📘 সাইকোলজি ইসলামি দৃষ্টিকোণ > 📄 অন্তর বিষাক্তকারী বিষয়ের বর্ণনা

📄 অন্তর বিষাক্তকারী বিষয়ের বর্ণনা


সকল অবাধ্যতার কাজের মাধ্যমে অন্তর বিষাক্ত হয়ে উঠে ও অসুস্থ হয়। তবে চারটি সুনির্দিষ্ট অবাধ্যতা বেশি বিস্তৃত দেখা যায় এবং এগুলো অন্তরের সুস্থতার ওপর সবচেয়ে ক্ষতিকর ও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। সেগুলো হলো-অপ্রয়োজনীয় ও ক্ষতিকর কথাবার্তা, অনিয়ন্ত্রিত চাহনি, অতিরিক্ত পানাহার ও অসৎ সঙ্গ। [৪১] প্রথম তিনটি নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে আর চতুর্থটি সামাজিক সম্পর্ক অধ্যায়ে আলোচনা করা হবে।
২.১৬.১ অপ্রয়োজনীয় ও ক্ষতিকর কথা: অনেক মানুষই এই বিষয়টি ভুলে যায় যে কাজকর্মের পাশাপাশি কথার জন্যেও তাদেরকে হিসাব দিতে হবে। এ কারণে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, 'বান্দাহ এমন একটি কথা বলে, যে ব্যাপারে সে কিছু চিন্তা করেনা। (অথচ) এর কারণে সে পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যবর্তী দূরত্বের চেয়েও বেশি দূরত্বে জাহান্নামে চলে যায়।' (মুসলিম)
আরেক হাদিসে এসেছে, 'নিশ্চয় বান্দা আল্লাহর সন্তুষ্টির কোনো কথা উচ্চারণ করে অথচ সে কথার গুরুত্ব সম্পর্কে চেতনা নেই কিন্তু এ কথার দ্বারা আল্লাহ তার মর্যাদা অনেকগুণ বাড়িয়ে দেন। আবার বান্দা আল্লাহর অসন্তুষ্টির কোনো কথা বলে ফেলে যার পরিণতি সম্পর্কে সচেতন নয়, অথচ সে কথার কারণে সে জাহান্নামে পতিত হবে।' (বুখারি)
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, 'যে ব্যাক্তি আমার (সন্তুষ্টির) জন্য তার দু'চোয়ালের মধ্যবর্তী বস্তু (জিহ্বা) এবং দু'রানের মাঝখানের বস্তু (লজ্জাস্থান) এর হিফাজত করবে আমি তার জন্য জান্নাতের দায়িত্ব গ্রহণ করব।' (বুখারি)
মুখ ও জিহ্বা হিফাজতের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে; এই দুটি দ্বারা সম্পাদিত অবৈধ কাজ থেকে বিরত থাকা, যেমন মিথ্যাচারিতা, পরচর্চা, পরনিন্দা, অভিশাপ, ঝগড়া ইত্যাদি। মুখ ও জিহ্বার মাধ্যমে হারাম খাদ্য ও পানীয় গ্রহণ থেকে বিরত থাকাও এর হিফাজতের অন্তর্ভুক্ত। জিহ্বা সহজেই দ্রুততার সাথে নড়াচড়া করানো যায়। এ কারণে রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর অনুসারীদেরকে এর ক্ষতি থেকে সতর্ক করে দিয়েছেন। যেকোনো কথা একবার মুখ থেকে বের হয়ে গেলে তার মাধ্যমে প্রভূত ক্ষতি সাধিত হতে পারে। সেটাকে আর ফিরিয়ে নেওয়ার উপায় থাকেনা, তার কোনো প্রতিকার করা যায় না। এর পরিবর্তে যদি শুরুতেই জিহ্বাকে নিয়ন্ত্রিত রাখা হতো সেটিই ছিল তুলনামূলক সহজ এবং উত্তম, তাহলে আর পরবর্তী ফলাফলের দায়দায়িত্ব ঘাড়ে চাপত না।
২,১৬.২ অনিয়ন্ত্রিত চাহনি: আল্লাহ তাআলা শালীনতা ও লজ্জাস্থানের পবিত্রতা রক্ষার্থে দৃষ্টি নত রাখতে ও নিষিদ্ধ বস্তু থেকে নজর হিফাজত করতে নির্দেশনা প্রদান করে বলেছেন, 'মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গর হেফাযত করে। এতে তাদের জন্য খুব পবিত্রতা আছে। নিশ্চয় তারা যা করে আল্লাহ তা অবহিত আছেন। ঈমানদার নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নত রাখে এবং তাদের যৌন অঙ্গের হেফাযত করে।...' (সূরাহ নূর, ২৪:৩০-৩১)
