📄 শরীরবৃত্তীয় প্রেরণা
আল্লাহ তাআলা মানুষকে নিয়ামত হিসেবে কিছু দৈহিক প্রেরণা (motive) বা তাড়না (drive) দিয়েছেন, যার মুখ্য উদ্দেশ্য প্রত্যেক মানুষ ও মানবজাতিকে রক্ষা করা বা টিকিয়ে রাখা। যেমন- মানুষ ক্ষুধার্ত হলে খাদ্যগ্রহণের প্রেষণা সৃষ্টি হয়। এমনিভাবে পিপাসা, ক্লান্তি, গরম, ঠাণ্ডা, ব্যথা ইত্যাদি অনুভব করলে শরীরে যে চাহিদা তৈরি হয়, সেটা পূরণ করতে মানুষ উদ্বুদ্ধ হয়। সবসময় দেহকে অবশ্যই তার স্বাভাবিক ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থায় (state of homeostasis) থাকতে হবে, কেননা এই অবস্থাটিতেই দেহ যথাযথভাবে কর্মক্ষম থাকতে পারে, কাঙ্ক্ষিত কার্যক্রম দেহের ভিতর সঠিকভাবে চলতে পারে। যদি কোনোভাবে এই ভারসাম্য নষ্ট হয়, তখন দেহে একটা চাহিদা জেগে ওঠে। এই চাহিদাই তাকে ধাবিত করে দ্রুত প্রয়োজন মিটিয়ে আবার সেই সাম্যাবস্থা ফিরিয়ে আনতে। যেমন ধরেন, একজন নারী ক্ষুধার্ত হলে খাদ্যের অনুসন্ধান করবে, রান্না করে খেয়ে নিবে। যখন ক্ষুধা মিটে গেল, শরীর ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থা ফিরে পেল। সে তখন আর খাদ্যের প্রতি কোনো চাহিদা অনুভব করবে না। মানে, তার দৈহিক তাড়নাটি তখন কমে গেছে।
একটি বিষয় বেশ গুরুত্বের সাথে লক্ষ্যণীয়; মানুষ চাইলেই যেকোনো উপায়ে নিজের চাহিদা মেটাতে পারে না। অবশ্যই সেগুলো পূরণ করতে হবে গ্রহণযোগ্য ও শরিয়া মোতাবেক বৈধ উপায়ে। এসব চাহিদা চরিতার্থ করতে হবে অনুগত হয়ে এবং আল্লাহর নিয়ামতের প্রতি কৃতজ্ঞতার সাথে। অবৈধ পন্থায় পরিতৃপ্তি মানুষকে তার সহজাত বিশুদ্ধ স্বভাব থেকে বিচ্যুত করে এবং অসুস্থ ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটায়।
জান্নাতে আদমের কোনো চাহিদা ছিল না। সেখানে ছিল না মানবিয় চাহিদার কোনো অস্তিত্ব। সেই সুখের জান্নাত থেকে বহিষ্কারের পথে শয়তান তাকে প্ররোচিত করবে— আল্লাহ সে ব্যাপারে আদমকে আগেই সতর্ক করে দিয়েছিলেন। আল্লাহ বলেছেন,
• 'অতঃপর আমি বললামঃ হে আদম, এ তোমার ও তোমার স্ত্রীর শত্রু, সুতরাং সে যেন বের করে না দেয় তোমাদের জান্নাত থেকে। তাহলে তোমরা কষ্টে পতিত হবে। তোমাকে এই দেয়া হল যে, তুমি এতে ক্ষুধার্ত হবে না এবং বস্ত্রহীণ হবে না। এবং তোমার পিপাসাও হবে না এবং রৌদ্রেও কষ্ট পাবে না।' (সূরাহ ত্বহা, ২০:১১৭-১১৯)
আখিরাতের জীবনে জান্নাতীরা খাদ্য-পানীয় পোশাক ইত্যাদি ব্যবহার করবে, কিন্তু এগুলো তাদের 'চাহিদা' পূরণের জন্য প্রদান করা হবে না। বরং আল্লাহর ওয়াদা অনুসারে তাদেরকে পুরস্কার হিসেবে এগুলো দেয়া হবে উপভোগের জন্য, চাহিদা পূরণের জন্য না। দুনিয়াতে অবস্থানকালে আমরা বিভিন্ন মাত্রায় এসবের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করি, কেউ বেশি কেউ কম। আল্লাহ তাআলা নিজ রহমতে এসব প্রয়োজন পূরণের পদ্ধতিকে সহজ ও উপভোগ্য করে দিয়েছেন। যেমন ক্ষুধা সম্পর্কে কুরআনের বিভিন্ন স্থানে আলোচনা করে বলা হয়েছে,
• 'অতএব তারা যেন ইবাদাত করে এই ঘরের পালনকর্তার যিনি তাদেরকে ক্ষুধায় আহার দিয়েছেন এবং যুদ্ধভীতি থেকে তাদেরকে নিরাপদ করেছেন।' (সূরাহ কুরাইশ, ১০৬:৩-৪)
