📄 ক্বিয়ামে ও মিলাদে শির্ক
একদল মানুষ নাবী-এর নামে মিলাদ নামক বিদ'আত অনুষ্ঠানের মধ্যে চেয়ার খালি রাকে এবং ধারণা রাখে যে, নাবী এসে চেয়ারে বসেন। আবার তারা হঠাৎ করে মিলাদের মাঝে দাঁড়িয়ে পড়েন এবং ধারনা রাখে যে, নাবী-এর রূহ মোবারক মিলাদ মাহফিলে হাযির হয়ে থাকে, তাই দাড়াতে হয়। একই দিনে একই সাথে হাজার স্থানে মিলাদ হয়ে থাকে সকল স্থানে যাওয়ার ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহরই, তিনি ব্যতীত এ ক্ষমতা আর কারো নেই।
মহান আল্লাহ বলেন,
إِنَّ اللَّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
“নিশ্চয় আল্লাহ সকল বিষয়ে ক্ষমতা রাখেন।” (সূরাহ্ আল বাক্বারাহ্ ২ : ১০৯)
আর রসূলুল্লাহ তো মৃত্যুবরণ করেছেন, যার মৃত্যুতে প্রথমে 'উমার অতিরিক্ত ভালোবাসার কারণে মানতে পারেননি। অতঃপর আবূ বাকর এসে নাবী-এর মৃত্যুর স্বপক্ষে এ আয়াত পাঠ করেন,
وَمَا مُحَمَّدٌ إِلَّا رَسُولٌ قَدْ خَلَتْ مِنْ قَبْلِهِ الرُّسُلُ أَفَإِنْ مَّاتَ أَوْ قُتِلَ انْقَلَبْتُمْ عَلَى أَعْقَابِكُمْ وَمَنْ يَنْقَلِبْ عَلَى عَقِبَيْهِ فَلَنْ يَضُرَّ اللَّهَ شَيْئًا وَسَيَجْزِي اللهُ الشَّاكِرِينَ
"মুহাম্মাদ একজন রসূল ছাড়া আর কিছু নয়, তার পূর্বে বহু রসূল গত হয়েছেন, যদি তিনি মারা যান কিংবা নিহত হন তবে কি তোমরা পশ্চাদবরণ করবে? এবং কেউ পিছুটান হলে কখনো সে আল্লাহর ক্ষতি করতে সামান্য ও সক্ষম হবে না; আল্লাহ কৃতজ্ঞদের সত্বর পুরস্কার দিবেন।” (সূরাহ্ আ-লি 'ইমরান ৩ : ১৪৪)
অতএব যারা নাবী-কে মিলাদে উপস্থিত মনে করবে তারা অত্র আয়াতকে অস্বীকার করবে। রসূলকে আল্লাহর মত সকল স্থানে উপস্থিত হওয়ার ক্ষমতা মেনে নেয়া শির্ক হবে। আর নাবী তো জানে না যে, কোথায় কোথায় মিলাদ হচ্ছে। কেননা তিনি গায়েবের খবর জানেন না। মহান আল্লাহর কুরআন মাজীদে রসূলুল্লাহ-এর দ্বারা ঘোষণা করান,
وَلَوْ كُنْتُ أَعْلَمُ الْغَيْبَ لَاسْتَكْثَرْتُ مِنَ الْخَيْرِ وَمَا مَسَّنِيَ السُّوءُ ) “আমি যদি 'ইল্মে গায়েব জানতাম, তাহলে আমি অধিক কল্যাণ অর্জন করে নিতাম এবং অকল্যাণ আমাকে স্পর্শ করত না।” (সূরাহ্ আল আ'রাফ ৭ : ১৮৮)
قُلْ لَّا يَعْلَمُ مَنْ فِي السَّمَاتِ وَالْأَرْضِ الْغَيْبَ إِلَّا اللَّهُ ) “হে নাবী! বল, আসমানসমূহ ও জমিনের মধ্যে যা কিছু আছে আল্লাহ ব্যতীত আর কেউ গায়েব জানে না।” (সূরাহ্ আন্ নাম্ল ২৭ : ৬৫)
وَمَا أَدْرِي مَا يُفْعَلُ بِي وَلَا بِكُمْ ) “হে রসূল! এদেরকে বল, ভবিষ্যতে আমার ও তোমাদের সাথে কি ব্যবহার করা হবে আমি তা জানি না।” (সূরাহ্ আল আহক্বাফ ৪৬ : ৯) রসূলুল্লাহ বলেছেন :
وَاللَّهِ مَا أَدْرِي، وَأَنَا رَسُولُ اللهِ، مَا يُفْعَلُ بِي رَوَاهُ أَحْمَدُ وَلِلْبُخَارِيِّمَا أَدْرَى وَأَنَا رَسُولُ اللَّهِ مَا يُفْعَلُ بِهِ.
