📄 গর্ব অহংকারের মাধ্যমে শির্ক
মহান আল্লাহ তা'আলা বলেন,
وَلَا تَمْشِ فِي الْأَرْضِ مَرَحًا إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ كُلَّ مُخْتَالٍ فَخُورٍ ﴾ “আর ভূ-পৃষ্ঠের উপর গর্বভরে চলো না, আল্লাহ কোন আত্ম অহংকারী দাম্ভীক লোককে ভালোবাসেন না।” (সূরাহ্ লুক্বমান ৩১ : ১৮)
إِنَّا كَذلِكَ نَفْعَلُ بِالْمُجْرِمِينَ إِنَّهُمْ كَانُوا إِذَا قِيلَ لَهُمْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ يَسْتَكْبِرُونَ
“আমি অপরাধী লোকেদের সাথে এরূপই ব্যবহার করে থাকি, তাদেরকে যখন বলা হয়, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই, তখন তারা অহংকারে ফেটে পড়ে।” (সূরাহ্ আস্ স-ফফা-ত ৩৭ : ৩৪-৩৫)
فَادْخُلُوا أَبْوَابَ جَهَنَّمَ خَالِدِينَ فِيهَا فَلَبِئْسَ مَثْوَى الْمُتَكَبِرِينَ )
“এখন যাও জাহান্নামের দ্বারসমূহে প্রবেশ করো। সেখানেই তোমাদের চিরদিন অবস্থান করতে হবে, বস্তুতঃ ওটা হচ্ছে অহংকারীদের নিকৃষ্ট স্থান।” (সূরাহ্ আন্ নাহ্ন ১৬ : ২৯)
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ ، عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ: لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ مَنْ كَانَ فِي قَلْبِهِ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ مِّنْ كِبْرٍ قَالَ رَجُلٌ: إِنَّ الرَّجُلَ يُحِبُّ أَنْ يَكُونَ ثَوْبُهُ حَسَنًا وَنَعْلُهُ حَسَنَةً، قَالَ: إِنَّ اللهَ جَمِيلٌ يُحِبُّ الْجَمَالَ، الْكِبْرُ بَطَرُ الْحَقِّ، وَغَمْطُ النَّاسِ.
'আবদুল্লাহ বিন মাস্'উদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি নাবী (সাঃ) হতে বর্ণনা করেন, তিনি (সাঃ) বলেছেন: যার অন্তরে বিন্দু পরিমাণ অহংকার থাকবে সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। এক ব্যক্তি বলল, কোন ব্যক্তি যদি পোষাক ও জুতা উত্তম হওয়া পছন্দ করে? তিনি (সাঃ) বললেন, অবশ্যই আল্লাহ সুন্দর এবং তিনি সৌন্দর্যকে পছন্দ করেন। প্রকৃতপক্ষে অহংকার হলো হাক্ব বা সত্য হতে বেপরোয়া হওয়া এবং মানুষকে তুচ্ছ জ্ঞান করা। (মুসলিম- হাঃ ১৪৭-[৯১], মিশকাত- হাঃ ৫১০৮)
عَنْ حَارِثَةَ ابْنِ وَهْبٍ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ: لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ الْجَوَاظُ وَلَا الْجَعْظَرِي.
হারিসাহ্ বিন ওয়াহ্ব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, অহংকারী ও অহংকারের মিথ্যা ভানকারী ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। (আবূ দাউদ- হাঃ ৪৮০১, মিশকাত- হাঃ ৫০৮০ : সহীহ)
عَنْ حَارِثَةَ عَنِ النَّبِيِّ اللهِ ﷺ قَالَ : أَلَا أُخْبِرُكُمْ بِأَهْلِ الْجَنَّةِ؟ كُلُّ ضَعِيفٍ مُتَضَاعِفٍ، لَوْ أَقْسَمَ عَلَى اللهِ لَأَبَرَهُ أَلا أُخْبِرُكُمْ بِأَهْلِ النَّارِ؟ كُلُّ عُتُلٍ جَوَاظٌ مُسْتَكْبِرٍ.
