📄 কারা ইয়াজুজ-মাজুজ?
ইয়াজুজ-মাজুজ মানবজাতিরই একটি অংশ। অন্যান্য সকল মানুষের মতো তারাও হজরত আদম ও হজরত হাওয়া আলাইহিমাস সালামের সন্তান ও বংশধর। হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রাদি. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'ইয়াজুজ-মাজুজ আদম আলাইহিস সালামের সন্তানদের মধ্য থেকে। তারা যখন মানুষের নিকট আসবে তাদের সবকিছু নষ্ট করে ফেলবে। তাদের একজন মারা যাওয়ার সময় এক হাজারের অধিক সন্তান-সন্তুতি রেখে যাবে।'
মুসনাদে আহমদে হজরত সামুরা ইবনে জুনদুব রাদি. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'নুহ আলাইহিস সালামের সন্তান তিন জন। সাম—সে আরবদের পিতা। হাম—সে সুদানদের পিতা। ইয়াফেস—সে তুর্কিদের পিতা।'
টিকাঃ
৯৬. কানযুল উম্মাল: ৩৮৮৭২।
৯৭. কানযুল উম্মাল: ৩২৩৯৪; মুসনাদে আহমদ: ২০১১৪।
ইয়াজুজ-মাজুজ মানবজাতিরই একটি অংশ। অন্যান্য সকল মানুষের মতো তারাও হজরত আদম ও হজরত হাওয়া আলাইহিমাস সালামের সন্তান ও বংশধর। হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রাদি. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'ইয়াজুজ-মাজুজ আদম আলাইহিস সালামের সন্তানদের মধ্য থেকে। তারা যখন মানুষের নিকট আসবে তাদের সবকিছু নষ্ট করে ফেলবে। তাদের একজন মারা যাওয়ার সময় এক হাজারের অধিক সন্তান-সন্তুতি রেখে যাবে।'
মুসনাদে আহমদে হজরত সামুরা ইবনে জুনদুব রাদি. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'নুহ আলাইহিস সালামের সন্তান তিন জন। সাম—সে আরবদের পিতা। হাম—সে সুদানদের পিতা। ইয়াফেস—সে তুর্কিদের পিতা।'
টিকাঃ
৯৬. কানযুল উম্মাল: ৩৮৮৭২।
৯৭. কানযুল উম্মাল: ৩২৩৯৪; মুসনাদে আহমদ: ২০১১৪।
📄 কোথায় ইয়াজুজ-মাজুজের আবাসস্থল?
কতক উলামায়ে কিরাম বলেন, ইয়াজুজ-মাজুজ হলো ইয়াফেস এর বংশধর, যিনি তুর্কিদের পিতা। তাদেরকে যেহেতু বাদশাহ জুলকারনাইন লোহা ও সিসার সুদৃঢ় প্রাচীরের পেছনে ফেলে রেখেছেন তাই তাদেরকে তুরক বলা হয়। বর্তমানে কোথায় আছে ইয়াজুজ-মাজুজ? কোথায় কোন প্রাচীরের পেছনে তাদেরকে আটকে রাখা হয়েছে? এ নিয়ে একাধিক মত রয়েছে।
হজরত ইবনে আব্বাস রাদি. বলেন, ইয়াজুজ-মাজুজকে যে দুই প্রাচীরের মাঝে আবদ্ধ রাখা হয়েছে সে দুটি প্রাচীর হলো আরমেনিয়া ও আজারবাইজানের দুটি পাহাড়। আর কতক ইহুদি পণ্ডিত বলেন, ইয়াজুজ-মাজুজকে পৃথিবীর সর্বদক্ষিণে আটকে রাখা হয়েছে। বর্তমানে তা এতই দূরবর্তী যে, সেখানে তারা ব্যতীত অন্য কোনো মানুষের বসবাস সম্ভব নয়। আর কেউ কেউ বলেন, এটিই সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য মত—ইয়াজুজ-মাজুজ পৃথিবীর এমন এক স্থানে রয়েছে যার ব্যাপারে কেউ অবগত নয়। বরং আল্লাহ তায়ালাই তা মানুষের নিকট গোপন রেখেছেন।
