📄 ক্বব্র-মাযার ও দরগায় দান বা ভোগ দেয়ার মাধ্যমে মুশরিক
عَنْ طَارِقٍ بْنِ شِهَابٍ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ : «دَخَلَ الْجَنَّةَ رَجُلٌ فِي ذُبَابٍ، وَدَخَلَ النَّارَ رَجُلٌ فِي ذُبَابٍ، قَالُوا : وَكَيْفَ ذَلِكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ : مَرَّ رَجُلَانِ عَلَى قَوْمٍ لَّهُمْ صَنَمْ لَا يَجُوزُهُ أَحَدٌ حَتَّى يُقَرِّبَ لَهُ شَيْئًا، فَقَالُوا لأَحَدِهِمَا قَرِّبْ، قَالَ : لَيْسَ عِنْدِي شَيْءٌ أُقَرِّبُ، قَالُوا لَهُ : قَرِّبُ، وَلَوْ ذُبَابًا، فَقَرَّبَ ذُبَابًا فَخَلَّوْا سَبِيلَهُ، فَدَخَلَ النَّارَ، وَقَالُوا لِلْآخَرِ : قَرِّبُ، فَقَالَ : مَا كُنْتُ لِأُقَرِّبَ لِأَحَدٍ شَيْئًا دُونَ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ، فَضَرَبُوا عُنُقَهُ، فَدَخَلَ الْجَنَّةَ».
ত্বারিক বিন শিহাব হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ বলেছেন: একটি মাছির কারণে এক ব্যক্তি জান্নাতে গিয়েছে এবং একটি মাছির কারণেই এক ব্যক্তি জাহান্নামে গিয়েছে। সহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, আল্লাহর রসূল! এটা কিভাবে? রসূলুল্লাহ বললেন, দু'ব্যক্তি এক গোত্রের নিকট দিয়ে যাচ্ছিল, আর তাদের একটি মূর্তি ছিল, সে মূর্তিকে কিছু না দিয়ে
কেউ অতিক্রম করতে পারতো না। অতঃপর তারা (মাযারের খাদেমরা) দু'জনের একজনকে বলল, কিছু দিয়ে যাও। সে বলল, আমার নিকট কিছুই নেই যা আমি পেশ করব। তারা তাকে বলল, একটি মাছি হলেও দিয়ে যাও। অতঃপর সে একটি মাছি দান করল; আর তারা তাকে ছেড়ে দিল। অতঃপর সে জাহান্নামে প্রবেশ করল। তারা (মাযারের খাদেমরা) দ্বিতীয় ব্যক্তিটিকে বলল, কিছু দিয়ে যাও। লোকটি বলল, আমি মহান আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকে কিছু দান করি না। তারা লোকটিকে হত্যা করল। অতঃপর লোকটি জান্নাতে প্রবেশ করল। (মুসনাদে আহমাদ- অধ্যায় : যুদ, হিলইয়াহ্- ১/২০৩ পৃঃ, কিতাবুত্ তাওহীদ- ৫৪ পৃষ্ঠা)
📄 ক্বব্র পাকা বা গম্বুজ তৈরি করা, ক্বব্রে লেখা এবং বাতি জ্বালানো হারাম
عَنْ جَابِرٍ ، قَالَ: «نَهى رَسُولُ اللَّهِ أَنْ يُجَصِّصَ الْقَبْرُ، وَأَنْ يَقْعُدَ عَلَيْهِ، وَأَنْ يُبْنَى عَلَيْهِ».
জাবির হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ ক্বর চুনকাম অর্থাৎ পাকা করতে, ক্বত্রের উপর বসতে এবং ক্বরের উপর গম্বুজ তৈরি করতে নিষেধ করেছেন। (মুসলিম- হাঃ ৯৪-[৯৭০])
عَنْ جَابِرٍ قَالَ: نَهَى النَّبِيُّ أَنْ يُجَصِّصَ القُبُورَ، وَأَنْ يَكْتُبَ عَلَيْهَا.
