📄 অধিকাংশের অনুকরণ ও দোহাই কাফির, মুশরিক নির্বোধ ও বিদ্‘আতীদের নীতি
সংখ্যাগরিষ্ঠতা বা অধিকাংশ লোক সত্যের মাপকাঠি নয়। বরং অল্প সংখ্যক লোকই হাক্বের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে। অধিকাংশ লোকই গোমরাহির পথে থাকবে, তাই অধিকাংশের অনুকরণ ও দোহাই দেয়া মুশরিকদের নীতি, যে পথের অনুকরণ না হাক্বপন্থী, বিদ'আতীরা করবে। আল কুরআনে মহান আল্লাহ অধিকাংশ লোককে খারাপের ব্যাপারে যে সংবাদ দিয়েছেন, আমরা তার কিছু উল্লেখ করছি।
১. আল্লাহ তা'আলা বলেন, وَإِنْ تُطِعْ أَكْثَرَ مَنْ فِي الْأَرْضِ يُضِلُّوكَ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ إِنْ يَتَّبِعُونَ إِلَّا الظَّنَّ وَإِنْ هُمْ إِلَّا يَخْرُصُونَ إِنَّ رَبَّكَ هُوَ أَعْلَمُ مَنْ يَضِلُّ عَنْ سَبِيلِهِ وَهُوَ أَعْلَمُ بِالْمُهْتَدِينَ “হে নাবী! আপনি যদি অধিকাংশ লোকের কথা মানেন, তাহলে তারা আপনাকে আল্লাহর পথ থেকে গোমরাহ করে দিবে। কেননা তারা প্রত্যেকেই নিজ নিজ ধারণার অনুকরণ করে এবং অনুমান করে কথা বলে। নিশ্চয় আপনার প্রভু সবচাইতে বেশি জানেন, কারা আল্লাহর পথ হতে গোমরাহ হয়েছে এবং তিনিই অধিক জানেন কারা হিদায়াতপ্রাপ্ত বা সঠিক পথে আছে।” (সূরাহ্ আল আন'আম ৬ : ১১৬-১১৭)
২. তিনি আরো বলেন, وَمَا أَكْثَرُ النَّاسِ وَلَوْ حَرَصْتَ بِمُؤْمِنِينَ )) “(হে নাবী!) আপনি যতই আকাঙ্ক্ষা করেন না কেন (আপনার কথার প্রতি) অধিকাংশ লোক ঈমান আনবে না।” (সূরাহ্ ইউসুফ ১২: ১০৩)
৩. তিনি আরো বলেন, وَمَا يُؤْمِنُ أَكْثَرُهُمْ بِاللَّهِ إِلَّا وَهُمْ مُشْرِكُونَ )
“অধিকাংশ লোক আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেও তারা মুশরিক।” (সূরাহ্ ইউসুফ ১২: ১০৬)
৪. তিনি আরো বলেন, الْأَرْ تِلْكَ أَيْتُ الْكِتَبِ وَالَّذِي أُنْزِلَ إِلَيْكَ مِنْ رَبِّكَ الْحَقُّ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يُؤْمِنُونَ ﴾ “আলিফ লাম মীম্ রা-; এগুলো কিতাবের আয়াত। যা কিছু আপনার পালনকর্তার পক্ষ থেকে নাযিল হয়েছে তা সত্য। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ বিশ্বাস করে না।” (সূরাহ্ আর্ রা'দ ১৩ : ১)
৫. তিনি আরো বলেন,
بَلْ أَكْثَرُهُمْ لَا يَعْلَمُونَ “বরং অধিকাংশ লোক জ্ঞানহীন (অজ্ঞ)।” (সূরাহ্ আন্ নাম্ল ২৭ : ৬১, ইউসুফ ১২ : ৫৫, আল আ'রাফ ৭ : ১৩১, আত্ তূর ৫২ : ৪৭, আয যুমার ৩৯ : ২৯, ৪৯, লুক্বমান ৩১ : ২৫, আল আন'আম ৬ : ৩৭, আল ক্বাসাস, ২৮ : ১৩, ৫৭)
৬. তিনি আরো বলেন,
وَإِنَّ رَبَّكَ لَذُو فَضْلٍ عَلَى النَّاسِ وَلَكِنَّ أَكْثَرَهُمْ لَا يَشْكُرُونَ ﴾ ٦٠ “আপনার পালনকর্তা মানুষের প্রতি অনুগ্রহশীল কিন্তু তাদের অধিকাংশ লোক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না।” (সূরাহ্ আন্ নাম্ল ২৭ : ৭৩, ইউনুস ১০ : ৬০)
৭. তিনি আরো বলেন, إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَةً وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُمْ مُؤْمِنِينَ
