📄 নফসের পরিশুদ্ধি
আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টিগতভাবে ভালো-মন্দ উভয় কাজের সক্ষমতা প্রদান করেছেন। এরপর বিভিন্ন পরিস্থিতির মাধ্যমে পরীক্ষা করা হয় যে তারা কোনো ধরনের বৈশিষ্ট্যের বিকাশ ঘটায়। কোনো কাজকে সমর্থন করে এবং কোনো কাজে বাধা প্রদান করে, নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করে। তারাই সফল যারা নিজেদের নফসকে পরিশুদ্ধ করতে পেরেছে এবং ভালো কাজের প্রবণতাকে অনুসরণ করেছে। আল্লাহ বলেছেন,
'শপথ প্রাণের এবং যিনি তা সুবিন্যস্ত করেছেন, তাঁর, অতঃপর তাকে তার অসৎকর্ম ও সৎকর্মের জ্ঞান দান করেছেন, যে নিজেকে শুদ্ধ করে, সেই সফলকাম হয়। এবং যে নিজেকে কলুষিত করে, সে ব্যর্থ মনোরথ হয়।' (সূরাহ শামস, ৯১:৭-১০)
বস্তুত মানুষের জীবনে দুটি রাস্তা থাকে; একটি হলো আল্লাহর নির্দেশনা অনুসরণ করা ও উন্নত মহান চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের বিকাশ ঘটানো। এটি আত্মশুদ্ধির পথ এবং ভারসাম্যপূর্ণ মধ্যমপন্থা। অন্য পথটি নিজেকে দূষিত করার পথ। ঐ পথে গমন করলে মানুষ আল্লাহর নির্দেশনাকে প্রত্যাখ্যান করে এবং প্রবৃত্তির নিচু কামনা-বাসনা অনুসরণের মাধ্যমে নিজেকে দূষিত করে ফেলে। যদি মানুষ উত্তম গুণাবলীর বিকাশ ঘটিয়ে জীবনকে কাজে লাগায় তবে তারা সঠিক পথ অনুসরণ করল। তখন সে শ্রেষ্ঠ সৃষ্টির অন্তর্ভুক্ত হবে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টিপ্রাপ্ত অন্তর্ভুক্ত হবে। ভালোকাজের প্রতি এই সহজাত ঝোঁক পূরণের মাধ্যমে তাদের ব্যক্তিত্বে কোনো সংঘাত বা হতাশা থাকবে না। তারা উত্তম মানসিক ও আবেগিক স্বাস্থ্য অর্জন করতে পারবে, নেতিবাচক বৈশিষ্ট্যসমূহ নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে, যেমন- হিংসা, লোভ, ক্রোধ ইত্যাদি।
অপরদিকে যদি আল্লাহর নির্দেশনাকে অস্বীকার করে এবং প্রবৃত্তির কামনা-বাসনা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতে থাকে, তবে মানুষ ধ্বংসের পথে পরিচালিত হবে। তারা মানুষরূপী শয়তানে পরিণত হবে। নিজের ব্যক্তিত্বে নানারকম আন্তঃসংঘাত ও মানসিক যন্ত্রণার অভিজ্ঞতা অর্জন করবে। এ বিষয়ে আলোচনা করে আল্লাহ কুরআনে বলেছেন যে তারা কেবল নিজেদের ক্ষতি করে,
'... যে ব্যক্তি আল্লাহর সীমালংঘন করে, সে নিজেরই অনিষ্ট করে। ...' (সূরাহ তালাক, ৬৫:১)
• অন্যত্র বলেছেন, ‘যে সৎকর্ম করে, সে নিজের উপকারের জন্যেই করে, আর যে অসৎকর্ম করে, তা তার উপরই বর্তাবে। আপনার পালনকর্তা বান্দাদের প্রতি মোটেই যুলুম করেন না।’ (সূরাহ ফুসসিলাত, ৪১:৪৬)
• অন্যত্র বলেছেন, ‘আমি কিন্তু তাদের প্রতি জুলুম করি নাই বরং তারা নিজেরাই নিজের উপর অবিচার করেছে....' (সূরাহ হুদ, ১১:১০১)
জাহান্নামের রাস্তা সহজ। কেননা, সেটি প্রবৃত্তির নিচু কামনা-বাসনা দ্বারা ঘিরে দেওয়া হয়েছে। নফসের সেসব তাড়না সহজেই উদ্দীপ্ত করা যায় এবং মানুষের কাছে আনন্দদায়ক বলে ভ্রম হয়। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, 'জাহান্নামকে লোভনীয় জিনিস দ্বারা আড়াল করে রাখা হয়েছে। আর জান্নাতকে রাখা হয়েছে দুঃখ কষ্টের আড়ালে।' (বুখারি ও মুসলিম)
