📘 প্রথমে বর্জন পরে গ্রহণ 📄 লেবাস বা পোষাক পরিধানে শির্ক

📄 লেবাস বা পোষাক পরিধানে শির্ক


অনেকে বলে থাকে, আমার যদি অমুক পোষাকটি না থাকত তাহলে আজ শীতে বাঁচতাম না আজ শীতে মরেই যেতাম। চাদর না থাকলে মরেই যেতাম ইত্যাদি কথা বলা শির্ক। কারণ বাচা ও মারার মালিক কেবল মাত্র আল্লাহই। তিনি বলেন,
﴿يُحْيِي وَيُمِيتُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ ﴾ “তিনি জীবিত করেন, তিনিই মৃত্যুদান করেন। তিনি সকল বিষয়েই ক্ষমতাবান।” (সূরাহ্ আল হাদীদ ৫৭ : ২)
অনেকে নতুন পোষাক পরলে মনে মনে গর্ববোধ করে, আর এ গর্ববোধ করাটাও হলো শির্ক।

📘 প্রথমে বর্জন পরে গ্রহণ 📄 সমস্ত প্রকার গাইরুল্লাহর নামে এমনকি পিতা-মাতার নামে ক্বস্‌ম করাও শির্ক

📄 সমস্ত প্রকার গাইরুল্লাহর নামে এমনকি পিতা-মাতার নামে ক্বস্‌ম করাও শির্ক


عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عُمَرَ، أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ: إِنَّ اللَّهَ يَنْهَاكُمْ أَنْ تَحْلِفُوا بِآبَائِكُمْ قَالَ عُمَرُ : فَوَاللَّهِ مَا حَلَفْتُ بِهَا بَعْدُ ذَاكِرًا وَلَا آثِرًا.
সালিম হতে বর্ণিত, তিনি তার পিতা 'আবদুল্লাহ হতে বর্ণনা করেন যে, নাবী কবিয়াল্লা- থেকে শুনেছে তিনি আমার পিতার শপথ বলে কসম করেছেন। তিনি () বললেন: মহান পরাক্রমশালী আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের পিতার কৃস্ম করতে নিষেধ করেছেন। কেননা এটা তোমাদের কুফ্রী হবে। (মুসনাদে আবূ 'আওয়ানাহ্- ৪র্থ খণ্ড, ২৪ পৃষ্ঠা, হাঃ ৫৮৯৩, ৫৮৯৪)
عَنْ سَعْدِ بْنِ عُبَيْدَةَ قَالَ: كُنْتُ عِنْدَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ آنِفًا فَقَالَ: أَحْلِفُ بِالْكَعْبَةِ، فَقَالَ: لَا وَلَكِنْ احْلِفُ بِرَبِّ الْكَعْبَةِ، فَإِنَّ عُمَرَ كَانَ يَحْلِفُ بِأَبِيهِ، فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ : لَا تَحْلِفْ بِأَبِيْكَ، فَإِنَّهُ مَنْ حَلَفَ بِغَيْرِ اللَّهِ، فَقَدْ أَشْرَكَ».
সা'দ বিন 'উবায়দাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু 'উমার- এর নিকট ছিলাম। আমি বললাম, কা'বার শপথ করব? তিনি বললেন, না। কিন্তু কা'বার প্রভুর শপথ করবে। 'উমার মা তার পিতার শপথ করলেন, অতঃপর রসূলুল্লাহ বললেন, তোমরা তোমাদের পিতার শপথ করো না। যে ব্যক্তি গাইরুল্লাহ (আল্লাহ ব্যতীত অন্যের) শপথ করে, সে অবশ্যই শির্ক করে। (সিলসিলাতুস্ সহীহাহ্ হাঃ ৩/২৪০ পৃঃ, হাঃ ১১৬৬, আবূ দাউদ হাঃ ৩২৫৩, তিরমিযী হাঃ ১৫৩৫, সহীহ ইবনু হিব্বان হাঃ ৪৩৫৮)

📘 প্রথমে বর্জন পরে গ্রহণ 📄 শুকনা কাঠের উপর দাঁড়িয়ে, অনেকে সন্তানের মাথায় হাত রেখে ক্বস্‌ম করে কেউ বা বাতাসকে গালি দিয়ে ক্বস্‌ম করে এগুলো সবই শির্কের অন্তর্ভুক্ত

📄 শুকনা কাঠের উপর দাঁড়িয়ে, অনেকে সন্তানের মাথায় হাত রেখে ক্বস্‌ম করে কেউ বা বাতাসকে গালি দিয়ে ক্বস্‌ম করে এগুলো সবই শির্কের অন্তর্ভুক্ত


