📄 আরও কয়েকটি স্বপ্ন
আবু সাঈদ খুদরি (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন- 'আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। দেখলাম, কতিপয় লোককে আমার সামনে হাজির করা হলো। তারা সবাই ছিল জামা পরিহিত অবস্থায়। কারও জামা বুক পর্যন্ত, কারও জামা তারচেয়ে বড়ো, কারও আবার কিছুটা ছোটো। এরপর উমর এসে আমার সামনে উপস্থিত হলো। তাঁর জামা এত লম্বা ছিল যে, রীতিমতো তা গুটিয়ে নিতে হচ্ছে। লোকেরা জানতে চাইল-ইয়া রাসূলাল্লাহ! এর ব্যাখ্যা কী? তিনি বললেন-দ্বীনদারি।' বুখারি
তাঁর স্বপ্নে আগামীর ঘটনাপ্রবাহে সৌভাগ্যবান লোকদের জন্য থাকত সুসংবাদের আভাস।
'আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রা.) স্বপ্নে দেখেন-তিনি অবস্থান করছেন ফুল-ফসলে ভরা একটি সবুজ-শ্যামল বাগানে, যেখানে একটি স্তম্ভ রয়েছে। আর ওই স্তম্ভে আরোহণের জন্য তাকে আহ্বান করছে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা একজন ক্রীতদাস। এরপর তিনি তাতে উঠলেন। স্তম্ভটির ওপরের দিকে ছিল একটি খাঁজকাটা। তিনি সেটি বেশ শক্তভাবে আঁকড়ে ধরলেন। স্বপ্নটি আল্লাহর রাসূলের কাছে বর্ণনা করা হলে তিনি ব্যাখ্যা করলেন-বাগান ও খাপ দুটো দ্বারা ইসলাম উদ্দেশ্য, যা তিনি অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে ধারণ করেছিলেন।' বুখারি
গলায় লাগাম আর পায়ে বেড়ি
মুহাম্মাদ ইবনে সিরিন (রহ.) ছিলেন আবু হুরায়রা (রা.)-এর প্রত্যক্ষ শাগরেদ। তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন- 'কিয়ামত ঘনিয়ে এলে মুমিনের প্রতিটি স্বপ্নই বাস্তব হয়ে দেখা দেবে। কারণ, এটা নবুয়তের ৪০ ভাগের এক ভাগ।'
আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, স্বপ্ন তিন ধরনের হয়ে থাকে। এক ধরনের স্বপ্ন ব্যক্তির নিজের ভাবনার কারণে হয়ে থাকে। দ্বিতীয় ধরনের স্বপ্ন ব্যক্তিকে শয়তান দেখিয়ে থাকে। আর তৃতীয় ধরনের স্বপ্ন দেখান আল্লাহ তায়ালা। তাই অস্বস্তিকর স্বপ্ন দেখলে ঘুম থেকে জেগে উঠার পরপরই নামাজ পড়ে নেওয়া উচিত।
ইবনে সিরিন (রহ.) বলেন, আবু হুরায়রা (রা.) স্বপ্নে গলায় লাগাম পরিহিত দেখাকে মন্দ বিবেচনা করতেন। কেননা, এটা দোজখবাসীদের লক্ষণ। পক্ষান্তরে পায়ে বেড়ি পরিহিত অবস্থায় দেখাকে মনে করতেন অত্যন্ত ইতিবাচক। কারণ, এটা দ্বীনদারির ওপর দৃঢ়তা আর পাবন্দি বোঝায়।' বুখারি
বর্ণনাটি আবু হুরায়রা (রা.) সূত্রে কাতাদা ও ইউনুসের বর্ণনাতেও পাওয়া যায়। ইমাম নাসায়ি ইবনে সিরিন (রহ.) এবং আবু হুরায়রা (রা.)-এর বর্ণনাকে পৃথক পৃথকভাবে উল্লেখ করলেও গলায় লাগাম আর পায়ে বেড়ির ব্যাখ্যা উভয়েই উদ্ধৃত করেছেন নবি করিম ﷺ-এর পক্ষ থেকে।
রেশমি কাপড়
আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) বলেন-
