📘 প্রথমে বর্জন পরে গ্রহণ > 📄 মহান আল্লাহর হাত

📄 মহান আল্লাহর হাত


মহান আল্লাহর হাত রয়েছে। আল্লাহ তা'আলা এ সম্পর্কে নিজেই বলেন : تَبَارَكَ الَّذِي بِيَدِهِ الْمُلْكُ ) “অতি মহান ও শ্রেষ্ঠ তিনি, সর্বময় কর্তৃত্ব ও রাজত্ব যাঁর হাতে।” (সূরাহ্ আল মুল্ক ৬৭ : ১) وَمَا قَدَرُوا اللهَ حَقَّ قَدْرِهِ وَالْأَرْضُ جَمِيعًا قَبْضَتُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَالسَّمَاتُ مَطْوِيَّاتٌ بِيَمِينِهِ “তারা আল্লাহ্র যথাযোগ্য মর্যাদা দেয় না। ক্বিয়ামাতের দিন সমগ্র পৃথিবী তাঁর হাতের মুষ্ঠিতে থাকবে, আর আকাশমণ্ডলী থাকবে ভাঁজ করা অবস্থায় তাঁর ডান হাতে।” (সূরাহ্ আয যুমার ৩৯ : ৬৭) قَالَ يَا إِبْلِيسُ مَا مَنَعَكَ أَنْ تَسْجُدَ لِمَا خَلَقْتُ بِيَدَيَّ اسْتَكْبَرْتَ أَمْ كُنْتَ مِنَ الْعَالِينَ “হে ইবলীস! আমি যাকে নিজ হাতে সৃষ্টি করেছি, তার প্রতি সাজদাবনত হতে তোমায় কিসে বাধা দিলো? তুমি কি ঔদ্ধত্য প্রকাশ করলে না তুমি উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন।” (সূরাহ্ সোয়াদ ৩৮ : ৭৫)
'আলায়হিস আনাস বলেন, রসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: মানুষ শাফা'আত এর জন্যে আদম সালাম-এর নিকটে এসে বলবে হে আদম! আপনি মানব জাতির পিতা। আল্লাহ আপনাকে নিজ হাতে সৃষ্টি করেছেন। (সহীহুল বুখারী- হাঃ ৪৪৭৬, ৭৪১০, ৭৪৪0)
এ হাদীস প্রমাণ করে আল্লাহর প্রকৃত হাত আছে। তার হাতে অঙ্গুলি রয়েছে।

📘 প্রথমে বর্জন পরে গ্রহণ > 📄 মহান আল্লাহর হাতে পাঁচটি করে অঙ্গুলিও আছে

📄 মহান আল্লাহর হাতে পাঁচটি করে অঙ্গুলিও আছে


হাদীসে এসেছে,
'আনহু 'আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ইয়াহুদী নাবী- ﷺ এর কাছে এসে বললো, হে মুহাম্মাদ! ক্বিয়ামাতের দিন আল্লাহ আসমান সমূহকে এক আঙ্গুলের উপর, জমিনগুলোকে এক আঙ্গুলের উপর পাহাড়সমূহকে এক আঙ্গুলের উপর, বৃক্ষলতাকে এক আঙ্গুলের উপর এবং সমস্ত সৃষ্টি জীবকে এক আঙ্গুলের উপর উঠিয়ে বলবেন, আমিই একমাত্র বাদশাহ! এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ ﷺ হেসে ফেললেন, এমনকি তার মাড়ির দাত প্রকাশিত হয়ে পড়লো। অতঃপর তিনি পাঠ করলেন “তারা আল্লাহর যথোচিত সম্মান করে না”- (সূরাহ্ আয যুমার ৩৯: ৬৭)। (বুখারী- হাঃ ৭৪১৪, মুসলিম- হাঃ ২১-[২৭৮৬], আহমাদ হাঃ ৪০৮৭, তিরমিযী- হাঃ ৩২৩৮)

