📘 প্রথমে বর্জন পরে গ্রহণ > 📄 শির্কের অপর নাম যুল্‌ম

📄 শির্কের অপর নাম যুল্‌ম


যুগ্ম বলা হয় কোন বস্তুকে তার আসল জায়গায় না রেখে ঐ স্থানে অন্য কোন জিনিসকে রাখা। সুতরাং যে গায়রুল্লাহর 'ইবাদাত করে সে মূলত 'ইবাদাতকে তার আসল জায়গায় না রেখে 'ইবাদাত পাওয়ার উপযুক্ত নয় এমন কারো উদ্দেশে তা নিবেদন করে। আর এটাই হল সবচেয়ে বড় যুগ্ম এবং অন্যায়। আল্লাহ তা'আলা বলেন :
﴿إِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيمٌ ﴾ “নিশ্চয় শির্ক হল বড় যুগ্ম।” (সূরাহ্ লুক্বমান ৩১ : ১৩) অত্র আয়াতের ব্যাখ্যা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এভাবে করেছেন,
عَنْ عَبْدِ اللهِ ابْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ: لَمَّا نَزَلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ: ﴿الَّذِينَ آمَنُوا وَلَمْ يَلْبَسُوا ﴾ [سورة الأنعام) إِيمَانَهُمْ بِظُلْمٍ شَقَّ ذُلِكَ عَلَى النَّاسِ، وَقَالُوا : يَا رَسُولَ
اللهِ، فَأَيُّنَا لَا يَظْلِمُ نَفْسَهُ؟ قَالَ: إِنَّهُ لَيْسَ الَّذِي تَعْنُونَ، أَلَمْ تَسْمَعُوا مَا قَالَ الْعَبْدُ الصَّالِحُ: ﴿يَا بُنَيَّ لَا تُشْرِكْ بِاللَّهِ إِنَّ الشِّرْ كَلَظُلْمٌ عَظِيمٌ ﴾ [سورة لقمان] إِنَّمَا هُوَ الشرك.
'আবদুল্লাহ বিন মাস্'উদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন এ আয়াত নাযিল হল, “যারা ঈমান আনে এবং স্বীয় বিশ্বাসকে যুল্মের সাথে মিশ্রিত করে না”- (সূরাহ্ আল আন'আম ৬ : ৮২)। এটা লোকেদের ওপর কঠিন হয়ে পড়ল, তারা বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমাদের মধ্যে কে যুল্ম করে না? নাবী (সাঃ) বললেন, যারা যুল্ম করে না তারা হলো ঐ অনুগত লোক, তোমরা কি শুননি সৎ বান্দা যা বলছে, “হে আমার ছেলে আল্লাহর সাথে শির্ক করো না, নিশ্চয় শিকই হচ্ছে বড় যুল্ম”- (সূরাহ্ লুক্বমান ৩১ : ১৩)। সে যুল্মই হলো শির্ক। (বুখারী- হাঃ ৩৪২৯, মুসনাদে আহমাদ হাঃ ৩৫৮৯, মুসলিম- হাঃ ১৯৭-[১২৪], ইবনু কাসীর- ১ম খণ্ড, ২০৬ পৃষ্ঠা)
عَن أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ (রাঃ) وَبِإِسْنَادِهِ، عَنِ النَّبِيِّ (ﷺ) قَالَ: الظُّلْمُ ثَلَاثَةٌ فَظُلْمٌ لَا يَغْفِرُ اللهُ وَظُلْمٌ يَغْفِرَهُ اللهُ وَظُلْمٌ لَا يَتْرُكُهُ اللهُ فَأَمَّا الظُّلْمُ الَّذِي لَا يَغْفِرُهُ اللَّهُ فالشرك، وقال اللهُ ﴿إِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيمِ﴾ وَأَمَّا الظُّلْمُ الَّذِي يَغْفِرُهُ اللَّهُ فَظُلْمُ الْعِبَادِ لِأَنْفُسِهِمْ فِيمَا بَيْنَهُمْ وَبَيْنَ رَبِّهِمْ وَأَمَّا الظُّلْمُ الَّذِي لَا يَتْرُكُهُ اللهُ فَظُلْمُ الْعِبَادِ بَعْضَهُمْ بَعْضًا حَتَّى يَدِينَ لِبَعْضِهِمْ مِنْ بَعْضٍ.