الله عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، قَالَ : سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ ، يَقُولُ: الرِّيحُ مِنْ رَوْحِ اللهِ تَأْتِي بِالرَّحْمَةِ، وَتَأْتِي بِالْعَذَابِ، فَإِذَا رَأَيْتُمُوهَا فَلَا تَسُبُّوهَا، وَسَلُوا اللَّهَ خَيْرَهَا، وَاسْتَعِيذُوا بِاللَّهِ مِنْ شَرِّهَا.
আবু হুরায়রাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ- কে বলতে শুনেছি, বাতাস আল্লাহর ইনসাফের অন্তর্ভুক্ত। এটা কখনো অনুগ্রহ নিয়ে আসে আবার কখনো শান্তি নিয়ে আসে। বিধায় যখন তোমরা তা দেখবে বাতাসকে গালি দিবে না। আল্লাহর নিকট তোমরা বাতাসের কল্যাণ চাবে এবং বাতাসের অকল্যাণ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাইবে। (মুসনাদে আহমাদ- হাঃ ৭৬৩১, আবু দাউদ- হাঃ ৫০৯৭: সহীহ)
عَنْ أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ لَا تَسُبُّوا الرِّيحَ، فَإِذَا رَأَيْتُمْ مَا تَكْرَهُونَ فَقُولُوا: اللَّهُمَّ إِنَّا نَسْأَلُكَ مِنْ خَيْرِ هُذِهِ الرِّيحِ وَخَيْرِ مَا فِيهَا وَخَيْرِ مَا أُمِرْتَ بِهِ، وَنَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ هَذِهِ الرِّيحِ وَشَرِّ مَا فِيهَا وَشَرِّ مَا أُمِرْتَ بِهِ.
উবাই বিন কা'ব হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ বলেছেন: তোমরা বাতাসকে গালি দিও না। যখন তোমরা তাতে তোমাদের অপছন্দনীয় বিষয় দেখবে তখন বলবে, হে আল্লাহ! আমরা এ বাতাস থেকে কল্যাণ কামনা করি, তাতে যে কল্যাণ রয়েছে এবং তাতে তুমি যে কল্যাণের নির্দেশ দিয়েছ তা কামনা করি এবং এ বাতাসের অকল্যাণ হতে এবং তাতে যে অকল্যাণ রয়েছে এবং তাতে তুমি যে অকল্যাণের নির্দেশ দিয়েছে তা হতেও আমরা তোমার নিকট আশ্রয় চাই। (মুসনাদে আহমাদ- হাঃ ২১১৩৮, তিরমিযী- হাঃ ২২৫২: সহীহ)

📘 প্রথমে বর্জন পরে গ্রহণ 📄 সাক্ষ্যের ক্ষেত্রে মিথ্যা বলা ও মূর্তি পূজা করা সমান শির্ক

📄 সাক্ষ্যের ক্ষেত্রে মিথ্যা বলা ও মূর্তি পূজা করা সমান শির্ক


فَاجْتَنِبُوا الرِّجْسَ مِنَ الْأَوْثَانِ وَاجْتَنِبُوا قَوْلَ الزُّورِ
“অতএব, তোমরা মূর্তিদের অপবিত্রতা থেকে বেঁচে থাকো এবং মিথ্যা কথা থেকে বেঁচে থাকো।” (সূরাহ্ আল হাজ্জ ২২: ৩০)
عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ أَنَّهُ قَالَ: تُعْدِلُ شَهَادَةُ الزُّورِ الْإِشْرَاكُ بِاللَّهِ، ثُمَّ قَرَأَ هَذِهِ الآية.
'আবদুল্লাহ ইবনু মাস্'উদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মিথ্যা সাক্ষ্যকে আল্লাহর সাথে শরীক করার অপরাধের সাথে পরিবর্তন করা হয়েছে। অতঃপর তিনি উক্ত আয়াত তিলাওয়াত করলেন। (ইবনু কাসীর- ৩য় খণ্ড, ২৯৫ পৃষ্ঠা)
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ: عَلَيْكُمْ بِالصِّدْقِ، فَإِنَّ الصِّدْقَ يَهْدِي إِلَى الْبِرِّ، وَإِنَّ الْبِرَّ يَهْدِى إِلَى الْجَنَّةِ، وَمَا يَزَالُ الرَّجُلُ يَصْدِقُ وَيَتَحَرَّى الصِّدْقَ حَتَّى يُكْتَبَ عِنْدَ اللهِ صِدِّيقًا، وَإِيَّاكُمْ وَالْكِذْبَ، فَإِنَّ الْكِذْبَ يَهْدِى إِلَى الْفُجُوْرِ، وَإِنَّ الْفُجُورَ يَهْدِى إِلَى النَّارِ، وَمَا يَزَالُ الرَّجُلُ يَكْذِبُ وَيَتَحَرَّى الْكِذْبَ حَتَّى يُكْتَبَ عِنْدَ اللهِ كَذَّابًا.
'আবদুল্লাহ বিন মাস্'ঊদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ বলেছেন : তোমাদের অপরিহার্য কর্তব্য হলো সত্য কথা বলা। কেননা সত্য পূণ্যের দিকে নিয়ে যায়। আর পুণ্য নিয়ে যায় জান্নাতে। লোক সর্বদা সত্য বলতে থাকে এবং সত্যের উপর নির্ভর করে, এমনকি আল্লাহর নিকট সত্যবাদী লিখিত হয়ে যায়। আর তোমরা মিথ্যা হতে বেঁচে থাকো। কেননা, মিথ্যা পাপের দিকে নিয়ে যায় এবং পাপ কাজ জাহান্নামের দিকে নিয়ে যায়। আর মানুষ সর্বদা মিথ্যা বলতে থাকে এবং মিথ্যার উপর নির্ভর করে, এমনকি আল্লাহর নিকট মিথ্যাবাদী লিখিত হয়ে যায়। (বুখারী- হাঃ ৬০৯৪, মুসলিম- হাঃ ১০৫-[২৬০৭], মুসনাদে আহমাদ- হাঃ ৩৬৩৮, তিরমিযী- হাঃ ১৯৭১; শব্দবিন্যাস মুসলিম-এর)

ফন্ট সাইজ
15px
17px