“নিশ্চয় এতে নিদর্শন আছে এবং তাদের অধিকাংশই বিশ্বাসী নয়।” (সূরাহ্ আশ্ শু'আরা ২৬ : ৮, ৬৭, ১০৩, ১২১, ১৩৯, ১৫৮, ১৭৪, ১৯০)
৮. তিনি আরো বলেন,
وَلَقَدْ ضَلَّ قَبْلَهُمْ أَكْثَرُ الْأَوَّلِينَ ٧١
"তাদের পূর্বে অগ্রবর্তীদের অধিকাংশ পথভ্রষ্ট ছিল।” (সূরাহ্ আস্ স-ফফা-ত ৩৭ : ৭১)
৯. তিনি আরো বলেন, بَلْ أَكْثَرُهُمْ لَا يَعْلَمُونَ الْحَقَّ فَهُمْ مُعْرِضُونَ ﴾
“বরং তাদের অধিকাংশ লোকই সত্যকে জানে না; অতএব তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়।” (সূরাহ্ আল আম্বিয়া ২১ : ২৪)
১০. তিনি আরো বলেন, بَلْ جَاءَهُمْ بِالْحَقِّ وَأَكْثَرُهُمْ لِلْحَقِّ كَارَهُونَ ﴾
“বরং তিনি তাদের নিকট সত্য নিয়ে আগমন করেছেন এবং তাদের অধিকাংশ লোক সত্যকে অপছন্দ করে।” (সূরাহ্ আল মু'মিনূন ২৩ : ৭০)
১১. তিনি আরো বলেন, كِتَابٌ فُصِّلَتْ آيَاتُهُ قُرْآنًا عَرَبِيًّا لِقَوْمٍ يَعْلَمُونَ بَشِيرًا وَنَذِيرًا فَأَعْرَضَ أَكْثَرُهُمْ فَهُمْ لَا يَسْمَعُوْنَ ﴾
“এটা একটি কিতাব। এর আয়াতসমূহ আরবী কুরআনরূপে জ্ঞানী লোকেদের জন্য বিশদভাবে বর্ণনা করা হয়েছে সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী রূপে। অতঃপর তাদের অধিকাংশ লোক মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, ফলে তারা শুনেও না।” (সূরাহ্ আস্ সাজদাহ্ ৩২ : ৩-৪)
১২. তিনি আরো বলেন, أَمْ تَحْسَبُ أَنَّ أَكْثَرَهُمْ يَسْمَعُونَ أَوْ يَعْقِلُونَ إِنْ هُمْ إِلَّا كَالْأَنْعَامِ بَلْ هُمْ أَضَلُّ سَبِيلًا ﴾
“আপনি কি মনে করেন যে, তাদের অধিকাংশ লোক শোনে অথবা বোঝে? তারা তো চতুষ্পদ জন্তুর মতো; বরং তার থেকেও পথভ্রান্ত।” (সূরাহ্ আল ফুরক্বান ২৫: ৪৪)
১৩. তিনি আরো বলেন, وَ لَقَدْ صَرَّفْنٰهُ بَيْنَهُمْ لِيَذَّكَّرُوْا فَاَبٰى اَكْثَرُ النَّاسِ اِلَّا كُفُوْرًا “আর আমি তা তাদের মধ্যে বিভিন্নভাবে বিতরণকারী যাতে তারা স্মরণ করে। কিন্তু অধিকাংশ লোক অকৃতজ্ঞতা ছাড়া কিছুই করে না।” (সূরাহ্ আল ফুরকান ২৫ : ৫০)
১৪. তিনি আরো বলেন, يُلْقُوْنَ السَّمْعَ وَ اَكْثَرُهُمْ كٰذِبُوْنَ “তারা শ্রুত কথা এনে দেয় এবং তাদের অধিকাংশই মিথ্যাবাদী।” (সূরাহ্ আশ্ শু'আরা ২৬ : ২২৩)
১৫. তিনি আরো বলেন, وَ لٰكِنَّ اَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَشْكُرُوْنَ “কিন্তু অধিকাংশ মানুষই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না।” (সূরাহ্ ইউসুফ ১২ : ৩৮)
১৬. তিনি আরো বলেন, وَ لٰكِنَّ اَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُوْنَ “কিন্তু অধিকাংশ মানুষই জ্ঞানহীন।” (সূরাহ্ আল আনফাল ৮: ৩৪, আল জা-সিয়াহ্ ৪৫ : ২৬, আন্ নাহ্ল ১৬: ৩৮, ৭৫, ১০১; আর্ রূম ৩০ : ৬, ৩০, ইফসুফ ১২ : ২১, ৪০, ৬৮; সাবা- ৩৪ : ২৮, ৩৬; আল মু'মিন / গাফির ৪০ : ৫৭)
১৭. তিনি আরো বলেন, يَعْرِفُوْنَ نِعْمَتَ اللّٰهِ ثُمَّ يُنْكِرُوْنَهَا وَ اَكْثَرُهُمُ الْكٰفِرُوْنَ “তারা আল্লাহর নি'আমত বা অনুগ্রহ চিনে, এরপর তারা অস্বীকার করে এবং তাদের অধিকাংশই কাফির।” (সূরাহ্ আন্ নাহ্ন ১৬ : ৮৩)