আনাস বিন মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি নাবী (ﷺ) হতে বর্ণনা করেন, তিনি (ﷺ) বলেছেন: যুল্মের ফলাফল তিন প্রকার। ১. এক প্রকার যুল্ম আল্লাহ ক্ষমা করবেন না। ২. এক প্রকার যুল্ম আল্লাহ ক্ষমা করবেন। ৩. আর এক প্রকার যুল্ম আল্লাহ ছেড়ে দিবেন না।
১- যে যুল্ম আল্লাহ ক্ষমা করবেন না, তা হচ্ছে শির্ক আর আল্লাহ বলেন, নিশ্চয় শিক্ হচ্ছে বড় যুল্ম।
২- যে যুলম আল্লাহ ক্ষমা করবেন। তা হচ্ছে বান্দার যুলুম। যা সে তার নিজের সাথে এবং তার প্রভুর সাথে করে।
৩- যে যুলম আল্লাহ ছেড়ে দিবেন না। তা হচ্ছে, বান্দার যুলুম; যা তাদের মধ্যে একে অপরের সাথে করে, এমনকি একে অপরের কাছে ঋণী হয়ে যায়। (মুসনাদে বাযযার হাঃ ৬৪৯৩, ইবনু কাসীর ১ম খণ্ড ৬৭৬ পৃষ্ঠা)
عَنْ أَبِي ذَرٍّ، عَنِ النَّبِيِّ , فِيمَا رَوَى عَنِ اللَّهِ تَبَارَكَ وَتَعَالَى أَنَّهُ قَالَ: يَا عِبَادِي إِنِّي حَرَّمْتُ الظُّلْمَ عَلَى نَفْسِي، وَجَعَلْتُهُ بَيْنَكُمْ مُحَرَّمًا، فَلَا تُظَالِمُوا.
আবূ যার হতে বর্ণিত। তিনি নাবী হতে বর্ণনা করেন, যা তিনি () বলেছেন: মহান আল্লাহ বলেন, হে আমার বান্দারা! আমি আমার ওপর যুলম হারাম করে দিয়েছি এবং তোমাদের মধ্যেও তা হারাম করে দিয়েছি। অতএব তোমরা যুলম করো না। (মুসলিম- হাঃ ৫৫-[২৫৭৭], মিশকাত- হাঃ ২৩২৬)
যালিমের পরিচয় দিয়ে আল্লাহ বলেন, وَمَنْ يَتَعَدَّ حُدُودَ اللَّهِ فَأُولَئِكَ هُمُ الظَّلِمُونَ )
“আর যারা আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত সীমালঙ্ঘন করবে তারাই হলো যালিম।” (সূরাহ্ আল বাক্বারাহ্ ২ : ২২৯)
মহান আল্লাহ আরো বলেন, وَمَنْ لَّمْ يَحْكُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللهُ فَأُولَئِكَ هُمُ الظَّلِمُونَ )
“যেসব লোক আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তদানুযায়ী ফায়সালা করে না, তারাই যালিম।” (সূরাহ্ আল মায়িদাহ্ ৫ : ৪৫)
আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন, وَالْكُفِرُونَ هُمُ الظَّلِمُونَ )
“বরং কাফিররাই হল প্রকৃত যালিম।” (সূরাহ্ আল বাক্বারাহ্ ২ : ২৫৪)
بَلِ الظَّالِمُونَ فِي ضَلَالٍ مُّبِينٍ ))
“বরং যালিমরা স্পষ্ট পথভ্রষ্ট।” (সূরাহ্ লুক্বমান ৩১ : ১১)
وَمَا لِلظَّالِمِينَ مِنْ أَنْصَارٍ )
