📘 প্রথমে বর্জন পরে গ্রহণ > 📄 নিজের মত বা প্রবৃত্তির অনুসরণ করা শির্ক

📄 নিজের মত বা প্রবৃত্তির অনুসরণ করা শির্ক


মহান আল্লাহ বলেন: فَإِنْ لَمْ يَسْتَجِيبُوا لَكَ فَاعْلَمْ أَنَّمَا يَتَّبِعُونَ أَهْوَاءَهُمْ وَمَنْ أَضَلُّ مِمَّنِ اتَّبَعَ هَوَاهُ بِغَيْرِ هُدًى مِّنَ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّلِمِينَ )
“আর তারা যদি আপনার কথায় সাড়া না দেয়, তাহলে জানবেন তারা শুধু নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে। আল্লাহর হিদায়াতের পরিবর্তে যে ব্যক্তি নিজ প্রবৃত্তির অনুসরণ করে, তার থেকে অধিক পথভ্রষ্ট আর কে হতে পারে? নিশ্চয় আল্লাহ যালিম সম্প্রদায়কে পথ দেখান না।” (সূরাহ্ আল ক্বাসাস ২৮ : ৫০)
أَفَرَأَيْتَ مَنِ اتَّخَذَ إِلَهَهُ هَوَاهُ وَأَضَلَّهُ اللَّهُ عَلَى عِلْمٍ وَخَتَمَ عَلَى سَمْعِهِ وَقَلْبِهِ وَجَعَلَ عَلَى بَصَرِهِ غِشَاوَةٌ فَمَنْ يَهْدِيهِ مِنْ بَعْدِ اللَّهِ أَفَلَا تَذَكَّرُوْنَ ٢٣ “আপনি কি ঐ ব্যক্তিকে দেখেছেন, যে তার স্বীয় প্রবৃত্তি (নিজের মতামত) কে মা'বুদ হিসেবে গ্রহণ করেছে? আর জ্ঞান বুদ্ধি থাকা সত্ত্বেও আল্লাহ তাকে পথভ্রষ্ট করে দিয়েছেন এবং তার কান ও অন্তরে মোহর মেরে দিয়েছেন, আর তার চোখের উপর পর্দা ফেলে দিয়েছেন। সুতরাং আল্লাহ গোমরাহ করার পর কে এরূপ ব্যক্তিকে হিদায়াত করবে? তোমরা কি চিন্তা গবেষণা করো না।” (সূরাহ্ আল জাসিয়াহ্ ৪৫ : ২৩)
أَرَأَيْتَ مَنِ اتَّخَذَ إِلَهَهُ هَوَاهُ أَفَأَنْتَ تَكُونُ عَلَيْهِ وَكِيلًا )
“আপনি কি তাকে দেখেন না, যে তার প্রবৃত্তিকে প্রভুরূপে গ্রহণ করেছে? তবুও কি তার যিম্মাদার হবেন?” (সূরাহ্ আল ফুরক্বান ২৫ : ৪৩)
وَأَنِ احْكُمْ بَيْنَهُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ وَلَا تَتَّبِعُ أَهْوَاءَهُمْ وَاحْذَرْهُمْ أَنْ يَفْتِنُوكَ عَنْ بَعْضِ مَا أَنْزَلَ اللَّهُ إِلَيْكَ فَإِنْ تَوَلَّوْا فَاعْلَمْ أَنَّمَا يُرِيدُ اللَّهُ أَنْ يُصِيبَهُمْ بِبَعْضِ ذُنُوبِهِمْ وَإِنَّ كَثِيرًا مِّنَ النَّاسِ لَفَاسِقُونَ ﴾
“আর আপনি তাদের মধ্যে ফায়সালা করুন আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তদানুযায়ী এবং তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করবেন না, আর তাদের সম্বন্ধে সতর্ক থাকবেন যেন তারা আপনাকে আপনার প্রতি যা নাযিল করা হয়েছে তা থেকে বিচ্যুত করতে না পারে। যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয় তবে জেনে রাখুক, আল্লাহ চান তাদের কোন কোন পাপের জন্য তাদের শাস্তি প্রদান করতে। আর মানুষের মধ্যে তো অনেকেই ফাসিক্ব।” (সূরাহ্ আল মায়িদাহ্ ৫ : ৪৯)
عَنْ أَبِي بَكْرٍ عَنِ النَّي قَالَ: «عَلَيْكُمْ بِلَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَالْاِسْتِغْفَارَ، فَأَكْثِرُوا مِنْهُمَا، فَإِنَّ إِبْلِيسَ قَالَ: أَهْلَكْتُ النَّاسَ بِالذُّنُوبِ، وَأَهْلِكُونِي بِلا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَالْاِسْتِغْفَارِ، فَلَمَّا رَأَيْتُ ذَلِكَ أَهْلَكْتُهُمْ بِالْأَهْوَاءِ، وَهُمْ يَحْسَبُونَ أَنَّهُم مُهْتَدُونَ».
আবূ বাক্ সিদ্দীক্ব হতে বর্ণিত। তিনি নাবী হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি (সা.) বলেন: তোমাদের ওপর একান্ত কর্তব্য হল লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ এবং ইস্তিগফার পড়া। অতএব তোমরা এগুলো বেশি বেশি পড়ো। কেননা শয়তান বলে আমি মানুষকে গুনাহের মাধ্যমে ধ্বংস করি। আর তারা আমাকে লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ এবং ইস্তিগফার দ্বারা ধ্বংস করে। যখন আমি এ অবস্থা দেখলাম অর্থাৎ যখন আমার সকল চক্রান্তই বিফল, তখন তাদেরকে আমি প্রবৃত্তির তাবেদারী দ্বারা ধ্বংস করি। আর তারা তাদেরকে হিদায়াত প্রাপ্ত মনে করে। (আল মাজমা' ২০৭/১০, জামিউস্ সগীর; ইবনু কাসীর- ১ম খণ্ড, ৫৪০ পৃষ্ঠা)
উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা বুঝা গেল, প্রবৃত্তির অনুকরণ করায় প্রবৃত্তিকে প্রভু বা উপাস্য বানানো হয়। আর আল্লাহ ব্যতীত অন্যকে প্রভু করা বা মানা শির্ক। যারা শিক্ক করে তারা মুশরিক। অতএব যারা আল্লাহর দেয়া বিধান বাদ দিয়ে নিজের মতামত কিয়াসের ভিত্তিতে চলে তারা মুশরিক।

