📄 স্বপ্ন ব্যাখ্যার সনাতন পদ্ধতি
কানাডার হিডসন নদীর তীরে বসবাসরত লোকেরা বিশ্বাস করত, স্বপ্ন দেখার সময় ঘুমন্ত ব্যক্তির প্রাণ দেহ থেকে বের হয়ে যায়। অতঃপর সম্পূর্ণ ভিন্ন এক জগতে গিয়ে স্বপ্ন দেখে আসে। এই অবস্থায় জাগানো হলে তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে পথ ভুলে যেতে পারে তার প্রাণ। যথাসময়ে দেহে ফিরে আসতে ব্যর্থ হলে মারাও যেতে পারে লোকটি। অনুরূপ নওরান উপত্যকার লোকদের কাছেও ঘুমন্ত ব্যক্তিকে অকস্মাৎ জাগিয়ে দেওয়া ছিল নিন্দনীয়। আবার ইন্দোনেশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের দ্বীপগুলোর বাসিন্দাদের মাঝে এক অদ্ভুত রেওয়াজ ছিল। কোনো স্বামী তার স্ত্রীকে উচ্ছৃঙ্খল ও বেপরোয়া চলাফেরা করা অবস্থায় স্বপ্নে দেখলে পরের দিন ভোরে শ্বশুরকে ডেকে বলত-'তোমার চরিত্রহীন মেয়েটি দয়া করে বাড়ি নিয়ে যাও।'
কুর্দিস্তানে যে জিনিসটি স্বপ্নে পাওয়া যায়, জাগ্রত হওয়ার পর তা অর্জন করা তার অধিকার বলে সাব্যস্ত হয়। যেমন: কেউ যদি স্বপ্নে দেখে-গোত্রের সর্দার তাকে এক বস্তা গম দিয়েছেন, ঘুম ভাঙার পর সে যেভাবেই হোক এক বস্তা গম আদায় করেই ছাড়বে। ঘটনাটি খুবই বিশ্রী মোড় নেয়। যখন কেউ বলে, সে কোনো মেয়েকে তার প্রতি অনুরাগী বা আসক্ত হিসেবে স্বপ্নে দেখেছে।
টিকাঃ
১১. বুখারি, মুসলিম
📄 পুরোনো ধর্মবিশ্বাস
খ্রিষ্টপূর্ব ২০০০ সালে মিশরীয় ফারাওদের স্বপ্নের ব্যাখ্যা নিয়ে একটি সংকলন প্রকাশ করেন চিস্টার বাইটি। গ্রিক কবি হোমারের বিখ্যাত গ্রন্থ ইলিয়ড-এ উল্লেখিত হয়েছে, আগামিনোনস-এর কাছে স্বপ্নদেবতা জিউসের বার্তাবাহক আসতেন। তাকে ভবিষ্যতের বিভিন্ন আগাম খবর দেওয়ার পাশাপাশি কীভাবে তা বাস্তবায়ন করতে হবে, সেই নির্দেশনাও দিত সে।
হিন্দু ধর্মে 'অথর্ববেদ'-এর একটি অধ্যায়ে স্বপ্নের স্বরূপ সম্বন্ধে আলোচনা করা হয়েছে। কথিত আছে-প্রাচীন ব্যাবিলন শহরের নিনওয়া নগরীর খননকালে এমন কিছু পুরাতাত্ত্বিক নির্দশন নাকি মিলেছে, যেগুলোতে খচিত ছিল স্বপ্নের ব্যাখ্যা। তবে স্বপ্নের ব্যাখ্যা বিষয়ে প্রাচীনতম গ্রন্থ হলো রিটিকা। গ্রিক দার্শনিক দালদিয়ানুস (Daldianus) খ্রিষ্টীয় দ্বিতীয় শতকে এটা লিপিবদ্ধ করেন। তাদের ধারণামতে সবচেয়ে ভালো স্বপ্ন হলো সেটি, যা হাতির দাঁতের মেহরাব থেকে বের হয়। আর পশুর শিং দিয়ে তৈরি দরজা দিয়ে যা বের হয়, তা