📘 সাইকোলজি ইসলামি দৃষ্টিকোণ > 📄 মানুষের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ

📄 মানুষের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ


মানুষকে তার সৃষ্টিগত মর্যাদার কারণে আল্লাহ যে সম্মান ও অনুগ্রহ দান করেছেন সেগুলো আলোচিত হয়েছে কুরআনের বিভিন্ন আয়াতে। আত্মশুদ্ধির সহজাত ক্ষমতা তিনি আমাদেরকে দান করেছেন, যেন আমরা এই জীবনের উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে পারি। তিনি আমাদেরকে করুণা করেছেন অসংখ্য নিয়ামত দিয়ে। এবং জগতের সবকিছুকে আমাদের অধীনস্থ করে দিয়ে। যাতে করে আমাদের জীবন সহজ হয় ও 'আত্ম-উপলব্ধি' জাগ্রত হয়। এসব ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য হলো-বান্দা যেন আল্লাহর নিয়ামতের প্রতি কৃতজ্ঞ হয়। তিনি বলেছেন,
'তিনি তোমাদের জন্যে পৃথিবীকে সুগম করেছেন, অতএব, তোমরা তাতে বিচরণ কর এবং তাঁর দেয়া রিজিক আহার কর। তাঁরই কাছে পুনরুজ্জীবন হবে।' (সূরাহ মুলক, ৬৭:১৫)
• অন্যত্র বলেছেন,
'তিনি আল্লাহ যিনি সমুদ্রকে তোমাদের উপকারার্থে আয়ত্বাধীন করে দিয়েছেন, যাতে তাঁর আদেশক্রমে তাতে জাহাজ চলাচল করে এবং যাতে তোমরা তাঁর অনুগ্রহ তালাশ কর ও তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ হও। এবং আয়ত্ত্বাধীন করে দিয়েছেন তোমাদের, যা আছে নভোমন্ডলে ও যা আছে ভূমন্ডলে; তাঁর পক্ষ থেকে। নিশ্চয় এতে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে।' (সূরাহ জাসিয়া, ৪৫:১২-১৩)
• অন্যত্র বলেছেন 'নিশ্চয় আমি আদম সন্তানকে মর্যাদা দান করেছি, আমি তাদেরকে স্থলে ও জলে চলাচলের বাহন দান করেছি; তাদেরকে উত্তম জীবনোপকরণ প্রদান করেছি এবং তাদেরকে অনেক সৃষ্ট বস্তুর উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি।' (সূরাহ ইসরা, ১৭:৭০)
• অন্যত্র বলেছেন 'তিনিই আল্লাহ, যিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল সৃজন করেছেন এবং আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করে অতঃপর তা দ্বারা তোমাদের জন্যে ফলের রিজিক উৎপন্ন করেছেন এবং নৌকাকে তোমাদের আজ্ঞাবহ করেছেন, যাতে তাঁর আদেশে সমুদ্রে চলা ফেরা করে এবং নদ-নদীকে তোমাদের সেবায় নিয়োজিত করেছেন। এবং তোমাদের সেবায় নিয়োজিত করেছেন সূর্যকে এবং চন্দ্রকে সর্বদা এক নিয়মে এবং রাত্রি ও দিবাকে তোমাদের কাজে লাগিয়েছেন। যে সকল বস্তু তোমরা চেয়েছ, তার প্রত্যেকটি থেকেই তিনি তোমাদেরকে দিয়েছেন। যদি আল্লাহর নিয়ামত গণনা কর, তবে গুণে শেষ করতে পারবে না। নিশ্চয় মানুষ অত্যন্ত অন্যায়কারী, অকৃতজ্ঞ।' (সূরাহ ইবরাহিম, ১৪:৩২-৩৪)
এসকল জীবনোপকরণ না থাকলে আমাদের দায়-দায়িত্বসমূহ পালন করা খুবই দুরূহ হতো; কঠিন হয়ে যেত নিজের, সমাজের ও উম্মাহর অবস্থার উন্নয়ন ঘটানো। উদাহরণস্বরুপ যেমন ধরুন, সূর্য থেকে আমরা প্রয়োজনীয় তাপ, উষ্ণতা ও আলো লাভ করি; চন্দ্রসূর্যের মাধ্যমে আমরা রাখতে পারি সময়ের হিসাব, জমিন থেকে উৎপন্ন করতে পারি বৃক্ষলতা, আর সমুদ্রে করতে পারি সফর, ইত্যাদি। এগুলো আমাদের নানাভাবে উপকৃত করে। দুনিয়াতে টিকে থাকার জন্য এসব উপকরণ নিঃসন্দেহে খাদ্য ও পানীয়ের মতো জরুরী। বিশেষ করে খাদ্য-পানীয়ের মতো নিয়ামতগুলো ছাড়া তো দুনিয়াতে আমাদের অস্তিত্বই ছিল অসম্ভব।

📘 সাইকোলজি ইসলামি দৃষ্টিকোণ > 📄 ফিতরাত

📄 ফিতরাত


আল্লাহর অস্তিত্বে বিশ্বাস করাটা মানুষের সহজাত বৈশিষ্ট্য। এই সহজাত বৈশিষ্ট্যকে বলা হয় ফিতরাত। এটি প্রত্যেক মানুষের জন্মগত বৈশিষ্ট্য যার মাধ্যমে সে আল্লাহর অস্তিত্বের বাস্তবতা স্বীকার করে ও আল্লাহর নির্দেশ পালন করে। যিনি আমাদেরকে, চারপাশের এই পৃথিবীটাকে এবং পৃথিবীর ভিতরে যা কিছু আছে সবকিছুকে সৃষ্টি করেছেন, এমন একজন সুমহান সত্তার অস্তিত্বের ব্যাপারে অটল সাক্ষ্য দেবার সহজাত প্রবণতা এই ফিতরাত। এটা একটা উপহার, যা খোদাই করা মানুষের আত্মায় আত্মায়। ফলে যারা আল্লাহর হিদায়াত থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তাদের মাঝেও এই জন্মগত বৈশিষ্ট্যটা রয়েই যায়। সূরাহ রুমে আল্লাহ এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন,
'তুমি একনিষ্ঠভাবে নিজেকে ধর্মের উপর প্রতিষ্ঠিত রাখ। এটাই আল্লাহর প্রকৃতি (ফিতরাত), যার উপর তিনি মানব মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহর সৃষ্টির কোনো পরিবর্তন নেই। এটাই সরল ধর্ম। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ জানে না।' (সূরাহ রুম, ৩০:৩০)
ফিতরাতের অপরিহার্য অনুষঙ্গ হলো তাওহিদ তথা আল্লাহর একত্ববাদের উপর ঈমান, তাঁর সঙ্গে কাউকে অংশীদার বা সমকক্ষ সাব্যস্ত না করা। এর মাধ্যমে একজন ব্যক্তি আল্লাহর আনুগত্যে নিজেকে পরিপূর্ণভাবে সঁপে দেয় এবং ক্রমাগত তাঁর নৈকট্য অর্জনের প্রচেষ্টা চালাতে থাকে। যারা আল্লাহকে বিশ্বাস করে এবং একমাত্র তাঁর ইবাদাত করে, তারা নিজেদের সহজাত মানবসত্তাটির সাথে সঙ্গতি স্থাপন করে, সহজাত বৈশিষ্ট্যের অনুকূল আচরণ করে। আর যারা আল্লাহর উপর ঈমান আনেনা, অন্যান্য দেবদেবীর উপাসনা করে, তারা নিজেদের সহজাত মানব প্রকৃতির বিরুদ্ধাচরণ করে। ইসলামকে ফিতরাতের ধর্ম বলা হয়, কারণ এই ধর্ম মানবজাতিকে আল্লাহর প্রতি সত্যিকার বিশ্বাসী করে তোলে এবং মানবসত্তার বিকাশের ক্ষমতাকে সম্পন্ন করে। সমস্ত নবি-রাসূলগণ এসেছিলেন মানুষকে (ফিতরাতের) এই গুরুত্বপূর্ণ বার্তা স্মরণ করিয়ে দিতে এবং শরিয়াহ শিক্ষা দিতে। শরিয়াহ হলো আল্লাহর আনুগত্যে জীবন কাটানোর সবিস্তার দিকনির্দেশনা। নবি-রাসূলগণ নিজেরা এই দিকনির্দেশনা মেনে মানবজাতির সামনে নিজেদেরকে অনুকরণীয় নমুনা হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। এই নমুনা উপস্থাপন করাটা নিঃসন্দেহে আল্লাহর আরেক বড় নিয়ামত।
