক সম্পর্ক
এবারে আমরা দারুণ একটি গবেষণার ফলাফল দেখব। সম্পদ ও সুখের পারস্পরিক সম্পর্ক নির্ণয়ের জন্যে এই গবেষণাটি করা হয়েছিল। গবেষণায় উঠে এসেছে, 'wealth is like health: its utter absence can breed misery, yet having it is no guarantee of happiness' অর্থাৎ, 'সম্পদ ঠিক স্বাস্থ্যের মতো; এর অনুপস্থিতি কৃপণতা সৃষ্টি করে, তবে সম্পদ থাকলেই সুখপ্রাপ্তির গ্যারান্টি আছে তা নয়।' ১০। মায়ার্স (Myers) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উদাহরণ টেনেছেন। ১৯৫৭ থেকে ১৯৯৫ সাল এর মধ্যে দেখা গেছে, একজন গড়পড়তা আমেরিকার নাগরিকের উপার্জন দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে (ট্যাক্স প্রদানের পর যা অবশিষ্ট থাকে)। কিন্তু পূর্বের তুলনায় ধনী হলেও তাদের জীবনে সুখ কিন্তু বাড়েনি। ১৯৫৭ সালে ৩৫% লোক বলেছেন তারা 'খুবই সুখী', একই কথা ২০০৪ সালে বলেছেন ৩৪% লোক। আমেরিকা এবং একই সাথে ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া, জাপান এবং চীনে পরিচালিত জরিপ থেকে সিদ্ধান্ত যেটা এলো তা হলো- "economic growth in affluent countries has provided no apparent boost to morale or social well being" – অর্থাৎ, “ধনী রাষ্ট্রগুলোর অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি তাদের নৈতিক বা সামাজিক জীবনে কোনো দৃশ্যমান উন্নতি ঘটাতে পারেনি."[১১] উপরন্তু অনেকে এমন যুক্তিও পেশ করতে পারেন যে, এসব 'উন্নত দেশে'র লোকেরাই বরং বেশি দুঃখ-কষ্টে আছে। কেনন, তাদের মধ্যে অপরাধ, তালাক, কিশোর বয়সে আত্মহত্যা ও ডিপ্রেশনের হার বেশি।
স্টাডিতে আরও দেখা গেছে, যারা অধিক সম্পদ অর্জনের চেষ্টায় ব্যস্ত থাকে তাদের আবেগিক স্বাস্থ্যের গ্রাফ নিম্নমুখী। বিশেষত যারা ক্ষমতা অর্জন করা, লোক দেখানো বা নিজেকে প্রমাণের জন্য সম্পদ উপার্জন করতে চায় তাদের ক্ষেত্রে এটি অধিক সত্য। যারা 'যা পেয়েছি তাতেই খুশি' থাকে অর্থাৎ কৃতজ্ঞতাপূর্ণ জীবনযাপন করে তারা অন্যদের তুলনায় অধিক সুখ অনুভব করে。[১২] গবেষণার মাধ্যমে উঠে আসা এই বিষয়টি বহু আগেই আল্লাহ তাআলা নিশ্চিত করেছেন ওহীর মাধ্যমে। ইসলাম আমাদের শেখায়, নিঃসন্দেহে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে হবে সেই আল্লাহর প্রতি, যিনি আমাদের সকল নিয়ামতরাজি সরবরাহ করে চলেছেন।
টিকাঃ
[১১] Ibid., pp. 540-541.
[১৯] Ibid., pp. 540-541.