বাজে স্বপ্ন। তারা বিশ্বাস করত, স্বপ্ন মানবজীবনের ভবিষ্যদ্বাণী। ইউরোপের বড়ো বড়ো জুয়াড়ি, ঘোড়দৌড়বিদ রিটিকা দেখে ফলাফল সম্পর্কে পূর্বাভাস সন্ধান করত। মধ্যপ্রাচ্যের লোকরা রোগের চিকিৎসা, সফরের সিদ্ধান্ত নির্ধারণ; এমনকী ভাগ্য পরীক্ষাও করত স্বপ্নের মাধ্যমে। স্বপ্নের পথ ধরেই তালাশ করা হতো অসুস্থ ব্যক্তির আরোগ্যের উপায়, তার জন্য উৎসর্গ ও উপশমের সঠিক দেবতা। গ্রিসে ৬০০-শর মতো মন্দির ছিল-যেখানে পূজারিরা সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করত। পুরোহিতগণ স্বপ্নের ব্যাখ্যার মাধ্যমে তাদের চিকিৎসার উপায় বাতলে দিতেন। মন্দিরের ভেতর-বাইরে স্থাপন করা হতো আরোগ্য লাভের বিভিন্ন মাধ্যম ও দেবতাদের মূর্তি। আর এসবের মধ্যে কোনটি উপকারী, তা নির্বাচন করা হতো স্বপ্নের ইশারায়।
এখন পর্যন্ত প্রতিষ্ঠিত ধারণামতে-ফ্রয়েডই হলেন প্রথম ব্যক্তি, যিনি স্বপ্নকে প্রাত্যহিক জীবনের প্রতিচ্ছায়া বা প্রতিচিত্র বলে সাব্যস্ত করেছেন। অথচ খ্রিষ্টপূর্ব ৪০০ বছর আগে অ্যারিস্টটল লিখে গেছেন- 'বাইরের বিষয়াদি ও অবস্থার প্রভাব শরীরের ভেতর প্রবেশ করে এক জায়গায় আটকে থাকে। ঘুমের সময় মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ যখন ঢিলেঢালা হয়ে পড়ে, স্বপ্নের আকারে তখন সেগুলোর পুনরাবৃত্তি ঘটতে থাকে।' অ্যারিস্টটল স্বপ্নের ব্যাখ্যা বিষয়ে Parva Naturalia নামে একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থই রচনা করেছেন। স্বপ্ন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে এটি যথেষ্ট পাঠকপ্রিয় ও সমাদৃত একটি বই, কিন্তু কাকতালীয়ভাবে শুধু তার নৈতিক চরিত্র বিষয়ক বইগুলোই এখন সর্বাধিক প্রামাণ্য রচনা বলে বিবেচিত হয়ে থাকে। খ্রিষ্টের জন্মের ৭৫ বছর পূর্বে বিখ্যাত রোমান রাজনীতিজ্ঞ স্যাসার্ড তার এক গ্রন্থে স্বপ্নকে আত্মিক অবস্থার প্রতিফলন হিসেবে প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন। সেখানে তিনি বলতে চেয়েছেন-মানুষের কর্ম, ভবিষ্যৎ, ঈশ্বরের পক্ষ থেকে পুরস্কার ও সাজা-সবকিছুই গুপ্ত রয়েছে স্বপ্নের ভেতর। প্রায় একই বিশ্লেষণ দ্বিতীয়বার প্রমাণের চেষ্টা চালিয়েছেন ফরাসি চিকিৎসক আলফ্রেড ম্যুর। ১৮৫০ সালে তিনি ৩ হাজার স্বপ্নের বিস্তারিত পর্যালোচনার পর দাবি করেন, স্বপ্ন মূলত প্রাত্যহিক জীবনেরই প্রতিচিত্র। একটি ব্যক্তিগত উদাহরণের সাহায্যে ম্যুর ব্যাপারটি সুস্পষ্ট করেছেন-
'আমি একবার স্বপ্ন দেখলাম, ফরাসি বিপ্লবের সময় ফ্রান্সের স্বাধীনতা সংগ্রামের বিরুদ্ধে ভূমিকা পালনের দায়ে আমাকে একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনালের সামনে হাজির করা হলো। ট্রাইব্যুনালে আমার রায় দেওয়া হলো মৃত্যুদণ্ড। আমাকে ফাঁসির মঞ্চে এভাবে তোলা হলো, যেন আমি উপুড় হয়ে পড়ে যাচ্ছিলাম। কিছুক্ষণ পর ঘুম ভেঙে দেখতে পেলাম-আমার ছোটো খাটটি ভেঙে পড়েছে আর আমি নিচে পতিত হয়ে ঘাড়ে ব্যথা পেয়েছি।'
কয়েকজন বিখ্যাত সাহিত্যিক নিজেদের সৃজনকর্মকে প্রভুর পক্ষ থেকে 'ইশারার ফল' বলে অদ্ভুত ও বিরল ব্যাখ্যা পেশ করেছেন। প্রসিদ্ধ ব্রিটিশ কবি কোলার্জ তো দাবি করে বসেন-তার 'কুবলাই খান' কবিতাটি নাকি লেখা হয়েছে স্বপ্নযোগে প্রাপ্ত ঐশী ইশারার আলোকে। সেলাই মেশিনের আবিষ্কারক বলেছেন-সুই বানানোর উদ্ভাবনী চিন্তাটি তার মাথায় এসেছিল একটি স্বপ্ন থেকে। তিনি একবার স্বপ্নে দেখেন, কিছু লোক বর্শা দিয়ে অনবরত আঘাত করছে তাকে। সেই বর্শার শীর্ষ ফলকে একটি সূক্ষ্ম ছিদ্র, আর তাতে প্রবিষ্ট আছে একটি সুতা। প্রতিটি আঘাতের সঙ্গে সঙ্গে যেন বর্শাটি তার শরীর সেলাই করে নিচ্ছিল ক্রমাগত। এভাবে স্বপ্ন থেকেই তিনি পেয়ে যান সেলাইকর্ম ও সুঁই তৈরির ধারণা।
একজন জার্মান রসায়নবিদ বলেন-'একদিন স্বপ্নে দেখলাম, লেজের ওপর ভর দিয়ে আমার দিকে এগিয়ে আসছে একটি সাপ। এটা দেখেই Benzene ছাঁচের নকশাটি আমার মাথায় আসে।' অনুরূপ নোবেল বিজয়ী জার্মান লিভির দাবি অনুযায়ী, ব্যাঙের স্নায়ুতন্ত্রের ওপর পরীক্ষার আইডিয়া তিনি পেয়েছিলেন স্বপ্নযোগে।
এ পর্যন্ত আলোচিত জ্ঞানী, শাস্ত্রবিদ ও বিশেষজ্ঞবৃন্দ স্ব-স্ব ক্ষেত্রে বিশ্বজুড়ে খ্যাতিমান। বাস্তবতা হলো, তাদের গবেষণা ও প্রতিটি মুহূর্ত তাদের স্নায়ুতন্ত্রের ওপর সওয়ার ছিল। দিন-রাত তারা ডুবে থাকতেন নিজের কাজের ভেতর, এর বাইরে অন্য কিছু ভাবার অবকাশই তাদের ছিল না। এমনকী ঘুমের মধ্যেও জারি থাকত তাদের এই ভাবমগ্নতা। নিদ্রিত অবস্থায় নিজের নিয়ন্ত্রণ ঢিলেঢালা হলে দৈনন্দিন কাজ ও চিন্তা-ভাবনাগুলোই বিভিন্ন রূপ নিয়ে হাজির হতো তাদের সামনে। আর সেসব দৃশ্য থেকেই কাজের পথ খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করতেন তারা। আধুনিক মনোবিজ্ঞান এসব অভিজ্ঞতার সপক্ষে