ফিতরাত হতে বিচ্যুতি: বিভিন্ন বাহ্যিক প্রভাবে মানুষ সহজাত ধর্ম (ফিতরাত) থেকে বিচ্যুত হয়ে যেতে পারে। যেমন- পিতামাতার প্রভাব, সমাজের প্রভাব ইত্যাদি।
ফিতরাতের উপর পিতামাতার প্রভাব: রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন, 'প্রতিটি নবজাতকই জন্মলাভ করে ফিতরাতের উপর। এরপর তা মা-বাপ তাকে ইহুদি বা খ্রিস্টান বা অগ্নিপূজারী রূপে গড়ে তোলে। যেমন, চতুষ্পদ পশু যখন একটি (পূর্ণাংগ) বাচ্চা জন্ম দেয় তখন কি তোমরা তার কানকাটা দেখতে পাও? এরপর আবু হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু তিলাওয়াত করলেন- 'আল্লাহর দেওয়া ফিতরাতের অনুসরণ কর, যে ফিতরাতের উপর তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন, এটাই সরল সুদৃঢ় দ্বীন' (সূরাহ রূম: ৩০)। (বুখারি, মুসলিম)
পরিবেশের প্রভাব: এটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাসূলুল্লাহ (সা) হাদিসে জানিয়েছেন যে পরিবেশের প্রভাব একজন ব্যক্তিকে সরল পথ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্যুত করতে পারে, এমনকি পথভ্রষ্ট বিশ্বাস ও আচার অনুষ্ঠানের অনুসারী বানাতে পারে।
শয়তানের প্রভাব: শয়তানও মানুষকে সহজাত বৈশিষ্ট্য থেকে বিচ্যুত করতে পারে। রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন,
'সাবধান, আমার প্রতিপালক আজ আমাকে যা কিছু শিক্ষা দিয়েছেন, তা থেকে তোমাদেরকে এমন বিষয়ের শিক্ষা দেয়ার জন্য তিনি আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন, যা সম্পর্কে তোমরা সম্পূর্ণরুপে অজ্ঞ। তা হলো এই যে, (আল্লাহ বলেন), 'আমি আমার বান্দাদেরকে যে ধন-সম্পদ দেব তা পরিপূর্ণরুপে হালাল। আমি আমার সমস্ত বান্দাদেরকে একনিষ্ঠ (মুসলিম) হিসাবে সৃষ্টি করেছি। অতঃপর তাদের নিকট শয়তান এসে তাদেরকে দ্বীন হতে বিচ্যুত করে দেয়। আমি যে সমস্ত জিনিস তাদের জন্য হালাল করেছিলাম সে তা হারাম করে দেয়। অধিকন্তু সে তাদেরকে আমার সাথে এমন বিষয়ে শিরক করার জন্য নির্দেশ দিল, যে বিষয়ে আমি কোনো সনদ পাঠাইনি।' (মুসলিম)

📘 সাইকোলজি ইসলামি দৃষ্টিকোণ > 📄 ফিতরাতের প্রমাণ

📄 ফিতরাতের প্রমাণ


পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষ কোনো না কোনোভাবে আল্লাহ বা 'গড' এর উপর ঈমানের দাবী করে (যদিও গত শতাব্দীতে আবিষ্কৃত নাস্তিকতার ধারণাটি দিন দিন জনপ্রিয়তা লাভ করছে)। অধিকাংশ ধর্মেই একটি 'ঊর্ধ্বতন সত্তা'র ধারণা রয়েছে বা 'গড' সম্পর্কে ধারণা প্রদান করা হয়েছে। এ বিষয়ে আলোচনা করে আল্লাহ কুরআনে বলেছেন, 'যদি আপনি তাদেরকে জিজ্ঞাসা করেন, কে তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন, তবে অবশ্যই তারা বলবে, আল্লাহ, অতঃপর তারা কোথায় ফিরে যাচ্ছে?' (সূরাহ যুখরুফ, ৪৩:৮৭)
আল্লাহ আরও বলেন,
'যদি আপনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন, আসমান ও জমিন কে সৃষ্টি করেছে? তারা অবশ্যই বলবে-আল্লাহ। বলুন, তোমরা ভেবে দেখেছ কি, যদি আল্লাহ আমার অনিষ্ট করার ইচ্ছা করেন, তবে তোমরা আল্লাহ ব্যতীত যাদেরকে ডাক, তারা কি সে অনিষ্ট দূর করতে পারবে? অথবা তিনি আমার প্রতি রহমত করার ইচ্ছা করলে তারা কি সে রহমত রোধ করতে পারবে? বলুন, আমার পক্ষে আল্লাহই যথেষ্ট। নির্ভরকারীরা তাঁরই উপর নির্ভর করে।' (সূরাহ যুমার, ৩৯:৩৮)
Gallup International কর্তৃক ৬০টি দেশে পরিচালিত (millennium worldwide survey) (মানে হলো, সহস্রাব্দে একবার হয় এমন যুগান্তকারী দুনিয়াজোড়া ব্যাপক কোনো জরিপকে এই নামে ডাকা হয়) এক জরিপে দেখা গেছে, দুই-তৃতীয়াংশ অংশগ্রহণকারী মতামত দিয়েছেন যে 'গড' তাদের ব্যক্তিগত জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ৮৭% অংশগ্রহণকারী নিজেদেরকে কোনো না কোনো ধর্মের অনুসারী বলে স্বীকার করেছেন। দারুণ ব্যাপার হলো, পশ্চিম আফ্রিকায়, যেখানে সংখ্যাগুরু মুসলিমরা নিজ ধর্মচর্চায় বেশ এগিয়ে, সেখানে পরিচালিত জরিপে দেখা গেছে ৯৭% বলেছেন তাদের জীবনে আল্লাহর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। লক্ষনীয় বিষয় পশ্চিম আফ্রিকার অধিকাংশ মানুষ মুসলিম এবং তারা ইসলাম অনুশীলন করেন, পশ্চিম আফ্রিকার সেখানকার ৯৯% ব্যক্তিই স্বীকার করেছেন জানিয়েছেন যে, তারা কোনো না কোনো ধর্ম অনুসরণ করেন। এই পরিসংখ্যান হতে আরও দেখা গেছে নারীরা পুরুষদের তুলনায় অধিক ধর্মানুরাগী (৬৯% থেকে ৫৭%)। যুবক (৬৩% থেকে ৫৯%) এবং মধ্য বয়স্কদের (৫৬%) তুলনায় বৃদ্ধ ব্যক্তিরা অধিক ধর্মানুরাগী। [৩]
