📘 প্রথমে বর্জন পরে গ্রহণ > 📄 দ্বীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি ও কোন মানুষের অতিরঞ্জন প্রশংসা ধ্বংসাত্মক কাজ ও সীমালঙ্ঘন

📄 দ্বীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি ও কোন মানুষের অতিরঞ্জন প্রশংসা ধ্বংসাত্মক কাজ ও সীমালঙ্ঘন


মহান আল্লাহ তা'আলা বলেন : لَا تَغْلُوا فِي دِينِكُمْ ..... “তোমরা তোমাদের দ্বীনের ব্যাপারে সীমালঙ্ঘন করো না.....।” (সূরাহ্ আন্ নিসা ৪ : ১৭১)
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ هُ أَنَّ رَسُولُ اللهِ لا قَالَ: وَلَا يَغُلُّ أَحَدُكُمْ حِينَ يَغُلُّ وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَإِيَّاكُمْ إِيَّاكُمْ.
আবূ হুরায়রাহ্ হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ বলেছেন : তোমাদের কেউ মু'মিন থাকা অবস্থায় সীমালঙ্ঘন বা বাড়াবাড়ি করে না। (অর্থাৎ যে সীমালঙ্ঘন করে সে মু'মিন নয়) অতএব, তোমরা সীমালঙ্ঘন বা বাড়াবাড়ি থেকে বেঁচে থাক। তোমরা সীমালঙ্ঘন থেকে বেঁচে থাক। (মুসলিম- হাঃ ১০৩-[৫৭], মুসনাদে আহমাদ- হাঃ ৮২০০, মিশকাত- হাঃ ৫৩)
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ال: إِيَّاكُمْ وَالْغُلُو؛ فَإِنَّمَا هَلَكَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمُ الْغُلُو.
'আবদুল্লাহ বিন 'আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ বলেছেন: তোমসরা সীমালঙ্ঘন করা থেকে বেচে থাকো। কেননা
তোমাদের পূর্ববর্তী জাতিরা সীমালঙ্ঘন করার কারনেই ধ্বংস হয়ে গেছে। (মু'জামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী- হাঃ ১২৭৪৬, নাসায়ী- হাঃ ৩০৫৭, ইবনু মাজাহ- হাঃ ৩০২৯ : সহীহ)
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ : هَلَكَ الْمُتَنَطِعُونَ» قَالَهَا ثَلَاثًا.
'আবদুল্লাহ ইবনু মাস্'ঊদ মায়া হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ বলেছেন : দ্বীনের ব্যাপারে সীমালঙ্ঘনকারীরা ধ্বংস হয়ে গেছে। এ কথা তিনি তিনবার বললেন। (মুসলিম- ৭-[২৬৭০], মিশকাত- হাঃ ৪৭৮৫)
عَنْ عُمَرَ: أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قال: «لَا تَطْرُونِي كَمَا أَطْرَتِ النَّصَارَى عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ، فَإِنَّمَا أَنَا عَبَدُ فَقُولُوا عَبْدُ اللهِ وَرَسُولُهُ». 'উমার হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ বলেছেন : তোমরা আমার অতি প্রশংসা করো না যেরূপ নাসারারা 'ঈসা বিন মারইয়াম-এর অতি প্রশংসা করেছিল। আমি কেবল একজন বান্দা। অতএব, তোমরা আমাকে আল্লাহর বান্দা ও তার রসূল বলবে। (বুখারী- হাঃ ৩৪৪৫, দারিমী- ২৮২৬, মিশকাত- হাঃ ৪৮৯৭; ইবনু কাসীর- ১ম খণ্ড, ৪৭৪ পৃষ্ঠা)