তুলনামূলকভাবে জান্নাতের রাস্তা বেশ চ্যালেঞ্জিং। কেননা, এই পথে চলতে হলে আত্মনিয়ন্ত্রণ করতে হয়, ধৈর্য, অধ্যবসায় ও অন্যান্য সদগুণের প্রয়োজন হয়। নফসের পরিশুদ্ধির মাধ্যমে দুনিয়া-আখিরাতে সফলতা ও মুক্তি অর্জিত হয়। আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে উত্তম বিষয়াদি অর্জিত হয় এবং মন্দ বিষয়াদি অবদমিত বা সম্পূর্ণভাবে নির্মূল হয়। মানুষ নিজের নফসকে শিরক, কুফর, নিফাক, গুনাহ ও মন্দ কাজ দূর করতে চেষ্টা করে এবং বিশুদ্ধ ঈমান, উত্তম চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও আমলের মাধ্যমে পরিপূর্ণ করতে চেষ্টা করে。[৪৬] এভাবে (হাদিসে বর্ণিত) 'ইহসান' এর পর্যায়ে পৌঁছানো পর্যন্ত ব্যক্তির আত্মশুদ্ধি চলতে থাকে। 'ইহসান' অর্থ এমনভাবে আল্লাহর ইবাদাত করা যেন আমরা তাকে দেখতে পাচ্ছি। আর তাকে দেখতে না পেলেও এই বিষয়ে অবগত থাকা যে তিনি অবশ্যই আমাদের দেখছেন। কেননা, তিনি সর্বদ্রষ্টা। এটি দুনিয়াতে অর্জিত আত্মশুদ্ধির সর্বোচ্চ স্তর। ইবাদাতের মাধ্যমে আত্মা পরিশুদ্ধ হতে পারে, যেমন- সালাত, সিয়াম ও দান সাদাকাহ। আত্মশুদ্ধি অর্জনের অন্যান্য উপায়ের মধ্যে রয়েছে আল্লাহর আনুগত্য করা ও নিষিদ্ধ বিষয় পরিহার করা, সর্বাবস্থায় তাকওয়া অবলম্বন করা অর্থাৎ আল্লাহ সম্পর্কে সচেতন থাকা।
কলবের পরিশুদ্ধি: নফসের পরিশুদ্ধির সাথে কলবের পরিশুদ্ধির বিষয়টিও জড়িত। এটি অর্জন করা যায় আল্লাহর প্রতি ভয়, ভালোবাসা, তার আদেশের আনুগত্য ও আত্মসমর্পণের মাধ্যমে। ড. জামাল জারাবযো বলেছেন, 'যতক্ষণ পর্যন্ত না একজন ব্যক্তি আল্লাহকে চিনতে পারবে, তাঁর প্রশংসা ও মহিমা ঘোষণা করবে, ভালোবাসবে, ভয় করবে, তাঁর উপর আশা-ভরসা স্থাপন করবে এবং এসকল গুণবাচক বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে অন্তরকে পরিপূর্ণ করবে; ততক্ষণ পর্যন্ত অন্তর পরিশুদ্ধ হতে পারে না। এটাই 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' তথা 'আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই' এর প্রকৃত বাস্তবতা। যতক্ষণ পর্যন্ত একমাত্র আল্লাহকে ভালোবাসা, মহিমা ঘোষণা ও আত্মসমর্পণ না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত অন্তর পরিশুদ্ধ হবে না। এবং... অন্তর পরিশুদ্ধ হলে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অন্তরের অনুসারী হবে ও ব্যক্তির আমলগুলোও পরিশুদ্ধ হবে。[৪৭]
ইবনুল কাইয়িম (রহ.) উল্লেখ করেছেন,
পাঁচটি বিষয়ে থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে অন্তরের পরিশুদ্ধি অর্জন করা যায়, (১) শিরক; কেননা এটি আল্লাহর একত্ববাদের সাথে সাংঘর্ষিক, (২) বিদআত; এটি রাসূলের সুন্নাহর সাথে সাংঘর্ষিক, (৩) কামনা বাসনা; এটি আল্লাহর আদেশ-নিষেধের সাথে সাংঘর্ষিক, (৪) গাফলতি; আল্লাহর স্মরণের সাথে সাংঘর্ষিক এবং (৫) আসক্তি; ইখলাস (আন্তরিকতা) এর সাথে সাংঘর্ষিক。[৪৮]
টিকাঃ
[৪৬] Zarabozo, 2002, p. 79.
