📄 পীর-দরবেশ, ওলী-আওলিয়া এবং ক্বব্রে শায়িত ব্যক্তির নিকট দু‘আ করার মাধ্যমে মুশরিক
মহান আল্লাহ তা'আলা বলেন, وَلَا تَدْعُ مِنْ دُونِ اللَّهِ مَا لَا يَنْفَعُكَ وَلَا يَضُرُّكَ فَإِنْ فَعَلْتَ فَإِنَّكَ إِذًا مِّنَ الظَّالِمِينَ
“আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকে ডাকবে না, যে তোমার উপকার করতে পারবে না ও অপকারও করতে পারবে না। যদি তুমি অন্যকে ডাক তাহলে তখন তুমি যালিমদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।” (সূরাহ্ ইউসুফ ১২ : ১০৬)
মহান পরাক্রমশালী আল্লাহ তা'আলা বলেন, فَلَا تَدْعُ مَعَ اللَّهِ إِلَهًا آخَرَ فَتَكُونَ مِنَ الْمُعَذِّبِينَ ﴾
“অতএব আপনি আল্লাহর সাথে অন্য উপাস্যকে ডাকবেন না। ডাকলে আযাব প্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবেন।” (সূরাহ্ আশ্ শু'আরা ২৬ : ২১৩)
মহান আল্লাহ তা'আলা অন্যত্র বলেন, وَمَنْ أَضَلُّ مِمَّنْ يَدْعُو مِنْ دُوْنِ اللهِ مَنْ لَّا يَسْتَجِيبُ لَهُ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ وَهُمْ عَنْ دُعَائِهِمْ غَافِلُونَ * وَإِذَا حُشِرَ النَّاسُ كَانُوا لَهُمْ أَعْدَاءً وَكَانُوا بِعِبَادَتِهِمْ كَافِرِينَ *
“যে ব্যক্তি আল্লাহ ব্যতীত এমন বস্তু (ক্বর) কে ডাকে যে ক্বিয়ামাত পর্যন্ত তার ডাকে সাড়া দিবে না, তার চেয়ে অধিক পথভ্রষ্ট আর কে হতে পারে? তারা তাদের ডাকা সম্পর্কে খবরও রাখে না। যখন মানুষকে হাশরের ময়দানে একত্রিত করা হবে, তখন তারা (ক্বব্রবাসীরা) তাদের শত্রু হবে এবং তাদের 'ইবাদাতের কথা অস্বীকার করবে।” (সূরাহ্ আল আহাক্বাফ ৪৬ : ৫-৬)
মহান আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন, وَالَّذِينَ تَدْعُونَ مِنْ دُونِهِ مَا يَمْلِكُونَ مِنْ قِطْمِيرٍ إِنْ تَدْعُوهُمْ لَا يَسْمَعُوا دُعَاءَكُمْ وَلَوْ سَمِعُوا مَا اسْتَجَابُوا لَكُمْ وَيَوْمَ الْقِيَامَةِ يَكْفُرُونَ بِشِرْكِكُمْ وَلَا يُنَبِّئُكَ مِثْلُ خَبِيرٍ *
“আল্লাহর পরিবর্তে তোমরা যাদেরকে (মাযারবাসীকে) ডাকো, তারা তুচ্ছ খেজুর আঁটিরও মালিক নয়। তোমরা তাদেরকে ডাকলে তারা তোমাদের সে ডাক শুনে না। শুনলেও তোমাদের ডাকে সাড়া দেয় না। ক্বিয়ামাতের দিন তারা তোমাদের শির্কের কথা অস্বীকার করবে। বস্তুতঃ আল্লাহর ন্যায় তোমাকে কেউ অবহিত করতে পারবে না।” (সূরাহ্ আল ফাত্বির ৩৫ : ১৩-১৪)
মহানাবী বলেন, عَنْ عَبْدِ اللهِ ابْنِ مَسْعُودِ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ: مَنْ مَاتَ وَهُوَ يَدْعُو مِنْ دُونِ اللَّهِ نِدًّا دَخَلَ النَّارَ.
