📘 প্রথমে বর্জন পরে গ্রহণ > 📄 যুগ বা সময়কে গালি দেয়া শির্ক

📄 যুগ বা সময়কে গালি দেয়া শির্ক


وَقَالُوا مَا هِيَ إِلَّا حَيَاتُنَا الدُّنْيَا نَمُوتُ وَنَحْيَا وَمَا يُهْلِكُنَا إِلَّا الدَّهْرُ وَمَا لَهُمْ بذلِكَ مِنْ عِلْمٍ إِنْ هُمْ إِلَّا يَظُنُّونَ ﴿٢٤﴾
“তারা বলে, আমাদের পার্থিব জীবনই একমাত্র জীবন, আমরা মরি এবং বাঁচি, আর কালের প্রবাহেই কেবল আমাদের মৃত্যু হয়। অথচ এ ব্যাপারে তাদের কোন জ্ঞান নেই। তারা তো শুধু অনুমান করেই বলেছে।” (সূরাহ্ আল জাসিয়াহ্ ৪৫ : ২৪)
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ قَالَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ: يُؤْذِينِي ابْنُ أَدَمَ يَسُبُّ الدَّهْرَ وَأَنَا الدَّهْرُ، بِيَدِي الأَمْرُ أُقَلِّبُ اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ.
আবূ হুরায়রাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী বলেছেন: মহান আল্লাহ বলেন, আদম সন্তান দাহার বা সময়কে গালী দিয়ে আমাকে কষ্ট দেয়। অথচ আমি নিজেই দাহ্র বা সময়। আমার হাতেই সকল কর্ম। রাত ও দিনকে আমিই পরিবর্তন করি। (বুখারী- হাঃ ৪৮২৬, ৭৪৯১; আবু দাউদ- হাঃ ৫২৭৪, মিশকাত- হাঃ ২২ : সহীহ)
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ: لَا يَقُولَنَّ أَحَدُكُمْ يَا خَيْبَةَ الدَّهْرِ، فَإِنَّ اللَّهَ هُوَ الدَّهْرُ.
আবূ হুরায়রাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি নাবী হতে বর্ণনা করেন। নাবী বলেছেন: তোমরা দাহ্র বা সময়কে গালি দিও না। কেননা আল্লাহই হলেন দাহার বা সময়। (মুসলিম- হাঃ ৪-[২২৪৬], মুসনাদে আহমাদ- হাঃ ৯১১৬)

