📘 প্রথমে বর্জন পরে গ্রহণ > 📄 বিনা কারণে ছবি তোলা ও মূর্তি বানানো মুশরিকী কাজ

📄 বিনা কারণে ছবি তোলা ও মূর্তি বানানো মুশরিকী কাজ


عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ؓ قَالَ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ ﷺ يَقُولُ: قَالَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ: وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنْ ذَهَبَ يَخْلُقُ خَلْقًا كَخَلْقِي، فَلْيَخْلُقُوا ذَرَّةً أَوْ لِيَخْلُقُوا حَبَّةً أَوْ شَعِيرَةً.
আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: মহান আল্লাহ তা'আলা বলেন, ঐ ব্যক্তির থেকে কে বড় যালিম হতে পারে, যে আমার মত মাখলুক সৃষ্টি করতে চায়? (এতই যদি পারে) তাহলে তারা যেন অণু সৃষ্টি করে অথবা একটি শস্য দানা তৈরি করে অথবা যেন একটি যব তৈরি করে। (বুখারী- হাঃ ৭৫৫৫, মুসলিম- হাঃ ১০১-[২১১১], মিশকাত- হাঃ ৪৪৯৬)
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ ﷺ يَقُولُ: إِنَّ أَشَدَّ النَّاسِ عَذَابًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ الْمُصَوِّرُونَ.
'আবদুল্লাহ বিন মাস্'ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, মানুষের মাঝে সবচেয়ে কঠিন 'আযাব হবে আল্লাহর
নিকট ছবি প্রস্তুতকারীদের। (বুখারী- হাঃ ৫৯৫১, মুসলিম- হাঃ ৯৮-[২১০৯], নাসায়ী- হাঃ ৫৩৬৪, মুসনাদে আহমাদ- হাঃ ৩৫৫৮)
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ، رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا أَخْبَرَهُ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ: إِنَّ الَّذِينَ يَصْنَعُونَ هَذِهِ الصُّوَرَ يُعَذِّبُونَ يَوْمَ القِيَامَةِ، يُقَالُ لَهُمْ: أَحْيُوا مَا خَلَقْتُمْ.
'আবদুল্লাহ বিন 'উমার থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন : যারা এ সমস্ত ছবি তৈরি করে তাদেরকে ক্বিয়ামাতের দিবসে শাস্তি দেয়া হবে। আর তাদেরকে বলা হবে, তোমরা যা তৈরি করেছ তাদের প্রাণ দাও। (বুখারী- হাঃ ৫৯৫১, মুসনাদে আহমাদ- হাঃ ৫১৬৮, নাসায়ী- হাঃ ৫৩৬২, ইবনু মাজাহ- হাঃ ২১৫১)
عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي الْحَسَنِ، قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى ابْنِ عَبَّاسٍ، فَقَالَ: إِنِّي رَجُلٌ أُصَوِّرُ هَذِهِ الصُّوَرَ، فَأَفْتِنِي فِيْهَا، فَقَالَ لَهُ: ادْنُ مِنِّي، فَدَنَا مِنْهُ، ثُمَّ قَالَ: ادْنُ مِنِّي، فَدَنَا حَتَّى وَضَعَ يَدَهُ عَلَى رَأْسِهِ، قَالَ: أُنَبِّئُكَ بِمَا سَمِعْتُ مِنْ رَّسُولِ اللهِ ﷺ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ يَقُولُ: كُلُّ مُصَوَّرٍ فِي النَّارِ، يَجْعَلُ لَهُ بِكُلِّ صُورَةٍ صَوَّرَهَا، نَفْسًا فَتُعَذِّبُهُ فِي جَهَنَّمَ وَقَالَ: إِنْ كُنْتَ لَا بُدَّ فَاعِلًا، فَاصْنَعِ الشَّجَرَ وَمَا لَا نَفْسَ لَهُ.
