📘 প্রথমে বর্জন পরে গ্রহণ > 📄 রাজাধিরাজ, শাহানশাহ বা বাদশাহর বাদশাহ নাম রাখা শির্ক

📄 রাজাধিরাজ, শাহানশাহ বা বাদশাহর বাদশাহ নাম রাখা শির্ক


عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ : أَغْيَظُ رَجُلٍ عَلَى اللَّهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، وَأَخْبَثُهُ وَأَغْيَظُهُ عَلَيْهِ، رَجُلٌ كَانَ يُسَمَّى مَلِكُ الْأَمْلَاكِ.
আবূ হুরায়রাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ বলেছেন: ক্বিয়ামাতের দিন আল্লাহর নিকট সবচেয়ে রাগান্বিত ব্যক্তি এবং
সবচেয়ে খারাপ নিকৃষ্ট ব্যক্তি হচ্ছে যার নাম রাখা হয় শাহানশাহ বা রাজাধিরাজ। (মুসলিম- হাঃ ২১-[২১৪৩], মুসনাদে আহমাদ- হাঃ ৮১৭৬)
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ: إِنَّ أَخْنَى الْأَسْمَاءِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عِنْدَ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ رَجُلٌ تُسَمَّى مَلِكُ الْأَمْلَاكِ .
আবূ হুরায়রাহ্ আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ ওয়াসাল্লাম বলেছেন : আল্লাহর নিকট ক্বিয়ামাত দিবসে সবচেয়ে নিকৃষ্ট নাম হচ্ছে কোন ব্যক্তির মালিকুল আমলাক বা রাজাধিরাজ নাম রাখা। (বুখারী- হাঃ ৬২০৫)
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ: إِنَّ أَخْنَعَ الْأَسْمَاءِ عِنْدَ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ رَجُلٌ تُسَمَّى مَلِكَ الْأَمْلَاكِ قَالَ سُفْيَانُ: غَيْرَهُ تَفْسِيرِهِ شَاهَانُ شَاهُ.
আবূ হুরায়রাহ্ আনহু হতে এক বর্ণনায় বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : আল্লাহর নিকট সবচেয়ে কলঙ্কজনক নাম। আর সুফ্ইয়ান একাধিকবার বলেছেন, আল্লাহর নিকটে সর্বাধিক কলঙ্কজনক নাম হচ্ছে, কোন ব্যক্তি মালিকুল আমলাক রাজাধিরাজ রাখল। সুফ্ইয়ান অন্য ভাষায়, অর্থাৎ ফারসী ভাষায় ব্যাখ্যা করে বলেন, শাহানশাহ নাম রাখা। (বুখারী- হাঃ ৬২০৬)
এজন্য বাচ্চা জন্মের সপ্তমদিনে আরবীতে উত্তম অর্থসহ নাম রাখা ও তার পক্ষ থেকে 'আক্বীক্বাহ্ দেয়া সুন্নাত। ছেলের পক্ষ থেকে দু'টি ও মেয়ের পক্ষ থেকে একটি, দু'টি পছন্দনীয় নাম আল্লাহ নিকট সর্বাধিক উত্তমতা হলো 'আবদুল্লাহ, 'আবদুর রহমান।

