📘 প্রতীক্ষিত মাহদি দাজ্জাল ও ইয়াজুজ মাজুজ 📄 আত্মঘাতী যুদ্ধে মুসলমানদের বিজয়

📄 আত্মঘাতী যুদ্ধে মুসলমানদের বিজয়


হাদিসের বিভিন্ন গ্রন্থে হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদি. থেকে এই হাদিস বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার পূর্বে নিম্নোক্ত ঘটনাবলি অবশ্যই সংঘটিত হবে, মিরাস [মৃত ব্যক্তির ত্যাজ্যসম্পদ] বণ্টনের সুযোগ থাকবে না। যুদ্ধলব্ধ সম্পদ পেয়ে আনন্দ উল্লাস করার সুযোগ থাকবে না। কেননা, শামে অবস্থানকারী মুসলমানদের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য একটি শক্তিশালী বাহিনী একত্রিত হয়ে আসবে। এদের সমোচিত জবাব দেওয়ার জন্য মুসলমানরাও একত্রিত হবে। বর্ণনাকারী জিজ্ঞেস করেন, শত্রুরা কি রোমবাসী? উত্তরে বললেন, হ্যাঁ। সুতরাং সেখানে উভয় দলের মাঝে তুমুল লড়াই হবে। মুসলমানগণ তাদের মধ্য থেকে একটি বিশেষ দলকে নির্বাচন করবে, যাদের শর্ত থাকবে হয়তো মৃত্যু নয়তো বিজয়। অর্থাৎ, মুসলমান দলটি হবে আত্মঘাতী মুজাহিদ বাহিনী। তারা গিয়ে শত্রুদের সাথে যুদ্ধ করতে থাকবে। শেষ পর্যন্ত রাত হয়ে যাবে। কোনো পক্ষই জয়লাভ করবে না। মুসলমানদের আত্মঘাতী দলটির সকলে শহিদ হয়ে যাবে। অতঃপর দ্বিতীয় দিন মুসলমানরা পুনরায় একদল আত্মঘাতী দল নির্বাচন করে পাঠাবে এই শর্তে যে, হয়তো বিজয় নয়তো মৃত্যু। তারা গিয়ে যুদ্ধ করবে। যুদ্ধ করতে করতে রাত নেমে আসবে। কোনো পক্ষই বিজয় লাভ করবে না। মুসলমানদের আত্মঘাতী দলটি শহিদ হয়ে যাবে।

তৃতীয় দিন মুসলমানরা আরো একদল নির্বাচন করে প্রেরণ করবে এই শর্তে যে, হয়তো বিজয় নয়তো মৃত্যু। তারা গিয়ে যুদ্ধ করতে থাকবে। সারাদিন যুদ্ধ চলবে। অবশেষে রাত নেমে আসবে। কোনো পক্ষই বিজয় লাভ করবে না। যথারীতি মুসলমানদের এই দলটিও শহিদ হয়ে যাবে। চতুর্থ দিন মুসলমানদের অবশিষ্ট সকল সৈনিক লড়াইয়ের জন্য বের হয়ে যাবে। এবার আল্লাহ তায়ালা কাফেরদের মূলোৎপাটন করে মুসলমানদেরকে বিজয় দান করবেন। সেদিন এত মারাত্মক ও ভয়ানক যুদ্ধ সংঘটিত হবে যে, এরকম যুদ্ধ ইতঃপূর্বে পৃথিবীবাসী কোনো দিন প্রত্যক্ষ করেনি। এমনকি যুদ্ধের ময়দানে এত অসংখ্য পরিমাণ লাশ পড়ে থাকবে যে, এসকল লাশের ওপর দিয়ে পাখি উড়ে যাওয়ার চেষ্টা করবে কিন্তু লাশগুলি এত বিস্তৃত ময়দান পর্যন্ত পড়ে থাকবে বা এত মারাত্মক দুর্গন্ধ সৃষ্টি হবে যে, ময়দানের অপর প্রান্তে পৌঁছার পূর্বেই পাখি মারা যাবে। বাহিনী প্রেরণকারীগণ মৃতের সংখ্যা গণনা করে দেখবে যে, একশ ভাগের মধ্যে নিরানব্বই ভাগই নিহত হয়েছে। এক ভাগ মাত্র বেঁচে আসতে সক্ষম হয়েছে। অতঃপর আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদি. বলেন যে, এখন বলো, যুদ্ধলব্ধ সম্পদ নিয়ে কি তখন আনন্দ উল্লাস করার সুযোগ থাকবে? মৃতদের ত্যাজ্যসম্পদ বণ্টন করার জন্য কি তখন মন চাইবে? তারপর তিনি বলেন, ঠিক তখন তারা এমন এক যুদ্ধের সংবাদ পাবে যা পূর্বের যুদ্ধের থেকেও বেশি ভয়ানক। সংবাদটি হবে, দাজ্জাল আত্মপ্রকাশ করে ফেলেছে। সে আত্মপ্রকাশ করে মুসলমানদের পরিবারগুলো ফিতনায় ফেলার চেষ্টা করছে। এ সংবাদ শোনামাত্রই মুসলমানরা সকল যুদ্ধলব্ধ সম্পদ ফেলে দেবে। তাদের পরিবার-পরিজনের খবর এবং দাজ্জালের ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহের জন্য মুসলমানরা দশজনের একটি অগ্রগামী দল প্রেরণ করবে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের ব্যাপারে বলেছেন, 'আমি তাদের নাম, তাদের পিতাদের নাম, এমনকি তাদের ঘোড়ার রং পর্যন্ত খুব ভালো করে চিনি। তারাই হচ্ছে ওই সময়কার শ্রেষ্ঠ অশ্বারোহী।'

