📘 প্রতীক্ষিত মাহদি দাজ্জাল ও ইয়াজুজ মাজুজ 📄 দাজ্জাল ও তার অনুসারীদের পতন

📄 দাজ্জাল ও তার অনুসারীদের পতন


হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী অচিরেই দাজ্জালের আবির্ভাব ঘটবে। রাসুলের কথা কখনো মিথ্যা হতে পারে না। দাজ্জাল যখন পৃথিবীতে ধ্বংস ও বিপর্যয় সৃষ্টি করবে, অত্যাচার ও জুলুম নিপীড়নে অতিষ্ঠ করে তুলবে মানবজাতিকে, আল্লাহ তায়ালা তখন হজরত ইসা আলাইহিস সালামকে আসমান থেকে অবতরণের নির্দেশ দেবেন। হজরত ইসা আলাইহিস সালাম অবতরণ করে খ্রিষ্টানদের তৈরি ক্রুশ ভেঙে ফেলবেন। শূকর হত্যা করবেন। হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শরিয়ত অনুযায়ী ফয়সালা করবেন।

উলামায়ে কিরাম বলেন, ইহুদিরা এ দাবি করে যে, তারা হজরত ইসা আলাইহিস সালামকে হত্যা করেছে। আল্লাহ তায়ালা হজরত ইসা আলাইহিস সালামকে প্রেরণ করে এ কথা সুস্পষ্ট করে দেবেন যে তাদের দাবি মিথ্যা। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, 'তারা তাকে হত্যা করেনি এবং ক্রুশবিদ্ধও করেনি। বরং তারা ধাঁধায় পড়েছিল।' হজরত ইসা আলাইহিস সালামের অবতরণ এ কথার প্রমাণস্বরূপ যে, তিনি মৃত্যুবরণ করেননি। তিনি পৃথিবীতে অবতরণ করবেন এবং দাজ্জাল ও তার অনুসারীদের মূলোৎপাটন করবেন।

হজরত ইসা আলাইহিস সালাম হলেন মাসিহুল হুদা আর দাজ্জাল হলো মাসিহুদ দাজ্জাল। দাজ্জাল যখন হজরত ইসা আলাইহিস সালামকে দেখবে তখন লবণ যেমন পানিতে গলে যায় তেমনি দাজ্জালও গলে যাবে। হজরত জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ রাদি. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, দাজ্জাল এমন সময় বের হবে যখন মানুষ ধর্মকে কিছুই মনে করবে না। সে পৃথিবীতে ঘুরে বেড়াবে চল্লিশ রাত। তার একটি দিন হবে এক বছরে সমান, আরেক দিন হবে এক মাসের সমান এবং আরেক দিন হবে এক সপ্তাহের সমান। সে লোকদেরকে বলবে, আমি তোমাদের প্রভু। সে হবে কানা। তোমাদের প্রভু কানা নন। অক্ষর ও নিরক্ষর প্রতিটি মুমিন তার কপালে লেখা 'কাফের' শব্দটি পড়তে পারবে। অতঃপর ভোর বেলায় ইসা আলাইহিস সালাম অবতরণ করবেন। তিনি এই বলে তাদেরকে আহ্বান করবেন, 'হে লোক সকল! কিসে তোমাদেরকে বাধ্য করলো মিথ্যাবাদী খবিশের দিকে বের হতে?' তারা বলবে, 'এই লোকটি তো জিন।' তারা ইসা আলাইহিস সালামের সাথে থাকা অবস্থায়ই নামাজের জন্য ইকামত দেওয়া হবে। তিনি বলবেন, 'তোমাদের ইমামকে এগিয়ে দাও যেন তিনি তোমাদেরকে নিয়ে নামাজ আদায় করেন।' অতঃপর ফজরের নামাজ শেষে তারা দাজ্জালের দিকে রওনা হবেন। দাজ্জাল তাকে দেখামাত্র বিগলিত হয়ে যাবে যেমন লবণ পানিতে বিগলিত হয়ে যায়। অতঃপর তিনি তার দিকে অগ্রসর হয়ে তাকে হত্যা করবেন।

