📄 কারো আগমনে তার সম্মানার্থে দাঁড়ানো
قَالَ : كِدْتُمْ أَنْ تَفْعَلُوا فِعْلَ فَارِسَ وَالرُّومَ يَقُومُونَ عَلَى مُلُوكِهِمْ وَهُمْ قُعُودٌ فَلَا تَفْعَلُوا.
রসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন : “এখনই তো তোমরা পারস্য (অগ্নিপূজক) ও রোম দেশের অধিবাসীদের মতো আচরণ করলে, তারা তাদের বাদশাদের সম্মানে বসা অবস্থায় দাঁড়ায়। সুতরাং তোমরা এরূপ করবে না।” (সহীহ ইবনু হিব্বান হাঃ ২১২২, ২১২৩; সহীহ ইবনু খুযায়মাহ্ হাঃ ৪৮৬, ১৬২১; সহীহুল জামি' হাঃ ১৪৩৭, নাসায়ী হাঃ ১২০০, ইবনু মাজাহ হাঃ ১২৪০)
وَعَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي الْحَسَنِ قَالَ: جَاءَنَا أَبُو بَكْرَةً فِي شَهَادَةٍ فَقَامَ رَجُلٌ مِنْ مَجْلِسِهِ فَأَبَى أَنْ يَجْلِسَ فِيهِ وَقَالَ: أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ نَهى عَنْ ذَا.
সা'ঈদ বিন আবুল হাসান হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ বাকরাহ্ আমাদের মাজলিসে আসলেন। অতঃপর মাজলিস থেকে এক ব্যক্তি দাঁড়াল, তিনি ঐ মাজলিসে বসতে অস্বীকার করলেন এবং বললেন, নাবী এটা (দাঁড়ানো)-কে নিষেধ করেছেন। (সিলসিলাতুস্ সহীহাহ্ হাঃ ২২৮, সহীহ আত্ তারগীব ওয়াত্ তারহীব হাঃ ৩০৬৮ : সহীহ; কিন্তু পরবর্তীতে আলবানী হাদীসটিকে য'ঈফ বলেছেন- সিলসিলাতুয য'ঈফাহ্ হাঃ ২৬৯২)
وَعَنْ مُعَاوِيَةَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ مَنْ سَرَّهُ أَنْ يَتَمَثَّلَ لَهُ الرِّجَالُ قِيَامًا فَلْيَتَبَوَّأُ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ.
মু'আবিয়াহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন : যে ব্যক্তি তার সম্মুখে অপর লোকেদের প্রতি মূর্তির ন্যায় দাঁড়িয়ে থাকা পছন্দ করে, সে যেন জাহান্নামের মধ্যে তার বাসস্থান বানিয়ে নেয়। (তিরমিযী- হাঃ ২৭৫৫, মিশকাত- হাঃ ৪৬৯৯ : সহীহ)
📄 কোন মুসলিম তার আপন ভাই অথবা অন্য কোন মুসলিম ভাইয়ের সাথে ঝগড়া করে তিনদিনের বেশি কথা বন্ধ রাখতে পারবে না
عَنْ أَبِي أَيُّوبَ الْأَنْصَارِيِّ: أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ: لَا يَحِلُّ لِرَجُلٍ أَنْ يَهْجُرَ أَخَاهُ فَوْقَ ثَلَاثَ لَيَالٍ، يَلْتَقِيَانِ : فَيَعْرِضُ هُذَا وَيَعْرِضُ هُذَا، وَخَيْرُهُمَا الَّذِي يَبْدَأُ بالسلام.
