📘 প্রতীক্ষিত মাহদি দাজ্জাল ও ইয়াজুজ মাজুজ 📄 সালাফদের অনুসন্ধিৎসু দৃষ্টিতে

📄 সালাফদের অনুসন্ধিৎসু দৃষ্টিতে


ইমাম মাহদির আগমন এবং তার খিলাফতের ব্যাপারে উলামায়ে কেরামের যেসব বক্তব্য রয়েছে তা সত্য। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রহ. বলেন, 'যেসব হাদিসে মাহদির আগমনের কথা বর্ণিত হয়েছে সেগুলো সহিহ হাদিস। শাইখুল ইসলাম মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব রহ. বলেন, 'দলিল-প্রমাণের আলোকে এ কথাই প্রমাণিত যে, মাহদি হবেন হজরত হাসান রাদি.-এর বংশধর। যেমনটি আবু দাউদ ও অন্যান্য গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে।'

প্রখ্যাত মুফাসসির, মুহাদ্দিস ও ঐতিহাসিক আল্লামা ইবনে কাসির রহ. আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া গ্রন্থে বলেছেন, মাহদি হলেন খুলাফায়ে রাশেদা এবং পথিকৃত ইমামদের মধ্য থেকে একজন। তিনি রাফেজিদের অন্তর্ভুক্ত হবেন না। ভূগর্ভস্থ থেকে বের হবেন না। প্রচলিত এসব কথাবার্তার কোনো ভিত্তি নেই।'

আল্লামা ইবনুল কাইয়িম রহ. বলেন, 'মুসলমানরা হজরত ঈসা আলাইহিস সালামের আগমনের অপেক্ষা করছে। তিনি এসে ক্রুশ ভেঙে ফেলবেন, শূকর হত্যা করবেন, ইহুদি ও খ্রিষ্টানদের মধ্য থেকে যারা তার শত্রু তাদেরকে হত্যা করবেন। এবং মুসলমানরা মাহদির আগমনের অপেক্ষা করছে যিনি আহলে বাইতের মধ্য থেকে হবেন। পৃথিবীতে ন্যায় ও ইনসাফের শাসন কায়েম করবেন।

ইমাম মাহদির আলোচনা ইহুদি-খ্রিষ্টানদের কিতাবসমূহেও বর্ণিত হয়েছে। কাব আল-আহবার বলেন, 'আমি পূর্ববর্তী নবীদের কিতাবসমূহে মাহদির আগমনের সংবাদ পেয়েছি। তার রাজত্বে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত হবে। কোনো প্রকার জুলুম থাকবে না।'

ইহুদিদের এক কিতাবে তাদেরকে সম্বোধন করে বলা হয়েছে, 'যখন পৃথিবীতে তোমাদের সন্তান-সন্ততি অধিক হবে, তোমাদের ক্ষমতা ও রাজত্ব চারদিকে ছড়িয়ে পড়বে, পার্থিব ঐশ্বর্যে যখন তোমরা শীর্ষে উন্নীত হবে, যখন তোমরা তোমাদের রবের অবাধ্যতা ও নাফরমানির চূড়ান্ত সীমা অতিক্রম করবে, আমি এই আসমান ও জমিনকে সাক্ষী রেখে বলছি, তখনই তোমাদের ধ্বংস ঘনিয়ে আসবে। তোমাদের পতন হবে এক প্রতীক্ষিত যুবকের হাতে।'

আল্লাহু আকবার! কে সেই প্রতীক্ষিত যুবক যার হাতে পতন ঘটবে অভিশপ্ত ইহুদিদের? পৃথিবীর সকল অন্যায় অপরাধের মূলোৎপাটন করে কোন প্রতিশ্রুত যুবক প্রতিষ্ঠা করবে ইনসাফের রাজ? তিনি মাহদি-যার বরকতময় আগমন হবে হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বংশ থেকে। পৃথিবীবাসী অধীর প্রতীক্ষায় থাকবে তার আগমনের। ইহুদিদের জুলুম ও নিপীড়নে পৃথিবী তখন অতিষ্ঠ হয়ে উঠবে। ইহুদিদের কিতাবে বর্ণিত উল্লিখিত বক্তব্যের সাথে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার এই আয়াত মিলিয়ে নাও। দেখো কত চমৎকার সামঞ্জস্য।