জাবির হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবীক্বর চুনকাম বা পাকা করতে এবং তাতে লিখতে [নেমপ্লেট বা নামকরণ করতে] নিষেধ করেছেন। (তিরমিযী- হাঃ ১০৫২ : সহীহ)
عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ أُمَّ سَلَمَةَ، ذَكَرَتْ لِرَسُولِ اللَّهِ كَنِيسَةً رَأَتْهَا بِأَرْضِ الْحَبَشَةِ يُقَالُ لَهَا مَارِيَةُ، فَذَكَرَتْ لَهُ مَا رَأَتْ فِيهَا مِنَ الصُّوَرِ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ
«أُولَئِكَ قَوْمٌ إِذَا مَاتَ فِيهِمُ العَبْدُ الصَّالِحُ، أَوِ الرَجُلُ الصَّالِحُ، بَنَوْا عَلَى قَبْرِهِ مَسْجِدًا، وَصَوَّرُوا فِيهِ تِلْكَ الصُّوَرَ، أُولَئِكَ شِرَارُ الخَلْقِ عِنْدَ اللهِ». فَهُؤُلَاءِ جَمَعُوا بَيْنَ فِتْنَتَيْنِ فِتْنَةُ الْقُبُورِ وَفِتْنَةُ الْتَّمَاثِيلِ.
'আয়িশাহ্ (রাদিয়াল্লাহু আনহা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উম্মু সালামাহ্ (রাদিয়াল্লাহু আনহা) রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট একটি গির্জার কথা উল্লেখ করলেন। যা তিনি হাবাসাহ (আবিসিনিয়ায়) দেখেছেন। আর ঐ গির্জার মধ্যে অনেকগুলো ছবি রয়েছে। অতঃপর নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, এরা ঐ সমস্ত লোক যখন তাদের মধ্যে কোন সৎ ব্যক্তি বা সৎ বান্দা মারা যায় তখন তারা তার ক্ববরের উপর মাসজিদ ('ইবাদাতখানা) বানিয়ে নেয় এবং তাতে এ ছবিগুলো তারা তৈরি করে। আল্লাহর নিকট এরাই হলো সবচেয়ে নিকৃষ্ট সৃষ্টি জীব। এরা দু'টি ফিতনার মধ্যে একত্র হয়েছে। ক্বরের ফিতনাহ্ এবং মূর্তির ফিতনাহ্। (বুখারী- হাঃ ৪৩৪, মুসলিম- হাঃ ১৬-[৫২৮])
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: «لَعَنَ رَسُولُ اللهِ ﷺ زَائِرَاتِ الْقُبُورِ، وَالْمُتَّخِذِينَ عَلَيْهَا الْمَسَاجِدَ وَالسُّرُجَ».
'আবদুল্লাহ ইবনু 'আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ক্বর যিয়ারতকারিণী মহিলাদেরকে এবং যারা ক্বব্রকে মাসজিদে পরিণত করে (অর্থাৎ ক্ববরে যারা সলাত আদায় করে) আর যারা ক্ববরে বাতি জ্বালায় তাদেরকে লা'নাত করেছেন। (মুসনাদে আহমাদ- হাঃ ২০৩০, ২৬০৩, ২৯৮৪, ৩১১৮: হাসান লিগয়রহিী)
📄 ওয়াসীদার নামে পীর ধরা শির্ক
এক ধরনের ভ্রান্ত লোকেরা বলে, পীর ধরা ফার্য। যার পীর নেই তার পীর শয়তান। অথচ কুরআন, হাদীস, ফিকাহ্ এমনকি ইমামদের অভিমতসহ কোথাও পীরের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় না। একটি বিষয় ফার্য হতে হলে কুরআন হাদীসের দ্বারাই হতে হবে। নচেৎ নতুন ফার্য
আবিষ্কার করলে আল্লাহর সাথে শরীক করা হবে। কারণ ফার্য করার অধিকার একমাত্র আল্লাহর আছে আর কারো নেই। তারা কুরআনের আয়াতের ওয়াসীলাহ্ (الْوَسِيلَةُ) শব্দকে পীর অর্থ করে। অতএব আমরা ওয়াসীলাহ্ সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করছি।
মহান আল্লাহ তা'আলা বলেন, يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَابْتَغُوا إِلَيْهِ الْوَسِيلَةَ وَجَاهِدُوا فِي سَبِيلِهِ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ
“হে মু'মিনগণ! আল্লাহকে ভয় করো; তার নিকট ওয়াসীলাহ্ অন্বেষণ করো এবং তার পথে জিহাদ করো। যাতে তোমরা সফলকাম হও।” (সূরাহ্ আল মায়িদাহ্ ৫ : ৩৫)
রয়সুল মুফাস্সিরীন 'আবদুল্লাহ ইবনু 'আব্বাস ওয়াসীলাহ্ শব্দের অর্থ করেছেন الْقُرْبَةُ অর্থাৎ নৈকট্য এবং কৃতাদাহ্ বলেন, الْوَسِيلَةُ أَيْ تَقَرَّبُوا إِلَيْهِ بِطَاعَتِهِ وَالْعَمَلُ بِمَا يَرْضِيْهِ.
