📘 প্রথমে বর্জন পরে গ্রহণ 📄 জাদু করার মাধ্যমে মুশরিক

📄 জাদু করার মাধ্যমে মুশরিক


যাদু বিদ্যা শিখে শয়তান মানুষকে ব্যবহার করে তার সাথে সম্পর্ক স্থাপন করার জন্য। কোন কোন সময় শয়তান যেসব কাজ পছন্দ করে সেসব কাজ সম্পাদন করে তার নৈকট্য লাভ করতে হয়। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে শয়তান যেন যাদুকরের কাজ করে দেয় এবং তার উদ্দেশ্য হাসিলে সচেষ্ট হয়। মহান আল্লাহ বলেন,
وَلَكِنَّ الشَّيْطِينَ كَفَرُوا يُعَلِّمُونَ النَّاسَ السِّحْرَ
“কিন্তু বহু সংখ্যক শয়তান কুফ্রী করেছিল এবং তারা মানুষকে যাদুবিদ্যা শিক্ষা দিত।” (সূরাহ্ আল বাক্বারাহ্ ২: ১০২)
আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন, وَلَقَدْ عَلِمُوا لَمَنِ اشْتَرَاهُ مَا لَهُ فِي الْآخِرَةِ مِنْ خَلَاقٍ )
“তারা ভালো করেই জানে যে, যে কেউ যাদু অবলম্বন করে তার জন্য পরকালে কোন অংশ নেই।” (সূরাহ্ আল বাক্বারাহ্ ২ : ১০২)
মহানাবী বলেছেন, তোমরা সাতটি ধ্বংসাত্মক বস্তু হতে বেঁচে থকবে তার দ্বিতীয়টি হচ্ছে যাদু।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، عَنِ النَّبِي قَالَ: «اجْتَنِبُوا السَّبْعَ الْمُوْبِقَاتِ» قَالُوا: يَا رَسُولَ اللهِ وَمَا هُنَّ ؟ قَالَ: الشَّرْكُ بِاللهِ، وَالسِّحْرُ وَقَتْلُ النَّفْسِ الَّتِي حَرَّمَ اللهُ إِلَّا بِالحَقِّ، وَأَكُلُ الرِّبَا، وَأَكُلُ مَالَ الْيَتِيمِ، وَالتَّوَلَّى يَوْمَ الزَّحْفِ، وَقَدْفُ المُحْصَنَاتِ الْمُؤْمِنَاتِ الغَافِلَاتِ.
আবূ হুরায়রাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি নাবী হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: তোমরা সাতটি ধ্বংসাত্মক বস্তু হতে বেঁচে থাকবে। সহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রসূল! সেগুলো কি? তিনি বললেন, আল্লাহর সাথে শিক্ করা, যাদু, অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করা, সুদ খাওয়া, ইয়াতীমের মাল ভক্ষণ করা, যুদ্ধ ক্ষেত্র থেকে পালায়ন করা, সতী সাধ্বী নারীর ওপর অপবাদ দেয়া। (বুখারী- হাঃ ২৭৬৬, ৬৮৫৭; মিশকাত- হাঃ ৫২)
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ لا مَنْ عَقَدَ عُقْدَةً، ثُمَّ نَفَثَ فِيهَا فَقَدْ سَحَرَ، وَمَنْ سَحَرَ فَقَدْ أَشْرَكَ.
আবূ হুরায়রাহ্ম হতে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ বলেছেন: যে ব্যক্তি গিরা দিল, অতঃপর তাতে ফুঁক দিল, সে যেন যাদুই করল। আর যে যাদু করল অবশ্যই সে শির্ক করল। (নাসায়ী- হাঃ ৪০৭৯)

📘 প্রথমে বর্জন পরে গ্রহণ 📄 প্রেম-প্রীতি, পরস্পর মহব্বত ভালোবাসা সৃষ্টির উদ্দেশে কোন প্রকার তদবীর ব্যবহার করা শির্ক

