📘 প্রতীক্ষিত মাহদি দাজ্জাল ও ইয়াজুজ মাজুজ 📄 ইয়াজুজ-মাজুজের অবসান

📄 ইয়াজুজ-মাজুজের অবসান


হজরত নাওয়াস ইবনে সামআন রাদি. থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, একদা সকালে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাজ্জাল সম্পর্কে আলোচনা করলেন। তিনি বললেন, দাজ্জাল নয় বরং তোমাদের ব্যাপারে আমি অন্য কিছুর ভয় করছি। তবে শোনো, আমি তোমাদের মধ্যে বিদ্যমান থাকা অবস্থায় যদি দাজ্জালের আত্মপ্রকাশ হয় করে তাহলে আমি নিজেই তাকে প্রতিহত করব। আর যদি আমি তোমাদের মধ্যে না থাকা অবস্থায় দাজ্জালের আত্মপ্রকাশ হয় তবে প্রত্যেক মুমিন লোক নিজের পক্ষ থেকে তাকে প্রতিহত করবে।

সে এক সম্প্রদায়ের কাছে এসে তাদেরকে কুফরির দিকে ডাকবে। তারা তার ওপর ঈমান আনবে। অতঃপর সে আকাশকে আদেশ করবে। আকাশ বৃষ্টি বর্ষণ করবে। ভূমিকে নির্দেশ দেবে, ফলে ভূমি শস্য উৎপন্ন করবে। তারপর দাজ্জাল অপর এক সম্প্রদায়ের কাছে আসবে। তারা তার আহ্বানে সাড়া দেবে না। ফলে সে তাদের নিকট থেকে প্রত্যাবর্তন করবে। অমনি তাদের মধ্যে দুর্ভিক্ষ ও পানির অভাব দেখা দেবে। তখন দাজ্জাল এক পতিত স্থান অতিক্রমকালে সেটিকে সম্বোধন করে বলবে, তুমি তোমার গুপ্তধন বের করে দাও। তখন জমিনের ধনভান্ডার বের হয়ে তার চতুষ্পার্শে একত্রিত হতে থাকবে। অতঃপর দাজ্জাল এক যুবক ব্যক্তিকে ডেকে আনবে এবং তাকে তরবারি দ্বারা আঘাত করে দুই টুকরো করে ফেলবে। তারপর সে আবার তাকে আহ্বান করবে। যুবক হাস্যোজ্জ্বল চেহারায় এগিয়ে আসবে।

এ সময় আল্লাহ তায়ালা ইসা ইবনে মারইয়ামকে প্রেরণ করবেন। তিনি দামেস্ক নগরীর পূর্ব দিকের উজ্জ্বল মিনারে অবতরণ করবেন। তিনি দাজ্জালকে সন্ধান করতে থাকবেন এবং অবশেষে তাকে বাবে লুদ নামক স্থানে গিয়ে পাকড়াও করবেন ও হত্যা করবেন। তারপর ইসা আলাইহিস সালাম ওই সম্প্রদায়ের নিকট যাবেন, যাদেরকে আল্লাহ তায়ালা দাজ্জালের বিপর্যয় থেকে রক্ষা করেছেন। এমন সময় আল্লাহ তায়ালা ইসা আলাইহিস সালামের প্রতি এ মর্মে প্রত্যাদেশ অবতীর্ণ করবেন যে, আমি আমার এমন বান্দাদের আবির্ভাব ঘটিয়েছি, যাদের সঙ্গে কারোরই যুদ্ধ করার ক্ষমতা নেই। অতঃপর তুমি আমার মুমিন বান্দাদেরকে নিয়ে তুর পাহাড়ে চলে যাও। তখন আল্লাহ তায়ালা ইয়াজুজ-মাজুজ সম্প্রদায়কে প্রেরণ করবেন।

