📄 মহান আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা সত্ত্বেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে মুসলিম কেন মুশরিক?
﴿وَمَا يُؤْمِنُ أَكْثَرُهُمْ بِاللَّهِ إِلَّا وَهُمْ مُشْرِكُونَ ﴾
“অধিকাংশ লোক আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা সত্ত্বেও মুশরিক।” (সূরাহ্ ইউসুফ ১২ : ১০৬)
'আল্লামাহ্ ইবনু কাসীর (রহঃ) তাঁর তাফসীর গ্রন্থে (২য় খণ্ডে ৬৪৯- ৬৫১ পৃষ্ঠা) এ আয়াতের যে তাফসীর বা ব্যাখ্যা করেছেন তা পাঠকদের খিদমাতে হুবহু পেশ করছি :
قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: مِنْ إِيْمَانِهِمْ أَنَّهُمْ إِذَا قِيْلَ لَهُمْ مَنْ خَلَقَ السَّمَوَاتِ وَمَنْ خَلَقَ الْأَرْضَ وَمَنْ خَلَقَ الْجِبَالَ ؟ قَالُوا : اللهُ وَهُمْ مُشْرِكُونَ بِهِ وَكَذَا قَالَ مُجَاهِدٌ وَعَطَاءٌ وَعِكْرِمَةُ وَالشَّعْبِيُّ وَقَتَادَةَ وَالضَّحَاكَ وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ زَيْدِ بْنُ أَسْلَم.
'আনহু 'আবদুল্লাহ বিন 'আব্বাস বলেছেন, তারা ঈমানের সাথে মুশরিক, যখন তাদেরকে বলা হয়: আসমান, জমিন, পাহাড়কে কে সৃষ্টি করেছেন? তারা বলে, আল্লাহ! তারপরও তারা আল্লাহর সাথে শরীক করে। এমনিভাবে মুজাহিদ, 'আত্বা, 'ইকরিমাহ্, শা'বী, ক্বাতাদাহ্, যাহ্হাক 'আব্দুর রহমান বিন যায়দ বিন আসলামও ব্যাখ্যা করেছেন। বুখারী- ও মুসলিমে রয়েছে মুশরিকরা তালবিয়াহ্ পাঠের সময় বলতো,
لَبَّيْكَ لَا شَرِيكَ لَكَ إِلَّا شَرِيكَ هُوَ لَكَ.
আমি হাযির, তোমার শরীক নেই, কেবলমাত্র তোমার জন্যই শরীক। সহীহ মুসলিমে রয়েছে মুশরিকরা যখন বললো, لَبَّيْكَ لَا شَرِيكَ لَكَ তখন
রসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, যথেষ্ট হয়েছে। যথেষ্ট হয়েছে। এর অতিরিক্ত বলো না।
মহান আল্লাহ রাব্বুল 'আলামীন বলেন, ﴿إِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيمٌ ﴾ “নিশ্চয় শির্ক হচ্ছে বড় যুলম।” (সূরাহ্ লুক্বমান ৩১ : ১৩)
এটা হচ্ছে বড় শির্ক যে আল্লাহর সাথে অন্যের 'ইবাদাত করা। যেমনভাবে বুখারী- মুসলিমে রয়েছে,
عَنْ عَبْدِ اللهِ ابْنُ مَسْعُودٍ، قَالَ: قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَيُّ الذَّنْبِ أَعْظَمُ؟ قَالَ: أَنْ تَجْعَلَ لِلَّهِ نِدًّا وَهُوَ خَلَقَكَ.
'আবদুল্লাহ ইবনু মাস্ঊদ রা. হতে বর্ণিত, আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! সবচেয়ে বড় গুনাহ কোন্টি? তিনি বললেন, আল্লাহর সাথে শরীক করা অথচ তিনিই তোমাকে সৃষ্টি করেছেন।
হাসান বাসরী (রহঃ) অত্র আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, এরা হল মুনাফিক্ব। যখন তারা 'আমল করে লোক দেখানো 'আমল করে। তারা 'আমালের সাথে মুশরিক। অর্থাৎ আল্লাহ বলেন,
﴿إِنَّ الْمُنَافِقِينَ يُخَادِعُونَ اللهَ وَهُوَ خَادِعُهُمْ وَإِذَا قَامُوا إِلَى الصَّلَاةِ قَامُوا كُسَالَى يُرَاءُونَ النَّاسَ وَلَا يَذْكُرُونَ اللَّهَ إِلَّا قَلِيلًا )
“অবশ্যই মুনাফিক্বরা আল্লাহর সাথে প্রতারণা করছে, অথচ তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতারিত করে। যখন তারা সলাতে দাঁড়ায় তখন লোক দেখানোর জন্য একান্ত উদাসীনভাবে দাঁড়ায়। আর তারা আল্লাহকে অল্পই স্মরণ করে।” (সূরাহ্ আন্ নিসা ৪ : ১৪২)
অতঃপর গোপন শির্ক (شِرْكٌ خِفْيٌ) যা সংঘটিত হলে বুঝা যায় না। যেমন বিভিন্ন বিষয়ে হাদীস উল্লেখ করা হচ্ছে,
عَنْ عُرْوَةَ قَالَ : دَخَلَ حُذَيْفَةَ عَلَى مَرِيضٍ فَرَأَى فِي عَضُدِهِ سَيْرًا فَقَطَعَهُ أَوْ انْتَزَعَهُ ثُمَّ قَالَ : وَمَا يُؤْمِنُ أَكْثَرُهُمْ بِاللَّهِ إِلَّا وَهُمْ مُّشْرِكُونَ».
'উরওয়াহ্ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুযায়ফাহ্ এক কবিয়াল্লা- 'আনহু অসুস্থ ব্যক্তির নিকট প্রবেশ করে তার বাহুতে একটি বালা দেখলেন। অতঃপর তিনি তা কেটে ফেললেন অথবা তা খুলে ফেললেন এরপর বললেন, অধিকাংশ লোক আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে তারপরও তারা মুশরিক।
অপর হাদীসে রয়েছে, مَنْ حَلَفَ بِغَيْرِ اللَّهِ فَقَدْ أَشْرَكَ.
যে ব্যক্তি আল্লাহ ব্যতীত অন্যের নামে শপথ করে সে শিক্কই করে। (আবূ দাউদ হাঃ ৩২৫১, তিরমিযী- হাঃ ১৫৩৫ : সহীহ)
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ ابْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ لا يَقُولُ: إِنَّ الرُّقْ وَالتَّمَائِمَ، وَالتَّوَلَةَ شِرْكٌ.