📘 প্রথমে বর্জন পরে গ্রহণ > 📄 কারো আগমনে তার সম্মানার্থে দাঁড়ানো

📄 কারো আগমনে তার সম্মানার্থে দাঁড়ানো


قَالَ : كِدْتُمْ أَنْ تَفْعَلُوا فِعْلَ فَارِسَ وَالرُّومَ يَقُومُونَ عَلَى مُلُوكِهِمْ وَهُمْ قُعُودٌ فَلَا تَفْعَلُوا.
রসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন : “এখনই তো তোমরা পারস্য (অগ্নিপূজক) ও রোম দেশের অধিবাসীদের মতো আচরণ করলে, তারা তাদের বাদশাদের সম্মানে বসা অবস্থায় দাঁড়ায়। সুতরাং তোমরা এরূপ করবে না।” (সহীহ ইবনু হিব্বান হাঃ ২১২২, ২১২৩; সহীহ ইবনু খুযায়মাহ্ হাঃ ৪৮৬, ১৬২১; সহীহুল জামি' হাঃ ১৪৩৭, নাসায়ী হাঃ ১২০০, ইবনু মাজাহ হাঃ ১২৪০)
وَعَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي الْحَسَنِ قَالَ: جَاءَنَا أَبُو بَكْرَةً فِي شَهَادَةٍ فَقَامَ رَجُلٌ مِنْ مَجْلِسِهِ فَأَبَى أَنْ يَجْلِسَ فِيهِ وَقَالَ: أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ نَهى عَنْ ذَا.
সা'ঈদ বিন আবুল হাসান হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ বাকরাহ্ আমাদের মাজলিসে আসলেন। অতঃপর মাজলিস থেকে এক ব্যক্তি দাঁড়াল, তিনি ঐ মাজলিসে বসতে অস্বীকার করলেন এবং বললেন, নাবী এটা (দাঁড়ানো)-কে নিষেধ করেছেন। (সিলসিলাতুস্ সহীহাহ্ হাঃ ২২৮, সহীহ আত্ তারগীব ওয়াত্ তারহীব হাঃ ৩০৬৮ : সহীহ; কিন্তু পরবর্তীতে আলবানী হাদীসটিকে য'ঈফ বলেছেন- সিলসিলাতুয য'ঈফাহ্ হাঃ ২৬৯২)
وَعَنْ مُعَاوِيَةَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ مَنْ سَرَّهُ أَنْ يَتَمَثَّلَ لَهُ الرِّجَالُ قِيَامًا فَلْيَتَبَوَّأُ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ.
মু'আবিয়াহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন : যে ব্যক্তি তার সম্মুখে অপর লোকেদের প্রতি মূর্তির ন্যায় দাঁড়িয়ে থাকা পছন্দ করে, সে যেন জাহান্নামের মধ্যে তার বাসস্থান বানিয়ে নেয়। (তিরমিযী- হাঃ ২৭৫৫, মিশকাত- হাঃ ৪৬৯৯ : সহীহ)

📘 প্রথমে বর্জন পরে গ্রহণ > 📄 কোন মুসলিম তার আপন ভাই অথবা অন্য কোন মুসলিম ভাইয়ের সাথে ঝগড়া করে তিনদিনের বেশি কথা বন্ধ রাখতে পারবে না

📄 কোন মুসলিম তার আপন ভাই অথবা অন্য কোন মুসলিম ভাইয়ের সাথে ঝগড়া করে তিনদিনের বেশি কথা বন্ধ রাখতে পারবে না