[৪৭] Zarabozo, 1999, p. 470.
[৪৮] al-Jawziyyah, 2006, p. 148.
📄 স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি ও জবাবদিহিতা
কুরআনের বিভিন্ন আয়াতে বলা হয়েছে যে ঈমান ও আমলের ক্ষেত্রে মানুষের স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি রয়েছে। এটি আল্লাহর পক্ষ হতে মানুষকে দেয়া একটি সম্মান। এই বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে মানুষ ফেরেশতাদের থেকে স্বতন্ত্র হয়েছে। তবে মানুষের স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি নিরঙ্কুশ নয়, এর কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন,
'বলুন; সত্য তোমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে আগত। অতএব, যার ইচ্ছা, বিশ্বাস স্থাপন করুক এবং যার ইচ্ছা অমান্য করুক।' (সূরাহ কাহাফ, ১৮:২৯)
• অন্যত্র বলেছেন, 'আমি তাকে পথ দেখিয়ে দিয়েছি। এখন সে হয় কৃতজ্ঞ হয়, না হয় অকৃতজ্ঞ হয়।' (সূরাহ ইনসান, ৭৬:৩)
দ্বীনে কোনো জোর জবরদস্তি নেই। কাউকে জোরপূর্বক আল্লাহর আদেশ-নিষেধের নিকট আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করা যায় না। এটা ব্যক্তি স্বেচ্ছায় নির্বাচন করেন। যদি অন্তর আত্মসমর্পণ না করে তাহলে বাহ্যিক আত্মসমর্পণের কোনো মূল্য নেই। আল্লাহ বলেন,
'দ্বীনের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি বা বাধ্য-বাধকতা নেই। নিঃসন্দেহে হিদায়াত গোমরাহী থেকে পৃথক হয়ে গেছে। এখন যারা গোমরাহকারী 'তাগুত'দেরকে মানবে না এবং আল্লাহতে বিশ্বাস স্থাপন করবে, সে ধারণ করে নিয়েছে সুদৃঢ় হাতল যা ভাংবার নয়। আর আল্লাহ সবই শুনেন এবং জানেন।' (সূরাহ বাকারাহ, ২:২৫৬)
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে জানিয়েছেন যে, কিছু মানুষ স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি ও বাছাই ক্ষমতার মাধ্যমে ঈমান আনবে এবং উত্তম আমল করবে। তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে। বিপরীতে কিছু মানুষ কুফরি করবে ও বদ আমল করবে। এটাও স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি ও বাছাইয়ের ক্ষমতার মাধ্যমে করবে। এরপর তারা জাহান্নামে প্রবেশ করবে। তিনি বলেছেন,
'সেদিন মানুষ বিভিন্ন দলে প্রকাশ পাবে, যাতে তাদেরকে তাদের কৃতকর্ম দেখানো হয়। অতঃপর কেউ অণু পরিমাণ সৎকর্ম করলে তা দেখতে পাবে এবং কেউ অণু পরিমাণ অসৎকর্ম করলে তাও দেখতে পাবে। (সূরাহ যিলযাল, ৯৯:৬-৮)
* অন্যত্র বলেছেন, 'তাদের অন্তরে যা কিছু দুঃখ ছিল, আমি তা বের করে দেব। তাদের তলদেশ দিয়ে নির্ঝরণী প্রবাহিত হবে। তারা বলবেঃ আল্লাহ শোকর, যিনি আমাদেরকে এ পর্যন্ত পৌছে দিয়েছেন। আমরা কখনও পথ পেতাম না, যদি আল্লাহ আমাদেরকে পথ প্রদর্শন না করতেন। আমাদের প্রতিপালকের রসূল আমাদের কাছে সত্যকথা নিয়ে এসেছিলেন। আওয়াজ আসবেঃ এটি জান্নাত। তোমরা এর উত্তরাধিকারী হলে তোমাদের কর্মের প্রতিদানে।' (সূরাহ আরাফ, ৭:৪৩)