📄 প্রেম-প্রীতি, পরস্পর মহব্বত ভালোবাসা সৃষ্টির উদ্দেশে কোন প্রকার তদবীর ব্যবহার করা শির্ক


'আবদুল্লাহ ইবনে মাস্'ঊদ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রসূল-কে বলতে শুনেছি।
إِنَّ الرُّقْى، وَالتَّمَائِمَ، وَالتَّوَلَّةَ شِرْكٌ».
অর্থাৎ- নিশ্চয় ঝাড়ফুঁক, তাবীয ও পরস্পর প্রেম-ভালোবাসা সৃষ্টির জন্য কোন কিছু তৈরি করা। ব্যবহার করা শির্ক। (মুসনাদ আহমাদ- হাঃ ৩৬১৫, ইবনু মাজাহ- হাঃ ৩৫৩০, আবূ দাউদ- হাঃ ৩৮৮৩ : সহীহ)
)التوَلَةُ( “তিওয়ালাহ্”র ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে যে, নিশ্চয় এটি এমন জিনিস যা তারা তৈরি করে এবং ধারণা করে থাকে যে, এটা দ্বারা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পরস্পরের ভালোবাসা সৃষ্টি করে- এই বিশ্বাসে লোকেরা ব্যবহার করে।
অতএব এটা যাদুর একটা প্রকার। সাধারণ লোকে একে মন ফিরানো ও মন গলিয়ে দেয়া নামে অভিহিত করে থাকে। প্রকৃতপক্ষে তা তাবীয-কবজের অন্তর্ভুক্ত। কেননা তা বিশেষ পন্থায় তৈরি করে তাতে ঝাড়ফুঁক বা যাদুকরদের পন্থায়ই ব্যবহার করা হয়। যার ফলে তাদের মনের ধারণা এটির কারণেই স্বামী-স্ত্রী পরস্পরকে ভালোবাসতে থাকে। তাই এটি এক ধরনের যাদু, আর যাদু হল আল্লাহর সাথে শিক্ ও কুফ্রী। (কিতাবুত্ তাওহীদ ৪০ পৃষ্ঠা)

📘 প্রথমে বর্জন পরে গ্রহণ 📄 বিপদ আপদ ও রোগ মুক্তির উদ্দেশে তাবীয, কবজ, তাগা ও বালা ইত্যাদি ব্যবহার করা শির্ক

📄 বিপদ আপদ ও রোগ মুক্তির উদ্দেশে তাবীয, কবজ, তাগা ও বালা ইত্যাদি ব্যবহার করা শির্ক


