📄 মাসিহ বলে নামকরণের কারণ
দাজ্জালকে মাসিহ বলে নামকরণের একাধিক কারণ রয়েছে। আল্লামা ইবনুল ফারিস বলেন, দাজ্জাল একজন হতভাগ্য ও দুষ্কর্মপরায়ণ ব্যক্তি। তার চেহারা হবে অত্যন্ত ঘৃণিত ও নিকৃষ্টতার প্রলেপযুক্ত। কেউ কেউ বলেছেন, দাজ্জালের চোখ হবে অন্ধ। অধিকাংশ উলামায়ে কেরাম এ মতটিকে গ্রহণ করেছেন। আর কেউ কেউ বলেছেন, দাজ্জালকে মাসিহ বলে নামকরণের কারণ হলো, দাজ্জাল সমগ্র পৃথিবী চল্লিশ দিনে প্রদক্ষিণ করবে। পৃথিবীর সর্বত্র তার পায়ের স্পর্শ লাগবে।
দাজ্জালকে মাসিহ বলে নামকরণের এতসব কারণ দেখে কেউ কেউ এ কথা বলেছেন যে, তাহলে হজরত ইসা আলাইহিস সালামকে কেন মাসিহ বলে নামকরণ করা হলো? হজরত ইসা আলাইহিস সালামকে মাসিহ বলে নামকরণের কারণ সম্পর্কে উলামায়ে কেরামের একাধিক বক্তব্য রয়েছে। কতক উলামায়ে কেরাম বলেন, হজরত ইসা আলাইহিস সালামকে মাসিহ বলে নামকরণের কারণ হলো, তিনি কোনো অন্ধ ও কুষ্ঠরোগীর দেহ স্পর্শ করলে আল্লাহর অনুগ্রহে তারা রোগ থেকে সুস্থ হয়ে যেত। এমনিভাবে তিনি কোনো মৃত ব্যক্তিকে স্পর্শ করলে আল্লাহর রহমতে উক্ত মৃত ব্যক্তি জীবিত হয়ে যেত। সকল নবী-রাসুলকে আল্লাহ তায়ালা কিছু মুজেযা দিয়ে প্রেরণ করেছেন। এ ছিল হজরত ইসা আলাইহিস সালামের মুজেযা।
কেউ কেউ বলেছেন, 'হজরত ইসা আলাইহিস সালাম মায়ের গর্ভ থেকে এমনভাবে বের হয়েছেন যেন তার পুরো শরীর তেলের প্রলেপযুক্ত ছিল। এমনও কেউ কেউ বলেছেন যে, হজরত ইসা আলাইহিস সালামের মুখমণ্ডল ছিল অত্যধিক সুন্দর। আর সুন্দর মুখমণ্ডলকে পরিভাষায় মাসিহ বলা হয়। তাই তাকে মাসিহ বলে নামকরণ করা হয়েছে। এছাড়াও নামকরণের আরো বিভিন্ন কারণ ইমাম ও আলেমদের থেকে বর্ণিত হয়েছে।
সুতরাং উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হলো যে, মাসিহ দুই জন। একজনের মুখমণ্ডল হবে সুন্দর। তিনি হজরত ইসা আলাইহিস সালাম। আরেকজনের মুখমণ্ডল হবে কুৎসিত। বীভৎস। সে হবে অভিশপ্ত দাজ্জাল। এক মাসিহ মানবজাতিকে ধ্বংস ও পতনের দিকে ঠেলে দেবে। আরেক মাসিহ মানবজাতিকে ধ্বংস ও পতনের অতল গহ্বর থেকে টেনে তুলবেন। এক মাসিহ লোকদেরকে পথভ্রষ্ট করবে। আরেক মাসিহ লোকদের সঠিক পথের দিশা দেবেন। এক মাসিহের হাতে থাকবে কুফরের মশাল। আরেক মাসিহের হাতে থাকবে ঈমানের মশাল। এক মাসিহের অনুসারীদের ঠিকানা হবে জাহান্নাম। আরেক মাসিহের অনুসারীদের ঠিকানা হবে জান্নাত। একজন মিথ্যা। আরেকজন সত্য।
📄 দাজ্জাল বলে নামকরণের কারণ
দাজ্জাল শব্দের আভিধানিক অর্থ: মিথ্যুক, প্রতারক, ভন্ড ও নিকৃষ্ট। দাজ্জালকে দাজ্জাল বলে নামকরণের একাধিক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে ইবনে দিহইয়া থেকে বর্ণিত মতটি আমি অধিক পছন্দ করেছি। উলামায়ে কেরামের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, দাজ্জাল অর্থ হলো—কাজ্জাব তথা মিথ্যাবাদী। এবং এ অর্থটি অধিক প্রচলিত ও গ্রহণযোগ্য।
