📘 সাইকোলজি ইসলামি দৃষ্টিকোণ > 📄 আকিদা, ঈমান ও মনোবিজ্ঞান (পারস্পরিক সম্পর্ক)

📄 আকিদা, ঈমান ও মনোবিজ্ঞান (পারস্পরিক সম্পর্ক)


'আকিদাহ' শব্দটি দ্বারা বোঝায় একটি সামগ্রিক বিশ্বাস ব্যবস্থাপনা (belief system), যেখানে ঈমানের মৌলিক প্রত্যেকটি বিষয় ও আল্লাহর একত্ববাদকে দৃঢ় বিশ্বাস ( ইয়াকীন) এর মাধ্যমে ধারণ করা হয়। মানুষ যা কিছু বিশ্বাস করে, অন্তরে সাক্ষ্য দেয় এবং সত্য বলে মেনে নেয়, আকিদাহ হচ্ছে সেসব বিষয়ের সমষ্টি। যে বিষয়গুলোর উপর মুসলিমদের অবশ্যই মনেপ্রাণে বিশ্বাস রাখতে হবে, তা ওহীর মাধ্যমে জানানো হয়েছে এই আয়াতে:
'রসূল বিশ্বাস রাখেন ঐ সমস্ত বিষয় সম্পর্কে যা তাঁর পালনকর্তার পক্ষ থেকে তাঁর কাছে অবতীর্ণ হয়েছে এবং মুসলমানরাও সবাই বিশ্বাস রাখে আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাদের প্রতি, তাঁর গ্রন্থসমূহের প্রতি এবং তাঁর পয়গম্বরগণের প্রতি। তারা বলে আমরা তাঁর পয়গম্বরদের মধ্যে কোন তারতম্য করিনা। তারা বলে, আমরা শুনেছি এবং কবুল করেছি। আমরা তোমার ক্ষমা চাই, হে আমাদের পালনকর্তা। তোমারই দিকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে।' (সূরাহ বাকারাহ, ২:২৮৫)
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক বিশ্বাস তাওহিদ; যেমনটি পূর্বেই আমরা উল্লেখ করেছি。[৭] রাজত্ব, নিয়ন্ত্রণ ও কার্যাবলীতে কোনো শরীকানা ছাড়া আল্লাহ একক; গুণে-নামে- বৈশিষ্ট্যে কোনো জুড়ি ছাড়া আল্লাহ একক; উপাস্য হিসেবে ইবাদতের ব্যাপারে প্রতিদ্বন্দ্বী বিহীন আল্লাহ একক— এই বিশ্বাসের নাম তাওহিদ。
আল্লাহ সবকিছুর অধিপতি ও মালিক, তিনিই সকল প্রয়োজন পূরণকারী ও প্রতিপালক। জীবন-মৃত্যু আল্লাহই ঘটান, তিনি সৃষ্টিজগতের সমস্ত কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করেন। সুতরাং যেকোনো ধরনের ইবাদাতের যোগ্য একমাত্র তিনিই; হোক সে ইবাদাত দৈহিক (সালাত, সিয়াম, হজ্ব, কুরবানী) কিংবা অন্তরের (ভয়, ভালোবাসা, ভরসা ইত্যাদি)। এই বিশ্বাসের উপর সুদৃঢ় থাকতে হবে, কোনো সন্দেহ-সংশয় বা পরিবর্তন করা যাবে না। আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেছেন,
'তারাই মুমিন, যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি ঈমান আনার পর সন্দেহ পোষণ করে না এবং আল্লাহর পথে প্রাণ ও ধন-সম্পদ দ্বারা জেহাদ করে। তারাই সত্যনিষ্ঠ।' (সূরাহ হুজুরাত, ৪৯:১৫)
তাওহিদের ব্যাপারে অন্তরে কোনো সন্দেহ থাকার অর্থ ঈমানের অপরিপূর্ণতা।
মানব মনস্তত্ত্বের জন্য আকিদা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। কেননা, আকিদাই আমাদের জীবন পরিচালনার নির্দেশনা দেয়। যে পথে মেলে আত্ম-উপলব্ধি ও আত্মতুষ্টি, সেই সরল পথ আকিদা-ই আমাদেরকে দেখিয়ে দেয়। আকিদার ভিত্তির উপরেই আর সবকিছু দাঁড়িয়। শাইখ উমর আল আশকার মানবজাতির জন্য আকিদার গুরুত্ব আলোচনা করে বলেছেন,