আবু আইয়ূব আল আনসারী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ বলেছেন: কোন ব্যক্তির জন্য বৈধ নয় যে, সে তার ভাইয়ের সাথে তিন রাত্রের বেশি সময় কথা পরিত্যাগ করে। তারা উভয়ে মিলিত হয় অথচ একজনের থেকে আরেকজন মুখ ফিরিয়ে রাখে। তাদের উভয়ের মধ্যে উত্তম ঐ ব্যক্তি যে প্রথমে সালাম দেয়। (বুখারী- হাঃ ৬০৭৭, মুসলিম- হাঃ ২৫-[২৫৬০], মিশকাত- হাঃ ৫০২৭)
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ قَالَ: «لَا يَحِلُّ لِمُسْلِمٍ أَنْ يَهْجُرَ أَخَاهُ فَوْقَ ثَلَاثٍ فَمَنْ هَجَرَ فَوْقَ ثَلَاثٍ فَمَاتَ دَخَلَ النَّارَ.
আবু হুরায়রাহ হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ বলেছেন: কোন মুসলিম ব্যক্তির জন্য বৈধ নয় যে, সে তার ভাইয়ের সাথে তিনদিনের বেশি সময় কথা বন্ধ রাখে। যে ব্যক্তি তিনদিনের বেশি সময় কথা পরিত্যাগ করবে, অতঃপর মারা যাবে সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে। (আবূ দাউদ- হাঃ ৪৯১৪, মিশকাত- হাঃ ৫০৩৫ : সহীহ)
عَنْ أَبِي خِرَاشِ السُّلَمِيَّ أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللهِ ﷺ يَقُولُ : مَنْ هَجَرَ أَخَاهُ سَنَةً فَهُوَ كَسَفْكِ دَمِهِ.
আবু খিরাশ আস্ সুলামী হতে বর্ণিত যে, তিনি রসূলুল্লাহ- কে বলতে শুনেছেন, যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের সাথে এক বছর সম্পর্ক পরিত্যাগ রাখবে সে যেন তাকে হত্যা করল। (মুসনাদে আহমাদ- হাঃ ১৭৯৩৫, আবূ দাউদ- হাঃ ৪৯১৫, মিশকাত- হাঃ ৫০৩৬ : সহীহ)
عَنْ أَبِي أَيُّوبَ الْأَنْصَارِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ: «لَا يَحِلُّ لِمُسْلِمٍ أَنْ يَهْجُرَ أَخَاهُ فَوْقَ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ، يَلْتَقِيَانِ فَيُعْرِضُ هَذَا، وَيُعْرِضُ هَذَا، وَخَيْرُهُمَا الَّذِي يَبْدَأُ بِالسَّلَامِ».
আবূ আইয়ূব আল আনসারী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ বলেছেন : কোন মুসলিমের জন্য বৈধ নয় যে, সে
তিনদিনের বেশি তার ভাইকে এড়িয়ে চলে। অথচ দু'জনের সাক্ষাৎ ঘটলে পরস্পর পরস্পরকে এড়িয়ে চলে। কিন্তু এদের দু'জনের মধ্যে সে ব্যক্তি উত্তম, যে আগে সালাম দেয়। (আবূ দাউদ- হাঃ ৪৯১১ : সহীহ)
عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ يَزِيدٍ قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ : لَا يَحِلُّ الْكَذِبُ إِلَّا فِي ثَلَاثٍ: يُحَدِّثُ الرَّجُلُ اِمْرَأَتَهُ لِيَرْضِيَهَا، وَالْكَذِبُ فِي الْحَرْبِ، وَالْكَذِبُ لِيُصْلِحَ بَيْنَ النَّاسِ.
