📘 সাইকোলজি ইসলামি দৃষ্টিকোণ > 📄 নেতিবাচক চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যসমূহ

📄 নেতিবাচক চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যসমূহ


নানা ধরনের নেতিবাচক চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে, এগুলো ইতিবাচক চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের পুরোপুরি বিপরীত। যেমন: জোর-জবরদস্তি, হিংসা, লোভ, গর্ব, বড়াই, কোনো কিছু লুকানো, নিফাক ইত্যাদি। বিষয়বস্তুর গুরুত্ব অনুসারে এখানে শুধুমাত্র অহংকার এবং রিয়া সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
৩.৬.১ অহংকার: বিনয়ের বিপরীত হলো অংকার। আল্লাহ তাআলা অহংকারের বিরুদ্ধে আমাদেরকে সাবধান করে বলেছেন,
'পৃথিবীতে দম্ভভরে পদচারণা করো না। নিশ্চয় তুমি তো ভূপৃষ্ঠকে কখনই বিদীর্ণ করতে পারবে না এবং উচ্চতায় তুমি কখনই পর্বত প্রমাণ হতে পারবে না।' (সূরাহ ইসরা, ১৭:৩৭)
এই আয়াতে বলা হয়েছে যে আমাদের বড়াই, গর্ব ও অহংকার করার কোনো অধিকার নেই। কেননা, আল্লাহর অন্যান্য সৃষ্টির বিপরীতে আমাদেরকে খুবই ক্ষুদ্র, দুর্বল এবং তুচ্ছ করে সৃষ্টি করা হয়েছে। অহংকার ছিল শয়তানের পতনের কারণ। সে নিজেকে আদম (আ.) থেকে উত্তম মনে করেছিল। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, 'তিন ব্যক্তির সাথে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা কথা বলবেন না, তাদেরকে (গুনাহ থেকে) পবিত্র করবেন না। তাদের প্রতি তাকাবেনও না। আর তাদের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তি। (এরা হলো) জিনাকারী বৃদ্ধ, মিথ্যাবাদী বাদশাহ ও অহংকারী দরিদ্র ব্যক্তি।' (মুসলিম)
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, 'কোনো ধরনের লোক জাহান্নামে যাবে আমি কি তোমাদের বলব না? (জেনে রাখো)! প্রতিটি নাদান, অবাধ্য ও অহংকারী ব্যক্তিই জাহান্নামে যাবে।' (বুখারি ও মুসলিম)
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, 'ইযযত-সম্মান আল্লাহর ভূষণ এবং অহংকার তাঁর চাদর। (আল্লাহ বলেন) যে ব্যক্তি এই ব্যাপারে আমার সংগে বিবাদে অবতীর্ণ হবে আমি তাকে অবশ্যই শস্তি দিব।' (মুসলিম)
৩.৬.২ দেখনদারি (রিয়া): রিয়ার অর্থ দেখানোর উদ্দেশ্যে আমল করা যেন অপরের মনোযোগ ও স্বীকৃতি লাভ করা যায়। এই কাজগুলো মৌলিকভাবে গুনাহের কাজ নয়, আল্লাহর আনুগত্যের জন্যেই সেসব কাজ করা হয় কিন্তু ভুল নিয়তের কারণে সেগুলো আল্লাহ কবুল করেন না। রিয়া মূলত মুনাফেকীর একটি পর্যায় এবং এটা ছোট শিরকের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ বলেছেন,
'অতএব দুর্ভোগ সেসব নামাজির, যারা তাদের নামায সম্বন্ধে বে-খবর; যারা তা লোক-দেখানোর জন্য করে এবং নিত্য ব্যবহার্য্য বস্তু অন্যকে দেয় না।' (সূরাহ মা'উন, ১০৭:৪-৭)
রাসূলুল্লাহ (সা.) মানুষদেরকে ছোট শিরক হতে সতর্ক করে বলেছেন, 'তোমাদের জন্য আমি সবচেয়ে বেশি যা আশঙ্কা করি তা ছোট শিরক। তারা (সাহাবীরা) বললেন, 'ইয়া রাসূলাল্লাহ! ছোট শিরক কি?' তিনি বললেন, 'রিয়া। বিচার দিবসে যখন আমল অনুসারে মানুষকে পুরস্কৃত করা হবে তখন মহামহিম আল্লাহ তায়ালা মুনাফিকদের বলবেন, তোমরা তাদের কাছে যাও যাদেরকে দেখানোর উদ্দেশ্যে আমল করেছিলে, আর দেখো তারা তোমাদেরকে কোনো পুরস্কার প্রদান করে কিনা।' (বিশুদ্ধ হাদিস, আহমদ)।