কেউ কেউ বলেছেন, الدجال দাজ্জাল এটি الدجالة থেকে নির্গত হয়েছে। এর অর্থ হলো, উটকে আলকাতরা দ্বারা প্রলেপ দেওয়া। এ নামে দাজ্জালকে নামকরণ করা হয়েছে যেহেতু দাজ্জাল হক ও সত্যকে ঢেকে ফেলবে মিথ্যা দ্বারা। বহু ঈমানদারদের অন্তরকে কুফরের প্রলেপ দিয়ে ঢেকে ফেলবে। আর কতক উলামায়ে কেরাম বলেছেন, দাজ্জাল পৃথিবীর সর্বত্র সংঘাত সৃষ্টি করবে। যখন সে পৃথিবীর পূর্ব-পশ্চিমে সংঘাত সৃষ্টি করবে তখন বলা হবে সে পৃথিবীকে (কুফর ও অন্ধকারে) ঢেকে ফেলেছে। তাই তাকে দাজ্জাল বলা হয়।
এ মতও কারো কারো থেকে বর্ণিত রয়েছে যে, দাজ্জাল অর্থ হলো ঢেকে ফেলা। সে যেহেতু পৃথিবীতে বের হয়ে হক ও সত্যকে বাতিল ও কুফর দিয়ে ঢেলে ফেলবে তাই তাকে দাজ্জাল বলা হয়।
📄 ইতিহাসের ভয়াবহতম ফিতনা
আল্লাহ আমাদেরকে দাজ্জালের ফিতনা থেকে হিফাজত করুন। দাজ্জালের সকল প্রকার অনিষ্ঠতা থেকে আমাদেরকে বিরত রাখুন। বর্ণিত আছে, দাজ্জালের সঙ্গে থাকবে জান্নাত ও জাহান্নাম। কিন্তু সে জান্নাত হবে জাহান্নাম। আর জাহান্নাম হবে জান্নাত। যারা ঈমান পরিত্যাগ করে দাজ্জালের জান্নাতকে বেছে নেবে তারা জাহান্নামে পতিত হবে। আর যারা ঈমানের ওপর অটল ও অবিচল থেকে দাজ্জালের জাহান্নামকে বেছে নেবে তাদের ঠিকানা হবে জান্নাত। আল্লাহ তাদেরকে সাহায্য করবেন।
হযরত আবু সাইদ খুদরি রাদি. থেকে বর্ণিত। তিনি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন, 'জেনে রাখ, প্রত্যেক নবী স্বীয় উম্মতকে দাজ্জাল সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। আমি এমন এক প্রতিজ্ঞাবদ্ধ যে প্রতিজ্ঞা আমার পূর্বের কোনো নবী তার উম্মতকে দেননি। সাবধান! তার ডান চোখ হবে মেশানো, যা ফুলে উঠে থাকবে। বিষয়টি কারো কাছে গোপন থাকবে না। তা যেন দেয়ালের পার্শ্বে নিক্ষিপ্ত শ্লেষা। তার বাম চোখ হবে উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো। তার সাথে জান্নাত ও জাহান্নাম সদৃশ বস্তু থাকবে। তার জাহান্নাম হবে প্রকৃতপক্ষে সবুজ বাগান আর জান্নাত হবে ধুম্রময় নিকৃষ্ট স্থান।'
হজরত হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান রাদি. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'দাজ্জালের বাম চোখ কানা হবে। ঘন কোঁকড়ানো চুলবিশিষ্ট হবে। তার সাথে জান্নাত ও জাহান্নাম থাকবে। তার জাহান্নাম হলো জান্নাত এবং জান্নাত হলো জাহান্নাম।'
