📄 ভয়ের প্রকৃতি : উত্তরণের নীতি-কৌশল
যে বিপদ থেকে পালানোর কোনো পথ থাকে না, তা স্বমূর্তিতে সামনে হাজির হলেই কেবল জীবনের কঠোরতম রূপ প্রত্যক্ষ করা যায়। আর আশঙ্কা থেকে সৃষ্ট এসব মানসিক বিপর্যয় বদলাতে থাকে সময় ও প্রেক্ষাপটের সঙ্গে সঙ্গে।
শিশুরা সাধারণত নতুন পরিবেশে সন্ত্রস্ত হয়, কিন্তু প্রত্যেক শিশুর ভীতির উৎস ও প্রকৃতি এক না-ও হতে পারে। একবার এক লোক বাচ্চাদের ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে ইচ্ছেকৃতভাবেই টেলিভিশনে ভীতিপ্রদ চলচ্চিত্র প্রদর্শন করছিল। তখন চার বছরের ছেলেটি তার বছর দুয়েকের বড়ো বোনকে বলল-'তুমি এই ফিল্ম দেখ না, দেখলে কিন্তু রাতে ভূত এসে ভয় দেখাবে।' তবে বড়ো বোনটির মধ্যে ভয়ের কোনো লক্ষণই দেখা যাচ্ছিল না। এর কারণ কী?
মূলত শিশুর বয়স আট বছরে পৌঁছার পর থেকে তার ভয়ের ধরনগুলো ক্রমেই পরিবর্তিত হতে থাকে। কিছু শিশু দীর্ঘ সময় ধরে বন্দি থাকে কল্পিত ভয়ের জগতে। কিন্তু কালক্রমে অবয়বধারী বস্তুর সাথে সাথে অন্ধকার, একাকিত্ব; উঁচুতে আরোহণ, দুর্গম পথে যাত্রা কিংবা বেপরোয়া ও দুরন্ত বাহনে চলাচল ইত্যাদি বিষয়গুলোও ভয়ের ধারণায় যোগ করে নতুন মাত্রা।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এক ব্যক্তি টানা দুই বছর চিকিৎসা গ্রহণ করে শুধু ঊর্ধ্বারোহণের ভয় কাটাতে। সুস্থ হওয়ার পর তাকে ঊর্ধ্বারোহণের পরামর্শ দিলেন চিকিৎসক।
একদিন যথারীতি শহরের সুউচ্চ প্রাসাদের চূড়ায় উঠে পড়ল সে। আর নিচে তাকিয়ে আওড়াতে শুরু করল পড়ানো পাঠের বুলি-'আমি ওপরে বা নিচে যেদিকেই তাকাই, কিছুই পরোয়া করি না।' তৃতীয়বার এই মন্ত্র জপতে জপতে সে মাথা ঘুরে পড়ে যায় এবং বেঘোরে প্রাণ হারায়। এই হলো আধ্যাত্মিকতা বিবর্জিত আধুনিক মনোবিজ্ঞানের চিকিৎসাপদ্ধতি ও তার প্রতিফল।
অনেক সমঝদার ও শিক্ষিত লোককে আপনি বলতে শুনবেন-একাকী থাকলে ভয় লাগে, লোকজনের মাঝে থাকলে তেমনটা হয় না। এমন রোগীও দেখা গেছে, সুস্থ ও স্বাভাবিক মানুষ হয়েও যাদের দুই-চার কিলোমিটার সফরের হিম্মত নেই। তাকে যদি জিজ্ঞেস করা হয়-'আপনি তো বুদ্ধিমান একজন মানুষ, তারপরও গাড়ি-ঘোড়ায় মুখরিত ব্যস্ত সড়কে একাকী সফর করতে ভয় পান কেন?' তিনি হয়তো ঠিক বোঝাতে পারেন না, কিন্তু সত্যিই যে ভড়কে গেছেন-সেই লক্ষণ স্পষ্টতই ফুটে ওঠে। একাকী সফরের আতঙ্কে তার হৃৎকম্পন বেড়ে যায়, দরদর করে ঘামতে থাকেন অনবরত। অথচ সঙ্গে একটি দশ বছরের বাচ্চা থাকলেও এ ধরনের লোকেরা নির্ভার ও নিশ্চিন্ত বোধ করেন।
কবরের অন্ধকার, এর প্রকাণ্ড সাপ-বিচ্ছু প্রভৃতি নিঃসন্দেহে ভীত হওয়ার উপযুক্ত কারণ। কিন্তু এটা প্রতিষ্ঠিত সত্য যে, মৃত্যু অবধারিত নিয়তি এবং ওখানে কারও কোনো চেষ্টাই কাজ দেবে না। তবে আশ্চর্য ব্যাপার হলো-অধিকাংশ মানুষ নিজের ভীতির কথা স্বীকার না করে আতঙ্কের কারণ ও যৌক্তিকতা তুলে ধরতে বেশি আগ্রহী। অধিকাংশ রোগী আরোগ্যের ব্যাপারে হতাশ ও মরিয়া হয়ে গেলে কেবল চিকিৎসকই নয়; বরং হাসপাতালের নার্স ও কর্মচারীদের কাছে হাতজোড় করে আকুতি জানায়। ব্যাকুল কণ্ঠে বলতে থাকে- 'যেভাবেই হোক আমাকে