📘 প্রথমে বর্জন পরে গ্রহণ > 📄 দ্বীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি ও কোন মানুষের অতিরঞ্জন প্রশংসা ধ্বংসাত্মক কাজ ও সীমালঙ্ঘন

📄 দ্বীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি ও কোন মানুষের অতিরঞ্জন প্রশংসা ধ্বংসাত্মক কাজ ও সীমালঙ্ঘন


মহান আল্লাহ তা'আলা বলেন : لَا تَغْلُوا فِي دِينِكُمْ ..... “তোমরা তোমাদের দ্বীনের ব্যাপারে সীমালঙ্ঘন করো না.....।” (সূরাহ্ আন্ নিসা ৪ : ১৭১)
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ هُ أَنَّ رَسُولُ اللهِ لا قَالَ: وَلَا يَغُلُّ أَحَدُكُمْ حِينَ يَغُلُّ وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَإِيَّاكُمْ إِيَّاكُمْ.
আবূ হুরায়রাহ্ হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ বলেছেন : তোমাদের কেউ মু'মিন থাকা অবস্থায় সীমালঙ্ঘন বা বাড়াবাড়ি করে না। (অর্থাৎ যে সীমালঙ্ঘন করে সে মু'মিন নয়) অতএব, তোমরা সীমালঙ্ঘন বা বাড়াবাড়ি থেকে বেঁচে থাক। তোমরা সীমালঙ্ঘন থেকে বেঁচে থাক। (মুসলিম- হাঃ ১০৩-[৫৭], মুসনাদে আহমাদ- হাঃ ৮২০০, মিশকাত- হাঃ ৫৩)
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ال: إِيَّاكُمْ وَالْغُلُو؛ فَإِنَّمَا هَلَكَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمُ الْغُلُو.
'আবদুল্লাহ বিন 'আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ বলেছেন: তোমসরা সীমালঙ্ঘন করা থেকে বেচে থাকো। কেননা
তোমাদের পূর্ববর্তী জাতিরা সীমালঙ্ঘন করার কারনেই ধ্বংস হয়ে গেছে। (মু'জামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী- হাঃ ১২৭৪৬, নাসায়ী- হাঃ ৩০৫৭, ইবনু মাজাহ- হাঃ ৩০২৯ : সহীহ)
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ : هَلَكَ الْمُتَنَطِعُونَ» قَالَهَا ثَلَاثًا.
'আবদুল্লাহ ইবনু মাস্'ঊদ মায়া হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ বলেছেন : দ্বীনের ব্যাপারে সীমালঙ্ঘনকারীরা ধ্বংস হয়ে গেছে। এ কথা তিনি তিনবার বললেন। (মুসলিম- ৭-[২৬৭০], মিশকাত- হাঃ ৪৭৮৫)
عَنْ عُمَرَ: أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قال: «لَا تَطْرُونِي كَمَا أَطْرَتِ النَّصَارَى عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ، فَإِنَّمَا أَنَا عَبَدُ فَقُولُوا عَبْدُ اللهِ وَرَسُولُهُ». 'উমার হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ বলেছেন : তোমরা আমার অতি প্রশংসা করো না যেরূপ নাসারারা 'ঈসা বিন মারইয়াম-এর অতি প্রশংসা করেছিল। আমি কেবল একজন বান্দা। অতএব, তোমরা আমাকে আল্লাহর বান্দা ও তার রসূল বলবে। (বুখারী- হাঃ ৩৪৪৫, দারিমী- ২৮২৬, মিশকাত- হাঃ ৪৮৯৭; ইবনু কাসীর- ১ম খণ্ড, ৪৭৪ পৃষ্ঠা)