একজন মুমিন কেবল বৈধ দৃশ্য দেখতে পারে। যদি অনিচ্ছাকৃতভাবে কোনো নিষিদ্ধ বস্তুর প্রতি দৃষ্টি পড়ে যায় তবে মুমিন নারী কিংবা পুরুষকে দ্রুত দৃষ্টি সরিয়ে নিতে হবে। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, 'নিজেকে রাস্তার ওপর বসা থেকে বাঁচাও। সাহাবাগণ নিবেদন করলেন, আমাদের জন্যে (রাস্তায়) বসা তো জরুরী। আমরা রাস্তায় বসে কথা বলি। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, তোমাদের যদি বসতেই হয়, তাহলে রাস্তার হক আদায় করো। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! রাস্তার হক কি? তিনি বললেন, (১) দৃষ্টিকে নিম্নমুখী রাখা, (২) কষ্টদায়ক বস্তু রাস্তা থেকে সরিয়ে দেয়া, (৩) (পথিকের) সালামের জবাব দেয়া, (৪) সৎকাজের হুকুম দেয়া, (৫) মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখা। (বুখারি ও মুসলিম)
তিনি আরও বলেছেন, 'আমাকে ছয়টি বিষয়ের নিশ্চয়তা প্রদান করো আমি তোমাদের জান্নাতের নিশ্চয়তা প্রদান করব। যখন তোমাদের কেউ কথা বলবে সে মিথ্যা বলবে না, আমানত প্রদান করা হলে খেয়ানত করবে না, ওয়াদা করলে ভঙ্গ করবে না, দৃষ্টি নত রাখবে, নিজের হাতকে সংবরণ করবে এবং লজ্জাস্থানের হেফাজত করবে।' (আহমাদ ও ইবনু হিব্বান সংরক্ষিত নির্ভরযোগ্য হাদিস)। নিষিদ্ধ বস্তুর প্রতি দৃষ্টি প্রদানের মাধ্যমে অন্তরে কুমন্ত্রণা জাগ্রত হয় এবং আকর্ষণ ও কামনা-বাসনার উদ্রেক ঘটে। ফলে একজন ব্যক্তি হারাম কাজ করার মাধ্যমে সে তাড়না নিবারণ করে।
• আত্মার পরিশুদ্ধি বিষয়ে রচিত গ্রন্থে ফরিদ উল্লেখ করেছেন, 'শয়তান প্রবেশ করে দৃষ্টির মাধ্যমে, এর সাহায্যে সে শূন্যস্থানে বায়ুর থেকেও দ্রুত গতিতে সফর করে। সাধারণ বিষয়কেও অত্যন্ত আকর্ষণীয়ভাবে ফুটিয়ে তোলে এবং অন্তরে পূজনীয় মূর্তিতে রূপান্তরিত করে। এরপর সে মিথ্যা পুরস্কারের ওয়াদা প্রদান করে অন্তরে কামনার আগুন প্রজ্বলিত করে, এরপর সেই আগুনে লাকড়ি স্বরূপ গুনাহের কাজ সম্পাদন করে। অথচ কিছুই ঘটত না যদি শুরুতেই সে নিষিদ্ধ দৃষ্টি প্রদান হতে বিরত থাকত। [৪২]
রাসূলুল্লাহ (সা.) অনিয়ন্ত্রিত চাহনি ও লজ্জাস্থানের পারস্পরিক সংযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, 'মানুষের জন্যে তার ব্যভিচারের অংশ লেখা হয়েছে, যা সে নিশ্চিতভাবেই পেয়ে যাবে। (সুতরাং) দুই চোখের জিনা হলো পরস্ত্রীর প্রতি নজর করা, দুই কানের জিনা হলো যৌন উত্তেজক কথা-বার্তা শ্রবণ করা, মুখের জিনা হলো পরস্ত্রীর সাথে রসালো কন্ঠে কথা বলা। হাতের জিনা হলো পরস্ত্রীকে স্পর্শ করা হাত দিয়ে ধরা এবং পায়ের জিনা হয়ে যৌন মিলনের উদ্দেশ্যে পরস্ত্রীর কাছে গমন। অন্তরের ব্যাভিচার হলো হারাম বস্তু কামনা করা, আর (পরিশেষে) লজ্জাস্থান এসবের সত্যতা প্রমাণ করে কিংবা মিথ্যা সাব্যস্ত করে। (বুখারি ও মুসলিম)।
এধরনের ফাঁদে ধরা দেওয়ার মাধ্যমে ব্যক্তি নিজের প্রধান কাজগুলোর প্রতি মনোযোগ হারিয়ে ফেলে, অধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো ভুলে যায়। যেমন- আল্লাহর স্মরণ ও আনুগত্য হতে গাফেল হয়ে যায়। এভাবে অবাধ্যতার কারণে অন্তর অন্ধ হয়ে যায়। ফলে সে মিথ্যা হতে সত্য পৃথক করতে পারে না।