বাঁচান! ঘরে আমার ছোটো ছোটো সন্তান। তাদের কী উপায় হবে? আমি শুধু তাদের জন্যই বাঁচতে চাই।' এমন পরিস্থিতিতে কোনো চিকিৎসাই আর কাজে আসে না, মনোবিজ্ঞানের সমুদয় তত্ত্ব এখানে চূড়ান্ত ব্যর্থ। মানসিক বিপর্যয়ের এই স্তরটি অতিক্রম করতে হলে অন্তরে থাকা চাই রবের প্রতি অগাধ আস্থা ও পরিপূর্ণ বিশ্বাস। কেননা, মুমিনমাত্রই বিশ্বাস করে, সুস্থতা কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে। এখানে আসল কৃতিত্ব কোনো চিকিৎসকের নয়; বরং করুণাময় রবের অশেষ মেহেরবানিই পারে মানুষকে যাবতীয় জরা ও ব্যাধির কবল হতে পূর্ণাঙ্গ শেফা নিশ্চিত করতে।
📄 মানসিক চাপ দূর করার টোটকা
জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ ইরশাদ করেছেন- 'আল্লাহ এমন কোনো রোগ পৃথিবীতে সৃষ্টি করেননি, যার চিকিৎসা পাঠানো হয়নি। ওষুধের গুণাগুণ যখন রোগের প্রকৃতির সঙ্গে মিলে যায়, তখন আল্লাহর নির্দেশে তা কার্যকর হয় এবং রোগী সেরে ওঠে।' মুসলিম
ইসলামের এটি সর্বজনস্বীকৃত বিষয়, শেফা বা আরোগ্য বান্দার প্রতি আল্লাহ প্রদত্ত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামত। কাজেই মানুষের সামনে সুস্থতা ভিক্ষা করে কোনো লাভ নেই; বরং চাইতে হবে সেই সত্তার কাছে, সমগ্র সৃষ্টিকুলের জীবন ও মৃত্যু যাঁর হাতের মুঠোয়। এজন্য আল্লাহর রাসূল পীড়িত অবস্থায় বেশি বেশি দুআ ও ইস্তেগফারের নির্দেশ দিয়েছেন। আনাস (রা.) বলেন, আমি রাসূল-কে বলতে শুনেছি-
اللَّهُمَّ رَبَّ النَّاسِ أَذْهِبِ الْبَاسَ اشْفِهِ وَأَنْتَ الشَّافِي لَا شِفَاءَ إِلَّا شِفَاؤُكَ شِفَاءٌ لَا يُغَادِرُ سَقَمًا
'হে মানবকুলের রব! আমার কষ্ট দূর করে দিন। আপনিই তো আরোগ্য দানকারী। আপনার শেফা ব্যতীত কোনো সুস্থতা নেই। আমাকে এমন শেফা দান করুন, যার পর আর কোনো ব্যাধিই বাকি না থাকে।' বুখারি: ৫৪১১
এভাবে জরাগ্রস্ত দশাতেও মুমিন সর্বোত্তম দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করে চলে। এটা ঈমানদার ব্যক্তির চারিত্রিক সৌন্দর্য। রাসূল এমন বিশুদ্ধ আখলাককে ইসলামের প্রতীক হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন। জনসমাজে সচ্চরিত্রের সর্বজনীন সুফলও বিস্তর। এর ফলে এমন এক সমাজব্যবস্থা তৈরি হবে, যেখানে একজন বিপদগ্রস্ত ব্যক্তিকে সাহায্যের জন্য অকাতরে এগিয়ে আসবে পাশে থাকা মুমিনগণ। আবু মুসা আশআরি (রা.) বলেন, তাঁকে ও মুয়াজ (রা.)-কে ইয়েমেন প্রেরনকালে রাসূল নির্দেশ করেন-
'মানুষকে ইসলামের পথে ডাকবে। তাদের উদ্বিগ্ন নয়; আশ্বস্ত করবে। জটিলতার বদলে পেশ করবে সহজ উপায়। উদ্যোগী হবে ঐক্য নির্মাণে। আর বিভাজনের পথে কখনোই হাঁটবে না।' আবু দাউদ, নাসায়ি
উপরিউক্ত নির্দেশনা স্থান-কাল নির্বিশেষে যেকোনো মানুষের মানসিক চাপ দূর করতে টনিকের কাজ করবে। জীবনকে করবে অধিকতর উদ্যমী ও কর্মচঞ্চল। এ ধরনের অর্থবহ জীবনযাপনের প্রতি যারপরনাই গুরুত্বারোপ করেছেন রাসূল । আবু সাইদ খুদরি (রা.) বলেন, একবার আল্লাহর রাসূল দিনের বেলা মসজিদে এসে আনসারি সাহাবি আবু উমামাকে দেখে জিজ্ঞেস করলেন- 'এই সময়ে তুমি মসজিদে কেন?'