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, 'যে ব্যাক্তি লোক শোনানোর ইবাদাত করে আল্লাহ তাকে বিনিময়ে 'লোক শোনানো' দেবেন। আর যে ব্যাক্তি লোক দেখানো ইবাদাত করে আল্লাহ তাআলা এর বিনিময়ে তাকে 'লোক-দেখানো' দেবেন'। (মুসলিম)
অন্য হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, 'কিয়ামতের দিন সব লোকের আগে যার ফয়সালা হবে সে একজন শহীদ। তাকে ডাকা হবে, আল্লাহ তাকে আপন নিয়ামতের কথা স্মরণ করিয়ে দেবেন। সে নিয়ামতগুলোকে চিনতে পারবে। আল্লাহ তাকে জিজ্ঞেস করবেন, তুমি নিয়ামতগুলোর ব্যবহার কিভাবে করেছ? সে জবাব দেবে, আমি আপনার পথে লড়াই করেছি এবং শহীদ হয়েছি। আল্লাহ বলবেন, তুমি মিথ্যা বলেছ। তুমি তো এই জন্য লড়াই করেছ যেন লোকেরা তোমায় বীর বলে। সেমতে তোমাকে বীর বলা হয়েছে। অতঃপর তার ব্যাপারে নির্দেশ দেয়া হবে। তাকে তার সম্মুখভাগের চুল ধরে টেন জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।
এরপর একটি লোককে নিয়ে আসা হবে, যে নিজে জ্ঞান অর্জন করেছে এবং অপরকেও তা শিখিয়েছে। সে কুরআন অধ্যয়ন করেছে। তাকে উপস্থাপন করা হবে। আল্লাহ স্বীয় নিয়ামতের কথা স্মরণ করিয়ে দেবেন এবং সে তা স্মরণ করতে পারবে। আল্লাহ তাকে জিজ্ঞেস করবেন, তুমি আমার এসব নিয়ামতের ওপর কিরূপ আমল করেছ? সে বলবে, আমি জ্ঞান-অর্জন করেছি এবং অন্যকে তা শিখিয়েছি। আমি তোমার সন্তুষ্টির জন্য কুরআন পড়েছি। আল্লাহ বলবেন, তুমি মিথ্যা বলছ। তুমি এজন্যে জ্ঞান অর্জন করেছ যেন লোকেরা তোমায় আলিম বলে। তুমি এ জন্যে কুরআন শিখেছ যেন লোকেরা তোমায় ক্বারী বলে। সুতরাং তোমায় ক্বারী বলা হয়েছে। এরপর তার সম্পর্কে এ মর্মে আদেশ করা হবে যে, তার মাথার সম্মুখ ভাগের চুল ধরে টেনে জাহান্নামে নিক্ষেপ করো।
এরপর এক ব্যক্তিকে উপস্থাপন করা হবে, যার প্রতি আল্লাহ প্রচুর উদারতা প্রদর্শন করেছেন এবং তাকে সবরকমের মালামাল প্রদান করেছেন। তাকে নিয়ে আসার পর আল্লাহ তাকে আপন নিয়ামত সম্পর্কে অবহিত করবেন। সে এগুলো চিনতে পারবে। আল্লাহ তাকে জিজ্ঞেস করবেন, এ সবের মধ্যে কোনো আমলটি করেছ? সে বলবে, আমি কোনো আমলই হাতছাড়া করিনি। তুমি যেখানেই চেয়েছ, সেখানেই খরচ করেছি। আমি তোমার সন্তুষ্টির জন্যেই এসব ব্যয় করেছি। আল্লাহ বলবেন, তুমি মিথ্যা বলছ, আসলে তুমি এজন্যে ব্যয় করেছ যেন লোকেরা তোমায় দানশীল বলে। সুতরাং তা-ই বলা হয়েছে। অতঃপর তার সম্পর্কে আদেশ করা হবে, তাকে তার সম্মুখ ভাগের চুল ধরে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হোক। অবশেষে তাই করা হবে। (মুসলিম)
রিয়ার দুটি নিদর্শন, ১। যখন অপরের প্রশংসা ও স্বীকৃতি পাওয়া যায় তখন আনুগত্যের কাজ বাড়িয়ে দেওয়া আর নিন্দা-সমালোচনার মুখোমুখি হলে সেগুলো কমিয়ে দেওয়া বা বর্জন করা। ২। মানুষের উপস্থিতিতে ইবাদতের কাজে উৎসাহিত থাকা কিন্তু একাকী নির্জনে অলসতা ও উদাসীন হয়ে যাওয়া। [১৪]

টিকাঃ
[১৪] al-Jaza'iry, 2001, p. 354.