“আর যালিমদের কোন সাহায্যকারী থাকবে না।” (সূরাহ্ আল মায়িদাহ্ ৫ : ৭২)
উপরোক্ত আলোচনা থেকে বুঝা গেল, যারা মুশরিক তারা যালিম এবং যারা কাফির তারাও যালিম। অতএব যে কাফির সে যালিম। আর যে যালিম সে মুশরিক। আর মুশরিকদের জন্য আল্লাহ তা'আলা জান্নাত হারাম করে দিয়েছেন। মহান আল্লাহ আমাদেরকে এ সকল ফিতনা থেকে রক্ষা করুন, আমীন।

📘 প্রথমে বর্জন পরে গ্রহণ > 📄 যেভাবে শির্কের উৎপত্তি

📄 যেভাবে শির্কের উৎপত্তি


وَقَالُوا لَا تَذَرُنَّ الهَتَكُمْ وَلَا تَذَرُنَّ وَدًّا وَلَا سُوَاعًا وَلَا يَغُوثَ وَيَعُوقَ وَنَسْرًا ﴾
“তারা বলছে, তোমরা তোমাদের উপাস্যদেরকে ত্যাগ করো না এবং ওয়াদ, সুওয়া'আ, ইয়াগূস, ইয়া'ঊকু এবং নাস্ত্র-কে পরিত্যাগ করো না।” (সূরাহ্ নূহ ৭১ : ২৩)
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا، صَارَتِ الْأَوْثَانُ الَّتِي كَانَتْ فِي قَوْمِ نُوحٍ فِي العَرَبِ بَعْدُ أَمَّا وَدُّ كَانَتْ لِكَلْبِ بِدَوْمَةِ الجَنْدَلِ، وَأَمَّا سُوَاعٌ كَانَتْ لِهُذَيْلٍ، وَأَمَّا يَغُوتُ فَكَانَتْ لِمُرَادٍ، ثُمَّ لِبَنِي غُطَيْفٍ بِالْجَوْفِ عِنْدَ سَبَةٍ، وَأَمَّا يَعُوقَ فَكَانَتْ لِهَمْدَانَ، وَأَمَّا نَسْرٌ فَكَانَتْ لِحِمْيَرَ لِأُلِ ذِي الْكَلَاعِ، أَسْمَاءُ رِجَالٍ صَالِحِينَ مِنْ قَوْمِ نُوحٍ، فَلَمَّا هَلَكُوا أَوْحَى الشَّيْطَانُ إِلَى قَوْمِهِمْ، أَنِ انْصِبُوا إِلَى مَجَالِسِهِمُ الَّتِي كَانُوا يَجْلِسُونَ أَنْصَابًا وَسَمُّوهَا بِأَسْمَائِهِمْ، فَفَعَلُوا، فَلَمْ تُعْبَدُ، حَتَّى إِذَا هَلَكَ أُولَئِكَ وَتَنَسَّخَ العِلْمُ عُبِدَتْ.
'আবদুল্লাহ বিন 'আব্বাস রাযিয়াল্লাহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূহ আলাইহিস সালাম এর কওমে যেসব মূর্তির প্রচলন ছিল পরবর্তী সময়ে তা আরবদের মধ্যেও চালু হয়েছিল। ওয়াদ ছিল কাল্ব গোত্রের দেব-মূর্তি, দাওমাতুল জান্দাল নামক স্থানে ছিল এর মন্দির। সুওয়া ছিল মক্কার নিকটবর্তী হুযায়ল গোত্রের মূর্তি। ইয়াগূস ছিল প্রথমে মুরাদ গোত্রের এবং পরে (মুরাদের শাখা গোত্রে) বানী গাতিফের দেবতা হিসেবে সাবা'র নিকটবর্তী জাওফ নামক আস্তানায় ছিল। ইয়া'উক ছিল হামদান গোত্রের দেবমূর্তি। আর নাস্ত্র ছিল যুলকালা' গোত্রের হিয়ার শাখার দেবমূর্তি। নাস্ত্র নূহ আলাইহিস সালাম এর কাওমের কিছু সৎ লোকের নামও ছিল। এ লোকগুলো মারা গেলে তারা যেখানে বসে মজলিস করত, শয়তান সেখানে কিছু মূর্তি তৈরি করে স্থাপন করতে তাদের কাওমের লোকের মনে অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করে। তাই তারা সেখানে কিছু মূর্তি তৈরি করে এবং তাদের নামে সে মূর্তির নাম রেখে স্থাপন করে। কিন্তু তখনও ঐসব মূর্তির পূজা করা হত না। পরে ঐ লোকগুলো মৃত্যুবরণ করলে এবং মূর্তিগুলো সম্পর্কে সত্যিকার জ্ঞান বিলুপ্ত হলে লোকজন তাদের পূজা করতে শুরু করে। (বুখারী- হাঃ ৪৯২০; তাফসীর ইবনু কাসীর ৪র্থ খণ্ড, ৫৪৮ পৃষ্ঠা)
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا، قَالَتْ: لَمَّا اشْتَكَى النَّبِيُّ ﷺ ذَكَرَتْ بَعْضُ نِسَائِهِ كَنِيسَةً رَأَيْنَهَا بِأَرْضِ الْحَبَشَةِ يُقَالُ لَهَا: مَارِيَةٌ، وَكَانَتْ أُمُّ سَلَمَةَ، وَأُمُّ حَبِيبَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَدْ أَتَنَا أَرْضَ الْحَبَشَةِ، فَذَكَرَنَا مِنْ حُسْنِهَا وَتَصَاوِيرَ فِيهَا، فَرَفَعَ رَأْسَهُ، فَقَالَ: أُولَئِكَ إِذَا مَاتَ مِنْهُمُ الرَّجُلُ الصَّالِحُ بَنَوْا عَلَى قَبْرِهِ مَسْجِدًا، ثُمَّ صَوَّرُوا فِيهِ تِلْكَ الصُّورَةَ أُولَئِكَ شِرَارُ الْخَلْقِ عِنْدَ اللَّهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ.
'আয়িশাহ্ রাযিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন নাবী আলাইহিস ওয়াসাল্লাম অসুস্থ হয়ে পড়লেন তখন তার কোন স্ত্রী হাবাসাহ্ দেশের একটি গির্জার কথা উল্লেখ করলেন। যাকে মারিয়াহ্ বলা হত। উম্মু সালামাহ্ রাযিয়াল্লাহু আনহা ও উম্মু হাবীবাহ্ রাযিয়াল্লাহু আনহা ইতিমধ্যে হাবাসাহ্ এলাকা হতে সফর করে এসেছেন, তারা ঐ গির্জার সৌন্দর্য এবং অনেকগুলো মূর্তির কথা উল্লেখ করলেন।
'আয়িশাহ্ াহ্ আনহা বললেন, অতঃপর তিনি (সালাম) বললেন, এরা ঐ সমস্ত লোক যখন তাদের মধ্যে কোন সৎ লোক বা সৎ বান্দা মারা যায় তখন তারা তার ক্বত্রের উপর মাসজিদ ('ইবাদাতখানা) বানিয়ে নেয় এবং তাতে এ ছবিগুলো তারা তৈরি করে। আল্লাহর নিকটে ক্বিয়ামাত দিবসে এরাই হলো সবচেয়ে নিকৃষ্ট সৃষ্টি। (বুখারী- হাঃ ১৩৪১, মুসলিম- হাঃ ১৬-[৫২৮)
وَفِي الصَّحِيحِ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ...... فِي قَوْلِ الله تَعَالَى .... وَنَسْرَا.... إِلَى قَوْمِهِمْ.