মহান আল্লাহ রাব্বুল 'আলামীন বলেন : قُلْ أَفَرَأَيْتُمْ مَا تَدْعُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ إِنْ أَرَادَنِيَ اللَّهُ بِضُرٍ هَلْ هُنَّ كَاشِفَاتُ ضُرِهِ أَوْ أَرَادَنِي بِرَحْمَةٍ هَلْ هُنَّ مُمْسِكَاتُ رَحْمَتِهِ قُلْ حَسْبِيَ اللَّهُ عَلَيْهِ يَتَوَكَّلُ الْمُتَوَكَّلُونَ
“বলুন! তোমরা ভেবে দেখেছ কি, যদি আল্লাহ আমার অনিষ্ট করতে চান তবে তোমরা আল্লাহ ব্যতীত যাদেরকে ডাক, তারা কি সে অনিষ্ট দূর করতে পারবে? অথবা তিনি আমার প্রতি অনুগ্রহ করতে চান তাহলে কি তারা সে অনুগ্রহ প্রতিরোধ করতে পারবে? বলুন আমার পক্ষে আল্লাহই যথেষ্ট। নির্ভরকারীরা তারই ওপর নির্ভর করে।” (সূরাহ্ আয যুমার ৩৯ : ৩৮)
وَإِنْ يَمْسَسْكَ اللَّهُ بِضُرٍ فَلَا كَاشِفَ لَهُ إِلَّا هُوَ وَإِنْ يُرِدْكَ بِخَيْرٍ فَلَا رَادَّ لِفَضْلِهِ يُصِيبُ بِهِ مَنْ يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ وَهُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ
“আল্লাহ যদি তোমার ওপর কোন কষ্ট দিতে চান তাহলে কেউ তা দূর করতে পারবে না তিনি ছাড়া। পক্ষান্তরে যদি তিনি তোমার কল্যাণ করতে চান তবে তার অনুগ্রহকে কেউ বাধা দিতে পারবে না।” (সূরাহ্ ইউনুস ১০ : ১০৭)
এ ব্যাপারে নাবী -এর কয়েকটি হাদীস। রসূলুল্লাহ -এরশাদ করেন : مَنْ تَعَلَّقَ تَمِيمَةً فَقَدْ أَشْرَكَ যে ব্যক্তি তাবীয লটকালো সে শির্ক করল। (মুসনাদে আহমাদ হাঃ ১৭৪২২, ৪/১৫৬ পৃষ্ঠা)
عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ الْجُهَنِي أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ أَقْبَلَ إِلَيْهِ رَهْط، فَبَايَعَ تِسْعَةً وَأَمْسَكَ عَنْ وَاحِدٍ، فَقَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، بَايَعْتَ تِسْعَةً وَتَرَكْتَ هُذَا؟ قَالَ: «إِنَّ عَلَيْهِ تَمِيمَةً فَأَدْخَلَ يَدَهُ فَقَطَعَهَا، فَبَايَعَهُ، وَقَالَ: «مَنْ تَعَلَّقَ تَمِيمَةً فَقَدْ أَشْرَكَ».
'উকবাহ্ বিন 'আমির আল জুহানী হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ -এর নিকট একটি দল আসলে তিনি তাদের থেকে ন'জনের বায়'আত গ্রহণ করলেন এবং একজনের বায়'আত গ্রহণ করলেন না। সহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রসূল ! আপনি ন'জনের বায়'আত নিলেন আর
একজনের বায়'আত নেয়া থেকে বিরত থাকলেন? নাবী 'আলায়হি ওয়াসাল্লাম বললেন, তার নিকট তাবীয রয়েছে। অতঃপর লোকটি হাত ঢুকিয়ে তাবীযটি ছিঁড়ে ফেলে দিল। তারপর নাবী 'আলায়হি ওয়াসাল্লাম তার নিকট থেকে বায়'আত নিলেন এবং বললেন, যে ব্যক্তি তাবীয লটকায় সে শির্ক করল। (মুসনাদে আহমাদ ১৭৪২২)
عَنْ حَذَيْفَةَ أَنَّهُ رَأَى رَجُلًا فِي يَدِهِ خَيْظُ مِنَ الْحُتَّى فَقَطَعَهُ وَتَلَا قَوْلَهُ «وَمَا يُؤْمِنُ أَكْثَرُهُمْ بِاللهِ إِلَّا وَهُمْ مُشْرِكُونَ».
