📘 প্রতীক্ষিত মাহদি দাজ্জাল ও ইয়াজুজ মাজুজ 📄 তখন কেমন হবে মানুষের অবস্থা?

📄 তখন কেমন হবে মানুষের অবস্থা?


দাজ্জাল যখন পৃথিবীতে আগমন করবে তখন মানুষের অবস্থা হবে অত্যন্ত করুণ। ক্ষুধা, দারিদ্র্য, দুর্ভিক্ষ, মহামারি, মূর্খতা-অজ্ঞতা, জুলুম, নিপীড়ন ও চারিত্রিক মারাত্মক অবক্ষয় দেখা দেবে। মানবজাতি তখন অতিক্রম করবে দুঃখ ও দুর্দশার এক নিদারুণ ক্রান্তিকাল। দাজ্জাল একে নিজের আধিপত্য ও প্রচার-প্রসারের মোক্ষম সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করবে। সে তাদেরকে সাহায্যের প্রলোভন দেখাবে। তাদের সকল দুঃখ-দুর্দশা লাঘব করার কথা বলবে। তাদের দারিদ্র্য-ক্ষুধা দূর করার প্রতিশ্রুতি প্রদান করবে। যারা তার অনুসরণ করবে তাদেরকে সাময়িক সুখ ও প্রাচুর্যে সমৃদ্ধ করে দেবে। সত্তর হাজার ইহুদি তার অনুসরণ করবে। সত্তর হাজার ধনী মুসলমান দাজ্জালের অনুসারী হয়ে যাবে। আর দাজ্জালের অনুসারীদের অধিকাংশই হবে ইহুদি ও নারী।

দাজ্জাল লোকদেরকে কীভাবে বিভ্রান্ত করবে এর একটি ধারণা পাওয়া যায় এর থেকে যে, দাজ্জাল এক গ্রাম্য ব্যক্তি-বিপদ-মুসিবত যাকে জরাজীর্ণ করে ফেলেছে—তাকে এসে বলবে, আমি তোমার পিতা-মাতাকে মৃত থেকে জীবিত করে তোমার সম্মুখে হাজির করব, তবুও কি তুমি আমাকে তোমার রব হিসেবে মেনে নেবে না? গ্রাম্য লোকটি বলবে, হ্যাঁ, যদি তুমি আমার মৃত পিতা-মাতাকে মৃত থেকে জীবিত করে আমার সামনে হাজির করতে পারো তাহলে আমি তোমাকে আমার রব হিসেবে মেনে নেব। দাজ্জাল তখন দুজন শয়তানকে তার পিতা-মাতার আকৃতিতে তার সামনে হাজির করবে। এ দেখে গ্রাম্য লোকটি দাজ্জালের অনুসারী হয়ে যাবে এবং কাফের হয়ে যাবে।

সেদিন দাজ্জালের সঙ্গে থাকবে রুটির এক বিশাল পাহাড় এবং স্বচ্ছ ও মিষ্টি পানির নদী। আর মানুষ থাকবে প্রচণ্ড ক্ষুধার্ত। তাদের নিকট খাবার বলতে কিছু থাকবে না। দাজ্জাল তখন তাদেরকে রুটি ও পানির প্রলোভন দেখাবে। যারা তাকে প্রভু হিসেবে মেনে নেবে তাদেরকে সে রুটি ও পানি পান করতে দেবে। এভাবে বহু মানুষ সেদিন ঈমানহারা হয়ে যাবে।

নিশ্চয় দাজ্জাল ঈমানদারদের জন্য এক বড়ো ফিতনা। এক ভয়াবহ ফিতনা। সেদিন ধনীরা চাইবে আরো অধিক ধনী হতে। দরিদ্ররা চাইবে তাদের দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসতে। আর এ জন্য তারা দাজ্জালের অনুসরণকে বেছে নেবে। যারা গ্রাম্য-বেদুইন তারা থাকবে মূর্খ। মূর্খতার কারণে তারা দাজ্জালের ফেতনায় জড়িয়ে পড়বে। নারীদের তো এমনিতেই জ্ঞান-বুদ্ধি কম। আর ইহুদিরা স্বভাবতই দাজ্জালের অনুসরণ করবে। কেননা, দাজ্জালও একজন ইহুদি। এক বর্ণনায় এসেছে, সত্তর হাজার পুরুষ ও পঞ্চাশ হাজার নারী তারা দাজ্জালের ফিতনা থেকে মুক্ত থাকবে। দাজ্জালকে তারা চিনতে পারবে। ফলে তারা তাদের ঈমানকে বাঁচানোর জন্য জনপদ ছেড়ে পাহাড়ে আশ্রয় নেবে।