আলায়হি 'আবদুল্লাহ বিন মাস্'উদ হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ বলেছেন: যে ব্যক্তি আল্লাহ ব্যতীত অন্যকে ডাকে, আর এ অবস্থায় মারা যায় সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে। (বুখারী- হাঃ ৪৪৯৭)
📄 ‘ইল্মে গায়েব দাবীর মাধ্যমে মুশরিক
'ইল্মে গায়িবের মালিক কেবলমাত্র আল্লাহ, কেউ যদি তা অন্যের সাথে সম্পৃক্ত করে তাহলে সে মুশরিক হয়ে যাবে। কারণ সে আল্লাহর সাথে অন্যকে অংশী স্থাপন করেছে।
মহান আল্লাহ বলেন, قُلْ لَا يَعلَمُ مَنْ فِي السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ الْغَيْبَ إِلَّا اللَّهُ )
“(হে নাবী!) আপনি বলে দিন, আল্লাহ ব্যতীত আসমান ও জমিনের মধ্যে যা কিছু আছে সে গায়িবের খবর কেউ জানে না।” (সূরাহ্ আন্ নাম্ল ২৭ : ৬৫)
আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন, وَعِنْدَهُ مَفَاتِحُ الْغَيْبِ لَا يَعْلَمُهَا إِلَّا هُوَ )
“অদৃশ্য জগতের চাবিগুলো (ভাণ্ডারগুলো) আল্লাহরই নিকট। তিনি ব্যতীত তা আর কেউ-ই জানে না।” (সূরাহ্ আল আন'আম ৬ : ৫৯)
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا، قَالَتْ: مَنْ حَدَّثَكَ أَنَّ مُحَمَّدًا لا رَأَى رَبَّهُ، فَقَدْ كَذَبَ، وَمَنْ حَدَّثَكَ أَنَّهُ يَعْلَمُ الغَيْبَ، فَقَدْ كَذَبَ.
আনহা 'আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে তোমাকে বলবে যে মুহাম্মাদ তার প্রভুকে দেখেছে সে কেবল মিথ্যাই বলেছে। আর যে বলবে যে, তিনি গায়িব জানেন সেও কেবল মিথ্যাই বলেছে। (বুখারী- হাঃ ৭৩৮০)
📄 কোন ক্বব্রকে উদ্দেশ্য করে তার নিকট সমাবেশ, ওরশ পালন, ভোজের আয়োজন, উৎসব ও মেলায় পরিণত করার মাধ্যমে মুশরিক
ক্বরের চার পাশে ত্বওয়াফ করা, ক্বব্রবাসীর নিকট অনুগ্রহ কামনা করা, ওরশ পালন করা, বাতি জ্বালানো সবই 'ইবাদাতের নামান্তর যা স্পষ্ট শিক্। যারা এগুলো করবে তারা মুশরিক। নাবী এগুলো থেকে নিষেধ করেছেন।
عَنْ أَبِي مَرْثَدٍ الْغَنَوِيِّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ: «لَا تَجْلِسُوا عَلَى الْقُبُورِ، وَلَا تُصَلُّوا إِلَيْهَا».
আবূ মারসাদ আল গানাভী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ বলেছেন, তোমরা ক্বরের উপর বসো না এবং ক্বরের দিকে সলাত আদায় করো না। (মুসলিম- হাঃ ৯৭-[৯৭২], আবূ দাউদ- হাঃ ৩২২৯)
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ: «لَا تَجْعَلُوا بُيُوتَكُمْ قُبُورًا، وَلَا تَجْعَلُوا قَبْرِي عِيدًا، وَصَلُّوا عَلَى فَإِنَّ صَلَاتَكُمْ تَبْلُغُنِي حَيْثُ كُنْتُمْ».
আবূ হুরায়রাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ বলেছেন : তোমরা তোমাদের ঘরসমূহকে (সলাত না পড়ে) ক্বরে পরিণত করো না এবং তোমরা আমার ক্বব্রকে উৎসবে পরিণত করো না। তোমরা আমার প্রতি সলাত বা সালাম পড়ো। তোমরা যেথায় থাক তোমাদের সলাত বা সালাম আমার নিকট পৌঁছানো হবে। (আবূ দাউদ- হাঃ ২০৪২ : সহীহ)
وَعَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ: «اللَّهُمَّ لَا تَجْعَلْ قَبْرِي وَثَنَّا يُعْبَدُ اشْتَدَّ غَضَبُ اللَّهُ عَلَى قَوْمِ اتَّخَذُوا قُبُورَ أَنْبِيَائِهِمْ مَسَاجِد».