'আনহু হুযায়ফাহ্ হতে বর্ণিত যে, তিনি একজন লোককে দেখলেন তার হাতে জ্বরের কারণে তাগা রয়েছে। অতঃপর তিনি তা কেটে ফেললেন বা খুলে ফেললেন, এবং আল্লাহর এ আয়াত পাঠ করলেন, তাদের অধিকাংশ আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে এবং শির্কও করে থাকে। (ইবনু আবূ হাতিম, কিতাবুত্ তাওহীদ ৩৮ পৃষ্ঠা)
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ ابْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «إِنَّ الرُّقْى، وَالتَّمَائِمَ، وَالتَّوَلَةَ شِرْكٌ».
'আবদুল্লাহ বিন মাস্'উদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি 'আনহু রসূলুল্লাহ 'আলায়হি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, ঝাড়-ফুঁক, তাবীয ও যাদুটোনা করা শির্ক। (আবূ দাউদ- হাঃ ৩৮৮৩, মুসনাদ আহমাদ- হাঃ ৩৬১৫: সহীহ)
যেমন এর মধ্যে ইবনে মাস্'ঊদ 'আনহু রয়েছেন, তিনি বলতেন 'আবদুল্লাহ ইবনে মাস্'ঊদ-এর পরিবার সমস্ত শির্ক হতে মুক্ত।
যারা বলেন, কুরআনের কোন অংশ ঝুলালে সেটা শির্কের অন্তর্ভুক্ত নয়, তাদের স্পষ্ট কোন দলীল নেই বরং এটা যদি জায়েয হত তাহলে রসূলুল্লাহ 'আলায়হি ওয়াসাল্লাম “ مَنْ تَعَلَّقَ تَمِيمَةً فَقَدْ أَشْرَكَ শির্ক করল” একথা না বলে বরং বলতেন- كُلُّ تَمِيمَةٍ شِرْكَ إِلَّا الْقُرْآنَ অর্থাৎ- “সমস্ত প্রকার তাবীযই শির্ক একমাত্র কুরআন ব্যতীত”। তিনি বা إثْتِئْنَا বাচক শব্দ দ্বারা পৃথক করে যেতেন। যেমন- মাসজিদের ব্যাপারে
বলে গেছেন- كُلُّ أَرْضِ مَسْجِدٌ إِلَّا الْمَقْبَرَة অর্থাৎ “সমস্ত জমিনই মাসজিদ একমাত্র কবরস্থান ব্যতীত”। রসূল বলেন- إِنِّي أُتِيْتُ جَوَامِعُ الْكَلَمِ “আমি অল্প কথায় অধিক ভাব প্রকাশের জন্য প্রেরিত হয়েছি”- (মুত্তাফাকুন 'আলায়হি)। সুতরাং তাবীযের ব্যাপারেও রসূল অল্প কথায় تَعَلَّقَ تَمِيمَةً দ্বারা সমস্ত তাবীযকেই শিরকের অন্তর্ভুক্ত করে গেছেন। 'আলায়হি ওয়াসাল্লাম
দ্বিতীয়তঃ তাবীয লটকায়ে রোগ থেকে মুক্তি পেলে তখন বলে থাকে অমুকের তাবীযের ওয়াসীলায় আমার রোগ ভালো হয়েছে। অথচ তিন প্রকার ওয়াসীলা ছাড়া সমস্ত প্রকার ওয়াসীলাই শিরিকের অন্তর্ভুক্ত। সেগুলো হলো-
(১) মহান আল্লাহর নাম ও তার গুণবাচক নামের ওয়াসীলা, (২) নেক 'আমল বা সৎ কাজের ওয়াসীলা এবং (৩) সৎ বা নেক্কার, জীবিত ব্যক্তির ওয়াসীলা। (বুখারী, মুসলিম)
তাবীয উক্ত তিন প্রকার ওয়াসীলার বাইরে। তাহলে কোন ব্যক্তি যখন বলবে “তাবীযের ওয়াসীলায় রোগ ভালো হয়েছে” সে কথা হবে ব্যক্তির শির্কী কথা, আর এ কথা সে বলবেই। তাই সে তাবীয কুরআন দিয়ে হোক, আর অন্য কিছু দিয়ে হোক না কেন। তাওহীদ বিশারদগণ কুরআন দিয়ে তাবীয লটকানোকে ছোট শির্ক গণ্য করেছেন। দেখা যায় ছোট শির্ক অধিক হারে করতে করতে সেটা এক সময় বড় শিরিকে পরিণত হয়ে যায়। আর যারা তাবীয লটকায়, তারা সর্বদাই এটাকে ধারণ করে থাকে। এমনকি অনেকে এ অবস্থায় বিনা তাওবায় মৃত্যু পর্যন্ত পৌঁছে থাকে। সুতরাং এ ধরনের শির্ক থেকে বেঁচে থাকাই উত্তম।