২.১৬.৩ অতিরিক্ত পানাহার: কুরআন ও সুন্নাহর মাধ্যমে মুমিনদেরকে অতিরিক্ত পানাহার পরিহার করতে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। আল্লাহ বলেছেন,
'হে বনি-আদম! তোমরা প্রত্যেক নামাযের সময় সাজসজ্জা পরিধান করে নাও, খাও ও পান কর এবং অপব্যয় করো না। তিনি অপব্যয়ীদেরকে পছন্দ করেন না।' (সূরাহ আরাফ, ৭:৩১)
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, 'কোনো মানুষ পেটের চাইতে খারাপ কোনো পাত্র ভর্তি করে না। মানুষের মেরুদণ্ড সোজা রাখার মতো কয়েক গ্রাস খাদ্যই তার জন্য যথেষ্ট। এর চাইতেও যদি বেশি প্রয়োজন হয়, তবে পেটকে তিন ভাগে ভাগ করে এক- তৃতীয়াংশ তার খাদ্যের জন্য, এক-তৃতীয়াংশ তার পানীয়ের জন্য এবং এক-তৃতীয়াংশ শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য ভাগ করে নেবে।' (তিরমিযি ও ইবনু মাজাহ, সনদ বিশুদ্ধ)
অতিরিক্ত পানাহারের মাধ্যমে ফরজ আমল পালনে অলসতা সৃষ্টি হয়। যেমন- সালাত ও অন্যান্য আমল। অতিরিক্ত পানাহারের ফলে কামনাবাসনা উদ্দীপ্ত হয়, নাফরমান কাজে শক্তি ও সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায় এবং আত্মনিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা কমে আসে। উদাহরণস্বরূপ; ভরপেট আহার করার পর মানুষের মধ্যে রাগের প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। বৈজ্ঞানিক গবেষণার মাধ্যমে প্রমাণিত যে ভরপেট আহার করার পর মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা হ্রাস পায়। পাকস্থলী পরিপূর্ণ হয়ে গেলে খাদ্য হজমের জন্য সেখানে অধিক রক্ত সঞ্চালিত হয়, ফলে মস্তিষ্কে তুলনামূলক কম রক্ত সঞ্চালন ঘটে।

টিকাঃ
[৪১] Farid, A., (Ed.), 1993, The Purification of the Soul (Works of al-Hanbali, al Jawziyya, al- Ghazali), London, U.K: Al Firdous Ltd, p. 23.
[৪২] Ibid., p. 27.

📘 সাইকোলজি ইসলামি দৃষ্টিকোণ > 📄 অন্তর ও আত্মায় গুনাহের প্রভাব

📄 অন্তর ও আত্মায় গুনাহের প্রভাব


কলব (অন্তর) ও নফসের (আত্মা) উপর গুনাহের ক্ষতিকর প্রভাব রয়েছে, ক্ষতির মাত্রা নির্ভর করে গুনাহের তীব্রতার উপর। কুরআন ও হাদিসে পাপী ব্যক্তির অন্তর সম্পর্কে বিভিন্ন আলোচনা রয়েছে। তিরমিযি সংরক্ষিত নির্ভরযোগ্য সনদের হাদিসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, 'মুমিন ব্যক্তি যখন গুনাহ করে তখন তার কলবে একটি কালো দাগ পড়ে। অতঃপর সে তাওবা করলে, পাপকাজ ত্যাগ করলে এবং ক্ষমা প্রার্থনা করলে তার কলব পরিচ্ছন্ন হয়ে যায়। সে আরও গুনাহ করলে সেই কালো দাগ বেড়ে যায়। এই সেই মরিচা যা আল্লাহ তাঁর কিতাবে উল্লেখ করেছেন: 'কক্ষনো নয়, বরং তাদের কৃতকর্মই তাদের অন্তরে জং (মরিচা) ধরিয়েছে' (সূরাহ আল-মুতাফফিফীন: ১৪)।
গুনাহের ফলে একদিকে অন্তরে আল্লাহর আনুগত্যের সংকল্প দুর্বল হয়ে আসে, আরেকদিকে ভবিষ্যতে আরও গুনাহ করার সংকল্প শক্তিশালী হয়। ধীরে ধীরে তাওবার ইচ্ছা দুর্বল হয়ে একসময় অন্তর থেকে সম্পূর্ণভাবে হারিয়ে যায়। [৪০] এভাবে গুনাহ অন্তরকে ব্যধিগ্রস্ত করে অথবা সম্পূর্ণভাবে মেরে ফেলে। যখন কোনো ব্যক্তি ক্রমাগত গুনাহ করতে থাকে তখন তার অন্তরে মোহর পড়ে যায়। মরিচা বৃদ্ধি করে পেয়ে এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে সম্পূর্ণরূপে অন্তরকে ঢেকে ফেলে, তখন আল্লাহর সাথে অন্তরের সংযোগ বিছিন্ন হয়ে যায়। এই অন্তরকে পরিশুদ্ধ অবস্থায় ফিরিয়ে আনা অনেক কঠিন -যেভাবে একটি ধাতব বস্তু থেকে মরিচা দূর করা কঠিন।