নূহ্ আলায়হিস-এর জাতিতে শিৰ্কের অনুপ্রবেশ। নূহ আলায়হিস-এর জাতি যে শিকে নিমজ্জিত ছিল তা হলো, সৎ ব্যক্তি ও তাঁদের রূহের ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি। শাইত্বান সে জাতির নিকট বুজুর্গ ব্যক্তির আকৃতিতে আগমন করে এবং তার বুজুর্গী ও আল্লাহর নৈকট্যের দাবী করে বলে, যে ব্যক্তি আমার সাথে সম্পর্ক গড়বে তার জন্য আমি শাফা'আত করব।
অতএব শাইত্বান তাদেরকে সম্মানের এ পর্যায় থেকে নিয়ে যায় প্রতিকৃতি, মূর্তি, আস্তানাও দরগাহ পর্যন্ত। যেমন- আলোচ্য অংশে ইবনু 'আব্বাস এ শিক্ক পতিত হওয়ার বর্ণনা দিয়ে বলেন: “তারা যখন ধ্বংস হয়ে যায়, শাইত্বান তাদের জাতির অন্তরে ইলহাম করে দেয় যে, তারা যেখানে অবস্থান করত সেখানে আস্তানা বা দরগাহ গড়ে তোলো এবং তাদের নামে নামকরণ করো। অতঃপর তারা তাই করল, তবে 'ইবাদাত শুরু হলো না। অতঃপর যখন তারা মারা গেল, জ্ঞান ও উঠিয়ে নেয়া হলো। তাদের 'ইবাদাত শুরু হয়ে গেল।”
وَقَالَ ابْنُ الْقَيمِ : قَالَ غَيْرِ وَاحِدٌ..... فَعْبُدُوهُمْ. : তারা যখন ঐ বুজুর্গ ব্যক্তিদের ছবি তৈরি করার ইচ্ছা করে তখন তাদের দৃঢ় বিশ্বাস ছিল যে, তারা ঐ সমস্ত ছবির পূজা করবে না কেননা তারা জ্ঞানী ছিল। কিন্তু ভবিষ্যতে যখন জ্ঞানের বিলুপ্তি ঘটল তখন ঐ ছবিগুলোর পূজা করা সৎ লোক ও বুজুর্গদের নৈকট্য অর্জনের ওয়াসীলা ও কারণ মনে করতে লাগল। শাইত্বান কখনো কখনো উক্ত ছবি প্রতিকৃতির নিকট এসে তার দর্শকদের বা উপস্থিত ব্যক্তিদের মনে এ ধরনের প্রভাব ফেলত যে এ
প্রতিকৃতি তো কথা বলতে পারে এবং তার কথাও শ্রবণ করতে পারে ও এ ধরনের বহু ধারণা তাদেরকে দিয়ে থাকে। যার ফলে তাদের অন্তর সৎ ব্যক্তিদের রূহ্রে প্রতি আকৃষ্ট হয়ে যায়। পরিশেষে শাইত্বান তাদেরকে বুজুর্গদের পূজার প্রতি আকৃষ্ট করে ফেলে।
বর্তমানে এ অবস্থা হলো ঐ লোকেদের যারা কবর-মাযারে গিয়ে নামাযের মতো করে বসে ও আল্লাহ তা'আলার 'ইবাদাতের সাথে তাদেরও 'ইবাদাত করে। তার এই 'আমালই আল্লাহর সাথে শির্ক করার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

📘 প্রথমে বর্জন পরে গ্রহণ > 📄 শির্ক কি ও কেন

📄 শির্ক কি ও কেন


শিরকের পরিচয় : শির্ক হচ্ছে আল্লাহর সাথে এমন বিষয়ে সমকক্ষ স্থির করা যেটা আল্লাহর জন্যই প্রযোজ্য; যেমন, তার সাথে অন্য কাউকে ডাকা, অন্যকে ভয় করা। অন্যের কাছে আশা করা, আল্লাহর চাইতে অন্যকে বেশি ভালোবাসা, অর্থাৎ আল্লাহর 'ইবাদাতের কোন একটি অন্যের দিকে সম্বোধন করাকে শির্ক বলে।
মহান আল্লাহ তা'আলা বলেন :
وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ ﴾
“তাদেরকে এছাড়া কোন নির্দেশ দেয়া হয়নি যে, তারা খাঁটি মনে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর 'ইবাদাত করবে।” (সূরাহ্ আল বাইয়্যিনাহ্ ৯৮ : ৫)
فَاعْبُدِ اللَّهَ مُخْلِصًا لَهُ الدِّينَ ﴾
“অতএব আপনি নিষ্ঠার সাথে 'ইবাদাত করুন।” (সূরাহ্ আয যুমার ৩৯ : ২)
قُلْ إِنِّي أُمِرْتُ أَنْ أَعْبُدَ اللَّهَ مُخْلِصًا لَهُ الدِّينَ )
“বলুন, আমি নিষ্ঠার সাথে আল্লাহর 'ইবাদাত করতে আদিষ্ট হয়েছি।” (সূরাহ্ আয যুমার ৩৯ : ১১)
﴿ فَمَنْ كَانَ يَرْجُو لِقَاءَ رَبِّهِ فَلْيَعْمَلْ عَمَلًا صَالِحًا وَلَا يُشْرِكْ بِعِبَادَةِ رَبِّهِ أَحَدًا “আর যে ব্যক্তি তার পালনকর্তার সাক্ষাত কামনা করে সে যেন সৎ কর্ম সম্পাদন করে এবং তার পালনকর্তার ‘ইবাদাতে কাউকে শরীক না করে।” (সূরাহ্ আল কাহ্ফ ১৮ : ১১০)

📘 প্রথমে বর্জন পরে গ্রহণ > 📄 শির্ক কত প্রকার ও কি কি?