হে আল্লাহর বান্দারা! নিঃসন্দেহে দাজ্জালের ফিতনা ভয়াবহ ফিতনা। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে এ সংবাদ দিয়েছেন যে, মানুষ যতদিন আল্লাহর আনুগত্য করবে, যতদিন তারা আল্লাহকে স্মরণ করবে ততদিন দাজ্জালের আবির্ভাব হবে না। মানুষ যখন আল্লাহকে ভুলে যাবে, তার আনুগত্য ছেড়ে দেবে, অবাধ্যতা ও নাফরমানিতে ব্যাপকহারে লিপ্ত হবে, তখন দাজ্জালের আবির্ভাব হবে। হে আল্লাহর বান্দারা! জেনে রাখ, এমন এক সময় আসবে যখন ইমামগণ দাজ্জালের আলোচনা ছেড়ে দেবে। তারা লোকদেরকে দাজ্জালের ফিতনা থেকে সতর্ক করবে না যেভাবে সতর্ক করেছেন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। আজকে আমি আপনাদেরকে দাজ্জালের ফিতনা থেকে সতর্ক করছি, যেন মসজিদের মিম্বরসমূহ দাজ্জালের ফিতনা থেকে সতর্ক করার ব্যাপারে চুপ না থাকে।

টিকাঃ
৩৬. মুসতাদরাকে হাকেম: ৮৪৭১; সহিহ মুসলিম: ২৮৯৯; মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা: ১১/২০৩; মুসনাদে আহমদ: ৩৬৪৩।

📘 প্রতীক্ষিত মাহদি দাজ্জাল ও ইয়াজুজ মাজুজ 📄 মাসিহ বলে নামকরণের কারণ

📄 মাসিহ বলে নামকরণের কারণ


দাজ্জালকে মাসিহ বলে নামকরণের একাধিক কারণ রয়েছে। আল্লামা ইবনুল ফারিস বলেন, দাজ্জাল একজন হতভাগ্য ও দুষ্কর্মপরায়ণ ব্যক্তি। তার চেহারা হবে অত্যন্ত ঘৃণিত ও নিকৃষ্টতার প্রলেপযুক্ত। কেউ কেউ বলেছেন, দাজ্জালের চোখ হবে অন্ধ। অধিকাংশ উলামায়ে কেরাম এ মতটিকে গ্রহণ করেছেন। আর কেউ কেউ বলেছেন, দাজ্জালকে মাসিহ বলে নামকরণের কারণ হলো, দাজ্জাল সমগ্র পৃথিবী চল্লিশ দিনে প্রদক্ষিণ করবে। পৃথিবীর সর্বত্র তার পায়ের স্পর্শ লাগবে।