বুখারি ও আবু দাউদ এর বিশুদ্ধ হাদিস অনুসারে অন্তরের বিভিন্ন ব্যাধি থেকে আল্লাহর রাসূল (সা.) আশ্রয়প্রার্থনা করতেন, যেমন: দুশ্চিন্তা, পেরেশানী, অক্ষমতা, অলসতা, কাপুরুষতা, কৃপণতা, ঋণের বোঝা ও লোকজনের আধিপত্য থেকে। ভবিষ্যতের অনিশ্চিত বিষয় নিয়ে আশঙ্কা করলে অন্তরে উদ্বিগ্নতা ও দুশ্চিন্তা সৃষ্টি হয়। আর অতীতের বিষয় নিয়ে ব্যস্ত থাকলে অন্তরে দুঃখবোধ ও বিষণ্ণতা সৃষ্টি হয়। যখন ব্যক্তি সামর্থ্যের মধ্যে থাকা বিষয়কে উপেক্ষা করে তখন এটা তার অক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ, আর অক্ষমতা হতে অপারগতার সৃষ্টি। অপারগতা যদি ইচ্ছাশক্তির অভাবে ঘটে তাহলে সেটা অলসতা। দৈহিক (ক্ষতির) কারণে অনাগ্রহী হলে সেটা কাপুরুষতা, আর সম্পদের কারণে (অনাগ্রহী) হলে কৃপণতা। ঋণী ব্যক্তির উপর পাওনাদার আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করে, আর যারা বিনা অজুহাতে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করে তারা অন্যকে পদাবনত বা জুলুম করতে চায়। [৪৪]
গুনাহের আরেকটি ক্ষতি হলো ইলম থেকে বঞ্চিত হওয়া। পাপ ইলমের প্রদীপ নিভিয়ে দেয়, মনকে দূষিত করে, অন্তর্দৃষ্টি হরণ করে। এমনকি সামনে সত্য উপস্থাপন করলেও সর্বগ্রাসী অন্ধকারের কারণে তারা সেটা চিনতে পারে না। তারা কুফর, বিদআত ও পথভ্রষ্টতার সংশয়ে নিমজ্জিত থাকে। গুনাহগারের অন্তর সর্বদা উদ্বিগ্ন ও পেরেশান থাকে। সে আল্লাহ ও অন্যান্য মানুষদের থেকে নিজেকে একাকী অনুভব করে। বিশেষত নেক ব্যক্তিদের থেকে তার নিঃসঙ্গতা বৃদ্ধি পেতে থাকে যতক্ষণ না সে পুরোপুরি শয়তানের অনুচরদের দ্বারা ঘেরাও হয়ে যায়। তখন জ্ঞানী ব্যক্তিদের জ্ঞান থেকে সে আর কোনো উপকার লাভ করতে পারে না।
দুনিয়া ও আখিরাতে আমরা যত ক্ষতিকর ও মন্দ অভিজ্ঞতা অর্জন করি, এগুলো ঘটে আমাদের নিজেদের গুনাহ ও সীমালঙ্ঘনের কারণে। [৪৫] আল্লাহ বলেছেন, 'তোমাদের উপর যেসব বিপদ-আপদ পতিত হয়, তা তোমাদের কর্মেরই ফল এবং তিনি তোমাদের অনেক গোনাহ ক্ষমা করে দেন।' (সূরাহ শুরা, ৪২:৩০) আখিরাতে কাফিরদের শাস্তি উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, 'এই হলো সে সবের বিনিময় যা তোমরা তোমাদের পূর্বে পাঠিয়েছ নিজের হাতে। বস্তুতঃ এটি এ জন্য যে, আল্লাহ বান্দার উপর যুলুম করেন না।' (সূরাহ আনফাল, ৮:৫১)
গুনাহের আরেকটি ক্ষতিকর দিক হলো জীবন থেকে আল্লাহর সুরক্ষা ও নিয়ামত উঠে যাওয়া। আব্দুল্লাহ ইবনু উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) এর একটি দুআ ছিল এরকম, (তিনি বলতেন), 'হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে পানাহ চাই, তোমার নিয়ামত সরে যাওয়া, তোমার ক্ষমা ওলটপালট হয়ে যাওয়া, তোমার আকস্মিক শাস্তি এবং তোমার সব রকমের অসন্তুষ্টি থেকে।' (মুসলিম)

টিকাঃ
[৪০] al-Jawziyyah, I. Q., 2006, Spiritual Disease and its Cure, London, UK: Al- Firdous Ltd., p. 74.