* অন্যত্র বলেছেন, 'অতএব এ দিবসকে ভূলে যাওয়ার কারণে তোমরা মজা আস্বাদন কর। আমিও তোমাদেরকে ভুলে গেলাম। তোমরা তোমাদের কৃতকর্মের কারণে স্থায়ী আজাব ভোগ কর।' (সূরাহ সাজদাহ, ৩২:১৪)
আল্লাহ তাআলা মানুষকে চিন্তা করার ক্ষমতা ও বোধশক্তি প্রদান করেছেন। কারো জবাবদিহিতা নেয়ার পূর্বে তার মধ্যে এই যোগ্যতা থাকা জরুরি, কেননা যদি কারো বোধশক্তি না থাকে কিংবা ভালো-মন্দ পৃথক করার ক্ষমতা না থাকে তবে তাদেরকে কোনো কাজের জন্য দায়ী করা যায় না। সেক্ষেত্রে তাদেরকে জবাবদিহিতা করা অন্যায়, আর আল্লাহ কখনো অন্যায় করেন না।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো জ্ঞান-বুদ্ধি। ইসলামে জ্ঞানকে অত্যন্ত গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে। এটি আমাদেরকে ভালো-মন্দ, ভুল-শুদ্ধ, বৈধ-অবৈধ ইত্যাদি পৃথক করতে সাহায্য করে। জ্ঞান ব্যতীত আমরা গোলকধাঁধায় হতবুদ্ধি হয়ে যাব। সঠিক পথ খুঁজে হয়রান হবো। আল্লাহ তাআলা ওহীর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্যাদি নাজিল করে আমাদের উপর রহমত করেছেন যেন আমরা সহজে ও সুস্পষ্টভাবে আমাদের পথ খুঁজে নিতে পারি। আল্লাহর শ্রেষ্ঠ নিয়ামতসমূহের মধ্যে জ্ঞান অন্যতম। জ্ঞান ও বোধশক্তি কাজে লাগানোর মাধ্যমে আমরা সিদ্ধান্ত নিতে পারি যে কোনো পথ অনুসরণ করতে হবে।
পূর্বে আলোচিত হয়েছে, মানুষের ইচ্ছাশক্তি আল্লাহর ইচ্ছার অধীনে কার্যকর হয়। ব্যক্তির একক ইচ্ছায় কিছুই সংঘটিত হয় না। আল্লাহ তাকদীরে যা নির্ধারণ করেছেন তাই ঘটে। তিনি বলেছেন,
'এটা উপদেশ, অতএব যার ইচ্ছা হয় সে তার পালনকর্তার পথ অবলম্বন করুক। আল্লাহর অভিপ্রায় ব্যতিরেকে তোমরা অন্য কোনো অভিপ্রায় পোষণ করবে না। আল্লাহ সর্বজ্ঞ প্রজ্ঞাময়। তিনি যাকে ইচ্ছা তাঁর রহমতে দাখিল করেন। আর জালিমদের জন্যে তো প্রস্তুত রেখেছেন মর্মন্তুদ শাস্তি।' (সূরাহ ইনসান, ৭৬:২৯-৩১)
📄 স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি, জবাবদিহিতা ও তাকদির
যে বিষয়ে আমাদের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই সেটা তাকদীরে নির্ধারিত হলেও তার জন্য আমাদের জবাবদিহিতার সম্মুখীন হতে হবে না। কিন্তু আমরা যেসব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি ও যা আমল করি সেগুলোর জন্য জবাবদিহিতা করতে হবে। তাকদীরে নির্ধারিত বিষয়ের জন্য আমাদের প্রশ্ন করা হবে না, বরং আমাদেরকে যেসব আদেশ-নিষেধ প্রদান করা হয়েছে সেজন্যে প্রশ্ন করা হবে। আল্লাহ আমাদের জন্য যা নির্ধারণ (ইচ্ছা) করেছেন আর যা হুকুম (আদেশ) করেছেন উভয়ের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। তিনি যা নির্ধারণ (ইচ্ছা) করেছেন সেটা গোপন রেখেছেন আর যা হুকুম করেছেন সেগুলো বিস্তারিত বিধি- নিষেধ প্রকাশ করেছেন।
আমৃত্যু আমরা কি করব সেটা আল্লাহ জানেন এবং সেগুলো কিতাবে লিপিবদ্ধ রয়েছে; এটি আমাদের অর্পিত দায়িত্ব এড়ানোর পক্ষে কোনো গ্রহনযোগ্য অজুহাত নয়। আল্লাহ তার সর্বব্যাপী জ্ঞানের মাধ্যমে জানেন তাঁর সৃষ্টি কী কাজ করবে; এখানে জোর- জবরদস্তির কোনো প্রয়োগ নেই।