📘 সাইকোলজি ইসলামি দৃষ্টিকোণ > 📄 মুনাফিকের ব্যক্তিত্ব

📄 মুনাফিকের ব্যক্তিত্ব


মুনাফিকরা এক বিশেষ ক্যাটাগরীর মানুষ। তাদের সম্পর্কে আল্লাহ কুরআনের বিভিন্ন স্থানে আলোচনা করেছেন। সূরাহ বাকারার শুরুতে প্রথমে মুমিনদের সম্পর্কে, এরপর কাফিরদের সম্পর্কে, এরপর মুনাফিকদের সম্পর্কে আলোচনা করে আল্লাহ বলেছেন,
• 'আর মানুষের মধ্যে কিছু লোক এমন রয়েছে যারা বলে, আমরা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান এনেছি অথচ আদৌ তারা ঈমানদার নয়।
• তারা আল্লাহ এবং ঈমানদারগণকে ধোঁকা দেয়। অথচ এতে তারা নিজেদেরকে ছাড়া অন্য কাউকে ধোঁকা দেয় না অথচ তারা তা অনুভব করতে পারে না।
• তাদের অন্তঃকরণ ব্যধিগ্রস্ত আর আল্লাহ তাদের ব্যধি আরো বাড়িয়ে দিয়েছেন। বস্তুতঃ তাদের জন্য নির্ধারিত রয়েছে ভয়াবহ আযাব, তাদের মিথ্যাচারের দরুন।
• আর যখন তাদেরকে বলা হয় যে, দুনিয়ার বুকে দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টি করো না, তখন তারা বলে, আমরা তো মীমাংসার পথ অবলম্বন করেছি।
• মনে রেখো, তারাই হাঙ্গামা সৃষ্টিকারী, কিন্তু তারা তা উপলব্ধি করে না।
• আর যখন তাদেরকে বলা হয়, অন্যান্যরা যেভাবে ঈমান এনেছে তোমরাও সেভাবে ঈমান আন, তখন তারা বলে, আমরাও কি ঈমান আনব বোকাদেরই মত! মনে রেখো, প্রকৃতপক্ষে তারাই বোকা, কিন্তু তারা তা বোঝে না।
• আর তারা যখন ঈমানদারদের সাথে মিশে, তখন বলে, আমরা ঈমান এনেছি। আবার যখন তাদের শয়তানদের সাথে একান্তে সাক্ষাৎ করে, তখন বলে, আমরা তোমাদের সাথে রয়েছি। আমরা তো (মুসলমানদের সাথে) উপহাস করি মাত্র।
• বরং আল্লাহই তাদের সাথে উপহাস করেন। আর তাদেরকে তিনি ছেড়ে দিয়েছেন যেন তারা নিজেদের অহংকার ও কুমতলবে হয়রান ও পেরেশান থাকে।
• তারা সে সমস্ত লোক, যারা হেদায়েতের বিনিময়ে গোমরাহী খরিদ করে। বস্তুতঃ তারা তাদের এ ব্যবসায় লাভবান হতে পারেনি এবং তারা হিদায়াতও লাভ করতে পারেনি।' (সূরাহ বাকারাহ, ২:৮-১৬)
সূরাহ মুনাফিকুন-এ তাদের সম্পর্কে এভাবে আলোচনা করা হয়েছে, 'মুনাফিকরা আপনার কাছে এসে বলেঃ আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আপনি নিশ্চয়ই আল্লাহর রসূল। আল্লাহ জানেন যে, আপনি অবশ্যই আল্লাহর রসূল এবং আল্লাহ সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, মুনাফিকরা অবশ্যই মিথ্যাবাদী。
তারা তাদের শপথসমূহকে ঢালরূপে ব্যবহার করে। অতঃপর তারা আল্লাহর পথে বাধা সৃষ্টি করে। তারা যা করছে, তা খুবই মন্দ।
এটা এজন্য যে, তারা বিশ্বাস করার পর পুনরায় কাফির হয়েছে। ফলে তাদের অন্তরে মোহর মেরে দেয়া হয়েছে। অতএব তারা বুঝে না।