১৮. তিনি আরো বলেন, وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يُؤْمِنُونَ ) “কিন্তু অধিকাংশ লোকই ঈমানদার না।” (সূরাহ্ হুদ ১১ : ১৭, আল আ'রাফ ৭ : ১৮৭)
১৯. তিনি আরো বলেন, وَمَا يَتَّبِعُ أَكْثَرُهُمْ إِلَّا ظَنَّا إِنَّ الظَّنَّ لَا يُغْنِي مِنَ الْحَقِّ شَيْئًا ) “আর তাদের অধিকাংশই শুধু আন্দাজ-অনুমানের উপর চলে, অথচ আন্দাজ-অনুমান সত্যের বেলায় কোন কাজেই আসবে না।” (সূরাহ্ ইউনুস ১০ : ৩৬)
২০. শয়তান আল্লাহ তা'আলাকে বলেছিল, وَلَا تَجِدُ أَكْثَرَهُمْ شَاكِرِينَ ) “আপনি তাদের অধিকাংশ লোককে কৃতজ্ঞ পাবেন না।” (সূরাহ্ আল আ'রাফ ৭ : ১৭)
২১. তিনি আরো বলেন, وَأَكْثَرُهُمْ لَا يَعْقِلُونَ ) “তাদের অধিকাংশেরই বিবেক বুদ্ধি নেই।” (সূরাহ্ আল মায়িদাহ্ ৫ : ১০৩, আল 'আনকাবূত ২৯ : ৬৩)
২২. তিনি আরো বলেন, وَأَنَّ أَكْثَرَكُمْ فَاسِقُونَ ) “আর তোমাদের অধিকাংশই ফাসিক।” (সূরাহ্ আল মায়িদাহ্ ৫ : ৫৯, আ-লি 'ইমরান ৩ : ১১০, আত্ তাওবাহ্ ৯ : ৮)
২৩. তিনি আরো বলেন, إِنَّ اللَّهَ لَذُو فَضْلٍ عَلَى النَّاسِ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَشْكُرُونَ )
“নিশ্চয় আল্লাহ মানুষের ওপর অনুগ্রহকারী। কিন্তু অধিকাংশ লোক শুকরিয়া আদায় করে না।” (সূরাহ্ আল বাক্বারাহ্ ২: ২৪৩, আল মু'মিন / গাফির ৪০: ৬১, ইউনুস ১০: ৬০)
২৪. তিনি আরো বলেন, وَيَوْمَ يَحْشُرُهُمْ جَمِيعًا ثُمَّ يَقُولُ لِلْمَلَئِكَةِ أَهْؤُلَاءِ إِيَّاكُمْ كَانُوا يَعْبُدُونَ ) قَالُوا سُبْحَانَكَ أَنْتَ وَلِيُّنَا مِنْ دُونِهِمْ بَلْ كَانُوا يَعْبُدُونَ الْجِنَّ أَكْثَرُهُمْ بِهِمْ مُؤْمِنُونَ
“যেদিন তিনি তাদের সবাইকে একত্রিত করবেন এবং ফেরেশতাদেরকে বলবেন, এরা কি তোমাদেরই 'ইবাদাত বা পূজা করত? ফেরেশতারা বলবে, আপনি পবিত্র আমরা আপনার পক্ষে, তাদের পক্ষে নই, বরং তারা জিনদের পূজা করত। তাদের অধিকাংশই শয়তানে বিশ্বাসী।” (সূরাহ্ সাবা ৩৪ : ৪০-৪১)
২৫. তিনি আরো বলেন, لَقَدْ حَقَّ الْقَوْلُ عَلَى أَكْثَرِهِمْ فَهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ ﴾
“তাদের অধিকাংশের জন্য শাস্তির বিষয় অবধারিত হয়েছে। সুতরাং তারা বিশ্বাস স্থাপন করবে না।” (সূরাহ্ ইয়াসীন ৩৬ : ৭)
২৬. তিনি আরো বলেন, لَقَدْ جِئْنَاكُمْ بِالْحَقِّ وَلَكِنَّ أَكْثَرَكُمْ لِلْحَقِّ كَارِهُونَ ﴾
“আমি তোমাদের কাছে সত্য ধর্ম পৌঁছিয়েছি, কিন্তু তোমাদের অধিকাংশই হাক্বকে অপছন্দ করে।” (সূরাহ্ আয যুখরুফ ৪৩ : ৭৮)
২৭. তিনি আরো বলেন, وَلَقَدْ صَرَّفْنَا لِلْناسِ فِي هَذَا الْقُرْآنِ مِنْ كُلِّ مَثَلٍ فَأَبِي أَكْثَرُ النَّاسِ إِلَّا كُفُورًا ﴾
"আমি এই কুরআনে মানুষকে বিভিন্ন উপকার দ্বারা সবরকম বিষয়বস্তু বুঝিয়েছি। কিন্তু অধিকাংশ লোকই অস্বীকার না করে থাকেনি।” (সূরাহ্ বানী ইসরাঈল ১৭: ৮৯)
২৮. তিনি আরো বলেন,