তিনি জবাব দিলেন- 'ঋণ ও নানাবিধ পেরেশানি এখানে আমায় তাড়িয়ে নিয়ে এসেছে।'
আল্লাহর রাসূল বললেন- 'তাহলে তো তোমাকে এই কঠিন অবস্থা থেকে মুক্তির পথ বাতলে দিতে হয়। আল্লাহ তোমার ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা করে দেবেন। তুমি সকাল-সন্ধ্যা এই দুআটি পড়বে-
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْهَةِ وَالْحَزَنِ وَأَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْعَجْزِ وَالْكَسَلِ وَأَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْجُبْنِ وَالْبُخْلِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ غَلَبَةِ الدِّيْنِ وَقَهْرِ الرِّجَالِ
“হে আল্লাহ! তোমার কাছে দুশ্চিন্তা ও উদ্বেগ থেকে সুরক্ষা চাই। মুক্তি চাই দুর্বলতা ও অলসতা থেকে। কাপুরুষতা, কৃপণতা, ঋণের ভার এবং মানুষের অভিশাপ থেকে তোমার আশ্রয় চাই।" আবু দাউদ: ১৫৫৫
সাহাবি বলেন- 'নবিজির নির্দেশনা মোতাবেক দুআটি সকাল-বিকাল পাঠের কল্যাণে আমি ক্রমেই দুশ্চিন্তা ও ঋণ থেকে মুক্ত হয়ে গেলাম।' বুখারি
আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, অপর একটি হাদিসে মারাত্মক বিষণ্ণ ও উদ্বিগ্ন ব্যক্তিকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, সে যেন বেশি বেশি পড়ে-
لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ
আল্লাহ ব্যতীত অনিষ্ট দূর করার এবং কল্যাণ লাভের কোনো শক্তি নেই। হাদিসটি বর্ণনা করে ইমাম বুখারি ও মুসলিম যোগ করেন, এটি জান্নাতের কোষাগার ও ভান্ডারের অংশ। ইমাম তিরমিজি একে বলেছেন জান্নাতের দরজা। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন-
'আল্লাহর রাসূল কখনো উদ্বিগ্ন ও ভীতিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে আসমানের দিকে মুখ তুলে سُبْحَانَ الله الْعَظِيمِ তিনবার পড়তেন। মাঝে মাঝে পৌনঃপুণিক আবৃত্তি করতেন يَا حَيُّ يَا قَيُّوْمُ।' তিরমিজি
সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ইরশাদ করেন- 'আমার ভাই ইউনুস (আ.) মাছের পেট থেকে মুক্তির জন্য যে দুআ পড়েছিলেন, তা সকল মুসলমানের উদ্বেগ ও ভয়ভীতি থেকে মুক্তির চিরন্তন ও সর্বোত্তম পন্থা।' দুআটি ছিল-
لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِينَ -
'আরেকটি বর্ণনায় এসেছে, দুশ্চিন্তাগ্রস্ত ব্যক্তির জন্য এর চাইতে ভালো আর কোনো সমাধানসূত্র নেই।' তিরমিজি: ৩৫0৫
এ প্রসঙ্গে আসমা বিনতে আমিস (রা.) বলেন, আল্লাহর রাসূল তাঁকে বলেছেন- 'দুর্ভাবনা ও দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি দেবে এমন একটি দুআ শিখিয়ে দিচ্ছি। এই বাক্যগুলো সকাল-সন্ধ্যা সাতবার পাঠ করবে।'
اللَّهُ رَبِّي لَا يُشْرِكْ بِهِ شَيْئًا -
আহমদ ইবনে হাম্বল (রহ.) তাঁর মুসনাদে বর্ণনা করেছেন- 'রাসূলুল্লাহ প্রায়শই মানসিক চাপ, বিপদ ও ভীতিকর পরিস্থিতিতে নামাজ পড়তে পরামর্শ দিতেন। কেননা, আল্লাহ তায়ালা বলেন- "তোমরা ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করো।" মুসনাদে আহমদ