📘 প্রতীক্ষিত মাহদি দাজ্জাল ও ইয়াজুজ মাজুজ 📄 দাজ্জাল আবির্ভাবের সময়কাল

📄 দাজ্জাল আবির্ভাবের সময়কাল


দাজ্জালের আবির্ভাব কখন হবে, কোথায় থেকে সে আগমন করবে এসবের সুনির্দিষ্ট তথ্য একমাত্র আল্লাহ তায়ালাই ভালো জানেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যা কিছু ওহীর মাধ্যমে জানিয়েছেন এবং রাসুল আমাদের নিকট যা কিছু বর্ণনা করেছেন এর বাহিরে দাজ্জালের কোনোকিছুই কেউ জানে না।

হজরত আবু বকর রাদি. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'নিশ্চয় দাজ্জাল পূর্বদিকের খোরাসান থেকে বের হবে। কিছু সম্প্রদায় তার অনুসরণ করবে। তাদের চেহারা হবে চওড়া আকৃতির।'

হজরত আবু হুরায়রা রাদি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা শুনেছি তাই তোমাদের নিকট বর্ণনা করছি। তিনি বলেন, যখন লোকদের মাঝে মতানৈক্য ও বিচ্ছিন্নতা দেখা দেবে তখন দাজ্জাল পৃথিবীর পূর্ব দিক থেকে বের হবে। সে হবে কানা। আল্লাহ তাকে যেখানে যেতে দেবেন সে চল্লিশ দিনে সেখানে পৌঁছে যাবে। এর পরিমাণ একমাত্র আল্লাহই জানেন।

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাদি. থেকে বর্ণিত। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'আমার উম্মতের মাঝে দাজ্জালের আবির্ভাব হবে। তার অবস্থানকাল হবে চল্লিশ।' বর্ণনাকারী বলেন, আমি জানি না, তা কী চল্লিশ দিন নাকি চল্লিশ মাস নাকি চল্লিশ বছর।

হজরত নাওয়াস ইবনে সামআন রাদি. থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, একদা সকালে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাজ্জাল সম্পর্কে আলোচনা করলেন। তিনি বললেন, দাজ্জাল নয়, বরং তোমাদের ব্যাপারে আমি অন্য কিছুর ভয় করছি। তবে শোনো, আমি তোমাদের মধ্যে বিদ্যমান থাকা অবস্থায় যদি দাজ্জালের আত্মপ্রকাশ হয় তবে আমি নিজেই তাকে প্রতিহত করব। আর যদি আমি তোমাদের মাঝে না থাকা অবস্থায় দাজ্জালের আত্মপ্রকাশ হয় তবে প্রত্যেক মুমিন লোক নিজের পক্ষ থেকে তাকে প্রতিহত করবে।

আমরা প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহর রাসুল! সে পৃথিবীতে কতদিন অবস্থান করবে? উত্তরে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, চল্লিশ দিন। এর প্রথম দিনটি হবে এক বছরের সমান। দ্বিতীয় দিনটি হবে এক মাসের সমান। তৃতীয় দিনটি হবে এক সপ্তাহের সমান। অবশিষ্ট দিনগুলো তোমাদের দিনসমূহের মতোই হবে। আমরা প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহর রাসুল! যেদিন এক বছরের সমান সেটাতে একদিনের নামাজই কি আমাদের জন্য যথেষ্ট হবে? উত্তরে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, না, বরং তোমরা হিসাব করে তোমাদের দিনের পরিমাণ নির্দিষ্ট করে নেবে।

আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! দুনিয়াতে দাজ্জালের অগ্রসরতা কীরকম বৃদ্ধি পাবে? তিনি বললেন, বাতাসের প্রবাহ মেঘমালাকে যেরকম হাঁকিয়ে নিয়ে যায়। সে এক সম্প্রদায়ের কাছে এসে তাদেরকে কুফরির দিকে ডাকবে। তারা তার ওপর ঈমান আনবে। অতঃপর সে আকাশকে আদেশ করবে, আকাশ বৃষ্টি বর্ষণ করবে। ভূমিকে নির্দেশ দেবে, ফলে ভূমি শস্য উৎপন্ন করবে। তারপর দাজ্জাল অপর এক সম্প্রদায়ের কাছে আসবে। তাদেরকে সে কুফরির দিকে আহ্বান করবে। কিন্তু তারা তার আহ্বানে সাড়া দেবে না। ফলে সে তাদের নিকট থেকে প্রত্যাবর্তন করবে। অমনি তাদের মধ্যে দুর্ভিক্ষ ও পানির অভাব দেখা দেবে। তখন দাজ্জাল এক পতিত স্থান অতিক্রমকালে সেটিকে সম্বোর্ডন করে বলবে, তুমি তোমার গুপ্তধন বের করে দাও। তখন জমিনের ধনভান্ডার বের হয়ে তার চতুষ্পার্শে একত্রিত হতে থাকবে। অতঃপর দাজ্জাল এক যুবক ব্যক্তিকে ডেকে আনবে এবং তাকে তরবারি দ্বারা আঘাত করে দুই টুকরো করে ফেলবে। তারপর সে আবার তাকে আহ্বান করবে। যুবক আলোকময় হাস্যোজ্জ্বল চেহারায় তার সম্মুখে এগিয়ে আসবে।