• অন্যত্র বলেছেন, 'আল্লাহ দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেছেন একটি জনপদের, যা ছিল নিরাপদ ও নিশ্চিন্ত, তথায় প্রত্যেক জায়গা থেকে আসত প্রচুর জীবনোপকরণ। অতঃপর তারা আল্লাহর নেয়ামতের প্রতি অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করল। তখন আল্লাহ তাদেরকে তাদের কৃতকর্মের কারণে স্বাদ আস্বাদন করালেন, ক্ষুধা ও ভীতির।' (সূরাহ নাহল, ১৬: ১১২)
বিশ্রামের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন,
• 'তিনি তোমাদের জন্য তৈরী করেছেন রাত, যাতে করে তোমরা তাতে প্রশান্তি লাভ করতে পার, আর দিন দিয়েছেন দর্শন করার জন্য। নিঃসন্দেহে এতে নিদর্শন রয়েছে সে সব লোকের জন্য যারা শ্রবণ করে।' (সূরাহ ইউনুস, ১০:৬৭)
• অন্যত্র বলেছেন, 'তিনিই তো তোমাদের জন্যে রাত্রিকে করেছেন আবরণ, নিদ্রাকে বিশ্রাম এবং দিনকে করেছেন বাইরে গমনের জন্যে।' (সূরাহ ফুরক্বান, ২৫:৪৭)
শীতলতা, উষ্ণতা, ক্লান্তি ও ব্যথা ইত্যাদি পরিহারের বিষয়ে আল্লাহ বলেছেন,
• 'আল্লাহ করে দিয়েছেন তোমাদের গৃহকে অবস্থানের জায়গা এবং চতুস্পদ জন্তুর চামড়া দ্বারা করেছেন তোমার জন্যে তাঁবুর ব্যবস্থা। তোমরা এগুলোকে সফরকালে ও অবস্থান কালে পাও। ভেড়ার পশম, উটের বাবরি চুল ও ছাগলের লোম দ্বারা কত আসবাবপত্র ও ব্যবহারের সামগ্রী তৈরী করেছেন এক নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত। আল্লাহ তোমাদের জন্যে সৃজিত বস্তু দ্বারা ছায়া করে দিয়েছেন এবং পাহাড় সমূহে তোমাদের জন্যে আত্ম গোপনের জায়গা করেছেন এবং তোমাদের জন্যে পোশাক তৈরী করে দিয়েছেন, যা তোমাদেরকে গ্রীষ্ম এবং বিপদের সময় রক্ষা করে। এমনিভাবে তিনি তোমাদের প্রতি স্বীয় অনুগ্রহের পূর্ণতা দান করেন, যাতে তোমরা আত্মসমর্পণ কর।' (সূরাহ নাহল, ১৬: ৮০-৮১)
মানুষের আরেকটি মৌলিক শারীরবৃত্তীয় তাড়না হলো যৌন তাড়না। দুনিয়াতে মানবপ্রজাতির ধারাবাহিকতা টিকিয়ে রাখার জন্য যেটা নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। এই তাড়নার প্রভাবেই আমরা পরিবার গঠন করি। পরিবার থেকে হয় সমাজ, আর সমাজ থেকে জাতি। আল্লাহ বলেছেন,
• 'হে মানব সমাজ! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় কর, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং যিনি তার থেকে তার সঙ্গীনীকে সৃষ্টি করেছেন; আর বিস্তার করেছেন তাদের দু'জন থেকে অগণিত পুরুষ ও নারী। আর আল্লাহকে ভয় কর, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের নিকট যাচঞা করে থাক এবং আত্মীয় জ্ঞাতিদের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন কর। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের ব্যাপারে সচেতন রয়েছেন।' (সূরাহ নিসা, ৪:১)
• অন্যত্র বলেছেন, 'হে মানব, আমি তোমাদেরকে এক পুরুষ ও এক নারী থেকে সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি, যাতে তোমরা পরস্পরে পরিচিতি হও। নিশ্চয় আল্লাহর কাছে সে-ই সর্বাধিক সম্ভ্রান্ত যে সর্বাধিক পরহেযগার। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সবকিছুর খবর রাখেন।' (সূরাহ হুজুরাত, ৪৯:১৩)