বাদশাহ জুলকারনাইনের তিনটি সফরের কথা পবিত্র কুরআনে বর্ণিত আছে। এর মধ্যে প্রথম দুটি সফরের স্থান আল্লাহ তায়ালা উল্লেখ করেছেন। একটি হলো সূর্যাস্তের স্থান, দ্বিতীয়টি হলো সূর্যোদয়ের স্থান। কিন্তু তৃতীয় স্থানটির নাম আল্লাহ তায়ালা কুরআনুল কারিমে উল্লেখ করেননি। গোপন রেখেছেন। নিশ্চয় এর মাঝে আল্লাহ তায়ালার বিশেষ হিকমাহ ও প্রজ্ঞা রয়েছে। নাম গোপন রেখে বরং এভাবে বলেছেন, 'চলতে চলতে তিনি যখন দুই বাঁধের [পাহাড়ের] মাঝখানে পৌঁছলেন।' কোথায় এ জায়গা তা একমাত্র আল্লাহ তায়ালাই ভালো জানেন।
কতক উলামায়ে কিরাম বলেন, ইয়াজুজ-মাজুজ হলো ইয়াফেস এর বংশধর, যিনি তুর্কিদের পিতা। তাদেরকে যেহেতু বাদশাহ জুলকারনাইন লোহা ও সিসার সুদৃঢ় প্রাচীরের পেছনে ফেলে রেখেছেন তাই তাদেরকে তুরক বলা হয়। বর্তমানে কোথায় আছে ইয়াজুজ-মাজুজ? কোথায় কোন প্রাচীরের পেছনে তাদেরকে আটকে রাখা হয়েছে? এ নিয়ে একাধিক মত রয়েছে।
হজরত ইবনে আব্বাস রাদি. বলেন, ইয়াজুজ-মাজুজকে যে দুই প্রাচীরের মাঝে আবদ্ধ রাখা হয়েছে সে দুটি প্রাচীর হলো আরমেনিয়া ও আজারবাইজানের দুটি পাহাড়। আর কতক ইহুদি পণ্ডিত বলেন, ইয়াজুজ-মাজুজকে পৃথিবীর সর্বদক্ষিণে আটকে রাখা হয়েছে। বর্তমানে তা এতই দূরবর্তী যে, সেখানে তারা ব্যতীত অন্য কোনো মানুষের বসবাস সম্ভব নয়। আর কেউ কেউ বলেন, এটিই সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য মত—ইয়াজুজ-মাজুজ পৃথিবীর এমন এক স্থানে রয়েছে যার ব্যাপারে কেউ অবগত নয়। বরং আল্লাহ তায়ালাই তা মানুষের নিকট গোপন রেখেছেন।
বাদশাহ জুলকারনাইনের তিনটি সফরের কথা পবিত্র কুরআনে বর্ণিত আছে। এর মধ্যে প্রথম দুটি সফরের স্থান আল্লাহ তায়ালা উল্লেখ করেছেন। একটি হলো সূর্যাস্তের স্থান, দ্বিতীয়টি হলো সূর্যোদয়ের স্থান। কিন্তু তৃতীয় স্থানটির নাম আল্লাহ তায়ালা কুরআনুল কারিমে উল্লেখ করেননি। গোপন রেখেছেন। নিশ্চয় এর মাঝে আল্লাহ তায়ালার বিশেষ হিকমাহ ও প্রজ্ঞা রয়েছে। নাম গোপন রেখে বরং এভাবে বলেছেন, 'চলতে চলতে তিনি যখন দুই বাঁধের [পাহাড়ের] মাঝখানে পৌঁছলেন।' কোথায় এ জায়গা তা একমাত্র আল্লাহ তায়ালাই ভালো জানেন।
📄 একদিন ধ্বসে যাবে বন্দি-প্রাচীর
