📘 প্রথমে বর্জন পরে গ্রহণ > 📄 আল্লাহর নাম ও আল্লাহর সন্তুষ্টি ছাড়া অন্য কারো নজরানা বা সন্তুষ্টির উদ্দেশে আল্লাহ ব্যতীত (গাইরুল্লাহ তথা পীর, আওলিয়া ও দরগাহ, মাজারে) যবেহ করা শির্ক

📄 আল্লাহর নাম ও আল্লাহর সন্তুষ্টি ছাড়া অন্য কারো নজরানা বা সন্তুষ্টির উদ্দেশে আল্লাহ ব্যতীত (গাইরুল্লাহ তথা পীর, আওলিয়া ও দরগাহ, মাজারে) যবেহ করা শির্ক


মহান আল্লাহ তা'আলা বলেন, قُلْ إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعُلَمِينَ لَا شَرِيكَ لَهُ وَبِذَلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَا أَوَّلُ الْمُسْلِمِينَ ١٦٣
“হে নাবী! আপনি বলুন, নিশ্চয় আমার সলাত, আমার কুরবানী, আমার জীবন ও আমার মরণ সবকিছুই কেবলমাত্র সমগ্রবিশ্বের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। তার কোন শরীক নেই এবং আমি (কোন রূপ শরীক না করার জন্যই) আদিষ্ট হয়েছি এবং মুসলিমদের মধ্যে আমিই প্রথম।” (সূরাহ্ আল আন'আম ৬ : ১৬২-১৬৩)
قَالَ: كُنْتُ عِنْدَ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، فَأَتَاهُ رَجُلٌ، فَقَالَ: مَا كَانَ النَّبِيُّ ا يُسِرُّ إِلَيْكَ، قَالَ: فَغَضِبَ، وَقَالَ: مَا كَانَ النَّبِيُّ لا يُسِرُّ إِلَى شَيْئًا يَكْتُمُهُ النَّاسَ، غَيْرَ أَنَّهُ قَدْ حَدَّثَنِي بِكَلِمَاتٍ أَرْبَعٍ، قَالَ : فَقَالَ: مَا هُنَّ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ؟ قَالَ: قَالَ: «لَعَنَ اللهُ مَنْ لَعَنَ وَالِدَهُ، وَلَعَنَ اللهُ مَنْ ذَبَحَ لِغَيْرِ اللَّهِ، وَلَعَنَ اللَّهُ مَنْ آوَى مُحْدِثًا، وَلَعَنَ اللهُ مَنْ غَيَّرَ مَنَارَ الْأَرْضِ».
'আনহু 'আলায়হি ওয়াসাল্লাম 'আলী কবিয়াল্লা মায়া হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ আমাকে চারটি কালিমা বর্ণনা করেছেন,
১. যে ব্যক্তি আল্লাহ ব্যতীত অন্যের নামে (পীর, আওলিয়াদের দরগায়) যবেহ করে আল্লাহ তা'আলা তাকে লা'নাত করেন;
২. যে ব্যক্তি পিতা-মাতাকে লা'নাত করে আল্লাহ তাকে লা'নাত করেন;
৩. যে ব্যক্তি বিদ'আতীকে সাহায্য করে আল্লাহ তাকে লা'নাত করেন;
৪. যে ব্যক্তি জমিনের সীমানা পরিবর্তন করে আল্লাহ তাকে লা'নাত করেন। (মুসলিম- হাঃ ৪৩-[১৯৭৮])
কোন পীর আওলিয়ার দরগা বা মাজারে পশু যবেহ করা উদ্দেশ্য হল ঐ ক্বরবাসী বা ঐ পীরের মনসন্তুষ্টি অর্জন করা। অপর দিকে পশু যবেহ করার মাধ্যমে মনসন্তুষ্টি আল্লাহকে ছাড়া অন্য কারো সন্তুষ্টি অর্জনই হল শির্ক। মাজারে নিয়ে যবেহ করা মুশরিকদের রীতি, এজন্য সেখানে আল্লাহর নাম নিয়ে যবেহ করলেও সেটা শির্ক, খাওয়া হারাম。