[88] Ibid., pp. 100-101.
[84] Ibid., pp. 57-58.

📘 সাইকোলজি ইসলামি দৃষ্টিকোণ > 📄 নফসের পরিশুদ্ধি

📄 নফসের পরিশুদ্ধি


আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টিগতভাবে ভালো-মন্দ উভয় কাজের সক্ষমতা প্রদান করেছেন। এরপর বিভিন্ন পরিস্থিতির মাধ্যমে পরীক্ষা করা হয় যে তারা কোনো ধরনের বৈশিষ্ট্যের বিকাশ ঘটায়। কোনো কাজকে সমর্থন করে এবং কোনো কাজে বাধা প্রদান করে, নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করে। তারাই সফল যারা নিজেদের নফসকে পরিশুদ্ধ করতে পেরেছে এবং ভালো কাজের প্রবণতাকে অনুসরণ করেছে। আল্লাহ বলেছেন,
'শপথ প্রাণের এবং যিনি তা সুবিন্যস্ত করেছেন, তাঁর, অতঃপর তাকে তার অসৎকর্ম ও সৎকর্মের জ্ঞান দান করেছেন, যে নিজেকে শুদ্ধ করে, সেই সফলকাম হয়। এবং যে নিজেকে কলুষিত করে, সে ব্যর্থ মনোরথ হয়।' (সূরাহ শামস, ৯১:৭-১০)
বস্তুত মানুষের জীবনে দুটি রাস্তা থাকে; একটি হলো আল্লাহর নির্দেশনা অনুসরণ করা ও উন্নত মহান চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের বিকাশ ঘটানো। এটি আত্মশুদ্ধির পথ এবং ভারসাম্যপূর্ণ মধ্যমপন্থা। অন্য পথটি নিজেকে দূষিত করার পথ। ঐ পথে গমন করলে মানুষ আল্লাহর নির্দেশনাকে প্রত্যাখ্যান করে এবং প্রবৃত্তির নিচু কামনা-বাসনা অনুসরণের মাধ্যমে নিজেকে দূষিত করে ফেলে। যদি মানুষ উত্তম গুণাবলীর বিকাশ ঘটিয়ে জীবনকে কাজে লাগায় তবে তারা সঠিক পথ অনুসরণ করল। তখন সে শ্রেষ্ঠ সৃষ্টির অন্তর্ভুক্ত হবে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টিপ্রাপ্ত অন্তর্ভুক্ত হবে। ভালোকাজের প্রতি এই সহজাত ঝোঁক পূরণের মাধ্যমে তাদের ব্যক্তিত্বে কোনো সংঘাত বা হতাশা থাকবে না। তারা উত্তম মানসিক ও আবেগিক স্বাস্থ্য অর্জন করতে পারবে, নেতিবাচক বৈশিষ্ট্যসমূহ নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে, যেমন- হিংসা, লোভ, ক্রোধ ইত্যাদি।
অপরদিকে যদি আল্লাহর নির্দেশনাকে অস্বীকার করে এবং প্রবৃত্তির কামনা-বাসনা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতে থাকে, তবে মানুষ ধ্বংসের পথে পরিচালিত হবে। তারা মানুষরূপী শয়তানে পরিণত হবে। নিজের ব্যক্তিত্বে নানারকম আন্তঃসংঘাত ও মানসিক যন্ত্রণার অভিজ্ঞতা অর্জন করবে। এ বিষয়ে আলোচনা করে আল্লাহ কুরআনে বলেছেন যে তারা কেবল নিজেদের ক্ষতি করে,
'... যে ব্যক্তি আল্লাহর সীমালংঘন করে, সে নিজেরই অনিষ্ট করে। ...' (সূরাহ তালাক, ৬৫:১)
• অন্যত্র বলেছেন, ‘যে সৎকর্ম করে, সে নিজের উপকারের জন্যেই করে, আর যে অসৎকর্ম করে, তা তার উপরই বর্তাবে। আপনার পালনকর্তা বান্দাদের প্রতি মোটেই যুলুম করেন না।’ (সূরাহ ফুসসিলাত, ৪১:৪৬)
• অন্যত্র বলেছেন, ‘আমি কিন্তু তাদের প্রতি জুলুম করি নাই বরং তারা নিজেরাই নিজের উপর অবিচার করেছে....' (সূরাহ হুদ, ১১:১০১)