আল-ওয়াসীলাহ্ অর্থাৎ তোমরা আনুগত্য দ্বারা তার নৈকট্য অর্জন কর এবং এমন 'আমল দ্বারা নৈকট্য অর্জন করো যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন। আর এটাই হল ওয়াসীলাহ্। (তাফসীর ইবনু কাসীর- ২য় খণ্ড, ৭৩ পৃষ্ঠা)
সহীহ হাদীসে ওয়াসীলার কথা বলা হয়েছে যে, ওয়াসীলাহ্ হল জান্নাতের সর্বাধিক নিকটবর্তী এবং সম্মানিত স্থান; যার একমাত্র অধিকারী হবেন মুহাম্মাদ। তাই তো নাবী বলেছেন: عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ ﷺ يَقُولُ: إِذَا سَمِعْتُمُ المُؤَذِّنَ فَقُولُوا مِثْلَ مَا يَقُولُ، ثُمَّ صَلُّوا عَلَى، فَإِنَّهُ مَنْ صَلَّى عَلَى صَلَاةً صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ بِهَا عَشْرًا، ثُمَّ سَلُوا لِي الوَسِيلَةَ فَإِنَّهَا مَنْزِلَةٌ فِي الجَنَّةِ لَا تُنْبَغِي إِلَّا لِعَبْدٍ مِنْ عِبَادِ اللهِ وَأَرْجُو أَنْ أَكُونَ أَنَا هُوَ، وَمَنْ سَأَلَ لِي الوَسِيلَةَ حَلَّتْ عَلَيْهِ الشَّفَاعَةُ.
'আবদুল্লাহ বিন 'আম্র ইবনুল 'আসা হতে বর্ণিত যে, নাবী -কে বলতে শুনেছি, যখন মুয়াযযিন আযান দেয় তখন মুয়াযযিন যা বলে তোমরাও তা বলো। অতঃপর আমার প্রতি সলাত সালাম পাঠ করো। কেননা, যে ব্যক্তি আমার প্রতি একবার সলাত-সালাম পাঠ করে আল্লাহ তার ওপর দশবার অনুগ্রহ করেন। অতঃপর আমার জন্য ওয়াসীলাহ্ চাও।
কেননা, ওয়াসীলাহ্ জান্নাতের একটি (সম্মানিত) স্থান। সেটা আল্লাহর একজন বান্দা ব্যতীত কেউই পাবে না। আমি আশা করি আমিই সে ব্যক্তি হব। যে ব্যক্তি আমার জন্য ওয়াসীলাহ্ চাবে তার জন্য শাফা'আত বৈধ বা ওয়াজিব হয়ে যাবে। (মুসলিম- হাঃ ১১-[৩৮৪], আবূ দাউদ- হাঃ ৫২৩, তিরমিযী- হাঃ ৩৬১৪)
ওয়াসীলাহ্ দু' প্রকার : ১. تَوَسَّلٌ شَرْعِيٌّ বা শারী'আতসম্মত ওয়াসীলাহ্ ২. تَوَسَّلٌ بِدْعِيٌّ বিদ'আতী বা শারী'আতবিরোধী ওয়াসীলাহ্ ।
আল কুরআন ও সহীহ হাদীসের আলোকে আমরা শারী'আতসম্মত ওয়াসীলাকে তিন প্রকারে পাই।
প্রথম প্রকার : التَّوَسُّلُ إِلَى اللهِ بِأَسْمَائِهِ وَصِفَاتِهِ গুণাবলীর দ্বারা তার নিকট ওয়াসীলাহ্ চাওয়া। যেমন মহান আল্লাহ তা'আলা বলেন,
وَلِلَّهِ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى فَادْعُوهُ بِهَا ﴾ “আল্লাহর অনেক সুন্দরতম নাম রয়েছে। অতএব সেগুলোর ওয়াসিলায় তাঁকে আহ্বান করো।” (সূরাহ্ আল আ'রাফ ৭ : ১৮০)
জাবির বিন 'আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত আছে, নাবী ইস্তিখারার দু'আয় বলেছেন,
اللهُمَّ إِنِّي أَسْتَخِيْرُكَ بِعِلْمِكَ وَأَسْتَقْدِرُكَ بِقُدْرَتِكَ، وَأَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ العظيم.