Gallup Poll (২০০৭-২০০৮) কর্তৃক পরিচালিত আরেকটি স্টাডিতে নির্ণয় করার চেষ্টা করা হয়েছিল পৃথিবীর কোনো দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ধর্মপরায়ণ কিংবা সর্বনিম্ন ধর্মপরায়ণ। ১১টি শীর্ষ ধর্মপরায়ণ দেশের মধ্যে ৮টি দেশ ছিল মুসলিম সংখ্যাপ্রধান (মিশর, বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, সিয়েরালিওন, সেনেগাল, জিবুতি, মরক্কো এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত)। অপরদিকে সবচেয়ে কম ধর্মপরায়ণ দেশগুলোর মধ্যে কেবলমাত্র একটি মুসলিমপ্রধান দেশ (আজারবাইজান) স্থান পেয়েছে। (উল্লেখ্য, আজারবাইজান শিয়া সংখ্যাগুরু দেশ)। [৪]
Pew forum কর্তৃক পরিচালিত 'Religion and public life' শীর্ষক আরেকটি জরিপ পরিচালিত হয়েছিল ৩৬,০০০ প্রাপ্তবয়স্ক আমেরিকানের উপর। এটি ছিল একটি জাতীয় জরিপ এবং আমেরিকানদের ধর্মবিশ্বাসের উপর এ যাবত অন্যতম বৃহৎ জরিপ; সেখানে দেখা গেছে ৮৭% ব্যক্তি 'গড' বা 'ইউনিভার্সাল স্পিরিট' এ বিশ্বাস রাখেন, যাদের মধ্যে ৭১% সুনিশ্চিতভাবে বিশ্বাস করেন, ১৭% মোটামুটি নিশ্চিতভাবে বিশ্বাস করেন। ৮২% বলেছেন যে ধর্ম তাদের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ, যার মধ্যে ৫৬% অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ২৬% মোটামুটি গুরুত্বপূর্ণ বলেছেন। যারা নিজেদেরকে নাস্তিক হিসেবে শনাক্ত করেছেন তাদের ২১% 'গড' বা 'ইউনিভার্সাল স্পিরিট' এ বিশ্বাসের কথা স্বীকার করেছেন এবং যারা নিজেদেরকে এগনোস্টিক (সংশয়বাদী) বলেছেন তাদের মধ্যেও অর্ধেকের বেশি জানিয়েছেন অনুরুপ মতামতই।[৫]
ফিতরাতের বাস্তবতার আরেকটি প্রমাণ হলো, যখন মানুষ বিভিন্ন উত্থানপতনের কারণে দুর্দশাগ্রস্থ হয় এবং কষ্টভোগ করে, তখন সহজাতভাবেই আল্লাহর কাছে চায়। এ বিষয়টি কুরআনের অনেক আয়াতে উল্লেখিত হয়েছে। এছাড়া, প্রত্যেকে নিজের জীবনের অসংখ্য অভিজ্ঞতা থেকেও এই বিষয়টি নিশ্চিত হতে পারে। আল্লাহ বলেছেন, 'মানুষকে যখন দুঃখ-কষ্ট স্পর্শ করে, তখন সে আমাকে ডাকতে শুরু করে, এরপর আমি যখন তাকে আমার পক্ষ থেকে নিয়ামত দান করি, তখন সে বলে, এটা তো আমি পূর্বের জানা মতেই প্রাপ্ত হয়েছি। অথচ এটা এক পরীক্ষা, কিন্তু তাদের অধিকাংশই বোঝে না।' (সূরাহ যুমার, ৩৯:৪৯)
• অন্যত্র বলেছেন, ‘যখন মানুষকে দুঃখ-কষ্ট স্পর্শ করে, তখন সে একাগ্রচিত্তে তার পালনকর্তাকে ডাকে, অতঃপর তিনি যখন তাকে নিয়ামত দান করেন, তখন সে কষ্টের কথা বিস্মৃত হয়ে যায়, যার জন্যে পূর্বে ডেকেছিল এবং আল্লাহর সমকক্ষ স্থির করে; যাতে করে অপরকে আল্লাহর পথ থেকে বিভ্রান্ত করে। বলুন, তুমি তোমার কুফর সহকারে কিছুকাল জীবনোপভোগ করে নাও। নিশ্চয় তুমি জাহান্নামীদের অন্তর্ভূক্ত।’ (সূরাহ যুমার, ৩৯:৮)
• অন্যত্র বলেছেন, ‘আমি যখন মানুষের প্রতি অনুগ্রহ করি তখন সে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং পার্শ্ব পরিবর্তন করে। আর যখন তাকে অনিষ্ট স্পর্শ করে, তখন সুদীর্ঘ দোয়া করতে থাকে।’ (সূরাহ ফুসসিলাত, ৪১:৫১)
• অন্যত্র বলেছেন, ‘আর যখন মানুষ কষ্টের সম্মুখীন হয়, শুয়ে বসে, দাঁড়িয়ে আমাকে ডাকতে থাকে। তারপর আমি যখন তা থেকে মুক্ত করে দেই, সে কষ্ট যখন চলে যায় তখন মনে হয় কখনো কোন কষ্টেরই সম্মুখীন হয়ে যেন আমাকে ডাকেইনি। এমনিভাবে মনঃপুত হয়েছে নির্ভয় লোকদের যা তারা করেছে।’ (সূরাহ ইউনুস, ১০:১২)
• অন্যত্র বলেছেন, ‘তিনিই তোমাদের ভ্রমন করান স্থলে ও সাগরে। এমনকি যখন তোমরা নৌকাসমূহে আরোহণ করলে আর তা লোকজনকে অনুকূল হাওয়ায় বয়ে নিয়ে চলল এবং তাতে তারা আনন্দিত হল, নৌকাগুলোর উপর এল তীব্র বাতাস, আর সর্বদিক থেকে সেগুলোর উপর ঢেউ আসতে লাগল এবং তারা জানতে পারল যে, তারা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে, তখন ডাকতে লাগল আল্লাহকে তাঁর ইবাদাতে নিঃস্বার্থ হয়ে যদি তুমি আমাদেরকে এ বিপদ থেকে উদ্ধার করে তোল, তাহলে নিঃসন্দেহে আমরা কৃতজ্ঞ থাকব। তারপর যখন তাদেরকে আল্লাহ বাঁচিয়ে দিলেন, তখনই তারা পৃথিবীতে অনাচার করতে লাগল অন্যায় ভাবে। হে মানুষ! শোন, তোমাদের অনাচার তোমাদেরই উপর পড়বে। পার্থিব জীবনের সুফল ভোগ করে নাও-অতঃপর আমার নিকট প্রত্যাবর্তন করতে হবে। তখন আমি বাতলে দেব, যা কিছু তোমরা করতে।’ (সূরাহ ইউনুস, ১০:২২-২৩)
দুঃখ-দুর্দশায় আক্রান্ত হওয়ার পেছনে বিভিন্ন হিকমত রয়েছে। মানুষের জীবনে নানা পরিস্থিতির কারণে বিশুদ্ধ ফিতরাতের উপর প্রলেপ জমতে থাকে। কষ্ট-মুসিবতের দ্বারা দূরীভূত হয়ে যায় এই জমে থাকা কুফর ও বিভ্রান্তির আবরণ। কখনও কখনো এসবের অনেক গভীরে তলিয়ে যায় ফিতরাত। অথচ এই মানুষটিও যখন বিপদে পড়ে, তখন এমন এক সত্তার কাছে আকুতি জানায়, যার সম্পর্কে সে মনেপ্রাণে জানে যে এই কঠিন বিপদে একমাত্র তিনিই সাহায্য প্রদান করতে সক্ষম! বিপদে পড়লে সাহায্য কামনা মানুষের একটি স্বয়ংক্রিয় সহজাত বৈশিষ্ট্য। যদি আমরা কোনো বাস্তব ভিডিওচিত্রে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে পতিত মানুষের অবস্থা দেখি, তাহলে সেখানেও দেখা যায় অধিকাংশ বিপদগ্রস্ত ব্যক্তি (যদিও বা তারা অমুসলিম) 'গড' এর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করছে কোনো না কোনোভাবে!