'আমি স্বপ্নে দেখলাম, বেহেশতে বিচরণ করছি। আর আমার হাতে এক টুকরো রেশমি কাপড়। যেখানেই যেতে ইচ্ছে করি, এই রেশমি কাপড় আমাকে সেখানে উড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে। স্বপ্নটি উম্মুল মুমিনিন হাফসা (রা.)-কে জানালাম। তিনি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর কাছে স্বপ্নের ব্যাখ্যা জানতে চাইলেন। তিনি ব্যাখ্যায় বললেন-"তোমার ভাই ভাগ্যবান মানুষ।' তিরমিজি, বুখারি
অন্য বর্ণনামতে তিনি বলেন-'আবদুল্লাহ ভালো মানুষ। তবে এই স্বীকৃতির শর্ত হলো, সে তাহাজ্জুদ পড়তে থাকবে।' এরপর আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) বাকি জীবনে আর কখনো তাহাজ্জুদ নামাজ ছেড়ে দেননি। এর দ্বারা প্রমাণিত হয়, ভালো আমলের সুফল মৃত্যুর পরও চলমান থাকে।
কূপ থেকে পানি তোলা
অন্য একটি বর্ণনায় আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) বলেন, তিনি রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে বলতে শুনেছেন-
'আমি স্বপ্নে দেখলাম, একটি কূপ থেকে পানি তুলছি। এরপর আবু বকর (রা.) এলেন। তিনি এক-দুই বালতি পানি তুললেন, তবে দুর্বলভাবে। এরপর উমর এসে পড়লেন। তাঁর জন্য বালতির আয়তন বড়ো হয়ে গেল। তিনি কুরআভাবেই কাজটি সারলেন। এত পানি তুললেন যে, সকলেই তৃপ্তিভরে তা পান করল। আর প্রত্যেকে তার গবাদি পশুকে গোয়ালঘরে নিয়ে গেল বিশ্রামের জন্য।' বুখারি
হাদিসটি আবু হুরায়রা (রা.)-এর সূত্রেও বর্ণিত হয়েছে। এই স্বপ্নের রূপকে মূলত ইসলামি খিলাফতের ধারাপরিক্রমা ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ইতিহাসের দিকে দৃষ্টিপাত করলে দেখা যায়, আবু বকর (রা.)-এর শাসনামল ছিল খুবই সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য। এরপর উমর (রা.) মুসলমানদের ব্যাপকভাবে ঋদ্ধ ও সমৃদ্ধ করেন, জয় করেন পৃথিবীর চার সহস্রাধিক বৃহত্তর শহর। তাঁর আমলেই নিশ্চিত হয় খিলাফতের চূড়ান্ত বিস্তৃতি এবং মুসলিম সমাজের প্রভূত উন্নয়ন।
আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেন- 'আমি একবার ঘুমিয়ে ছিলাম। স্বপ্নে দেখলাম, আমার সামনে একটি দুধের পেয়ালা পেশ করা হয়েছে। আর আমি এমন তৃপ্তিভরে দুধ পান করেছি, যেন শরীরের অস্থিমজ্জায় তা পৌঁছে যাচ্ছে। পেয়ালার অবশিষ্ট দুধ আমি উমরকে দিলাম। সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞেস করলেন-এই স্বপ্নের ব্যাখ্যা কী? তিনি জবাব দিলেন-ইলম।' বুখারি
সাইপ্রাস ও ইস্তাম্বুল জয়