হ্যাঁ, কুরআন দিয়ে শুধু ঝাড়ফুঁক জায়েয যা শারী'আতসম্মত। স্বয়ং রসূল-কেও যাদু করা হলে সূরাহ্ আন্ নাস ও সূরাহ্ আল ফালাক্ব দিয়ে ঝাড়ফুঁকের শিক্ষা আল্লাহই তাকে দিয়েছিলেন। কিন্তু লটকানো, বাঁধার ও ঝুলানোর কোন কিছুই তাকে শিক্ষা দেননি। সুতরাং “তাবীয লটকানো শিক্” এটা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই। 'আলায়হি ওয়াসাল্লাম
'উক্ববাহ্ বিন 'আমির থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ তাবীয ঝুলানো সম্পর্কে বলেন : 'আনহু 'আলায়হি ওয়াসাল্লাম
مَنْ تَعَلَّقَ تَمِيمَةً فَلَا أَتَمَّ اللهُ لَهُ. وَمَنْ تَعَلَّقَ وَدَعَةً فَلَا وَدَعَ اللهُ لَهُ.
যে ব্যক্তি তাবীয ঝুলাবে আল্লাহ তার সেটি পূরণ করবেন না। আর যে ঝিনুক ঝুলাবে আল্লাহ তাকে স্বস্তিতে রাখবেন না। (মুসনাদ আহমাদ- হাঃ ১৭৪০৪: হাসান)
আবূ বাশীর আল আনসারী থেকে সহীহ সনদে বর্ণিত, আনহু
أَنَّهُ قَالَ: وَالنَّاسُ فِي مَبِيتِهِمْ، فَأَرْسَلَ رَسُولُ اللَّهِ ، رَسُولًا أَنْ: «لَا يَبْقَيَنَّ 'আলায়হি ওয়াসাল্লাম
فِي رَقَبَةِ بَعِيرٍ قِلَادَةٌ مِنْ وَتَرٍ، أَوْ قِلَادَةٌ إِلَّا قُطِعَتْ».
তিনি কোন এক সফরে আল্লাহর রসূল-এর সঙ্গে ছিলেন। তিনি একজন দূতকে এ কথা বলে প্রেরণ করেন যে, কোন উটের গলায় দড়ির মালা অথবা যে কোন মালা দেখলেই তা যেন কেটে ফেলা হয়। (বুখারী- হাঃ ৩০০৫)
'আবদুল্লাহ বিন 'উক্বাইস থেকে মারফু'ভাবে বর্ণিত-
مَنْ تَعَلَّقَ شَيْئًا وُكِّلَ إِلَيْهِ.
অর্থাৎ- যে ব্যক্তি তাবীয ঝুলাবে তাকে ওটির উপর ছেড়ে দেয়া হবে। (মুসনাদে আহমাদ- হাঃ ১৮৭৮২, তিরমিযী- হাঃ ২০৭২ : হাসান)
রুওয়াইফি' থেকে আহমাদ বর্ণনা করেন। তিনি বলেন-
يَا رُوَيْفِعُ لَعَلَّ الْحَيَاةَ سَتَطُولُ بِكَ بَعْدِى، فَأَخْبِرِ النَّاسَ أَنَّهُ مَنْ عَقَدَ لِحْيَتَهُ، أَوْ تَقَلَّدَ وَتَرًا، أَوْ اسْتَنْجى بِرَجِيعِ دَابَّةٍ، أَوْ عَظْمٍ فَإِنَّ مُحَمَّدًا لَ مِنْهُ بَرِيءٌ.
(আল্লাহর রসূল আমাকে বলেন,) হে রুওয়াইফি'! তুমি হয়ত 'আলায়হি ওয়াসাল্লাম দীর্ঘ জীবন লাভ করবে। মানুষকে জানিয়ে দাও যে, যে ব্যক্তি দাড়ি বাঁধবে অথবা গলায় দড়ি ঝুলাবে অথবা প্রাণীর বিষ্ঠা অথবা হাড় দিয়ে শৌচ কার্য
করবে, মুহাম্মাদ তার থেকে মুক্ত। (আবূ দাউদ হাঃ ৩৬, নাসায়ী হাঃ ৫০৬৭, সহীহুল জামি' হাঃ ৭৯১০, মিশকাত- হাঃ ৩৫১ : সহীহ)
সা'ঈদ বিনু জুবায়র থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
مَنْ قَطَعَ تَمِيمَةً عَنْ إِنْسَانٍ، كَانَ كَعَدْلِ رَقَبَةٍ.
অর্থাৎ যে ব্যক্তি কোন লোকের তাবীয কাটবে সে একটি গোলাম মুক্ত করার সমান সাওয়াব লাভ করবে। (মুসান্নাফ ইবনু আবূ শায়বাহ্ ২৩৪৭৩) ইবরাহীম ওয়াকী' বর্ণনা করেন, তিনি বলেন :
كَانُوا يَكْرَهُونَ التَّمَائِمَ كُلَّهَا، مِنَ الْقُرْآنِ وَغَيْرِ الْقُرْآنِ.
অর্থাৎ- সহাবীগণ প্রত্যেক কুরআন হোক বা তার বাইরে যা-ই হোক না কেন সকল প্রকার তাবীযকেই অপছন্দ করতেন। (মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ্ ২৩৪৬৭)