তারা ছাড়া পেয়ে পৃথিবীর সব প্রান্তে দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে। তাদের প্রথম দলটি বুহাইরায়ে তাবারিয়ার উপকূলে এসে এর সমুদয় পানি পান করে নিঃশেষ করে দেবে। তারা আল্লাহর নবী ইসা আলাইহিস সালাম এবং তার সাথিদেরকে অবরোধ করে রাখবে। তখন আল্লাহর নবী ইসা আলাইহিস সালাম এবং তার সঙ্গীগণ আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করবেন। আল্লাহ তাদের দুআ কবুল করবেন। ইয়াজুজ-মাজুজ সম্প্রদায়ের ওপর তিনি আজাব প্রেরণ করবেন। তাদের ঘাড়ে একপ্রকার পোকা হবে। এতে সবাই মরে নিঃশেষ হয়ে যাবে। তারপর ইসা আলাইহিস সালাম ও তার সঙ্গীগণ পাহাড় থেকে জমিনে অবতরণ করবেন। এরপর আল্লাহ তায়ালা লম্বা ঘাড়ের পাখি প্রেরণ করবেন যারা লাশগুলো সরিয়ে ফেলবে। অতঃপর আল্লাহ মুষলধারে এমন বৃষ্টি বর্ষণ করবেন যার ফলে জমিন বিধৌত হয়ে পরিষ্কার হয়ে যাবে।

সেদিন একদল মানুষ একটি ডালিম ভক্ষণ করবে এবং এর বাকলের নিচে ছায়া গ্রহণ করবে। দুধের মধ্যে বরকত হবে। এ সময় আল্লাহ তায়ালা অত্যন্ত আরামদায়ক একটি বায়ু প্রেরণ করবেন। এ বায়ু সকল মুমিন লোকদের বগলে গিয়ে লাগবে এবং সমস্ত মুমিন মুসলিমদের আত্মা কবজ করে নিয়ে যাবে। তখন একমাত্র মন্দ লোকেরাই এ পৃথিবীতে অবশিষ্ট থাকবে। এদের ওপরই কিয়ামত সংঘটিত হবে।

কুরআনুল কারিমের এই আয়াত পড়ো ও গভীরার্থে তাদাব্বুর-চিন্তা করো—'যখন ইয়াজুজ-মাজুজকে বন্দি অবস্থা থেকে ছেড়ে দেওয়া হবে, আর তারা প্রতিটি উচ্চভূমি থেকে দ্রুত নেমে আসবে। সত্য প্রতিশ্রুতি [কিয়ামত] ঘনিয়ে আসছে দেখেই ভয়ে কাফেরদের চোখ স্থির হয়ে যাবে। তারা বলবে, হায়রে আমাদের দুর্ভোগ! এ ব্যাপারে আমরা একেবারে বেখবর ছিলাম। না না, বরং আমরা জালেম ছিলাম।'

টিকাঃ
৯৯. সহিহ মুসলিম: ৭১০৬।
১০০. সুরা আম্বিয়া: ৯৬-১১২।

হজরত নাওয়াস ইবনে সামআন রাদি. থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, একদা সকালে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাজ্জাল সম্পর্কে আলোচনা করলেন। তিনি বললেন, দাজ্জাল নয় বরং তোমাদের ব্যাপারে আমি অন্য কিছুর ভয় করছি। তবে শোনো, আমি তোমাদের মধ্যে বিদ্যমান থাকা অবস্থায় যদি দাজ্জালের আত্মপ্রকাশ হয় করে তাহলে আমি নিজেই তাকে প্রতিহত করব। আর যদি আমি তোমাদের মধ্যে না থাকা অবস্থায় দাজ্জালের আত্মপ্রকাশ হয় তবে প্রত্যেক মুমিন লোক নিজের পক্ষ থেকে তাকে প্রতিহত করবে।