কুরআনে আল্লাহ তাআলা নারী ও পুরুষ সৃষ্টির আলোচনা করেছেন, কেননা এই 'জোড় বাঁধা' থেকেই ক্রমান্বয়ে গোত্র ও জাতি বিকশিত হয়। বৈবাহিক সম্পর্কের মধ্যে পারস্পরিক যে ভালোবাসা, দয়া ও মিল-মহব্বতের চাষ হয়; তা তৈরি করে দেয় শিশু বেড়ে ওঠার সুস্থ পরিবেশ। আর একেকটি সুস্থ পরিবারের সমন্বয়েই না গঠিত হয় সুস্থ সমাজ। আল্লাহ বলেছেন,
• 'আর এক নিদর্শন এই যে, তিনি তোমাদের জন্যে তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের সংগিনীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে শান্তি পাও এবং তিনি তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয় এতে চিন্তাশীল লোকদের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে।' (সূরাহ রুম, ৩০:২১)
প্রেমময় এই সম্পর্কের একটি উপাদান হচ্ছে স্বামী-স্ত্রীর একান্ত ঘনিষ্ঠতা। এ সম্পর্কে সুরা বাকারায় আলোচনা করে আল্লাহ বলেছেন,
• 'রোযার রাতে তোমাদের স্ত্রীদের সাথে সহবাস করা তোমাদের জন্য হালাল করা হয়েছে। তারা তোমাদের পরিচ্ছদ এবং তোমরা তাদের পরিচ্ছদ।...' (সূরাহ বাকারাহ, ২:১৮৭)
যৌন কামনা নিবৃত্ত করা স্বামী-স্ত্রী উভয়ের অধিকার। বিয়ের অন্যতম মুখ্য উদ্দেশ্য তো এটাই।
বিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় কেননা এর মাধ্যমে চারিত্রিক পবিত্রতা রক্ষা পায় এবং সমাজ মুক্ত থাকে অবৈধ সম্পর্কের ব্যাধি থেকে। রাসূল (সা.) বলেছেন, 'হে যুব সম্প্রদায়! তোমাদের মধ্যে যার বিবাহ করার সামর্থ্য আছে, সে যেন বিবাহ করে। কেননা, তা দৃষ্টিশক্তিকে সংযতকারী এবং লজ্জাস্থানের হিফাজতকারী। আর যার এ সামর্থ্য নেই, সে যেন রোযা রাখে। কেননা, এটি তার জন্য জৈবিক উত্তেজনা প্রশমনকারী। (মুসলিম)। যারা বিবাহ করতে অপারগ তাদের জন্য সিয়ামের বিধান প্রদান করা হয়েছে যেন নিজেদের যৌন তাড়নাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে।
একবার এক ব্যক্তি বিয়ে করবে না মর্মে প্রতিজ্ঞা করলে রাসূল (সা.) তাকে তিরস্কার করেছেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, 'তোমরা কি এ ধরনের কথা বলেছ? আল্লাহর কসম! আমি তোমাদের চেয়ে আল্লাহকে বেশি ভয় করি এবং বেশি তাকওয়া অবলম্বন করি। কিন্তু আমি রোযা রাখি আবার পানাহার করি, নামায পড়ি আবার ঘুমাই এবং বিয়ে-শাদিও করি। (এটাই আমার সুন্নাহ; পথ, পদ্ধতি) যে আমার সুন্নাহ মেনে চলে না সে আমার (দলভুক্ত) নয়।' (বুখারি ও মুসলিম)।
বৈধ উপায়ে নিজেদের চাহিদা পূরণের জন্য স্বামী-স্ত্রী উভয়কেই পুরস্কার প্রদান করা হবে। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, 'এমনকি, তোমাদের স্ত্রীদের সাথে মিলনও সাদকা। সাহাবিগণ জিজ্ঞেস করলেন, 'হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের কেউ যৌন চাহিদা মেটালে তাতেও সাওয়াব হয়? তিনি প্রশ্ন করলেন, 'আচ্ছা, তোমাদের কেউ হারাম পন্থায় যৌন চাহিদা মেটালে তাতে তার গুনাহ হবে কি না? (নিশ্চয়ই তার গুনাহ হবে) এভাবে যদি সে হালাল পন্থায় এটি করে তবে তার সাওয়াব হবে।' (মুসলিম)