একবার নবিজি তাঁর খালা উম্মে হারাম (রা.) ও উবাদা ইবনুস সামিত (রা.)-এর বাড়ি গেলেন। তখনও খাবার পরিবেশনের কিছু সময় বাকি ছিল। ফলে ইত্যবসরে খানিকটা বিশ্রাম নিচ্ছিলেন তিনি। একপর্যায়ে হঠাৎ মুচকি হেসে উঠলেন! উম্মে হারাম জিজ্ঞেস করলেন-'খুশির কোনো ঘটনা?' নবিজি বললেন-'আমি দেখলাম, আমার উম্মতের লোকজন সমুদ্রের ওপর অত্যন্ত জৌলুসপূর্ণ আর রাজকীয় বেশে ভ্রমণ করে চলেছে।' এরপর বললেন-'আমার উম্মতের যেসব লোক নৌযুদ্ধে অংশ নেবে, তারা সকলেই জান্নাতি।' এই সুসংবাদ শুনে উম্মে হারাম তাঁর জন্যও অনুরূপ দুআ করতে অনুরোধ করলেন, যেন তিনিও সেই মোবারক বাহিনীতে শামিল থাকতে পারেন। এরপর রাসূল ﷺ দুআ করলেন এবং তাকে আশ্বস্ত করলেন, তিনিও সেই কাফেলায় যুক্ত হবেন।
খাবার তখনও পুরোপুরি প্রস্তুত হয়নি, পুনরায় তাঁর চোখ বুজে এলো। কিছুক্ষণ পর আবারও মুচকি হাসলেন তিনি। আগের মতো কারণ জানতে চাইলে জবাবে নবিজি বললেন-'আমার উম্মতের যে অংশ রোম শাসকের রাজধানী ইস্তাম্বুলে লড়াই করবে, তারা সকলেই জান্নাতে প্রবেশ করবে।' পুনরায় উম্মে হারাম আরজ করলেন-তিনি যেন তাতে শামিল থাকতে পারেন, সেজন্য দুআ করা হোক। রাসূল জবাবে বললেন-'না! তুমি তাতে শামিল থাকবে না।' বুখারি
এই স্বপ্নের প্রতিটি অংশ বাস্তবে প্রতিফলিত হয়েছে, নৌযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে। উম্মে হারাম তাতে শামিল হতে পেরেছেন, কিন্তু কারাবাসে বিচরণ করার প্রথমদিকেই ঘোড়া থেকে পড়ে ইন্তেকাল করেন। অর্থাৎ নৌযুদ্ধে তিনি শরিক হতে পেরেছেন ঠিক, কিন্তু ইস্তাম্বুলের যুদ্ধে শামিল হতে পারেননি।
আবু সাঈদ খুদরি (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন- 'আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। দেখলাম, কতিপয় লোককে আমার সামনে হাজির করা হলো। তারা সবাই ছিল জামা পরিহিত অবস্থায়। কারও জামা বুক পর্যন্ত, কারও জামা তারচেয়ে বড়ো, কারও আবার কিছুটা ছোটো। এরপর উমর এসে আমার সামনে উপস্থিত হলো। তাঁর জামা এত লম্বা ছিল যে, রীতিমতো তা গুটিয়ে নিতে হচ্ছে। লোকেরা জানতে চাইল-ইয়া রাসূলাল্লাহ! এর ব্যাখ্যা কী? তিনি বললেন-দ্বীনদারি।' বুখারি
তাঁর স্বপ্নে আগামীর ঘটনাপ্রবাহে সৌভাগ্যবান লোকদের জন্য থাকত সুসংবাদের আভাস।
'আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রা.) স্বপ্নে দেখেন-তিনি অবস্থান করছেন ফুল-ফসলে ভরা একটি সবুজ-শ্যামল বাগানে, যেখানে একটি স্তম্ভ রয়েছে। আর ওই স্তম্ভে আরোহণের জন্য তাকে আহ্বান করছে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা একজন ক্রীতদাস। এরপর তিনি তাতে উঠলেন। স্তম্ভটির ওপরের দিকে ছিল একটি খাঁজকাটা। তিনি সেটি বেশ শক্তভাবে আঁকড়ে ধরলেন। স্বপ্নটি আল্লাহর রাসূলের কাছে বর্ণনা করা হলে তিনি ব্যাখ্যা করলেন-বাগান ও খাপ দুটো দ্বারা ইসলাম উদ্দেশ্য, যা তিনি অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে ধারণ করেছিলেন।' বুখারি
গলায় লাগাম আর পায়ে বেড়ি