হে আল্লাহ! তোমার জ্ঞানের ওয়াসীলায় আমি তোমার নিকট কল্যাণ চাই এবং তোমার কুদরাত বা ক্ষমতার ওয়াসীলায় তোমার নিকট ক্ষমতা চাই এবং তোমার নিকট তোমার সুমহান অনুগ্রহ চাই। (বুখারী- হাঃ ৬৩৮২, ৭৩৯০; আবু দাউদ- হাঃ ১৫৩৮, তিরমিযী- হাঃ ৪৮০)
দ্বিতীয় প্রকার : بِالْأَعْمَالِ الصَّالِحَةِ التَّوَسُّلُ إِلَى اللهِ 'আমালের মাধ্যমে ওয়াসীলাহ্ চাওয়া।
মহান আল্লাহ আমাদেরকে দু'আ শিক্ষা দিয়ে বলেন, رَبَّنَا إِنَّنَا آمَنَّا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
“হে আমাদের প্রতিপালক! নিশ্চিতরূপে আমরা ঈমান এনেছি, অতএব আমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দাও এবং জাহান্নামের শাস্তি হতে আমাদেরকে রক্ষা করো।” (সূরাহ্ আ-লি 'ইমরান ৩: ১৬)
এখানে ঈমান আনার ওয়াসীলায় ক্ষমা চাওয়া হয়েছে। হাদীসের মধ্যে তিন ব্যক্তি তাদের 'আমালের ওয়াসীলাহ্ চেয়ে বিপদ মুক্ত হওয়ার দু'আ করে ছিলেন আর সে দু'আ কবুল হয়েছিল। হাদীসটি হল,
عَنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ يَقُولُ: انْطَلَقَ ثَلَاثَةُ رَهْطٍ مِمَّنْ كَانَ قَبْلَكُمْ حَتَّى أَوَوْا الْمَبِيْتَ إِلَى غَارٍ، فَدَخَلُوهُ فَالْحَدَرَتْ صَخْرَةٌ مِّنَ الجَبَلِ، فَسَدَّتْ عَلَيْهِمُ الغَارُ، فَقَالُوا: إِنَّهُ لَا يُنْجِيْكُمْ مِنْ هُذِهِ الصَّخْرَةِ إِلَّا أَنْ تَدْعُوا اللَّهَ بِصَالِحٍ أَعْمَالِكُمْ، فَقَالَ رَجُلٌ مِّنْهُمْ اللَّهُمَّ كَانَ لِي أَبَوَانِ شَيْخَانِ كَبِيرَانِ، وَكُنْتُ لَا أَغْبِقُ قَبْلَهُمَا أَهْلًا، وَلَا مَالًا فَنَأَى بِي طَلَبَ شَيْءٌ يَوْمًا، فَلَمْ أُرِحْ عَلَيْهِمَا حَتَّى نَامَا، فَحَلَبْتُ لَهُمَا غَبُوْقَهُمَا، فَوَجَدْتُهُمَا نَائِمَيْنِ وَكَرِهْتُ أَنْ أَغْبِقَ قَبْلَهُمَا أَهْلًا أَوْ مَالًا، فَلَبِثْتُ وَالقَدَحُ عَلَى يَدَى، أَنْتَظِرُ اسْتِيقَاظَهُمَا حَتَّى بَرِقَ الفَجْرُ، فَاسْتَيْقَظَا، فَشَرِبَا غَبُوقَهُمَا اللَّهُمَّ إِنْ كُنْتُ فَعَلْتُ