যখন ইয়াজুজ-মাজুজের আবির্ভাবের সময় ঘনিয়ে আসবে তখন নির্মিত সেই প্রাচীর আল্লাহর হুকুমে ভেঙে যাবে কিংবা ধসে যাবে। আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে সেখান থেকে বের করে দেবেন। কিন্তু ঠিক কীভাবে সেই প্রাচীর ভেদ করে তারা বের হবে পবিত্র কুরআনুল কারিমে এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট কিছু বলা হয়নি। ইরশাদ হয়েছে, 'যখন আমার প্রভুর প্রতিশ্রুতি এসে যাবে তখন তিনি একে সমান করে দেবেন।'
এ ব্যাপারে মুসনাদে আহমদে হজরত আবু হুরায়রা রাদি. থেকে বর্ণিত আছে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, প্রতিদিন তারা প্রাচীর ছিদ্রের কাজে নিয়োজিত হয়। যখন ছিদ্রের কাজ চালাতে চালাতে বের হওয়ার কাছাকাছি এসে যায় এবং সূর্যের আলো দেখতে পায় তখন তাদের মধ্যে একজন বলে, চল, আজকে তো অনেক করলাম। অবশিষ্টটুকু আগামীকাল এসে করব। কিন্তু পরদিন আল্লাহ আবার প্রাচীরকে পূর্বের ন্যায় শক্ত ও মজবুত করে দেন। তবে যেদিন আল্লাহর প্রতিশ্রুতির সময় ঘনিয়ে আসবে তখন তাদের একজন বলবে, আজ চল, আল্লাহ চাহেন তো আগামীকাল পূর্ণ খোদাই করে ফেলব। পরদিন তারা পূর্ণ খোদাই করে বের হয়ে আসবে।
পৃথিবীতে যখন অন্যায়-পাপাচার বেড়ে যাবে, অশ্লীলতা-বেহায়াপনা বৃদ্ধি পাবে, অবাধ্যতা ও নাফরমানি অতীতের চেয়ে বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে, সৎকাজের আদেশ এবং অসৎকাজের নিষেধ কমে যাবে তখনই ইয়াজুজ-মাজুজের আবির্ভাব হবে। তারা বের হয়ে এমন দ্রুত গতিতে চলতে থাকবে যেন ধনুক থেকে তির বের হয়ে ছুটে যাচ্ছে। তাদের সে চলার গতির কম্পনে পাহাড়ের চূড়াগুলো ভেঙে পড়বে। প্রত্যেক উঁচু ভূমি থেকে তারা প্রচণ্ড বেগে নেমে আসবে। মানুষ, প্রাণী, সকল খাদ্য ও পানীয় তারা নষ্ট করে ফেলবে। তাদের আকার-আকৃতি এতই ভয়ানক হবে যে লোকেরা তাদের থেকে পলায়ন করতে থাকবে। লোকালয় ও জনপদ ছেড়ে তারা আশ্রয় নেবে পাহাড়ে ও গৃহাভ্যন্তরে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং সাহাবায়ে কিরাম তাদের দুআয় ইয়াজুজ-মাজুজের ফিতনা থেকে মুক্তির জন্য দুআ করতেন।
টিকাঃ
৯৮. মুসনাদে আহমদ; মুসতাদরাকে হাকেম।
যখন ইয়াজুজ-মাজুজের আবির্ভাবের সময় ঘনিয়ে আসবে তখন নির্মিত সেই প্রাচীর আল্লাহর হুকুমে ভেঙে যাবে কিংবা ধসে যাবে। আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে সেখান থেকে বের করে দেবেন। কিন্তু ঠিক কীভাবে সেই প্রাচীর ভেদ করে তারা বের হবে পবিত্র কুরআনুল কারিমে এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট কিছু বলা হয়নি। ইরশাদ হয়েছে, 'যখন আমার প্রভুর প্রতিশ্রুতি এসে যাবে তখন তিনি একে সমান করে দেবেন।'