'আবদুল্লাহ ইবনু মাস্'উদয় হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ বলেছেন : ঝাড়ফুঁক, তাবীয ও যাদুটোনা শির্ক। (আবূ দাউদ হাঃ ৩৮৮৩, ইবনু মাজাহ হাঃ ৩৫৩০ : সহীহ)
عَنْ زَيْنَبَ امْرَأَةِ عَبْدِ اللهِ ابْنِ مَسْعُودٍ، قَالَتْ: كَانَ عَبْدُ اللَّهِ إِذَا جَاءَ مِنْ حَاجَةٍ فَانْتَهُى إِلَى الْبَابِ، تَنَحْنَحَ وَبَزَقَ، كَرَاهِيَةَ أَنْ يَهْجُمَ مِنَّا عَلَى شَيْءٍ يَكْرَهُهُ، قَالَتْ: وَإِنَّهُ جَاءَ ذَاتَ يَوْمٍ، فَتَنَحْنَحَ، قَالَتْ: وَعِنْدِي عَجُوزٌ تَرْقِينِي مِنَ الْحُمْرَةِ، فَأَدْخَلْتُهَا تَحْتَ السَّرِيرِ، فَدَخَلَ، فَجَلَسَ إِلَى جَنْبِي، فَرَأَى فِي عُنُقِي خَيْطًا، قَالَ: مَا هُذَا الْخَيْطُ ؟ قَالَتْ: قُلْتُ خَيْطٌ أُرْقِيَ لِي فِيهِ، قَالَتْ: فَأَخَذَهُ فَقَطَعَهُ، ثُمَّ قَالَ: إِنَّ آلَ عَبْدِ اللهِ لَأَغْنِيَاءُ عَنِ الشِّرْكِ، سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ لا يَقُولُ: إِنَّ الرُّقُى، وَالتَّمَائِمَ، وَالتَّوَلَةَ شِرْكٌ.
'আনহা 'আবদুল্লাহ ইবনু মাস্'ঊদ-এর স্ত্রী যায়নাব হতে বর্ণিত।
তিনি বলেন, 'আবদুল্লাহ ইবনু মাস্'ঊদ যখন কোন প্রয়োজনে বাড়িতে আসতেন তখন দরজার কাছে এসেই গলা খাঁকার দিতেন ও থুথু ফেলতেন। কারণ হঠাৎ আমাদের নিকট নিন্দনীয় কাজের অবস্থায় প্রবেশ করা তিনি অপছন্দ করতেন। যায়নাব বলেন, একদিন তিনি আসলেন এবং গলা খাকার দিলেন। আর আমার নিকট এক বুড়ি আমাকে ফোড়ার কারণে ঝাড়ফুঁক করছে। বুড়িকে আমি তখন খাটের নীচে প্রবেশ করালাম। যায়নাব বলেন, তিনি প্রবেশ করে আমার ডান পাশে বসলেন এবং আমার গলায় তাগা দেখলেন। অতঃপর তিনি বললেন, এটা 'আনুহা যিয়াল্লা- 'আনুহা 'আনুহা কিসের তাগা? যায়নাব বলেন, আমি বললাম, এ তাগায় আমার জন্য ঝাড়ফুঁক দেয়া হয়েছে। তিনি তাগা ধরে কেটে ফেললেন। অতঃপর বললেন, 'আবদুল্লাহর পরিবার শির্ক হতে মুক্ত। আমি রসূলুল্লাহ-আলায়হি-কে বলতে শুনেছি, ঝাড়ফুঁক তাজিব, যাদুটোনা করা শিক্। (মুসনাদে আহমাদ হাঃ ৩৬১৫ : সহীহ লিগয়রিহী)
عَنْ عِيسَى بْنِ عَبْدِ الرَّحْمٰنِ قَالَ: دَخَلْنَا عَلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُكَيْمٍ وَهُوَ مَرِيضٌ نَعُودُهُ فَقِيلَ لَهُ: لَوْ تَعَلَّقْتَ شَيْئًا، فَقَالَ: أَتَعَلَّقُ شَيْئًا، وَقَدْ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ: مَنْ تَعَلَّقَ شَيْئًا وُكِّلَ إِلَيْهِ.
'ঈসা ইবনু 'আবদুর রহমান হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রুগী দেখার জন্য 'আবদুল্লাহ বিন 'উকায়ম-এর নিকট প্রবেশ করলাম। তিনি অসুস্থ ছিলেন। তাকে বলা হল যদি কিছু ঝুলিয়ে রাখতেন। তিনি বললেন, আমি কিছু ঝুলিয়ে রাখব অথচ রসূলুল্লাহ বলেছেন, যে ব্যক্তি কিছু ঝুলিয়ে রাখবে তা তার ওপরই অর্পিত হবে। 'আলায়হি ওয়াসাল্লাম (আহমাদ হাঃ ১৮৭৮১ : হাসান লিগয়রিহী)
الله عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ ، قَالَ : سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يَقُولُ: مَنْ تَعَلَّقَ تَمِيمَةً، فَقَدْ أَشْرَكَ وَفِي رَوَايَةِ مَنْ تَعَلَّقَ تَمِيمَةً فَلَا أَتَمَّ اللَّهُ لَهُ، وَمَنْ تَعَلَّقَ وَدَعَةً، فَلَا وَدَعَ اللهُ لَهُ.
'উক্ববাহ্ ইবনু 'আমির হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ বলেছেন, যে ব্যক্তি তাবীয ঝুলিয়ে রাখল সে শির্ক করল। অন্য বর্ণনায় রয়েছে যে, ব্যক্তি তাবীয ঝুলিয়ে রাখবে আল্লাহ তাকে পূর্ণতা দিবেন না। আর যে ব্যক্তি কড়ি ব্যবহার করবে, আল্লাহ তাকে মঙ্গল দান করবেন না। (মুসনাদে আহমাদ হাঃ ১৭৪০৪ : হাসান)
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ : قَالَ اللهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى: أَنَا أَغْنَى الشُّرَكَاءِ عَنِ الشِّرْكِ، مَنْ عَمِلَ عَمَلًا أَشْرَكَ فِيهِ مَعِى غَيْرِي، تَرَكْتُهُ وَشِرْكة.
'আনহু 'আলায়হি
আবূ হুরায়রাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ কে বলতে শুনেছি, আল্লাহ তা'আলা বলেন, আমি শির্কের শরীক হতে অমুখাপেক্ষী, কোন ব্যক্তি কোন 'আমাল করল, আর তাতে আমার সাথে অন্যকে শরীক করল সে 'আমাল ও শিককে আমি প্রত্যাখ্যান করেছি। (মুসলিম- হাঃ ৪৬-[২৯৮৫])
عَنْ أَبِي سَعِيدِ بْنِ أَبِي فُضَالَةَ الْأَنْصَارِي، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ يَقُولُ: إِذَا جَمَعَ اللهُ الْأَوَّلِينَ وَالْآخِرِينَ، لِيَوْمٍ لَّا رَيْبَ فِيهِ، نَادَى مُنَادٍ: مَنْ كَانَ أَشْرَكَ فِي عَمَلٍ عَمِلَهُ لِلَّهِ أَحَدًا، فَلْيَطْلُبُ ثَوَابَهُ مِنْ عِنْدِ غَيْرِ اللَّهِ، فَإِنَّ اللَّهَ أَغْنَى الشُّرَكَاءِ عَنِ الشَّرْكِ.