কদর অনুসারে (তাকদির বা পূর্বনির্ধারিত ভাগ্য) আমাদের জীবনে নানা বিপদাপদ, বালা-মুসিবত আসে, যেমন- দারিদ্র, রোগব্যাধি, প্রিয়জনের মৃত্যু, সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি ইত্যাদি। এরপর যদি মুমিনরা ধৈর্যশীলতার সাথে এসব বিপদাপদ কবুল করে এবং ভাবে যে এগুলো আল্লাহর নির্ধারিত তাকদির অনুসারে এসেছে, তখন প্রকৃত ঈমান ফুটে উঠে। উল্লেখ্য, ব্যক্তির ভুলত্রুটি বা গুনাহকে তাকদীরের দোহাই দিয়ে বেঁচে যাওয়ার উপায় নেই। সেক্ষেত্রে গুনাহগারকে অবশ্যই আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। আল্লাহ বলেছেন,
'অতএব, আপনি সবর করুন নিশ্চয় আল্লাহর ওয়াদা সত্য। আপনি আপনার গোনাহের জন্যে ক্ষমা প্রর্থনা করুন এবং সকাল-সন্ধ্যায় আপনার পালনকর্তার প্রশংসাসহ পবিত্রতা বর্ণনা করুন।' (সূরাহ মুমিন, ৪০:৫৫)
এ আয়াতে আল্লাহর রাসূলের প্রতি নির্দেশনা রয়েছে, তবে এটি সকল মুমিনদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। সকল ঈমানদারকে আল্লাহর কাছে গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। নবিরা সকল গুনাহ থেকে আল্লাহর মাধ্যমে সুরক্ষাপ্রাপ্ত ও মাসুম; তাদের সাধারণ মানবিক ভুল ধর্তব্য নয়। সুতরাং, সাধারণ ফর্মুলা হলো মানুষ নিজেদের কাজ ও সিদ্ধান্তে কদরের দোহাই দিতে পারে না। কেবলমাত্র মানবিক নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতার বাইরের বিষয়গুলো কদরের উপর আরোপ করা যায়। কাফিররাও নিজেদের অপরাধের অজুহাতে তাকদীরের দোহাই দিতে পারবে না- এই মর্মে কুরআন থেকে দেখতে পাই, কাফিররা আখিরাতে তাদের অপরাধ স্বীকার করবে এবং কোনো অজুহাত দেখাতে পারবে না। আল্লাহ বলেছেন,
'যারা তাদের পালনকর্তাকে অস্বীকার করেছে তাদের জন্যে রয়েছে জাহান্নামের শাস্তি। সেটা কতই না নিকৃষ্ট স্থান। যখন তারা তথায় নিক্ষিপ্ত হবে, তখন তার উৎক্ষিপ্ত গর্জন শুনতে পাবে। ক্রোধে জাহান্নাম যেন ফেটে পড়বে। যখনই তাতে কোন সম্প্রদায় নিক্ষিপ্ত হবে তখন তাদেরকে তার সিপাহীরা জিজ্ঞাসা করবে। তোমাদের কাছে কি কোনো সতর্ককারী আগমন করেনি? তারা বলবেঃ হ্যাঁ আমাদের কাছে সতর্ককারী আগমন করেছিল, অতঃপর আমরা মিথ্যারোপ করেছিলাম এবং বলেছিলামঃ আল্লাহ তাআলা কোন কিছু নাজিল করেননি। তোমরা মহাবিভ্রান্তিতে পড়ে রয়েছ। তারা আরও বলবেঃ যদি আমরা শুনতাম অথবা বুদ্ধি খাটাতাম, তবে আমরা জাহান্নামবাসীদের মধ্যে থাকতাম না। অতঃপর তারা তাদের অপরাধ স্বীকার করবে। জাহান্নামীরা দূর হোক।' (সূরাহ মুলক, ৬৭:৬-১১)
গুনাহ করে বা ফরজ আমল পালনে ব্যর্থ হয়ে তাকদীরের (কদর) দোহাই দেয়া মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। অন্যথায় এর অর্থ দাঁড়ায় আল্লাহর বিধি-বিধান অর্থহীন এবং কোনো বিচার, পুরস্কার বা শাস্তি ঘটবে না অথবা ঘটলেও অন্যায়ভাবে ঘটবে! আর এটি আল্লাহর রহমত ও ন্যায় বিচারের সাথে মোটেও মানানসই নয়।