আত্মায় আত্মায় খোদিত তাওহিদের চুক্তিনামা সৃষ্টির প্রাক্কালে, প্রত্যেক রূহ আল্লাহকে রব মেনে সাক্ষ্য দিয়েছিল এবং কেবল আল্লাহর আনুগত্য ও ইবাদাত করার অঙ্গীকার করেছিল। এই প্রতিশ্রুতি গ্রহণের মূল উদ্দেশ্য হলো, যেন বিচার দিবসে মানুষ কোনো অজুহাত পেশ করতে না পারে। যারা দুনিয়াতে ঈমান আনতে অস্বীকার করবে এবং সত্যের পথ থেকে বিমুখ থাকবে, এই স্বীকারোক্তি তাদের বিরুদ্ধে একটি দলীল। আল্লাহ বলেন,
'আর যখন তোমার পালনকর্তা বনি আদমের পৃষ্টদেশ থেকে বের করলেন তাদের সন্তানদেরকে এবং নিজের উপর তাদেরকে প্রতিজ্ঞা করালেন, আমি কি তোমাদের পালনকর্তা নই? তারা বলল, অবশ্যই, আমরা অঙ্গীকার করছি। আবার না কিয়ামতের দিন বলতে শুরু কর যে, এ বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না।' (সূরাহ আরাফ, ৭:১৭২)
অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা জানিয়েছেন যারা সেই অঙ্গীকার রক্ষা করবে তিনি তাদেরকে জান্নাতের মাধ্যমে পুরস্কৃত করবেন,
'জান্নাতকে উপস্থিত করা হবে খোদাভীরুদের অদূরে। তোমাদের প্রত্যেক অনুরাগী ও স্মরণকারীকে এরই প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল। যে না দেখে দয়াময় আল্লাহ তাআলাকে ভয় করত এবং বিনীত অন্তরে উপস্থিত হতো।' (সূরাহ কাফ, ৫০:৩১-৩৩)
আল্লাহর সাথে আমাদের ওয়াদা ও ফিতরাতের পারস্পরিক সম্পর্ক হতে সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, আল্লাহর উপর ঈমান আনয়ন, তাঁর পরিচয় লাভ ও ইবাদাত বন্দেগী করা মানব আত্মার সহজাত বৈশিষ্ট্য। সকল মানুষ বিশুদ্ধ ফিতরাত সহকারে জন্মগ্রহণ করে। আল্লাহর উপর ঈমান আনয়ন করা, তাকে ভক্তি শ্রদ্ধা করা, উত্তম আমল করা এবং মহাবিশ্বে আমাদের অনন্য দায়িত্বসমূহ অনুধাবন করার যোগ্যতা সকলেই সহজাতভাবে লালন করে। যদি কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ না করে সহজাতভাবে ফিতরাতের বিকাশ ঘটানো হয়, তবে মানবাত্মা স্বাভাবিকভাবেই ঝুঁকে যাবে আল্লাহর দিকে এবং পালন করবে তাঁর আদেশ। ফিতরাতের উপর গড়ে ওঠা আল্লাহ সম্পর্কে এই জ্ঞান ও সংযোগ আমাদেরকে দেয় সত্য-মিথ্যা, ভালো-মন্দের প্রকৃত বুঝ, পুরোটা জীবন ধরে।

টিকাঃ
[৩] Gallup International Association, 2000, Religion in the World at the End of the Millennium, retrieved May 6, 2009 from http://www.gallup-international.com/ContentFiles/millenniuml5.asp.
[৪] Crabtree, S. and Pelham, B., (2007-2008), What Alabamians and Iranians have in common, retrieved May 5, 2010 from www.gallup.com/poll/ 1 142 1 1/alabamians-iranians-common.aspx.
[৫] Pew Forum on Religion and Public Life, 2007, U. S. Religious Landscape Survey, http://religions.pewforum.org/sid=ST2008062300818, accessed 06/05/09.