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আজাদকৃত গোলাম সাফিনাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন এবং বললেন, দাজ্জালের সাথে দুটি উপত্যকা থাকবে। একটি জান্নাত এবং অপরটি জাহান্নাম। তার জাহান্নাম হবে জান্নাত আর জান্নাত হবে জাহান্নাম। অতঃপর সে ভ্রমণ করবে এমনকি সিরিয়ায় এসে উপস্থিত হবে। মহান আল্লাহ তাকে আকাবায়ে আফিকের নিকটে ধ্বংস করবেন।

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাদি. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, দাজ্জাল এই অনুর্বর বালুময় ভূমির নালার পাশে অবতরণ করবে। তার কাছে যারা আগমন করবে তাদের অধিকাংশই থাকবে মহিলা। তারপর আল্লাহ তা'আলা মুসলমানদেরকে তার ওপর কর্তৃত্ব দেবেন। তারা তাকে ও তার অনুসারীদেরকে হত্যা করবেন। এমনকি ইহুদিরা গাছ অথবা পাথরের আড়ালে লুকিয়ে থাকবে। তখন পাথর অথবা গাছ মুসলমানদের ডেকে বলবে, 'এইতো আমার পেছনে ইহুদি, সুতরাং তাকে হত্যা করো।'

উম্মু শারিক বলেন, হে আল্লাহর রাসুল! যেদিন ইসা আলাইহিস সালাম আসমান থেকে অবতরণ করবেন সেদিন আরবের লোকজন কোথায় থাকবে? উত্তরে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সেদিন তারা সংখ্যায় হবে খুব অল্প। তাদের ইমাম হলেন মাহদি। তিনি একজন সৎ ব্যক্তি। এমন অবস্থায় একদিন ইমাম মাহদি তাদের নিয়ে ফজরের নামাজ আদায় করবেন। তখন ইসা ইবনে মারইয়াম সকাল বেলা আকাশ থেকে অবতরণ করবেন। তাকে দেখে ইমাম মাহদি পেছনে সরে যাবেন যেন ইসা আলাইহিস সালাম সামনে গিয়ে নামাজের ইমামতি করেন। তখন ইসা আলাইহিস সালাম তার হাত ইমাম মাহদির দুই কাঁধের ওপর রেখে বলবেন, আপনি সামনে যান এবং নামাজের ইমামতি করুন। কেননা, এই নামাজ আপনার জন্যই কায়েম হয়েছিল। নামাজ শেষে ইসা আলাইহিস সালাম বলবেন, দরজা খুলে দাও। আর দরজার পেছনে থাকবে দাজ্জাল। তার সঙ্গে থাকবে সত্তর হাজার ইহুদি। দাজ্জাল যখন ইসা আলাইহিস সালামকে দেখবে তখন সে বিগলিত হয়ে যাবে। পরিশেষে তিনি তাকে বাবে লুদের পূর্ব দিকে পাবেন এবং তাকে হত্যা করবেন। আল্লাহ ইহুদিদের পরাজিত করবেন। তখন ইহুদিরা আল্লাহর সৃষ্ট যে-কোনো বস্তুর আড়ালে লুকিয়ে থাকুক না কেন সে বস্তুকে আল্লাহ বাকশক্তি দান করবেন। তবে একটি গাছ হবে ব্যতিক্রম, যার নাম গারকাদ।

টিকাঃ
৬৭. সুরা নিসা: ১৫৭।
৬৮. সুরা ফাতহ: ২৯।
৬৯. মুসনাদে আহমদ: ২৩/২২১।
৭০. মুসনাদে আহমদ: ৩৬/২৫৮।
৭১. মুসনাদে আহমদ: ৫৩৬৩।
৭২. সুরা মুহাম্মদ: ১৮-১৯।