দাজ্জালকে মাসিহ বলে নামকরণের এতসব কারণ দেখে কেউ কেউ এ কথা বলেছেন যে, তাহলে হজরত ইসা আলাইহিস সালামকে কেন মাসিহ বলে নামকরণ করা হলো? হজরত ইসা আলাইহিস সালামকে মাসিহ বলে নামকরণের কারণ সম্পর্কে উলামায়ে কেরামের একাধিক বক্তব্য রয়েছে। কতক উলামায়ে কেরাম বলেন, হজরত ইসা আলাইহিস সালামকে মাসিহ বলে নামকরণের কারণ হলো, তিনি কোনো অন্ধ ও কুষ্ঠরোগীর দেহ স্পর্শ করলে আল্লাহর অনুগ্রহে তারা রোগ থেকে সুস্থ হয়ে যেত। এমনিভাবে তিনি কোনো মৃত ব্যক্তিকে স্পর্শ করলে আল্লাহর রহমতে উক্ত মৃত ব্যক্তি জীবিত হয়ে যেত। সকল নবী-রাসুলকে আল্লাহ তায়ালা কিছু মুজেযা দিয়ে প্রেরণ করেছেন। এ ছিল হজরত ইসা আলাইহিস সালামের মুজেযা।

কেউ কেউ বলেছেন, 'হজরত ইসা আলাইহিস সালাম মায়ের গর্ভ থেকে এমনভাবে বের হয়েছেন যেন তার পুরো শরীর তেলের প্রলেপযুক্ত ছিল। এমনও কেউ কেউ বলেছেন যে, হজরত ইসা আলাইহিস সালামের মুখমণ্ডল ছিল অত্যধিক সুন্দর। আর সুন্দর মুখমণ্ডলকে পরিভাষায় মাসিহ বলা হয়। তাই তাকে মাসিহ বলে নামকরণ করা হয়েছে। এছাড়াও নামকরণের আরো বিভিন্ন কারণ ইমাম ও আলেমদের থেকে বর্ণিত হয়েছে।

সুতরাং উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হলো যে, মাসিহ দুই জন। একজনের মুখমণ্ডল হবে সুন্দর। তিনি হজরত ইসা আলাইহিস সালাম। আরেকজনের মুখমণ্ডল হবে কুৎসিত। বীভৎস। সে হবে অভিশপ্ত দাজ্জাল। এক মাসিহ মানবজাতিকে ধ্বংস ও পতনের দিকে ঠেলে দেবে। আরেক মাসিহ মানবজাতিকে ধ্বংস ও পতনের অতল গহ্বর থেকে টেনে তুলবেন। এক মাসিহ লোকদেরকে পথভ্রষ্ট করবে। আরেক মাসিহ লোকদের সঠিক পথের দিশা দেবেন। এক মাসিহের হাতে থাকবে কুফরের মশাল। আরেক মাসিহের হাতে থাকবে ঈমানের মশাল। এক মাসিহের অনুসারীদের ঠিকানা হবে জাহান্নাম। আরেক মাসিহের অনুসারীদের ঠিকানা হবে জান্নাত। একজন মিথ্যা। আরেকজন সত্য।

📘 প্রতীক্ষিত মাহদি দাজ্জাল ও ইয়াজুজ মাজুজ 📄 দাজ্জাল বলে নামকরণের কারণ

📄 দাজ্জাল বলে নামকরণের কারণ


দাজ্জাল শব্দের আভিধানিক অর্থ: মিথ্যুক, প্রতারক, ভন্ড ও নিকৃষ্ট। দাজ্জালকে দাজ্জাল বলে নামকরণের একাধিক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে ইবনে দিহইয়া থেকে বর্ণিত মতটি আমি অধিক পছন্দ করেছি। উলামায়ে কেরামের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, দাজ্জাল অর্থ হলো—কাজ্জাব তথা মিথ্যাবাদী। এবং এ অর্থটি অধিক প্রচলিত ও গ্রহণযোগ্য।