وَقَضَيْنَا إِلَى بَنِي إِسْرَائِيلَ فِي الْكِتَابِ لَتُفْسِدُنَّ فِي الْأَرْضِ مَرَّتَيْنِ وَلَتَعْلُنَّ عُلُوًّا كَبِيرًا * فَإِذَا جَاءَ وَعْدُ أُولاهُمَا بَعَثْنَا عَلَيْكُمْ عِبَادًا لَنَا أُولِي بَأْسٍ شَدِيدٍ فَجَاسُوا خِلالَ الدِّيَارِ وَكَانَ وَعْدًا مَفْعُولًا * ثُمَّ رَدَدْنَا لَكُمُ الْكَرَّةَ عَلَيْهِمْ وَأَمْدَدْنَاكُمْ بِأَمْوَالٍ وَبَنِينَ وَجَعَلْنَاكُمْ أَكْثَرَ نَفِيرًا * إِنْ أَحْسَنتُمْ أَحْسَنتُمْ لِأَنفُسِكُمْ وَإِنْ أَسَأْتُمْ فَلَهَا فَإِذَا جَاءَ وَعْدُ الآخِرَةِ لِيَسُوءُوا وُجُوهَكُمْ وَلِيَدْخُلُوا الْمَسْجِدَ كَمَا دَخَلُوهُ أَوَّلَ مَرَّةٍ وَلِيُتَبَّرُوا مَا عَلَوْا تَتْبِيرًا

'আমি বনি ইসরাইলের প্রতি কিতাবে ঘোষণা দিয়েছিলাম যে, দুনিয়ায় তোমরা দু-বার বিপর্যয় সৃষ্টি করবে এবং বড়ো রকমের ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করবে। অতঃপর যখন ওই দুটির প্রথমটির প্রতিশ্রুতি এসেছিল তখন আমি তোমাদের বিরুদ্ধে আমার প্রচণ্ড শক্তিশালী বান্দাদের পাঠিয়েছিলাম। তারা ঘরবাড়ির ভেতর প্রবেশ করেছিল। এটি একটি কার্যকর প্রতিশ্রুতি ছিল। তারপর তাদের বিরুদ্ধে আবার তোমাদের পালা [ক্ষমতা] ফিরিয়ে দিয়েছিলাম। ধন-সম্পদ, পুত্রসন্তান দ্বারা তোমাদের সাহায্য করেছিলাম এবং তোমাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ করেছিলাম। তোমরা ভালো কাজ করলে নিজেদের জন্যই করবে। আর খারাপ কাজ করলে তাও নিজেদের জন্যই। তারপর যখন দ্বিতীয় প্রতিশ্রুতির সময় এসেছিল তখন তাদেরকে পাঠিয়েছিলাম যাতে তারা তোমাদের মুখমণ্ডল বিকৃত করে। প্রথমবার যেভাবে মসজিদে প্রবেশ করেছিল সেভাবে মসজিদে প্রবেশ করে এবং যেখানেই চড়াও হয় সবকিছু তচনছ করে দেয়।

টিকাঃ
১৩. সুরা ইসরা: ৪-৭।

📘 প্রতীক্ষিত মাহদি দাজ্জাল ও ইয়াজুজ মাজুজ 📄 মাহদি বলে নামকরণের কারণ

📄 মাহদি বলে নামকরণের কারণ


ইমাম মাহদির আগমনের ব্যাপারে একাধিক হাদিস বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু সকলের অন্তরে প্রশ্ন হলো, তাহলে সর্বত্র তিনি মাহদি নামে পরিচিত কেন? মাহদি নামকরণের পেছনে প্রকৃত কারণ কী? এ ব্যাপারে উলামায়ে কেরামের একাধিক বক্তব্য রয়েছে।

হজরত কাব আল-আহবার রাদি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মাহদি নামকরণের কারণ হলো, তিনি পৃথিবীতে আগমন করে সকল মানবজাতিকে একটি সূক্ষ্ম বিষয়ের প্রতি হিদায়াত তথা পথপ্রদর্শন করবেন। তিনি এসে ইন্তাকিয়া শহর থেকে আসল তাওরাত ও ইঞ্জিল কিতাব বের করবেন।

আল্লামা ইবনুল আসির রহ. বলেন, 'মাহদি ওই ব্যক্তি যিনি মানবজাতিকে হকের দিকে হিদায়াত তথা পথপ্রদর্শন করবেন। তাই তাকে মাহদি বলা হয়।'

আল্লামা সুয়ুতি রহ. বলেন, 'তাকে মাহদি বলে নামকরণের কারণ হলো, আল্লাহ তায়ালা তাকে শামের একটি পাহাড়ের সন্ধান [হিদায়াত] দেবেন। তিনি সেখান থেকে ইহুদিদের আসল গ্রন্থ তাওরাত উদ্ধার করবেন।'