📘 প্রথমে বর্জন পরে গ্রহণ > 📄 সকল ক্বব্‌রবাসী জীবিতদের ডাকে সাড়া দিতে অক্ষম এমনকি নাবী মুহাম্মাদ ﷺ-ও

📄 সকল ক্বব্‌রবাসী জীবিতদের ডাকে সাড়া দিতে অক্ষম এমনকি নাবী মুহাম্মাদ ﷺ-ও


মহান আল্লাহ তা'আলা বলেন :
إِنَّكَ لَا تُسْمِعُ الْمَوْتَى وَلَا تُسْمِعُ الصُّمَّ الدُّعَاءَ إِذَا وَلَّوْا مُدْبِرِينَ وَمَا أَنْتَ بِهَادِي الْعُنى عَنْ ضَلَالَتِهِمْ ﴾
“আপনি মৃতদেরকে শোনাতে পারবেন না এবং বধিরকেও আহ্বান শোনাতে পারবেন না। যখন তারা পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে চলে যায়। আপনি অন্ধদেরকে তাদের পথভ্রষ্টতা থেকে ফিরিয়ে সৎপথে আনতে পারবেন না।” (সূরাহ্ আন্ নাম্ল ২৭ : ৮০-৮১)
وَمَا أَنْتَ بِمُسْمِعٍ مَنْ فِي الْقُبُورِ ﴾
“আপনি ক্ববরে শায়িত ব্যক্তিদেরকে শোনাতে পারবেন না।” (সূরাহ্ আন্ নাম্ল ২৭ : ২২)
মহাহ আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন :
وَمَنْ أَضَلُّ مِمَّنْ يَدْعُو مِنْ دُونِ اللَّهِ مَنْ لَا يَسْتَجِيبُ لَهُ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ وَهُمْ عَنْ دُعَائِهِمْ غَافِلُونَ ﴾
“তার থেকে অধিক পথভ্রষ্ট আর কে হতে পারে যে আল্লাহ ব্যতীত অন্যকে ডাকে, যে ক্বিয়ামাত পর্যন্ত তার ডাকের সাড়া দিবে না। আর তারা তাদের দু'আ (আহ্বান) সম্পর্কে অবগতও নয়।” (সূরাহ্ আল আহাক্বাফ ৪৬ : ৫)
যারা কথা শুনে না তারা কিভাবে অপরকে সাহায্য করবে? অপরকে সান্তনা দিবে, অপরের মাকসুদ পূর্ণ করবে? বরং তারা নিজেরা নিজেদের নিয়েই ব্যস্ত।
এতেই বুঝায় কোন মৃত ক্বর বা মাজারে কিছু চাইলে এটা নির্বুদ্ধিতার পরিচয় ছাড়া অন্য কিছুই নয় বরং মস্তবড় শির্ক।

📘 প্রথমে বর্জন পরে গ্রহণ > 📄 গণকের নিকট যাওয়া, গণকের কথা বিশ্বাস করা শির্ক তার চল্লিশ দিনের সলাত ক্ববুল হয় না

📄 গণকের নিকট যাওয়া, গণকের কথা বিশ্বাস করা শির্ক তার চল্লিশ দিনের সলাত ক্ববুল হয় না