সা'ঈদ বিন আবুল হাসান হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি ইবনু 'আব্বাস-এর নিকট এসে বললেন, আমি এমন একজন লোক, আমি এ ছবি তৈরি করি। এ ব্যাপারে আমাকে ফাতওয়া দিন। অতঃপর তিনি বললেন, তুমি আমার নিকট আস, সে নিকটবর্তী হল। তিনি বললেন, তুমি আমার নিকটবর্তী হও, অতঃপর সে আরো নিকটবর্তী হল, এমনকি তিনি তার হাত মাথার উপর ধরলেন। অতঃপর বললেন, আমি যা রসূলুল্লাহ ﷺ থেকে শুনেছি তা তোমাকে সংবাদ দিব।
আমি রসূলুল্লাহ -কে বলতে শুনেছি, প্রত্যেক ছবি প্রস্তুতকারী জাহান্নামে যাবে। প্রত্যেক ছবির আকৃতি তৈরি করে প্রাণ দেয়া হবে তা তাকে জাহান্নামে শাস্তি দিতে থাকবে। অতঃপর ইবনু 'আব্বাস বলেন, যদি তোমার ছবি তৈরি করতেই হয় তাহলে গাছের এবং যার প্রাণ নেই তা তৈরি কর। (মুসলিম- হাঃ ৯৯-[২১১০])
ছবি সম্পর্কে 'আল্লামাহ্ 'আবদুল্লাহ বিন বায একটি স্বতন্ত্র বই-ই লিখেছেন। এর মধ্যে তিনি বলেন,
وَهِيَ عَامَّةُ لِأَنْوَاعِ التَّصْوِيرِ سَوَاءٌ كَانَ لِلصُّورَةِ ظِلُّ أَمْ لَا ، وَسَوَاءٌ كَانَ التَّصْوِيرُ فِي حَائِطٍ أَوْ سِتْرٍ أَوْ قَمِيصِ أَوْ مِرَاةٍ أَوْ قِرْطَاسٍ أَوْ غَيْرِ ذُلِكَ لَأَنَّ النَّبِيَّ لَمْ يُفَرِّقُ بَيْنَ مَالَهُ ظِلَّ وَغَيْرُهُ وَلَا بَيْنَ مَا جَعَلَ فِي سِتْرٍ أَوْ غَيْرِهِ بَلْ لَعَنَ الْمُصَوِّرَ وَأَخْبَرَ أَنَّ الْمُصَوِّرِينَ أَشَدَّ النَّاسِ عَذَابًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَأَنَّ كُلَّ مُصَوِّرٍ فِي النَّارِ وَأَطْلَقَ ذُلِكَ وَلَمْ يَسْتَثْنِ شَيْئًا.
এটা সাধারণ সকল ছবির ব্যাপারে। ছায়া (প্রতিচ্ছবি) বা প্রতিচ্ছবি নয় সবই সমান। প্রাচীরে বা পর্দায় বা জামায় বা আয়নায় বা কাগজে বা অন্য কিছুতে হোক সবই সমান। কেননা নাবী ছায়া বা প্রতিচ্ছবি এবং প্রতিচ্ছবি নয় এর মধ্যে পার্থক্য করেননি এবং পর্দার এবং অন্য কিছুর মধ্যে পার্থক্য করেননি বরং ছবি প্রস্তুতকারীকে অভিসম্পাত করেছেন এবং সংবাদ দিয়েছেন যে, ক্বিয়ামাতের দিনে মানুষের মধ্যে ছবি প্রস্তুতকারীদেরকে সর্বাধিক শাস্তি দেয়া হবে এবং প্রত্যেক ছবি প্রস্তুতকারী জাহান্নামে যাবে। এটা সাধারণভাবে বলা হয়েছে এবং কোন কিছু পৃথক করা হয়নি। (আল জাওয়াবুল মুফীদ ফী হুকমিত্ তাসবীর- ১০-১২ পৃষ্ঠা)