সে এক সম্প্রদায়ের কাছে এসে তাদেরকে কুফরির দিকে ডাকবে। তারা তার ওপর ঈমান আনবে। অতঃপর সে আকাশকে আদেশ করবে। আকাশ বৃষ্টি বর্ষণ করবে। ভূমিকে নির্দেশ দেবে, ফলে ভূমি শস্য উৎপন্ন করবে। তারপর দাজ্জাল অপর এক সম্প্রদায়ের কাছে আসবে। তারা তার আহ্বানে সাড়া দেবে না। ফলে সে তাদের নিকট থেকে প্রত্যাবর্তন করবে। অমনি তাদের মধ্যে দুর্ভিক্ষ ও পানির অভাব দেখা দেবে। তখন দাজ্জাল এক পতিত স্থান অতিক্রমকালে সেটিকে সম্বোধন করে বলবে, তুমি তোমার গুপ্তধন বের করে দাও। তখন জমিনের ধনভান্ডার বের হয়ে তার চতুষ্পার্শে একত্রিত হতে থাকবে। অতঃপর দাজ্জাল এক যুবক ব্যক্তিকে ডেকে আনবে এবং তাকে তরবারি দ্বারা আঘাত করে দুই টুকরো করে ফেলবে। তারপর সে আবার তাকে আহ্বান করবে। যুবক হাস্যোজ্জ্বল চেহারায় এগিয়ে আসবে।

এ সময় আল্লাহ তায়ালা ইসা ইবনে মারইয়ামকে প্রেরণ করবেন। তিনি দামেস্ক নগরীর পূর্ব দিকের উজ্জ্বল মিনারে অবতরণ করবেন। তিনি দাজ্জালকে সন্ধান করতে থাকবেন এবং অবশেষে তাকে বাবে লুদ নামক স্থানে গিয়ে পাকড়াও করবেন ও হত্যা করবেন। তারপর ইসা আলাইহিস সালাম ওই সম্প্রদায়ের নিকট যাবেন, যাদেরকে আল্লাহ তায়ালা দাজ্জালের বিপর্যয় থেকে রক্ষা করেছেন। এমন সময় আল্লাহ তায়ালা ইসা আলাইহিস সালামের প্রতি এ মর্মে প্রত্যাদেশ অবতীর্ণ করবেন যে, আমি আমার এমন বান্দাদের আবির্ভাব ঘটিয়েছি, যাদের সঙ্গে কারোরই যুদ্ধ করার ক্ষমতা নেই। অতঃপর তুমি আমার মুমিন বান্দাদেরকে নিয়ে তুর পাহাড়ে চলে যাও। তখন আল্লাহ তায়ালা ইয়াজুজ-মাজুজ সম্প্রদায়কে প্রেরণ করবেন।

তারা ছাড়া পেয়ে পৃথিবীর সব প্রান্তে দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে। তাদের প্রথম দলটি বুহাইরায়ে তাবারিয়ার উপকূলে এসে এর সমুদয় পানি পান করে নিঃশেষ করে দেবে। তারা আল্লাহর নবী ইসা আলাইহিস সালাম এবং তার সাথিদেরকে অবরোধ করে রাখবে। তখন আল্লাহর নবী ইসা আলাইহিস সালাম এবং তার সঙ্গীগণ আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করবেন। আল্লাহ তাদের দুআ কবুল করবেন। ইয়াজুজ-মাজুজ সম্প্রদায়ের ওপর তিনি আজাব প্রেরণ করবেন। তাদের ঘাড়ে একপ্রকার পোকা হবে। এতে সবাই মরে নিঃশেষ হয়ে যাবে। তারপর ইসা আলাইহিস সালাম ও তার সঙ্গীগণ পাহাড় থেকে জমিনে অবতরণ করবেন। এরপর আল্লাহ তায়ালা লম্বা ঘাড়ের পাখি প্রেরণ করবেন যারা লাশগুলো সরিয়ে ফেলবে। অতঃপর আল্লাহ মুষলধারে এমন বৃষ্টি বর্ষণ করবেন যার ফলে জমিন বিধৌত হয়ে পরিষ্কার হয়ে যাবে।