যারা সুরা কাহাফ তিলাওয়াত করবে তারা দাজ্জালের ফিতনা থেকে মুক্ত থাকবে। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা দাজ্জালের হাতে ঈমান হরণ থেকে তাদেরকে হিফাজত করবেন। দাজ্জাল যখন তাদেরকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবে তখন জাহান্নামের আগুন ঠান্ডা হয়ে যাবে। যেমন ঠান্ডা হয়ে গিয়েছিল হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালামের নিকট। দাজ্জালের জাহান্নাম ঈমানদারদের জ্বালাতে পারবে না। কেননা দাজ্জালের নিকট যে জাহান্নাম থাকবে তা মূলত জান্নাত। আর যে জান্নাত থাকবে তা মূলত জাহান্নাম। অপর বর্ণনায় আছে, দাজ্জালের সঙ্গে থাকবে দুটি প্রবহমান নদী। একটি নদীর পানি থাকবে শীতল ও সাদা। অপরটির পানি থাকবে উত্তপ্ত। ঈমানদারগণ যখন দাজ্জালকে প্রভু হিসেবে মেনে নেবে না তখন সে তাদেরকে উত্তপ্ত পানি পান করানোর জন্য আহ্বান করবে। কিন্তু তারা যখন পানি পান করবে তখন তারা সে পানিকে শীতল পাবে। তাদের নিকট তা উত্তপ্ত হবে না। এভাবেই আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ঈমানদারদেরকে দাজ্জালের ফিতনা থেকে রক্ষা করবেন।
ইবনে আবু উমাইয়া থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জনৈক সাহাবির নিকট এসে তাকে বলেছি, আপনি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শোনা দাজ্জাল বিষয়ক একটি হাদিস বর্ণনা করুন। তিনি আমাকে বললেন, আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি তোমাদেরকে দাজ্জালের ফিতনা সম্পর্কে ভীতিপ্রদর্শন করছি। এমন কোনো নবী নেই যিনি স্বীয় সম্প্রদায় বা উম্মতকে দাজ্জালের ভয় না দেখিয়েছেন। সে হবে কোঁকড়ানো চুলবিশিষ্ট। তার বাম চোখ হবে কানা। সে বৃষ্টি বর্ষাবে কিন্তু গাছ উৎপন্ন করতে পারবে না। সে এক ব্যক্তির ওপর ক্ষমতা প্রয়োগ করে হত্যা করার পর তাকে পুনরায় জীবিত করবে। কিন্তু এ ব্যক্তি ছাড়া অন্য কারো ওপর সে কর্তৃত্ব করতে পারবে না। তার সাথে থাকবে জান্নাত, জাহান্নাম, নহর, পানি এবং রুটির পাহাড়। তার জান্নাত হবে জাহান্নাম আর জাহান্নাম হবে জান্নাত। সে তোমাদের মাঝে চল্লিশ সকাল অবস্থান করবে। এ সময়ের মধ্যে সে প্রত্যেক ঘাটে পৌঁছাবে। কিন্তু চারটি মসজিদ ব্যতীত। মসজিদুল হারাম, মদিনার মসজিদ, তুর এবং মসজিদুল আকসা। যদি তাকে চিনতে তোমাদের অসুবিধা হয় বা তোমরা সন্দিহান হও তাহলে জেনে রাখ, মহান আল্লাহ কানা নন।'
হে আল্লাহর বান্দারা! সেদিন দাজ্জালের নিকট থাকা জান্নাত হবে জাহান্নাম। আর জান্নাত হবে জাহান্নাম। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। সত্যিই এ এক ভয়াবহ ফিতনা। এর থেকে কেবল তারাই মুক্তি পাবে যাদেরকে আল্লাহ তায়ালা হিফাজত করবেন।