এ ব্যাপারে মুসনাদে আহমদে হজরত আবু হুরায়রা রাদি. থেকে বর্ণিত আছে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, প্রতিদিন তারা প্রাচীর ছিদ্রের কাজে নিয়োজিত হয়। যখন ছিদ্রের কাজ চালাতে চালাতে বের হওয়ার কাছাকাছি এসে যায় এবং সূর্যের আলো দেখতে পায় তখন তাদের মধ্যে একজন বলে, চল, আজকে তো অনেক করলাম। অবশিষ্টটুকু আগামীকাল এসে করব। কিন্তু পরদিন আল্লাহ আবার প্রাচীরকে পূর্বের ন্যায় শক্ত ও মজবুত করে দেন। তবে যেদিন আল্লাহর প্রতিশ্রুতির সময় ঘনিয়ে আসবে তখন তাদের একজন বলবে, আজ চল, আল্লাহ চাহেন তো আগামীকাল পূর্ণ খোদাই করে ফেলব। পরদিন তারা পূর্ণ খোদাই করে বের হয়ে আসবে।
পৃথিবীতে যখন অন্যায়-পাপাচার বেড়ে যাবে, অশ্লীলতা-বেহায়াপনা বৃদ্ধি পাবে, অবাধ্যতা ও নাফরমানি অতীতের চেয়ে বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে, সৎকাজের আদেশ এবং অসৎকাজের নিষেধ কমে যাবে তখনই ইয়াজুজ-মাজুজের আবির্ভাব হবে। তারা বের হয়ে এমন দ্রুত গতিতে চলতে থাকবে যেন ধনুক থেকে তির বের হয়ে ছুটে যাচ্ছে। তাদের সে চলার গতির কম্পনে পাহাড়ের চূড়াগুলো ভেঙে পড়বে। প্রত্যেক উঁচু ভূমি থেকে তারা প্রচণ্ড বেগে নেমে আসবে। মানুষ, প্রাণী, সকল খাদ্য ও পানীয় তারা নষ্ট করে ফেলবে। তাদের আকার-আকৃতি এতই ভয়ানক হবে যে লোকেরা তাদের থেকে পলায়ন করতে থাকবে। লোকালয় ও জনপদ ছেড়ে তারা আশ্রয় নেবে পাহাড়ে ও গৃহাভ্যন্তরে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং সাহাবায়ে কিরাম তাদের দুআয় ইয়াজুজ-মাজুজের ফিতনা থেকে মুক্তির জন্য দুআ করতেন।
টিকাঃ
৯৮. মুসনাদে আহমদ; মুসতাদরাকে হাকেম।
📄 ইয়াজুজ-মাজুজের অবসান
হজরত নাওয়াস ইবনে সামআন রাদি. থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, একদা সকালে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাজ্জাল সম্পর্কে আলোচনা করলেন। তিনি বললেন, দাজ্জাল নয় বরং তোমাদের ব্যাপারে আমি অন্য কিছুর ভয় করছি। তবে শোনো, আমি তোমাদের মধ্যে বিদ্যমান থাকা অবস্থায় যদি দাজ্জালের আত্মপ্রকাশ হয় করে তাহলে আমি নিজেই তাকে প্রতিহত করব। আর যদি আমি তোমাদের মধ্যে না থাকা অবস্থায় দাজ্জালের আত্মপ্রকাশ হয় তবে প্রত্যেক মুমিন লোক নিজের পক্ষ থেকে তাকে প্রতিহত করবে।