সেদিন একদল মানুষ একটি ডালিম ভক্ষণ করবে এবং এর বাকলের নিচে ছায়া গ্রহণ করবে। দুধের মধ্যে বরকত হবে। এ সময় আল্লাহ তায়ালা অত্যন্ত আরামদায়ক একটি বায়ু প্রেরণ করবেন। এ বায়ু সকল মুমিন লোকদের বগলে গিয়ে লাগবে এবং সমস্ত মুমিন মুসলিমদের আত্মা কবজ করে নিয়ে যাবে। তখন একমাত্র মন্দ লোকেরাই এ পৃথিবীতে অবশিষ্ট থাকবে। এদের ওপরই কিয়ামত সংঘটিত হবে।

কুরআনুল কারিমের এই আয়াত পড়ো ও গভীরার্থে তাদাব্বুর-চিন্তা করো—'যখন ইয়াজুজ-মাজুজকে বন্দি অবস্থা থেকে ছেড়ে দেওয়া হবে, আর তারা প্রতিটি উচ্চভূমি থেকে দ্রুত নেমে আসবে। সত্য প্রতিশ্রুতি [কিয়ামত] ঘনিয়ে আসছে দেখেই ভয়ে কাফেরদের চোখ স্থির হয়ে যাবে। তারা বলবে, হায়রে আমাদের দুর্ভোগ! এ ব্যাপারে আমরা একেবারে বেখবর ছিলাম। না না, বরং আমরা জালেম ছিলাম।'

টিকাঃ
৯৯. সহিহ মুসলিম: ৭১০৬।
১০০. সুরা আম্বিয়া: ৯৬-১১২।

📘 প্রতীক্ষিত মাহদি দাজ্জাল ও ইয়াজুজ মাজুজ 📄 ইয়াজুজ-মাজুজের ফিতনা থেকে মুক্তি

📄 ইয়াজুজ-মাজুজের ফিতনা থেকে মুক্তি


হে আল্লাহর বান্দাগণ! এখন আমাদের জন্য অপরিহার্য করণীয় হলো, নিজেদেরকে বিরাট এ প্রশ্নের সম্মুখীন করা যে, ইয়াজুজ-মাজুজের ফিতনা থেকে বাঁচার জন্য আমাদের প্রস্তুতি কী? দাজ্জাল, ইয়াজুজ-মাজুজ এসব হলো কিয়ামতের অন্যতম বড়ো দুই নিদর্শন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী দাজ্জাল ও ইয়াজুজ-মাজুজের আবির্ভাবের সময় ঘনিয়ে এসেছে। ঘনিয়ে এসেছে কিয়ামতের সময়। তাই এই ফিতনা থেকে আত্মরক্ষা এবং কিয়ামতের প্রস্তুতিস্বরূপ আমাদের করণীয় কী?

আমরা কি নামাজ আদায় করি? আমরা কি নামাজের প্রতি যত্নবান? আমরা কি অশ্লীলতা ও মন্দকাজ থেকে বিরত থাকি? আল্লাহর অবাধ্যতা ও নাফরমানি থেকে বেঁচে থাকি? প্রবৃত্তি ও শয়তানের অনুসরণ থেকে কি নিজেদের মুক্ত করতে পেরেছি? জনৈক ব্যক্তি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করলেন, কিয়ামত কবে সংঘটিত হবে? রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, 'কিয়ামতের জন্য তুমি কী প্রস্তুতি গ্রহণ করেছ?' লোকটি বলল, 'আল্লাহ ও তার রাসুলের ভালোবাসা।'