📘 প্রথমে বর্জন পরে গ্রহণ > 📄 পিতা না হওয়া সত্ত্বেও পিতা দাবী করা কুফরী ও হারাম

📄 পিতা না হওয়া সত্ত্বেও পিতা দাবী করা কুফরী ও হারাম


عَنْ أَبِي ذَرٍّ، أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللهِ ﷺ يَقُولُ: لَيْسَ مِنْ رَجُلٍ أَدَّعُى لِغَيْرِ أَبِيْهِ وَهُوَ يَعْلَمُهُ إِلَّا كُفْرٌ، وَمَنِ ادَّعَى مَا لَيْسَ لَهُ فَلَيْسَ مِنَّا، وَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ، وَمَنْ دَعَا رَجُلًا بِالْكُفْرِ، أَوْ قَالَ: عَدُوٌّ اللَّهِ وَلَيْسَ كَذَلِكَ إِلَّا حَارَ عَلَيْهِ.
আবূ যার হতে বর্ণিত। তিনি রসূলুল্লাহ-কে বলতে শুনেছেন, যে ব্যক্তি নিজের পিতা সম্পর্কে অবগত থেকেও অপর কাউকে পিতা বলে দাবী করে সে কুফরী করল। আর যে নিজেকে এমন বংশের বলে দাবী করে যে বংশের সাথে তাঁর কোন সম্পর্ক নেই সে নিজের
বাসস্থান জাহান্নামে তৈরি করে নিল। আর যে ব্যক্তি অপর ব্যক্তিকে কাফির বলে ডাকল, অথবা বলল হে আল্লাহর দুশমন, অথচ সে এরূপ নয়, তখন এ বাক্য তার নিজের দিকেই ফিরে আসবে। (মুসলিম- ১১২-[৬১], মুসনাদে আহমাদ- হাঃ ২১৪৬৫)
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ﷺ قَالَ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ ﷺ يَقُولُ: لَا تَرْغَبُوا عَنْ آبَائِكُمْ، فَمَنْ رَغِبَ عَنْ أَبِيهِ فَإِنَّهُ كُفْرٌ.
আবূ হুরায়রাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী বলেছেন: তোমরা নিজেদের পিতৃপরিচয় থেকে বিমুখ হয়ো না। কেননা, যে ব্যক্তি নিজের পিতৃপরিচয় দিতে ঘৃণাবোধ করল, সে কুফরী করল। (বুখারী- হাঃ ৬৭৬৮, মুসলিম- হাঃ ১১৩-[৬২])
عَنْ سَعْدٍ، وَأَبِي بَكْرَةَ كِلَاهُمَا، يَقُولُ: سَمِعْتُهُ أُذُنَا، وَوَعَاهُ قَلْبِي مُحَمَّدًا ﷺ يَقُولُ: مَنِ ادَّعَى إِلَى غَيْرِ أَبِيهِ، وَهُوَ يَعْلَمُ أَنَّهُ غَيْرُ أَبِيهِ فَالْجَنَّةُ عَلَيْهِ حَرَامٌ.
সা'দ ও আবূ বাক্বাহ্ হতে বর্ণিত। উভয়ে বলেন, আমার দু' কান শুনেছে এবং আমার অন্তর সংরক্ষণ করেছে, মুহাম্মাদ বলেছেন: যে ব্যক্তি অপরকে স্বীয় পিতা বলে দাবী করে অথচ সে ভালোভাবেই জানে যে সে তার পিতা নয় তার জন্য জান্নাত হারাম। (বুখারী- হাঃ ৬৭৬৬, মুসলিম- হাঃ ১১৫-[৬৩], আবূ দাউদ- হাঃ ৫১১৩)