'মানুষের জন্য ইসলামি আকিদার প্রয়োজনীয়তা ঠিক যেন পানি ও বাতাসের মতোই। আকিদা ব্যতীত মানুষ পথহারা ও হতবুদ্ধি হয়ে পড়ে। মানুষ যুগে যুগে যে প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজে হয়রান হয়েছে, সেগুলোর সন্তোষজনক উত্তর প্রদান করেছে একমাত্র ইসলামি আকিদা। এই প্রশ্নগুলো বর্তমান যুগেও মানুষকে হয়রান করে যাচ্ছে; যেমন- আমি কোথা থেকে এসেছি? এই বিশ্ব জগৎ কিভাবে সৃষ্টি হলো? এর স্রষ্টা কে? তাঁর গুণ ও বৈশিষ্ট্য কী? তাঁর নাম কী কী? কেন তিনি আমাদেরকে ও বিশ্বজগতকে সৃষ্টি করলেন? এই মহাবিশ্বে আমাদের ভূমিকা কী? যিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন, তাঁর সাথে আমাদের সম্পর্ক কী?'[৮]
'ঈমান' শব্দটিকে অনেক সময় 'বিশ্বাস' শব্দের মাধ্যমে অনুবাদ করা হয়; (এর সংজ্ঞা হলো) অন্তর, কথা ও কাজের ভিতর দিয়ে আকিদার সুদৃঢ় প্রতিষ্ঠা ও প্রকাশ। ঈমানের গভীর প্রভাব-কে শাইখ আল আশকার ব্যাখ্যা করেছেন এভাবে:
'ঈমান, বিশ্বাস হলো সেই জ্ঞান, যা মানুষের বিবেকের গভীরে অনুরণিত হয়। ফলে অন্তরে সেটা নিয়ে আর কোনো দ্বিধা বা সন্দেহ অনুভূত হয় না বরং ইয়াকিনের প্রশান্তিতে অন্তর ভরে যায় নিশ্চিন্ত নির্ভরতায়। ঈমান মানুষের অনুভূতি ও বিবেক নিয়ে কাজ করে। যে অনুভূতি গড়ে ওঠে হৃদয়ের গভীরে প্রোথিত যুক্তি ও বিবেচনাবোধ থেকে। আর এই বোধটাই খাদ্য ও পানীয়ের মতো মৌলিক রসদ যোগায় আত্মাকে। ফলে এই বোধ মূলত জীবনের অন্যতম একটা মৌলিক চাহিদা। আর ঈমানের কাজ হলো মানুষের এই বোধকে একটি প্রভাবশালী চালিকা শক্তিতে পরিণত করা, যাকে কোনোকিছু রুখতে পারে না। এটাই হচ্ছে দ্বীন ও দর্শনের মধ্যে পার্থক্য। দর্শনশাস্ত্রের উদ্দেশ্য জ্ঞানচর্চা, আর দ্বীনের উদ্দেশ্য ঈমানচর্চা। দর্শনের উদ্দেশ্য যে জ্ঞান, তা নিরস- নিষ্প্রাণ। আর দ্বীনের উদ্দেশ্য একটি প্রাণবন্ত ও কর্মোদ্দীপ্ত আত্মা। [১]
সুতরাং ঈমান আত্মিক শক্তির উৎস। ঈমান একজন ব্যক্তিকে প্রয়োজনীয় শক্তি-সামর্থ্য প্রদান করে, যার মাধ্যমে সে দৈনন্দিন জরুরি দায়-দায়িত্ব পুরা করতে পারে; এবং সমাজ, পরিবার এবং নিজের উন্নয়নের জন্য কাজ করে যেতে পারে। ঈমান না থাকলে, মানুষ জড় রোবটের মত নিষ্প্রাণ নির্জীব হয়ে পড়ে। জীবনের নিয়মে জীবন চলতে থাকে কিন্তু সে জীবনে থাকে না কোনো আবেগ বা সংকল্প। ইসলামি মনোবিজ্ঞান অনুসারে, ঈমান ও আকিদা মানব আত্মার অপরিহার্য চালিকাশক্তি; এটি সমগ্র মানব সত্তার জন্যই অপরিহার্য। ঈমানের ভিত্তি হলো আল্লাহ ও তাঁর একত্ববাদে সুদৃঢ় বিশ্বাস, বিচার দিবসে জবাবদিহিতার প্রতি বিশ্বাস, আখিরাতের জীবনের উপর বিশ্বাস। মানব সত্তার অন্যান্য দিকগুলোর সাথেও ঈমান জড়িত, যেমন ব্যক্তির চিন্তা-চেতনা, আবেগ-অনুভূতি এবং অনুপ্রেরণা। এছাড়াও রয়েছে মানুষের মনস্তাত্ত্বিক সুস্থতা ও কল্যাণ। কুরআন ও সুন্নাহর ভিত্তিতে যে ঈমান গড়ে ওঠে, তা সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় মানুষের সৃষ্টিগত স্বভাব-প্রকৃতির সাথে। ফলে এই ঈমান আত্মাকেও এনে দেয় সুসামঞ্জস্য ও প্রশান্তি।