আবূ সা'ঈদ বিন আবূ ফুযালাহ্ আল আনসারী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ -কে বলতে শুনেছি, যেদিন সম্পর্কে কোন সন্দেহ নেই সেদিন যখন আল্লাহ তা'আলা পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকল লোকেদেরকে একত্র করবেন, তখন একজন আহ্বানকারী আহ্বান করে বলবেন, যে ব্যক্তি তার 'আমালে আল্লাহর জন্য শরীক করে সে যেন তার সওয়াব আল্লাহ ব্যতীত অন্যের কাছে চায়। কেননা আল্লাহ শিককারীর শির্ক হতে মুক্ত। (মুসনাদে আহমাদ হাঃ ১৫৮৩৮ : সহীহ লিগয়রিহী, ইবনু মাজাহ হাঃ ৪২০৩: হাসান)
عَنْ مَحْمُودِ بْنِ لَبِيدٍ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ: إِنَّ أَخْوَفُ مَا أَخَافُ عَلَيْكُمُ الشَّرْكُ الْأَصْغَرُ قَالُوا: وَمَا الشَّرْكُ الْأَصْغَرُ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: الرِّيَاءُ، يَقُولُ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ يَوْمَ الْقِيَامَةِ: إِذَا جُزِيَ النَّاسُ بِأَعْمَالِهِمْ: اذْهَبُوا إِلَى الَّذِينَ كُنْتُمْ تُرَاءُونَ فِي الدُّنْيَا فَانْظُرُوا هَلْ تَجِدُونَ عِنْدَهُمْ جَزَاءً .
মাহমূদ বিন লাবীদ হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ বলেন: আমি তোমাদের ওপর সবচেয়ে বেশি ভয় করছি শিক্ক আসগর বা ছোট শিক্কের। তারা বললেন, শির্ক আসগর কি, হে আল্লাহর রসূল! তিনি বললেন, রিয়া। মহান আল্লাহ ক্বিয়ামাত দিবসে যখন মানুষদেরকে তাদের কাজের বদলা দিবেন তখন বলবেন, তোমরা যাও ঐ সমস্ত লোকেদের নিকট যাদেরকে তোমরা দুনিয়ায় দেখাতে, দেখ তাদের নিকট বিনিময় পাও কিনা? (মুসনাদে আহমাদ হাঃ ২৩৬৩০ : হাসান)
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ : مَنْ رَدَّتْهُ الطَّيَرَةُ مِنْ حَاجَةٍ، فَقَدْ أَشْرَكَ ، قَالُوا: يَا رَسُولَ اللهِ، مَا كَفَّارَةُ ذُلِكَ؟ قَالَ: أَنْ يَقُولَ أَحَدُهُمْ: اللَّهُمَّ لَا خَيْرَ إِلَّا خَيْرُكَ، وَلَا طَيْرَ إِلَّا طَيْرُكَ، وَلَا إِلَهَ غَيْرُكَ.
'আবদুল্লাহ বিন 'আম্মা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ বলেছেন: অশুভ লক্ষণের ধারণা যাকে কোন প্রয়োজন হতে ফিরিয়ে রাখল সে শির্ক করল। তারা বললেন, হে আল্লাহর রসূল! এর কাফফারাহ্ কি? রসূলুল্লাহ বললেন, তাদের কেউ বলবে, হে আল্লাহ! তোমার কল্যাণ ছাড়া কোন কল্যাণ নেই, তোমার অশুভ ছাড়া কোন অশুভ নেই। তুমি ছাড়া প্রকৃত কোন প্রভু নেই। (মুসনাদে আহমাদ হাঃ ৭০৪৫ : হাসান)
عَنْ أَبِي عَلِي رَجُلٍ مِّنْ بَنِي كَاهِلٍ قَالَ: خَطَبَنَا أَبُو مُوسَى الْأَشْعَرِيُّ فَقَالَ: يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا هَذَا الشَّرْكَ؛ فَإِنَّهُ أَخْفَى مِنْ دَبِيْبِ النَّمْلِ. فَقَامَ إِلَيْهِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ حَزْنٍ، وَقَيْسُ بْنُ المُضَارِبِ فَقَالَا: وَاللهِ لَتَخْرُجَنَّ مِمَّا قُلْتَ أَوْ لَتَأْتِيَنَّ عُمَرَ
مَأْذُونَ لَنَا أَوْ غَيْرُ مَأْذُونٍ. قَالَ : بَلْ أَخْرُجُ مِمَّا قُلْتُ، خَطَبَنَا رَسُولُ اللهِ ﷺ ذَاتَ يَوْمٍ فَقَالَ: أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا هَذَا الشَّرْكَ؛ فَإِنَّهُ أَخْفَى مِنْ دَبِيبِ النَّمْلِ . فَقَالَ لَهُ : مَنْ شَاءَ اللهُ أَنْ يَقُولَ وَكَيْفَ نَتَّقِيهِ، وَهُوَ أَخْفَى مِنْ دَبِيبِ النَّمْلِ يَا رَسُولَ اللهِ؟ قَالَ: قُولُوا: اللَّهُمَّ إِنَّا نَعُوذُ بِكَ مِنْ أَنْ نُشْرِكَ بِكَ شَيْئًا نَعْلَمُهُ، وَنَسْتَغْفِرُكَ لِمَا لَا نَعْلَمُهُ.
কাহিল গোত্রের এক ব্যক্তি আবূ 'আলী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ মূসা আল আশ্'আরী আমাদেরকে খুত্বাহ্ দিয়ে বললেন, হে লোক সকল! তোমরা এ শির্ক হতে বেচে থাকো। কেননা এটা ক্ষুদ্র পিপিলিকার চাইতেও গোপন। 'আবদুল্লাহ বিন হুয়্ ও ক্বায়স বিন মুয়ারিব দাঁড়িয়ে বললেন, আল্লাহর শপথ! আপনি যা বলেছেন তা বর্ণনা করেন অথবা উমারের কাছে যাবো, আমাদের জন্য শাস্তি আরোপ করুক আর নাই করুক, তিনি বলেন, বরং আমি যা বলেছি তা বর্ণনা করব। আমাদের মাঝে একদিন রসূলুল্লাহ ﷺ খুত্বাহ্ দিয়ে বললেন, হে লোক সকল! তোমরা এ শির্ক হতে নিজেকে রক্ষা করো, কেননা এটা ক্ষুদ্র পিপিলিকার চাইতেও গোপন। অতঃপর আল্লাহ এক ব্যক্তির ওপর ইচ্ছা করাই তিনি তাকে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমরা তা থেকে কিভাবে মুক্তি পাব অথচ তা ক্ষুদ্র পিপিলিকার থেকেও গোপন? রসূলুল্লাহ ﷺ বললেন : তোমরা বলো,
اللَّهُمَّ إِنَّا نَعُوذُ بِكَ مِنْ أَنْ نُشْرِكَ بِكَ شَيْئًا نَعْلَمُهُ، وَنَسْتَغْفِرُكَ لِمَا لَا نَعْلَمُهُ.