আসমা বিনতু ইয়াযীদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ বলেছেন: তিনটি ব্যাপারে মিথ্যা কথা বলা বৈধ রয়েছে :
১. স্ত্রীকে খুশি রাখার জন্য মিথ্যা বলা।
২. যুদ্ধের ব্যাপারে মিথ্যা বলা।
৩. মানুষের মাঝে সংশোধন বা মীমাংসা করে দেয়ার জন্য মিথ্যা বলা। (তিরমিযী- হাঃ ১৯৩৯, মিশকাত- হাঃ ৫০৩৩, মুসনাদে আহমাদ)
📄 মুশরিকদের সলাতের ধরন ছিল হাত তালি ও শিস বাজান
মহান আল্লাহ তা'আলা বলেন : وَمَا كَانَ صَلَاتُهُمْ عِنْدَ الْبَيْتِ إِلَّا مُكَاءً وَتَصْدِيَةً فَذُوقُوا الْعَذَابَ بِمَا كُنْتُمْ تَكْفُرُونَ
“কা'বা ঘরের নিকট শিস দেয়া ও হাততালি দেয়াই তাদের সলাত ছিল। অতএব তোমাদের কুফরী কাজের স্বাদ গ্রহণ করো।” (সূরাহ্ আল আনফাল ৮: ৩৫)
বর্তমান সময়ও যারা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে হাততালি ও মুখে শিস দেয় তাদের পরিণতিও শাস্তি ভোগ করতে হবে। কারণ এটা জাহিলী যুগের মুশরিকদের নীতি। যে নীতি বা শিস, হাততালি দিয়ে তারা নাবী ও সাহাবীদেরকে অপমান ও ঠাট্টা-বিদ্রূপ করত।
অতএব এ কাজ এখনও করলে নাবী ও সহাবীদেরকে বিদ্রূপ করা হবে বিধায় এটা করা মুসলিমদের জন্য হারাম। (ইবনু কাসীর- ২য় খণ্ড, ৪০৬ পৃষ্ঠা)
📄 বিভিন্ন গানের মাধ্যমে নাবী মুহাম্মাদ ﷺ-কে স্রষ্টার আসনে বসিয়ে শির্ক করা
এক শ্রেণীর মানুষ গানের মাধ্যমে আল্লাহর সাথে শরীক করে থাকে, তারা গানের মাধ্যমে নাবী-কে স্রষ্টার আসনে বসিয়ে দেয়। তারা গানের মাধ্যমে বলে,
নাবী মোর পরশমণি নাবী মোর শোনার খনি নাবী নাম জপে যে জন, সেই তো দু'জাহানের ধনী৷৷।
প্রিয় পাঠক! জপ বা যিক্র শুধুমাত্র আল্লাহর জন্য। আর এই জপ নাবীগণের জন্য নয়। কেউ যদি আল্লাহর নামের ন্যায় নাবীগণের নাম ধরে জপ বা যিকর করে তবে সে অবশ্যই আল্লাহর সাথে শিক্ বা অংশীস্থাপন করল। তেমনিভাবে কেউ যদি বলে,
আহমাদেরই মীমের পর্দা তুলে দেরে মন দেখবি সেথা বিরাজ করে আহাদ নিরঞ্জন৷৷
অর্থাৎ তারা বলতে চায় اَحْمَدُ )আহমাদ) শব্দের থেকে মীম অক্ষরটি বাদ দিলে أَحَدٌ )আহাদ) শব্দ থাকে। আর أَحَدٌ )আহাদ) হল আল্লাহর নাম। তারা বলতে চায় আহমাদও আহাদ একজনই। এভাবে তারা সৃষ্টিকে [মুহাম্মাদ-কে] স্রষ্টার আসনে বসিয়ে স্পষ্ট শির্ক করে থাকে। অথচ মহান আল্লাহ নাবী-কে লক্ষ্য করে বলেছেন,
قُلْ إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ مِثْلُكُمْ يُوحَى إِلَى أَنَّمَا إِلَهُكُمْ إِلَهُ وَاحِدٌ فَمَنْ كَانَ يَرْجُو لِقَاءَ رَبِّهِ فَلْيَعْمَلْ عَمَلًا صَالِحًا وَلَا يُشْرِكْ بِعِبَادَةِ رَبِّهِ أَحَدًا ۱۱۰
"বল! আমি তোমাদের মতই একজন মানুষ, আমার প্রতি ওয়াহী প্রেরিত হয় যে, তোমাদের মা'বুদ তো একই মা'বুদ। সুতরাং যে ব্যক্তি তার রাবের সাক্ষাত লাভের আশা রাখে সে যেন নেক কাজ করে এবং তার রাবের 'ইবাদাতে অন্য কাউকে শরীক না করে।” (সূরাহ্ আল কাহফ ১৮: ১১০)