এ সময় আল্লাহ তায়ালা ইসা ইবনে মারইয়ামকে প্রেরণ করবেন। তিনি দামেস্ক নগরীর পূর্ব দিকের উজ্জ্বল মিনারে অবতরণ করবেন। তিনি দাজ্জালকে সন্ধান করতে থাকবেন। অবশেষে তাকে বাবে লুদ নামক স্থানে গিয়ে পাকড়াও করবেন এবং তাকে হত্যা করবেন। তারপর ইসা আলাইহিস সালাম ওই সম্প্রদায়ের নিকট যাবেন, যাদেরকে আল্লাহ তায়ালা দাজ্জালের বিপর্যয় থেকে রক্ষা করেছেন। এমন সময় আল্লাহ তায়ালা ইসা আলাইহিস সালামের প্রতি এ মর্মে প্রত্যাদেশ অবতীর্ণ করবেন যে, আমি আমার এমন বান্দাদের আবির্ভাব ঘটিয়েছি, যাদের সঙ্গে কারোরই যুদ্ধ করার ক্ষমতা নেই। অতঃপর তুমি আমার মুমিন বান্দাদেরকে নিয়ে তুর পাহাড়ে চলে যাও। তখন আল্লাহ তায়ালা ইয়াজুজ-মাজুজ সম্প্রদায়কে প্রেরণ করবেন। তারা সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়বে। তারা আল্লাহর নবী ইসা আলাইহিস সালাম এবং তার সাথিদেরকে অবরোধ করে রাখবে। তখন আল্লাহর নবী ইসা আলাইহিস সালাম এবং তার সঙ্গীগণ আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করবেন। আল্লাহ তাদের দুআ কবুল করবেন। ইয়াজুজ-মাজুজ সম্প্রদায়ের ওপর তিনি আজাব প্রেরণ করবেন। তাদের ঘাড়ে একপ্রকার পোকা হবে। এতে সবাই মরে নিঃশেষ হয়ে যাবে। তারপর ইসা আলাইহিস সালাম ও তার সঙ্গীগণ পাহাড় থেকে জমিনে অবতরণ করবেন। এরপর আল্লাহ এমন মুষলধারে বৃষ্টি বর্ষণ করবেন যার ফলে জমিন বিধৌত হয়ে পরিষ্কার হয়ে যাবে।

টিকাঃ
৪৪. সুনানে ইবনে মাজাহ: ৪০৭২; মুসনাদে আহমদ: ১২; কানযুল উম্মাল: ৩৮৭৫০; মেশকাত: ৫৪৮৭।
৪৫. সহিহ মুসলিম: ২৯৪০।
৪৬. সহিহ মুসলিম: ৭১০৬।

📘 প্রতীক্ষিত মাহদি দাজ্জাল ও ইয়াজুজ মাজুজ 📄 কেন আসবে দাজ্জাল?

📄 কেন আসবে দাজ্জাল?


পৃথিবীতে দাজ্জালের আবির্ভাবের কারণ কী? দাজ্জাল কেন আবির্ভূত হয়ে সংঘটিত করবে মানবেতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ বিপর্যয়?

হজরত হাফসা রাদি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, প্রচণ্ড ক্রোধের বশবর্তী হয়ে দাজ্জাল পৃথিবীতে আবির্ভূত হবে।'

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদি. বলেন, 'দাজ্জাল সর্বপ্রথম রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরিবারের ওপর আক্রমণ করবে। তিনি বলেন, হে কুফাবাসী! তোমরাই তারা।'

উলামায়ে কিরাম বলেছেন, হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদি. এ কথা তার নিজের পক্ষ থেকে গবেষণা করে বলেননি। বরং রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনে তবেই বলেছেন।

টিকাঃ
৪৯. মুসনাদে আহমদ: ২৬৪২৫।
৫০. মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা; মুজামুত তাবারানি।