وَلَقَدْ أَنْزَلْنَا إِلَيْكَ آيَاتٍ بَيِّنَاتٍ وَمَا يَكْفُرُ بِهَا إِلَّا الْفُسِقُوْنَ أَوَ كُلَّمَا عَاهَدُوا عَهْدًا نَبَذَةً فَرِيقٌ مِّنْهُمْ بَلْ أَكْثَرُهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ “আমি আপনার প্রতি উজ্জল নিদর্শনসমূহ অবতীর্ণ করেছি। অবাধ্যরা ব্যতীত কেউ এগুলো অস্বীকার করে না। কি আশ্চর্য! যখন তারা কোন অঙ্গীকার-চুক্তিতে আবদ্ধ হয় তখন তাদের একদল চুক্তিপত্র ছুড়ে ফেলে। বরং তাদের অধিকাংশ লোকই ঈমানদার নয়।” (সূরাহ্ আল বাক্বারাহ্ ২ : ৯৯- ১০০)
২৯. তিনি আরো বলেন,
وَلَكِنَّ أَكْثَرَهُمْ يَجْهَلُونَ “কিন্তু তাদের অধিকাংশ লোকই মূর্খ।” (সূরাহ্ আল আন'আম ৬ : ১১১)
৩০. তিনি আরো বলেন,
وَمَا وَجَدْنَا لِأَكْثَرِهِمْ مِنْ عَهْدٍ وَإِنْ وَجَدْنَا أَكْثَرَهُمْ لَفَاسِقِينَ “আর তাদের অধিকাংশ লোককেই আমি প্রতিজ্ঞা বাস্তবায়নকারী রূপে পাইনি, বরং তাদের অধিকাংশ লোককে ফাসিক বা হুকুম অমান্যকারী পেয়েছি।” (সূরাহ্ আল আ'রাফ ৭ : ১০২)
৩১. তিনি আরো বলেন,
كَانَ أَكْثَرُهُمْ مُشْرِكِينَ “তাদের অধিকাংশ লোকই মুশরিক ছিল।” (সূরাহ্ আর্ রূম ৩০ : ৪২)
📄 অল্প সংখ্যক লোকই নাজাতপ্রাপ্ত
মহান আল্লাহ তা'আলা কুরআনুল কারীমে অসংখ্য আয়াতে যেমন অধিকাংশ লোকের খারাবী বর্ণনা করেছেন, তেমনভাবে আবার অল্পসংখ্যক লোকের হাক্ব বা ভালোর উপর থাকবে তাও বহু সংখ্যক আয়াতে আলোচনা করেছেন। আমরা তার থেকে কিছু আয়াতে কারীমাসহ উল্লেখ করেছি।
১. আল্লাহ তা'আলা বলেন, وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ ثُمَّ تَوَلَّيْتُمْ إِلَّا قَلِيلًا مِّنْكُمْ وَأَنْتُمْ مُعْرِضُونَ ﴾ “তোমরা সলাত প্রতিষ্ঠা করবে এবং যাকাত প্রদান করবে, অতঃপর অল্প সংখ্যক লোক ব্যতীত তোমরা মুখ ফিরিয়ে নিলে, তোমরাই অগ্রাহ্যকারী।” (সূরাহ্ আল বাক্বারাহ্ ২ : ৮৩)
২. তিনি আরো বলেন, وَقَالُوا قُلُوبُنَا غُلْفٌ بَلْ لَعَنَهُمُ اللهُ بِكُفْرِهِمْ فَقَلِيلًا مَّا يُؤْمِنُونَ ﴾ “তারা বলে, আমাদের অন্তর অর্ধাবৃত বরং তাদের কুফরের কারণে আল্লাহ অভিসম্পাত করেছেন। অতএব তারা অল্পলোেকই ঈমান আনে।” (সূরাহ্ আল বাক্বারাহ্ ২ : ৮৮)
৩. তিনি আরো বলেন, فَلَمَّا كُتِبَ عَلَيْهِمُ الْقِتَالُ تَوَلَّوْا إِلَّا قَلِيلًا مِّنْهُمْ وَاللَّهُ عَلِيمٌ بِالظَّالِمِينَ ﴾ “অতঃপর যখন তাদের ওপর কিতাল বা সংগ্রামকে ফার্য করা হল তখন তাদের অল্প সংখ্যক ব্যতীত মুখ ফিরিয়ে নিল। আর আল্লাহ যালিমদের সম্পর্কে অধিক অবগত আছেন।” (সূরাহ্ আল বাক্বারাহ্ ২ : ২৪৬)
৪. তিনি আরো বলেন,
فَلَمَّا فَصَلَ طَالُوتُ بِالْجُنُودِ قَالَ إِنَّ اللَّهَ مُبْتَلِيْكُمْ بِنَهَرٍ فَمَنْ شَرِبَ مِنْهُ فَلَيْسَ مِنِّي وَمَنْ لَمْ يَطْعَمْهُ فَإِنَّهُ مِنِّي إِلَّا مَنِ اغْتَرَفَ غُرْفَةً بِيَدِهِ فَشَرِبُوا مِنْهُ إِلَّا قَلِيلًا مِّنْهُمْ فَلَمَّا جَاوَزَةً هُوَ وَالَّذِينَ آمَنُوا مَعَهُ قَالُوا لَا طَاقَةَ لَنَا الْيَوْمَ بِجَالُوتَ وَجُنُودِهِ قَالَ الَّذِينَ يَظُنُّونَ أَنَّهُمْ مُلَاقُو اللَّهِ كَمْ مِنْ فِئَةٍ قَلِيلَةٍ غَلَبَتْ فِئَةً كَثِيرَةً بِإِذْنِ اللَّهِ وَاللَّهُ مَعَ الصَّابِرِينَ ﴾