কেউ কেউ বলেছেন, الدجال দাজ্জাল এটি الدجالة থেকে নির্গত হয়েছে। এর অর্থ হলো, উটকে আলকাতরা দ্বারা প্রলেপ দেওয়া। এ নামে দাজ্জালকে নামকরণ করা হয়েছে যেহেতু দাজ্জাল হক ও সত্যকে ঢেকে ফেলবে মিথ্যা দ্বারা। বহু ঈমানদারদের অন্তরকে কুফরের প্রলেপ দিয়ে ঢেকে ফেলবে। আর কতক উলামায়ে কেরাম বলেছেন, দাজ্জাল পৃথিবীর সর্বত্র সংঘাত সৃষ্টি করবে। যখন সে পৃথিবীর পূর্ব-পশ্চিমে সংঘাত সৃষ্টি করবে তখন বলা হবে সে পৃথিবীকে (কুফর ও অন্ধকারে) ঢেকে ফেলেছে। তাই তাকে দাজ্জাল বলা হয়।

এ মতও কারো কারো থেকে বর্ণিত রয়েছে যে, দাজ্জাল অর্থ হলো ঢেকে ফেলা। সে যেহেতু পৃথিবীতে বের হয়ে হক ও সত্যকে বাতিল ও কুফর দিয়ে ঢেলে ফেলবে তাই তাকে দাজ্জাল বলা হয়।

📘 প্রতীক্ষিত মাহদি দাজ্জাল ও ইয়াজুজ মাজুজ 📄 ইতিহাসের ভয়াবহতম ফিতনা

📄 ইতিহাসের ভয়াবহতম ফিতনা


আল্লাহ আমাদেরকে দাজ্জালের ফিতনা থেকে হিফাজত করুন। দাজ্জালের সকল প্রকার অনিষ্ঠতা থেকে আমাদেরকে বিরত রাখুন। বর্ণিত আছে, দাজ্জালের সঙ্গে থাকবে জান্নাত ও জাহান্নাম। কিন্তু সে জান্নাত হবে জাহান্নাম। আর জাহান্নাম হবে জান্নাত। যারা ঈমান পরিত্যাগ করে দাজ্জালের জান্নাতকে বেছে নেবে তারা জাহান্নামে পতিত হবে। আর যারা ঈমানের ওপর অটল ও অবিচল থেকে দাজ্জালের জাহান্নামকে বেছে নেবে তাদের ঠিকানা হবে জান্নাত। আল্লাহ তাদেরকে সাহায্য করবেন।

হযরত আবু সাইদ খুদরি রাদি. থেকে বর্ণিত। তিনি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন, 'জেনে রাখ, প্রত্যেক নবী স্বীয় উম্মতকে দাজ্জাল সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। আমি এমন এক প্রতিজ্ঞাবদ্ধ যে প্রতিজ্ঞা আমার পূর্বের কোনো নবী তার উম্মতকে দেননি। সাবধান! তার ডান চোখ হবে মেশানো, যা ফুলে উঠে থাকবে। বিষয়টি কারো কাছে গোপন থাকবে না। তা যেন দেয়ালের পার্শ্বে নিক্ষিপ্ত শ্লেষা। তার বাম চোখ হবে উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো। তার সাথে জান্নাত ও জাহান্নাম সদৃশ বস্তু থাকবে। তার জাহান্নাম হবে প্রকৃতপক্ষে সবুজ বাগান আর জান্নাত হবে ধুম্রময় নিকৃষ্ট স্থান।'

হজরত হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান রাদি. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'দাজ্জালের বাম চোখ কানা হবে। ঘন কোঁকড়ানো চুলবিশিষ্ট হবে। তার সাথে জান্নাত ও জাহান্নাম থাকবে। তার জাহান্নাম হলো জান্নাত এবং জান্নাত হলো জাহান্নাম।'