টিকাঃ
[৭] Philips, A.A.B., 2005, The Fundamentals of Tawheed, Riyadh, Saudi Arabia: International Islamic Publishing House, p. 17.
[৮] al-Ashqar, 2003a, p. 35.
[১] Ibid., p. 74.

📘 সাইকোলজি ইসলামি দৃষ্টিকোণ > 📄 আল্লাহর উপর ঈমান ও ভালোবাসা

📄 আল্লাহর উপর ঈমান ও ভালোবাসা


ঈমানের ভিত্তি হলো তাওহিদ, আর তাওহিদের অন্যতম প্রধান গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো—পার্থিব যেকোনো কিছু ও যেকারো চেয়ে আল্লাহকে বেশি ভালোবাসা। কার্যত এভাবে আল্লাহকে ভালোবাসাই ইসলামের সারনির্যাস। আল্লাহ বলেন,
'আর কোনো লোক এমনও রয়েছে যারা অন্যান্যকে আল্লাহর সমকক্ষ সাব্যস্ত করে এবং তাদের প্রতি তেমনি ভালবাসা পোষণ করে, যেমন আল্লাহর প্রতি ভালবাসা হয়ে থাকে। কিন্তু যারা আল্লাহর প্রতি ঈমানদার তাদের ভালবাসা ওদের তুলনায় বহুগুণ বেশী। আর কতইনা উত্তম হতো যদি এ জালিমরা পার্থিব কোন কোন আযাব প্রত্যক্ষ করেই উপলব্ধি করে নিত যে, যাবতীয় ক্ষমতা শুধুমাত্র আল্লাহরই জন্য এবং আল্লাহর আযাবই সবচেয়ে কঠিনতর।' (সূরাহ বাকারাহ, ২:১৬৫)
কারো অন্তরে আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা যখন পরিপূর্ণ হয় তখনই ঈমান পরিপূর্ণ হয়। আর যখন সে ভালোবাসায় খাদ থাকে তখন আল্লাহর একত্বে বিশ্বাসও হয়ে যায় ত্রুটিপূর্ণ。[১০] ইবনুল কাইয়িম আল জাওযিয়্যাহ বলেছেন,
'অন্তর পরিশুদ্ধ হয় দুইটি জিনিসের মাধ্যমে। প্রথমটি হলো আল্লাহর প্রতি ভালোবাসাকে দুনিয়ার সকল ভালোবাসা থেকে প্রাধান্য দেয়া। অর্থাৎ, আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা এবং অন্য কিছুর প্রতি ভালোবাসা যদি কারো সামনে একসাথে চলে আসে, তবে সে আল্লাহর প্রতি ভালোবাসাকেই প্রাধান্য দেবে এবং তার আমলও সেই ক্রমানুযায়ীই হবে。[১১]
রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, তিনটি গুণ যার মধ্যে থাকে, সে ঈমানের স্বাদ পায়।
১। আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল তার কাছে অন্য সব কিছুর থেকে প্রিয় হওয়া; ২। কাউকে খালিস আল্লাহর জন্যই মুহব্বত করা; ৩। কুফরিতেতে ফিরে যাওয়াকে আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়ার মতো অপছন্দ করা। (বুখারি ও মুসলিম)।
এই হাদিস অনুসারে, যার কাছে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল অন্যান্য সকল প্রিয়বস্তু ও প্রিয় মানুষ থেকে প্রিয়তর হবে, সে ঈমানের মিষ্ট স্বাদ অনুভব করবে ও ইবাদাতে আনন্দ অনুভব করবে।

টিকাঃ
[১০] al-Fozan, S., 1997, Concise Commentary on 'The Book of Tawheed', Riyadh, Saudi Arabia: Darussalam Publishers and Distributors, p. 249.
[১১] al-Jawziyyah, I.Q., 2000, The Invocation of God (Al-Wabil al-Sayyib min al-Kalim al-Tayyib), Cambridge, UK: Islamic Texts Society, pp. 5-6.