মুহাম্মাদ ইবনে সিরিন (রহ.) ছিলেন আবু হুরায়রা (রা.)-এর প্রত্যক্ষ শাগরেদ। তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন- 'কিয়ামত ঘনিয়ে এলে মুমিনের প্রতিটি স্বপ্নই বাস্তব হয়ে দেখা দেবে। কারণ, এটা নবুয়তের ৪০ ভাগের এক ভাগ।'
আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, স্বপ্ন তিন ধরনের হয়ে থাকে। এক ধরনের স্বপ্ন ব্যক্তির নিজের ভাবনার কারণে হয়ে থাকে। দ্বিতীয় ধরনের স্বপ্ন ব্যক্তিকে শয়তান দেখিয়ে থাকে। আর তৃতীয় ধরনের স্বপ্ন দেখান আল্লাহ তায়ালা। তাই অস্বস্তিকর স্বপ্ন দেখলে ঘুম থেকে জেগে উঠার পরপরই নামাজ পড়ে নেওয়া উচিত।
ইবনে সিরিন (রহ.) বলেন, আবু হুরায়রা (রা.) স্বপ্নে গলায় লাগাম পরিহিত দেখাকে মন্দ বিবেচনা করতেন। কেননা, এটা দোজখবাসীদের লক্ষণ। পক্ষান্তরে পায়ে বেড়ি পরিহিত অবস্থায় দেখাকে মনে করতেন অত্যন্ত ইতিবাচক। কারণ, এটা দ্বীনদারির ওপর দৃঢ়তা আর পাবন্দি বোঝায়।' বুখারি
বর্ণনাটি আবু হুরায়রা (রা.) সূত্রে কাতাদা ও ইউনুসের বর্ণনাতেও পাওয়া যায়। ইমাম নাসায়ি ইবনে সিরিন (রহ.) এবং আবু হুরায়রা (রা.)-এর বর্ণনাকে পৃথক পৃথকভাবে উল্লেখ করলেও গলায় লাগাম আর পায়ে বেড়ির ব্যাখ্যা উভয়েই উদ্ধৃত করেছেন নবি করিম ﷺ-এর পক্ষ থেকে।
রেশমি কাপড়
আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) বলেন-
'আমি স্বপ্নে দেখলাম, বেহেশতে বিচরণ করছি। আর আমার হাতে এক টুকরো রেশমি কাপড়। যেখানেই যেতে ইচ্ছে করি, এই রেশমি কাপড় আমাকে সেখানে উড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে। স্বপ্নটি উম্মুল মুমিনিন হাফসা (রা.)-কে জানালাম। তিনি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর কাছে স্বপ্নের ব্যাখ্যা জানতে চাইলেন। তিনি ব্যাখ্যায় বললেন-"তোমার ভাই ভাগ্যবান মানুষ।' তিরমিজি, বুখারি
অন্য বর্ণনামতে তিনি বলেন-'আবদুল্লাহ ভালো মানুষ। তবে এই স্বীকৃতির শর্ত হলো, সে তাহাজ্জুদ পড়তে থাকবে।' এরপর আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) বাকি জীবনে আর কখনো তাহাজ্জুদ নামাজ ছেড়ে দেননি। এর দ্বারা প্রমাণিত হয়, ভালো আমলের সুফল মৃত্যুর পরও চলমান থাকে।
কূপ থেকে পানি তোলা
অন্য একটি বর্ণনায় আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) বলেন, তিনি রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে বলতে শুনেছেন-
'আমি স্বপ্নে দেখলাম, একটি কূপ থেকে পানি তুলছি। এরপর আবু বকর (রা.) এলেন। তিনি এক-দুই বালতি পানি তুললেন, তবে দুর্বলভাবে। এরপর উমর এসে পড়লেন। তাঁর জন্য বালতির আয়তন বড়ো হয়ে গেল। তিনি কুরআভাবেই কাজটি সারলেন। এত পানি তুললেন যে, সকলেই তৃপ্তিভরে তা পান করল। আর প্রত্যেকে তার গবাদি পশুকে গোয়ালঘরে নিয়ে গেল বিশ্রামের জন্য।' বুখারি