হে আল্লাহ! আমরা তোমার কাছে আমাদের জানা শির্ক হতে আশ্রয় চাচ্ছি এবং আমাদের অজানা শির্ক হতেও ক্ষমা চাচ্ছি। (সহীহ আত্ তারগীব ওয়াত্ তারহীব ১/৯ পৃঃ, হাঃ ৩৬ : হাসান লিগয়রিহী)
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ حَيَّانَ، حَدَّثَنَا رَوْحُ بْنُ أَسْلَمَ، وَفَهْدٌ، قَالَا: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا لَيْثُ، عَنْ أَبِي مُحَمَّدٍ، عَنْ مَعْقِلِ بْنِ يَسَارٍ،
قَالَ: شَهِدْتُ النَّبِيَّ ﷺ مَعَ أَبِي بَكْرٍ، أَوْ قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو بَكْرٍ، عَنِ النَّبِيِّ ﷺ أَنَّهُ قَالَ: «الشَّرْكُ أَخْفَى فِيكُمْ مِنْ دَبِيبِ النَّمْلِ» فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ: وَهَلِ الشَّرْكُ إِلَّا مَنْ دَعَا مَعَ اللَّهِ إِلَهَا آخَرَ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ : «الشَّرْكُ أَخْفَى فِيكُمْ مِنْ دَبِيبِ النَّمْلِ» ثُمَّ قَالَ: «أَلَا أَدُلُّكَ عَلَى مَا يُذْهِبُ عَنْكَ صَغِيرَ ذَلِكَ وَكَبِيرُهُ؟ قُلِ: اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ أَنْ أُشْرِكَ بِكَ وَأَنَا أَعْلَمُ، وَأَسْتَغْفِرُكَ مِمَّا لَا أَعْلَمُ».
মা'কিল বিন ইয়াসার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নাবী -এর নিকট উপস্থিত ছিলাম অথবা তিনি বলেছেন, আমাকে আবূ বাক্র সিদ্দীক হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি রসূলুল্লাহ হতে বর্ণনা করেন যে, রসূলুল্লাহ বলেছেন, ক্ষুদ্র পিপিলিকার ন্যায় ছোট শিক্ তোমাদের মধ্যে হয়ে থাকে। আবূ বাক্র বলেন, যে আল্লাহর সাথে অন্যকে ডাকে এছাড়া কি শির্ক আছে? অতঃপর রসূলুল্লাহ বললেন ক্ষুদ্র পিপিলিকার ন্যায় ছোট শিক্ তোমাদের মধ্যে আছে। অতঃপর বললেন, আমি কি তোমাকে জানাবো না ঐ ছোট শির্ক এবং বড় শিক্ যা তোমার থেকে চলে যাবে? তুমি বল,
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ أَنْ أُشْرِكَ بِكَ وَأَنَا أَعْلَمُ وَأَسْتَغْفِرُكَ مِمَّا لَا أَعْلَمُ.
হে আল্লাহ আমি তোমার সাথে জেনে যে শিক্ করি তা থেকে তোমার নিকট আশ্রয় চাই এবং যা জানি না তা থেকে ক্ষমা চাই। (সহীহ আল আদাবুল মুফরাদ হাঃ ৫৫৪/৭১৬, সহীহুল জামি' হাঃ ৩৭৩১; তবে “তিনবার পড়তে হবে” এ কথাটি আলবানী য'ঈফ বলেছেন- য'ঈফুল জামি' হাঃ ৩৪৩৩) উপরোক্ত আলোচনা পূর্ণটিই তাফসীরে ইবনে কাসীর-এর অত্র আয়াতের ব্যাখ্যা থেকে নেয়া হয়েছে।
﴿وَمَا يُؤْمِنُ أَكْثَرُهُمْ بِاللَّهِ إِلَّا وَهُمْ مُشْرِكُونَ ﴾
“অধিকাংশ মানুষ আল্লাহতে বিশ্বাস করে, কিন্তু সাথে সাথে শিকও করে।” (সূরাহ্ ইউসুফ ১২ : ১০৬) (ইবনু কাসীর ২য় খণ্ড ৬৪৯, ৬৫০, ৬৫১ পৃষ্ঠা)
📄 অধিকাংশের অনুকরণ ও দোহাই কাফির, মুশরিক নির্বোধ ও বিদ্‘আতীদের নীতি
সংখ্যাগরিষ্ঠতা বা অধিকাংশ লোক সত্যের মাপকাঠি নয়। বরং অল্প সংখ্যক লোকই হাক্বের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে। অধিকাংশ লোকই গোমরাহির পথে থাকবে, তাই অধিকাংশের অনুকরণ ও দোহাই দেয়া মুশরিকদের নীতি, যে পথের অনুকরণ না হাক্বপন্থী, বিদ'আতীরা করবে। আল কুরআনে মহান আল্লাহ অধিকাংশ লোককে খারাপের ব্যাপারে যে সংবাদ দিয়েছেন, আমরা তার কিছু উল্লেখ করছি।
১. আল্লাহ তা'আলা বলেন, وَإِنْ تُطِعْ أَكْثَرَ مَنْ فِي الْأَرْضِ يُضِلُّوكَ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ إِنْ يَتَّبِعُونَ إِلَّا الظَّنَّ وَإِنْ هُمْ إِلَّا يَخْرُصُونَ إِنَّ رَبَّكَ هُوَ أَعْلَمُ مَنْ يَضِلُّ عَنْ سَبِيلِهِ وَهُوَ أَعْلَمُ بِالْمُهْتَدِينَ “হে নাবী! আপনি যদি অধিকাংশ লোকের কথা মানেন, তাহলে তারা আপনাকে আল্লাহর পথ থেকে গোমরাহ করে দিবে। কেননা তারা প্রত্যেকেই নিজ নিজ ধারণার অনুকরণ করে এবং অনুমান করে কথা বলে। নিশ্চয় আপনার প্রভু সবচাইতে বেশি জানেন, কারা আল্লাহর পথ হতে গোমরাহ হয়েছে এবং তিনিই অধিক জানেন কারা হিদায়াতপ্রাপ্ত বা সঠিক পথে আছে।” (সূরাহ্ আল আন'আম ৬ : ১১৬-১১৭)
২. তিনি আরো বলেন, وَمَا أَكْثَرُ النَّاسِ وَلَوْ حَرَصْتَ بِمُؤْمِنِينَ )) “(হে নাবী!) আপনি যতই আকাঙ্ক্ষা করেন না কেন (আপনার কথার প্রতি) অধিকাংশ লোক ঈমান আনবে না।” (সূরাহ্ ইউসুফ ১২: ১০৩)
৩. তিনি আরো বলেন, وَمَا يُؤْمِنُ أَكْثَرُهُمْ بِاللَّهِ إِلَّا وَهُمْ مُشْرِكُونَ )
“অধিকাংশ লোক আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেও তারা মুশরিক।” (সূরাহ্ ইউসুফ ১২: ১০৬)