মুশরিকরা আল্লাহর সাথে শরিক সাব্যস্ত করার পক্ষে কদরের দোহাই দিতে চায়। তারা যুক্তি পেশ করে বলে যদি আল্লাহ চাইতেন তবে তারা তাঁর আনুগত্য করত। 'যদি তিনি চাইতেন' বলার মাধ্যমে প্রকারান্তরে তারা বোঝাতে চায়, যেন তিনি তাদেরকে অবাধ্যতা করার হুকুম করেছেন! তাদের এই অজুহাত গ্রহণযোগ্য হলে আল্লাহ তাদেরকে শাস্তি প্রদান করতেন না। আল্লাহ্ বলেন,
'এখন মুশরেকরা বলবে, যদি আল্লাহ ইচ্ছা করতেন, তবে না আমরা শিরক করতাম, না আমাদের বাপ দাদারা এবং না আমরা কোন বস্তুকে হারাম করতাম। এমনিভাবে তাদের পূর্ববর্তীরা মিথ্যারোপ করেছে, এমন কি তারা আমার শাস্তি আস্বাদন করেছে। আপনি বলুনঃ তোমাদের কাছে কি কোন প্রমাণ আছে যা আমাদেরকে দেখাতে পার। তোমরা শুধুমাত্র আন্দাজের অনুসরণ কর এবং তোমরা শুধু অনুমান করে কথা বল।' (সূরাহ আনয়াম, ৬:১৪৮-১৪৯)
যদি গুনাহ, অবাধ্যতা ও অনৈতিকতার পক্ষে তাকদিরের অজুহাত প্রদান করা বৈধ হত তবে জাহান্নামী ব্যক্তিরা জাহান্নামের ভয়াবহ শাস্তি সামনে দেখার পর অবশ্যই তাকদীরের দোহাই দিয়ে বাঁচার চেষ্টা করতো। কিন্তু আল্লাহ জানিয়ে দিয়েছেন তারাও তাকদীরের অজুহাত প্রদর্শন করবে না বরং বলবে,
'... হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদেরকে সামান্য মেয়াদ পর্যন্ত সময় দিন, যাতে আমরা আপনার আহবানে সাড়া দিতে এবং পয়গম্বরগণের অনুসরণ করতে পারি...' (সূরাহ ইবরাহিম, ১৪:৪৪)
• অন্যত্র বলেছেন, 'এবং যাদের পাল্লা হাল্কা হবে তারাই নিজেদের ক্ষতিসাধন করেছে, তারা দোযখেই চিরকাল বসবাস করবে। আগুন তাদের মুখমন্ডল দগ্ধ করবে এবং তারা তাতে বীভৎস আকার ধারন করবে। তোমাদের সামনে কি আমার আয়াত সমূহ পঠিত হত না? তোমরা তো সেগুলোকে মিথ্যা বলতে। তারা বলবেঃ হে আমাদের পালনকর্তা, আমরা দূর্ভাগ্যের হাতে পরাভূত ছিলাম এবং আমরা ছিলাম বিভ্রান্ত জাতি। হে আমাদের পালনকর্তা! এ থেকে আমাদেরকে উদ্ধার কর; আমরা যদি পুনরায় তা করি, তবে আমরা গোনাহগার হব।' (সূরাহ মুমিনুন, ২৩:১০৩-১০৭)
নবি-রাসূলগণের দায়িত্ব ছিল মানুষদের সতর্ক করা ও উপদেশ প্রদান করা এবং যারা হিদায়াত গ্রহণে অস্বীকার করত তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ প্রতিষ্ঠা করা। তাদের মিশন ছিল দাওয়াত পৌঁছে দেওয়া এবং যারা সত্য প্রত্যাখ্যানকারী তাদেরকে কঠোর শাস্তির সতর্কবার্তা প্রদান করা। সুতরাং আল্লাহর অবাধ্যতা করার পক্ষে কাফিরদের জন্য বিচার দিবসে কোনো অজুহাত অবশিষ্ট থাকবে না। যদি গুনাহের পক্ষে তাকদীরের অজুহাত দেয়া বৈধ ও গ্রহণযোগ্য হতো তবে রাসূলগণ তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ প্রতিষ্ঠা করতেন না। বরং সেক্ষেত্রে নবি-রাসূল পাঠানোর কোনো অর্থই হয় না। আল্লাহ বলেছেন, 'সুসংবাদদাতা ও ভীতি-প্রদর্শনকারী রাসূলগণকে প্রেরণ করেছি, যাতে রাসূলগণের পরে আল্লাহর প্রতি অপবাদ আরোপ করার মতো কোনো অবকাশ মানুষের জন্য না থাকে। আল্লাহ প্রবল পরাক্রমশীল, প্রাজ্ঞ।' (সূরাহ নিসা, ৪:১৬৫)
