📄 মুশরিকদের সলাতের ধরন ছিল হাত তালি ও শিস বাজান
মহান আল্লাহ তা'আলা বলেন : وَمَا كَانَ صَلَاتُهُمْ عِنْدَ الْبَيْتِ إِلَّا مُكَاءً وَتَصْدِيَةً فَذُوقُوا الْعَذَابَ بِمَا كُنْتُمْ تَكْفُرُونَ
“কা'বা ঘরের নিকট শিস দেয়া ও হাততালি দেয়াই তাদের সলাত ছিল। অতএব তোমাদের কুফরী কাজের স্বাদ গ্রহণ করো।” (সূরাহ্ আল আনফাল ৮: ৩৫)
বর্তমান সময়ও যারা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে হাততালি ও মুখে শিস দেয় তাদের পরিণতিও শাস্তি ভোগ করতে হবে। কারণ এটা জাহিলী যুগের মুশরিকদের নীতি। যে নীতি বা শিস, হাততালি দিয়ে তারা নাবী ও সাহাবীদেরকে অপমান ও ঠাট্টা-বিদ্রূপ করত।
অতএব এ কাজ এখনও করলে নাবী ও সহাবীদেরকে বিদ্রূপ করা হবে বিধায় এটা করা মুসলিমদের জন্য হারাম। (ইবনু কাসীর- ২য় খণ্ড, ৪০৬ পৃষ্ঠা)
📄 বিভিন্ন গানের মাধ্যমে নাবী মুহাম্মাদ ﷺ-কে স্রষ্টার আসনে বসিয়ে শির্ক করা
এক শ্রেণীর মানুষ গানের মাধ্যমে আল্লাহর সাথে শরীক করে থাকে, তারা গানের মাধ্যমে নাবী-কে স্রষ্টার আসনে বসিয়ে দেয়। তারা গানের মাধ্যমে বলে,
নাবী মোর পরশমণি নাবী মোর শোনার খনি নাবী নাম জপে যে জন, সেই তো দু'জাহানের ধনী৷৷।
প্রিয় পাঠক! জপ বা যিক্র শুধুমাত্র আল্লাহর জন্য। আর এই জপ নাবীগণের জন্য নয়। কেউ যদি আল্লাহর নামের ন্যায় নাবীগণের নাম ধরে জপ বা যিকর করে তবে সে অবশ্যই আল্লাহর সাথে শিক্ বা অংশীস্থাপন করল। তেমনিভাবে কেউ যদি বলে,
আহমাদেরই মীমের পর্দা তুলে দেরে মন দেখবি সেথা বিরাজ করে আহাদ নিরঞ্জন৷৷
অর্থাৎ তারা বলতে চায় اَحْمَدُ )আহমাদ) শব্দের থেকে মীম অক্ষরটি বাদ দিলে أَحَدٌ )আহাদ) শব্দ থাকে। আর أَحَدٌ )আহাদ) হল আল্লাহর নাম। তারা বলতে চায় আহমাদও আহাদ একজনই। এভাবে তারা সৃষ্টিকে [মুহাম্মাদ-কে] স্রষ্টার আসনে বসিয়ে স্পষ্ট শির্ক করে থাকে। অথচ মহান আল্লাহ নাবী-কে লক্ষ্য করে বলেছেন,
قُلْ إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ مِثْلُكُمْ يُوحَى إِلَى أَنَّمَا إِلَهُكُمْ إِلَهُ وَاحِدٌ فَمَنْ كَانَ يَرْجُو لِقَاءَ رَبِّهِ فَلْيَعْمَلْ عَمَلًا صَالِحًا وَلَا يُشْرِكْ بِعِبَادَةِ رَبِّهِ أَحَدًا ۱۱۰
"বল! আমি তোমাদের মতই একজন মানুষ, আমার প্রতি ওয়াহী প্রেরিত হয় যে, তোমাদের মা'বুদ তো একই মা'বুদ। সুতরাং যে ব্যক্তি তার রাবের সাক্ষাত লাভের আশা রাখে সে যেন নেক কাজ করে এবং তার রাবের 'ইবাদাতে অন্য কাউকে শরীক না করে।” (সূরাহ্ আল কাহফ ১৮: ১১০)
📄 ক্বিয়ামে ও মিলাদে শির্ক