📘 প্রথমে বর্জন পরে গ্রহণ 📄 তাবার্‌রুক বা বারাকাত হাসিলের জন্য গাছের নিকট ভোগ দেয়া ত্বওয়াফ করা শির্ক

📄 তাবার্‌রুক বা বারাকাত হাসিলের জন্য গাছের নিকট ভোগ দেয়া ত্বওয়াফ করা শির্ক


عَنْ أَبِي وَاقِدِ اللَّيْنِي، أَنَّ رَسُولَ اللهِ لَمَّا خَرَجَ إِلَى حُنَيْنٍ مَرَّ بِشَجَرَةٍ لِلْمُشْرِكِينَ يُقَالُ لَهَا: ذَاتُ أَنْوَاطٍ يُعَلِّقُونَ عَلَيْهَا أَسْلِحَتَهُمْ، فَقَالُوا: يَا رَسُولَ اللهِ، اجْعَلْ لَنَا ذَاتَ أَنْوَاطٍ كَمَا لَهُمْ ذَاتُ أَنْوَاطٍ، فَقَالَ النَّبِيُّ : «سُبْحَانَ اللهِ هُذَا كَمَا قَالَ قَوْمُ مُوسَى اجْعَلْ لَنَا إِلَهَا كَمَا لَهُمْ آلِهَةٌ ﴾ [الأعراف] وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَتَرْكَبُنَّ سُنَّةَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ.
আবূ ওয়াক্বিদ আল লায়সী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ -এর সাথে হুনায়নে যাচ্ছিলাম আর আমরা তখন নতুন মুসলিম ছিলাম। মুশরিকদের জন্য একটি বড়ই গাছ ছিল। তারা গাছটির
নিকট অবস্থান করত এবং তাদের অস্ত্র ঝুলিয়ে রাখত। তাকে যাতে আনওয়াত বলা হত। আমরা একটি বড়ই গাছের নিকট দিয়ে যাচ্ছিলাম। আমরা বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমাদের জন্য যাতে আনওয়াত বানিয়ে দিন যেমনভাবে তাদের জন্য যাতে আনওয়াত রয়েছে।
অতঃপর রসূলুল্লাহ বললেন, 'আল্ল-হু আকবার' ঐ সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ! এটা এমন একটি নীতি যা তোমরা বললে যেমন বানী ইসরাঈলরা মূসা-কে বলেছিল “আমাদের জন্য আপনি ইলাহ বা মা'বূদ বানিয়ে দিন যেমন তাদের মা'বুদ রয়েছে”- (সূরাহ্ আল আ'রাফ ৭ : ১৩৮)। তিনি বললেন, তোমরা বড়ই নির্বোধ সম্প্রদায়। তোমরা এমন নীতির অনুকরণ করবে যে নীতির উপর তোমাদের পূর্ববর্তীরা ছিল। (তিরমিযী- হাঃ ২১৮০ : হাসান সহীহ; আহমাদ, মুসান্নাফ 'আবদুর রাযযাক্ব, ইবনু জারীর, ইবনু মুনযির, ইবনু আবী হাতিম, ত্ববারানী)

ফন্ট সাইজ
15px
17px