সুতরাং বোঝা গেল, মাহদি বলে নামকরণ করা হয়েছে মূলত তার কাজ ও কর্মপন্থার আলোকে। আল্লাহ তায়ালা মানবজাতিকে সঠিক পথপ্রদর্শনের জন্য তাকে সঠিক পথ দেখিয়েছেন এবং তাকে সঠিক পথের ওপর অটল ও অবিচল রেখেছেন। হকের ঝান্ডাবাহী একটি সৈন্যদল দিয়ে তাকে সাহায্য করবেন। তিনি পৃথিবী থেকে সকল প্রকার জুলুম-নিপীড়ন দূরীভূত করে ন্যায়-ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করবেন। কুফর শিরক দূর করে আল্লাহর একত্ববাদ সর্বত্র কায়েম করবেন। এ উম্মতকে তিনি সম্মান ও মর্যাদার আসনে ফের সমাসীন করবেন।

📘 প্রতীক্ষিত মাহদি দাজ্জাল ও ইয়াজুজ মাজুজ 📄 ইমাম মাহদির গুণাবলি

📄 ইমাম মাহদির গুণাবলি


ইমাম মাহদির গুণাবলি ও শারীরিক গঠন সম্পর্কে হাদিস বর্ণিত হয়েছে। হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদি. থেকে বর্ণিত হাদিসের আলোকে জানা যায়,

المهدي فتى أجلى الجبهة أي واسع الجبهة، أقنى الأنف أي: طويل الأنف مع دقة أرنبته-، يملأ الأرض قسطاً وعدلاً كما ملئت ظلما وجوراً، يملك سبع سنين

'ইমাম মাহদি হবেন উজ্জ্বল ও প্রশস্ত কপালবিশিষ্ট। উঁচু ও সরু নাক হবে তার। পৃথিবীতে তিনি ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করবেন, ইতঃপূর্বে যেমন জুলুম ও নিপীড়নে পূর্ণ ছিল। তিনি সাত বছর রাজত্ব করবেন।'

হজরত আবু জাফর ইবনে আলি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হজরত আলি রাদি.-কে ইমাম মাহদির গুণাবলি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল। জবাবে তিনি বলেছেন, প্রতীক্ষিত মাহদি মাঝারি গড়নের এক সুদর্শন যুবক। তার চুল গর্দানে নেমে আসবে। তার মুখমণ্ডলে, চুলে, দাড়ি ও মাথায় নূর চমকাতে থাকবে।'

‘কিতাবুল মাসিহিদ দাজ্জাল ও আসরারুস সাআহ' গ্রন্থে উল্লেখ আছে যে, ইমাম মাহদি শারীরিক গঠনে হবেন মাঝারি গড়নের। অতিরিক্ত লম্বা এবং খাঁটো নয়। খুব বেশি চিকন ও মোটা নয়। তার কপাল হবে প্রশস্ত ও উজ্জ্বল। নাক হবে সরু ও খাড়া। চক্ষু হবে কালো, ডাগর ডাগর। উভয় উরু থাকবে পৃথক পৃথক, বেটে মানুষের মতো একটি অপরটির সাথে লেগে থাকবে না। আর তার বয়স হবে ত্রিশ থেকে চল্লিশের মাঝমাঝি। অত্যন্ত বিনয় ও নম্র প্রকৃতির হবেন।'

ইমাম মাহদির রাজত্ব ও খেলাফত সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে, হজরত সাওবান রাদি. বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

يقتتل عند كنزكم ثلاثة كلهم ابن خليفة ثم لا يصير إلى واحد منهم، ثم تطلع رايات سود من قبل المشرق فيقتلونكم قتلاً لم يقتله قوم، قال: ثم نسيت ما قال، ثم قال: فإذا رأيتموه فبايعوه ولو حبواً على الثلج، فإنه المهدي

'তোমাদের খনিজ ভান্ডারের কাছে তিন ব্যক্তি [তিনটি বড়ো বাহিনী] যুদ্ধ করবে। তারা তিন জনই হবে শাসকের ছেলে। খনিজ ভান্ডার কারো নিকটই স্থানান্তরিত করা হবে না। এরপর পূর্বদিক থেকে কালো পতাকাবাহী লোকেরা আগমন করবে। তারা তোমাদের বিরুদ্ধে এত কঠোরভাবে যুদ্ধ করবে যে, এমন যুদ্ধ ইতঃপূর্বে কেউ করতে সক্ষম হয়নি। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কী যেন বললেন, কিন্তু আমি তা ঠিকমতো বুঝে উঠতে পারিনি। অতঃপর বলেন, যখন তোমরা মাহদিকে দেখবে তখন তার হাতে বাইআত হয়ে যেয়ো। অর্থাৎ, তার বাহিনীতে তোমরা শামিল হয়ে যেয়ো। যদি এর জন্য তোমাদেরকে দূর-দূরান্ত এলাকা থেকে বরফের পাহাড়ের ওপর দিয়ে হামাগুড়ি দিয়ে আসতে হয় তাহলে তোমরা তাই করো।