ভয়, আতঙ্ক, উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও বিপদাপদ থেকে মুক্তির জন্য আল্লাহর রাসূল যে পথ দেখিয়েছেন, তা শত বছরের পরীক্ষিত ও প্রমাণিত বিষয়। আল্লাহর রাসূল সকাল ও সন্ধ্যায় পাঠ করার জন্য যেসব দুআ শিক্ষা দিয়েছেন, সেগুলোর ফলাফল বিস্ময়কর রকমের ইতিবাচক। আমরা এ সম্পর্কে জরিপ চালিয়ে দেখেছি, প্রচুরসংখ্যক মানুষ এর সুফল হাতেনাতে পেয়েছেন এবং এখনও পাচ্ছেন। এক ব্যক্তি নিজের এমনই অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন- 'একবার আমি গ্রীষ্মের তপ্ত দুপুরে গলির ভেতর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ একটি কুকুর দূর থেকে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে তেড়ে এলো আমার দিকে। একবার ভাবলাম, দৌড়ে সটকে পড়াই শ্রেয়। পরক্ষণেই ভয় হলো, যদি প্রাণীটি আমার পিছু নেয়! আত্মরক্ষার জন্য কোনো পাথর কিংবা লাঠিও ছিল না হাতের কাছে, তখন বিপদ থেকে রক্ষার একটি দুআ আমি যেই না পাঠ করলাম, কুকুরটি তৎক্ষণাৎ চুপ হয়ে গেল। কিছুক্ষণ তাকিয়ে চলে গেল অন্যদিকে।'
মুহাম্মাদ ইবনে আবু বকর (রহ.) তাঁর তিব্বে নববি কিতাবে ভয়ভীতি, উদ্বেগ, দুশ্চিন্তা সম্পর্কে নানা বিশ্লেষণের পর দ্বিতীয় অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন এর নানাবিধ সমাধান-যার সবকটি রাসূল -এর হাদিসের আলোকে নির্দেশিত। এ নির্দেশনাগুলো আমল করলে কারও ভয়ভীতি ও বিপদ দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা নেই।
আল্লাহর রাসূল ভয়ভীতিকে পবিত্র কুরআনের আলোকে বিন্যস্ত করতে গিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি ঘোষণা করেছেন-যদি অন্তরে দৃঢ় ও অবিচল বিশ্বাস থাকে, তবে কোনোরূপ দুশ্চিন্তা ও আতঙ্ক কাউকে স্পর্শও করতে পারে না। সুতরাং বিপদের সংশয় ও প্রবল আশঙ্কা দূর করার উপায় মুমিনের জন্য এতই সহজ যে, এজন্য তার কোনো গবেষকের দ্বারস্থ হওয়ার প্রয়োজন নেই।
এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, পৃথিবীতে ইসলাম ছাড়াও বহু ধর্মমত ও মতার্দশ নিজেদের ব্যাপারে সত্যের দাবিদার। কিন্তু ইসলাম ভিন্ন কোনো ধর্মে মানুষের মনোজগৎ ও মানসিক সমস্যার এত সুবিন্যস্ত সমাধান বিবৃত হয়নি। বিপদ কাটানোর জন্য বৌদ্ধ ও হিন্দু ধর্মে একধরনের বিশেষ ত্রিরত্ন বন্দনা ও ভজনের রীতি আছে, যেখানে কিছু মন্ত্র পাঠ করে খাঁটি ঘি ঢালতে হয় জ্বলন্ত অগ্নিকুণ্ডে। অথচ এ ধরনের সমস্যা সমাধানের চাবিকাঠি কোনো ব্যক্তির হাতে নেই। ১৯৪২ সালে এমনই একটি আয়োজনে খরচ হয়েছিল ৪ লক্ষ ভারতীয় রুপি। অথচ ইসলাম সর্বসাধারণের জন্য এই সমস্যার সমাধান বাতলে দিয়েছে কোনো রকম ব্যয় বা সামষ্টিক আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই। ফলে প্রত্যেক মুসলিমই লাভ করেছে নির্ভার ও নির্ঝঞ্ঝাট জীবন উপভোগের অবারিত সুযোগ।