জাহান্নামের রাস্তা সহজ। কেননা, সেটি প্রবৃত্তির নিচু কামনা-বাসনা দ্বারা ঘিরে দেওয়া হয়েছে। নফসের সেসব তাড়না সহজেই উদ্দীপ্ত করা যায় এবং মানুষের কাছে আনন্দদায়ক বলে ভ্রম হয়। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, 'জাহান্নামকে লোভনীয় জিনিস দ্বারা আড়াল করে রাখা হয়েছে। আর জান্নাতকে রাখা হয়েছে দুঃখ কষ্টের আড়ালে।' (বুখারি ও মুসলিম)
তুলনামূলকভাবে জান্নাতের রাস্তা বেশ চ্যালেঞ্জিং। কেননা, এই পথে চলতে হলে আত্মনিয়ন্ত্রণ করতে হয়, ধৈর্য, অধ্যবসায় ও অন্যান্য সদগুণের প্রয়োজন হয়। নফসের পরিশুদ্ধির মাধ্যমে দুনিয়া-আখিরাতে সফলতা ও মুক্তি অর্জিত হয়। আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে উত্তম বিষয়াদি অর্জিত হয় এবং মন্দ বিষয়াদি অবদমিত বা সম্পূর্ণভাবে নির্মূল হয়। মানুষ নিজের নফসকে শিরক, কুফর, নিফাক, গুনাহ ও মন্দ কাজ দূর করতে চেষ্টা করে এবং বিশুদ্ধ ঈমান, উত্তম চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও আমলের মাধ্যমে পরিপূর্ণ করতে চেষ্টা করে。[৪৬] এভাবে (হাদিসে বর্ণিত) 'ইহসান' এর পর্যায়ে পৌঁছানো পর্যন্ত ব্যক্তির আত্মশুদ্ধি চলতে থাকে। 'ইহসান' অর্থ এমনভাবে আল্লাহর ইবাদাত করা যেন আমরা তাকে দেখতে পাচ্ছি। আর তাকে দেখতে না পেলেও এই বিষয়ে অবগত থাকা যে তিনি অবশ্যই আমাদের দেখছেন। কেননা, তিনি সর্বদ্রষ্টা। এটি দুনিয়াতে অর্জিত আত্মশুদ্ধির সর্বোচ্চ স্তর। ইবাদাতের মাধ্যমে আত্মা পরিশুদ্ধ হতে পারে, যেমন- সালাত, সিয়াম ও দান সাদাকাহ। আত্মশুদ্ধি অর্জনের অন্যান্য উপায়ের মধ্যে রয়েছে আল্লাহর আনুগত্য করা ও নিষিদ্ধ বিষয় পরিহার করা, সর্বাবস্থায় তাকওয়া অবলম্বন করা অর্থাৎ আল্লাহ সম্পর্কে সচেতন থাকা।
কলবের পরিশুদ্ধি: নফসের পরিশুদ্ধির সাথে কলবের পরিশুদ্ধির বিষয়টিও জড়িত। এটি অর্জন করা যায় আল্লাহর প্রতি ভয়, ভালোবাসা, তার আদেশের আনুগত্য ও আত্মসমর্পণের মাধ্যমে। ড. জামাল জারাবযো বলেছেন, 'যতক্ষণ পর্যন্ত না একজন ব্যক্তি আল্লাহকে চিনতে পারবে, তাঁর প্রশংসা ও মহিমা ঘোষণা করবে, ভালোবাসবে, ভয় করবে, তাঁর উপর আশা-ভরসা স্থাপন করবে এবং এসকল গুণবাচক বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে অন্তরকে পরিপূর্ণ করবে; ততক্ষণ পর্যন্ত অন্তর পরিশুদ্ধ হতে পারে না। এটাই 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' তথা 'আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই' এর প্রকৃত বাস্তবতা। যতক্ষণ পর্যন্ত একমাত্র আল্লাহকে ভালোবাসা, মহিমা ঘোষণা ও আত্মসমর্পণ না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত অন্তর পরিশুদ্ধ হবে না। এবং... অন্তর পরিশুদ্ধ হলে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অন্তরের অনুসারী হবে ও ব্যক্তির আমলগুলোও পরিশুদ্ধ হবে。[৪৭]