সে এক সম্প্রদায়ের কাছে এসে তাদেরকে কুফরির দিকে ডাকবে। তারা তার ওপর ঈমান আনবে। অতঃপর সে আকাশকে আদেশ করবে। আকাশ বৃষ্টি বর্ষণ করবে। ভূমিকে নির্দেশ দেবে, ফলে ভূমি শস্য উৎপন্ন করবে। তারপর দাজ্জাল অপর এক সম্প্রদায়ের কাছে আসবে। তারা তার আহ্বানে সাড়া দেবে না। ফলে সে তাদের নিকট থেকে প্রত্যাবর্তন করবে। অমনি তাদের মধ্যে দুর্ভিক্ষ ও পানির অভাব দেখা দেবে। তখন দাজ্জাল এক পতিত স্থান অতিক্রমকালে সেটিকে সম্বোধন করে বলবে, তুমি তোমার গুপ্তধন বের করে দাও। তখন জমিনের ধনভান্ডার বের হয়ে তার চতুষ্পার্শে একত্রিত হতে থাকবে। অতঃপর দাজ্জাল এক যুবক ব্যক্তিকে ডেকে আনবে এবং তাকে তরবারি দ্বারা আঘাত করে দুই টুকরো করে ফেলবে। তারপর সে আবার তাকে আহ্বান করবে। যুবক হাস্যোজ্জ্বল চেহারায় এগিয়ে আসবে।
এ সময় আল্লাহ তায়ালা ইসা ইবনে মারইয়ামকে প্রেরণ করবেন। তিনি দামেস্ক নগরীর পূর্ব দিকের উজ্জ্বল মিনারে অবতরণ করবেন। তিনি দাজ্জালকে সন্ধান করতে থাকবেন এবং অবশেষে তাকে বাবে লুদ নামক স্থানে গিয়ে পাকড়াও করবেন ও হত্যা করবেন। তারপর ইসা আলাইহিস সালাম ওই সম্প্রদায়ের নিকট যাবেন, যাদেরকে আল্লাহ তায়ালা দাজ্জালের বিপর্যয় থেকে রক্ষা করেছেন। এমন সময় আল্লাহ তায়ালা ইসা আলাইহিস সালামের প্রতি এ মর্মে প্রত্যাদেশ অবতীর্ণ করবেন যে, আমি আমার এমন বান্দাদের আবির্ভাব ঘটিয়েছি, যাদের সঙ্গে কারোরই যুদ্ধ করার ক্ষমতা নেই। অতঃপর তুমি আমার মুমিন বান্দাদেরকে নিয়ে তুর পাহাড়ে চলে যাও। তখন আল্লাহ তায়ালা ইয়াজুজ-মাজুজ সম্প্রদায়কে প্রেরণ করবেন।
তারা ছাড়া পেয়ে পৃথিবীর সব প্রান্তে দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে। তাদের প্রথম দলটি বুহাইরায়ে তাবারিয়ার উপকূলে এসে এর সমুদয় পানি পান করে নিঃশেষ করে দেবে। তারা আল্লাহর নবী ইসা আলাইহিস সালাম এবং তার সাথিদেরকে অবরোধ করে রাখবে। তখন আল্লাহর নবী ইসা আলাইহিস সালাম এবং তার সঙ্গীগণ আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করবেন। আল্লাহ তাদের দুআ কবুল করবেন। ইয়াজুজ-মাজুজ সম্প্রদায়ের ওপর তিনি আজাব প্রেরণ করবেন। তাদের ঘাড়ে একপ্রকার পোকা হবে। এতে সবাই মরে নিঃশেষ হয়ে যাবে। তারপর ইসা আলাইহিস সালাম ও তার সঙ্গীগণ পাহাড় থেকে জমিনে অবতরণ করবেন। এরপর আল্লাহ তায়ালা লম্বা ঘাড়ের পাখি প্রেরণ করবেন যারা লাশগুলো সরিয়ে ফেলবে। অতঃপর আল্লাহ মুষলধারে এমন বৃষ্টি বর্ষণ করবেন যার ফলে জমিন বিধৌত হয়ে পরিষ্কার হয়ে যাবে।