📄 শির্ক কত প্রকার ও কি কি?


শির্কের প্রকার : শির্ক দু'প্রকার। ১. الشَّرْكُ الْأَكْبَرُ বড় শির্ক। ২. الشَّرْكُ الْأَصْغَرُ ছোট শির্ক। ১. الشَّرْكُ الْأَكْبَرُ বা সবচেয়ে বড় শির্ক : আল্লাহর কোন সমকক্ষ স্থির করে 'ইবাদাতের কোন এক প্রকার আল্লাহ ব্যতীত অন্যের জন্য করা। যেমন আল্লাহ ব্যতীত অন্যের নামে যবেহ করা, অন্যের নামে মানৎ করা, অন্যকে ডাকা, অন্যের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করা, যেমন মূর্তি, জিন্ এর নিকট সাহায্য চাওয়া অথবা ক্ববর বা মাজারবাসীর নিকট সন্তান চাওয়া, রোগমুক্তি কামনা করা, অলী, আওলিয়া, সৎ লোকেদের নিকট সাহায্য চাওয়া যাতে তারা আল্লাহর নিকটবর্তী করে দিবে। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেন,
وَالَّذِينَ اتَّخَذُوا مِنْ دُونِهِ أَوْلِيَاءَ مَا نَعْبُدُهُمْ إِلَّا لِيُقَرِّبُونَا إِلَى اللَّهِ زُلْقُى “যারা আল্লাহ ব্যতীত অপরকে আওলিয়া বা উপাস্যরূপে গ্রহণ করেছে তারা বলে যে, আমরা তাদের ‘ইবাদাত এজন্যেই করি যে, তারা আমাদেরকে আল্লাহর নিকটবর্তী করে দিবে।” (সূরাহ্ আয যুমার ৩৯ : ৩)
যে ব্যক্তি এ প্রকার শির্ক করবে সে কাফির হয়ে যাবে এবং ইসলাম থেকে বের হয়ে যাবে। তার কোন ফার্য, নফল ‘ইবাদাত ক্ববূল হবে না। সে চিরস্থায়ী জাহান্নামী হয়ে যাবে।
عَنْ عَبْدِ اللهِ ابْنُ مَسْعُودٍ ﷺ : قَالَ : قَالَ رَجُلٌ : يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَيُّ الذَّنْبِ أَكْبَرُ عِنْدَ اللهِ؟ قَالَ أَنْ تَدْعُو لِلَّهِ نِدًّا وَهُوَ خَلَقَكَ وَفِي رَوَاتِ أَنْ تَجْعَلَ لِلَّهِ نِدًّا وَهُوَ خَلَقَكَ.
'আবদুল্লাহ বিন মাস্'ঊদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রসূল! আল্লাহর নিকট সবচেয়ে বড় অপরাধ কোনটি? রসূলুল্লাহ বললেন, আল্লাহকে তুমি অংশীদারের সাথে আহ্বান করছ অথচ তিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন। অপর বর্ণনায় আছে তুমি আল্লাহর সাথে শরীক করছ অথচ তিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন। (সহীহ মুসলিম- হাঃ ১৪২-[৮৬])
আর রসূলুল্লাহ বলেছেন, এটা সবচেয়ে বড় গুনাহ বা অপরাধ।
عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي بَكْرَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: كُنَّا عِنْدَ رَسُولِ اللهِ ﷺ فَقَالَ: أَلَا أُنَبِّئُكُمْ بِأَكْبَرِ الْكَبَائِرِ؟ ثَلَاثًا الْإِشْرَاكُ بِاللَّهِ، وَعُقُوقُ الْوَالِدَيْنِ، وَشَهَادَةُ الرُّورِ - أَوْ قَوْلُ الرُّورِ - وَكَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ مُتَّكِنًا، فَجَلَسَ فَمَا زَالَ يُكَرِّرُهَا حَتَّى قُلْنَا: لَيْتَهُ سَكَتَ.
