📘 প্রথমে বর্জন পরে গ্রহণ > 📄 মুশরিকদের জন্য দু‘আ করাও নাজায়িয

📄 মুশরিকদের জন্য দু‘আ করাও নাজায়িয


শিক এমনই মারাত্মক গুনাহ যে, শিককারীর জন্য আল্লাহর নিকট দু'আও করা যাবে না। যেমন স্বয়ং রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর পিতা-মাতার জন্য দু'আ করার অনুমতি পাননি। বরং মহান আল্লাহ স্পষ্টই জানিয়ে দিয়েছেন তাদের জন্য দু'আ করা যাবে না।
মহান আল্লাহ তা'আলা বলেন,
مَا كَانَ لِلنَّبِيِّ وَالَّذِينَ آمَنُوا أَنْ يَسْتَغْفِرُوا لِلْمُشْرِكِيْنَ وَلَوْ كَانُوا أُولِي قُرْبى مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُمْ أَنَّهُمْ أَصْحَابُ الْجَحِيمِ ﴾
“নাবী ও যারা ঈমান এনেছে তাদের উচিত নয় যে, তারা মুশরিকদের জন্য দু'আ করবে। যদিও তারা তাদের নিকটাত্মীয় হয়, এ কথা সুস্পষ্ট হওয়ার পর যে তারা জাহান্নামী।” (সূরাহ্ আত্ তাওবাহ্ ৯ : ১১৩)

📘 প্রথমে বর্জন পরে গ্রহণ > 📄 শির্ক থেকে বাঁচার সাবধান বাণী

📄 শির্ক থেকে বাঁচার সাবধান বাণী


শিক এমন জঘন্য অপরাধ যার জন্য জান্নাত হারাম। যার ছোট অপরাধ হলো কবীরা গুনাহ। তাই তা থেকে জীবন দিয়ে হলেও বাঁচতে হবে এবং সকল কিছুই আল্লাহর নিকট চাইতে হবে। মহানাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন,
عَنْ مُعَاذٍ قَالَ: أَوْصَانِي رَسُولُ اللهِ ﷺ بِعَشْرِ كَلِمَاتٍ قَالَ: لَا تُشْرِكْ بِاللَّهِ شَيْئًا وَإِنْ قُتِلْتَ وَحُرِّقْتَ.
মু'আয বিন জাবাল (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: আল্লাহর সাথে কোন কিছুর শারীক কর না। যদিও তোমাকে হত্যা করা হয় এবং পুড়িয়ে মারা হয়। (সহীহ আত্ তারগীব ওয়াত্ তারহীব ১/১৩৮ পৃঃ, হাঃ ৫৭০ : হাসান লিগয়রিহী; মিশকাত- হাঃ ৬১)
عَنْ أَنَسٍ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ لِيَسْأَلُ أَحَدُكُمْ رَبَّهُ حَاجَتَهُ كُلَّهَا حَتَّى يَسْأَلَهُ الْمِلْحَ، وَحَتَّى يَسْأَلَهُ شِسْعَ نَعْلِهِ إِذَا انْقَطَعَ.
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : তোমাদের কেউ যেন সমস্ত প্রয়োজনে তার প্রভুর নিকট চায়, এমনকি লবণ হলেও চাবে, এমনকি জুতার ফিতা ছিঁড়ে গেলেও তার নিকট চাইবে। (তিরমিযী- হাঃ ৩৬০৪, মিশকাত- হাঃ ২২৫২ : সহীহ)

📘 প্রথমে বর্জন পরে গ্রহণ > 📄 পীর-দরবেশ, ওলী-আওলিয়া এবং ক্বব্‌রে শায়িত ব্যক্তির নিকট দু‘আ করার মাধ্যমে মুশরিক

📄 পীর-দরবেশ, ওলী-আওলিয়া এবং ক্বব্‌রে শায়িত ব্যক্তির নিকট দু‘আ করার মাধ্যমে মুশরিক