হাদিসটি আবু হুরায়রা (রা.)-এর সূত্রেও বর্ণিত হয়েছে। এই স্বপ্নের রূপকে মূলত ইসলামি খিলাফতের ধারাপরিক্রমা ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ইতিহাসের দিকে দৃষ্টিপাত করলে দেখা যায়, আবু বকর (রা.)-এর শাসনামল ছিল খুবই সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য। এরপর উমর (রা.) মুসলমানদের ব্যাপকভাবে ঋদ্ধ ও সমৃদ্ধ করেন, জয় করেন পৃথিবীর চার সহস্রাধিক বৃহত্তর শহর। তাঁর আমলেই নিশ্চিত হয় খিলাফতের চূড়ান্ত বিস্তৃতি এবং মুসলিম সমাজের প্রভূত উন্নয়ন।
আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেন- 'আমি একবার ঘুমিয়ে ছিলাম। স্বপ্নে দেখলাম, আমার সামনে একটি দুধের পেয়ালা পেশ করা হয়েছে। আর আমি এমন তৃপ্তিভরে দুধ পান করেছি, যেন শরীরের অস্থিমজ্জায় তা পৌঁছে যাচ্ছে। পেয়ালার অবশিষ্ট দুধ আমি উমরকে দিলাম। সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞেস করলেন-এই স্বপ্নের ব্যাখ্যা কী? তিনি জবাব দিলেন-ইলম।' বুখারি
সাইপ্রাস ও ইস্তাম্বুল জয়
একবার নবিজি তাঁর খালা উম্মে হারাম (রা.) ও উবাদা ইবনুস সামিত (রা.)-এর বাড়ি গেলেন। তখনও খাবার পরিবেশনের কিছু সময় বাকি ছিল। ফলে ইত্যবসরে খানিকটা বিশ্রাম নিচ্ছিলেন তিনি। একপর্যায়ে হঠাৎ মুচকি হেসে উঠলেন! উম্মে হারাম জিজ্ঞেস করলেন-'খুশির কোনো ঘটনা?' নবিজি বললেন-'আমি দেখলাম, আমার উম্মতের লোকজন সমুদ্রের ওপর অত্যন্ত জৌলুসপূর্ণ আর রাজকীয় বেশে ভ্রমণ করে চলেছে।' এরপর বললেন-'আমার উম্মতের যেসব লোক নৌযুদ্ধে অংশ নেবে, তারা সকলেই জান্নাতি।' এই সুসংবাদ শুনে উম্মে হারাম তাঁর জন্যও অনুরূপ দুআ করতে অনুরোধ করলেন, যেন তিনিও সেই মোবারক বাহিনীতে শামিল থাকতে পারেন। এরপর রাসূল ﷺ দুআ করলেন এবং তাকে আশ্বস্ত করলেন, তিনিও সেই কাফেলায় যুক্ত হবেন।
খাবার তখনও পুরোপুরি প্রস্তুত হয়নি, পুনরায় তাঁর চোখ বুজে এলো। কিছুক্ষণ পর আবারও মুচকি হাসলেন তিনি। আগের মতো কারণ জানতে চাইলে জবাবে নবিজি বললেন-'আমার উম্মতের যে অংশ রোম শাসকের রাজধানী ইস্তাম্বুলে লড়াই করবে, তারা সকলেই জান্নাতে প্রবেশ করবে।' পুনরায় উম্মে হারাম আরজ করলেন-তিনি যেন তাতে শামিল থাকতে পারেন, সেজন্য দুআ করা হোক। রাসূল জবাবে বললেন-'না! তুমি তাতে শামিল থাকবে না।' বুখারি
এই স্বপ্নের প্রতিটি অংশ বাস্তবে প্রতিফলিত হয়েছে, নৌযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে। উম্মে হারাম তাতে শামিল হতে পেরেছেন, কিন্তু কারাবাসে বিচরণ করার প্রথমদিকেই ঘোড়া থেকে পড়ে ইন্তেকাল করেন। অর্থাৎ নৌযুদ্ধে তিনি শরিক হতে পেরেছেন ঠিক, কিন্তু ইস্তাম্বুলের যুদ্ধে শামিল হতে পারেননি।