📘 প্রথমে বর্জন পরে গ্রহণ > 📄 কৃষিকাজ, চাষাবাদ ও ক্ষেত-খামারে শির্ক

📄 কৃষিকাজ, চাষাবাদ ও ক্ষেত-খামারে শির্ক


অনেক কৃষক মনে করেন ফসল আমরা আবাদ করি বলেই উৎপন্ন হয়। তাই তারা বলেন, এবার সার দিয়েছি বলেই এত ভালো ফসল হয়েছে। শ্রম না দিলে ফসলই হতো না। এত মণ করে ফলিয়েছি ইত্যাদি। সকল কথাই শিক্কি, কেননা মহান আল্লাহকে এ কথাগুলোর দ্বারা প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে। তার ক্ষমতাকে ক্ষুণ্ণ করা হচ্ছে। অথচ তিনি বলেন, أَفَرَأَيْتُمْ مَا تَحْرُثُوْنَ أَأَنْتُمْ تَزْرَعُونَهُ أَمْ نَحْنُ الزَّارِعُوْنَ لَوْ نَشَاءُ لَجَعَلْنَاهُ حُطَامًا فَظَلْتُمْ تَفَكَّهُونَ ﴾ ٦٥
"তোমরা যে বীজ বপণ করো সে সম্পর্কে ভেবে দেখেছ কি? তোমরা তা উৎপন্ন করো না আমি উৎপন্ন করি? আমি ইচ্ছা করলে তাকে খড়কুটা করে দিতে পারি। অতঃপর হয়ে যাবে তোমরা বিস্ময়াবিষ্ট।” (সূরাহ্ ওয়াক্বি'আহ্ ৫৬ : ৬৩-৬৫)
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ : لَا تَقُولَنَّ زَرَعْتُ، وَلَكِنْ قُلْ: حَرَّثْتُ.
আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন : আমি ফলিয়েছি বা উৎপন্ন করেছি এ কথা বল না বরং বলো আমি বপণ বা চাষ করেছি। (ইবনু জারীর; ইবনু কাসীর- ৪র্থ খণ্ড, ৩৭৯ পৃষ্ঠা)

📘 প্রথমে বর্জন পরে গ্রহণ > 📄 লেবাস বা পোষাক পরিধানে শির্ক

📄 লেবাস বা পোষাক পরিধানে শির্ক


অনেকে বলে থাকে, আমার যদি অমুক পোষাকটি না থাকত তাহলে আজ শীতে বাঁচতাম না আজ শীতে মরেই যেতাম। চাদর না থাকলে মরেই যেতাম ইত্যাদি কথা বলা শির্ক। কারণ বাচা ও মারার মালিক কেবল মাত্র আল্লাহই। তিনি বলেন,
﴿يُحْيِي وَيُمِيتُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ ﴾ “তিনি জীবিত করেন, তিনিই মৃত্যুদান করেন। তিনি সকল বিষয়েই ক্ষমতাবান।” (সূরাহ্ আল হাদীদ ৫৭ : ২)
অনেকে নতুন পোষাক পরলে মনে মনে গর্ববোধ করে, আর এ গর্ববোধ করাটাও হলো শির্ক।

📘 প্রথমে বর্জন পরে গ্রহণ > 📄 সমস্ত প্রকার গাইরুল্লাহর নামে এমনকি পিতা-মাতার নামে ক্বস্‌ম করাও শির্ক