عَنْ صَفِيَّةَ، عَنْ بَعْضِ أَزْوَاجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: مَنْ أَتَى عَرَّافًا فَسَأَلَهُ عَنْ شَيْءٍ، لَمْ تُقْبَلْ لَهُ صَلَاةً أَرْبَعِينَ لَيْلَةً.
সফিয়্যাহ্ রাদিয়াল্লাহু আনহা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রীদের কোন স্ত্রী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, নাবী বলেছেন: যে ব্যক্তি গণকের নিকট আসে এবং তাকে কিছু জিজ্ঞেস করে, তার চল্লিশ রাত্রের 'ইবাদাত কুকূল হয় না। (মুসলিম- ১২৫-[২২৩০])
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ مَنْ أَتَى كَاهِنًا فَصَدَّقَهُ بِمَا يَقُولُ: فَقَدْ كَفَرَ بِمَا أُنْزِلَ عَلَى مُحَمَّدٍ.
আবূ হুরায়রাহ্ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন, নাবী বলেছেন: যে ব্যক্তি গণকের নিকট আসে এবং সে যা বলে তা বিশ্বাস করে সে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর যা নাযিল হয়েছে তা অস্বীকার করেছে। (ইবনু মাজাহ- হাঃ ৬৩৯, দারিমী- হাঃ ১১৭৬ : সহীহ)

📘 প্রথমে বর্জন পরে গ্রহণ > 📄 যাদুকর ও গণকেরা যেভাবে গায়েব জানে বলে দাবী করে থাকে