📘 প্রতীক্ষিত মাহদি দাজ্জাল ও ইয়াজুজ মাজুজ 📄 ইয়াজুজ-মাজুজ সুন্দর পৃথিবীর দুশমন

📄 ইয়াজুজ-মাজুজ সুন্দর পৃথিবীর দুশমন


ইতঃপূর্বে কিয়ামতের বড়ো দুই নিদর্শন হজরত ইমাম মাহদির আগমন ও দাজ্জালের ফিতনা সম্পর্কে নাতিদীর্ঘ আলোকপাত করেছি। দাজ্জাল হবে ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ংকর ফিতনা। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সতর্ক করে তার উম্মতকে বলেছেন, 'যে ব্যক্তি দাজ্জালের আত্মপ্রকাশের খবর শুনবে, সে যেন তার থেকে দূরে সরে যায়। আল্লাহর কসম! নিজেকে মুমিন ধারণকারী একজন ব্যক্তি দাজ্জালের কাছে আসবে। অতঃপর সে দাজ্জালের সৃষ্ট অলৌকিক বিষয়গুলো দেখে তার অনুসারী হয়ে যাবে।'

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমাদের মধ্যে যখন কেউ নামাজে তাশাহুদ পড়বে তখন সে যেন চারটি বস্তু থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করে—১. জাহান্নামের শাস্তি থেকে, ২. কবরের শাস্তি থেকে, ৩. জীবন-মরণের ফিতনা থেকে এবং ৪. দাজ্জালের অনিষ্টতা থেকে।

এই পর্যায়ে আলোচনা করব, কিয়ামতের অন্যতম নিদর্শন ইয়াজুজ-মাজুজের আবির্ভাব সম্পর্কে। এই আলোচনার উদ্দেশ্য হলো, লোকদেরকে উপদেশ দেওয়া। গাফলত ও উদাসীনতার নিদ্রা থেকে জাগ্রত করা। যেন তারা অবাধ্যতা ও পাপাচার থেকে ফিরে আসে। আখেরাতের প্রস্তুতি গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করা। জাহান্নাম থেকে বেঁচে জান্নাত কামনার প্রতি অনুপ্রাণিত করা। কিয়ামতের বিভীষিকা সম্পর্কে ধারণা লাভ দেওয়া। ভীতি ও শঙ্কা সৃষ্টি করা। অন্তরে ভয় যেমন মানুষকে অন্ধকার রজনীতে দূর কোনো পাহাড়ি গুহায় প্রবেশ করতে বারণ করে তেমনি মৃত্যু, কবর, পরকাল, হাশর, পুলসিরাত মুমিনদেরকে পাপ ও হারাম কাজে মগ্ন হওয়া থেকে শক্তভাবে বিরত রাখবে। নিছক রহস্য উন্মোচন এবং রোমাঞ্চ অনুভব করা এ আলোচনার উদ্দেশ্য নয়।

টিকাঃ
৭৩. সুনানে নাসায়ি: ১৩০৯।

📘 প্রতীক্ষিত মাহদি দাজ্জাল ও ইয়াজুজ মাজুজ 📄 ইয়াজুজ-মাজুজ আবির্ভাবের সময়কাল

📄 ইয়াজুজ-মাজুজ আবির্ভাবের সময়কাল


আল্লাহ তায়ালার নির্দেশে হজরত ইসা আলাইহিস সালাম আসমান থেকে পৃথিবীর মাটিতে অবতরণ করবেন। তিনি পৃথিবীতে অবতরণ-পরবর্তী সাত বছর বা তার বেশি সময় অবস্থান করবেন। হজরত ইসা আলাইহিস সালামের সময়কালেই প্রাচীর ধসিয়ে লোকালয়ে আত্মপ্রকাশ করবে ইয়াজুজ-মাজুজ। তাদের আগমন মানব সভ্যতার জন্য ভয়াবহ ধ্বংস ও পতনের কারণ হবে। সারা পৃথিবী তারা ওলট-পালট করে ফেলবে। ইয়াজুজ-মাজুজের ফিতনা এতই ভয়ানক হবে যে, একদিন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবায়ে কিরামকে এর থেকে সতর্ক করতে গিয়ে এতই অস্থির হয়ে পড়েছিলেন যে, তিনি ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন এবং তার চেহারা রক্তবর্ণ ধারণ করে।