দাজ্জালের আরেকটি ফিতনা হলো, দাজ্জাল এক গ্রাম্য ব্যক্তিকে বলবে, আমি তোমার মৃত পিতা-মাতাদের পুনরায় জীবিত করে দেখাব তবুও কি তুমি আমাকে তোমার প্রভু হিসেবে স্বীকার করবে না। তখন সে বলবে, হ্যাঁ, যদি আমার পিতা-মাতাকে মৃত থেকে জীবিত করে দেখাতে পার তাহলে আমি তোমাকে প্রভু হিসেবে মেনে নেব। দাজ্জাল তখন দুইজন শয়তানকে তার পিতা-মাতার আকৃতিতে তার সামনে হাজির করবে। তারা তাকে বলবে, হে আমার সন্তান! তুমি তার অনুসরণ করো।
টিকাঃ
৩৭. মুসতাদরাকে হাকেম: ৮৬২১।
৩৮. সহিহ মুসলিম: ৮/১৯৫।
৩৯. মুসনাদে আহমদ: ২৩৬৮৪।
📄 দাজ্জাল আবির্ভাবের নিদর্শন
নিশ্চয় দাজ্জালের আত্মপ্রকাশ অত্যন্ত ভয়াবহ। মানবজাতির জন্য এক নিদারুণ ক্রান্তিকাল ডেকে আনবে। সময়টি হবে মুমিনদের জন্য নিদারুণ কঠিন পরীক্ষার। এ জাতীয় ফিতনার আত্মপ্রকাশের ক্ষেত্রে আল্লাহ তায়ালার নীতি হলো, এর পূর্বে কতিপয় নিদর্শন প্রকাশ করা। সেসবের কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন উল্লেখ করছি।
প্রথম নিদর্শন:
নবুওয়াতের দাবি করা। দাজ্জালের আগমনের পূর্বে কতিপয় ব্যক্তি নবুওয়াতের দাবি করবে। তারা নিজেদেরকে প্রেরিত নবী বলে দাবি করবে। হজরত আবু হুরায়রা রাদি. থেকে বর্ণিত। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, 'নিকট অতীতে ত্রিশ জন মিথ্যাবাদী দাজ্জালের আবির্ভাবের পূর্বে কিয়ামত সংঘটিত হবে না। তারা প্রত্যেকে নিজেদেরকে নবী দাবি করবে।'
দ্বিতীয় নিদর্শন:
দাজ্জালের আবির্ভাবের একটি শক্তিশালী নিদর্শন হলো কুসতুনতুনিয়া বিজয়। দাজ্জালের আবির্ভাবের পূর্বে মুসলমানগণ কুসতুনতুনিয়া বিজয় করবে। হজরত মুয়ায ইবনে জাবাল রাদি. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'বড় হত্যাকাণ্ড, কুসতুনতুনিয়ার বিজয় এবং দাজ্জালের আবির্ভাব; এ সবকিছু মাত্র সাত মাসে সংঘটিত হবে।'
তৃতীয় নিদর্শন:
দাজ্জালের আবির্ভাবের একটি নিদর্শন হলো অবস্থার ব্যাপক পরিবর্তন এবং বস্তু ও সময়ের অদলবদল। দাজ্জালের আবির্ভাবের পূর্বে পৃথিবীর স্বাভাবিক অবস্থার ব্যাপক পরিবর্তন ঘটবে। বিভিন্ন বস্তুর রূপ, আকার-আকৃতি পাল্টে যাবে। হজরত আবু হুরায়রা রাদি. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'অচিরেই এমন কিছু ধোঁকার বছর আসবে যখন সত্যকে মিথ্যা আর মিথ্যাকে সত্য বানানো হবে। বিশ্বাসঘাতককে বিশ্বস্ত আর বিশ্বস্তকে বিশ্বাসঘাতক মনে করা হবে। তখন রুয়াইবুজা কথা বলবে। সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞেস করলেন, রুয়াইবুজা কে? উত্তরে তিনি বললেন, পাপিষ্ঠ ব্যক্তিরা জনগণের [কল্যাণের] ব্যাপারে কথা বলবে।'
চতুর্থ নিদর্শন:
দাজ্জালের আবির্ভাবের একটি নিদর্শন হলো পৃথিবীজুড়ে ক্ষুধা, দুর্ভিক্ষ ও অভাব দেখা দেবে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'দাজ্জাল বের হওয়ার তিন বছর পূর্বে আকাশ বৃষ্টি আটকে রাখবে। প্রথম বছরে এক তৃতীয়াংশ বৃষ্টি বন্ধ রাখবে এবং জমিন এক তৃতীয়াংশ ফসল উৎপন্ন বন্ধ রাখবে। দ্বিতীয় বছর আকাশ দুই তৃতীয়াংশ বৃষ্টি বন্ধ রাখবে এবং জমিন দুই তৃতীয়াংশ ফসল উৎপন্ন বন্ধ রাখবে। তৃতীয় বছর আকাশ সম্পূর্ণ বৃষ্টি বন্ধ রাখবে এবং জমিন কোনো ফসল উৎপন্ন করবে না। এমনকি প্রত্যেক দাঁত ও খুরবিশিষ্ট প্রাণী ধ্বংস হয়ে যাবে। তার বড়ো ফিতনার একটি হলো, সে এক বেদুইনকে বলবে তোমার কী অভিমত, আমি যদি তোমার মৃত উটকে বড়ো স্তন ও লম্বা কুঁজবিশিষ্ট করে তোমার জন্য জীবিত করে দিই তাহলে কি তুমি আমাকে প্রভু বলে মেনে নেবে? তখন লোকটি বলবে, হ্যাঁ। তারপর শয়তান তার জন্য ওই উটের আকৃতি ধারণ করবে। এ দেখে সে দাজ্জালের অনুসারী হয়ে যাবে।'
হাদিসের বর্ণনাকারী বলেন, তারপর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার প্রয়োজনে বের হলেন। তার জন্য ওজুর পানি রাখা হলো। এমন সময় লোকেরা কাঁদতে লাগল। এমনকি তাদের কান্নার আওয়াজ উঁচু হলো। তখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দরজার চৌকাঠ ধরে বললেন, 'মাহইয়াম' অর্থাৎ, কী ব্যাপার? আসমা রা. বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! দাজ্জালের চিন্তায় তাদের অন্তর বিভোর। তখন রাসুল বললেন, তোমাদের কোনো অসুবিধা হবে না। আমি তোমাদের মাঝে বর্তমান থাকাবস্থায় যদি দাজ্জাল বের হয় তাহলে আমি তাকে প্রতিহত করব। আর যদি আমি মৃত্যুবরণ করি তাহলে প্রত্যেক মুমিনের জন্য আল্লাহ তায়ালাই আমার পক্ষ থেকে তত্ত্বাবধানকারী। আসমা রা. বললেন, আমাদের মনের অবস্থা সেদিন কি এমন থাকবে হে আল্লাহর রাসুল! তিনি বললেন, হ্যাঁ, অথবা ভালো থাকবে। তার নিকট পৃথিবীর সকল ধরনের ফল ও খাদ্য প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যাবে। আসমা রাদি. বলেন, আল্লাহর শপথ! আমার পরিবারবর্গ তাদের খামির বানাতে থাকবে কিন্তু উপযুক্ত হবার পূর্বেই আমরা ক্ষুধার ফিতনায় পড়ার আশঙ্কা করছি। সেদিন মুমিনরা কী খাদ্য দিয়ে নিজেদের প্রয়োজন পূরণ করবে? তিনি বললেন, তারা ক্ষুধা নিবারণ করবে যেভাবে আকাশের বাসিন্দারা নিবারণ করে থাকেন। আসমা রাদি. বলেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমরা জানি যে, ফেরেশতারা খাদ্য-পানীয় গ্রহণ করেন না। তিনি বললেন, বরং তারা তাসবিহ ও তাকদিস পাঠ করতে থাকেন। আর এটাই সেদিন মুমিনদের খাদ্য-পানীয়।
টিকাঃ
৪০. সহিহ বুখারি; সহিহ মুসলিম।
৪১. সুনানে তিরমিজি।
৪২. মুসনাদে আহমদ: ১৩৩২।
৪৩. মুজামুল কাবির লিত-তাবরানি: ২৪/১৫৯; মুসান্নাফে ইবনে আব্দুর রাজ্জাক: ২০৮২১।