ইবনুল কাইয়িম (রহ.) উল্লেখ করেছেন,
পাঁচটি বিষয়ে থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে অন্তরের পরিশুদ্ধি অর্জন করা যায়, (১) শিরক; কেননা এটি আল্লাহর একত্ববাদের সাথে সাংঘর্ষিক, (২) বিদআত; এটি রাসূলের সুন্নাহর সাথে সাংঘর্ষিক, (৩) কামনা বাসনা; এটি আল্লাহর আদেশ-নিষেধের সাথে সাংঘর্ষিক, (৪) গাফলতি; আল্লাহর স্মরণের সাথে সাংঘর্ষিক এবং (৫) আসক্তি; ইখলাস (আন্তরিকতা) এর সাথে সাংঘর্ষিক。[৪৮]

টিকাঃ
[৪৬] Zarabozo, 2002, p. 79.
[৪৭] Zarabozo, 1999, p. 470.
[৪৮] al-Jawziyyah, 2006, p. 148.

📘 সাইকোলজি ইসলামি দৃষ্টিকোণ > 📄 স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি ও জবাবদিহিতা

📄 স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি ও জবাবদিহিতা


কুরআনের বিভিন্ন আয়াতে বলা হয়েছে যে ঈমান ও আমলের ক্ষেত্রে মানুষের স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি রয়েছে। এটি আল্লাহর পক্ষ হতে মানুষকে দেয়া একটি সম্মান। এই বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে মানুষ ফেরেশতাদের থেকে স্বতন্ত্র হয়েছে। তবে মানুষের স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি নিরঙ্কুশ নয়, এর কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন,
'বলুন; সত্য তোমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে আগত। অতএব, যার ইচ্ছা, বিশ্বাস স্থাপন করুক এবং যার ইচ্ছা অমান্য করুক।' (সূরাহ কাহাফ, ১৮:২৯)
• অন্যত্র বলেছেন, 'আমি তাকে পথ দেখিয়ে দিয়েছি। এখন সে হয় কৃতজ্ঞ হয়, না হয় অকৃতজ্ঞ হয়।' (সূরাহ ইনসান, ৭৬:৩)
দ্বীনে কোনো জোর জবরদস্তি নেই। কাউকে জোরপূর্বক আল্লাহর আদেশ-নিষেধের নিকট আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করা যায় না। এটা ব্যক্তি স্বেচ্ছায় নির্বাচন করেন। যদি অন্তর আত্মসমর্পণ না করে তাহলে বাহ্যিক আত্মসমর্পণের কোনো মূল্য নেই। আল্লাহ বলেন,
'দ্বীনের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি বা বাধ্য-বাধকতা নেই। নিঃসন্দেহে হিদায়াত গোমরাহী থেকে পৃথক হয়ে গেছে। এখন যারা গোমরাহকারী 'তাগুত'দেরকে মানবে না এবং আল্লাহতে বিশ্বাস স্থাপন করবে, সে ধারণ করে নিয়েছে সুদৃঢ় হাতল যা ভাংবার নয়। আর আল্লাহ সবই শুনেন এবং জানেন।' (সূরাহ বাকারাহ, ২:২৫৬)
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে জানিয়েছেন যে, কিছু মানুষ স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি ও বাছাই ক্ষমতার মাধ্যমে ঈমান আনবে এবং উত্তম আমল করবে। তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে। বিপরীতে কিছু মানুষ কুফরি করবে ও বদ আমল করবে। এটাও স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি ও বাছাইয়ের ক্ষমতার মাধ্যমে করবে। এরপর তারা জাহান্নামে প্রবেশ করবে। তিনি বলেছেন,