📘 সাইকোলজি ইসলামি দৃষ্টিকোণ > 📄 জীবনের উদ্দেশ্য : আল্লাহর ইবাদাত করা

📄 জীবনের উদ্দেশ্য : আল্লাহর ইবাদাত করা


একটি পরিপূর্ণ জীবন বিধান হিসেবে ইসলামে সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করা হয়েছে মানবজীবনের উদ্দেশ্য ও অর্থ। আল্লাহ প্রশ্ন করেছেন,
'তোমরা কি ধারণা কর যে, আমি তোমাদেরকে অনর্থক সৃষ্টি করেছি এবং তোমরা আমার কাছে ফিরে আসবে না?' (সূরাহ মুমিনুন, ২৩:১১৫)
শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মানুষ জীবনের উদ্দেশ্য খুঁজে হয়রান হয়েছে। অথচ ইসলামে বিষয়টির আলোকপাত একদম সুস্পষ্ট ও সরল। জীবনের উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর ইবাদাত করা, আর কিচ্ছু না। এ বিষয়ে আল্লাহ তায়ালা কুরআনে বহু আয়াত উল্লেখ করেছেন:
'বলুন, আমি নিষ্ঠার সাথে আল্লাহর ইবাদাত করতে আদিষ্ট হয়েছি।' (সূরাহ যুমার, ৩৯:১১)
• অন্যত্র বলেছেন, 'আমার ইবাদাত করার জন্যই আমি মানব ও জিন জাতি সৃষ্টি করেছি।' (সূরাহ যারিয়াত, ৫১:৫৬)
'হে মানব সমাজ! তোমরা তোমাদের পালনকর্তা ইবাদাত কর, যিনি তোমাদিগকে এবং তোমাদের পূর্ববর্তীদিগকে সৃষ্টি করেছেন। তাতে আশা করা যায়, তোমরা পরহেযগারী অর্জন করতে পারবে।' (সূরাহ বাকারাহ, ২:২১)
• অন্যত্র বলেছেন, 'আর ইবাদাত কর আল্লাহর, শরীক করো না তাঁর সাথে অপর কাউকে। পিতা-মাতার সাথে সৎ ও সদয় ব্যবহার কর এবং নিকটাত্মীয়, এতীম-মিসকীন, প্রতিবেশী, অসহায় মুসাফির এবং নিজের দাস-দাসীর প্রতিও। নিশ্চয়ই আল্লাহ পছন্দ করেন না দাম্ভিক-গর্বিতজনকে।' (সূরাহ নিসা, ৪:৩৬)
• অন্যত্র বলেছেন, 'আমি প্রত্যেক উম্মতের মধ্যেই রাসূল প্রেরণ করেছি এই মর্মে যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদাত কর এবং তাগুত থেকে নিরাপদ থাক। অতঃপর তাদের মধ্যে কিছু সংখ্যককে আল্লাহ হিদায়াত করেছেন এবং কিছু সংখ্যকের জন্যে বিপথগামিতা অবধারিত হয়ে গেল। সুতরাং তোমরা পৃথিবীতে ভ্রমণ কর এবং দেখ মিথ্যারোপকারীদের কিরূপ পরিণতি হয়েছে।' (সূরাহ নাহল, ১৬: ৩৬)
আল্লাহর ইবাদাত করাই আমাদের জীবন ও সৃষ্টির উদ্দেশ্য। আর বৈধ ইবাদাতসমূহের মধ্যে রয়েছে ঈমান, অন্তরের আমল, কথা, দৈহিক ও আর্থিক আমল ইত্যাদি। ঈমানের মাধ্যমে অন্যান্য সকল ইবাদাতের ভিত্তি স্থাপিত হয়, আর ঈমানকে অবশ্যই তাওহিদের উপর কেন্দ্রীভূত থাকতে হবে। তাওহিদের সহজ অর্থ এককভাবে আল্লাহকে রব হিসেবে গ্রহণ করা। অন্তরের আমলসমূহের মধ্যে রয়েছে ভালোবাসা, ভয়, আশা, ভরসা, আত্মসমর্পণ এবং তওবা। এগুলো একমাত্র আল্লাহর দিকে পরিচালিত হতে হবে। কথার মধ্যে রয়েছে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করা, সাহায্য কামনা করা, তাঁর কাছে দুআ করা, প্রশংসা ঘোষণা করা, কুরআন তিলাওয়াত করা ইত্যাদি। দৈহিক আমলের মধ্যে রয়েছে সালাত, সিয়াম, হজ্ব ইত্যাদি। অর্থনৈতিক আমলের মধ্যে রয়েছে যাকাত ও অন্যান্য দান সাদাকাহ।[৬]
ইবাদাতের মাধ্যমে আমরা সম্পর্ক ও সংযোগ বজায় রাখি আমাদের স্রষ্টার সাথে, যাঁর কাছে ফিরে যেতে হবে আমাদের। কেবলমাত্র ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের মধ্যেই ইবাদাত সীমাবদ্ধ বলে ইসলাম আমাদেরকে জানায় না। বরং আন্তরিকভাবে (ইখলাসের সাথে) আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য শরিয়াহ অনুসারে যা কিছু করা হয় তার সবকিছুই ইবাদাতের অন্তর্ভুক্ত। যেমন- নিষিদ্ধ বিষয়াদি পরিত্যাগ করা, অন্যের সাথে সদাচারণ, সৎকাজে অংশগ্রহণ, মন্দকাজে বাধা প্রদান ইত্যাদি সবকিছু ইবাদাতের অন্তর্ভুক্ত এবং এসবগুলোর সাথেই রয়েছে পুরস্কারের ওয়াদা। আল্লাহ আমাদেরকে স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি দিয়ে দিয়েছেন। এই ইচ্ছাশক্তি কাজে লাগিয়ে আমরা তাঁর ইবাদাত করতেও পারি অথবা চাইলে বিমুখও থাকতে পারি। আমাদের সিদ্ধান্তই ঠিক করে দেবে আমাদের সম্মান কিংবা অপমান।
আন্তরিক ইবাদাতের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান তিনটি। যদি এর কোনো একটিও অনুপস্থিত থাকে, তাহলে ইবাদাত বাতিল হয়ে যাবে। সেগুলো হলো:
১। নিয়তের বিশুদ্ধতা: যদি একমাত্র আল্লাহর জন্য বিশুদ্ধ নিয়ত না থাকে তাহলে নেক আমলগুলো কবুল হবে না। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, 'সমস্ত কাজের ফলাফল নির্ভর করে নিয়তের উপর, আর প্রত্যেক ব্যক্তি যা নিয়ত করেছে, তাই পাবে...।' (নিয়ত সম্পর্কে সামনে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে।)
২। ইখলাস তথা আন্তরিকতা: আল্লাহর আদেশকৃত বিষয় পালন ও নিষেধকৃত বিষয় থেকে বেঁচে থাকতে দৃঢ় সংকল্পের সাথে সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া।