একদল মানুষ নাবী-এর নামে মিলাদ নামক বিদ'আত অনুষ্ঠানের মধ্যে চেয়ার খালি রাকে এবং ধারণা রাখে যে, নাবী এসে চেয়ারে বসেন। আবার তারা হঠাৎ করে মিলাদের মাঝে দাঁড়িয়ে পড়েন এবং ধারনা রাখে যে, নাবী-এর রূহ মোবারক মিলাদ মাহফিলে হাযির হয়ে থাকে, তাই দাড়াতে হয়। একই দিনে একই সাথে হাজার স্থানে মিলাদ হয়ে থাকে সকল স্থানে যাওয়ার ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহরই, তিনি ব্যতীত এ ক্ষমতা আর কারো নেই।
মহান আল্লাহ বলেন,
إِنَّ اللَّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
“নিশ্চয় আল্লাহ সকল বিষয়ে ক্ষমতা রাখেন।” (সূরাহ্ আল বাক্বারাহ্ ২ : ১০৯)
আর রসূলুল্লাহ তো মৃত্যুবরণ করেছেন, যার মৃত্যুতে প্রথমে 'উমার অতিরিক্ত ভালোবাসার কারণে মানতে পারেননি। অতঃপর আবূ বাকর এসে নাবী-এর মৃত্যুর স্বপক্ষে এ আয়াত পাঠ করেন,
وَمَا مُحَمَّدٌ إِلَّا رَسُولٌ قَدْ خَلَتْ مِنْ قَبْلِهِ الرُّسُلُ أَفَإِنْ مَّاتَ أَوْ قُتِلَ انْقَلَبْتُمْ عَلَى أَعْقَابِكُمْ وَمَنْ يَنْقَلِبْ عَلَى عَقِبَيْهِ فَلَنْ يَضُرَّ اللَّهَ شَيْئًا وَسَيَجْزِي اللهُ الشَّاكِرِينَ
"মুহাম্মাদ একজন রসূল ছাড়া আর কিছু নয়, তার পূর্বে বহু রসূল গত হয়েছেন, যদি তিনি মারা যান কিংবা নিহত হন তবে কি তোমরা পশ্চাদবরণ করবে? এবং কেউ পিছুটান হলে কখনো সে আল্লাহর ক্ষতি করতে সামান্য ও সক্ষম হবে না; আল্লাহ কৃতজ্ঞদের সত্বর পুরস্কার দিবেন।” (সূরাহ্ আ-লি 'ইমরান ৩ : ১৪৪)
অতএব যারা নাবী-কে মিলাদে উপস্থিত মনে করবে তারা অত্র আয়াতকে অস্বীকার করবে। রসূলকে আল্লাহর মত সকল স্থানে উপস্থিত হওয়ার ক্ষমতা মেনে নেয়া শির্ক হবে। আর নাবী তো জানে না যে, কোথায় কোথায় মিলাদ হচ্ছে। কেননা তিনি গায়েবের খবর জানেন না। মহান আল্লাহর কুরআন মাজীদে রসূলুল্লাহ-এর দ্বারা ঘোষণা করান,
وَلَوْ كُنْتُ أَعْلَمُ الْغَيْبَ لَاسْتَكْثَرْتُ مِنَ الْخَيْرِ وَمَا مَسَّنِيَ السُّوءُ ) “আমি যদি 'ইল্মে গায়েব জানতাম, তাহলে আমি অধিক কল্যাণ অর্জন করে নিতাম এবং অকল্যাণ আমাকে স্পর্শ করত না।” (সূরাহ্ আল আ'রাফ ৭ : ১৮৮)
قُلْ لَّا يَعْلَمُ مَنْ فِي السَّمَاتِ وَالْأَرْضِ الْغَيْبَ إِلَّا اللَّهُ ) “হে নাবী! বল, আসমানসমূহ ও জমিনের মধ্যে যা কিছু আছে আল্লাহ ব্যতীত আর কেউ গায়েব জানে না।” (সূরাহ্ আন্ নাম্ল ২৭ : ৬৫)
وَمَا أَدْرِي مَا يُفْعَلُ بِي وَلَا بِكُمْ ) “হে রসূল! এদেরকে বল, ভবিষ্যতে আমার ও তোমাদের সাথে কি ব্যবহার করা হবে আমি তা জানি না।” (সূরাহ্ আল আহক্বাফ ৪৬ : ৯) রসূলুল্লাহ বলেছেন :
وَاللَّهِ مَا أَدْرِي، وَأَنَا رَسُولُ اللهِ، مَا يُفْعَلُ بِي رَوَاهُ أَحْمَدُ وَلِلْبُخَارِيِّمَا أَدْرَى وَأَنَا رَسُولُ اللَّهِ مَا يُفْعَلُ بِهِ.