যারা সুরা কাহাফ তিলাওয়াত করবে তারা দাজ্জালের ফিতনা থেকে মুক্ত থাকবে। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা দাজ্জালের হাতে ঈমান হরণ থেকে তাদেরকে হিফাজত করবেন। দাজ্জাল যখন তাদেরকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবে তখন জাহান্নামের আগুন ঠান্ডা হয়ে যাবে। যেমন ঠান্ডা হয়ে গিয়েছিল হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালামের নিকট। দাজ্জালের জাহান্নাম ঈমানদারদের জ্বালাতে পারবে না। কেননা দাজ্জালের নিকট যে জাহান্নাম থাকবে তা মূলত জান্নাত। আর যে জান্নাত থাকবে তা মূলত জাহান্নাম। অপর বর্ণনায় আছে, দাজ্জালের সঙ্গে থাকবে দুটি প্রবহমান নদী। একটি নদীর পানি থাকবে শীতল ও সাদা। অপরটির পানি থাকবে উত্তপ্ত। ঈমানদারগণ যখন দাজ্জালকে প্রভু হিসেবে মেনে নেবে না তখন সে তাদেরকে উত্তপ্ত পানি পান করানোর জন্য আহ্বান করবে। কিন্তু তারা যখন পানি পান করবে তখন তারা সে পানিকে শীতল পাবে। তাদের নিকট তা উত্তপ্ত হবে না। এভাবেই আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ঈমানদারদেরকে দাজ্জালের ফিতনা থেকে রক্ষা করবেন।

ইবনে আবু উমাইয়া থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জনৈক সাহাবির নিকট এসে তাকে বলেছি, আপনি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শোনা দাজ্জাল বিষয়ক একটি হাদিস বর্ণনা করুন। তিনি আমাকে বললেন, আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি তোমাদেরকে দাজ্জালের ফিতনা সম্পর্কে ভীতিপ্রদর্শন করছি। এমন কোনো নবী নেই যিনি স্বীয় সম্প্রদায় বা উম্মতকে দাজ্জালের ভয় না দেখিয়েছেন। সে হবে কোঁকড়ানো চুলবিশিষ্ট। তার বাম চোখ হবে কানা। সে বৃষ্টি বর্ষাবে কিন্তু গাছ উৎপন্ন করতে পারবে না। সে এক ব্যক্তির ওপর ক্ষমতা প্রয়োগ করে হত্যা করার পর তাকে পুনরায় জীবিত করবে। কিন্তু এ ব্যক্তি ছাড়া অন্য কারো ওপর সে কর্তৃত্ব করতে পারবে না। তার সাথে থাকবে জান্নাত, জাহান্নাম, নহর, পানি এবং রুটির পাহাড়। তার জান্নাত হবে জাহান্নাম আর জাহান্নাম হবে জান্নাত। সে তোমাদের মাঝে চল্লিশ সকাল অবস্থান করবে। এ সময়ের মধ্যে সে প্রত্যেক ঘাটে পৌঁছাবে। কিন্তু চারটি মসজিদ ব্যতীত। মসজিদুল হারাম, মদিনার মসজিদ, তুর এবং মসজিদুল আকসা। যদি তাকে চিনতে তোমাদের অসুবিধা হয় বা তোমরা সন্দিহান হও তাহলে জেনে রাখ, মহান আল্লাহ কানা নন।'

হে আল্লাহর বান্দারা! সেদিন দাজ্জালের নিকট থাকা জান্নাত হবে জাহান্নাম। আর জান্নাত হবে জাহান্নাম। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। সত্যিই এ এক ভয়াবহ ফিতনা। এর থেকে কেবল তারাই মুক্তি পাবে যাদেরকে আল্লাহ তায়ালা হিফাজত করবেন।

দাজ্জালের আরেকটি ফিতনা হলো, দাজ্জাল এক গ্রাম্য ব্যক্তিকে বলবে, আমি তোমার মৃত পিতা-মাতাদের পুনরায় জীবিত করে দেখাব তবুও কি তুমি আমাকে তোমার প্রভু হিসেবে স্বীকার করবে না। তখন সে বলবে, হ্যাঁ, যদি আমার পিতা-মাতাকে মৃত থেকে জীবিত করে দেখাতে পার তাহলে আমি তোমাকে প্রভু হিসেবে মেনে নেব। দাজ্জাল তখন দুইজন শয়তানকে তার পিতা-মাতার আকৃতিতে তার সামনে হাজির করবে। তারা তাকে বলবে, হে আমার সন্তান! তুমি তার অনুসরণ করো।

টিকাঃ
৩৭. মুসতাদরাকে হাকেম: ৮৬২১।
৩৮. সহিহ মুসলিম: ৮/১৯৫।
৩৯. মুসনাদে আহমদ: ২৩৬৮৪।

ফন্ট সাইজ
15px
17px