হজরত যয়নব বিনতে জাহাশ রাদি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে বের হলেন। তিনি বলছিলেন, 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ! আরব বিশ্বের আগত অকল্যাণের দরুন বড়োই পরিতাপ যা প্রায় ঘনিয়ে আসছে। আজ ইয়াজুজ-মাজুজ এর প্রাচীর এতটুকু পরিমাণ উন্মুক্ত হয়ে গেছে।' আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! আমাদের মাঝে অনেক সৎ লোক থাকা অবস্থায়ও কি আমরা ধ্বংসপ্রাপ্ত হব? তিনি বললেন, 'হ্যাঁ, যখন পাপাচার অধিক পরিমাণে বেড়ে যাবে।'

পাপাচার বা 'খুবাস' এর ব্যাখ্যায় উলামায়ে কিরাম বলেছেন অশ্লীলতা ও ব্যভিচার। পৃথিবীতে যখন ব্যাপকহারে গোনাহ-পাপাচার বেড়ে যাবে তখন সকলের ওপরই ধ্বংস নেমে আসবে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিয়ামতের দশটি বিশেষ নিদর্শন সম্পর্কে বলেছেন: ১. ধুম্র, ২. দাজ্জাল, ৩. দাব্বা, ৪. পশ্চিমাকাশ থেকে সূর্যোদয়, ৫. হজরত ইসা (আ.)-এর অবতরণ, ৬. ইয়াজুজ-মাজুজ, ৭, ৮ ও ৯. তিনটি ভূখণ্ড ধ্বস এবং ১০. এক অগ্নুৎপাত যা মানুষকে হাশরের ময়দানের দিকে তাড়িয়ে নিয়ে যাবে।

ইয়াজুজ-মাজুজ মানব প্রজাতির অংশ। তারা বর্তমানে বাদশাহ জুলকারনাইনের তৈরি প্রাচীরের পেছনে বন্দি জীবনযাপন করছে। যখন কিয়ামত নিকটবর্তী হবে তারা শক্তিশালী সে প্রাচীর ধসিয়ে দেবে এবং মানবসমাজে বেরিয়ে আসবে। তারা অত্যন্ত শক্তিশালী জাতি। পৃথিবীর কেউ তাদের শক্তির সমকক্ষ নয়। তারা বের হয়ে এমন দ্রুত গতিতে চলতে থাকবে যেন ধনুক থেকে তির বের হয়ে ছুটে যাচ্ছে। তাদের সে চলার গতির কম্পনে পাহাড়ের চূড়াগুলো ভেঙে পড়বে। প্রত্যেক উঁচু ভূমি থেকে তারা প্রচণ্ড বেগে নেমে আসবে। মানুষ, প্রাণী, সকল খাদ্য ও পানীয় তারা নষ্ট করে ফেলবে। ভয়ে মানুষের অন্তরাত্মা কেঁপে উঠবে।

টিকাঃ
৭৪. সহিহ মুসলিম: ৬৯৭৩।
৭৫. সহিহ মুসলিম: ৬৯৭১।
৭৬. সহিহ মুসলিম: ৭০২১।

📘 প্রতীক্ষিত মাহদি দাজ্জাল ও ইয়াজুজ মাজুজ 📄 কুরআনুল কারিমে ইয়াজুজ-মাজুজের আলোচনা

📄 কুরআনুল কারিমে ইয়াজুজ-মাজুজের আলোচনা


কুরআনুল কারিমের দুটি জায়গায় আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইয়াজুজ-মাজুজের আলোচনা করেছেন। প্রথমটি হলো সুরা আম্বিয়ায় বর্ণিত আয়াত: 'অবশেষে যখন ইয়াজুজ-মাজুজকে ছেড়ে দেওয়া হবে, আর তারা প্রতিটি উচ্চভূমি থেকে দ্রুত নেমে আসবে।'