ذُلِكَ ابْتِغَاءَ وَجْهِكَ، فَفَرِّجْ عَنَّا مَا نَحْنُ فِيهِ مِنْ هَذِهِ الصَّخْرَةِ، فَانْفَرَجَتْ شَيْئًا لَا يَسْتَطِيعُونَ الخُرُوجَ ، قَالَ النَّبِيُّ : وَقَالَ الْآخَرُ: اللَّهُمَّ كَانَتْ لِي بِنْتُ عَمَ، كَانَتْ أَحَبَّ النَّاسِ إِلَى، فَأَرَدْتُهَا عَنْ نَفْسِهَا، فَامْتَنَعَتْ مِنِّي حَتَّى أَلَمَّتْ بِهَا سَنَةً مِنَ السِّنِينَ، فَجَاءَتْنِي، فَأَعْطَيْتُهَا عِشْرِينَ وَمِائَةَ دِينَارٍ عَلَى أَنْ تُخَلَّى بَيْنِي وَبَيْنَ نَفْسِهَا، فَفَعَلَتْ حَتَّى إِذَا قَدَّرْتُ عَلَيْهَا، قَالَتْ: لَا أُحِلُّ لَكَ أَنْ تَفُضَّ الخَاتَمَ إِلَّا بِحَقِّهِ، فَتَحَرَّجْتُ مِنَ الوُقُوعِ عَلَيْهَا، فَانْصَرَفْتُ عَنْهَا وَهِيَ أَحَبُّ النَّاسِ إِلَيَّ، وَتَرَكْتُ الذَّهَبَ الَّذِي أَعْطَيْتُهَا، اَللَّهُمَّ إِنْ كُنْتُ ذُلِكَ فَعَلْتُ ابْتِغَاءَ وَجْهِكَ، فَاخْرُجْ عَنَّا مَا نَحْنُ فِيهِ، فَانْفَرَجَتِ الصَّخْرَةُ غَيْرَ أَنَّهُمْ لَا يَسْتَطِيعُونَ الخُرُوجَ مِنْهَا، قَالَ وَقَالَ الثَّالِثُ : اللَّهُمَّ إِنِّي اسْتَأْجَرْتُ أُجَرَاءَ، فَأَعْطَيْتُهُمْ أَجْرَهُمْ غَيْرَ رَجُلٍ وَاحِدٍ تَرَكَ الَّذِي لَهُ وَذَهَبَ، فَثَمَّرْتُ أَجْرَهُ حَتَّى كَثُرَتْ مِنْهُ الْأَمْوَالُ، فَجَاءَنِي بَعْدَ حِينٍ فَقَالَ: يَا عَبْدَ اللهِ أَدِ إِلَى أَجْرِى، فَقُلْتُ لَهُ: كُلُّ مَا تَرَى مِنْ أَجْرِكَ مِنَ الْإِبِلِ وَالبَقَرِ وَالغَنَمِ وَالرَّقِيقِ، فَقَالَ: يَا عَبْدَ اللهِ لَا تَسْتَهْزِئُ بِي، فَقُلْتُ: إِنِّي لَا أَسْتَهْزِئُ بِكَ، فَأَخَذَهُ كُلَّهُ، فَاسْتَاقَهُ، فَلَمْ يَتْرُكُ مِنْهُ شَيْئًا، اللَّهُمَّ فَإِنْ كُنْتُ فَعَلْتُ ذلِكَ ابْتِغَاءَ وَجْهِكَ، فَافْرُجْ عَنَّا مَا نَحْنُ فِيهِ، فَانْفَرَجَتِ الصَّخْرَةُ، فَخَرَجُوا يَمْشُونَ.