সচরাচর এমন ব্যাখ্যাই দিয়ে থাকে। অন্যদিকে ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যায়-আল্লাহ যাকে দয়া করতে চান, স্বপ্নের মাধ্যমে তাকে কোনো সমস্যার সমাধান বাতলে দেন। আর এ কারণেই নবি ﷺ স্বপ্নকে বলেছেন-'নবুয়তের ৪০ ভাগের এক ভাগ।' কারণ, আল্লাহ তাঁর নবিদের সকল বিষয় সম্পর্কে অবগত করেছিলেন। সুতরাং, ভালো স্বপ্ন নববি বৈশিষ্ট্যেরই একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।
📄 দুঃস্বপ্ন
সাধারণত ছোটো বাচ্চাদের ক্ষেত্রে দেখা যায়, ঘুমের ঘোরে ভয়ানক কোনো স্বপ্ন দেখে আচমকা চিৎকার করে ওঠে কিংবা উচ্চৈঃস্বরে কান্না জুড়ে দেয়। তার চেহারায় তখন ভয়ের চিহ্ন ফুটে ওঠে। প্রচণ্ড আতঙ্কে ঘেমে-নেয়ে একাকার হয়ে যায় শরীর। এটাকে বলা হয়-'Pavur Nocturnus'। এই ধরনের দুঃস্বপ্ন দেখে জেগে উঠার পর সাধারণত বাচ্চারা টুকরো টুকরো অংশ ছাড়া প্রায় কিছুই মনে রাখতে পারে না। তিন থেকে সাত বছর বয়সি বাচ্চাদের শতকরা ৩%-এর মধ্যে এই সমস্যা দেখা যায়। ১০%-এর ক্ষেত্রে এটি হাজির হয় ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সে। এ ব্যাপারে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের বক্তব্য হলো, বাচ্চারা আদৌ দুঃস্বপ্ন দেখে না। মূলত বাহ্যিক কোনো কারণে চটজলদি তাদের ঘুম ভেঙে গেলে, এর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়াটিই তাদের ওপর প্রভাব ফেলে ভয় ও আতঙ্করূপে।
দুঃস্বপ্ন সম্পর্কে ভাসাভাসা বিশ্লেষণের বিপরীতে ইসলাম স্বপ্নের ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য তত্ত্ব পেশ করেছে। ইসলামের বক্তব্য অত্যন্ত স্পষ্ট; ভয়ানক স্বপ্নগুলো শয়তানের পক্ষ থেকে প্রদর্শিত হয়। ভালো ও মন্দ স্বপ্ন বিষয়ে আবু সাইদ (রা.) ও আবু কাতাদা (রা.) থেকে পৃথক পৃথক দুটি বর্ণনা পাওয়া যায়। নবিজি বলেন-
'ভালো স্বপ্ন আল্লাহর পক্ষ থেকে আর মন্দ স্বপ্ন শয়তানের পক্ষ থেকে। এই ধরনের স্বপ্ন কারও সামনে বর্ণনা করতে নেই। শয়তানের অনিষ্ট থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতে হবে। এর ফলে ব্যক্তির কোনো ক্ষতি হবে না।' বুখারি