যখন কোনো পুরুষ নিজের স্ত্রী ব্যতীত অন্য নারীকে দেখে কামনা অনুভব করে তাহলে তার উচিত নিজের স্ত্রীর কাছে গিয়ে কামনা পূরণ করা। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, 'যখন তোমাদের কাউকে কোনো স্ত্রীলোক মুগ্ধ করে এবং তাতে তার মন প্রলুব্ধ হয় তখন সে যেন তার স্ত্রীর নিকট আসে এবং তার সাথে সংগম করে। এতে তার মনে যা আছে তা দূর হবে।' (মুসলিম)
এই হাদিসটি সুনির্দিষ্টভাবে পুরুষদের উদ্দেশ্যে, কেননা নারীদের তুলনায় পুরুষরা সহজেই যৌনতায় উদ্বুদ্ধ হয়। ইসলামি শরীয়াহতে স্ত্রীদেরকে সাবধান করে দেয়া হয়েছে যেন তারা স্বামীর শারীরিক প্রয়োজন পূরণের আহ্বান প্রত্যাখ্যান না করে। কেননা, বৈবাহিক সম্পর্কে এর বিরূপ প্রভাব পড়ে। এমনকি স্বামী অন্যায় কাজেও প্রলুব্ধ হতে পারে। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, 'কোনো ব্যক্তি যদি তার বিছানায় স্বীয় স্ত্রীকে ডাকে; কিন্তু স্ত্রী তাতে সাড়া না দেয় এবং একারণে স্বামী তার প্রতি অসন্তুষ্ট অবস্থায় রাত কাটায়, তাহলে ফেরেশতারা ভোর পর্যন্ত মহিলাটির প্রতি অভিশাপ বর্ষণ করতে থাকে।' (বুখারি ও মুসলিম)।
যৌনতার প্রতি আকর্ষণ মানুষের সহজাত বৈশিষ্ট্য। এই হাদিসের মাধ্যমে বৈবাহিক সম্পর্কে যৌনতার গুরুত্ব বিস্তারিত আলোচনা করা যায়। অবৈধ উপায়ে যৌন চাহিদা পূরণের বিরুদ্ধে ইসলামে নানা অনুশাসন রয়েছে। বহুবিবাহকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি ইসলামে নারীদের জন্য পর্দার বিধান রয়েছে। আরও আছে নারী-পুরুষ উভয়ের দৃষ্টি সংযত করা, বিপরীত লিঙ্গের সাথে লেনদেন সীমিত করা, লজ্জাশীলতা বজায় রাখা, মেয়ে দেখা ও বিয়ের ক্ষেত্রে সীমারেখা মেনে চলা, জিনা-ব্যভিচারের কঠিন শাস্তির বিধান ইত্যাদি। ব্যক্তি ও সমাজ উভয়কে রক্ষার জন্য এই অনুশাসনগুলো খুবই উপযুক্ত।
📄 মনস্তাত্ত্বিক প্রেরণা/অভিপ্রায়
৫.৩.১ উদ্দীপক (Incentive):
চারপাশের যেসব উপাদান দ্বারা আকৃষ্ট হয়ে একজন ব্যক্তি সেই উপাদানটি পেতে অনুপ্রাণিত হয় সেটাই উদ্দীপক। উদ্দীপক দ্বারা শরীর ও মনের বাইরের জিনিস বোঝায়। উদাহরণস্বরূপ: মানুষ সারা মাস ধরে কাজ করে যায় মাসের শেষে নির্দিষ্ট অঙ্কের বেতন হাতে পাওয়ার জন্য। এই বেতনের টাকাটা হলো সেই উদ্দীপক—যা তাকে কঠিন পরিশ্রম এবং আরও ভালো পারফর্মেন্স করতে উৎসাহ যোগায়। আবার (নেতিবাচক) উদ্দীপকের মাধ্যমে ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট কাজ থেকে বিরত রাখাও সম্ভব। যেমন- শুধুমাত্র বেতনের টাকার জন্যেই আমরা কাজ করি না, বসের ঝাড়ি থেকেও নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে চাই।
৫.৩.২ শাস্তি ও পুরষ্কার : শাস্তি ও পুরস্কার ইসলামি জীবনব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশ। এর অনেক আলোচনা রয়েছে কুরআনে। মূলত মানুষের অধিকাংশ আচরণই পরিচালিত হয় পুরস্কার অর্জন বা শাস্তি এড়ানোর উদ্দেশ্যে।