'আবদুল্লাহ বিন উমার (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, তোমাদের পূর্ববর্তীদের মধ্যে তিন ব্যক্তি (পথ) চলতে চলতে রাত কাটানোর জন্য একটি গুহায় প্রবেশ করে আশ্রয় নিল। হঠাৎ পাহাড় থেকে এখখণ্ড পাথর পড়ে গুহার মুখ বন্ধ হয়ে গেল। তখন তারা পরস্পর বলল, তোমাদের সৎ কার্যাবলীর ওয়াসীলা দিয়ে আল্লাহকে ডাকা, তাছাড়া আর কোন কিছুই এ পাথর থেকে তোমাদেরকে মুক্ত করতে পারবে না। তখন
তাদের একজন বলতে লাগল, হে আল্লাহ! আমার বাবা-মা খুব বৃদ্ধ ছিলেন। আমি কখনো তাদের আগে আমার পরিবার-পরিজনকে কিংবা দাস-দাসীকে দুধ পান করাতাম না। একদিন কোন একটি জিনিসের খুঁজে আমাকে অনেক দূরে চলে যেতে হয়। কাজেই তাদের ঘুমিয়ে পড়ার পূর্বে আমি (পশুপাল) নিয়ে ফিরতে পারলাম না। আমি (তাড়াতাড়ি) তাদের জন্য দুধ দোহন করে নিয়ে এলাম। কিন্তু তাদেরকে নিদ্রিত পেলাম। আর তাদের আগে আমার পরিবার-পরিজন ও দাস-দাসীকে দুধ পান করতে দেয়াটা আমি অপছন্দ করলাম। তাই আমি তাদের জেগে উঠার অপেক্ষায় পেয়ালাটি হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকলাম। এভাবে ভোর হল। তখন তারা জাগলেন ও দুধ পান করলেন। হে আল্লাহ! যদি আমি তোমার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশে এ কাজ করে থাকি, তবে এ পাথরের কারণে আমরা যে বিপদে পরেছি তা আমাদের থেকে দূর করে দাও। তখন পাথরটি সামান্য সরে গেল। কিন্তু তাতে তারা বের হতে পারল না। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তারপর দ্বিতীয় ব্যক্তিটি বলল, হে আল্লাহ! আমার এক চাচাতো বোন ছিল। লোকেদের থেকে সে আমার কাছে অধিক প্রিয় ছিল। আমি তাকে সম্ভোগ করতে চাইলাম। কিন্তু সে আমাকে প্রত্যাখ্যান করল। অবশেষে এক বছর দুর্ভিক্ষ দেখা দিলে সে (খাদ্যাভাবে সাহায্যের জন্য) আমার নিকট এল। আমি তাকে একশ বিশ দিনার (স্বর্ণ মুদ্রা) এ শর্তে দিলাম যে, সে আমার সাথে নির্জন-বাস করবে। সে তা মঞ্জুর করল। আমি যখন সম্পূর্ণ সুযোগ লাভ করলাম, তখন সে আমাকে বলল, আমি তোমাকে অবৈধভাবে মোহর ভাঙ্গার অনুমতি দিতে পারি না। (অর্থাৎ অন্যায়ভাবে তুমি আমার সতীচ্ছেদ করতে পার না)। ফলে মানুষের মধ্যে সে আমার সর্বাধিক প্রিয় হওয়া সত্ত্বেও আমি তার সাথে সহবাস করা পাপ মনে করে, তার কাছ থেকে সরে পারলাম এবং আমি তাকে যে স্বর্ণ মুদ্রা দিয়েছিলাম তা ছেড়ে দিলাম। হে আল্লাহ! আমি যদি এটা তোমার সন্তুষ্টি লাভের জন্য করে থাকি, তবে (তার ওয়াসীলায়) আমরা যে বিপদে পড়েছি তা দূর কর। তখন ঐ পাথরটি (আরো একটু) সরে গেল। কিন্তু তাতে তারা বের হতে পারল না।
'আলায়হি পারছিল না। নাবী বললেন, তারপর তৃতীয় ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহ! আমি কয়েকজন মযুর নিযুক্ত করেছিলাম এবং আমি তাদেরকে তাদের মযুরীও দিয়েছিলাম।