হারিসাহ্ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত। তিনি নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন : আমি কি তোমাদেরকে জাহান্নামবাসীদের সংবাদ দিবো না? প্রত্যেক বদমেজাজী, দাম্ভিক, অহংকারী ব্যক্তিরা জাহান্নামী। (বুখারী- হাঃ ৬০৭১, মুসলিম- হাঃ ৪৬-[২৮৫৩])
📄 মুশরিকদের জন্য দু‘আ করাও নাজায়িয
শিক এমনই মারাত্মক গুনাহ যে, শিককারীর জন্য আল্লাহর নিকট দু'আও করা যাবে না। যেমন স্বয়ং রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর পিতা-মাতার জন্য দু'আ করার অনুমতি পাননি। বরং মহান আল্লাহ স্পষ্টই জানিয়ে দিয়েছেন তাদের জন্য দু'আ করা যাবে না।
মহান আল্লাহ তা'আলা বলেন,
مَا كَانَ لِلنَّبِيِّ وَالَّذِينَ آمَنُوا أَنْ يَسْتَغْفِرُوا لِلْمُشْرِكِيْنَ وَلَوْ كَانُوا أُولِي قُرْبى مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُمْ أَنَّهُمْ أَصْحَابُ الْجَحِيمِ ﴾
“নাবী ও যারা ঈমান এনেছে তাদের উচিত নয় যে, তারা মুশরিকদের জন্য দু'আ করবে। যদিও তারা তাদের নিকটাত্মীয় হয়, এ কথা সুস্পষ্ট হওয়ার পর যে তারা জাহান্নামী।” (সূরাহ্ আত্ তাওবাহ্ ৯ : ১১৩)
📄 শির্ক থেকে বাঁচার সাবধান বাণী
শিক এমন জঘন্য অপরাধ যার জন্য জান্নাত হারাম। যার ছোট অপরাধ হলো কবীরা গুনাহ। তাই তা থেকে জীবন দিয়ে হলেও বাঁচতে হবে এবং সকল কিছুই আল্লাহর নিকট চাইতে হবে। মহানাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন,
عَنْ مُعَاذٍ قَالَ: أَوْصَانِي رَسُولُ اللهِ ﷺ بِعَشْرِ كَلِمَاتٍ قَالَ: لَا تُشْرِكْ بِاللَّهِ شَيْئًا وَإِنْ قُتِلْتَ وَحُرِّقْتَ.
মু'আয বিন জাবাল (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: আল্লাহর সাথে কোন কিছুর শারীক কর না। যদিও তোমাকে হত্যা করা হয় এবং পুড়িয়ে মারা হয়। (সহীহ আত্ তারগীব ওয়াত্ তারহীব ১/১৩৮ পৃঃ, হাঃ ৫৭০ : হাসান লিগয়রিহী; মিশকাত- হাঃ ৬১)
عَنْ أَنَسٍ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ لِيَسْأَلُ أَحَدُكُمْ رَبَّهُ حَاجَتَهُ كُلَّهَا حَتَّى يَسْأَلَهُ الْمِلْحَ، وَحَتَّى يَسْأَلَهُ شِسْعَ نَعْلِهِ إِذَا انْقَطَعَ.