📄 যাদুকর ও গণকেরা যেভাবে গায়েব জানে বলে দাবী করে থাকে


عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ: مَفَاتِيحُ الغَيْبِ خَمْسٌ لَا يَعْلَمُهَا إِلَّا اللهُ: لَا يَعْلَمُ مَا فِي غَدٍ إِلَّا اللهُ، وَلَا يَعْلَمُ مَا تَغِيضُ الْأَرْحَامُ إِلَّا اللهُ، وَلاَ يَعْلَمُ مَتى يَأْتِي المَطَرُ أَحَدٌ إِلَّا اللهُ، وَلَا تَدْرِي نَفْسٌ بِأَيِّ أَرْضِ تَمُوتُ، وَلَا يَعْلَمُ مَتَى تَقُوْمُ السَّاعَةُ إِلَّا اللهُ.
'আবদুল্লাহ বিন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত হয়েছে যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: 'ইল্মে গায়িবের কুঞ্জি পাঁচটি, যা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কেউ জানে না।
১. আগামীকালের কথা আল্লাহ ব্যতীত কেউ জানে না।
২. মায়ের পেটের সামান্য খবরও আল্লাহ ব্যতীত কেউ জানে না।
৩. কখন বৃষ্টি হবে আল্লাহ ব্যতীত কেউ জানে না।
৪. কোন স্থানে মৃত্যু হবে কেউ জানে না।
৫. ক্বিয়ামাত কখন হবে আল্লাহ ব্যতীত কেউ জানে না। (বুখারী- হাঃ ৪৬৯৭, ৭৩৭৯)
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ : إِذَا قَضَى اللَّهُ الأَمْرَ فِي السَّمَاءِ، ضَرَبَتِ الْمَلَائِكَةُ بِأَجْنِحَتِهَا خُضْعَانًا لِقَوْلِهِ، كَالسّلْسِلَةِ عَلَى صَفْوَانٍ قَالَ عَلِيٌّ: وَقَالَ غَيْرُهُ: صَفْوَانٍ يَنْفُذُهُمْ ذُلِكَ فَإِذَا فُزِعَ عَنْ قُلُوبِهِمْ، قَالُوا: مَاذَا قَالَ رَبُّكُمْ، قَالُوا لِلَّذِي قَالَ: الْحَقَّ، وَهُوَ العَلِيُّ الْكَبِيرُ، فَيَسْمَعُهَا مُسْتَرِقُو السَّمْعِ، وَمُسْتَرِقُو السَّمْعِ هَكَذَا وَاحِدٌ فَوْقَ آخَرَ وَوَصَفَ سُفْيَانُ بِيَدِهِ، وَفَرَّجَ بَيْنَ أَصَابِعِ يَدِهِ اليُمْنَى، نَصَبَهَا بَعْضَهَا فَوْقَ بَعْضٍ فَرُبَّمَا أَدْرَكَ الشَّهَابُ المُسْتَمِعَ قَبْلَ أَنْ يَرْمِيَ بِهَا إِلَى صَاحِبِهِ فَيُحْرِقَهُ، وَرُبَّمَا لَمْ يُدْرِكْهُ حَتَّى يَرْمِيَ بِهَا إِلَى الَّذِي يَلِيْهِ، إِلَى الَّذِي هُوَ أَسْفَلَ مِنْهُ، حَتَّى يُلْقُوْهَا إِلَى الْأَرْضِ وَرُبَّمَا قَالَ سُفْيَانُ: حَتَّى تَنْتَهِيَ إِلَى الْأَرْضِ فَتُلْقَى عَلَى فَمِ السَّاحِرِ، فَيَكْذِبُ مَعَهَا مِائَةَ كَذَّبَةٍ، فَيُصَدِّقُ فَيَقُولُونَ: أَلَمْ يُخْبِرْنَا يَوْمَ كَذَا وَكَذَا، يَكُونُ كَذَا وَكَذَا، فَوَجَدْنَاهُ حَقًّا؟ لِلْكَلِمَةِ الَّتِي سُمِعَتْ مِنَ السَّمَاءِ.
আবূ হুরায়রাহ্ রাদিয়াল্লাহু 'আনহু হতে বর্ণিত। তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আল্লাহ তা'আলা যখন আকাশে কোন কাজের ফায়সালা করেন তখন ফেরেশতাগণ তাদের পাখা বিনয়াবনত হয়ে নাড়াতে থাকে। ডানা নাড়ানোর আওয়াজ যেন ঠিক পাথরের উপর শিকলের আওয়াজ। তাদের অবস্থা এভাবেই চলতে থাকে। যখন তাদের অন্তর থেকে এক সময় ভয়-ভীতি দূর হয়ে যায়, তখন তারা বলে, তোমাদের রব তোমাদেরকে কি বলেছেন? তারা বলে, আল্লাহ সঠিকই বলেছেন। বস্তুতঃ তিনিই হচ্ছেন মহান ও শ্রেষ্ঠ। এমতাবস্থায় চুরি করে কথা শ্রবণকারীরা উক্ত কথা শুনে ফেলে আর এসব কথা চোরেরা এভাবে পরপর অবস্থান করতে থাকে।
হাদীসে রাবী সুফ্য়ান অবস্থা বর্ণনা করতে গিয়ে হাতের তালু দ্বারা এর ধরণ বিশ্লেষণ করেছেন এবং হাতের আঙ্গুলগুলো ফাঁক করে তাদের অবস্থা বুঝিয়েছেন। অতঃপর চুপিসারে শ্রবণকারী কথাগুলো শুনে তার নিজের ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দেয়। শেষ পর্যন্ত এ কথা একজন যাদুকর বা গণকের ভাষায় দুনিয়াতে প্রকাশ পায়। কোন কোন সময় যাদুকর বা গণকের কাছে উক্ত কথা পৌঁছানোর পূর্বে শ্রবণকারীর ওপর আগুনের তীর নিক্ষিপ্ত হয়। আবার কোন কোন সময় আগুনের তীর নিক্ষিপ্ত হওয়ার পূর্বেই সে কথা দুনিয়াতে পৌঁছে যায়। ঐ সত্য কথাটির সাথে শত মিথ্যা কথা যোগ করে মিথ্যার বেশাতি করা হয়। অতঃপর শত মিথ্যার সাথে মিশ্রিত সত্য কথাটি যখন বাস্তবে রূপ লাভ করে তখন বলা হয়, অমুক অমুক দিনে এমন এমন কথাকি তোমাদের বলা হয়নি? এমতাবস্থায় আসমানের শ্রুত কথাটিকেই সত্যায়িত করা হয়। (বুখারী- হাঃ ৪৭০১, ইবনু কাসীর- ৩য় খণ্ড, ৭০৯ পৃষ্ঠা)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00