দ্বিতীয়টি হলো, সুরা কাহাফে বর্ণিত বাদশাহ জুলকারনাইনের ঘটনা। যেতে যেতে তিনি যখন দুই পর্বতের মাঝে পৌঁছলেন তখন সেখানে একদল লোককে পেলেন যারা তার কোনো কথাই বুঝতে পারছিল না। তারা বলল, হে জুলকারনাইন! ইয়াজুজু-মাজুজ দেশে বড়ো ফিতনা-ফ্যাসাদ করছে। অতএব আপনি আমাদের ও তাদের মধ্যে একটি প্রাচীর তৈরি করে দিন। তিনি বললেন, আমার প্রভু আমাকে যে সামর্থ্য দিয়েছেন তাই ভালো। তোমরা আমাকে জনবল দিয়ে সাহায্য করো। তোমরা আমাকে লৌহপিণ্ড এনে দাও। অতঃপর দুই পাহাড়ের মধ্যবর্তী ফাঁকা জায়গা ভরাট করে তিনি সিসা ও তামা ঢেলে প্রাচীরটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও মজবুত করলেন। ফলে ইয়াজুজ-মাজুজ ওই প্রাচীর ডিঙাতে পারেনি এবং তাতে ছিদ্রও করতে পারেনি। জুলকারনাইন বললেন, এটা আমার প্রভুর পক্ষ থেকে এক অনুগ্রহ। তবে যখন আমার প্রভুর প্রতিশ্রুতি এসে যাবে তখন তিনি একে মাটির সাথে সমান করে দেবেন।

এই হলো মুত্তাকি, খোদাভীরু ও আল্লাহর অনুগত বান্দাদের অবস্থা। তারা যখন কোনো ভালো কাজ সম্পাদন করেন তখন আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেন। পক্ষান্তরে যারা অহংকারী, কারুনের মতো, তারা সবকিছু নিজেদের কৃতিত্ব বলে জ্ঞান করে।

ইয়াজুজ-মাজুজ যেদিন পৃথিবীতে বেরিয়ে আসবে সেদিনের অবস্থা হবে অত্যন্ত ভয়াবহ। বুখারি ও মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তায়ালা কিয়ামতের দিন ডাকবেন, হে আদম! তখন তিনি জবাব দেবেন, হে আল্লাহ! আমি হাজির। তখন আল্লাহ বলবেন, জাহান্নামিদের বের করে দাও। আদম (আ.) বলবেন, জাহান্নামি কারা? আল্লাহ বলবেন, প্রতি হাজারে নয়শ নিরানব্বই জন। এ সময়কার ভয়াবহতায় গর্ভবতী তার গর্ভপাত করে ফেলবে। সাহাবায়ে কিরাম বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমাদের মধ্যে মুক্তিপ্রাপ্ত একজন কে? তিনি বললেন, তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ করো। কেননা, একজন হবে তোমাদের মধ্য থেকে আর এক হাজারের অবশিষ্টরা হবে ইয়াজুজ-মাজুজ থেকে।

সেদিন কাফেরদের চোখের সামনে জাহান্নামকে উপস্থিত করা হবে। এই কুরআন মানুষের জন্য একটি বার্তা; যাতে এর দ্বারা তাদেরকে সতর্ক করা যায় এবং যাতে বুদ্ধিমানরা শিক্ষা গ্রহণ করে।

টিকাঃ
৭৭. সুরা আম্বিয়া: ৯৬।
৭৮. সুরা কাহাফ: ৯৩-৯৯।
৭৯. সুরা কাহাফ: ৯৩।
৮০. সুরা কাহাফ: ৯৪।
৮১. সুরা কাহাফ: ৯৪।
৮২. সুরা কাহাফ: ৯৫।
৮৩. সুরা কাহাফ: ৯৫।
৮৪. সুরা কাহাফ: ৯৬।
৮৫. সুরা কাহাফ: ৯৬।
৮৬. সুরা কাহাফ: ৯৬।
৮৭. সুরা কাহাফ: ৯৭।
৮৮. সুরা কাহাফ: ৯৭।
৮৯. সুরা নামল: ৪০।
৯০. সুরা কাসাস: ৭৮।
৯১. সুরা কাসাস: ৮১।
৯২. সুরা কাহাফ: ৯৯।
৯৩. সুরা আম্বিয়া: ৯৬।
৯৪. সহিহ বুখারি: ৩১৭০।
৯৫. সুরা কাহাফ: ৯৯-১০৬।

ফন্ট সাইজ
15px
17px