আপনি যখন তাদেরকে দেখেন, তখন তাদের দেহাবয়ব আপনার কাছে প্রীতিকর মনে হয়। আর যদি তারা কথা বলে, তবে আপনি তাদের কথা শুনেন। তারা প্রাচীরে ঠেকানো কাঠসদৃশ্য। প্রত্যেক শোরগোলকে তারা নিজেদের বিরুদ্ধে মনে করে। তারাই শত্রু, অতএব তাদের সম্পর্কে সতর্ক হোন। ধ্বংস করুন আল্লাহ তাদেরকে। তারা কোথায় বিভ্রান্ত হচ্ছে?' (সূরাহ মুনাফিকুন, ৬৩:১-৪)
এ আয়াতগুলোতে মুনাফিকদের কিছু সুনির্দিষ্ট ও সাধারণ চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য আলোচনা করা হয়েছে। তাদের প্রধান বৈশিষ্ট্য বাহ্যিকভাবে তারা ঈমান প্রদর্শন করে অথচ ভেতরে কুফর লুকিয়ে রাখে। 'নিফাক' আরবি শব্দটির মাধ্যমে বোঝানো হয়, কোনো বিষয়ের সত্যতা সম্পর্কে সন্দেহ ও অশুভ ইচ্ছা লুকিয়ে রেখে বাহ্যিকভাবে একাত্মতা ও সত্যায়ন করা。[১০] যখন তারা মুমিনদের সাথে একত্রিত হয়, তখন দাবি করে আল্লাহ ও বিচার দিবসে ঈমান রাখে। কিন্তু এগুলো তাদের মিথ্যাচার। বাস্তবে তারা এসব বিষয়ে ঈমান রাখে না。[১৮] শুধুমাত্র জিহ্বার মাধ্যমে উচ্চারণ করে কিন্তু অন্তর ও আমলের মাধ্যমে সেগুলো প্রত্যাখ্যান করে। তাদের অন্তরগুলো সন্দেহ সংশয়ে ব্যাধিগ্রস্ত।
মুনাফিকরা জমিনে ফিতনা-ফাসাদের বিস্তারে ব্যস্ত থাকে। যেমন- আল্লাহর অবাধ্যতা করা ও নিষেধকৃত বিষয় পালন করা। তারা আল্লাহর আওলিয়াদের বিরুদ্ধে কাফিরদেরকে সাহায্য-সমর্থন ও ভালোবাসা প্রদান করে। মুনাফিকদের প্রধান অপকর্ম হলো তারা তাদের বাহ্যিক আচরণ ও বেশভূষা দিয়ে মুসলিমদেরকে বিভ্রান্ত করে রাখে। এভাবে বাকি মুসলিমদের পথভ্রষ্ট করে ও ধোঁকা দেয়। এ কারণে তারা কাফিরদের থেকেও মারাত্মক কেননা কাফিররা ভান না করে প্রকাশ্যে বিরোধিতা করে。[১৭]
মুনাফিকদের প্রধান চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য হলো মিথ্যাচারিতা, ওয়াদা ভঙ্গ করা এবং আমানতের খেয়ানত করা, প্রতারণা ও বিশ্বাসঘাতকতা করা। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, 'মুনাফিকের আলামত তিনটি, (১) যখন সে কথা বলে মিথ্যা বলে, (২) ওয়াদা করলে খেলাফ করে এবং (৩) তার কাছে আমানত রাখা হলে সে তা খেয়ানত করে। (বুখারি, মুসলিম)
যাদের অন্তরে ঈমান রয়েছে তারাও কিছু মাত্রায় নিফাকে আক্রান্ত হতে পারে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, 'চারটি স্বভাব যার মধ্যে রয়েছে সে খাঁটি মুনাফিক; উক্ত চারটির একটিও যদি কারো মধ্যে থাকে, তাহলে সেটা বর্জন না করা পর্যন্ত তার মধ্যে মুনাফিকীর একটি স্বভাব রয়ে যায়; (১) সে কথা বললে মিথ্যা বলে, (২) চুক্তি করলে তা ভঙ্গ করে, (৩) ওয়াদা করলে খেলাফ করে এবং (৪) ঝগড়া করলে কটূক্তি করে।' (বুখারি, মুসলিম)
মুমিনরা সবসময় নিজের ব্যক্তিত্বকে সকল ধরনের নিফাক থেকে মুক্ত রাখতে ব্যস্ত থাকে।

টিকাঃ
[১০] Ibn Kathir, 2000, Tafsir ibn Kathir (Abridged), Riyadh: Darussalam, Vol. 1, p. 126.
[১৮] Ibid., p. 126.
[১৭] lbid., pp. 132-133.

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00