📘 প্রথমে বর্জন পরে গ্রহণ > 📄 ইচ্ছা করে সলাত পরিত্যাগ করা শির্ক

📄 ইচ্ছা করে সলাত পরিত্যাগ করা শির্ক


عَنْ جَابِرٍ ، يَقُولُ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ لا يَقُولُ: إِنَّ بَيْنَ الرَّجُلِ وَبَيْنَ الشِّرْكِ وَالْكُفْرِ تَرْكُ الصَّلَاةِ .
জাবির বিন 'আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নাবী -কে বলতে শুনেছি, মুসলিম ব্যক্তি এবং মুশরিক ও কাফিরের মধ্যে পার্থক্য হলো সলাত পরিত্যাগ করা। অর্থাৎ সলাত পরিত্যাগকারী মুশরিক ও কাফির। (মুসলিম- হাঃ ১৩৪-[৮২])
عَنْ يَزِيدَ الرُّقَاشِي، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ : لَيْسَ بَيْنَ الْعَبْدِ وَالشِّرْكِ إِلَّا تَرْكُ الصَّلَاةِ، فَإِذَا تَرَكَهَا فَقَدْ أَشْرَكَ.
ইয়াযীদ আর্ রুকাশী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ বলেছেন: বান্দা এবং শিরকের মধ্যে পার্থক্য হল সলাত। যখন সে সলাত পরিত্যাগ করে তখন সে মুশরিকই হয়। (ইবনু মাজাহ- হাঃ ১০৮০: সহীহ)
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ مَنْ تَرَكَ الصَّلَاةَ مُتَعَمِّدٌ فَقَدْ كَفَرَ جِهَارًا.
আনাস বিন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ বলেছেন : যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে সলাত ছেড়ে দেয় সে প্রকাশ্য কুফরী করে। (ত্ববারানী'র "মু'জামুল আওসাত্ব” হাঃ ৩৩৪৮, ৩য় খণ্ড, ৩৪৩ পৃঃ)
عَنْ جَابِرٍ، أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ: بَيْنَ الْكُفْرِ وَالْإِيْمَانِ تَرَكُ الصَّلَاةِ.
জাবির হতে বর্ণিত। তিনি নাবী হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: ঈমান ও কুফরের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে সলাত পরিত্যাগ করা, অর্থাৎ সলাত পরিত্যাগ করলে ঈমান থাকে না। (তিরমিযী- হাঃ ২৬১৮: সহীহ)
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَقِيقِ العُقَيْلِي، قَالَ: كَانَ أَصْحَابُ مُحَمَّدٍ ﷺ لَا يَرَوْنَ شَيْئًا مِنَ الْأَعْمَالِ تَرْكُهُ كُفْرٌ غَيْرَ الصَّلَاةِ.
'আবদুল্লাহ বিন শাক্বীক্ব আল 'উক্বায়লী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুহাম্মাদ-এর সহাবীগণ সলাত ব্যতীত 'আমালসমূহের কিছু পরিত্যাগ
করাকে কুফরী মনে করতেন না, অর্থাৎ সলাত পরিত্যাগকারীদের সহাবীগণ কাফির মনে করতেন। (তিরমিযী- হাঃ ২৬২২: সহীহ)