📘 প্রথমে বর্জন পরে গ্রহণ > 📄 দ্বীন ধর্ম বা শারী‘আত প্রবর্তনে অংশীদারিত্বে শির্ক

📄 দ্বীন ধর্ম বা শারী‘আত প্রবর্তনে অংশীদারিত্বে শির্ক


দ্বীনের ব্যাপারে যত বিধি-বিধান প্রয়োজন সব কিছুর অধিকার কেবলমাত্র আল্লাহর এবং মহান আল্লাহ তার নাবী-কে যতটুকু অধিকার দিয়েছেন। এদ্ব্যতীত যদি কেউ শারী'আতে কোন বিধান প্রবর্তন
করে তাহলে আল্লাহর কাজে অংশীদারিত্ব হবে। কারণ সে আল্লাহর পক্ষ থেকে সে অধিকার ওয়াহীর মাধ্যমে পায়নি। যেমন নাবী আল্লাহর পক্ষ থেকে ফায়সালা ওয়াহীর মাধ্যমে পেতেন। তাই কেউ যদি শারী'আতের মধ্যে আইন প্রচলন করে এবং আল্লাহর আইনের বিরোধী আইন করে তাহলে শিক্ হবে। কেননা এতে মহান আল্লাহর কাজে অংশীদারিত্ব হল।
উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, মহান আল্লাহ মদ হারাম করেছেন। রসূলুল্লাহ আল্লাহর পক্ষ থেকে ওয়াহীর দ্বারা বলেছেন :
كُلُّ مُسْكِرٍ حَرَامٌ»
প্রত্যেক মাদক বা নেশাযুক্ত বস্তু হারাম। (বুখারী- হাঃ ৪৩৪৩, মুসলিম- হাঃ ৭০-[১৭৩৩], আবূ দাউদ- হাঃ ৩৬৮৪, তিরমিযী- হাঃ ১৮৬৪, নাসায়ী- হাঃ ৫৫৮২, মিশকাত- হাঃ ৩৬৫২)
অপরদিকে বুখারী, মুসলিমের হাদীসে মদ পাঁচ ধরনের বস্তু দ্বারা তৈরি হয় বলে উল্লেখ করেছে,
وَهِيَ مِنْ خَمْسَةِ أَشْيَاءَ مِنَ الْحِنْطَةِ، وَالشَّعِيرِ، وَالتَّمَرِ، وَالرَّبِيبِ، وَالْعَسَلِ - وَالْخَمْرُ: مَا خَامَرَ الْعَقْلَ - وَثَلَاثَةُ أَشْيَاءَ.
সে মদ হল পাঁচ বস্তু দ্বারা তৈরি, যেমন গম, যব, খেজুর, কিসমিস, মধু। আর যে বস্তু জ্ঞানকে আচ্ছাদিত বা বিলুপ্ত করে দেয় তা হলো খামর বা মদ। অপর বর্ণনায় আঙ্গুরের কথা রয়েছে। (মুসলিম- হাঃ ৩২-[৩০৩২])
شَرَابٌ مِنَ العَسَلِ، يُقَالُ لَهُ الْبِتْعُ، وَشَرَابٌ مِّنَ الشَّعِيرِ، يُقَالُ لَهُ الْمِزْرُ؟ فَقَالَ
رَسُولُ اللهِ : كُلُّ مُسْكِرٍ حَرَامٌ».
বুখারীর বর্ণনায় রয়েছে মধু থেকে তৈরি মদ যাকে বিত্ত বলা হয়। আর যব থেকে তৈরি মদকে মিযর বলা হয়। রসূলুল্লাহ বললেন : সকল প্রকার নেশাগ্রস্ত দ্রব্য হারাম। (বুখারী- হাঃ ৬১২৪, মুসনাদে আহমাদ- হাঃ ১৯৭৪২)
এখন কেউ যদি মহান আল্লাহর ইহরামকৃত মদ হালাল ফাতাওয়া দিয়ে বলে,
فَلَمْ يُحَرِّمُ كُلَّ مُسْكِرٍ. প্রত্যেক প্রকার মদ হারাম নয়।
مَا يُتَّخَذُ مِنَ الْحِنْطَةِ وَالشَّعِيرِ وَالْعَدْلِ وَالدُّرَةِ حَلَالٌ وَلَا يُحَدُّ شَارِبَةَ وَإِنْ سَكَرَ مِنْهُ. যে সমস্ত মদ গম, যব, মধু ও ভুট্টা থেকে তৈরি করা হবে তা হালাল এবং এর পানকারীকে শাস্তি দেয়া যাবে না যদিও সে মাতাল হয়ে যায়। (হিদায়াহ্- ৪র্থ খণ্ড, ৪৯৬ পৃষ্ঠা)
তাহলে তা স্পষ্ট শির্ক হবে এবং আল্লাহ ও তার নাবী -এর বিরোধী শারী'আত প্রবর্তন করা হবে। দ্বীনের ব্যাপারে আল্লাহ কাউকে বিধান চালু করার ক্ষমতা দেননি। কেউ যদি কোন বিধান চালু করে, তাহলে আল্লাহর ক্ষমতায় ভাগ বসানো হবে এবং তা স্পষ্ট শির্ক হবে। মিরাসী সম্পত্তির ব্যাপারে আল্লাহ বলেন,
يُوْصِيكُمُ اللهُ فِي أَوْلَادِكُمْ لِلذَّكَرِ مِثْلُ حَظِّ الْأُنْثَيَيْنِ “আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের সন্তান-সন্ততির (অংশ) সম্পর্কে নির্দেশ দিচ্ছেন, পুরুষ দুই নারীর অংশের সমান পাবে।” (সূরাহ্ আন্ নিসা ৪ : ১১)
পুরুষ যা পাবে নারী পাবে তার অর্ধেক এখন কেউ যদি বলে না মেয়েরাও ছেলেদের সমান পাবে। তাহলে এক্ষেত্রেও আল্লাহর বিধান পরিবর্তনের জন্য ক্ষমতায় ভাগ বসানোর কারণে এটাও হবে বড় শির্ক।

📘 প্রথমে বর্জন পরে গ্রহণ > 📄 আল্লাহ যা চায় এবং তুমি যা চাও বলা শির্ক

📄 আল্লাহ যা চায় এবং তুমি যা চাও বলা শির্ক


عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَجُلًا قَالَ لِلنَّي مَا شَاءَ اللهُ، وَشِئْتَ، فَقَالَ : أَجَعَلْتَنِي لِلَّهِ نِدًّا قُلْ مَا شَاءَ اللهُ وَحْدَهُ.
'আবদুল্লাহ বিন 'আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি 'আলায়হি ওরাসাল্লাম নাবী-কে বললেন, আল্লাহ যা চায় এবং আপনি যা চান। অতঃপর নাবী বললেন, তুমি কি আল্লাহর সাথে আমাকে শরীক করে দিলে? বল আল্লাহ কেবল যা চান। (মুসনাদে আহমাদ- হাঃ ১৮৩৯: সহীহ লিগয়রিহী, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী- হাঃ ৫৮১২; ইবনে কাসীর- ১ম খণ্ড, ৮৯ পৃষ্ঠা)
الله عَنْ حُذَيْفَةَ، عَنِ النَّبِيِّ ، قَالَ: لَا تَقُوْلُوْا مَا شَاءَ اللَّهُ، وَشَاءَ فُلَانٌ، وَلكِنْ قُولُوا مَا شَاءَ اللهُ ثُمَّ شَاءَ فُلَانٌ.
হুযায়ফাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি নাবী হতে বর্ণনা করেন, যিয়াল্লা- 'আনহু 'আলায়হি নাবী বলেছেন: তোমরা আল্লাহ যা চান এবং অমুক যা চায় বলো না। ওয়াসাল্লাম বরং বলো আল্লাহ যা চান, অতঃপর অমুক যা চায়। (মুসনাদে আহমাদ- হাঃ ২৩৩৪৭, আবূ দাউদ- হাঃ ৪৯৮০, মিশকাত- হাঃ ৪৭৭৮ : সহীহ; ইবনু কাসীর ১ম খণ্ড ৮৯ পৃষ্ঠা)
আল্লাহ এবং বান্দাকে একত্রে করাটাই শির্ক এজন্য মাঝখানে একটা পৃথককরণ শব্দ যেমন অতঃপর শব্দ যোগ করতে হবে।