৩। রাসূলুল্লাহ (সা.) এর সুন্নতের অনুসরণ করা: আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূলের মাধ্যমে যা কিছু নির্দেশ করেছেন সেগুলো অনুসরণের মাধ্যমে আল্লাহর ইবাদাত করা। ভক্তি-শ্রদ্ধার বিষয় অনুসন্ধান করা মানুষের সহজাত বৈশিষ্ট্য। যদি কোনো মানুষ একমাত্র ইবাদাত পাবার অধিকার আল্লাহকে প্রদান না করে তবে সে অবশ্যই অন্য কিছুর ইবাদাত শুরু করবে; হোক সেটা কোনো মূর্তি অথবা তার মতই আরেকজন মানুষ কিংবা কোনো দার্শনিক চিন্তাধারা, অর্থ-সম্পদ, বা এরকমই কোনো বস্তু বা আইডল। এটি শিরক অর্থাৎ আল্লাহর একক অধিকারে অংশীদার সাব্যস্ত করা। তাওহিদের বিপরীত হলো শিরক, যা সমস্ত গুনাহের মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক। যে এই গুনাহ থেকে তওবা করবে না সে চিরস্থায়ীভাবে জাহান্নামী হবে।
'আল্লাহ বলেন, 'তারা কাফির, যারা বলে যে, মরিময়-তনয় মসীহ-ই আল্লাহ; অথচ মসীহ বলেন, হে বনি-ইসরাইল, তোমরা আল্লাহর ইবাদাত কর, যিনি আমার পালন কর্তা এবং তোমাদেরও পালনকর্তা। নিশ্চয় যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে অংশীদার স্থির করে, আল্লাহ তার জন্যে জান্নাত হারাম করে দেন। এবং তার বাসস্থান হয় জাহান্নাম। অত্যাচারীদের কোনো সাহায্যকারী নেই।' (সূরাহ মায়িদা, ৫:৭২)
• অন্যত্র বলেছেন, 'নিঃসন্দেহে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেন না, যে লোক তাঁর সাথে শরীক করে। তিনি ক্ষমা করেন এর নিম্ন পর্যায়ের পাপ, যার জন্য তিনি ইচ্ছা করেন। আর যে লোক অংশীদার সাব্যস্ত করল আল্লাহর সাথে, সে যেন অপবাদ আরোপ করল।' (সূরাহ নিসা, ৪:৪৮)
আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি নবি (সা.) কে জিজ্ঞাসা করলাম, 'কোনো গুনাহ আল্লাহর কাছে সর্বাপেক্ষা বড়?' তিনি বললেন, 'আল্লাহর সাথে সমকক্ষ স্থাপন করা অথচ তিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন।” (বুখারি ও মুসলিম)
শয়তান সদা নিয়োজিত মানুষকে শিরকের পথে পরিচালিত করার কাজে। এ ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে বলেছেন, “যারা আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করে, কিয়ামতের দিন আপনি তাদের মুখ কাল দেখবেন। অহংকারীদের আবাসস্থল জাহান্নামে নয় কি? আর যারা শিরক থেকে বেঁচে থাকত, আল্লাহ তাদেরকে সাফল্যের সাথে মুক্তি দেবেন, তাদেরকে অনিষ্ট স্পর্শ করবে না এবং তারা চিন্তিতও হবে না।” (সূরাহ যুমার, ৩৯:৬০-৬১)
শয়তান জানে শিরক মানুষকে জাহান্নামী করে দেবে। ফলে তার প্রধান কৌশল মানুষকে প্রলুব্ধ করে শিরকের ফাঁদে আটকে ফেলা এবং অন্য কোনো বস্তু বা বিষয়কে আল্লাহর সাথে সমকক্ষ ও সুপারিশকারী (ভায়া, মাধ্যম) বানিয়ে নিতে প্ররোচিত করা।
'আর উপাসনা করে আল্লাহকে বাদ দিয়ে এমন বস্তুর, যা না তাদের কোন ক্ষতিসাধন করতে পারে, না লাভ এবং বলে, এরা তো আল্লাহর কাছে আমাদের সুপারিশকারী। তুমি বল, তোমরা কি আল্লাহকে এমন বিষয়ে অবহিত করছ, যে সম্পর্কে তিনি অবহিত নন আসমান ও জমিনের মাঝে? তিনি পুতঃপবিত্র ও মহান সে সমস্ত থেকে যাকে তোমরা শরীক করছ।' (সূরাহ ইউনুস, ১০:১৮)
দুনিয়ার জীবন আমাদের জন্য একটি পরীক্ষা। পরীক্ষাটা এটা নির্ণয়ের জন্য যে, কারা আল্লাহর দাসত্বে নিজেকে সঁপে দিয়ে আনুগত্য করে; আর কারা শয়তানের অনুসারী হয়ে অবাধ্যতা ও অহংকার প্রদর্শন করে। এ পরীক্ষার ফলাফল জানিয়ে দেয়া হবে বিচার দিবসে, যেদিন মুমিন ও কাফিরকে পাঠিয়ে দেয়া হবে নিজ নিজ চিরস্থায়ী ঠিকানায়। আল্লাহ বলেছেন, 'যিনি সৃষ্টি করেছেন মরণ ও জীবন, যাতে তোমাদেরকে পরীক্ষা করেন-কে তোমাদের মধ্যে কর্মে শ্রেষ্ঠ? তিনি পরাক্রমশালী, ক্ষমাময়।' (সূরাহ মুলক, ৬৭:২)
অন্যত্র আদম আলাইহিস সালাম ও তাঁর স্ত্রীর ঘটনাতেও এসেছে যে দুনিয়াতে মানুষকে পরীক্ষা করা হবে। আল্লাহ বলেছেন,
'আমি হুকুম করলাম, তোমরা সবাই নীচে নেমে যাও। অতঃপর যদি তোমাদের নিকট আমার পক্ষ থেকে কোন হিদায়াত পৌঁছে, তবে যে ব্যক্তি আমার সে হিদায়াত অনুসারে চলবে, তার উপর না কোন ভয় আসবে, না (কোন কারণে) তারা চিন্তাগ্রস্ত ও সন্তপ্ত হবে।
আর যে লোক তা অস্বীকার করবে এবং আমার নিদর্শনগুলোকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার প্রয়াস পাবে, তারাই হবে জাহান্নামবাসী; অন্তকাল সেখানে থাকবে।' (সূরাহ বাকারাহ, ২:৩৮-৩৯)
প্রত্যেক মানুষের জীবনের লক্ষ্যই হবে আল্লাহর চূড়ান্ত আনুগত্য ও আত্মসমর্পণ। অর্থাৎ নিজের আত্মাকে একমাত্র সত্য ইলাহ আল্লাহর অভিমুখী করা— মানে নিজেকে তার সকল চিন্তা-আবেগ-কর্ম সমেত আল্লাহর সামনে নত করা। ঠিক এই একই বার্তা প্রত্যেক রাসূল নিয়ে এসেছেন এবং পৃথিবীতে ইসলামের মাধ্যমে সেই বার্তাই আজ অব্দি চলমান। কুরআনে ইবরাহিম আলাইহিস সালাম ও অন্যান্য নবিদের ঘটনাগুলো তাদের আন্তরিক আত্মসমর্পণের প্রসঙ্গকেই আলোকপাত করেছে:
• 'স্মরণ কর, যখন ইবরাহিম ও ইসমাঈল কাবাগৃহের ভিত্তি স্থাপন করছিল। তারা দুআ করেছিলঃ পরওয়ারদেগার! আমাদের থেকে কবুল কর। নিশ্চয়ই তুমি শ্রবণকারী, সর্বজ্ঞ।