৪. তিনি আরো বলেন, الْأَرْ تِلْكَ أَيْتُ الْكِتَبِ وَالَّذِي أُنْزِلَ إِلَيْكَ مِنْ رَبِّكَ الْحَقُّ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يُؤْمِنُونَ ﴾ “আলিফ লাম মীম্ রা-; এগুলো কিতাবের আয়াত। যা কিছু আপনার পালনকর্তার পক্ষ থেকে নাযিল হয়েছে তা সত্য। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ বিশ্বাস করে না।” (সূরাহ্ আর্ রা'দ ১৩ : ১)
৫. তিনি আরো বলেন,
بَلْ أَكْثَرُهُمْ لَا يَعْلَمُونَ “বরং অধিকাংশ লোক জ্ঞানহীন (অজ্ঞ)।” (সূরাহ্ আন্ নাম্ল ২৭ : ৬১, ইউসুফ ১২ : ৫৫, আল আ'রাফ ৭ : ১৩১, আত্ তূর ৫২ : ৪৭, আয যুমার ৩৯ : ২৯, ৪৯, লুক্বমান ৩১ : ২৫, আল আন'আম ৬ : ৩৭, আল ক্বাসাস, ২৮ : ১৩, ৫৭)
৬. তিনি আরো বলেন,
وَإِنَّ رَبَّكَ لَذُو فَضْلٍ عَلَى النَّاسِ وَلَكِنَّ أَكْثَرَهُمْ لَا يَشْكُرُونَ ﴾ ٦٠ “আপনার পালনকর্তা মানুষের প্রতি অনুগ্রহশীল কিন্তু তাদের অধিকাংশ লোক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না।” (সূরাহ্ আন্ নাম্ল ২৭ : ৭৩, ইউনুস ১০ : ৬০)
৭. তিনি আরো বলেন, إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَةً وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُمْ مُؤْمِنِينَ
“নিশ্চয় এতে নিদর্শন আছে এবং তাদের অধিকাংশই বিশ্বাসী নয়।” (সূরাহ্ আশ্ শু'আরা ২৬ : ৮, ৬৭, ১০৩, ১২১, ১৩৯, ১৫৮, ১৭৪, ১৯০)
৮. তিনি আরো বলেন,
وَلَقَدْ ضَلَّ قَبْلَهُمْ أَكْثَرُ الْأَوَّلِينَ ٧١
"তাদের পূর্বে অগ্রবর্তীদের অধিকাংশ পথভ্রষ্ট ছিল।” (সূরাহ্ আস্ স-ফফা-ত ৩৭ : ৭১)
৯. তিনি আরো বলেন, بَلْ أَكْثَرُهُمْ لَا يَعْلَمُونَ الْحَقَّ فَهُمْ مُعْرِضُونَ ﴾
“বরং তাদের অধিকাংশ লোকই সত্যকে জানে না; অতএব তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়।” (সূরাহ্ আল আম্বিয়া ২১ : ২৪)
১০. তিনি আরো বলেন, بَلْ جَاءَهُمْ بِالْحَقِّ وَأَكْثَرُهُمْ لِلْحَقِّ كَارَهُونَ ﴾
“বরং তিনি তাদের নিকট সত্য নিয়ে আগমন করেছেন এবং তাদের অধিকাংশ লোক সত্যকে অপছন্দ করে।” (সূরাহ্ আল মু'মিনূন ২৩ : ৭০)
১১. তিনি আরো বলেন, كِتَابٌ فُصِّلَتْ آيَاتُهُ قُرْآنًا عَرَبِيًّا لِقَوْمٍ يَعْلَمُونَ بَشِيرًا وَنَذِيرًا فَأَعْرَضَ أَكْثَرُهُمْ فَهُمْ لَا يَسْمَعُوْنَ ﴾
“এটা একটি কিতাব। এর আয়াতসমূহ আরবী কুরআনরূপে জ্ঞানী লোকেদের জন্য বিশদভাবে বর্ণনা করা হয়েছে সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী রূপে। অতঃপর তাদের অধিকাংশ লোক মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, ফলে তারা শুনেও না।” (সূরাহ্ আস্ সাজদাহ্ ৩২ : ৩-৪)
১২. তিনি আরো বলেন, أَمْ تَحْسَبُ أَنَّ أَكْثَرَهُمْ يَسْمَعُونَ أَوْ يَعْقِلُونَ إِنْ هُمْ إِلَّا كَالْأَنْعَامِ بَلْ هُمْ أَضَلُّ سَبِيلًا ﴾
“আপনি কি মনে করেন যে, তাদের অধিকাংশ লোক শোনে অথবা বোঝে? তারা তো চতুষ্পদ জন্তুর মতো; বরং তার থেকেও পথভ্রান্ত।” (সূরাহ্ আল ফুরক্বান ২৫: ৪৪)
১৩. তিনি আরো বলেন, وَ لَقَدْ صَرَّفْنٰهُ بَيْنَهُمْ لِيَذَّكَّرُوْا فَاَبٰى اَكْثَرُ النَّاسِ اِلَّا كُفُوْرًا “আর আমি তা তাদের মধ্যে বিভিন্নভাবে বিতরণকারী যাতে তারা স্মরণ করে। কিন্তু অধিকাংশ লোক অকৃতজ্ঞতা ছাড়া কিছুই করে না।” (সূরাহ্ আল ফুরকান ২৫ : ৫০)
১৪. তিনি আরো বলেন, يُلْقُوْنَ السَّمْعَ وَ اَكْثَرُهُمْ كٰذِبُوْنَ “তারা শ্রুত কথা এনে দেয় এবং তাদের অধিকাংশই মিথ্যাবাদী।” (সূরাহ্ আশ্ শু'আরা ২৬ : ২২৩)
১৫. তিনি আরো বলেন, وَ لٰكِنَّ اَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَشْكُرُوْنَ “কিন্তু অধিকাংশ মানুষই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না।” (সূরাহ্ ইউসুফ ১২ : ৩৮)
১৬. তিনি আরো বলেন, وَ لٰكِنَّ اَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُوْنَ “কিন্তু অধিকাংশ মানুষই জ্ঞানহীন।” (সূরাহ্ আল আনফাল ৮: ৩৪, আল জা-সিয়াহ্ ৪৫ : ২৬, আন্ নাহ্ল ১৬: ৩৮, ৭৫, ১০১; আর্ রূম ৩০ : ৬, ৩০, ইফসুফ ১২ : ২১, ৪০, ৬৮; সাবা- ৩৪ : ২৮, ৩৬; আল মু'মিন / গাফির ৪০ : ৫৭)
১৭. তিনি আরো বলেন, يَعْرِفُوْنَ نِعْمَتَ اللّٰهِ ثُمَّ يُنْكِرُوْنَهَا وَ اَكْثَرُهُمُ الْكٰفِرُوْنَ “তারা আল্লাহর নি'আমত বা অনুগ্রহ চিনে, এরপর তারা অস্বীকার করে এবং তাদের অধিকাংশই কাফির।” (সূরাহ্ আন্ নাহ্ন ১৬ : ৮৩)
১৮. তিনি আরো বলেন, وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يُؤْمِنُونَ ) “কিন্তু অধিকাংশ লোকই ঈমানদার না।” (সূরাহ্ হুদ ১১ : ১৭, আল আ'রাফ ৭ : ১৮৭)