আল্লাহর শপথ! আমি জানি না, আমি আল্লাহর রসূল হওয়া সত্ত্বেও আমার সাথে কি করা হবে। মুসনাদে আহমাদ, বুখারীর বর্ণনায় রয়েছে, আমি আল্লাহর রসূল হওয়া সত্ত্বেও কি করা হবে তা আমি জানি না। (ইবনু কাসীর- ৪র্থ খণ্ড, ১৯৮ পৃষ্ঠা)
অতএব গায়েবের 'ইল্ল্ম বা জ্ঞান একমাত্র আল্লাহই জানেন। এ 'ইল্ম নাবী-এর সাথে সম্পৃক্ত করলে আল্লাহর সাথে শরীক করা হবে এবং শির্ক করা হবে।
এমনিভাবে মিলাদে ক্বিয়াম করলে উক্ত আয়াতের অস্বীকারের দরুণ কাফির হয়ে যাবে। এবং রসূলকে সবস্থানে হাযির জানার মাধ্যমে শির্ক করা হবে এবং ক্বিয়ামের মাধ্যমে এ ধরনের ক্বিয়াম তথা শের বা কবিতা বলা শিক্ যেমন বলা হয়ে থাকে।
وه تو مجتبي عرش آخدا هوکر اتار پڑا مدینه میں مصطفي هوكر......
তিনি তো 'আশে এসে খোদারূপে ছিলেন, মদীনায় নেমে মোস্তফা হয়ে গেলেন। (না'ঊযুবিল্লাহ) অর্থাৎ যিনি আল্লাহ ছিলেন, তিনি মদীনায় এসে মোস্তফা হয়ে গেলেন। (না'ঊযুবিল্লাহ)
এ ধরনের কবিতা, গান ইত্যাদি দ্বারা মিলাদের মধ্যে শিক্ সংঘটিত হয়ে থাকে।
📄 কৃষিকাজ, চাষাবাদ ও ক্ষেত-খামারে শির্ক
অনেক কৃষক মনে করেন ফসল আমরা আবাদ করি বলেই উৎপন্ন হয়। তাই তারা বলেন, এবার সার দিয়েছি বলেই এত ভালো ফসল হয়েছে। শ্রম না দিলে ফসলই হতো না। এত মণ করে ফলিয়েছি ইত্যাদি। সকল কথাই শিক্কি, কেননা মহান আল্লাহকে এ কথাগুলোর দ্বারা প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে। তার ক্ষমতাকে ক্ষুণ্ণ করা হচ্ছে। অথচ তিনি বলেন, أَفَرَأَيْتُمْ مَا تَحْرُثُوْنَ أَأَنْتُمْ تَزْرَعُونَهُ أَمْ نَحْنُ الزَّارِعُوْنَ لَوْ نَشَاءُ لَجَعَلْنَاهُ حُطَامًا فَظَلْتُمْ تَفَكَّهُونَ ﴾ ٦٥
"তোমরা যে বীজ বপণ করো সে সম্পর্কে ভেবে দেখেছ কি? তোমরা তা উৎপন্ন করো না আমি উৎপন্ন করি? আমি ইচ্ছা করলে তাকে খড়কুটা করে দিতে পারি। অতঃপর হয়ে যাবে তোমরা বিস্ময়াবিষ্ট।” (সূরাহ্ ওয়াক্বি'আহ্ ৫৬ : ৬৩-৬৫)
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ : لَا تَقُولَنَّ زَرَعْتُ، وَلَكِنْ قُلْ: حَرَّثْتُ.
আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন : আমি ফলিয়েছি বা উৎপন্ন করেছি এ কথা বল না বরং বলো আমি বপণ বা চাষ করেছি। (ইবনু জারীর; ইবনু কাসীর- ৪র্থ খণ্ড, ৩৭৯ পৃষ্ঠা)
📄 লেবাস বা পোষাক পরিধানে শির্ক
অনেকে বলে থাকে, আমার যদি অমুক পোষাকটি না থাকত তাহলে আজ শীতে বাঁচতাম না আজ শীতে মরেই যেতাম। চাদর না থাকলে মরেই যেতাম ইত্যাদি কথা বলা শির্ক। কারণ বাচা ও মারার মালিক কেবল মাত্র আল্লাহই। তিনি বলেন,
﴿يُحْيِي وَيُمِيتُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ ﴾ “তিনি জীবিত করেন, তিনিই মৃত্যুদান করেন। তিনি সকল বিষয়েই ক্ষমতাবান।” (সূরাহ্ আল হাদীদ ৫৭ : ২)
অনেকে নতুন পোষাক পরলে মনে মনে গর্ববোধ করে, আর এ গর্ববোধ করাটাও হলো শির্ক।
📄 সমস্ত প্রকার গাইরুল্লাহর নামে এমনকি পিতা-মাতার নামে ক্বস্ম করাও শির্ক
عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عُمَرَ، أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ: إِنَّ اللَّهَ يَنْهَاكُمْ أَنْ تَحْلِفُوا بِآبَائِكُمْ قَالَ عُمَرُ : فَوَاللَّهِ مَا حَلَفْتُ بِهَا بَعْدُ ذَاكِرًا وَلَا آثِرًا.
সালিম হতে বর্ণিত, তিনি তার পিতা 'আবদুল্লাহ হতে বর্ণনা করেন যে, নাবী কবিয়াল্লা- থেকে শুনেছে তিনি আমার পিতার শপথ বলে কসম করেছেন। তিনি () বললেন: মহান পরাক্রমশালী আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের পিতার কৃস্ম করতে নিষেধ করেছেন। কেননা এটা তোমাদের কুফ্রী হবে। (মুসনাদে আবূ 'আওয়ানাহ্- ৪র্থ খণ্ড, ২৪ পৃষ্ঠা, হাঃ ৫৮৯৩, ৫৮৯৪)
عَنْ سَعْدِ بْنِ عُبَيْدَةَ قَالَ: كُنْتُ عِنْدَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ آنِفًا فَقَالَ: أَحْلِفُ بِالْكَعْبَةِ، فَقَالَ: لَا وَلَكِنْ احْلِفُ بِرَبِّ الْكَعْبَةِ، فَإِنَّ عُمَرَ كَانَ يَحْلِفُ بِأَبِيهِ، فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ : لَا تَحْلِفْ بِأَبِيْكَ، فَإِنَّهُ مَنْ حَلَفَ بِغَيْرِ اللَّهِ، فَقَدْ أَشْرَكَ».
সা'দ বিন 'উবায়দাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু 'উমার- এর নিকট ছিলাম। আমি বললাম, কা'বার শপথ করব? তিনি বললেন, না। কিন্তু কা'বার প্রভুর শপথ করবে। 'উমার মা তার পিতার শপথ করলেন, অতঃপর রসূলুল্লাহ বললেন, তোমরা তোমাদের পিতার শপথ করো না। যে ব্যক্তি গাইরুল্লাহ (আল্লাহ ব্যতীত অন্যের) শপথ করে, সে অবশ্যই শির্ক করে। (সিলসিলাতুস্ সহীহাহ্ হাঃ ৩/২৪০ পৃঃ, হাঃ ১১৬৬, আবূ দাউদ হাঃ ৩২৫৩, তিরমিযী হাঃ ১৫৩৫, সহীহ ইবনু হিব্বان হাঃ ৪৩৫৮)