📘 প্রথমে বর্জন পরে গ্রহণ > 📄 নিজের মত বা প্রবৃত্তির অনুসরণ করা শির্ক

📄 নিজের মত বা প্রবৃত্তির অনুসরণ করা শির্ক


মহান আল্লাহ বলেন: فَإِنْ لَمْ يَسْتَجِيبُوا لَكَ فَاعْلَمْ أَنَّمَا يَتَّبِعُونَ أَهْوَاءَهُمْ وَمَنْ أَضَلُّ مِمَّنِ اتَّبَعَ هَوَاهُ بِغَيْرِ هُدًى مِّنَ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّلِمِينَ )
“আর তারা যদি আপনার কথায় সাড়া না দেয়, তাহলে জানবেন তারা শুধু নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে। আল্লাহর হিদায়াতের পরিবর্তে যে ব্যক্তি নিজ প্রবৃত্তির অনুসরণ করে, তার থেকে অধিক পথভ্রষ্ট আর কে হতে পারে? নিশ্চয় আল্লাহ যালিম সম্প্রদায়কে পথ দেখান না।” (সূরাহ্ আল ক্বাসাস ২৮ : ৫০)
أَفَرَأَيْتَ مَنِ اتَّخَذَ إِلَهَهُ هَوَاهُ وَأَضَلَّهُ اللَّهُ عَلَى عِلْمٍ وَخَتَمَ عَلَى سَمْعِهِ وَقَلْبِهِ وَجَعَلَ عَلَى بَصَرِهِ غِشَاوَةٌ فَمَنْ يَهْدِيهِ مِنْ بَعْدِ اللَّهِ أَفَلَا تَذَكَّرُوْنَ ٢٣ “আপনি কি ঐ ব্যক্তিকে দেখেছেন, যে তার স্বীয় প্রবৃত্তি (নিজের মতামত) কে মা'বুদ হিসেবে গ্রহণ করেছে? আর জ্ঞান বুদ্ধি থাকা সত্ত্বেও আল্লাহ তাকে পথভ্রষ্ট করে দিয়েছেন এবং তার কান ও অন্তরে মোহর মেরে দিয়েছেন, আর তার চোখের উপর পর্দা ফেলে দিয়েছেন। সুতরাং আল্লাহ গোমরাহ করার পর কে এরূপ ব্যক্তিকে হিদায়াত করবে? তোমরা কি চিন্তা গবেষণা করো না।” (সূরাহ্ আল জাসিয়াহ্ ৪৫ : ২৩)
أَرَأَيْتَ مَنِ اتَّخَذَ إِلَهَهُ هَوَاهُ أَفَأَنْتَ تَكُونُ عَلَيْهِ وَكِيلًا )
“আপনি কি তাকে দেখেন না, যে তার প্রবৃত্তিকে প্রভুরূপে গ্রহণ করেছে? তবুও কি তার যিম্মাদার হবেন?” (সূরাহ্ আল ফুরক্বান ২৫ : ৪৩)
وَأَنِ احْكُمْ بَيْنَهُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ وَلَا تَتَّبِعُ أَهْوَاءَهُمْ وَاحْذَرْهُمْ أَنْ يَفْتِنُوكَ عَنْ بَعْضِ مَا أَنْزَلَ اللَّهُ إِلَيْكَ فَإِنْ تَوَلَّوْا فَاعْلَمْ أَنَّمَا يُرِيدُ اللَّهُ أَنْ يُصِيبَهُمْ بِبَعْضِ ذُنُوبِهِمْ وَإِنَّ كَثِيرًا مِّنَ النَّاسِ لَفَاسِقُونَ ﴾
“আর আপনি তাদের মধ্যে ফায়সালা করুন আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তদানুযায়ী এবং তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করবেন না, আর তাদের সম্বন্ধে সতর্ক থাকবেন যেন তারা আপনাকে আপনার প্রতি যা নাযিল করা হয়েছে তা থেকে বিচ্যুত করতে না পারে। যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয় তবে জেনে রাখুক, আল্লাহ চান তাদের কোন কোন পাপের জন্য তাদের শাস্তি প্রদান করতে। আর মানুষের মধ্যে তো অনেকেই ফাসিক্ব।” (সূরাহ্ আল মায়িদাহ্ ৫ : ৪৯)
عَنْ أَبِي بَكْرٍ عَنِ النَّي قَالَ: «عَلَيْكُمْ بِلَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَالْاِسْتِغْفَارَ، فَأَكْثِرُوا مِنْهُمَا، فَإِنَّ إِبْلِيسَ قَالَ: أَهْلَكْتُ النَّاسَ بِالذُّنُوبِ، وَأَهْلِكُونِي بِلا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَالْاِسْتِغْفَارِ، فَلَمَّا رَأَيْتُ ذَلِكَ أَهْلَكْتُهُمْ بِالْأَهْوَاءِ، وَهُمْ يَحْسَبُونَ أَنَّهُم مُهْتَدُونَ».
আবূ বাক্ সিদ্দীক্ব হতে বর্ণিত। তিনি নাবী হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি (সা.) বলেন: তোমাদের ওপর একান্ত কর্তব্য হল লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ এবং ইস্তিগফার পড়া। অতএব তোমরা এগুলো বেশি বেশি পড়ো। কেননা শয়তান বলে আমি মানুষকে গুনাহের মাধ্যমে ধ্বংস করি। আর তারা আমাকে লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ এবং ইস্তিগফার দ্বারা ধ্বংস করে। যখন আমি এ অবস্থা দেখলাম অর্থাৎ যখন আমার সকল চক্রান্তই বিফল, তখন তাদেরকে আমি প্রবৃত্তির তাবেদারী দ্বারা ধ্বংস করি। আর তারা তাদেরকে হিদায়াত প্রাপ্ত মনে করে। (আল মাজমা' ২০৭/১০, জামিউস্ সগীর; ইবনু কাসীর- ১ম খণ্ড, ৫৪০ পৃষ্ঠা)
উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা বুঝা গেল, প্রবৃত্তির অনুকরণ করায় প্রবৃত্তিকে প্রভু বা উপাস্য বানানো হয়। আর আল্লাহ ব্যতীত অন্যকে প্রভু করা বা মানা শির্ক। যারা শিক্ক করে তারা মুশরিক। অতএব যারা আল্লাহর দেয়া বিধান বাদ দিয়ে নিজের মতামত কিয়াসের ভিত্তিতে চলে তারা মুশরিক।