আল্লাহর শপথ! আমি জানি না, আমি আল্লাহর রসূল হওয়া সত্ত্বেও আমার সাথে কি করা হবে। মুসনাদে আহমাদ, বুখারীর বর্ণনায় রয়েছে, আমি আল্লাহর রসূল হওয়া সত্ত্বেও কি করা হবে তা আমি জানি না। (ইবনু কাসীর- ৪র্থ খণ্ড, ১৯৮ পৃষ্ঠা)
অতএব গায়েবের 'ইল্ল্ম বা জ্ঞান একমাত্র আল্লাহই জানেন। এ 'ইল্ম নাবী-এর সাথে সম্পৃক্ত করলে আল্লাহর সাথে শরীক করা হবে এবং শির্ক করা হবে।
এমনিভাবে মিলাদে ক্বিয়াম করলে উক্ত আয়াতের অস্বীকারের দরুণ কাফির হয়ে যাবে। এবং রসূলকে সবস্থানে হাযির জানার মাধ্যমে শির্ক করা হবে এবং ক্বিয়ামের মাধ্যমে এ ধরনের ক্বিয়াম তথা শের বা কবিতা বলা শিক্ যেমন বলা হয়ে থাকে।
وه تو مجتبي عرش آخدا هوکر اتار پڑا مدینه میں مصطفي هوكر......
তিনি তো 'আশে এসে খোদারূপে ছিলেন, মদীনায় নেমে মোস্তফা হয়ে গেলেন। (না'ঊযুবিল্লাহ) অর্থাৎ যিনি আল্লাহ ছিলেন, তিনি মদীনায় এসে মোস্তফা হয়ে গেলেন। (না'ঊযুবিল্লাহ)
এ ধরনের কবিতা, গান ইত্যাদি দ্বারা মিলাদের মধ্যে শিক্ সংঘটিত হয়ে থাকে।
📄 কৃষিকাজ, চাষাবাদ ও ক্ষেত-খামারে শির্ক
অনেক কৃষক মনে করেন ফসল আমরা আবাদ করি বলেই উৎপন্ন হয়। তাই তারা বলেন, এবার সার দিয়েছি বলেই এত ভালো ফসল হয়েছে। শ্রম না দিলে ফসলই হতো না। এত মণ করে ফলিয়েছি ইত্যাদি। সকল কথাই শিক্কি, কেননা মহান আল্লাহকে এ কথাগুলোর দ্বারা প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে। তার ক্ষমতাকে ক্ষুণ্ণ করা হচ্ছে। অথচ তিনি বলেন, أَفَرَأَيْتُمْ مَا تَحْرُثُوْنَ أَأَنْتُمْ تَزْرَعُونَهُ أَمْ نَحْنُ الزَّارِعُوْنَ لَوْ نَشَاءُ لَجَعَلْنَاهُ حُطَامًا فَظَلْتُمْ تَفَكَّهُونَ ﴾ ٦٥
"তোমরা যে বীজ বপণ করো সে সম্পর্কে ভেবে দেখেছ কি? তোমরা তা উৎপন্ন করো না আমি উৎপন্ন করি? আমি ইচ্ছা করলে তাকে খড়কুটা করে দিতে পারি। অতঃপর হয়ে যাবে তোমরা বিস্ময়াবিষ্ট।” (সূরাহ্ ওয়াক্বি'আহ্ ৫৬ : ৬৩-৬৫)
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ : لَا تَقُولَنَّ زَرَعْتُ، وَلَكِنْ قُلْ: حَرَّثْتُ.
আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন : আমি ফলিয়েছি বা উৎপন্ন করেছি এ কথা বল না বরং বলো আমি বপণ বা চাষ করেছি। (ইবনু জারীর; ইবনু কাসীর- ৪র্থ খণ্ড, ৩৭৯ পৃষ্ঠা)