কুরআনে উল্লেখিত পুরস্কার ও শাস্তির অধিকাংশই দীর্ঘমেয়াদে (আখিরাতে) সংঘটিত হবে, নগদ ঘটবে না। আধুনিক মনোবিজ্ঞানের পরিভাষায় একে বলা হয় 'Delayed Gratification' বা 'বিলম্বিত পুরষ্কার'। অর্থাৎ নগদ ছোট পুরষ্কার অর্জনকে কিছুটা পিছিয়ে দেয়া, যেন পরবর্তীতে আরও বেশি পুরস্কার লাভ করা যায়। মুসলিমদের 'বিলম্বিত পুরস্কার' লাভের বিষয়টি ঘটবে আখিরাতে আল্লাহর ওয়াদাকৃত পুরস্কার অর্জনের মাধ্যমে। ঈমানদাররা নিজেদের বিশুদ্ধ বিশ্বাস ও উত্তম আমলের বরকতে সেই পুরষ্কার পাবে। অপরদিকে কাফিরদের জন্য শাস্তি। এটাও বিলম্বিত রাখা হয়েছে তাদের কুফর ও অন্যায় আচরণের জন্য। তবে হ্যাঁ, কিছু কিছু ব্যাপারে দুনিয়ার শান্তি ও পুরস্কারের সাথে আখিরাতের শাস্তি ও পুরস্কারের কিছু মিল খুঁজে পাওয়া যায়। কিন্তু অধিকাংশ দিক থেকেই সেগুলো ভিন্ন। সমস্ত কুরআন জুড়ে বারবার স্মরণিকা হিসেবে শাস্তি ও পুরষ্কারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। মুমিনদের উদ্দেশ্য করে আল্লাহ বলেছেন,
• 'অতঃপর আল্লাহ তাদেরকে সেদিনের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করবেন এবং তাদেরকে দেবেন সজীবতা ও আনন্দ। এবং তাদের সবরের প্রতিদানে তাদেরকে দেবেন জান্নাত ও রেশমী পোশাক। তারা সেখানে সিংহাসনে হেলান দিয়ে বসবে। সেখানে রৌদ্র ও শৈত্য অনুভব করবে না। তার বৃক্ষছায়া তাদের উপর ঝুঁকে থাকবে এবং তার ফলসমূহ তাদের আয়ত্তাধীন রাখা হবে।' (সূরাহ ইনসান, ৭৬:১১-১৪)
• অন্যত্র বলেছেন, 'আপনি যখন সেখানে দেখবেন, তখন নিয়ামতরাজি ও বিশাল রাজ্য দেখতে পাবেন। তাদের আবরণ হবে চিকন সবুজ রেশম ও মোটা সবুজ রেশম এবং তাদেরকে পরিধান করানো হবে রৌপ্য নির্মিত কংকণ এবং তাদের পালনকর্তা তাদেরকে পান করাবেন 'শরাবান-তহুরা'। এটা তোমাদের প্রতিদান। তোমাদের প্রচেষ্টা স্বীকৃতি লাভ করেছে।' (সূরাহ ইনসান, ৭৬:২০-২২)
• অন্যত্র বলেছেন, 'যারা বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সৎকর্ম সম্পাদন করে আমি সৎকর্মশীলদের পুরস্কার নষ্ট করি না। তাদেরই জন্যে আছে বসবাসের জান্নাত। তাদের পাদদেশে প্রবাহিত হয় নহরসমূহ। তাদের তথায় স্বর্ণ-কংকনে অলংকৃত করা হবে এবং তারা পাতলা ও মোটা রেশমের সবুজ কাপর পরিধান করবে এমতাবস্থায় যে, তারা সিংহাসনে সমাসীন হবে। চমৎকার প্রতিদান এবং কত উত্তম আশ্রয়।' (সূরাহ কাহাফ, ১৮:৩০-৩১)
• অন্যত্র বলেছেন,
'আর যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে, অবশ্য আমি প্রবিষ্ট করাব তাদেরকে জান্নাতে, যার তলদেশে প্রবাহিত রয়েছে নহর সমূহ। সেখানে তারা থাকবে অনন্তকাল। সেখানে তাদের জন্য থাকবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন স্ত্রীগণ। তাদেরকে আমি প্রবিষ্ট করব ঘন ছায়া নীড়ে।' (সূরাহ নিসা, ৪:৫৭)
মনোবিজ্ঞানের ভাষায় যাকে 'নেতিবাচক উদ্দীপক' (negative reinforcement) বলে সেগুলোও কুরআনে ব্যবহৃত হয়েছে। এর মানে হলো, খারাপ পরিণতি এড়ানোর উদ্দেশ্যে আচরণকে ঠিক করার প্রচেষ্টা। যেমন- সূরাহ ইসরাতে বিচারদিবসের নানা ভয়-ভীতির কথা এসেছে, সেদিন কিছু মানুষকে আল্লাহ ভয়-ভীতি ও দুঃখ, চিন্তা ও পেরেশানি থেকে মুক্ত রাখবেন। তাদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন,
• 'নিশ্চয়ই যারা বলে, আমাদের পালনকর্তা আল্লাহ অতঃপর অবিচল থাকে, তাদের কোন ভয় নেই এবং তারা চিন্তিত হবে না।' (সূরাহ আহকাফ, ৪৬:১৩)
• অন্যত্র বলেছেন,
'হে আমার বান্দাগণ, তোমাদের আজ কোন ভয় নেই এবং তোমরা দুঃখিতও হবে না।' (সূরাহ যুখরুফ, ৪৩:৬৮)