কেবল বাচ্চারা নয়, অনেক সময় বড়োরাও মাঝে মাঝে ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। কখনো কখনো তো দুঃস্বপ্নের আতঙ্ক তাকে দিনের পর দিন তাড়া করে বেড়ায়। এই স্বপ্নগুলো স্রেফ অবচেতন মনের ধারণা নয়; বরং এর সম্পর্ক রয়েছে বাস্তব জীবনের ঘটনাপ্রবাহের সাথে। ইসলাম ব্যতীত বিজ্ঞান এর কোনো পূর্ণাঙ্গ ও গ্রহণযোগ্য সমাধান দিতে পারে না। মন্দ স্বপ্ন থেকে বাঁচার জন্য সৎকর্মের পাশাপাশি ইসলাম আরও কিছু পদ্ধতি বাতলে দিয়েছে। দুঃস্বপ্ন দেখার পর (لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ) (লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ) পড়া নবিজি স্বীকৃত এমনই একটি উত্তম আমল। আল্লাহর কাছে এভাবে আশ্রয় চাওয়ার পর বামদিকে তিনি তিনবার থুতু নিক্ষেপ করে পাশ ফিরে ঘুমানোর পরামর্শ দিয়েছেন। নবি করিম বর্ণিত এই নির্দেশনা অনুসরণ করলে আল্লাহ অবশ্যই তাঁর বান্দাদের হেফাজত করবেন শয়তানের অনিষ্ট থেকে।
📄 ঘুমের মধ্যে হাঁটাচলা
কমপক্ষে এক শতাংশ বাচ্চাদের মধ্যে ঘুমের ঘোরে হাঁটাচলা সমস্যাটি পাওয়া যায়। সাধারণত এটা শুরু হয় ১১-১৪ বছর বয়সে। ঘুমন্ত ব্যক্তি অত্যন্ত ধীরস্থিরভাবে বিছানা থেকে উঠে পড়ে, পুরোপুরি চোখ খুলে পথের বিভিন্ন বাধা এড়িয়েই দিব্যি হাঁটতে থাকে জাগ্রত মানুষের মতো। যদিও আমরা গল্পে পড়ি, ঘুমের মাঝে হাঁটাচলা করা লোকজন উঁচু দালান থেকে নিচে পড়ে যায়। কখনো কখনো ওই অবস্থায় কাউকে খুন করে ফেলে। গল্পের সেসব কাহিনির সঙ্গে বাস্তবতার একবিন্দু সাদৃশ্য নেই। মস্তিষ্কের সক্রিয়তার প্রবাহ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, তখন মানুষ নিদ্রার গভীর স্তরে বিচরণ করতে থাকে, স্পন্দিত হতে থাকে তার চোখ। সচরাচর এই অবস্থায় স্বপ্ন দেখা যায় না। কাজেই ঘুমের ঘোরে হাঁটাচলাকে স্বপ্নের প্রভাব বলা একদমই সংগত নয়।
এক ব্যক্তি গরমের দিনে সামান্য কাপড় জড়িয়ে শুয়েছিল। ঘুমের ঘোরে হাঁটার সমস্যা ছিল তার। ওইদিন সে ঘুমের ঘোরেই হাঁটতে হাঁটতে মহাসড়কের পাশে চলে আসে। ব্যস্ত সড়কে যানবাহন এড়িয়ে, যথাযথভাবে ট্রাফিক নিয়ম মেনে; এমনকী তিনি দেড় কিলোমিটার দূরের বাজার পর্যন্ত পৌঁছে যান। ততক্ষণে ভোরের আলো ফুটেছে, হাঁটতে হাঁটতে স্থবির হয়ে এসেছে তার পা। এমতাবস্থায় আচমকা নিদ্রা টুটে গেলে অবাক হয়ে যান তিনি। আরে! এ কাণ্ড ঘটল কী করে! প্রথমে তিনি বিব্রত হলেন নিজের সংক্ষিপ্ত পোশাকের কারণে। জটিলতা বাড়ল- যখন দেখলেন পকেটে একটা পয়সাও নেই। এখন বাড়িতে পৌছবেন কীভাবে? অগত্যা এক রিকশাওয়ালাকে বাড়িতে পৌঁছেন তিনি।