আল্লামা ইবনে কাসির রহ. বলেন, উল্লিখিত হাদিসে যে ধন-ভান্ডারের কথা বলা হয়েছে তা হলো কাবাঘরের ধন-ভান্ডার। তিনজন শাসকের পুত্র তা দখল করার জন্য লড়াই করবে। কেউ তা দখল করতে পারবে না। সবশেষে আখেরি জমানায় পাশ্চাত্যর কোনো একটি দেশ থেকে ইমাম মাহদি আগমন করবেন। কতিপয় মূর্খ দাবি করে তিনি সামেরার গর্ত থেকে আত্মপ্রকাশ করবেন। তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। তারা এ ধরনের আরো বহু হাস্যকর কথার অবতরণ করেছে যার কোনো ভিত্তি নেই। তাদের দাবির পেছনে কোনো যুক্তি প্রমাণ নেই।

ইমাম ইবনে কাসির রহ. আরো বলেন, 'পূর্বাঞ্চলীয় মুসলমানরা ইমাম মাহদিকে সাহায্য করবে। পৃথিবীতে তারা ইমাম মাহদির শাসন প্রতিষ্ঠা করবে। তাদের পতাকা হবে কালো। কেননা কালো সম্মান ও মর্যাদার প্রতীক। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পতাকা ছিল কালো। যার নাম ছিল ইকাব।'

টিকাঃ
১৪. সুনানে আবু দাউদ: ৪২৮২; কানযুল উম্মাল: ৩৮৬৭৬।
১৫. সুনানে নাসায়ি: ৪০৮৪; কানযুল উম্মাল: ৩৮৬৫৮।

📘 প্রতীক্ষিত মাহদি দাজ্জাল ও ইয়াজুজ মাজুজ 📄 উম্মাহর প্রতি রাসুলের আহ্বান

📄 উম্মাহর প্রতি রাসুলের আহ্বান


রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার উম্মতকে আহ্বান করে বলেছেন, ইমাম মাহদি যখন আগমন করবে, তখন পৃথিবীতে যারা বেঁচে থাকবে তারা যেন হকের কাফেলায় শরিক হয়ে যায়। তারা যেন ইমাম মাহদির পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ হয়। হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদি. থেকে বর্ণিত,

বিহিনা নাহনু ইনদা রাসুলিল্লাহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম... (আরাবি টেক্সট)
'একদা আমরা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট বসা ছিলাম। এমন সময় বনু হাশিমের কতিপয় যুবক আগমন করল। তাদেরকে দেখে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চোখ লাল হয়ে গেল। চেহারার রং পরিবর্তন হয়ে গেল। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদি. বলেন, আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! আমরা আপনার চেহারায় অপছন্দনীয় বিষয় প্রত্যক্ষ করছি। তারপর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতে লাগলেন, আমার পরিবারস্থ লোকজন-আল্লাহ তাদের জন্য দুনিয়ার পরিবর্তে আখেরাতকে প্রাধান্য দিয়েছেন-আমার মৃত্যুর পর তারা অনেক বিপদাপদ, দেশ থেকে বিতাড়ন এবং বঞ্চিতকরণের সম্মুখীন হবে। শেষ পর্যন্ত পূর্ব দিক থেকে কালো পতাকাবাহী লোকেরা আসবে। তারা এসে নেতৃত্ব চাইবে। কিন্তু তখনকার নেতৃস্থানীয়রা তাদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে অস্বীকার করবে। ফলে তারা যুদ্ধ করবে। যুদ্ধে তাদেরকে আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্য করা হবে। ফলে তারা বিজয় লাভ করবে। অতঃপর তাদেরকে নেতৃত্ব দেওয়া হবে। কিন্তু এবার তারা নেতৃত্ব গ্রহণ না করে আমার পরিবারস্থ একজন লোকের হাতে নেতৃত্বের ভার অর্পণ করবে। সে পৃথিবীকে ন্যায়-ইনসাফ দ্বারা পূর্ণ করে দেবে। ঠিক যেমনভাবে ইতঃপূর্বে জুলুম-অত্যাচারের মাধ্যমে ভরে দেওয়া হয়েছিল। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যারাই তখন উপস্থিত থাকবে, সে যেন কালো পতাকাবাহী দলে এসে শামিল হয়ে যায়। যদিও এর জন্য তোমাদেরকে বরফের ওপর দিয়ে হাটু গেড়ে আসতে হোক না কেন।'

টিকাঃ
১৬. মুসনাদে আহমদ ইবনে হাম্বল: ৫৩৭৫; সুনানে ইবনে মাজাহ: ৪০৮২; মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা: ১১/২৫৬।

ফন্ট সাইজ
15px
17px