'আতা বিন ইয়াসার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ বলেছেন, হে আল্লাহ! আমার ক্বরকে মূর্তিতে পরিণত করো না, যার 'ইবাদাত (পূজা-আর্চণা) করা হবে। আল্লাহর কঠিন গযব ঐ সম্প্রদায়ের ওপর যারা তাদের নাবীদের ক্বরসমূহকে মাসজিদ বানিয়ে নিয়েছে। অর্থাৎ তথায় 'ইবাদাত করে। (মুয়াত্ত্বা মালিক- হাঃ ৮৫: মুরসাল, মুসনাদে আহমাদ- হাঃ ৭৩৫৮, মিশকাতুল মাসাবীহ- হাঃ ৭৫০)
📄 মুসলিমরা দলে দলে মাযহাবে-মাযহাবে বিভক্ত হয়ে যাওয়ার মাধ্যমে মুশরিক
মহান আল্লাহ তা'আলার বাণী : مُنِيبِينَ إِلَيْهِ وَاتَّقُوهُ وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَلَا تَكُونُوا مِنَ الْمُشْرِكِينَ ﴿﴾مِنَ الَّذِينَ فَرَّقُوا دِينَهُمْ وَكَانُوا شِيَعًا كُلُّ حِزْبٍ بِمَا لَدَيْهِمْ فَرِحُونَ ﴿﴾
“তোমরা সবাই আল্লাহমুখী হয়ে যাও এবং তাকে ভয় করো, সলাত কায়িম করো এবং মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না। আর মুশরিক তারাই যারা তাদের দ্বীনকে খণ্ড-বিখণ্ড করেছে এবং দলে দলে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। আর প্রত্যেক দলই নিজ নিজ মতবাদ নিয়ে উল্লাসিত।” (সূরাহ্ আর্ রূম ৩০ : ৩১-৩২)
মাওলানা মুহিউদ্দীন খান-এর অনূদিত ও সম্পাদনা মারেফুল কুরআন থেকে এ আয়াতের ব্যাখ্যা হুবহু তুলে ধরা হলো : وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَوَلَا﴿﴾ تَكُونُوا مِنَ الْمُشْرِكِينَ পূর্বে আয়াতে মানব প্রকৃতিকে সত্য গ্রহণের যোগ্য করার আলোচনা ছিল। আলোচ্য আয়াতে প্রথমে সত্য গ্রহণের উপায় বলা হয়েছে যে, নামায কায়িম করতে হবে। কেননা নামায কার্যক্ষেত্রে ঈমান, ইসলাম ও আল্লাহর আনুগত্য প্রকাশ করে। এরপর বলা হয়েছে وَلَا تَكُونُوا مِنَ الْمُشْرِكِينَ ﴾ মুশরিকরা তাদের ফিতরাত তথা সত্য গ্রহণের যোগ্যতাকে কাজে লাগায়নি। এরপর তাদের পথভ্রষ্টতা বর্ণিত হচ্ছে- مِنَ الَّذِينَ فَرَّقُوا دِينَهُمْ وَكَانُوا شِيَعًا অর্থাৎ এই মুশরিক তারা, যারা সভাব ধর্মে ও সত্য ধর্মে
বিভেদ সৃষ্টি করেছে অথবা সভাব ধর্ম থেকে পৃথক হয়ে গেছে। ফলে তারা বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। شِيَعًا শব্দটি شِيْعَةٌ এর বহুবচন। কোন একজন অনুসৃতের অনুসারী দলকে شِیْعَةٌ বলা হয়। উদ্দেশ্য এই যে, সভাব ধর্মছিল তাওহীদ। এর প্রতিক্রিয়াস্বরূপ সব মানুষেরই একে অবলম্বন করে এক জাতিতে একদল হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু তারা তাওহীদকে ত্যাগ করে বিভিন্ন লোকের চিন্তাধারার অনুগামী হয়েছে। মানুষের চিন্তাধারা ও অভিমতে বিরোধ থাকা স্বাভাবিক। তাই প্রত্যেকেই আলাদা আলাদা মাযহাব বানিয়ে নিয়েছে। তাদের কারণে জনগণ বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। শয়তান তাদের নিজ নিজ মাযহাবকে সত্য প্রতিপন্ন করার কাজে এমন ব্যাপৃত করে দিয়েছে যে, ﴿كُلُّ حِزْبٍ بِمَا لَدَيْهِمْ فَرِحُوْنَ﴾ অর্থাৎ প্রত্যেক দল নিজ নিজ মতবাদ নিয়ে হর্ষোৎফুল্ল। তারা অপরের মতবাদকে ভ্রান্ত আখ্যা দেয়। অথচ তারা সবাই ভ্রান্ত পথে পতিত রয়েছে। (মারেফুল কুরআন- ১০৪৪, ১০৪৫ পৃষ্ঠা)
আল্লাহ ‘আয্যা ওয়াজাল্লা অন্যত্র বলেন,
﴿إِنَّ الَّذِينَ فَرَّقُوا دِينَهُمْ وَكَانُوا شِيَعًا لَسْتَ مِنْهُمْ فِي شَيْءٍ إِنَّمَا أَمْرُهُمْ إِلَى اللَّهِ ثُمَّ يُنَبِّئُهُمْ بِمَا كَانُوا يَفْعَلُونَ ﴾
“নিশ্চয় যারা স্বীয় দ্বীনকে খণ্ড-বিখণ্ড করেছে এবং অনেক দলে বিভক্ত হয়ে গেছে, তাদের সাথে (হে নাবী) আপনার কোন সম্পর্ক নেই। তাদের ব্যাপার আল্লাহর নিকট সমর্পিত।” (সূরাহ্ আল আন'আম ৬ : ১৫৯)
উপরোক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় রসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَابِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ لِعَائِشَةَ : «يَا عَائِشَةُ) ﴿إِنَّ الَّذِينَ فَرَّقُوا دِينَهُمْ وَكَانُوا شِيَعًا ﴾ [الأنعام ] هُمْ أَصْحَابُ الْبِدْعِ وَأَصْحَابُ الْأَهْوَاءِ وَلَيْسَ لَهُمْ تَوْبَةٌ «أَنَا مِنْهُمْ بَرِيءٌ وَهُمْ مِنِّي بِرَاءُ.
'উমার ইবনুল খাত্ত্বাব হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ 'আয়িশাহ্ আনহু -কে বলেছেন, হে 'আয়িশাহ্! যারা স্বীয় দ্বীন বা মাযহাবকে খণ্ড-বিখণ্ড করে দিয়ে দলে দলে বিভক্ত হয়েছে তারা বিদ'আতী এবং প্রবৃত্তির অনুসারী। তাদের জন্য কোন তাওবাহ্ নেই, আমি তাদের প্রতি অসুন্তুষ্ট এবং তারাও আমার ওপর না-খোশ। (ত্ববারানী- হাঃ ৫৬০, ইবনু কাসীর ২য় খণ্ড ২৬৩ পৃষ্ঠা)
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ مَرْفُوعًا قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِنَّ الَّذِينَ فَرَّقُوا دِينَهُمْ وَكَانُوا شِيَعًا لَسْتَ مِنْهُمْ فِي شَيْءٍ وَلَسْتُوا مِنْكَ هُمْ أَهْلُ الْبِدْعِ وَأَهْلُ الشُّبُهَاتِ وَأَهْلُ الضَّلَالَةِ.