• অন্যত্র বলেছেন, 'বলুনঃ আল্লাহর আনুগত্য কর এবং রসূলের আনুগত্য কর। অতঃপর যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে তার উপর ন্যস্ত দায়িত্বের জন্যে সে দায়ী এবং তোমাদের উপর ন্যস্ত দায়িত্বের জন্যে তোমরা দায়ী। তোমরা যদি তাঁর আনুগত্য কর, তবে সৎ পথ পাবে। রসূলের দায়িত্ব তো কেবল সুস্পষ্টরূপে পৌঁছে দেয়া।' (সূরাহ নূর, ২৪:৫৪)
📄 নিয়তের গুরুত্ব
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, 'সমস্ত কাজের ফলাফল নির্ভর করে নিয়তের উপর, আর প্রত্যেক ব্যক্তি যা নিয়ত করেছে, তাই পাবে। সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জন্য হিজরত করেছে, তার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে হয়েছে, আর যার হিজরত দুনিয়া (পার্থিব বস্তু) আহরণ করার জন্য অথবা মহিলাকে বিয়ে করার জন্য, তার হিজরত সে জন্য বিবেচিত হবে যে জন্য সে হিজরত করেছে।' (বুখারি ও মুসলিম)
এটি রাসূলুল্লাহ (সা.) এর সবচেয়ে ব্যাপক অর্থবোধক হাদিসসমূহের অন্যতম। এটি মানুষের প্রত্যেকটি যৌক্তিক আমলের সাথে প্রযোজ্য যেমন- প্রত্যেক কথা, কর্ম, ফরজ কিংবা নফল কাজ এই হাদিসের উপর নির্ভরশীল।
ইবনুল কাইয়িম (রহ.) নিয়তকে সংজ্ঞায়ন করেছেন মানুষের কাজের পেছনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য জানা সম্পর্কে। বুদ্ধিমান ও চিন্তাশীল ব্যক্তিরা শুরুতেই অভিপ্রায় ঠিক না করে কোনো কাজ করেন না。[৪৯] লক্ষ্য-উদ্দেশ্য নির্ধারণ, দৃঢ় সংকল্প পোষণ করা ইত্যাদি নিয়তের অন্তর্ভুক্ত। মানুষ যা করার নিয়ত করে তা সম্পাদন করে, যদি না সেই ইচ্ছা প্রতিহত করার মতো বাধা থাকে কিংবা নিয়তের পরিবর্তন হয়。[৫০] মনে রাখবেন, নিয়তের স্থান অন্তরে (কলব) জিহবায় নয়।
তিন প্রকার নিয়ত রয়েছে; (১) উত্তম দ্বীনি নিয়ত, (২) দ্বীনি বিবেচনায় নিরপেক্ষ নিয়ত এবং (৩) মন্দ নিয়ত। হাদিস থেকে আমরা জানি, মানুষ নিয়ত অনুসারে পুরস্কার লাভ করবে। যদি ভালো নিয়ত করে তবে ফলাফল ভালো হবে আর মন্দ নিয়ত করলে মন্দ ফলাফল লাভ করবে。[৫১] নিয়তের ভিত্তিতে কাফির থেকে মুমিন এবং গুনাহগার থেকে নেক ব্যক্তি পৃথক হয়। বাহ্যিক দৃষ্টিতে দুই ব্যক্তির কাজ হুবহু একই রকম হলেও যদি দুজনের নিয়ত দুই রকম হয়, তবে ফলাফলে ভিন্নতা আসবে। একই আমল করলেও অন্তরে লুকানো নিয়তের ভিত্তিতে কাউকে আল্লাহ পুরস্কৃত করবেন অথবা কাউকে শাস্তি প্রদান করবেন।
আল্লাহ তাআলা কেবল সেসব আমল কবুল করেন ও পুরস্কৃত করেন যা ইখলাসের সাথে একমাত্র তার সন্তুষ্টির জন্যেই করা হয়। বস্তুত ইসলামি শরিয়াহ অনুসারে যদি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কোনো আমল সম্পাদন করা হয়, সেটা ইবাদাতের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। এটি সাধারণ বৈধ (মুবাহ) আমলের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য, যদি আমলকারী ব্যক্তি কোনো বৈধ কাজকে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের মাধ্যম হিসেবে পালন করে।