আখিরাতের শ্রেষ্ঠ পুরস্কার হবে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ও তাঁর সুমহান চেহারার দর্শন (দীদার) লাভ করা। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, 'মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহ জান্নাতবাসীদেরকে বলবেন, হে জান্নাতের অধিবাসীগণ! তারা বলবে, আমরা উপস্থিত আছি। হে আমাদের প্রতিপালক! সব কল্যাণ তোমার হতে নিহিত! মহান আল্লাহ বলবেন, তোমরা কি সন্তুষ্ট হয়েছ। তার বলবে, হে আমাদের রব! আমরা কেন খুশি হবো না? আপনি আমাদেরকে যে অনুগ্রহ দিয়েছেন তা অপর কোনো সৃষ্টিকে দেননি। মহান আল্লাহ বলবেন, এর চেয়ে উত্তম বস্তু আমি কি তোমাদের দেব না? তারা বলবে, এর চেয়ে উত্তম ও উন্নত বস্তু আর কি হতে পারে? মহান আল্লাহ বলবেন, আমি তোমাদের উপর আমার সন্তুষ্টি অবতীর্ণ করব। এরপর আমি আর কখনো তোমাদের উপর অসন্তুষ্ট হবো না।' (বুখারি ও মুসলিম)
সর্বোচ্চ পরিতৃপ্তি হলো আল্লাহর সুমহান চেহারার পানে চেয়ে থাকা। এ বিষয়ে আল্লাহ বলেছেন,
• 'সেদিন অনেক মুখমন্ডল উজ্জ্বল হবে। তারা তার পালনকর্তার দিকে তাকিয়ে থাকবে।' (সূরাহ কিয়ামাহ, ৭৫:২২-২৩)
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, 'জান্নাতবাসীরা জান্নাতে যাওয়ার পর কল্যাণ ও বরকতের মালিক আল্লাহ তাআলা বলবেন, তোমরা কি অধিক আর কিছু চাও? তারা বলবে,
আপনি কি আমাদের চেহারা উজ্জ্বল করে দেননি? আপনি আমাদের জান্নাতে গমন করাননি এবং জাহান্নামের শাস্তি হতে মুক্তি দেননি? এ সময় আল্লাহ তাআলা পর্দা সরিয়ে নেবেন। জান্নাতবাসীদের আল্লাহ দর্শন লাভের চেয়ে অধিক প্রিয় বস্তু আর কিছুই দেয়া হবে না।' (মুসলিম, তিরমিযি)。 সুতরাং, এই হাদিস থেকে বোঝা যাচ্ছে, আল্লাহর দীদার লাভ করাই মানুষের চূড়ান্ত লক্ষ্য যার জন্য মানুষের প্রতিযোগিতা ও সংগ্রাম করা উচিত।।২।
এই সকল আয়াত ও অন্যান্য দলিলের মাধ্যমে সুস্পষ্ট হয়েছে যে আল্লাহর ভয়, নেক আমল ও দুনিয়াতে সবর করার কারণে মুমিনদেরকে পুরস্কৃত করা হবে。[৩] আল্লাহ বলেছেন,
• 'এই যে, জান্নাতের উত্তরাধিকারী তোমরা হয়েছ, এটা তোমাদের কর্মের ফল।' (সূরাহ যুখরুফ, ৪৩:৭২)
একটি বিষয় জেনে রাখা ভালো, পুরস্কারের যোগ্য হলেও কেউ আল্লাহর রহমত ব্যতীত জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।
কুরআনের বিভিন্ন স্থানে কাফিরদের প্রাপ্য শাস্তির আলোচনা এসেছে,
• 'এতে সন্দেহ নেই যে, আমার নিদর্শন সমুহের প্রতি যেসব লোক অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করবে, আমি তাদেরকে আগুনে নিক্ষেপ করব। তাদের চামড়াগুলো যখন জ্বলে-পুড়ে যাবে, তখন আবার আমি তা পালটে দেব অন্য চামড়া দিয়ে, যাতে তারা আযাব আস্বাদন করতে থাকে। নিশ্চয়ই আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, হেকমতের অধিকারী।' (সূরাহ নিসা, ৪:৫৬)
.... আমি জালেমদের জন্যে অগ্নি প্রস্তুত করে রেখেছি, যার বেষ্টনী তাদের কে পরিবেষ্টন করে থাকবে। যদি তারা পানীয় প্রার্থনা করে, তবে পুঁজের ন্যায় পানীয় দেয়া হবে যা তাদের মুখমন্ডল দগ্ধ করবে। কত নিকৃষ্ট পানীয় এবং খুবই মন্দ আশ্রয়।' (সূরাহ কাহাফ, ১৮:২৯)