عَنْ أَبِي أَيُّوبَ الْأَنْصَارِيِّ: أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ: لَا يَحِلُّ لِرَجُلٍ أَنْ يَهْجُرَ أَخَاهُ فَوْقَ ثَلَاثَ لَيَالٍ، يَلْتَقِيَانِ : فَيَعْرِضُ هُذَا وَيَعْرِضُ هُذَا، وَخَيْرُهُمَا الَّذِي يَبْدَأُ بالسلام.
আবু আইয়ূব আল আনসারী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ বলেছেন: কোন ব্যক্তির জন্য বৈধ নয় যে, সে তার ভাইয়ের সাথে তিন রাত্রের বেশি সময় কথা পরিত্যাগ করে। তারা উভয়ে মিলিত হয় অথচ একজনের থেকে আরেকজন মুখ ফিরিয়ে রাখে। তাদের উভয়ের মধ্যে উত্তম ঐ ব্যক্তি যে প্রথমে সালাম দেয়। (বুখারী- হাঃ ৬০৭৭, মুসলিম- হাঃ ২৫-[২৫৬০], মিশকাত- হাঃ ৫০২৭)
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ قَالَ: «لَا يَحِلُّ لِمُسْلِمٍ أَنْ يَهْجُرَ أَخَاهُ فَوْقَ ثَلَاثٍ فَمَنْ هَجَرَ فَوْقَ ثَلَاثٍ فَمَاتَ دَخَلَ النَّارَ.
আবু হুরায়রাহ হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ বলেছেন: কোন মুসলিম ব্যক্তির জন্য বৈধ নয় যে, সে তার ভাইয়ের সাথে তিনদিনের বেশি সময় কথা বন্ধ রাখে। যে ব্যক্তি তিনদিনের বেশি সময় কথা পরিত্যাগ করবে, অতঃপর মারা যাবে সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে। (আবূ দাউদ- হাঃ ৪৯১৪, মিশকাত- হাঃ ৫০৩৫ : সহীহ)
عَنْ أَبِي خِرَاشِ السُّلَمِيَّ أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللهِ ﷺ يَقُولُ : مَنْ هَجَرَ أَخَاهُ سَنَةً فَهُوَ كَسَفْكِ دَمِهِ.
আবু খিরাশ আস্ সুলামী হতে বর্ণিত যে, তিনি রসূলুল্লাহ- কে বলতে শুনেছেন, যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের সাথে এক বছর সম্পর্ক পরিত্যাগ রাখবে সে যেন তাকে হত্যা করল। (মুসনাদে আহমাদ- হাঃ ১৭৯৩৫, আবূ দাউদ- হাঃ ৪৯১৫, মিশকাত- হাঃ ৫০৩৬ : সহীহ)
عَنْ أَبِي أَيُّوبَ الْأَنْصَارِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ: «لَا يَحِلُّ لِمُسْلِمٍ أَنْ يَهْجُرَ أَخَاهُ فَوْقَ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ، يَلْتَقِيَانِ فَيُعْرِضُ هَذَا، وَيُعْرِضُ هَذَا، وَخَيْرُهُمَا الَّذِي يَبْدَأُ بِالسَّلَامِ».
আবূ আইয়ূব আল আনসারী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ বলেছেন : কোন মুসলিমের জন্য বৈধ নয় যে, সে
তিনদিনের বেশি তার ভাইকে এড়িয়ে চলে। অথচ দু'জনের সাক্ষাৎ ঘটলে পরস্পর পরস্পরকে এড়িয়ে চলে। কিন্তু এদের দু'জনের মধ্যে সে ব্যক্তি উত্তম, যে আগে সালাম দেয়। (আবূ দাউদ- হাঃ ৪৯১১ : সহীহ)
عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ يَزِيدٍ قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ : لَا يَحِلُّ الْكَذِبُ إِلَّا فِي ثَلَاثٍ: يُحَدِّثُ الرَّجُلُ اِمْرَأَتَهُ لِيَرْضِيَهَا، وَالْكَذِبُ فِي الْحَرْبِ، وَالْكَذِبُ لِيُصْلِحَ بَيْنَ النَّاسِ.
আসমা বিনতু ইয়াযীদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ বলেছেন: তিনটি ব্যাপারে মিথ্যা কথা বলা বৈধ রয়েছে :
১. স্ত্রীকে খুশি রাখার জন্য মিথ্যা বলা।
২. যুদ্ধের ব্যাপারে মিথ্যা বলা।
৩. মানুষের মাঝে সংশোধন বা মীমাংসা করে দেয়ার জন্য মিথ্যা বলা। (তিরমিযী- হাঃ ১৯৩৯, মিশকাত- হাঃ ৫০৩৩, মুসনাদে আহমাদ)

📘 প্রথমে বর্জন পরে গ্রহণ > 📄 মুশরিকদের সলাতের ধরন ছিল হাত তালি ও শিস বাজান

📄 মুশরিকদের সলাতের ধরন ছিল হাত তালি ও শিস বাজান


মহান আল্লাহ তা'আলা বলেন : وَمَا كَانَ صَلَاتُهُمْ عِنْدَ الْبَيْتِ إِلَّا مُكَاءً وَتَصْدِيَةً فَذُوقُوا الْعَذَابَ بِمَا كُنْتُمْ تَكْفُرُونَ
“কা'বা ঘরের নিকট শিস দেয়া ও হাততালি দেয়াই তাদের সলাত ছিল। অতএব তোমাদের কুফরী কাজের স্বাদ গ্রহণ করো।” (সূরাহ্ আল আনফাল ৮: ৩৫)
বর্তমান সময়ও যারা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে হাততালি ও মুখে শিস দেয় তাদের পরিণতিও শাস্তি ভোগ করতে হবে। কারণ এটা জাহিলী যুগের মুশরিকদের নীতি। যে নীতি বা শিস, হাততালি দিয়ে তারা নাবী ও সাহাবীদেরকে অপমান ও ঠাট্টা-বিদ্রূপ করত।
অতএব এ কাজ এখনও করলে নাবী ও সহাবীদেরকে বিদ্রূপ করা হবে বিধায় এটা করা মুসলিমদের জন্য হারাম। (ইবনু কাসীর- ২য় খণ্ড, ৪০৬ পৃষ্ঠা)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00