ইবনুল কাইয়িম (রহ.) উল্লেখ করেছেন, যারা নিজেদের বৈধ (মুবাহ) আমলগুলোকে ইবাদাতে পরিণত করে তারা আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্ত সবচেয়ে বিশেষ লোকদের অন্তর্ভুক্ত। যারা সত্যিকারভাবে আল্লাহকে চিনতে পেরেছেন, তারা নিজেদের দৈনন্দিন সাধারণ রুটিনমাফিক কাজগুলোকেও ইবাদাতে রূপান্তরিত করেন; আর ওদিকে, আম জনতার ক্ষেত্রে দেখা যায়, তারা ইবাদাতের কাজগুলোকেও রুটিন বানিয়ে ফেলেছে![৫২]
নিয়ত এমন এক আমল যা প্রত্যেক দায়িত্বশীল ব্যক্তি পালনে সক্ষম। নিয়তের বিশুদ্ধতা অর্জনে, ইখলাস ও আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। যেসব কাজের মাধ্যমে আমরা আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করতে সক্ষম তা অনুসরণ করত হবে, যেমন- ইবাদাতের মাধ্যমে, সৃষ্টিজগতের উপর আল্লাহর নিয়ামত সম্পর্কে চিন্তা করা, তাঁর গুণবাচক বৈশিষ্ট্যসমূহ অনুধাবন করা ইত্যাদি। এভাবে আমরা আরও অনুগত ও মুখলিস বান্দা হতে পারব। তখন আল্লাহর আদেশ নিষেধ পালন করা সহজ হবে। আল্লাহর কাছে সবচেয়ে সন্তোষজনক কাজগুলোর দিকে নফস স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালিত করবে。[৫৩]
নিয়তের শুদ্ধতা অর্জন করা প্রত্যেক মানুষের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। এটিই আমাদের জীবনের লক্ষ্য উদ্দেশ্য হওয়া উচিত। আল্লাহ বলেন,
'আমার ইবাদাত করার জন্যই আমি মানব ও জিন জাতি সৃষ্টি করেছি।' (সূরাহ যারিয়াত, ৫১:৫৬)
সঠিকভাবে আল্লাহর ইবাদাত করা ও না করার মধ্যে পার্থক্যসূচক বৈশিষ্ট্য হলো নিয়তের বিশুদ্ধতা। এর মাধ্যমেই অংশীদার সাব্যস্ত করে আল্লাহর ইবাদাত করা (শিরক) থেকে একত্বভাবে আল্লাহর ইবাদাত (তাওহীদ) পৃথক হয়。[৫৪]
মানব প্রকৃতির সারকথা সারমর্মে আমরা বলতে পারি বিভিন্ন একক বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে মানুষ আল্লাহর অন্য সব সৃষ্টি থেকে স্বতন্ত্র হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে,
১। জন্মগতভাবে বিশুদ্ধ নফসের অধিকারী হওয়া, যা ভালো-মন্দ উভয় কাজের সক্ষমতা রাখে।
২। একমাত্র আল্লাহর উপর ঈমান আনয়ন ও ইবাদাতের সহজাত বৈশিষ্ট্য (ফিতরাত)।
৩। চিন্তাশক্তি ও বোধশক্তি, মন ও বিবেক ব্যবহারের ক্ষমতা।
৪। স্বাধীন ইচ্ছাশক্তির মাধ্যমে মন্দ থেকে উত্তম পথ বাছাইয়ের ক্ষমতা। আরও রয়েছে গৃহীত সিদ্ধান্ত কার্যকরের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মাত্রায় সীমাবদ্ধ স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি।
৫। গৃহীত সিদ্ধান্ত ও আমলের দায়দায়িত্ব গ্রহণ, এটি স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি ও সক্ষমতার সাথে সংযুক্ত。[৫৫]
টিকাঃ
[৪৯] Sadlan, al-Niyyah (pp. 98-99) as quoted in Zarabozo, 1999, p. 123.
[৫০] Zarabozo, 1999, p. 123.
[৫১] Ibid., p. 136.
[৫২] Ibid., p. 147.
[৫৩] Ibid., p. 152.
[৫৪] Ibid., p. 156.
[৫৫] Zarabozo, 2002, p. 110.