সুতরাং হে আল্লাহর বান্দা! কিয়ামতের বিভীষিকা থেকে বাঁচার জন্য, দাজ্জাল ও ইয়াজুজ-মাজুজের ঘোর ফিতনা থেকে মুক্তির জন্য আমাদের প্রস্তুতি কী? নিজেদেরকে জিজ্ঞেস করার সময় এসেছে। আজ সময় হয়েছে নিজেদের আত্মজিজ্ঞাসার। সময় হয়েছে মুক্তি ও নাজাতের ব্যাপারে করণীয় নির্ধারণ করার। হে আল্লাহর বান্দাগণ! ভয় করো সেদিনকে যেদিনের ব্যাপারে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা বলেছেন, 'তোমরা ভয় করো সেদিনকে যেদিন তোমাদেরকে তাঁর দিকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে।'

অন্য আয়াতে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতায়ালা বলেন, 'যেদিন এই জমিনকে অন্য জমিনে পরিবর্তন করা হবে; আসমানসমূহকেও পরিবর্তন করা হবে এবং মানুষ একক, পরাক্রমশালী আল্লাহর সামনে উপস্থিত হবে। সেদিন তুমি পাপীদেরকে একত্রে শিকল পরানো অবস্থায় দেখতে পাবে। তাদের পোশাক হবে আলকাতরার এবং আগুন তাদের মুখমণ্ডল আচ্ছন্ন করবে। এভাবে আল্লাহ প্রত্যেককে তার কর্মের প্রতিফলন দেবেন।'

পৃথিবীর বুকে হজরত আদম আলাইহিস সালামের সূচনা থেকে কিয়ামত অবধি যত ফিতনা ও বিপর্যয় ঘটেছে ও ঘটবে তন্মধ্যে সবচেয়ে ভয়ংকর হলো দাজ্জাল। যুগে যুগে সকল নবী ও রাসুল তার উম্মতকে দাজ্জালের ফিতনা থেকে বিশেষভাবে সতর্ক করেছেন। দাজ্জাল ও ইয়াজুজ-মাজুজের নির্মমতা ও উৎপীড়ন থেকে মানুষ ও মানবতার মুক্তির জন্য পৃথিবীর ত্রাণকর্তা হয়ে আসমান থেকে অবতীর্ণ হবেন হজরত ইসা আলাইহিস সালাম। অব্যাহত জুলুম ও কুফুরের বিরুদ্ধে লড়াই পরিচালনার জন্য ঈমানদারদের নেতা হয়ে আগমন করবেন ইমাম মাহদি। তাদের হাতে পতন ঘটবে দাজ্জাল ও তার অনুসারীদের। সলিল সমাধি রচিত হবে শক্তিশালী জাতি ইয়াজুজ-মাজুজের। পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠিত হবে সত্যের শাসন। ইনসাফের শাসন। আল্লাহর জমিনে কায়েম হবে আল্লাহর বিধান। সকল প্রকার মতবাদ, ইজম ও তন্ত্র-মন্ত্রের অবসান ঘটবে। পতপত করে উড়বে কেবল কালিমার নিশান।

টিকাঃ
১০১. সুরা বাকারা: ২৮১।
১০২. সুরা ইবরাহিম: ৪৮-৫২।

হে আল্লাহর বান্দাগণ! এখন আমাদের জন্য অপরিহার্য করণীয় হলো, নিজেদেরকে বিরাট এ প্রশ্নের সম্মুখীন করা যে, ইয়াজুজ-মাজুজের ফিতনা থেকে বাঁচার জন্য আমাদের প্রস্তুতি কী? দাজ্জাল, ইয়াজুজ-মাজুজ এসব হলো কিয়ামতের অন্যতম বড়ো দুই নিদর্শন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী দাজ্জাল ও ইয়াজুজ-মাজুজের আবির্ভাবের সময় ঘনিয়ে এসেছে। ঘনিয়ে এসেছে কিয়ামতের সময়। তাই এই ফিতনা থেকে আত্মরক্ষা এবং কিয়ামতের প্রস্তুতিস্বরূপ আমাদের করণীয় কী?