📘 প্রথমে বর্জন পরে গ্রহণ > 📄 পিতা-মাতাকে গালি দেয়া এবং তাদের নাফরমানী করা সবচেয়ে বড় অপরাধ

📄 পিতা-মাতাকে গালি দেয়া এবং তাদের নাফরমানী করা সবচেয়ে বড় অপরাধ


عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ: إِنَّ مِنَ الْكَبَائِرِ شَتْمُ الرَّجُلِ وَالِدَيْهِ قَالُوا: يَا رَسُولَ اللهِ، وَهَلْ يَشْتِمُ الرَّجُلُ وَالِدَيْهِ؟ قَالَ: نَعَمْ يَسُبُّ أَبَا الرَّجُلِ فَيَسُبُّ أَبَاهُ، وَيَسُبُّ أُمَّهُ فَيَسُبُّ أُمَّهُ.
'আবদুল্লাহ বিন 'আম্র ইবনুল 'আস হতে বর্ণিত হয়েছে যে, রসূলুল্লাহ বলেছেন : কোন ব্যক্তি পিতা-মাতাকে গালি দিলে তা কবীরা বা বড় গুনাহের অন্তর্ভুক্ত হবে। সহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রসূল! কোন ব্যক্তি কি তার পিতা-মাতাকে গালি দেয়? রসূলুল্লাহ বললেন, হ্যাঁ, কোন লোক যখন কোন ব্যক্তির পিতাকে গালি দেয় আর সেও তার পিতাকে গালি দেয় এবং তার মাতাকে গালি দেয়, সেও তার মাতাকে গালি দেয়। মূলত সে তার নিজের পিতা-মাতাকেই গালি দেয়। (মুসলিম- হাঃ ১৪৬-[৯০], তিরমিযী- হাঃ ১৯০২)
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ : إِنَّ مِنْ أَكْبَرِ الْكَبَائِرِ أَنْ يَلْعَنَ الرَّجُلُ وَالِدَيْهِ. قَالُوا: وَكَيْفَ يَلْعَنُ الرَّجُلُ وَالِدَيْهِ ؟ قَالَ: يَسُبُّ الرَّجُلُ أَبَا الرَّجُلِ فَيَسُبُّ أَبَاهُ، ويَسُبُّ أُمَّهُ فَيَسُبُّ أُمَّهُ.
'আবদুল্লাহ বিন 'আম্র থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ বলেছেন: সবচেয়ে বড় কবীরা গুনাহ বা অপরাধ হচ্ছে কোন ব্যক্তি তার পিতা-মাতাকে লা'নাত বা অভিসম্পাত করে। বলা হলো, হে আল্লাহর রসূল! কিভাবে ব্যক্তি তার পিতা-মাতাকে অভিসম্পাত করে? তিনি ( বলেন, এক ব্যক্তি কোন ব্যক্তির পিতাকে গালি দেয়, আর সেও তার পিতাকে গali দেয়, এক ব্যক্তি কোন ব্যক্তির মাতাকে গali দেয়, আর সেও তার মাতাকে গali দেয়। এভাবেই মূলত সে তার নিজের পিতা-মাতাকেই গali দেয়। (বুখারী- হাঃ ৫৯৭৩)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00