📘 প্রথমে বর্জন পরে গ্রহণ > 📄 পিতা না হওয়া সত্ত্বেও পিতা দাবী করা কুফরী ও হারাম

📄 পিতা না হওয়া সত্ত্বেও পিতা দাবী করা কুফরী ও হারাম


عَنْ أَبِي ذَرٍّ، أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللهِ ﷺ يَقُولُ: لَيْسَ مِنْ رَجُلٍ أَدَّعُى لِغَيْرِ أَبِيْهِ وَهُوَ يَعْلَمُهُ إِلَّا كُفْرٌ، وَمَنِ ادَّعَى مَا لَيْسَ لَهُ فَلَيْسَ مِنَّا، وَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ، وَمَنْ دَعَا رَجُلًا بِالْكُفْرِ، أَوْ قَالَ: عَدُوٌّ اللَّهِ وَلَيْسَ كَذَلِكَ إِلَّا حَارَ عَلَيْهِ.
আবূ যার হতে বর্ণিত। তিনি রসূলুল্লাহ-কে বলতে শুনেছেন, যে ব্যক্তি নিজের পিতা সম্পর্কে অবগত থেকেও অপর কাউকে পিতা বলে দাবী করে সে কুফরী করল। আর যে নিজেকে এমন বংশের বলে দাবী করে যে বংশের সাথে তাঁর কোন সম্পর্ক নেই সে নিজের
বাসস্থান জাহান্নামে তৈরি করে নিল। আর যে ব্যক্তি অপর ব্যক্তিকে কাফির বলে ডাকল, অথবা বলল হে আল্লাহর দুশমন, অথচ সে এরূপ নয়, তখন এ বাক্য তার নিজের দিকেই ফিরে আসবে। (মুসলিম- ১১২-[৬১], মুসনাদে আহমাদ- হাঃ ২১৪৬৫)
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ﷺ قَالَ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ ﷺ يَقُولُ: لَا تَرْغَبُوا عَنْ آبَائِكُمْ، فَمَنْ رَغِبَ عَنْ أَبِيهِ فَإِنَّهُ كُفْرٌ.
আবূ হুরায়রাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী বলেছেন: তোমরা নিজেদের পিতৃপরিচয় থেকে বিমুখ হয়ো না। কেননা, যে ব্যক্তি নিজের পিতৃপরিচয় দিতে ঘৃণাবোধ করল, সে কুফরী করল। (বুখারী- হাঃ ৬৭৬৮, মুসলিম- হাঃ ১১৩-[৬২])
عَنْ سَعْدٍ، وَأَبِي بَكْرَةَ كِلَاهُمَا، يَقُولُ: سَمِعْتُهُ أُذُنَا، وَوَعَاهُ قَلْبِي مُحَمَّدًا ﷺ يَقُولُ: مَنِ ادَّعَى إِلَى غَيْرِ أَبِيهِ، وَهُوَ يَعْلَمُ أَنَّهُ غَيْرُ أَبِيهِ فَالْجَنَّةُ عَلَيْهِ حَرَامٌ.
সা'দ ও আবূ বাক্বাহ্ হতে বর্ণিত। উভয়ে বলেন, আমার দু' কান শুনেছে এবং আমার অন্তর সংরক্ষণ করেছে, মুহাম্মাদ বলেছেন: যে ব্যক্তি অপরকে স্বীয় পিতা বলে দাবী করে অথচ সে ভালোভাবেই জানে যে সে তার পিতা নয় তার জন্য জান্নাত হারাম। (বুখারী- হাঃ ৬৭৬৬, মুসলিম- হাঃ ১১৫-[৬৩], আবূ দাউদ- হাঃ ৫১১৩)

📘 প্রথমে বর্জন পরে গ্রহণ > 📄 পিতা-মাতাকে গালি দেয়া এবং তাদের নাফরমানী করা সবচেয়ে বড় অপরাধ

📄 পিতা-মাতাকে গালি দেয়া এবং তাদের নাফরমানী করা সবচেয়ে বড় অপরাধ


عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ: إِنَّ مِنَ الْكَبَائِرِ شَتْمُ الرَّجُلِ وَالِدَيْهِ قَالُوا: يَا رَسُولَ اللهِ، وَهَلْ يَشْتِمُ الرَّجُلُ وَالِدَيْهِ؟ قَالَ: نَعَمْ يَسُبُّ أَبَا الرَّجُلِ فَيَسُبُّ أَبَاهُ، وَيَسُبُّ أُمَّهُ فَيَسُبُّ أُمَّهُ.
'আবদুল্লাহ বিন 'আম্র ইবনুল 'আস হতে বর্ণিত হয়েছে যে, রসূলুল্লাহ বলেছেন : কোন ব্যক্তি পিতা-মাতাকে গালি দিলে তা কবীরা বা বড় গুনাহের অন্তর্ভুক্ত হবে। সহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রসূল! কোন ব্যক্তি কি তার পিতা-মাতাকে গালি দেয়? রসূলুল্লাহ বললেন, হ্যাঁ, কোন লোক যখন কোন ব্যক্তির পিতাকে গালি দেয় আর সেও তার পিতাকে গালি দেয় এবং তার মাতাকে গালি দেয়, সেও তার মাতাকে গালি দেয়। মূলত সে তার নিজের পিতা-মাতাকেই গালি দেয়। (মুসলিম- হাঃ ১৪৬-[৯০], তিরমিযী- হাঃ ১৯০২)
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ : إِنَّ مِنْ أَكْبَرِ الْكَبَائِرِ أَنْ يَلْعَنَ الرَّجُلُ وَالِدَيْهِ. قَالُوا: وَكَيْفَ يَلْعَنُ الرَّجُلُ وَالِدَيْهِ ؟ قَالَ: يَسُبُّ الرَّجُلُ أَبَا الرَّجُلِ فَيَسُبُّ أَبَاهُ، ويَسُبُّ أُمَّهُ فَيَسُبُّ أُمَّهُ.
'আবদুল্লাহ বিন 'আম্র থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ বলেছেন: সবচেয়ে বড় কবীরা গুনাহ বা অপরাধ হচ্ছে কোন ব্যক্তি তার পিতা-মাতাকে লা'নাত বা অভিসম্পাত করে। বলা হলো, হে আল্লাহর রসূল! কিভাবে ব্যক্তি তার পিতা-মাতাকে অভিসম্পাত করে? তিনি ( বলেন, এক ব্যক্তি কোন ব্যক্তির পিতাকে গালি দেয়, আর সেও তার পিতাকে গali দেয়, এক ব্যক্তি কোন ব্যক্তির মাতাকে গali দেয়, আর সেও তার মাতাকে গali দেয়। এভাবেই মূলত সে তার নিজের পিতা-মাতাকেই গali দেয়। (বুখারী- হাঃ ৫৯৭৩)