📘 প্রথমে বর্জন পরে গ্রহণ > 📄 মহান আল্লাহর হাতের অঞ্জলিও রয়েছে

📄 মহান আল্লাহর হাতের অঞ্জলিও রয়েছে


আবূ উসামাহ্ বলেন, রসূলুল্লাহ ﷺ-কে বলতে শুনেছি আমার উম্মাতের মধ্য হতে সত্তর হাজার লোককে জান্নাতে পাঠাবেন, যাদের কোন 'আযাব হবে না এবং যাদের কোন حسابও হবে না। আবার উক্ত প্রত্যেক হাজারের সাথে সত্তর হাজার এবং আমার রব এর তিন অঞ্জলি ভর্তি লোকও জান্নাতে প্রবেশ করবেন। (আহমাদ হাঃ ২২৩০৩, তিরমিযী- হাঃ ৪২৮৬ : সহীহ)

📘 প্রথমে বর্জন পরে গ্রহণ > 📄 মহান আল্লাহর পা এবং পায়ের পিণ্ডলির বর্ণনা

📄 মহান আল্লাহর পা এবং পায়ের পিণ্ডলির বর্ণনা


এ মর্মে অনেক দলীল রয়েছে, নিম্নে একটি হাদীস প্রদত্ত হলো,
'আনহু আপাপ্পান আবূ হুরায়রাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ বলেছেন : জান্নাত ও জাহান্নাম উভয়ে আল্লাহর নিকটে অভিযোগ করল। জাহান্নাম বলল, ব্যাপার কি? আমাকে শুধু অহংকারী ও স্বৈরাচারীদের জন্যে নির্ধারণ করা হয়েছে। আর জান্নাত বলল: ব্যাপার কি? আমার মধ্যে কেবলমাত্র দুর্বল, নিম্নস্তরের ও নির্বোধ লোকেরাই প্রবেশ করবে। তখন আল্লাহ জান্নাতকে বলবেন, তুমি আমার রহমাত। সুতরাং আমার বান্দাদের হতে যাকে চাইব, আমি তোমার দ্বারা তার প্রতি অনুগ্রহ করব। আর জাহান্নামকে বলবেন, তুমি আমার 'আযাব। অতএব আমার বান্দাদের যাকে চাইব আমি তোমার দ্বারা তাকে 'আযাব দিব। আর তোমাদের প্রত্যেককে পরিপূর্ণ করা হবে। অবশ্য জাহান্নাম তখন পর্যন্ত পূর্ণ হবে না। যতক্ষণ না আল্লাহ তার পবিত্র পা তার মধ্যে রাখবেন। তখন জাহান্নাম বলবে যথেষ্ট, যথেষ্ট, যথেষ্ট হয়েছে। (সহীহুল বুখারী- হাঃ ৪৮৫০, সহীহ মুসলিম- হাঃ ৩৬-[২৮৪৬], আহমাদ হাঃ ৮১৬৪, মিশকাত- হাঃ ৫৬৯৪)
يَوْمَ يُكْشَفُ عَنْ سَاقٍ وَيُدْعَوْنَ إِلَى السُّجُودِ فَلَا يَسْتَطِيعُونَ ﴾
“যেদিন পায়ের গোছা বা পিণ্ডলি প্রকাশ করা হবে, সেদিন তাদেরকে সাজদাহ্ করতে আহবান করা হবে। অতঃপর তারা সাজদাহ্ করতে সক্ষম হবে না।” (সূরাহ্ আল ক্বালাম ৬৮ : ৪২)
'আলায়হি আবু সা'ঈদ খুদরী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নাবী 'আনহু থেকে শুনেছি। আমাদের প্রভু তার পায়ের গোছা বা পিণ্ডলী প্রকাশ করবেন। অতঃপর তার জন্য সকল মু'মিন, মু'মিনাহ সাজদাহ্ করবে এবং বাকী থাকবে ঐ সমস্ত লোক যারা দুনিয়াতে লোক দেখানো সাজদাহ্ করত। তারা সাজদাহ্ করতে যাবে। অতঃপর তাদের পিঠ এক তাবকা বা বরাবর সোজা হয়ে যাবে। (বুখারী- হাঃ ৪৯১৯, মিশকাত- হাঃ ৫৫৪২; ইবনু কাসীর- ৪র্থ খণ্ড, ৫২৪ পৃঃ) উক্ত হাদীস প্রমাণ করে আল্লাহর পা এবং পায়ের পিণ্ডলিও রয়েছে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00