📘 প্রথমে বর্জন পরে গ্রহণ > 📄 নাবীদের সম্পর্কে ভ্রান্ত ‘আক্বীদাহ্ : হায়াতুন্ নাবী, জিন্দা নাবী– এ কথা বলা শির্ক

📄 নাবীদের সম্পর্কে ভ্রান্ত ‘আক্বীদাহ্ : হায়াতুন্ নাবী, জিন্দা নাবী– এ কথা বলা শির্ক


অনেকে বলে থাকেন হায়াতুন্ নাবী, জিন্দা নাবী। নাবীরা দুনিয়াবী ক্ববরে জীবিত এবং নামাযরত- এ ব্যাপারে একটা জাল দলীলও রয়েছে। যেমন নিম্নে বর্ণিত হাদীসটি,
إِنَّ الْأَنْبِيَاءَ لَا يُتْرَكُوْنَ فِي قُبُورِهِمْ بَعْدَ أَرْبَعِينَ لَيْلَةً - وَلَكِنَّهُمْ يُصَلُّوْنَ بَيْنَ يَدَعِ اللَّهِ حَتَّى يُنْفَخَ فِي الصُّورِ.
অর্থাৎ- নাবীগণকে তাঁদের ক্ববরে চল্লিশ রজনীর পরে অবশিষ্ট রাখা হয় না। (অর্থাৎ- তাদেরকে জীবিত করা হয়) তাই তারা সলাত আদায় করতে থাকবেন যতক্ষণ না আল্লাহর সম্মুখে শিঙ্গায় ফুঁক না দেয়া হবে। (অর্থাৎ- ক্বিয়ামাতের পূর্ব পর্যন্ত।)
* হাদীসটি জাল : এটিকে ইমাম বায়হাক্বী “কিতাবুল হায়াতিল আম্বিয়া” গ্রন্থের (৪ পৃষ্ঠায়) উল্লেখ করেছেন।
হাদীসটি সম্পর্কে যুগশ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস শায়খ নাসিরুদ্দীন আলবানী (রহঃ) বলেন, সনদটি জাল, সনদে আহমাদ ইবনু 'আলী আল হাসনাবী মিথ্যার দোষে দোষী।
* তিনি হাকিম-এর শায়খ, হাকিম নিজেও তাকে দুর্বল বলেছেন এবং বলেন, তার হাদীস দলীল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়।
* আল খতীব বলেন : তিনি হাদীসের ব্যাপারে নির্ভরশীল ছিলেন না। তার সম্পর্কে মুহাম্মাদ ইবনু ইউসুফ জুরজানী আল কুশশী বলেন, তিনি একজন মিথ্যুক রাবী। তার হাদীস গ্রহণযোগ্য নয়।
* ইমাম সুয়ূত্বী হাদীসটি “আল লাআলী” গ্রন্থে (১/২৮৫) উল্লেখ করে বলেন, হাদীসটি উভয় দিক থেকে সঠিক নয়।
* এছাড়া এ হাদীসটি সহীহ হাদীস এবং কুরআন বিরোধী যা এটির জাল হওয়ার প্রমাণ বহন করছে- পরবর্তীতে যার আলোচনা আসছে। সুতরাং উক্ত কুরআন বিরোধী কথায় বিশ্বাস করলে ঈমান তার থাকবে না। অনন্ত জীবন একমাত্র আল্লাহর জন্যই নির্দিষ্ট।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00