সেদিন একদল মানুষ একটি ডালিম ভক্ষণ করবে এবং এর বাকলের নিচে ছায়া গ্রহণ করবে। দুধের মধ্যে বরকত হবে। এ সময় আল্লাহ তায়ালা অত্যন্ত আরামদায়ক একটি বায়ু প্রেরণ করবেন। এ বায়ু সকল মুমিন লোকদের বগলে গিয়ে লাগবে এবং সমস্ত মুমিন মুসলিমদের আত্মা কবজ করে নিয়ে যাবে। তখন একমাত্র মন্দ লোকেরাই এ পৃথিবীতে অবশিষ্ট থাকবে। এদের ওপরই কিয়ামত সংঘটিত হবে।
কুরআনুল কারিমের এই আয়াত পড়ো ও গভীরার্থে তাদাব্বুর-চিন্তা করো—'যখন ইয়াজুজ-মাজুজকে বন্দি অবস্থা থেকে ছেড়ে দেওয়া হবে, আর তারা প্রতিটি উচ্চভূমি থেকে দ্রুত নেমে আসবে। সত্য প্রতিশ্রুতি [কিয়ামত] ঘনিয়ে আসছে দেখেই ভয়ে কাফেরদের চোখ স্থির হয়ে যাবে। তারা বলবে, হায়রে আমাদের দুর্ভোগ! এ ব্যাপারে আমরা একেবারে বেখবর ছিলাম। না না, বরং আমরা জালেম ছিলাম।'
টিকাঃ
৯৯. সহিহ মুসলিম: ৭১০৬।
১০০. সুরা আম্বিয়া: ৯৬-১১২।
হজরত নাওয়াস ইবনে সামআন রাদি. থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, একদা সকালে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাজ্জাল সম্পর্কে আলোচনা করলেন। তিনি বললেন, দাজ্জাল নয় বরং তোমাদের ব্যাপারে আমি অন্য কিছুর ভয় করছি। তবে শোনো, আমি তোমাদের মধ্যে বিদ্যমান থাকা অবস্থায় যদি দাজ্জালের আত্মপ্রকাশ হয় করে তাহলে আমি নিজেই তাকে প্রতিহত করব। আর যদি আমি তোমাদের মধ্যে না থাকা অবস্থায় দাজ্জালের আত্মপ্রকাশ হয় তবে প্রত্যেক মুমিন লোক নিজের পক্ষ থেকে তাকে প্রতিহত করবে।
সে এক সম্প্রদায়ের কাছে এসে তাদেরকে কুফরির দিকে ডাকবে। তারা তার ওপর ঈমান আনবে। অতঃপর সে আকাশকে আদেশ করবে। আকাশ বৃষ্টি বর্ষণ করবে। ভূমিকে নির্দেশ দেবে, ফলে ভূমি শস্য উৎপন্ন করবে। তারপর দাজ্জাল অপর এক সম্প্রদায়ের কাছে আসবে। তারা তার আহ্বানে সাড়া দেবে না। ফলে সে তাদের নিকট থেকে প্রত্যাবর্তন করবে। অমনি তাদের মধ্যে দুর্ভিক্ষ ও পানির অভাব দেখা দেবে। তখন দাজ্জাল এক পতিত স্থান অতিক্রমকালে সেটিকে সম্বোধন করে বলবে, তুমি তোমার গুপ্তধন বের করে দাও। তখন জমিনের ধনভান্ডার বের হয়ে তার চতুষ্পার্শে একত্রিত হতে থাকবে। অতঃপর দাজ্জাল এক যুবক ব্যক্তিকে ডেকে আনবে এবং তাকে তরবারি দ্বারা আঘাত করে দুই টুকরো করে ফেলবে। তারপর সে আবার তাকে আহ্বান করবে। যুবক হাস্যোজ্জ্বল চেহারায় এগিয়ে আসবে।