১৯. তিনি আরো বলেন, وَمَا يَتَّبِعُ أَكْثَرُهُمْ إِلَّا ظَنَّا إِنَّ الظَّنَّ لَا يُغْنِي مِنَ الْحَقِّ شَيْئًا ) “আর তাদের অধিকাংশই শুধু আন্দাজ-অনুমানের উপর চলে, অথচ আন্দাজ-অনুমান সত্যের বেলায় কোন কাজেই আসবে না।” (সূরাহ্ ইউনুস ১০ : ৩৬)
২০. শয়তান আল্লাহ তা'আলাকে বলেছিল, وَلَا تَجِدُ أَكْثَرَهُمْ شَاكِرِينَ ) “আপনি তাদের অধিকাংশ লোককে কৃতজ্ঞ পাবেন না।” (সূরাহ্ আল আ'রাফ ৭ : ১৭)
২১. তিনি আরো বলেন, وَأَكْثَرُهُمْ لَا يَعْقِلُونَ ) “তাদের অধিকাংশেরই বিবেক বুদ্ধি নেই।” (সূরাহ্ আল মায়িদাহ্ ৫ : ১০৩, আল 'আনকাবূত ২৯ : ৬৩)
২২. তিনি আরো বলেন, وَأَنَّ أَكْثَرَكُمْ فَاسِقُونَ ) “আর তোমাদের অধিকাংশই ফাসিক।” (সূরাহ্ আল মায়িদাহ্ ৫ : ৫৯, আ-লি 'ইমরান ৩ : ১১০, আত্ তাওবাহ্ ৯ : ৮)
২৩. তিনি আরো বলেন, إِنَّ اللَّهَ لَذُو فَضْلٍ عَلَى النَّاسِ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَشْكُرُونَ )
“নিশ্চয় আল্লাহ মানুষের ওপর অনুগ্রহকারী। কিন্তু অধিকাংশ লোক শুকরিয়া আদায় করে না।” (সূরাহ্ আল বাক্বারাহ্ ২: ২৪৩, আল মু'মিন / গাফির ৪০: ৬১, ইউনুস ১০: ৬০)
২৪. তিনি আরো বলেন, وَيَوْمَ يَحْشُرُهُمْ جَمِيعًا ثُمَّ يَقُولُ لِلْمَلَئِكَةِ أَهْؤُلَاءِ إِيَّاكُمْ كَانُوا يَعْبُدُونَ ) قَالُوا سُبْحَانَكَ أَنْتَ وَلِيُّنَا مِنْ دُونِهِمْ بَلْ كَانُوا يَعْبُدُونَ الْجِنَّ أَكْثَرُهُمْ بِهِمْ مُؤْمِنُونَ
“যেদিন তিনি তাদের সবাইকে একত্রিত করবেন এবং ফেরেশতাদেরকে বলবেন, এরা কি তোমাদেরই 'ইবাদাত বা পূজা করত? ফেরেশতারা বলবে, আপনি পবিত্র আমরা আপনার পক্ষে, তাদের পক্ষে নই, বরং তারা জিনদের পূজা করত। তাদের অধিকাংশই শয়তানে বিশ্বাসী।” (সূরাহ্ সাবা ৩৪ : ৪০-৪১)
২৫. তিনি আরো বলেন, لَقَدْ حَقَّ الْقَوْلُ عَلَى أَكْثَرِهِمْ فَهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ ﴾
“তাদের অধিকাংশের জন্য শাস্তির বিষয় অবধারিত হয়েছে। সুতরাং তারা বিশ্বাস স্থাপন করবে না।” (সূরাহ্ ইয়াসীন ৩৬ : ৭)
২৬. তিনি আরো বলেন, لَقَدْ جِئْنَاكُمْ بِالْحَقِّ وَلَكِنَّ أَكْثَرَكُمْ لِلْحَقِّ كَارِهُونَ ﴾
“আমি তোমাদের কাছে সত্য ধর্ম পৌঁছিয়েছি, কিন্তু তোমাদের অধিকাংশই হাক্বকে অপছন্দ করে।” (সূরাহ্ আয যুখরুফ ৪৩ : ৭৮)
২৭. তিনি আরো বলেন, وَلَقَدْ صَرَّفْنَا لِلْناسِ فِي هَذَا الْقُرْآنِ مِنْ كُلِّ مَثَلٍ فَأَبِي أَكْثَرُ النَّاسِ إِلَّا كُفُورًا ﴾
"আমি এই কুরআনে মানুষকে বিভিন্ন উপকার দ্বারা সবরকম বিষয়বস্তু বুঝিয়েছি। কিন্তু অধিকাংশ লোকই অস্বীকার না করে থাকেনি।” (সূরাহ্ বানী ইসরাঈল ১৭: ৮৯)
২৮. তিনি আরো বলেন,
وَلَقَدْ أَنْزَلْنَا إِلَيْكَ آيَاتٍ بَيِّنَاتٍ وَمَا يَكْفُرُ بِهَا إِلَّا الْفُسِقُوْنَ أَوَ كُلَّمَا عَاهَدُوا عَهْدًا نَبَذَةً فَرِيقٌ مِّنْهُمْ بَلْ أَكْثَرُهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ “আমি আপনার প্রতি উজ্জল নিদর্শনসমূহ অবতীর্ণ করেছি। অবাধ্যরা ব্যতীত কেউ এগুলো অস্বীকার করে না। কি আশ্চর্য! যখন তারা কোন অঙ্গীকার-চুক্তিতে আবদ্ধ হয় তখন তাদের একদল চুক্তিপত্র ছুড়ে ফেলে। বরং তাদের অধিকাংশ লোকই ঈমানদার নয়।” (সূরাহ্ আল বাক্বারাহ্ ২ : ৯৯- ১০০)
২৯. তিনি আরো বলেন,
وَلَكِنَّ أَكْثَرَهُمْ يَجْهَلُونَ “কিন্তু তাদের অধিকাংশ লোকই মূর্খ।” (সূরাহ্ আল আন'আম ৬ : ১১১)
৩০. তিনি আরো বলেন,
وَمَا وَجَدْنَا لِأَكْثَرِهِمْ مِنْ عَهْدٍ وَإِنْ وَجَدْنَا أَكْثَرَهُمْ لَفَاسِقِينَ “আর তাদের অধিকাংশ লোককেই আমি প্রতিজ্ঞা বাস্তবায়নকারী রূপে পাইনি, বরং তাদের অধিকাংশ লোককে ফাসিক বা হুকুম অমান্যকারী পেয়েছি।” (সূরাহ্ আল আ'রাফ ৭ : ১০২)
৩১. তিনি আরো বলেন,
كَانَ أَكْثَرُهُمْ مُشْرِكِينَ “তাদের অধিকাংশ লোকই মুশরিক ছিল।” (সূরাহ্ আর্ রূম ৩০ : ৪২)
📄 অল্প সংখ্যক লোকই নাজাতপ্রাপ্ত
মহান আল্লাহ তা'আলা কুরআনুল কারীমে অসংখ্য আয়াতে যেমন অধিকাংশ লোকের খারাবী বর্ণনা করেছেন, তেমনভাবে আবার অল্পসংখ্যক লোকের হাক্ব বা ভালোর উপর থাকবে তাও বহু সংখ্যক আয়াতে আলোচনা করেছেন। আমরা তার থেকে কিছু আয়াতে কারীমাসহ উল্লেখ করেছি।
১. আল্লাহ তা'আলা বলেন, وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ ثُمَّ تَوَلَّيْتُمْ إِلَّا قَلِيلًا مِّنْكُمْ وَأَنْتُمْ مُعْرِضُونَ ﴾ “তোমরা সলাত প্রতিষ্ঠা করবে এবং যাকাত প্রদান করবে, অতঃপর অল্প সংখ্যক লোক ব্যতীত তোমরা মুখ ফিরিয়ে নিলে, তোমরাই অগ্রাহ্যকারী।” (সূরাহ্ আল বাক্বারাহ্ ২ : ৮৩)