আমরা কি নামাজ আদায় করি? আমরা কি নামাজের প্রতি যত্নবান? আমরা কি অশ্লীলতা ও মন্দকাজ থেকে বিরত থাকি? আল্লাহর অবাধ্যতা ও নাফরমানি থেকে বেঁচে থাকি? প্রবৃত্তি ও শয়তানের অনুসরণ থেকে কি নিজেদের মুক্ত করতে পেরেছি? জনৈক ব্যক্তি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করলেন, কিয়ামত কবে সংঘটিত হবে? রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, 'কিয়ামতের জন্য তুমি কী প্রস্তুতি গ্রহণ করেছ?' লোকটি বলল, 'আল্লাহ ও তার রাসুলের ভালোবাসা।'

সুতরাং হে আল্লাহর বান্দা! কিয়ামতের বিভীষিকা থেকে বাঁচার জন্য, দাজ্জাল ও ইয়াজুজ-মাজুজের ঘোর ফিতনা থেকে মুক্তির জন্য আমাদের প্রস্তুতি কী? নিজেদেরকে জিজ্ঞেস করার সময় এসেছে। আজ সময় হয়েছে নিজেদের আত্মজিজ্ঞাসার। সময় হয়েছে মুক্তি ও নাজাতের ব্যাপারে করণীয় নির্ধারণ করার। হে আল্লাহর বান্দাগণ! ভয় করো সেদিনকে যেদিনের ব্যাপারে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা বলেছেন, 'তোমরা ভয় করো সেদিনকে যেদিন তোমাদেরকে তাঁর দিকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে।'

অন্য আয়াতে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতায়ালা বলেন, 'যেদিন এই জমিনকে অন্য জমিনে পরিবর্তন করা হবে; আসমানসমূহকেও পরিবর্তন করা হবে এবং মানুষ একক, পরাক্রমশালী আল্লাহর সামনে উপস্থিত হবে। সেদিন তুমি পাপীদেরকে একত্রে শিকল পরানো অবস্থায় দেখতে পাবে। তাদের পোশাক হবে আলকাতরার এবং আগুন তাদের মুখমণ্ডল আচ্ছন্ন করবে। এভাবে আল্লাহ প্রত্যেককে তার কর্মের প্রতিফলন দেবেন।'

পৃথিবীর বুকে হজরত আদম আলাইহিস সালামের সূচনা থেকে কিয়ামত অবধি যত ফিতনা ও বিপর্যয় ঘটেছে ও ঘটবে তন্মধ্যে সবচেয়ে ভয়ংকর হলো দাজ্জাল। যুগে যুগে সকল নবী ও রাসুল তার উম্মতকে দাজ্জালের ফিতনা থেকে বিশেষভাবে সতর্ক করেছেন। দাজ্জাল ও ইয়াজুজ-মাজুজের নির্মমতা ও উৎপীড়ন থেকে মানুষ ও মানবতার মুক্তির জন্য পৃথিবীর ত্রাণকর্তা হয়ে আসমান থেকে অবতীর্ণ হবেন হজরত ইসা আলাইহিস সালাম। অব্যাহত জুলুম ও কুফুরের বিরুদ্ধে লড়াই পরিচালনার জন্য ঈমানদারদের নেতা হয়ে আগমন করবেন ইমাম মাহদি। তাদের হাতে পতন ঘটবে দাজ্জাল ও তার অনুসারীদের। সলিল সমাধি রচিত হবে শক্তিশালী জাতি ইয়াজুজ-মাজুজের। পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠিত হবে সত্যের শাসন। ইনসাফের শাসন। আল্লাহর জমিনে কায়েম হবে আল্লাহর বিধান। সকল প্রকার মতবাদ, ইজম ও তন্ত্র-মন্ত্রের অবসান ঘটবে। পতপত করে উড়বে কেবল কালিমার নিশান।

টিকাঃ
১০১. সুরা বাকারা: ২৮১।
১০২. সুরা ইবরাহিম: ৪৮-৫২।

ফন্ট সাইজ
15px
17px