• পরওয়ারদেগার! আমাদের উভয়কে তোমার আজ্ঞাবহ কর এবং আমাদের বংশধর থেকেও একটি অনুগত দল সৃষ্টি কর, আমাদের হজ্বের রীতিনীতি বলে দাও এবং আমাদের ক্ষমা কর। নিশ্চয় তুমি তওবা কবুলকারী। দয়ালু।
• হে পরওয়ারদেগার! তাদের মধ্যে থেকেই তাদের নিকট একজন পয়গম্বর প্রেরণ করুণ যিনি তাদের কাছে তোমার আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করবেন, তাদেরকে কিতাব ও হেকমত শিক্ষা দেবেন। এবং তাদের পবিত্র করবেন। নিশ্চয় তুমিই পরাক্রমশালী হেকমতওয়ালা।
• ইবরাহিমের ধর্ম থেকে কে মুখ ফেরায়? কিন্তু সে ব্যক্তি, যে নিজেকে বোকা প্রতিপন্ন করে। নিশ্চয়ই আমি তাকে পৃথিবীতে মনোনীত করেছি এবং সে পরকালে সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত।
• স্মরণ কর, যখন তাকে তার পালনকর্তা বললেন, অনুগত হও। সে বলল, আমি বিশ্বপালকের অনুগত হলাম।
• এরই ওসিয়ত করেছে ইবরাহিম তাঁর সন্তানদের এবং ইয়াকুবও যে, হে আমার সন্তানগণ, নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের জন্য এ ধর্মকে মনোনীত করেছেন। কাজেই তোমরা মুসলমান না হয়ে কখনও মৃত্যুবরণ করো না।
• তোমরা কি উপস্থিত ছিলে, যখন ইয়াকুবের মৃত্যু নিকটবর্তী হয়? যখন সে সন্তানদের বলল, আমার পর তোমরা কার ইবাদাত করবে? তারা বললে, আমরা তোমার পিতৃ-পুরুষ ইবরাহিম, ইসমাঈল ও ইসহাকের উপাস্যের ইবাদাত করব। তিনি একক উপাস্য।
• আমরা সবাই তাঁর আজ্ঞাবহ। তারা ছিল এক সম্প্রদায়-যারা গত হয়ে গেছে। তারা যা করেছে, তা তাদেরই জন্যে। তারা কি করত, সে সম্পর্কে তোমরা জিজ্ঞাসিত হবে না।
• তারা বলে, তোমরা ইহুদি অথবা খ্রিষ্টান হয়ে যাও, তবেই সুপথ পাবে। আপনি বলুন, কখনই নয়; বরং আমরা ইবরাহিমের ধর্মে আছি যাতে বক্রতা নেই। সে মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিল না।
• তোমরা বল, আমরা ঈমান এনেছি আল্লাহর উপর এবং যা অবতীর্ণ হয়েছে আমাদের প্রতি এবং যা অবতীর্ণ হয়েছে ইবরাহিম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকুব এবং তদীয় বংশধরের প্রতি এবং মূসা, ঈসা, অন্যান্য নবিকে পালনকর্তার পক্ষ থেকে যা দান করা হয়েছে, তৎসমুদয়ের উপর। আমরা তাদের মধ্যে পার্থক্য করি না। আমরা তাঁরই আনুগত্যকারী।
• অতএব তারা যদি ঈমান আনে, তোমাদের ঈমান আনার মত, তবে তারা সুপথ পাবে। আর যদি মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে তারাই হঠকারিতায় রয়েছে। সুতরাং এখন তাদের জন্যে আপনার পক্ষ থেকে আল্লাহই যথেষ্ট। তিনিই শ্রবণকারী, মহাজ্ঞানী।
• আমরা আল্লাহর রং গ্রহণ করেছি। আল্লাহর রং এর চাইতে উত্তম রং আর কার হতে পারে? আমরা তাঁরই ইবাদাত করি।' (সূরাহ বাকারাহ, ২:১২৭-১৩৮)
এই আয়াতগুলো থেকে জানা যায় যে, পূর্ববর্তী সকল নবি-রাসূলের বার্তা ছিল আল্লাহর প্রতি আত্মসমর্পণ; তাঁরা নিজেদের সন্তান-সন্ততিদেরকেও আমৃত্যু ইসলাম আঁকড়ে ধরার উপদেশ দিয়েছেন। ইসলামে আত্মসমর্পণের মাধ্যমে মানবাত্মা আল্লাহর সঙ্গে কৃত ওয়াদা পূরণ করে। এবং এর মাধ্যমেই পূরণ হয় মানুষ হিসেবে তার জীবনের সত্যিকার উদ্দেশ্য। এই আত্মসমর্পণের পূর্ণতা কেবলমাত্র ইসলামের ভিতর দিয়েই সম্ভব। অন্য কোনো ধর্ম বা জীবনবিধানের মাধ্যমে এই লক্ষ্যটা অর্জন করা যায় না। বিচার দিবসে অন্য কোনো ধর্ম বা মতবাদ আল্লাহ কবুল করবেন না। অন্যান্য সকল ধর্মের মৌলিক ত্রুটিই হলো শিরক, তথা আল্লাহ বাদে অন্য ইলাহের ইবাদাত করা। আর এই শিরকই সেই ধর্মের অনুসারীদেরকে পথভ্রষ্ট করে দেয়। আল্লাহ সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন সকল মিথ্যা মাবুদের ইবাদাত করা অযৌক্তিক ও মূর্খতাপূর্ণ কাজ। তারা না আমাদের কোনো ক্ষতি করে, আর না কোনো উপকার। কোনোকিছু দেয়া বা না দেয়ার ক্ষমতাও তারা রাখে না। তিনি বলেছেন,
'তারা আল্লাহ ব্যতীত এমন বস্তুর ইবাদাত করে, যে তাদের জন্যে ভুমন্ডল ও নভোমন্ডল থেকে সামান্য রুযী দেওয়ার ও অধিকার রাখে না এবং মুক্তি ও রাখে না।' (সূরাহ নাহল, ১৬: ৭৩)
• অন্যত্র বলেছেন, 'বলুন, তোমরা আল্লাহ ব্যতীত যাদের পূজা কর, তাদের বিষয়ে ভেবে দেখেছ কি? দেখাও আমাকে তারা পৃথিবীতে কি সৃষ্টি করেছে? অথবা নভোমন্ডল সৃজনে তাদের কি কোনো অংশ আছে? এর পূর্ববর্তী কোন কিতাব অথবা পরস্পরাগত কোনো জ্ঞান আমার কাছে উপস্থিত কর, যদি তোমরা সত্যবাদী হও। যে ব্যক্তি আল্লাহর পরিবর্তে এমন বস্তুর পূজা করে, যে কিয়ামত পর্যন্তও তার ডাকে সাড়া দেবে না, তার চেয়ে অধিক পথভ্রষ্ট আর কে? তারা তো তাদের পুজা সম্পর্কেও বেখবর। যখন মানুষকে হাশরে একত্রিত করা হবে, তখন তারা তাদের শত্রু হবে এবং তাদের ইবাদাত অস্বীকার করবে।' (সূরাহ আহকাফ, ৪৬:৪-৬)