'সেদিন মানুষ বিভিন্ন দলে প্রকাশ পাবে, যাতে তাদেরকে তাদের কৃতকর্ম দেখানো হয়। অতঃপর কেউ অণু পরিমাণ সৎকর্ম করলে তা দেখতে পাবে এবং কেউ অণু পরিমাণ অসৎকর্ম করলে তাও দেখতে পাবে। (সূরাহ যিলযাল, ৯৯:৬-৮)
* অন্যত্র বলেছেন, 'তাদের অন্তরে যা কিছু দুঃখ ছিল, আমি তা বের করে দেব। তাদের তলদেশ দিয়ে নির্ঝরণী প্রবাহিত হবে। তারা বলবেঃ আল্লাহ শোকর, যিনি আমাদেরকে এ পর্যন্ত পৌছে দিয়েছেন। আমরা কখনও পথ পেতাম না, যদি আল্লাহ আমাদেরকে পথ প্রদর্শন না করতেন। আমাদের প্রতিপালকের রসূল আমাদের কাছে সত্যকথা নিয়ে এসেছিলেন। আওয়াজ আসবেঃ এটি জান্নাত। তোমরা এর উত্তরাধিকারী হলে তোমাদের কর্মের প্রতিদানে।' (সূরাহ আরাফ, ৭:৪৩)
* অন্যত্র বলেছেন, 'অতএব এ দিবসকে ভূলে যাওয়ার কারণে তোমরা মজা আস্বাদন কর। আমিও তোমাদেরকে ভুলে গেলাম। তোমরা তোমাদের কৃতকর্মের কারণে স্থায়ী আজাব ভোগ কর।' (সূরাহ সাজদাহ, ৩২:১৪)
আল্লাহ তাআলা মানুষকে চিন্তা করার ক্ষমতা ও বোধশক্তি প্রদান করেছেন। কারো জবাবদিহিতা নেয়ার পূর্বে তার মধ্যে এই যোগ্যতা থাকা জরুরি, কেননা যদি কারো বোধশক্তি না থাকে কিংবা ভালো-মন্দ পৃথক করার ক্ষমতা না থাকে তবে তাদেরকে কোনো কাজের জন্য দায়ী করা যায় না। সেক্ষেত্রে তাদেরকে জবাবদিহিতা করা অন্যায়, আর আল্লাহ কখনো অন্যায় করেন না।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো জ্ঞান-বুদ্ধি। ইসলামে জ্ঞানকে অত্যন্ত গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে। এটি আমাদেরকে ভালো-মন্দ, ভুল-শুদ্ধ, বৈধ-অবৈধ ইত্যাদি পৃথক করতে সাহায্য করে। জ্ঞান ব্যতীত আমরা গোলকধাঁধায় হতবুদ্ধি হয়ে যাব। সঠিক পথ খুঁজে হয়রান হবো। আল্লাহ তাআলা ওহীর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্যাদি নাজিল করে আমাদের উপর রহমত করেছেন যেন আমরা সহজে ও সুস্পষ্টভাবে আমাদের পথ খুঁজে নিতে পারি। আল্লাহর শ্রেষ্ঠ নিয়ামতসমূহের মধ্যে জ্ঞান অন্যতম। জ্ঞান ও বোধশক্তি কাজে লাগানোর মাধ্যমে আমরা সিদ্ধান্ত নিতে পারি যে কোনো পথ অনুসরণ করতে হবে।
পূর্বে আলোচিত হয়েছে, মানুষের ইচ্ছাশক্তি আল্লাহর ইচ্ছার অধীনে কার্যকর হয়। ব্যক্তির একক ইচ্ছায় কিছুই সংঘটিত হয় না। আল্লাহ তাকদীরে যা নির্ধারণ করেছেন তাই ঘটে। তিনি বলেছেন,
'এটা উপদেশ, অতএব যার ইচ্ছা হয় সে তার পালনকর্তার পথ অবলম্বন করুক। আল্লাহর অভিপ্রায় ব্যতিরেকে তোমরা অন্য কোনো অভিপ্রায় পোষণ করবে না। আল্লাহ সর্বজ্ঞ প্রজ্ঞাময়। তিনি যাকে ইচ্ছা তাঁর রহমতে দাখিল করেন। আর জালিমদের জন্যে তো প্রস্তুত রেখেছেন মর্মন্তুদ শাস্তি।' (সূরাহ ইনসান, ৭৬:২৯-৩১)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00