এ সময় আল্লাহ তায়ালা ইসা ইবনে মারইয়ামকে প্রেরণ করবেন। তিনি দামেস্ক নগরীর পূর্ব দিকের উজ্জ্বল মিনারে অবতরণ করবেন। তিনি দাজ্জালকে সন্ধান করতে থাকবেন এবং অবশেষে তাকে বাবে লুদ নামক স্থানে গিয়ে পাকড়াও করবেন ও হত্যা করবেন। তারপর ইসা আলাইহিস সালাম ওই সম্প্রদায়ের নিকট যাবেন, যাদেরকে আল্লাহ তায়ালা দাজ্জালের বিপর্যয় থেকে রক্ষা করেছেন। এমন সময় আল্লাহ তায়ালা ইসা আলাইহিস সালামের প্রতি এ মর্মে প্রত্যাদেশ অবতীর্ণ করবেন যে, আমি আমার এমন বান্দাদের আবির্ভাব ঘটিয়েছি, যাদের সঙ্গে কারোরই যুদ্ধ করার ক্ষমতা নেই। অতঃপর তুমি আমার মুমিন বান্দাদেরকে নিয়ে তুর পাহাড়ে চলে যাও। তখন আল্লাহ তায়ালা ইয়াজুজ-মাজুজ সম্প্রদায়কে প্রেরণ করবেন।
তারা ছাড়া পেয়ে পৃথিবীর সব প্রান্তে দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে। তাদের প্রথম দলটি বুহাইরায়ে তাবারিয়ার উপকূলে এসে এর সমুদয় পানি পান করে নিঃশেষ করে দেবে। তারা আল্লাহর নবী ইসা আলাইহিস সালাম এবং তার সাথিদেরকে অবরোধ করে রাখবে। তখন আল্লাহর নবী ইসা আলাইহিস সালাম এবং তার সঙ্গীগণ আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করবেন। আল্লাহ তাদের দুআ কবুল করবেন। ইয়াজুজ-মাজুজ সম্প্রদায়ের ওপর তিনি আজাব প্রেরণ করবেন। তাদের ঘাড়ে একপ্রকার পোকা হবে। এতে সবাই মরে নিঃশেষ হয়ে যাবে। তারপর ইসা আলাইহিস সালাম ও তার সঙ্গীগণ পাহাড় থেকে জমিনে অবতরণ করবেন। এরপর আল্লাহ তায়ালা লম্বা ঘাড়ের পাখি প্রেরণ করবেন যারা লাশগুলো সরিয়ে ফেলবে। অতঃপর আল্লাহ মুষলধারে এমন বৃষ্টি বর্ষণ করবেন যার ফলে জমিন বিধৌত হয়ে পরিষ্কার হয়ে যাবে।
সেদিন একদল মানুষ একটি ডালিম ভক্ষণ করবে এবং এর বাকলের নিচে ছায়া গ্রহণ করবে। দুধের মধ্যে বরকত হবে। এ সময় আল্লাহ তায়ালা অত্যন্ত আরামদায়ক একটি বায়ু প্রেরণ করবেন। এ বায়ু সকল মুমিন লোকদের বগলে গিয়ে লাগবে এবং সমস্ত মুমিন মুসলিমদের আত্মা কবজ করে নিয়ে যাবে। তখন একমাত্র মন্দ লোকেরাই এ পৃথিবীতে অবশিষ্ট থাকবে। এদের ওপরই কিয়ামত সংঘটিত হবে।
কুরআনুল কারিমের এই আয়াত পড়ো ও গভীরার্থে তাদাব্বুর-চিন্তা করো—'যখন ইয়াজুজ-মাজুজকে বন্দি অবস্থা থেকে ছেড়ে দেওয়া হবে, আর তারা প্রতিটি উচ্চভূমি থেকে দ্রুত নেমে আসবে। সত্য প্রতিশ্রুতি [কিয়ামত] ঘনিয়ে আসছে দেখেই ভয়ে কাফেরদের চোখ স্থির হয়ে যাবে। তারা বলবে, হায়রে আমাদের দুর্ভোগ! এ ব্যাপারে আমরা একেবারে বেখবর ছিলাম। না না, বরং আমরা জালেম ছিলাম।'
টিকাঃ
৯৯. সহিহ মুসলিম: ৭১০৬।
১০০. সুরা আম্বিয়া: ৯৬-১১২।