📘 সাইকোলজি ইসলামি দৃষ্টিকোণ > 📄 আখিরাতের প্রতি ঈমান

📄 আখিরাতের প্রতি ঈমান


আখিরাত গায়েব বা অদৃশ্য জগতের বিষয়। এ সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান সীমিত। পরকালীন জগতের আনন্দ ও শান্তি সম্পর্কে কিছুটা ধারণা দেয়ার জন্য আল্লাহ তাআলা কুরআনে আখিরাত সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। সেগুলো পরিপূর্ণভাবে অনুধাবন করা আমাদের সাধ্যাতীত। কিন্তু আমরা যেন কিছুটা হলেও মেলাতে পারি, সেই উদ্দেশ্যে সদৃশ বিভিন্ন উপমা দিয়ে বোঝানো হয়েছে।
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "আল্লাহ তায়ালা বলেন, 'আমি আমার পুণ্যবান বান্দাদের জন্য এমন সব বস্তু তৈরি করে রেখেছি, যা কোনো চোখ কখনো দেখেনি, কোনো কান তার বর্ণনা কখনো শুনেনি। আর কোনো মানুষ কোনো দিন তার ধারণা বা কল্পনাও করতে সক্ষম নয়। এ কথার সমর্থনে তোমরা এ আয়াত পাঠ করতে পার, "কেউ জানে না তার জন্যে কৃতকর্মের কী কী নয়ন-প্রীতিকর প্রতিদান লুক্কায়িত আছে।” (সূরাহ আস সাজদাহ ৩২:১৭)' (বুখারি ও মুসলিম)
সমগ্র কুরআনে বারবার জান্নাত ও জাহান্নামের আলোচনার উদ্দেশ্য অনিবার্য গন্তব্যটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়া। সেই দুই গন্তব্যের একটিতে অবশ্যই আমাদেরকে পৌঁছানো হবে। উভয় বিষয়ের আলোচনা কুরআনে এসেছে সমসংখ্যক বার। এর দ্বারা, দুটোর যেকোনো একটা স্থানে পৌঁছানোর সম্ভাবনা যে সমান সমান, সেই সতর্কবাণীই যেন ফুটে উঠেছে। এসব স্মরণিকার মাধ্যমে ব্যক্তির অন্তর ও আচরণে প্রভাব পড়ে। তাকে উত্তম আমল ও কল্যাণের পথে পরিচালিত করে, কেননা প্রত্যেকেই পুরস্কারের আশা রাখে ও শান্তি থেকে বাঁচতে চায়। [১১২]

টিকাঃ
[১৯] al-Fozan, 1997, p. 253.