আখিরাতে কাফির মুশরিকদের লাঞ্ছিত করা হবে এবং তারা কখনোই লাভ করতে পারবে না আল্লাহর মহান চেহারা দর্শনের আনন্দ ও সম্মান। এটাই হবে তাদের সবচেয়ে বড় অপ্রাপ্তি।
• 'হে আমাদের পালনকর্তা! নিশ্চয় তুমি যাকে দোযখে নিক্ষেপ করলে তাকে সবসময়ে অপমানিত করলে; আর জালেমদের জন্যে তো সাহায্যকারী নেই।' (সূরাহ আলে ইমরান, ৩:১৯২)
• অন্যত্র বলেছেন,
টিকাঃ
[২] al-Ashqar, U.S., 2002, Paradise and Hell in the Light of the Qur'an and Sunnah, Riyadh, Saudi Arabia: International Islamic Publishing House, p. 309.
[e] For more details, see al-Ashqar, 2002b.
📄 আমলনামা ও বিবেচনার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম
মানুষকে আরও কার্যকরভাবে 'মোটিভেইট' করার জন্য আল্লাহ তাআলা আমাদের যাবতীয় কার্যক্রম রেকর্ডিং-এর ব্যবস্থা রেখেছেন। বিষয়টি Behaviour management system এর মতো— যেখানে সবসময় চলতি হিসাব ও কাজকর্ম সংরক্ষিত হতে থাকে। আল্লাহ তাআলা চাইলে মানুষের কাছ থেকে এই তথ্য গোপন রাখতে পারতেন। কিন্তু তার অসীম প্রজ্ঞা অনুসারে তিনি মানুষকে এটা জানিয়ে দিয়েছেন যেন আমরা আরও বেশি ভালো কাজ করতে অনুপ্রাণিত হই। তিনি সেই ফেরেশতাদেরও সৃষ্টি করেছেন যারা আমাদের আমলনামা রেকর্ড করছেন। আমাদের প্রত্যেকের উপর দুইজন ফেরেশতা সদা-সর্বদা মোতায়েন রয়েছেন, যারা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে আমাদের প্রতিটি কাজ লিপিবদ্ধ করছেন。[৪] আল্লাহ বলেছেন,
• 'অবশ্যই তোমাদের উপর তত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত আছে। সম্মানিত আমল লেখকবৃন্দ। তারা জানে যা তোমরা কর।' (সূরাহ ইনফিতার, ৮২:১০-১২)
• অন্যত্র বলেছেন 'আমি মানুষ সৃষ্টি করেছি এবং তার মন নিভৃতে যে কুচিন্তা করে, সে সম্বন্ধেও আমি অবগত আছি। আমি তার গ্রীবাস্থিত ধমনী থেকেও অধিক নিকটবর্তী। যখন দুই ফেরেশতা ডানে ও বামে বসে তার আমল গ্রহণ করে। সে যে কথাই উচ্চারণ করে, তাই গ্রহণ করার জন্যে তার কাছে সদা প্রস্তুত প্রহরী রয়েছে।' (সূরাহ কাফ, ৫০:১৬- ১৮)
এই আয়াতগুলোর মাধ্যমে আমরা জানতে পারি, ফেরেশতারা সব সময় আমাদের প্রতিটি কথা ও কর্মকে সংরক্ষণ করে রাখছেন। এই রেকর্ড কিতাবের আকারে প্রত্যেককে বুঝিয়ে দেয়া হবে হবে বিচার দিবসে। আমাদের প্রত্যেকের ডান পাশের ফেরেশতা ভালো কাজগুলো সংরক্ষণ করছেন, আর বাম পাশের জন মন্দ কাজগুলো। আল্লাহর অসীম রহমত অনুসারে ফেরেশতারা মন্দ কাজকে সাথে সাথেই লিপিবদ্ধ করেন না, বরং নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সেটা লেখা থেকে বিরত থাকেন, যেন এর মাঝে গুনাহকারী ব্যক্তি তাওবা করে নিতে পারে। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, 'বাম কাঁধের ফেরেশতা ছয় ঘণ্টা পর্যন্ত কলম উঠিয়ে রাখেন। যদি কোনো মুসলিম গুনাহ করে এবং যদি সে তাওবা করে ও আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায় তাহলে তিনি (সেটা লেখা থেকে) বিরত থাকেন। অন্যথায় তিনি একটি (মন্দ আমল) লিপিবদ্ধ করেন। (আলবানির তাহকীককৃত নির্ভরযোগ্য হাদিস)
টিকাঃ
[৪] al-Ashqar, 2005, p. 68.