“অতঃপর তালুত যখন সৈন্য সামান্ত নিয়ে বের হল তখন তিনি বললেন, নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদেরকে একটি নদীর মাধ্যমে পরীক্ষা করবেন। সুতরাং যে লোক সেই নদীর পানি পান করবে সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়। আর যে লোক তার স্বাদ গ্রহণ করবে না নিশ্চয় সে আমার অন্তর্ভুক্ত লোক। তবে যে লোক হাতের আজলা ভরে সামান্য খেয়ে নিবে তার কোন দোষ নেই। অতঃপর অল্প সংখ্যক লোক ব্যতীত সবাই পানি পান করল। পরে তালুত যখন তা পার হল এবং তার সাথে অল্প সংখ্যক ঈমানদার ছিল। তখন তারা অধিকাংশ বলতে লাগলো, আজকের দিনে জালুত এবং তার সেনাবাহিনীর সাথে যুদ্ধ করার শক্তি আমাদের নেই। যাদের ধারণা ছিল যে, আল্লাহর সাথে একদিন সাক্ষাত করতে হবে তারা বলতে লাগল, আল্লাহর হুকুমে অল্প সংখ্যক দলই বিরাট দলের মোকাবিলায় বিজয়ী হয়েছে। আর আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে রয়েছেন।” (সূরাহ্ আল বাক্বারাহ্ ২ : ২৪৯)
৫. তিনি আরো বলেন, فَلَا يُؤْمِنُونَ إِلَّا قَلِيلًا )
“অতএব অল্পসংখ্যক লোক ব্যতীত তারা ঈমান আনবে না।” (সূরাহ্ আন্ নিসা ৪ : ৪৬, ১৫৫)
৬. তিনি আরো বলেন, وَلَا تَزَالُ تَطَّلِعُ عَلَى خَائِنَةٍ مِّنْهُمْ إِلَّا قَلِيلًا مِّنْهُمْ ﴾
"আপনি তাদের অল্প সংখ্যক ব্যতীত তাদের পক্ষ থেকে কোন না কোন প্রতারণা সম্পর্কে অবগত হচ্ছেন।” (সূরাহ্ আল মায়িদাহ্ ৫ : ১৩)
৭. তিনি আরো বলেন, ﴿مَا فَعَلُوهُ إِلَّا قَلِيلٌ مِّنْهُمْ ﴾ “তাদের অল্প সংখ্যক লোক ব্যতীত আল্লাহর নির্দেশকে বাস্তবায়ন করতো না।” (সূরাহ্ আন্ নিসা ৪ : ৬৬)
৮. তিনি আরো বলেন, ﴿وَمَا آمَنَ مَعَهُ إِلَّا قَلِيلًا ﴾ “বলাবাহুল্য অল্প সংখ্যক লোকই তার সাথে ঈমান এনেছিল।” (সূরাহ্ হুদ ১১ : ৪০)
৯. তিনি আরো বলেন, ﴿إِلَّا قَلِيلًا مِّمَّنْ أَنْجَيْنَا مِنْهُمْ﴾ “তবে অল্প সংখ্যক লোক যাদেরকে আমি তাদের মধ্য থেকে রক্ষা করেছি।” (সূরাহ্ হুদ ১১ : ১১৬)
১০. তিনি আরো বলেন, ﴿لَئِنْ أَخَّرْتَنِ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ لَأَحْتَنِكَنَّ ذُرِّيَّتَهُ إِلَّا قَلِيلًا﴾ “(শয়তান বলল) যদি আপনি আমাকে ক্বিয়ামাত দিবস পর্যন্ত অবকাশ দেন, তাহলে অল্প সংখ্যক ব্যতীত আদমের বংশধরদেরকে সমূলে নষ্ট করে দিব।” (সূরাহ্ বানী ইসরাঈল ১৭ : ৬২)
১১. তিনি আরো বলেন, ﴿إِلَّا الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ وَقَلِيلٌ مَّا هُمْ﴾ “তবে তারা করে না যারা আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে, অবশ্য এমন লোকেদের সংখ্যা খুবই অল্প।” (সূরাহ্ সোয়াদ ৩৮ : ২৪)
৩২. তিনি আরো বলেন, وَإِنَّ كَثِيرًا مِّنَ النَّاسِ لَفَاسِقُونَ ﴾ ٤٩ “মানুষের মধ্যে অনেক লোকই ফাসিক্ব।” (সূরাহ্ আল মায়িদাহ্ ৫ : ৪৯)
১২. তিনি আরো বলেন, ﴿ وَقَلِيلٌ مِّنْ عِبَادِيَ الشَّكُورُ ﴾ “আমার বান্দাদের মধ্যে অল্পসংখ্যক লোকই কৃতজ্ঞ।” (সূরাহ্ সোয়াদ ৩৮ : ১৩)
📄 হাদীসেও মহানবী ﷺ অল্প সংখ্যক লোকেদের নাজাতের কথাই বলেছেন...
عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ ل، عَنِ النَّبِيِّ لا أَنَّهُ قَالَ : لَنْ يَبْرَحَ هَذَا الدِّينُ قَائِمًا، يُقَاتِلُ عَلَيْهِ عِصَابَةٌ مِّنَ الْمُسْلِمِينَ، حَتَّى تَقُومَ السَّاعَةُ.
'আলায়হি ওয়াসাল্লাম জাবির বিন সামুরাহ নাবী হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি () বলেছেন: মুসলিমদের থেকে অল্প সংখ্যক লোকই এই দ্বীন বা মাযহাবের উপর সর্বদা প্রতিষ্ঠিত থেকে ক্বিয়ামাত পর্যন্ত সংগ্রাম চালিয়ে যাবে। (মুসলিম- হাঃ ১৭২-[১৯২২])
عَنِ عَبْدِ اللهِ ابْنِ عُمَرَ ل، عَنِ النَّبِيِّ لا قَالَ: إِنَّ الْإِسْلَامَ بَدَأَ غَرِيبًا وَسَيَعُودُ غَرِيبًا كَمَا بَدَأَ ، وَهُوَ يَأْرِزُ بَيْنَ الْمَسْجِدَيْنِ، كَمَا تَأْرِزُ الْحَيَّةُ فِي جُحْرِهَا.
'আনহু ওরাসাল্লাম 'আবদুল্লাহ বিন উমার নাবী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি ( () বলেছেন, নিশ্চয় ইসলাম গরিবী অবস্থায় অর্থাৎ অল্প সংখ্যক লোকেদের মধ্যে ফিরে যাবে, যেভাবে অল্প লোক দ্বারা সূচনা হয়েছিল এবং সেই গরিবী ইসলাম দুই মাসজিদ অর্থাৎ মাসজিদে হারাম বা কাবা মাসজিদ এবং মাসজিদে নববীর মাঝের লোকেদের মধ্যে সঠিক অবস্থায় প্রত্যাবর্তন করবে। যেভাবে সাপ তার গর্তে ফিরে যায়। (মুসলিম- ২৩২-[১৪৬])
عَبْدَ اللهِ بْنَ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِى، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ل ذَاتَ يَوْمٍ وَنَحْنُ عِنْدَهُ: قَلَ رَسُولُ اللهِ ل : بَدَأَ الإِسْلَامُ غَرِيبًا وَسَيَعُودُ كَمَا بَدَأَ طُوبُى
لِلْغُرَبَاءِ»، فَقِيلَ: مَنِ الْغُرَبَاءُ يَا رَسُولَ اللهِ ؟ قَالَ: «أُنَاسٌ صَالِحُونَ، فِي أُنَاسِ سُوءٍ كَثِيرٍ، مَنْ يَعْصِيهِمْ أَكْثَرُ مِمَّنْ يُطِيعُهُمْ».
'আবদুল্লাহ ইবনু 'আম্র ইবনুল 'আসা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ বলেছেন: দ্বীন ইসলামের সূচনা গরিবী অবস্থায় ঘটেছে। আর সূচনায় যেমন ঘটেছিল পুনরায় সেরূপ ঘটবে। অতএব গরীবরাই সৌভাগ্যবান। জিজ্ঞেস করা হলো, গরিবের তাৎপর্য কি? বা গরিব কারা? তিনি () বলেন, অধিক সংখ্যক দুষ্ট লোকেদের মাঝখানে মুষ্টিমেয় সৎলোক। অনুগত দল অপেক্ষা অবাধ্য দলের সংখ্যা বেশি হবে। (মুসনাদে আহমাদ ৬৬৫০, ৭০৭২ : হাসান লিগয়রিহী)
রসূলুল্লাহ ও তার সহাবীগণ যে দলের অনুসারী ছিলেন একমাত্র সেটিই মুক্তিপ্রাপ্ত দল এবং অধিকাংশ লোকই যে জাহান্নামী ও সামান্য সংখ্যক যে হাক্বের উপর প্রতিষ্ঠিত তার জ্বলন্ত প্রমাণ নিম্নের হাদীস:
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ : لَيَأْتِيَنَّ عَلَى أُمَّتِي كَمَا أَتَى عَلَى بَنِي إِسْرَائِيلَ حَذْوَ النَّعْلِ بِالنَّعْلِ، حَتَّى إِنْ كَانَ مِنْهُمْ مَنْ أَتَى أُمَّةً عَلَانِيَةً لَكَانَ فِي أُمَّتِي مَنْ يَصْنَعُ ذَلِكَ، وَإِنَّ بَنِي إِسْرَائِيلَ تَفَرَّقَتْ عَلَى ثِنْتَيْنِ وَسَبْعِينَ مِلَّةً، وَتَفْتَرِقُ أُمَّتِي عَلَى ثَلَاثٍ وَسَبْعِينَ مِلَّةً، كُلُّهُمْ فِي النَّارِ إِلَّا مِلَّةً وَاحِدَةً ، قَالُوا: وَمَنْ هِيَ يَا رَسُولَ اللهِ؟ قَالَ: مَا أَنَا عَلَيْهِ وَأَصْحَابِي.