📘 প্রথমে বর্জন পরে গ্রহণ > 📄 দ্বীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি ও কোন মানুষের অতিরঞ্জন প্রশংসা ধ্বংসাত্মক কাজ ও সীমালঙ্ঘন

📄 দ্বীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি ও কোন মানুষের অতিরঞ্জন প্রশংসা ধ্বংসাত্মক কাজ ও সীমালঙ্ঘন


মহান আল্লাহ তা'আলা বলেন : لَا تَغْلُوا فِي دِينِكُمْ ..... “তোমরা তোমাদের দ্বীনের ব্যাপারে সীমালঙ্ঘন করো না.....।” (সূরাহ্ আন্ নিসা ৪ : ১৭১)
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ هُ أَنَّ رَسُولُ اللهِ لا قَالَ: وَلَا يَغُلُّ أَحَدُكُمْ حِينَ يَغُلُّ وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَإِيَّاكُمْ إِيَّاكُمْ.
আবূ হুরায়রাহ্ হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ বলেছেন : তোমাদের কেউ মু'মিন থাকা অবস্থায় সীমালঙ্ঘন বা বাড়াবাড়ি করে না। (অর্থাৎ যে সীমালঙ্ঘন করে সে মু'মিন নয়) অতএব, তোমরা সীমালঙ্ঘন বা বাড়াবাড়ি থেকে বেঁচে থাক। তোমরা সীমালঙ্ঘন থেকে বেঁচে থাক। (মুসলিম- হাঃ ১০৩-[৫৭], মুসনাদে আহমাদ- হাঃ ৮২০০, মিশকাত- হাঃ ৫৩)
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ال: إِيَّاكُمْ وَالْغُلُو؛ فَإِنَّمَا هَلَكَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمُ الْغُلُو.
'আবদুল্লাহ বিন 'আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ বলেছেন: তোমসরা সীমালঙ্ঘন করা থেকে বেচে থাকো। কেননা
তোমাদের পূর্ববর্তী জাতিরা সীমালঙ্ঘন করার কারনেই ধ্বংস হয়ে গেছে। (মু'জামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী- হাঃ ১২৭৪৬, নাসায়ী- হাঃ ৩০৫৭, ইবনু মাজাহ- হাঃ ৩০২৯ : সহীহ)
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ : هَلَكَ الْمُتَنَطِعُونَ» قَالَهَا ثَلَاثًا.
'আবদুল্লাহ ইবনু মাস্'ঊদ মায়া হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ বলেছেন : দ্বীনের ব্যাপারে সীমালঙ্ঘনকারীরা ধ্বংস হয়ে গেছে। এ কথা তিনি তিনবার বললেন। (মুসলিম- ৭-[২৬৭০], মিশকাত- হাঃ ৪৭৮৫)
عَنْ عُمَرَ: أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قال: «لَا تَطْرُونِي كَمَا أَطْرَتِ النَّصَارَى عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ، فَإِنَّمَا أَنَا عَبَدُ فَقُولُوا عَبْدُ اللهِ وَرَسُولُهُ». 'উমার হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ বলেছেন : তোমরা আমার অতি প্রশংসা করো না যেরূপ নাসারারা 'ঈসা বিন মারইয়াম-এর অতি প্রশংসা করেছিল। আমি কেবল একজন বান্দা। অতএব, তোমরা আমাকে আল্লাহর বান্দা ও তার রসূল বলবে। (বুখারী- হাঃ ৩৪৪৫, দারিমী- ২৮২৬, মিশকাত- হাঃ ৪৮৯৭; ইবনু কাসীর- ১ম খণ্ড, ৪৭৪ পৃষ্ঠা)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00