২. তিনি আরো বলেন, وَقَالُوا قُلُوبُنَا غُلْفٌ بَلْ لَعَنَهُمُ اللهُ بِكُفْرِهِمْ فَقَلِيلًا مَّا يُؤْمِنُونَ ﴾ “তারা বলে, আমাদের অন্তর অর্ধাবৃত বরং তাদের কুফরের কারণে আল্লাহ অভিসম্পাত করেছেন। অতএব তারা অল্পলোেকই ঈমান আনে।” (সূরাহ্ আল বাক্বারাহ্ ২ : ৮৮)
৩. তিনি আরো বলেন, فَلَمَّا كُتِبَ عَلَيْهِمُ الْقِتَالُ تَوَلَّوْا إِلَّا قَلِيلًا مِّنْهُمْ وَاللَّهُ عَلِيمٌ بِالظَّالِمِينَ ﴾ “অতঃপর যখন তাদের ওপর কিতাল বা সংগ্রামকে ফার্য করা হল তখন তাদের অল্প সংখ্যক ব্যতীত মুখ ফিরিয়ে নিল। আর আল্লাহ যালিমদের সম্পর্কে অধিক অবগত আছেন।” (সূরাহ্ আল বাক্বারাহ্ ২ : ২৪৬)
৪. তিনি আরো বলেন,
فَلَمَّا فَصَلَ طَالُوتُ بِالْجُنُودِ قَالَ إِنَّ اللَّهَ مُبْتَلِيْكُمْ بِنَهَرٍ فَمَنْ شَرِبَ مِنْهُ فَلَيْسَ مِنِّي وَمَنْ لَمْ يَطْعَمْهُ فَإِنَّهُ مِنِّي إِلَّا مَنِ اغْتَرَفَ غُرْفَةً بِيَدِهِ فَشَرِبُوا مِنْهُ إِلَّا قَلِيلًا مِّنْهُمْ فَلَمَّا جَاوَزَةً هُوَ وَالَّذِينَ آمَنُوا مَعَهُ قَالُوا لَا طَاقَةَ لَنَا الْيَوْمَ بِجَالُوتَ وَجُنُودِهِ قَالَ الَّذِينَ يَظُنُّونَ أَنَّهُمْ مُلَاقُو اللَّهِ كَمْ مِنْ فِئَةٍ قَلِيلَةٍ غَلَبَتْ فِئَةً كَثِيرَةً بِإِذْنِ اللَّهِ وَاللَّهُ مَعَ الصَّابِرِينَ ﴾
“অতঃপর তালুত যখন সৈন্য সামান্ত নিয়ে বের হল তখন তিনি বললেন, নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদেরকে একটি নদীর মাধ্যমে পরীক্ষা করবেন। সুতরাং যে লোক সেই নদীর পানি পান করবে সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়। আর যে লোক তার স্বাদ গ্রহণ করবে না নিশ্চয় সে আমার অন্তর্ভুক্ত লোক। তবে যে লোক হাতের আজলা ভরে সামান্য খেয়ে নিবে তার কোন দোষ নেই। অতঃপর অল্প সংখ্যক লোক ব্যতীত সবাই পানি পান করল। পরে তালুত যখন তা পার হল এবং তার সাথে অল্প সংখ্যক ঈমানদার ছিল। তখন তারা অধিকাংশ বলতে লাগলো, আজকের দিনে জালুত এবং তার সেনাবাহিনীর সাথে যুদ্ধ করার শক্তি আমাদের নেই। যাদের ধারণা ছিল যে, আল্লাহর সাথে একদিন সাক্ষাত করতে হবে তারা বলতে লাগল, আল্লাহর হুকুমে অল্প সংখ্যক দলই বিরাট দলের মোকাবিলায় বিজয়ী হয়েছে। আর আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে রয়েছেন।” (সূরাহ্ আল বাক্বারাহ্ ২ : ২৪৯)
৫. তিনি আরো বলেন, فَلَا يُؤْمِنُونَ إِلَّا قَلِيلًا )
“অতএব অল্পসংখ্যক লোক ব্যতীত তারা ঈমান আনবে না।” (সূরাহ্ আন্ নিসা ৪ : ৪৬, ১৫৫)
৬. তিনি আরো বলেন, وَلَا تَزَالُ تَطَّلِعُ عَلَى خَائِنَةٍ مِّنْهُمْ إِلَّا قَلِيلًا مِّنْهُمْ ﴾
"আপনি তাদের অল্প সংখ্যক ব্যতীত তাদের পক্ষ থেকে কোন না কোন প্রতারণা সম্পর্কে অবগত হচ্ছেন।” (সূরাহ্ আল মায়িদাহ্ ৫ : ১৩)
৭. তিনি আরো বলেন, ﴿مَا فَعَلُوهُ إِلَّا قَلِيلٌ مِّنْهُمْ ﴾ “তাদের অল্প সংখ্যক লোক ব্যতীত আল্লাহর নির্দেশকে বাস্তবায়ন করতো না।” (সূরাহ্ আন্ নিসা ৪ : ৬৬)
৮. তিনি আরো বলেন, ﴿وَمَا آمَنَ مَعَهُ إِلَّا قَلِيلًا ﴾ “বলাবাহুল্য অল্প সংখ্যক লোকই তার সাথে ঈমান এনেছিল।” (সূরাহ্ হুদ ১১ : ৪০)
৯. তিনি আরো বলেন, ﴿إِلَّا قَلِيلًا مِّمَّنْ أَنْجَيْنَا مِنْهُمْ﴾ “তবে অল্প সংখ্যক লোক যাদেরকে আমি তাদের মধ্য থেকে রক্ষা করেছি।” (সূরাহ্ হুদ ১১ : ১১৬)
১০. তিনি আরো বলেন, ﴿لَئِنْ أَخَّرْتَنِ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ لَأَحْتَنِكَنَّ ذُرِّيَّتَهُ إِلَّا قَلِيلًا﴾ “(শয়তান বলল) যদি আপনি আমাকে ক্বিয়ামাত দিবস পর্যন্ত অবকাশ দেন, তাহলে অল্প সংখ্যক ব্যতীত আদমের বংশধরদেরকে সমূলে নষ্ট করে দিব।” (সূরাহ্ বানী ইসরাঈল ১৭ : ৬২)
১১. তিনি আরো বলেন, ﴿إِلَّا الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ وَقَلِيلٌ مَّا هُمْ﴾ “তবে তারা করে না যারা আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে, অবশ্য এমন লোকেদের সংখ্যা খুবই অল্প।” (সূরাহ্ সোয়াদ ৩৮ : ২৪)
৩২. তিনি আরো বলেন, وَإِنَّ كَثِيرًا مِّنَ النَّاسِ لَفَاسِقُونَ ﴾ ٤٩ “মানুষের মধ্যে অনেক লোকই ফাসিক্ব।” (সূরাহ্ আল মায়িদাহ্ ৫ : ৪৯)
১২. তিনি আরো বলেন, ﴿ وَقَلِيلٌ مِّنْ عِبَادِيَ الشَّكُورُ ﴾ “আমার বান্দাদের মধ্যে অল্পসংখ্যক লোকই কৃতজ্ঞ।” (সূরাহ্ সোয়াদ ৩৮ : ১৩)
📄 হাদীসেও মহানবী ﷺ অল্প সংখ্যক লোকেদের নাজাতের কথাই বলেছেন...
عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ ل، عَنِ النَّبِيِّ لا أَنَّهُ قَالَ : لَنْ يَبْرَحَ هَذَا الدِّينُ قَائِمًا، يُقَاتِلُ عَلَيْهِ عِصَابَةٌ مِّنَ الْمُسْلِمِينَ، حَتَّى تَقُومَ السَّاعَةُ.
'আলায়হি ওয়াসাল্লাম জাবির বিন সামুরাহ নাবী হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি () বলেছেন: মুসলিমদের থেকে অল্প সংখ্যক লোকই এই দ্বীন বা মাযহাবের উপর সর্বদা প্রতিষ্ঠিত থেকে ক্বিয়ামাত পর্যন্ত সংগ্রাম চালিয়ে যাবে। (মুসলিম- হাঃ ১৭২-[১৯২২])
عَنِ عَبْدِ اللهِ ابْنِ عُمَرَ ل، عَنِ النَّبِيِّ لا قَالَ: إِنَّ الْإِسْلَامَ بَدَأَ غَرِيبًا وَسَيَعُودُ غَرِيبًا كَمَا بَدَأَ ، وَهُوَ يَأْرِزُ بَيْنَ الْمَسْجِدَيْنِ، كَمَا تَأْرِزُ الْحَيَّةُ فِي جُحْرِهَا.
'আনহু ওরাসাল্লাম 'আবদুল্লাহ বিন উমার নাবী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি ( () বলেছেন, নিশ্চয় ইসলাম গরিবী অবস্থায় অর্থাৎ অল্প সংখ্যক লোকেদের মধ্যে ফিরে যাবে, যেভাবে অল্প লোক দ্বারা সূচনা হয়েছিল এবং সেই গরিবী ইসলাম দুই মাসজিদ অর্থাৎ মাসজিদে হারাম বা কাবা মাসজিদ এবং মাসজিদে নববীর মাঝের লোকেদের মধ্যে সঠিক অবস্থায় প্রত্যাবর্তন করবে। যেভাবে সাপ তার গর্তে ফিরে যায়। (মুসলিম- ২৩২-[১৪৬])
عَبْدَ اللهِ بْنَ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِى، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ل ذَاتَ يَوْمٍ وَنَحْنُ عِنْدَهُ: قَلَ رَسُولُ اللهِ ل : بَدَأَ الإِسْلَامُ غَرِيبًا وَسَيَعُودُ كَمَا بَدَأَ طُوبُى
لِلْغُرَبَاءِ»، فَقِيلَ: مَنِ الْغُرَبَاءُ يَا رَسُولَ اللهِ ؟ قَالَ: «أُنَاسٌ صَالِحُونَ، فِي أُنَاسِ سُوءٍ كَثِيرٍ، مَنْ يَعْصِيهِمْ أَكْثَرُ مِمَّنْ يُطِيعُهُمْ».
'আবদুল্লাহ ইবনু 'আম্র ইবনুল 'আসা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ বলেছেন: দ্বীন ইসলামের সূচনা গরিবী অবস্থায় ঘটেছে। আর সূচনায় যেমন ঘটেছিল পুনরায় সেরূপ ঘটবে। অতএব গরীবরাই সৌভাগ্যবান। জিজ্ঞেস করা হলো, গরিবের তাৎপর্য কি? বা গরিব কারা? তিনি () বলেন, অধিক সংখ্যক দুষ্ট লোকেদের মাঝখানে মুষ্টিমেয় সৎলোক। অনুগত দল অপেক্ষা অবাধ্য দলের সংখ্যা বেশি হবে। (মুসনাদে আহমাদ ৬৬৫০, ৭০৭২ : হাসান লিগয়রিহী)
রসূলুল্লাহ ও তার সহাবীগণ যে দলের অনুসারী ছিলেন একমাত্র সেটিই মুক্তিপ্রাপ্ত দল এবং অধিকাংশ লোকই যে জাহান্নামী ও সামান্য সংখ্যক যে হাক্বের উপর প্রতিষ্ঠিত তার জ্বলন্ত প্রমাণ নিম্নের হাদীস:
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ : لَيَأْتِيَنَّ عَلَى أُمَّتِي كَمَا أَتَى عَلَى بَنِي إِسْرَائِيلَ حَذْوَ النَّعْلِ بِالنَّعْلِ، حَتَّى إِنْ كَانَ مِنْهُمْ مَنْ أَتَى أُمَّةً عَلَانِيَةً لَكَانَ فِي أُمَّتِي مَنْ يَصْنَعُ ذَلِكَ، وَإِنَّ بَنِي إِسْرَائِيلَ تَفَرَّقَتْ عَلَى ثِنْتَيْنِ وَسَبْعِينَ مِلَّةً، وَتَفْتَرِقُ أُمَّتِي عَلَى ثَلَاثٍ وَسَبْعِينَ مِلَّةً، كُلُّهُمْ فِي النَّارِ إِلَّا مِلَّةً وَاحِدَةً ، قَالُوا: وَمَنْ هِيَ يَا رَسُولَ اللهِ؟ قَالَ: مَا أَنَا عَلَيْهِ وَأَصْحَابِي.
'আবদুল্লাহ বিন 'আম্র হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রসূলুল্লাহ বলেছেন : অবশ্যই আমার উম্মাতের ওপর এমন এক পর্যায় আসবে, যেরূপ অবস্থা হয়েছিল বনী ইসরাঈলদের। ... আর নিশ্চয় বানী ইসরাঈলরা বাহাত্তর দলে বিভক্ত হয়েছিল আর আমার উম্মাতবিভক্ত হবে তিহাত্তর দলে। তাদের থেকে এক দল ব্যতীত সকল দলই জাহান্নামে যাবে। সহাবীগণ বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ! যে দলটি জান্নাতে যাবে সে দল
কোনটি? নাবী বললেন, আমি ও আমার সহাবীগণ যে দলের ওপর আছি, সে দলটিই জান্নাতে যাবে এবং এ দলের ওপর যাঁরা অবিচল থাকবে। (তিরমিযী- হাঃ ২৬৪১: হাসান)
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ : «تَفْتَرِقُ هَذِهِ الْأُمَّةُ عَلَى ثَلَاثٍ وَسَبْعِينَ فِرْقَةً كُلُّهُمْ فِي النَّارِ إِلَّا وَاحِدَةً». قَالُوا: وَمَا هِيَ تِلْكَ الْفِرْقَةُ؟ قَالَ: «مَا أَنَا عَلَيْهِ الْيَوْمَ وَأَصْحَابِي».
আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : আমার উম্মাত তেহাত্তর দলে বিভক্ত হয়ে যাবে। তাদের মধ্যে একদল ব্যতীত সকল দলই জাহান্নামী। সহাবীগণ রদিয়াল্লাহু আনহুমা জিজ্ঞেস করলেন, সে জান্নাতী দল কোনটি? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আমি এবং আমার সহাবীরা আজকের দিনে যে পথের উপর অটল আছি সে দলটিই জান্নাতী। (ত্ববারানী সগীর- হাঃ ৭২৪, মিফতাহুল জান্নাহ্ ৫৮ পৃষ্ঠা)