আবূ হুরায়রাহ্ হতে মারফু' সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রবিয়াপ্পা- আনহু রসূলুল্লাহ বলেছেন, নিশ্চয় যারা স্বীয় দীন বা মাযহাবকে খণ্ড-বিখণ্ড আলায়হি ওরাসাল্লাম করে দিয়ে দলে দলে বিভক্ত হয়েছে তাদের সাথে (হে নাবী) আপনার কোন সম্পর্ক নেই আর তাদেরও আপনার সাথে কোন সম্পর্ক নেই। তারা বিদ'আতী ও প্রবৃত্তির অনুসারী এবং পথভ্রষ্ট গোমরাহী সম্প্রদায়। (তাফসীরে জালালায়ন- ১২৮ পৃষ্ঠা, ২২ নং টীকা)
قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ الله : فِي تَفْسِيرِهِ هُذِهِ الْآيَةِ إِنَّ الَّذِينَ فَرَّقُوا دِينَهُمْ وَكَانُوا شِيَعًا لَسْتَ مِنْهُمْ فِي شَيْءٍ إِنَّمَا أَمْرُهُمْ إِلَى اللهِ .... هُمْ أَهْلُ الضَّلَالَةِ مِنْ هُذِهِ الْأُمَّةِ.
নিশ্চয় যারা স্বীয় দীন বা মাযহাবকে ভেঙ্গে চৌচির করে দিয়ে দলে দলে বিভক্ত হয়েছে, আপনার সাথে (হে নাবী) তাদের কোন সম্পর্ক নেই। তাদের ব্যাপারে আল্লাহর নিকট সমর্পিত....।
এ আয়াতের ব্যাখ্যায় আবূ হুরায়রাহ বলেন, তারা হলো এ উম্মাতের পথভ্রষ্ট গোমরাহী সম্প্রদায়। (তাফসীরে জালালায়ন- ১২৮ পৃষ্ঠা, ২২ নং টীকা)
عَنْ جَابِرٍ رضي الله عنه قَالَ : كُنَّا جُلُوسًا عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَخَطَّ خَطَّا هُكَذَا أَمَامَهُ فَقَالَ هَذَا سَبِيلُ اللهِ وَخَطَّيْنِ عَنْ يَمِينِهِ وَخَطَّيْنِ عَنْ شِمَالِهِ وَقَالَ هَذِهِ سُبُلُ الشَّيْطَانِ ثُمَّ وَضَعَ يَدَهُ فِي الْخَطِ الْأَوْسَطِ ، ثُمَّ تَلَا هَذِهِ الْآيَةَ وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبِعُوهُ وَلَا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَنْ سَبِيْلِهِ ذَلِكُمْ وَصَّاكُمْ بِهِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ ﴾ [الأنعام ] .
জাবির বিন 'আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন, একদা আমরা নাবী (সঃ)-এর নিকট বসে ছিলাম। তিনি (সঃ) এভাবে সামনের দিকে একটি সরল রেখা আকলেন, অতঃপর বললেন, এটাই আল্লাহর পথ। অতঃপর তিনি (সঃ) সরল রেখার ডানদিকে দু'টি ও বামদিকে দু'টি রেখা টানলেন এবং বললেন, এগুলো হলো শয়তানের পথ। অতঃপর তিনি তার হাতকে মধ্য রেখায় রেখে এ আয়াত পাঠ করলেন,
وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبِعُوهُ وَلَا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَنْ سَبِيلِهِ ذَلِكُمْ وَصَّاكُمْ بِهِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُوْنَ ﴾ [الأنعام ]
আল্লাহ বলেন : “এটাই আমার পথ, তোমরা এই পথেরই অনুসরণ করো এবং অন্য (ডানে ও বামের) পথসমূহের অনুসরণ করো না। যদি (ডানে ও বামের পথসমূহের অনুসরণ) করো। তাহলে সেসব পথ তোমাদেরকে আল্লাহর পথ থেকে বিভ্রান্ত করে দিবে। আল্লাহ তোমাদেরকে (মধ্য পথে থাকার) এ নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে করে তোমরা (ডানে ও বামের পথসমূহ হতে) বেঁচে থাকতে পারো।” (সূরাহ্ আল আন'আম ৬ : ১৫৩)
(মুসনাদে আহমাদ, ইবনু মাজাহ- হাঃ ১১, দারিমী- হাঃ ২০৮ : হাসান; তাফসীর ইবনু কাসীর ৩য় খণ্ড ৩২৯ পৃষ্ঠা)