'আবদুল্লাহ বিন 'আম্র হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রসূলুল্লাহ বলেছেন : অবশ্যই আমার উম্মাতের ওপর এমন এক পর্যায় আসবে, যেরূপ অবস্থা হয়েছিল বনী ইসরাঈলদের। ... আর নিশ্চয় বানী ইসরাঈলরা বাহাত্তর দলে বিভক্ত হয়েছিল আর আমার উম্মাতবিভক্ত হবে তিহাত্তর দলে। তাদের থেকে এক দল ব্যতীত সকল দলই জাহান্নামে যাবে। সহাবীগণ বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ! যে দলটি জান্নাতে যাবে সে দল
কোনটি? নাবী বললেন, আমি ও আমার সহাবীগণ যে দলের ওপর আছি, সে দলটিই জান্নাতে যাবে এবং এ দলের ওপর যাঁরা অবিচল থাকবে। (তিরমিযী- হাঃ ২৬৪১: হাসান)
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ : «تَفْتَرِقُ هَذِهِ الْأُمَّةُ عَلَى ثَلَاثٍ وَسَبْعِينَ فِرْقَةً كُلُّهُمْ فِي النَّارِ إِلَّا وَاحِدَةً». قَالُوا: وَمَا هِيَ تِلْكَ الْفِرْقَةُ؟ قَالَ: «مَا أَنَا عَلَيْهِ الْيَوْمَ وَأَصْحَابِي».
আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : আমার উম্মাত তেহাত্তর দলে বিভক্ত হয়ে যাবে। তাদের মধ্যে একদল ব্যতীত সকল দলই জাহান্নামী। সহাবীগণ রদিয়াল্লাহু আনহুমা জিজ্ঞেস করলেন, সে জান্নাতী দল কোনটি? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আমি এবং আমার সহাবীরা আজকের দিনে যে পথের উপর অটল আছি সে দলটিই জান্নাতী। (ত্ববারানী সগীর- হাঃ ৭২৪, মিফতাহুল জান্নাহ্ ৫৮ পৃষ্ঠা)
📄 শির্কের অপর নাম যুল্ম
যুগ্ম বলা হয় কোন বস্তুকে তার আসল জায়গায় না রেখে ঐ স্থানে অন্য কোন জিনিসকে রাখা। সুতরাং যে গায়রুল্লাহর 'ইবাদাত করে সে মূলত 'ইবাদাতকে তার আসল জায়গায় না রেখে 'ইবাদাত পাওয়ার উপযুক্ত নয় এমন কারো উদ্দেশে তা নিবেদন করে। আর এটাই হল সবচেয়ে বড় যুগ্ম এবং অন্যায়। আল্লাহ তা'আলা বলেন :
﴿إِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيمٌ ﴾ “নিশ্চয় শির্ক হল বড় যুগ্ম।” (সূরাহ্ লুক্বমান ৩১ : ১৩) অত্র আয়াতের ব্যাখ্যা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এভাবে করেছেন,
عَنْ عَبْدِ اللهِ ابْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ: لَمَّا نَزَلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ: ﴿الَّذِينَ آمَنُوا وَلَمْ يَلْبَسُوا ﴾ [سورة الأنعام) إِيمَانَهُمْ بِظُلْمٍ شَقَّ ذُلِكَ عَلَى النَّاسِ، وَقَالُوا : يَا رَسُولَ
اللهِ، فَأَيُّنَا لَا يَظْلِمُ نَفْسَهُ؟ قَالَ: إِنَّهُ لَيْسَ الَّذِي تَعْنُونَ، أَلَمْ تَسْمَعُوا مَا قَالَ الْعَبْدُ الصَّالِحُ: ﴿يَا بُنَيَّ لَا تُشْرِكْ بِاللَّهِ إِنَّ الشِّرْ كَلَظُلْمٌ عَظِيمٌ ﴾ [سورة لقمان] إِنَّمَا هُوَ الشرك.
'আবদুল্লাহ বিন মাস্'উদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন এ আয়াত নাযিল হল, “যারা ঈমান আনে এবং স্বীয় বিশ্বাসকে যুল্মের সাথে মিশ্রিত করে না”- (সূরাহ্ আল আন'আম ৬ : ৮২)। এটা লোকেদের ওপর কঠিন হয়ে পড়ল, তারা বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমাদের মধ্যে কে যুল্ম করে না? নাবী (সাঃ) বললেন, যারা যুল্ম করে না তারা হলো ঐ অনুগত লোক, তোমরা কি শুননি সৎ বান্দা যা বলছে, “হে আমার ছেলে আল্লাহর সাথে শির্ক করো না, নিশ্চয় শিকই হচ্ছে বড় যুল্ম”- (সূরাহ্ লুক্বমান ৩১ : ১৩)। সে যুল্মই হলো শির্ক। (বুখারী- হাঃ ৩৪২৯, মুসনাদে আহমাদ হাঃ ৩৫৮৯, মুসলিম- হাঃ ১৯৭-[১২৪], ইবনু কাসীর- ১ম খণ্ড, ২০৬ পৃষ্ঠা)
عَن أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ (রাঃ) وَبِإِسْنَادِهِ، عَنِ النَّبِيِّ (ﷺ) قَالَ: الظُّلْمُ ثَلَاثَةٌ فَظُلْمٌ لَا يَغْفِرُ اللهُ وَظُلْمٌ يَغْفِرَهُ اللهُ وَظُلْمٌ لَا يَتْرُكُهُ اللهُ فَأَمَّا الظُّلْمُ الَّذِي لَا يَغْفِرُهُ اللَّهُ فالشرك، وقال اللهُ ﴿إِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيمِ﴾ وَأَمَّا الظُّلْمُ الَّذِي يَغْفِرُهُ اللَّهُ فَظُلْمُ الْعِبَادِ لِأَنْفُسِهِمْ فِيمَا بَيْنَهُمْ وَبَيْنَ رَبِّهِمْ وَأَمَّا الظُّلْمُ الَّذِي لَا يَتْرُكُهُ اللهُ فَظُلْمُ الْعِبَادِ بَعْضَهُمْ بَعْضًا حَتَّى يَدِينَ لِبَعْضِهِمْ مِنْ بَعْضٍ.