📘 সাইকোলজি ইসলামি দৃষ্টিকোণ > 📄 ঈমানের হ্রাস-বৃদ্ধি

📄 ঈমানের হ্রাস-বৃদ্ধি


ঈমানের ধারণায় যদিও কিছুটা মতভিন্নতা আছে; আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের অনুসারী আলিমদের মতে: ঈমান ধ্রুবক নয়, বরং এর হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে। আল্লাহর আনুগত্যে ঈমান বাড়ে, অবাধ্যতার মাধ্যমে ঈমান কমে। নিজ নিজ ঈমানের অবস্থার দিকে মনোযোগ প্রদান করা প্রত্যেক মুমিনের কর্তব্য। কখন ঈমানের বৃদ্ধি হচ্ছে বা কমে যাচ্ছে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরী। এবং যথাসম্ভব ঈমানকে উচ্চ পর্যায়ে রাখতে চেষ্টা-সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া উচিত।
কুরআনের অনেক আয়াতের মাধ্যমে জানা যায় যে মুমিনের ঈমান ওঠা-নামা করে, এর হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে। আল্লাহ বলেছেন,
'যারা ঈমানদার, তারা এমন যে, যখন আল্লাহর নাম নেয়া হয় তখন ভীত হয়ে পড়ে তাদের অন্তর। আর যখন তাদের সামনে পাঠ করা হয় কালাম, তখন তাদের ঈমান বেড়ে যায় এবং তারা স্বীয় পরওয়ার দেগারের প্রতি ভরসা পোষণ করে।' (সূরাহ আনফাল, ৮:২)
• অন্যত্র বলেছেন, 'তিনি মুমিনদের অন্তরে প্রশান্তি নাজিল করেন, যাতে তাদের ঈমানের সাথে আরও ঈমান বেড়ে যায়। নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের বাহিনীসমূহ আল্লাহরই এবং আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।' (সূরাহ ফাতাহ, ৪৮:৪)
• অন্যত্র বলেছেন, 'যাদেরকে লোকেরা বলেছে যে, তোমাদের সাথে মোকাবেলা করার জন্য লোকেরা সমাবেশ করেছে বহু সাজ-সরঞ্জাম; তাদের ভয় কর। তখন তাদের বিশ্বাস আরও দৃঢ়তর হয়ে যায় এবং তারা বলে, আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট; কতই না চমৎকার কামিয়াবী দানকারী।' (সূরাহ আলে ইমরান, ৩:১৭৩)
• অন্যত্র বলেছেন, 'আর যখন কোন সূরাহ অবতীর্ণ হয়, তখন তাদের কেউ কেউ বলে, এ সূরাহ তোমাদের মধ্যেকার ঈমান কতটা বৃদ্ধি করলো? অতএব যারা ঈমানদার, এ সূরাহ তাদের ঈমান বৃদ্ধি করেছে এবং তারা আনন্দিত হয়েছে।' (সূরাহ তাওবা, ৯:১২৪)
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, 'প্রত্যেক অন্তরের উপর মেঘের মতো আবরণ রয়েছে; মেঘ উজ্জ্বল চাঁদকেও ঢেকে দিতে সক্ষম। যখন মেঘ ঢেকে দেয় তখন তা সহসা অন্ধকার হয়ে যায়, আর মেঘ কেটে গেলে এর ঔজ্জ্বল্য ফিরে আসে।' (তাবারানি বর্ণিত, আলবানি সনদ নির্ভরযোগ্য বলেছেন)。[১৩]
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সা.) একটি উপমা পেশ করে বলেছেন যে, আমাদের অন্তরের দৃষ্টান্ত চাঁদের মতো, আর চাঁদ যেভাবে মেঘের আচ্ছাদনের কারণে আলো হারিয়ে ফেলে, সেভাবে গুনাহের কারণে অন্তরে আচ্ছাদন পড়ে। ফলে সে অন্ধকার হয়ে যায়। মেঘ যেভাবে সরে যায়, সেভাবে অন্তরে আলো ফিরে আসে। যখন আমরা ঈমান বৃদ্ধিকারী আমলে ব্যস্ত থাকি তখন অন্তরে আলো বৃদ্ধি পায়。[১৪]
আরেক হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সা.) ব্যাখ্যা করে বলেছেন, 'কাপড় যেভাবে পুরনো হয়ে যায় সেভাবে তোমাদের অন্তরে ঈমান পুরনো হয়ে যায়। কাজেই তোমরা আল্লাহর কাছে ঈমান নবায়ন করার প্রার্থনা করো。[১৫] (হাদিস সহিহ; আল হাকিম, আত-তাবারানি ও আল-হাইসামি)。 [১৬]
ঈমান বৃদ্ধি ও নবায়নের অনেক উপায় রয়েছে। ইনশাআল্লাহ এই বইয়ের সামনের দিকে এ বিষয়ে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করব। ঈমান বৃদ্ধির প্রধান উপায়সমূহের মধ্যে রয়েছে ইলম অর্জন করা, নেক আমল বাড়িয়ে দেওয়া, আল্লাহর আনুগত্য করা, তাঁকে স্মরণ করা, কুরআনের আয়াতসমূহের উপর চিন্তা ও মনোযোগ দেয়া, আল্লাহর উত্তম নাম ও গুণবাচক বৈশিষ্ট্যসমূহ সম্পর্কে চিন্তা করা, মৃত্যু ও পরকালের জীবনের স্মরণ করা ইত্যাদি。[১৭]

টিকাঃ
[১৩] al-Munajjid, M. S., 2009, Weakness of Faith, Riyadh: International Islamic Publishing House, p. 47.
[১৪] al-Munajjid, 2009, p. 48.
[*] al-Munajjid, 2009, p. 47.
[১৬] As quoted in al-Munajjid, 2009, p. 47.
[১৭] Yasin, M.N., 1997, Book of Emaan According to the Classical Works of Shaikul-Islam Ibn Taymiyyah, London: Al-Firdous Ltd., pp. 184-186; al- Munajjid, 2009, pp. 19-43.

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00