মহান আল্লাহ তা'আলা বলেন, وَلَا تَدْعُ مِنْ دُونِ اللَّهِ مَا لَا يَنْفَعُكَ وَلَا يَضُرُّكَ فَإِنْ فَعَلْتَ فَإِنَّكَ إِذًا مِّنَ الظَّالِمِينَ
“আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকে ডাকবে না, যে তোমার উপকার করতে পারবে না ও অপকারও করতে পারবে না। যদি তুমি অন্যকে ডাক তাহলে তখন তুমি যালিমদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।” (সূরাহ্ ইউসুফ ১২ : ১০৬)
মহান পরাক্রমশালী আল্লাহ তা'আলা বলেন, فَلَا تَدْعُ مَعَ اللَّهِ إِلَهًا آخَرَ فَتَكُونَ مِنَ الْمُعَذِّبِينَ ﴾
“অতএব আপনি আল্লাহর সাথে অন্য উপাস্যকে ডাকবেন না। ডাকলে আযাব প্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবেন।” (সূরাহ্ আশ্ শু'আরা ২৬ : ২১৩)
মহান আল্লাহ তা'আলা অন্যত্র বলেন, وَمَنْ أَضَلُّ مِمَّنْ يَدْعُو مِنْ دُوْنِ اللهِ مَنْ لَّا يَسْتَجِيبُ لَهُ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ وَهُمْ عَنْ دُعَائِهِمْ غَافِلُونَ * وَإِذَا حُشِرَ النَّاسُ كَانُوا لَهُمْ أَعْدَاءً وَكَانُوا بِعِبَادَتِهِمْ كَافِرِينَ *
“যে ব্যক্তি আল্লাহ ব্যতীত এমন বস্তু (ক্বর) কে ডাকে যে ক্বিয়ামাত পর্যন্ত তার ডাকে সাড়া দিবে না, তার চেয়ে অধিক পথভ্রষ্ট আর কে হতে পারে? তারা তাদের ডাকা সম্পর্কে খবরও রাখে না। যখন মানুষকে হাশরের ময়দানে একত্রিত করা হবে, তখন তারা (ক্বব্রবাসীরা) তাদের শত্রু হবে এবং তাদের 'ইবাদাতের কথা অস্বীকার করবে।” (সূরাহ্ আল আহাক্বাফ ৪৬ : ৫-৬)
মহান আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন, وَالَّذِينَ تَدْعُونَ مِنْ دُونِهِ مَا يَمْلِكُونَ مِنْ قِطْمِيرٍ إِنْ تَدْعُوهُمْ لَا يَسْمَعُوا دُعَاءَكُمْ وَلَوْ سَمِعُوا مَا اسْتَجَابُوا لَكُمْ وَيَوْمَ الْقِيَامَةِ يَكْفُرُونَ بِشِرْكِكُمْ وَلَا يُنَبِّئُكَ مِثْلُ خَبِيرٍ *
“আল্লাহর পরিবর্তে তোমরা যাদেরকে (মাযারবাসীকে) ডাকো, তারা তুচ্ছ খেজুর আঁটিরও মালিক নয়। তোমরা তাদেরকে ডাকলে তারা তোমাদের সে ডাক শুনে না। শুনলেও তোমাদের ডাকে সাড়া দেয় না। ক্বিয়ামাতের দিন তারা তোমাদের শির্কের কথা অস্বীকার করবে। বস্তুতঃ আল্লাহর ন্যায় তোমাকে কেউ অবহিত করতে পারবে না।” (সূরাহ্ আল ফাত্বির ৩৫ : ১৩-১৪)
মহানাবী বলেন, عَنْ عَبْدِ اللهِ ابْنِ مَسْعُودِ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ: مَنْ مَاتَ وَهُوَ يَدْعُو مِنْ دُونِ اللَّهِ نِدًّا دَخَلَ النَّارَ.
আলায়হি 'আবদুল্লাহ বিন মাস্'উদ হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ বলেছেন: যে ব্যক্তি আল্লাহ ব্যতীত অন্যকে ডাকে, আর এ অবস্থায় মারা যায় সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে। (বুখারী- হাঃ ৪৪৯৭)

📘 প্রথমে বর্জন পরে গ্রহণ > 📄 ‘ইল্‌মে গায়েব দাবীর মাধ্যমে মুশরিক

📄 ‘ইল্‌মে গায়েব দাবীর মাধ্যমে মুশরিক


'ইল্মে গায়িবের মালিক কেবলমাত্র আল্লাহ, কেউ যদি তা অন্যের সাথে সম্পৃক্ত করে তাহলে সে মুশরিক হয়ে যাবে। কারণ সে আল্লাহর সাথে অন্যকে অংশী স্থাপন করেছে।
মহান আল্লাহ বলেন, قُلْ لَا يَعلَمُ مَنْ فِي السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ الْغَيْبَ إِلَّا اللَّهُ )
“(হে নাবী!) আপনি বলে দিন, আল্লাহ ব্যতীত আসমান ও জমিনের মধ্যে যা কিছু আছে সে গায়িবের খবর কেউ জানে না।” (সূরাহ্ আন্ নাম্ল ২৭ : ৬৫)
আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন, وَعِنْدَهُ مَفَاتِحُ الْغَيْبِ لَا يَعْلَمُهَا إِلَّا هُوَ )
“অদৃশ্য জগতের চাবিগুলো (ভাণ্ডারগুলো) আল্লাহরই নিকট। তিনি ব্যতীত তা আর কেউ-ই জানে না।” (সূরাহ্ আল আন'আম ৬ : ৫৯)
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا، قَالَتْ: مَنْ حَدَّثَكَ أَنَّ مُحَمَّدًا لا رَأَى رَبَّهُ، فَقَدْ كَذَبَ، وَمَنْ حَدَّثَكَ أَنَّهُ يَعْلَمُ الغَيْبَ، فَقَدْ كَذَبَ.
আনহা 'আয়িশাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে তোমাকে বলবে যে মুহাম্মাদ তার প্রভুকে দেখেছে সে কেবল মিথ্যাই বলেছে। আর যে বলবে যে, তিনি গায়িব জানেন সেও কেবল মিথ্যাই বলেছে। (বুখারী- হাঃ ৭৩৮০)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00