📘 প্রথমে বর্জন পরে গ্রহণ > 📄 কোন কিছুকে কু-লক্ষণ বা অশুভ মনে করা শির্ক

📄 কোন কিছুকে কু-লক্ষণ বা অশুভ মনে করা শির্ক


عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ : سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ يَقُولُ: لَا طِيَرَةَ، وَخَيْرُهَا الْفَالُ قَالُوا: وَمَا الْفَالُ؟ قَالَ: الْكَلِمَةُ الصَّالِحَةُ يَسْمَعُهَا أَحَدُكُمْ.
'আনহু 'আলায়হি ওরাসাল্লাম আবূ হুরায়রাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ কে বলতে শুনেছি, পাখি উড়িয়ে কু-লক্ষণ বলতে কিছু নেই। ওটার উত্তম হল ফাল। সহাবীগণ বললেন, ফাল কি জিনিস? তিনি বললেন, ফাল হল সৎ বা উত্তম কথা, যা তোমাদের কেউ শুনে। (বুখারী- হাঃ ৫৭৫৪, মুসলিম- হাঃ ১১০-[২২২৩], মুসনাদে আহমাদ- হাঃ ৭৬১৮)
الله عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ: لَا عَدْوَى وَلَا طِيَرَةَ، وَلَا هَامَةَ وَلَا صَفَرَ.
আবূ হুরায়রাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি নাবী হতে বর্ণনা 'আনহু 'আলায়হি করেন। তিনি () বলেছেন: সংক্রামক রোগ বলতে কিছুই নেই। পাখি উড়িয়ে কুলক্ষণ নির্ণয়ের কিছুই নেই। পেঁচা পাখির কু-লক্ষণ বলতে কিছুই নেই। সফর মাসে বা পেটের পীড়ার কু-লক্ষণ বলতে কিছুই নেই। (বুখারী- হাঃ ৫৭০৭, মুসলিম- হাঃ ২২০২, আবূ দাউদ- হাঃ ৩৯১১, ইবনু মাজাহ- হাঃ ৩৫৩৯,)
ওয়াসাল্লাম আর সহীহ মুসলিম-এর বর্ণনায় রয়েছে, নাবী বলেছেন : তারকার প্রভাবে বৃষ্টিপাত এবং ভূত, রাক্ষস বলতে কিছুই নেই। (মুসলিম- ২য় খণ্ড, ২৩১ পৃষ্ঠা)
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ، عَنْ رَسُولِ اللهِ لا قَالَ: الطَّيَرَةُ شِرْكَ، الطَّيَرَةُ شرك، ثَلَاثًا.
'আলায়হি ওয়াসাল্লাম 'আবদুল্লাহ ইবনু মাস্ঊদ মিয়া মায়া হতে বর্ণিত। তিনি রসূলুল্লাহ হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: পাখি উড়িয়ে ভাগ্য নির্ণয় করা শিক্, পাখি উড়িয়ে কু-লক্ষণ নির্ণয় করা শিক্, পাখি উড়িয়ে কু-লক্ষণ নির্ণয় করা শিকে। (আবূ দাউদ- হাঃ ৩৯১০, মুসনাদে আহমাদ- হাঃ ৪১৯৪ : সহীহ)
الله الله سلام اللهِ بْنِ عَمْرٍو ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ : مَنْ رَدَّتْهُ الطَّيَرَةُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ مِنْ حَاجَةٍ، فَقَدْ أَشْرَكَ.
'আনহু 'আবদুল্লাহ বিন 'আম্র হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ বলেছেন: যাকে অশুভ লক্ষণের ধারণা তার কোন প্রয়োজন হতে বিরত রাখে সে শির্ক করল। ওয়াসাল্লাম
(মুসনাদে আহমাদ- হাঃ ৭০৪৫: হাসান; ইবনু কাসীর- ২য় খণ্ড, ৬৫০ পৃষ্ঠা)
অনেকে ঘর থেকে বের হওয়ার সময় কাল কুকুর ডান দিক থেকে বামে গেলে বা হোঁচট খেলে বা পেঁচার বা কাকের ডাক শুনলে মনে করে যাত্রা শুভ হবে না এমন সকল ধারণাই শির্ক। কবুতর উড়িয়ে কল্যাণের আশা করা বা ভাগ্য গণনা করা, টিয়া পাখি দিয়ে ভাগ্য গণনা সবই শির্কের অন্তর্ভুক্ত।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00