কিন্তু একজন লোক তার প্রাপ্য না নিয়ে চলে গেল। আমি তার মজুরীর টাকা কাজে খাটালাম। তাতে প্রচুর ধন-সম্পদ অর্জিত হল। কিছুকাল পর সে আমার নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর বান্দা! আমাকে আমার মজুরী দিয়ে দাও। আমি তাকে বললাম, এসব উট, গরু, ছাগল ও গোলাম যা তুমি দেখতে পাচ্ছ তার সবটাই তোমার মজুরী। এ কথা শুনে সে বলল, হে আল্লাহর বান্দা! তুমি আমার সাথে ঠাট্টা করো না। তখন আমি বললাম, আমি তোমার সাথে মোটেই ঠাট্টা করছি না। তখন সে সবই গ্রহণ করল এবং হাকিয়ে নিয়ে গেল। তার থেকে একটাও ছেড়ে গেল না। হে আল্লাহ! আমি যদি তোমার সন্তুষ্টি লাভের জন্য এটা করে থাকি। তবে তার ওয়াসীলায় যে বিপদে আমরা পড়েছি তা দূর কর। তখন ঐ পাথরটি (সম্পূর্ণ) সরে গেল এবং তারা বেরিয়ে এসে পথ চলতে লাগল।
(বুখারী- হাঃ ২২৭২)
الرَّجُلِ الصَّالِحِ : জীবিত সৎ ব্যক্তির দু'আর মাধ্যমে ওয়াসীলাহ্ গ্রহণ।
عَنْ أَنَسٍ ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ الخَطَّابِ ، كَانَ إِذَا قَحَطُوا اِسْتَسْقَى الله بِالْعَبَّاسِ بْنِ عَبْدِ المُطَّلِبِ اللهِ فَقَالَ: اللَّهُمَّ إِنَّا كُنَّا نَتَوَسَّلُ إِلَيْكَ بِنَبِيِّنَا : فَتُسْقِينَا، وَإِنَّا نَتَوَسَّلُ إِلَيْكَ بِعَمِّ نَبِيِّنَا فَاسْقِنَا قَالَ: فَيُسْقَوْنَ.
'আনহু আনাস বিন মালিক হতে বর্ণিত যে, 'উমার ইবনুল খত্ত্বাব
'আনহু অনাবৃষ্টির সময়ে 'আব্বাস বিন 'আবদুল মুত্তালিব-এর দু'আর ওয়াসীলাহ্ দ্বারা বৃষ্টি চাইতেন এবং বলতেন, হে আল্লাহ! আমরা পূর্বে আপনার নিকট নাবী -এর দু'আর ওয়াসীলাহ্ বানাতাম আপনি আমাদেরকে বৃষ্টি বর্ষণ করে থাকতেন। এখন আমরা তোমার নিকটে নাবী
-এর চাচার দু'আর ওয়াসীলাহ্ করলাম আপনি বৃষ্টি দিন। অতঃপর বৃষ্টি বর্ষণ হতো। (বুখারী- হাঃ ১০১০, ৩৭১০)
হাদীসের মধ্যে যে সৎ ব্যক্তিদের ওয়াসীলার কথা পাওয়া যায় তা সবই দু'আর ব্যাপারে। আর তা হলো জীবিত ব্যক্তির মাধ্যমে।
📄 বিদ্‘আতী ওয়াসীরাহ্
যেমন- পীর ধরা, ক্ববরের ব্যক্তির নিকট ওয়াসীলাহ্ বানানো ইত্যাদি নাবী-এর যুগে ছিল না। এর কোন অস্তিত্ব কুরআন হাদীসে নেই। বিধায় এটা বিদ্'আত। আর বিদ্'আতীর ফার্য, নাফ্ল কোন 'আমল আল্লাহর দরবারে কবুল হয় না। যেমন নাবী বলেন,
عَنْ عَلِيٌّ قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ لا مَنْ أَحْدَثَ حَدَثًا أَوْ آوَى مُحْدِثًا، فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللهِ وَالمَلَائِكَةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ، لَا يُقْبَلُ مِنْهُ عَدْلٌ وَلَا صَرْفٌ .