📄 সমস্ত প্রকার গাইরুল্লাহর নামে এমনকি পিতা-মাতার নামে ক্বস্‌ম করাও শির্ক


عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عُمَرَ، أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ: إِنَّ اللَّهَ يَنْهَاكُمْ أَنْ تَحْلِفُوا بِآبَائِكُمْ قَالَ عُمَرُ : فَوَاللَّهِ مَا حَلَفْتُ بِهَا بَعْدُ ذَاكِرًا وَلَا آثِرًا.
সালিম হতে বর্ণিত, তিনি তার পিতা 'আবদুল্লাহ হতে বর্ণনা করেন যে, নাবী কবিয়াল্লা- থেকে শুনেছে তিনি আমার পিতার শপথ বলে কসম করেছেন। তিনি () বললেন: মহান পরাক্রমশালী আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের পিতার কৃস্ম করতে নিষেধ করেছেন। কেননা এটা তোমাদের কুফ্রী হবে। (মুসনাদে আবূ 'আওয়ানাহ্- ৪র্থ খণ্ড, ২৪ পৃষ্ঠা, হাঃ ৫৮৯৩, ৫৮৯৪)
عَنْ سَعْدِ بْنِ عُبَيْدَةَ قَالَ: كُنْتُ عِنْدَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ آنِفًا فَقَالَ: أَحْلِفُ بِالْكَعْبَةِ، فَقَالَ: لَا وَلَكِنْ احْلِفُ بِرَبِّ الْكَعْبَةِ، فَإِنَّ عُمَرَ كَانَ يَحْلِفُ بِأَبِيهِ، فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ : لَا تَحْلِفْ بِأَبِيْكَ، فَإِنَّهُ مَنْ حَلَفَ بِغَيْرِ اللَّهِ، فَقَدْ أَشْرَكَ».
সা'দ বিন 'উবায়দাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু 'উমার- এর নিকট ছিলাম। আমি বললাম, কা'বার শপথ করব? তিনি বললেন, না। কিন্তু কা'বার প্রভুর শপথ করবে। 'উমার মা তার পিতার শপথ করলেন, অতঃপর রসূলুল্লাহ বললেন, তোমরা তোমাদের পিতার শপথ করো না। যে ব্যক্তি গাইরুল্লাহ (আল্লাহ ব্যতীত অন্যের) শপথ করে, সে অবশ্যই শির্ক করে। (সিলসিলাতুস্ সহীহাহ্ হাঃ ৩/২৪০ পৃঃ, হাঃ ১১৬৬, আবূ দাউদ হাঃ ৩২৫৩, তিরমিযী হাঃ ১৫৩৫, সহীহ ইবনু হিব্বان হাঃ ৪৩৫৮)

📘 প্রথমে বর্জন পরে গ্রহণ > 📄 শুকনা কাঠের উপর দাঁড়িয়ে, অনেকে সন্তানের মাথায় হাত রেখে ক্বস্‌ম করে কেউ বা বাতাসকে গালি দিয়ে ক্বস্‌ম করে এগুলো সবই শির্কের অন্তর্ভুক্ত

📄 শুকনা কাঠের উপর দাঁড়িয়ে, অনেকে সন্তানের মাথায় হাত রেখে ক্বস্‌ম করে কেউ বা বাতাসকে গালি দিয়ে ক্বস্‌ম করে এগুলো সবই শির্কের অন্তর্ভুক্ত


الله عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، قَالَ : سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ ، يَقُولُ: الرِّيحُ مِنْ رَوْحِ اللهِ تَأْتِي بِالرَّحْمَةِ، وَتَأْتِي بِالْعَذَابِ، فَإِذَا رَأَيْتُمُوهَا فَلَا تَسُبُّوهَا، وَسَلُوا اللَّهَ خَيْرَهَا، وَاسْتَعِيذُوا بِاللَّهِ مِنْ شَرِّهَا.
আবু হুরায়রাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ- কে বলতে শুনেছি, বাতাস আল্লাহর ইনসাফের অন্তর্ভুক্ত। এটা কখনো অনুগ্রহ নিয়ে আসে আবার কখনো শান্তি নিয়ে আসে। বিধায় যখন তোমরা তা দেখবে বাতাসকে গালি দিবে না। আল্লাহর নিকট তোমরা বাতাসের কল্যাণ চাবে এবং বাতাসের অকল্যাণ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাইবে। (মুসনাদে আহমাদ- হাঃ ৭৬৩১, আবু দাউদ- হাঃ ৫০৯৭: সহীহ)
عَنْ أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ لَا تَسُبُّوا الرِّيحَ، فَإِذَا رَأَيْتُمْ مَا تَكْرَهُونَ فَقُولُوا: اللَّهُمَّ إِنَّا نَسْأَلُكَ مِنْ خَيْرِ هُذِهِ الرِّيحِ وَخَيْرِ مَا فِيهَا وَخَيْرِ مَا أُمِرْتَ بِهِ، وَنَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ هَذِهِ الرِّيحِ وَشَرِّ مَا فِيهَا وَشَرِّ مَا أُمِرْتَ بِهِ.
উবাই বিন কা'ব হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ বলেছেন: তোমরা বাতাসকে গালি দিও না। যখন তোমরা তাতে তোমাদের অপছন্দনীয় বিষয় দেখবে তখন বলবে, হে আল্লাহ! আমরা এ বাতাস থেকে কল্যাণ কামনা করি, তাতে যে কল্যাণ রয়েছে এবং তাতে তুমি যে কল্যাণের নির্দেশ দিয়েছ তা কামনা করি এবং এ বাতাসের অকল্যাণ হতে এবং তাতে যে অকল্যাণ রয়েছে এবং তাতে তুমি যে অকল্যাণের নির্দেশ দিয়েছে তা হতেও আমরা তোমার নিকট আশ্রয় চাই। (মুসনাদে আহমাদ- হাঃ ২১১৩৮, তিরমিযী- হাঃ ২২৫২: সহীহ)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00