আনাস বিন মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি নাবী (ﷺ) হতে বর্ণনা করেন, তিনি (ﷺ) বলেছেন: যুল্মের ফলাফল তিন প্রকার। ১. এক প্রকার যুল্ম আল্লাহ ক্ষমা করবেন না। ২. এক প্রকার যুল্ম আল্লাহ ক্ষমা করবেন। ৩. আর এক প্রকার যুল্ম আল্লাহ ছেড়ে দিবেন না।
১- যে যুল্ম আল্লাহ ক্ষমা করবেন না, তা হচ্ছে শির্ক আর আল্লাহ বলেন, নিশ্চয় শিক্ হচ্ছে বড় যুল্ম।
২- যে যুলম আল্লাহ ক্ষমা করবেন। তা হচ্ছে বান্দার যুলুম। যা সে তার নিজের সাথে এবং তার প্রভুর সাথে করে।
৩- যে যুলম আল্লাহ ছেড়ে দিবেন না। তা হচ্ছে, বান্দার যুলুম; যা তাদের মধ্যে একে অপরের সাথে করে, এমনকি একে অপরের কাছে ঋণী হয়ে যায়। (মুসনাদে বাযযার হাঃ ৬৪৯৩, ইবনু কাসীর ১ম খণ্ড ৬৭৬ পৃষ্ঠা)
عَنْ أَبِي ذَرٍّ، عَنِ النَّبِيِّ , فِيمَا رَوَى عَنِ اللَّهِ تَبَارَكَ وَتَعَالَى أَنَّهُ قَالَ: يَا عِبَادِي إِنِّي حَرَّمْتُ الظُّلْمَ عَلَى نَفْسِي، وَجَعَلْتُهُ بَيْنَكُمْ مُحَرَّمًا، فَلَا تُظَالِمُوا.
আবূ যার হতে বর্ণিত। তিনি নাবী হতে বর্ণনা করেন, যা তিনি () বলেছেন: মহান আল্লাহ বলেন, হে আমার বান্দারা! আমি আমার ওপর যুলম হারাম করে দিয়েছি এবং তোমাদের মধ্যেও তা হারাম করে দিয়েছি। অতএব তোমরা যুলম করো না। (মুসলিম- হাঃ ৫৫-[২৫৭৭], মিশকাত- হাঃ ২৩২৬)
যালিমের পরিচয় দিয়ে আল্লাহ বলেন, وَمَنْ يَتَعَدَّ حُدُودَ اللَّهِ فَأُولَئِكَ هُمُ الظَّلِمُونَ )
“আর যারা আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত সীমালঙ্ঘন করবে তারাই হলো যালিম।” (সূরাহ্ আল বাক্বারাহ্ ২ : ২২৯)
মহান আল্লাহ আরো বলেন, وَمَنْ لَّمْ يَحْكُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللهُ فَأُولَئِكَ هُمُ الظَّلِمُونَ )
“যেসব লোক আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তদানুযায়ী ফায়সালা করে না, তারাই যালিম।” (সূরাহ্ আল মায়িদাহ্ ৫ : ৪৫)
আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন, وَالْكُفِرُونَ هُمُ الظَّلِمُونَ )
“বরং কাফিররাই হল প্রকৃত যালিম।” (সূরাহ্ আল বাক্বারাহ্ ২ : ২৫৪)
بَلِ الظَّالِمُونَ فِي ضَلَالٍ مُّبِينٍ ))
“বরং যালিমরা স্পষ্ট পথভ্রষ্ট।” (সূরাহ্ লুক্বমান ৩১ : ১১)
وَمَا لِلظَّالِمِينَ مِنْ أَنْصَارٍ )
“আর যালিমদের কোন সাহায্যকারী থাকবে না।” (সূরাহ্ আল মায়িদাহ্ ৫ : ৭২)
উপরোক্ত আলোচনা থেকে বুঝা গেল, যারা মুশরিক তারা যালিম এবং যারা কাফির তারাও যালিম। অতএব যে কাফির সে যালিম। আর যে যালিম সে মুশরিক। আর মুশরিকদের জন্য আল্লাহ তা'আলা জান্নাত হারাম করে দিয়েছেন। মহান আল্লাহ আমাদেরকে এ সকল ফিতনা থেকে রক্ষা করুন, আমীন।