'আলী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ বলেছেন: যে ব্যক্তি নতুন (বিদ্'আত) কাজ করল অথবা কোন বিদ'আতীকে সাহায্য করল। তার ওপর আল্লাহর লা'নাত, ফেরেশতা ও সমস্ত মানুষের লা'নাত অপরিহার্য হয়ে যায়। তার কোন ফার্য ও নফল 'ইবাদাত ক্ববূল করা হবে না। (বুখারী- হাঃ ৩১৭৯, মুসলিম- হাঃ ৪৬৯-[১৩৭১], আবূ দাউদ- হাঃ ২০৩৪)
এরূপভাবে যদি পীর ধরাকে ওয়াসীলাহ্ ধরার অর্থ করে ফার্য দাবী করা হয় তাহলে তা শিক্ক হবে। কারণ ফার্য করার অধিকার কেবলমাত্র আল্লাহরই অধিকার। কেউ ফার্যের দাবী করলে যা আল্লাহ করেননি তার অংশীদারিত্ব করা হবে। কেউ যদি বলে পীর সাহেব আখিরাতের উকিল হবে এবং ওকালতী করে মুরিদদের জাহান্নাম থেকে বাঁচাবেন, তাহলে এরূপ দাবী সম্পূর্ণ মিথ্যা হবে। কেননা মহান আল্লাহ তা'আলা বলেন,
قُلْ إِنِّي لَا أَمْلِكُ لَكُمْ ضَرًّا وَلَا رَشَدًا قُلْ إِنِّي لَنْ يُجِيرَنِي مِنَ اللَّهِ أَحَدٌ وَلَنْ أَجِدَ مِنْ دُونِهِ مُلْتَحَدًا )
“হে নাবী! আপনি বলে দিন যে, আমি তোমাদের কোন অপকার এবং উপকার বা সুপথে আনয়ন করার কোনই ক্ষমতা রাখি না। হে নাবী! আপনি বলে দিন কোন ব্যক্তিই আমাকে আল্লাহর হাত থেকে রক্ষা করতে পারবে না এবং আমি তার নিকট ছাড়া অন্য কোন আশ্রয় স্থানও পাব না।” (সূরাহ্ জিন্ ৭২: ২১-২২)
আর নাবী -ও হাদীসের ভাষায় তার মেয়ে ফাত্বিমাহ্ -কে লক্ষ্য করে বলেন, يَا فَاطِمَةُ أَنْقِذِي نَفْسَكِ مِنَ النَّارِ سَلِينِي مَا شِئْتِ مِنْ مَّالِي لَا أُغْنِي عَنْكِ مِنَ اللهِ شَيْئًا.
হে ফাত্বিমাহ্! তোমার প্রাণকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা কর এবং আমার নিকট আমার মাল-সম্পদ হতে যত প্রয়োজন চেয়ে লও। আল্লাহর নিকট তোমার জন্য আমি কোন কাজেই আসব না। (বুখারী- হাঃ ৪৭৭১, মুসলিম- হাঃ ৩৪৮-[২০৪])
উপরোক্ত আলোচনা হতে বুঝা গেল পীরদের ওকালতীর দাবী সম্পূর্ণ মিথ্যা। কেননা, ক্বিয়ামাতের দিবসে নাবী -ই কোন কিছু করার ক্ষমতা রাখেন না। তিনি নিজের মেয়েকে পর্যন্ত কোন উপকার করতে পারবেন না। অবশ্যই আল্লাহ তাকে সুপারিশ করার ক্ষমতা দিবেন। কিন্তু পীরদের নিজের অবস্থাই নাজুক থাকবে। তাদের কিছুই করার থাকবে না। আল্লাহ আমাদের সকল প্রকার ফিতনা থেকে রক্ষা করুন। আমীন!!
যাকে ইচ্ছা তাকে সুপারিশ করার ক্ষমতা কাউকে দিবেন না বরং আল্লাহ যার প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে যার জন্য অনুমতি দিবেন কেবল তিনিই তাকে সুপারিশ করতে পারবেন।
এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ বলেন : مَنْ ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ )
“কে সেই ব্যক্তি যে তাঁর অনুমতি ছাড়া তাঁর নিকট সুপারিশ করতে পারে?” (সূরাহ্ আল বাক্বারাহ্ ২ : ২৫৫)