📄 প্রতিযোগিতামূলক তাড়না
জীবনে অর্থপূর্ণ কোনোকিছু অর্জনের প্রতি মানুষের আকাঙ্ক্ষা রয়েছে। সকলেই চায় কোনো বিষয়ে বিশেষ পারদর্শীতা অর্জন করতে কিংবা উঁচু মানের জীবন কাটাতে। এই ধারণাটাকে বলা হয় 'এচিভমেন্ট মোটিভেশন' বা অর্জনের অনুপ্রেরণা। এখানে একই সাথে প্রতিযোগিতার ব্যাপারটা চলে আসে। প্রতিযোগিতা করা ও অন্যকে ছাড়িয়ে যাওয়ার তাড়নাটি (drive) বিভিন্ন আকাংক্ষিত লক্ষ্যের সাথে জড়িত। সেটা বুদ্ধিবৃত্তিক কিছু হতে পারে, অর্থনৈতিক কোনো লক্ষ্য হতে পারে, রাজনৈতিক বা সামাজিক কোনো অবস্থানও হতে পারে। এক্ষেত্রে পারস্পরিক প্রতিযোগিতার কিছু উপকারিতা থাকলেও স্মরণ রাখতে হবে যেন সেটা ইসলামি শরিয়ahর নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘন না করে ফেলে।
আমাদেরকে জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ অর্জনের প্রতিযোগিতা করার জন্য উৎসাহিত করা হয়েছে। আর তা হলো উত্তম ও নেক আমল, সদাচার। এই প্রতিযোগিতা আল্লাহর সন্তুষ্টি ও ক্ষমা অর্জনের জন্য, জান্নাত লাভের জন্য। আল্লাহ কুরআনে এই প্রতিযোগিতার আলোচনা করে বলেছেন:
• 'নিশ্চয়ই সৎলোকগণ থাকবে পরম আরামে, সিংহাসনে বসে অবলোকন করবে। আপনি তাদের মুখমন্ডলে স্বাচ্ছন্দ্যের সজীবতা দেখতে পাবেন। তাদেরকে মোহর করা বিশুদ্ধ পানীয় পান করানো হবে। তার মোহর হবে কস্তুরী। এ বিষয়েই প্রতিযোগীদের প্রতিযোগিতা করা উচিত।' (সূরাহ মুতাফফিফিন, ৮৩:২২-২৬)
• অন্যত্র বলেছেন, 'তোমরা অগ্রে ধাবিত হও তোমাদের পালনকর্তার ক্ষমা ও সেই জান্নাতের দিকে, যা আকাশ ও পৃথিবীর মত প্রশস্ত। এটা প্রস্তুত করা হয়েছে আল্লাহ ও তাঁর রসূলগণের প্রতি বিশ্বাসস্থাপনকারীদের জন্যে। এটা আল্লাহর কৃপা, তিনি যাকে ইচ্ছা, এটা দান করেন। আল্লাহ মহান কৃপার অধিকারী।' (সূরাহ হাদীদ, ৫৭:২১)
• 'অগ্রবর্তীগণ তো অগ্রবর্তীই। তারাই নৈকট্যশীল, অবদানের উদ্যানসমূহে,' (সূরাহ ওয়াকেয়াহ, ৫৬:১০-১২)
তারাই অগ্রবর্তী যারা এই প্রতিযোগিতায় সফলতা অর্জন করেছে ও দুনিয়ার জীবনকে কাজে লাগিয়ে আখিরাতে অন্যদেরকে ছাড়িয়ে গেছে। আখিরাতেও তারা অন্যদের পেছনে ফেলে এগিয়ে যাবে এবং অর্জন করে নেবে জান্নাতের উচ্চ মর্যাদা।