📘 প্রতীক্ষিত মাহদি দাজ্জাল ও ইয়াজুজ মাজুজ 📄 দাজ্জালের ফিতনার ভয়াবহতা

📄 দাজ্জালের ফিতনার ভয়াবহতা


দাজ্জাল মক্কা ও মদিনা ব্যতীত পৃথিবীর সর্বত্র বিচরণ করবে। তার ভয়ংকর থাবা থেকে পৃথিবীর আর কোনো স্থানই মুক্ত থাকবে না। হজরত আনাস ইবনে মালেক রাদি. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'মক্কা মদিনা ছাড়া পৃথিবীর গোটা শহরেই দাজ্জাল অনুপ্রবেশ করবে। তবে মক্কা মদিনায় প্রবেশ করতে পারবে না। কেননা, এ দুই শহরের প্রতিটি রাস্তায় ফেরেশতাগণ সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে এর পাহারাদারিতে নিযুক্ত থাকবে। পরিশেষে দাজ্জাল মদিনার এক নিকটবর্তী স্থানে অবতরণ করবে। তখন মদিনাতে তিনবার ভূমিকম্প হবে। যার ফলে প্রত্যেক মুনাফিক ও কাফির মদিনা থেকে বের হয়ে দাজ্জালের নিকট চলে যাবে।'

ইমরান ইবনে হুসাইন বলেন, আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এ কথা বলতে শুনেছি যে, আদম আলাইহিস সালামের সৃষ্টির পর থেকে কিয়ামত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে দাজ্জালের চেয়ে বড়ো মারাত্মক আর কোনো সৃষ্টি হবে না। দাজ্জালের চলার গতি সম্পর্কে সাহাবায়ে কিরাম রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করেছেন। জবাবে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'দাজ্জালের চলার গতি হবে তেমন, প্রচণ্ড বাতাস যেমন মেঘমালাকে তাড়িয়ে নিয়ে যায়।'

হে আল্লাহর বান্দাগণ! দাজ্জালের ফিতনা যত ভয়াবহ হোক না কেন, যারা প্রকৃত ঈমানদার, যাদের অন্তরে আল্লাহর প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস রয়েছে পূর্ণমাত্রায়, তারা তাদের ঈমানের আলোতে দাজ্জালকে ঠিকই চিনতে পারবে। দাজ্জালের কপালে লেখা থাকবে কাফের। কেবল মুমিনরাই তা পড়তে পারবে। এমনকি যারা মূর্খ, পড়তে ও লিখতে পারে না, সেদিন তাদের ঈমানের নূর হৃদয়ে জ্বলজ্বল করবে।

সহিহ মুসলিমে হজরত আবু সাইদ খুদরি রাদি. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, দাজ্জালের আত্মপ্রকাশের পর কোনো এক মুসলিম ব্যক্তি তার দিকে এগিয়ে যাবে। পথে অস্ত্রধারী দাজ্জাল বাহিনীর সঙ্গে তার দেখা হবে। তারা তাকে নিয়ে দাজ্জালের কাছে যাবে। দাজ্জালকে দেখামাত্রই সে বলবে, 'হে লোক সকল! এ তো সেই দাজ্জাল যার ব্যাপারে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে বর্ণনা দিয়েছেন।' তারপর দাজ্জাল তার হুকুমে লোকটিকে মাথা থেকে পা পর্যন্ত করাতে চিরে দুই টুকরো করে ফেলবে। তারপর দাজ্জাল বলবে, ওঠো। সে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে যাবে। এরপর আবারো তাকে জিজ্ঞেস করা হবে, 'তুমি আমার প্রতি ঈমান আনবে না?' লোকটি বলবে, 'তোমার সম্পর্কে কেবল আমার মাঝে সুস্পষ্ট ধারণা বেড়েই চলবে। হে লোক সকল! আমার পরে দাজ্জাল আর কারো সঙ্গে এমন আচরণ করতে পারবে না।' তখন জবাই করার জন্য দাজ্জাল তাকে পাকড়াও করবে। কিন্তু তার গলা ও ঘাড় তামায় পরিণত হবে। উপায়ন্তর না দেখে দাজ্জাল তাকে হাত পা ধরে আগুনে নিক্ষেপ করবে। লোকেরা মনে করবে, দাজ্জাল তাকে আগুনে নিক্ষেপ করেছে। বস্তুত সে জান্নাতে নিক্ষিপ্ত হবে। অতঃপর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহ তায়ালার নিকট এ লোকই হবে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বড়ো শাহাদতের মর্যাদার অধিকারী।

টিকাঃ
৪৯. সহিহ মুসলিম, কিতাবুল ফিতান: ৭১২৩।
৫০. সহিহ মুসলিম, কিতাবুল ফিতান: ৭১২৮।
৫১. সহিহ মুসলিম, কিতাবুল ফিতান।
৫২. সহিহ মুসলিম: ৭১১০।

ফন্ট সাইজ
15px
17px