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : তোমাদের কেউ যেন সমস্ত প্রয়োজনে তার প্রভুর নিকট চায়, এমনকি লবণ হলেও চাবে, এমনকি জুতার ফিতা ছিঁড়ে গেলেও তার নিকট চাইবে। (তিরমিযী- হাঃ ৩৬০৪, মিশকাত- হাঃ ২২৫২ : সহীহ)
📄 পীর-দরবেশ, ওলী-আওলিয়া এবং ক্বব্রে শায়িত ব্যক্তির নিকট দু‘আ করার মাধ্যমে মুশরিক
মহান আল্লাহ তা'আলা বলেন, وَلَا تَدْعُ مِنْ دُونِ اللَّهِ مَا لَا يَنْفَعُكَ وَلَا يَضُرُّكَ فَإِنْ فَعَلْتَ فَإِنَّكَ إِذًا مِّنَ الظَّالِمِينَ
“আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকে ডাকবে না, যে তোমার উপকার করতে পারবে না ও অপকারও করতে পারবে না। যদি তুমি অন্যকে ডাক তাহলে তখন তুমি যালিমদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।” (সূরাহ্ ইউসুফ ১২ : ১০৬)
মহান পরাক্রমশালী আল্লাহ তা'আলা বলেন, فَلَا تَدْعُ مَعَ اللَّهِ إِلَهًا آخَرَ فَتَكُونَ مِنَ الْمُعَذِّبِينَ ﴾
“অতএব আপনি আল্লাহর সাথে অন্য উপাস্যকে ডাকবেন না। ডাকলে আযাব প্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবেন।” (সূরাহ্ আশ্ শু'আরা ২৬ : ২১৩)
মহান আল্লাহ তা'আলা অন্যত্র বলেন, وَمَنْ أَضَلُّ مِمَّنْ يَدْعُو مِنْ دُوْنِ اللهِ مَنْ لَّا يَسْتَجِيبُ لَهُ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ وَهُمْ عَنْ دُعَائِهِمْ غَافِلُونَ * وَإِذَا حُشِرَ النَّاسُ كَانُوا لَهُمْ أَعْدَاءً وَكَانُوا بِعِبَادَتِهِمْ كَافِرِينَ *
“যে ব্যক্তি আল্লাহ ব্যতীত এমন বস্তু (ক্বর) কে ডাকে যে ক্বিয়ামাত পর্যন্ত তার ডাকে সাড়া দিবে না, তার চেয়ে অধিক পথভ্রষ্ট আর কে হতে পারে? তারা তাদের ডাকা সম্পর্কে খবরও রাখে না। যখন মানুষকে হাশরের ময়দানে একত্রিত করা হবে, তখন তারা (ক্বব্রবাসীরা) তাদের শত্রু হবে এবং তাদের 'ইবাদাতের কথা অস্বীকার করবে।” (সূরাহ্ আল আহাক্বাফ ৪৬ : ৫-৬)
মহান আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন, وَالَّذِينَ تَدْعُونَ مِنْ دُونِهِ مَا يَمْلِكُونَ مِنْ قِطْمِيرٍ إِنْ تَدْعُوهُمْ لَا يَسْمَعُوا دُعَاءَكُمْ وَلَوْ سَمِعُوا مَا اسْتَجَابُوا لَكُمْ وَيَوْمَ الْقِيَامَةِ يَكْفُرُونَ بِشِرْكِكُمْ وَلَا يُنَبِّئُكَ مِثْلُ خَبِيرٍ *
“আল্লাহর পরিবর্তে তোমরা যাদেরকে (মাযারবাসীকে) ডাকো, তারা তুচ্ছ খেজুর আঁটিরও মালিক নয়। তোমরা তাদেরকে ডাকলে তারা তোমাদের সে ডাক শুনে না। শুনলেও তোমাদের ডাকে সাড়া দেয় না। ক্বিয়ামাতের দিন তারা তোমাদের শির্কের কথা অস্বীকার করবে। বস্তুতঃ আল্লাহর ন্যায় তোমাকে কেউ অবহিত করতে পারবে না।” (সূরাহ্ আল ফাত্বির ৩৫ : ১৩-১৪)
মহানাবী বলেন, عَنْ عَبْدِ اللهِ ابْنِ مَسْعُودِ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ: مَنْ مَاتَ وَهُوَ يَدْعُو مِنْ دُونِ اللَّهِ نِدًّا دَخَلَ النَّارَ.
আলায়হি 'আবদুল্লাহ বিন মাস্'উদ হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ বলেছেন: যে ব্যক্তি আল্লাহ ব্যতীত অন্যকে ডাকে, আর এ অবস্থায় মারা যায় সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে। (বুখারী- হাঃ ৪৪৯৭)