• অন্যত্র বলেছেন, 'যদি আপনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন, আসমান ও জমিন কে সৃষ্টি করেছে? তারা অবশ্যই বলবে-আল্লাহ। বলুন, তোমরা ভেবে দেখেছ কি, যদি আল্লাহ আমার অনিষ্ট করার ইচ্ছা করেন, তবে তোমরা আল্লাহ ব্যতীত যাদেরকে ডাক, তারা কি সে অনিষ্ট দূর করতে পারবে? অথবা তিনি আমার প্রতি রহমত করার ইচ্ছা করলে তারা কি সে রহমত রোধ করতে পারবে? বলুন, আমার পক্ষে আল্লাহই যথেষ্ট। নির্ভরকারীরা তাঁরই উপর নির্ভর করে।' (সূরাহ যুমার, ৩৯:৩৮)
• অন্যত্র বলেছেন, 'তিনি রাত্রিকে দিবসে প্রবিষ্ট করেন এবং দিবসকে রাত্রিতে প্রবিষ্ট করেন। তিনি সূর্য ও চন্দ্রকে কাজে নিয়োজিত করেছেন। প্রত্যেকটি আবর্তন করে এক নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত। ইনি আল্লাহ; তোমাদের পালনকর্তা, সাম্রাজ্য তাঁরই। তাঁর পরিবর্তে তোমরা যাদেরকে ডাক, তারা তুচ্ছ খেজুর আঁটিরও অধিকারী নয়। তোমরা তাদেরকে ডাকলে তারা তোমাদের সে ডাক শুনে না। শুনলেও তোমাদের ডাকে সাড়া দেয় না। কেয়ামতের দিন তারা তোমাদের শেরক অস্বীকার করবে। বস্তুতঃ আল্লাহর ন্যায় তোমাকে কেউ অবহিত করতে পারবে না।' (সূরাহ ফাতির, ৩৫:১৩-১৪)
• অন্যত্র বলেছেন, 'কেমন করে তোমরা আল্লাহর ব্যাপারে কুফরী অবলম্বন করছ? অথচ তোমরা ছিলে নিষ্প্রাণ। অতঃপর তিনিই তোমাদেরকে প্রাণ দান করেছেন, আবার মৃত্যু দান করবেন। পুনরায় তোমাদেরকে জীবনদান করবেন। অতঃপর তারই প্রতি প্রত্যাবর্তন করবে।' (সূরাহ বাকারাহ, ২:২৮)
• অন্যত্র বলেছেন, 'হে মানুষ, কিসে তোমাকে তোমার মহামহিম পালনকর্তা সম্পর্কে বিভ্রান্ত করল? যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তোমাকে সুবিন্যস্ত করেছেন এবং সুষম করেছেন।
যিনি তোমাকে তাঁর ইচ্ছামত আকৃতিতে গঠন করেছেন।' (সূরাহ ইনফিতার, ৮২:৬-৮)
• অন্যত্র বলেছেন, 'তোমাদের কি হলো যে, তোমরা আল্লাহ তাআলার শ্রেষ্ঠত্ব আশা করছ না। অথচ তিনি তোমাদেরকে বিভিন্ন রকমে সৃষ্টি করেছেন। তোমরা কি লক্ষ্য কর না যে, আল্লাহ কিভাবে সপ্ত আকাশ স্তরে স্তরে সৃষ্টি করেছেন। এবং সেখানে চন্দ্রকে রেখেছেন আলোরূপে এবং সূর্যকে রেখেছেন প্রদীপরূপে। আল্লাহ তাআলা তোমাদেরকে মৃত্তিকা থেকে উদগত করেছেন। অতঃপর তাতে ফিরিয়ে নিবেন এবং আবার পুনরুত্থিত করবেন।' (সূরাহ নুহ, ৭১:১৩-১৮)
• অন্যত্র বলেছেন, 'আল্লাহ তোমাদের জন্যে তোমাদেরই শ্রেণী থেকে জোড়া পয়দা করেছেন এবং তোমাদের যুগল থেকে তোমাদেরকে পুত্র ও পৌত্রাদি দিয়েছেন এবং তোমাদেরকে উত্তম জীবনোপকরণ দান করেছেন। অতএব তারা কি মিথ্যা বিষয়ে বিশ্বাস স্থাপন করে এবং আল্লাহর অনুগ্রহ অস্বীকার করে? (সূরাহ নাহল, ১৬: ৭২)
অন্যত্র বলেছেন, 'অতএব, আল্লাহর সাথে অন্য কোনো উপাস্য আছে কি?'
• 'বল, সকল প্রশংসাই আল্লাহর এবং শান্তি তাঁর মনোনীত বান্দাগণের প্রতি! শ্রেষ্ঠ কে? আল্লাহ না ওরা-তারা যাদেরকে শরীক সাব্যস্ত করে。
• বল তো কে সৃষ্টি করেছেন নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল এবং আকাশ থেকে তোমাদের জন্যে বর্ষণ করেছেন পানি; অতঃপর তা দ্বারা আমি মনোরম বাগান সৃষ্টি করেছি। তার বৃক্ষাদি উৎপন্ন করার শক্তিই তোমাদের নেই। অতএব, আল্লাহর সাথে অন্য কোন উপাস্য আছে কি? বরং তারা সত্যবিচ্যুত সম্প্রদায়।
• বল তো কে পৃথিবীকে বাসোপযোগী করেছেন এবং তার মাঝে মাঝে নদ-নদী প্রবাহিত করেছেন এবং তাকে স্থিত রাখার জন্যে পর্বত স্থাপন করেছেন এবং দুই সমুদ্রের মাঝখানে অন্তরায় রেখেছেন। অতএব, আল্লাহর সাথে অন্য কোন উপাস্য আছে কি? বরং তাদের অধিকাংশই জানে না।
• বল তো কে নিঃসহায়ের ডাকে সাড়া দেন যখন সে ডাকে এবং কষ্ট দূরীভূত করেন এবং তোমাদেরকে পৃথিবীতে পূর্ববর্তীদের স্থলাভিষিক্ত করেন। সুতরাং আল্লাহর সাথে অন্য কোন উপাস্য আছে কি? তোমরা অতি সামান্যই ধ্যান কর।
• বল তো কে তোমাদেরকে জলে ও স্থলে অন্ধকারে পথ দেখান এবং যিনি তাঁর অনুগ্রহের পূর্বে সুসংবাদবাহী বাতাস প্রেরণ করেন? অতএব, আল্লাহর সাথে অন্য কোন উপাস্য আছে কি? তারা যাকে শরীক করে, আল্লাহ তা থেকে অনেক ঊর্ধ্বে।
• বল তো কে প্রথমবার সৃষ্টি করেন, অতঃপর তাকে পুনরায় সৃষ্টি করবেন এবং কে তোমাদেরকে আকাশ ও জমিন থেকে রিযিক দান করেন। সুতরাং আল্লাহর সাথে অন্য কোন উপাস্য আছে কি? বলুন, তোমরা যদি সত্যবাদী হও তবে তোমাদের প্রমাণ উপস্থিত কর।' (সূরাহ নামল, ২৭:৫৯-৬৪)
যারা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কিছুর বা অন্য কারও ইবাদাত করে তারা নিজেদের জীবনের উদ্দেশ্য পূরণে ব্যর্থ হয়। তারা নিজেদের উপর জুলুম করে, নিজেদের মর্যাদাহানি করে, অপমান করে নিজেকে। তাদের ব্যক্তিত্ব, অগ্রগতি তথা সামগ্রিক জীবন হয়ে যায় অপূর্ণ ও এলোমেলো। জীবনে প্রকৃত সুখ, শান্তি ও পরিতৃপ্তি যেহেতু তাদের মেলে না, যেমন করেই হোক সেই অধরা পূর্ণতা পেতে গিয়ে কেবল এদিকে সেদিকে ছোটাছুটি করাই সারা হয়।

টিকাঃ
[৬] al-Ashqar, U.S., 2003, Belief in Allah in the Light of the Qur'an and Sunnah, Riyadh, International Islamic Publishing House, p. 402.

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00