'আবদুর রহমান বিন আবূ বাকরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি তার পিতা হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ-এর নিকট ছিলাম। অতঃপর রসূলুল্লাহ তিনবার বললেন, আমি কি তোমাদের সবচেয়ে বড় গুনাহের সংবাদ দিব না? তা হচ্ছে আল্লাহর সাথে শরীক করা, পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া এবং মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়া অথবা মিথ্যা কথা বলা। রসূলুল্লাহ ঠেস দিয়ে বসা ছিলেন, অতঃপর তিনি বসে বার বার আওড়াতে লাগলেন। এমনকি আমরা বললাম, তিনি যদি চুপ হতেন। (মুসলিম- হাঃ ১৪৩-[৮৭])
২. الشَّرْكُ الْأَصْغَرُ সবচেয়ে ছোট শির্ক : 'আমালের কাঠামো ও মুখের কথায় আল্লাহ ব্যতীত অন্যকে আল্লাহর সমকক্ষ সাব্যস্ত করা। এতে
তার আকীদার ত্রুটি ও কমতির সৃষ্টি করে। এটি শির্কে আকবারে লিপ্ত হওয়ার শামিল ও কারণ। এটা শির্ক আকবার বা বড় শির্কের মতো নয়। তবে এটা দ্বারা কাবীরাহ গুনাহ হবে। যে এ শির্ক করবে সে ইসলাম থেকে বের হয়ে যাবে না। আর চিরস্থায়ী জাহান্নামী হবে না বরং এটা আল্লাহর ইচ্ছাধীন থাকবে। ইচ্ছা করলে তিনি শাস্তি দিবেন অথবা ক্ষমা করে দিবেন, যেমন অন্যান্য গুনাহের বেলায় যেগুলো বড় শির্কের মত হবে না। এটি শির্ক আকবারে লিপ্ত হওয়ার ওয়াসীলাহ্ বা কারণ।
কিন্তু এ ছোট শিককে নাবী (সা.) উম্মাতের জন্য সবচেয়ে বেশী ভয় করেছেন। যেমন তিনি বলেন,
عَنْ مَحْمُودِ بْنِ لَبِيدٍ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ: إِنَّ أَخْوَفُ مَا أَخَافُ عَلَيْكُمُ الشَّرْكُ الْأَصْغَرُ.
মাহমূদ বিন লাবীদ হতে বর্ণিত যে, রসূলুললাহ (সা.) বলেছেন: আমি তোমাদের ওপর সবচেয়ে বেশী ভয় করছি শিৰ্কে আসগার বা ছোট শিকের। (মুসনাদে আহমাদ- হাঃ ২৩৬৩০ : হাসান, মিশকাত- হাঃ ৫৩৩৪, ইবনু কাসীর ২য় খণ্ড ৬৫০ পৃষ্ঠা)
এছাড়াও আর এক প্রকার শিক্ক রয়েছে যা মানুষ অজান্তেই করে ফেলে। এ শির্ক থেকে বেঁচে থাকার জন্য রসূলুল্লাহ (সা.) সতর্ক করে দিয়েছেন।
عَنْ أَبِي مُوسَى الْأَشْعَرِيِّ خَطَبَنَا رَسُولُ اللهِ ﷺ ذَاتَ يَوْمٍ فَقَالَ: أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا هَذَا الشِّرْكَ؛ فَإِنَّهُ أَخْفَى مِنْ دَبِيْبِ النَّمْلِ.
আবূ মূসা আল আশ্'আরী (রা.) হতে বর্ণিত; রসূলুল্লাহ (সা.) আমাদেরকে একদিন খুত্ববাহ্ দিয়ে বললেন, হে লোক সকল! তোমরা এ শিক থেকে নিজেদেরকে রক্ষা কর। কেননা, এটা ক্ষুদ্র পিপিলিকার চাইতেও অধিক গোপন। (সহীহ আত্ তারগীব ওয়াত্ তারহীব ১/৯ পৃঃ, হাঃ ৩৬ : হাসান লিগয়রিহী, ইবনু কাসীর- ২য় খণ্ড, ৬৫১ পৃষ্ঠা)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00