📘 প্রথমে বর্জন পরে গ্রহণ > 📄 রাজাধিরাজ, শাহানশাহ বা বাদশাহর বাদশাহ নাম রাখা শির্ক

📄 রাজাধিরাজ, শাহানশাহ বা বাদশাহর বাদশাহ নাম রাখা শির্ক


عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ : أَغْيَظُ رَجُلٍ عَلَى اللَّهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، وَأَخْبَثُهُ وَأَغْيَظُهُ عَلَيْهِ، رَجُلٌ كَانَ يُسَمَّى مَلِكُ الْأَمْلَاكِ.
আবূ হুরায়রাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ বলেছেন: ক্বিয়ামাতের দিন আল্লাহর নিকট সবচেয়ে রাগান্বিত ব্যক্তি এবং
সবচেয়ে খারাপ নিকৃষ্ট ব্যক্তি হচ্ছে যার নাম রাখা হয় শাহানশাহ বা রাজাধিরাজ। (মুসলিম- হাঃ ২১-[২১৪৩], মুসনাদে আহমাদ- হাঃ ৮১৭৬)
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ: إِنَّ أَخْنَى الْأَسْمَاءِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عِنْدَ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ رَجُلٌ تُسَمَّى مَلِكُ الْأَمْلَاكِ .
আবূ হুরায়রাহ্ আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ ওয়াসাল্লাম বলেছেন : আল্লাহর নিকট ক্বিয়ামাত দিবসে সবচেয়ে নিকৃষ্ট নাম হচ্ছে কোন ব্যক্তির মালিকুল আমলাক বা রাজাধিরাজ নাম রাখা। (বুখারী- হাঃ ৬২০৫)
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ: إِنَّ أَخْنَعَ الْأَسْمَاءِ عِنْدَ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ رَجُلٌ تُسَمَّى مَلِكَ الْأَمْلَاكِ قَالَ سُفْيَانُ: غَيْرَهُ تَفْسِيرِهِ شَاهَانُ شَاهُ.
আবূ হুরায়রাহ্ আনহু হতে এক বর্ণনায় বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : আল্লাহর নিকট সবচেয়ে কলঙ্কজনক নাম। আর সুফ্ইয়ান একাধিকবার বলেছেন, আল্লাহর নিকটে সর্বাধিক কলঙ্কজনক নাম হচ্ছে, কোন ব্যক্তি মালিকুল আমলাক রাজাধিরাজ রাখল। সুফ্ইয়ান অন্য ভাষায়, অর্থাৎ ফারসী ভাষায় ব্যাখ্যা করে বলেন, শাহানশাহ নাম রাখা। (বুখারী- হাঃ ৬২০৬)
এজন্য বাচ্চা জন্মের সপ্তমদিনে আরবীতে উত্তম অর্থসহ নাম রাখা ও তার পক্ষ থেকে 'আক্বীক্বাহ্ দেয়া সুন্নাত। ছেলের পক্ষ থেকে দু'টি ও মেয়ের পক্ষ থেকে একটি, দু'টি পছন্দনীয় নাম আল্লাহ নিকট সর্বাধিক উত্তমতা হলো 'আবদুল্লাহ, 'আবদুর রহমান।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00