📘 প্রথমে বর্জন পরে গ্রহণ > 📄 মহান আল্লাহর মুখমণ্ডল বা চেহারা

📄 মহান আল্লাহর মুখমণ্ডল বা চেহারা


আল্লাহ নিজের মুখমণ্ডল বুঝানোর জন্য وَجُةٌ )ওয়াজ্হুন) শব্দ ব্যবহার করেছেন। আর এর অর্থ মুখমণ্ডল বা চেহারা। বিশ্ব বিখ্যাত আরবী অভিধানের লেখক লুয়েস মালুক বলেন,
“ওয়াজহুন” অর্থ শরীরের মুখমণ্ডল। যেখানে দু'টি চুখ, নাক ও মুখ থাকে। (আল মুনজিদ- পৃঃ ৯৮২, বুখারী- আধুনিক প্রকাশনী, ৪৬৮ পৃঃ)
বাংলাদেশের অনেকে এর অর্থ বিকৃত করে সত্তা অর্থ করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন, ﴿وَيَبْقَى وَجْهُ رَبِّكَ ذُو الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ﴾
“আপনার রবের চেহারাই অবশিষ্ট থাকবে। যিনি মহত্ত্ব এবং দয়ার অধিপতি।” (সূরাহ্ আর রহমা-ন ৫৫ : ২৭) 'আলায়হি রসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:
أَعُوذُ بِوَجْهِكَ. আপনার মুখমণ্ডল দ্বারা আমি আশ্রয় চাচ্ছি। (সহীহুল বুখারী- হাঃ ৪৬২৮, ৭৩১৩, ৭৪০৬)

📘 প্রথমে বর্জন পরে গ্রহণ > 📄 মহান আল্লাহর চোখ

📄 মহান আল্লাহর চোখ


আল্লাহর দু'টি চোখও রয়েছে। যার সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলা নিজেই বলেন: ﴿وَاصْنَعِ الْفُلْكَ بِأَعْيُنِنَا وَوَحْيِنَا﴾
“আর তুমি আমার চোখের সামনে ও আমার নির্দেশক্রমে নৌকা নির্মাণ করে নাও।” (সূরাহ্ হৃদ ১১ : ৩৭) আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামা'আতের মতানৈক্য যে, আল্লাহর চোখ দু'টি। আর দাজ্জালের হাদীসটি তার স্পষ্ট দলীল,
'আবদুল্লাহ বিন 'উমার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ -এর সামনে দাজ্জাল এর কথা উল্লেখ করা হলে তিনি বলেন, আল্লাহ তোমাদের নিকট গোপন থাকবেন না। (বরং প্রকাশ্যে আসবেন এবং তোমরা দেখতে পাবে) আল্লাহ কানা নন। এ কথা বলে তিনি () তার হাত দিয়ে নিজের চোখের দিকে ইশারা করলেন আর মসীহ দাজ্জাল এর ডান চোখ কানা হবে। তার চোখ আঙ্গুরের মত হবে। তাতে দৃষ্টি শক্তি থাকবে না। (সহীহুল বুখারী- হাঃ ৭৪০৭)

📘 প্রথমে বর্জন পরে গ্রহণ > 📄 মহান আল্লাহর হাত

📄 মহান আল্লাহর হাত


মহান আল্লাহর হাত রয়েছে। আল্লাহ তা'আলা এ সম্পর্কে নিজেই বলেন : تَبَارَكَ الَّذِي بِيَدِهِ الْمُلْكُ ) “অতি মহান ও শ্রেষ্ঠ তিনি, সর্বময় কর্তৃত্ব ও রাজত্ব যাঁর হাতে।” (সূরাহ্ আল মুল্ক ৬৭ : ১) وَمَا قَدَرُوا اللهَ حَقَّ قَدْرِهِ وَالْأَرْضُ جَمِيعًا قَبْضَتُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَالسَّمَاتُ مَطْوِيَّاتٌ بِيَمِينِهِ “তারা আল্লাহ্র যথাযোগ্য মর্যাদা দেয় না। ক্বিয়ামাতের দিন সমগ্র পৃথিবী তাঁর হাতের মুষ্ঠিতে থাকবে, আর আকাশমণ্ডলী থাকবে ভাঁজ করা অবস্থায় তাঁর ডান হাতে।” (সূরাহ্ আয যুমার ৩৯ : ৬৭) قَالَ يَا إِبْلِيسُ مَا مَنَعَكَ أَنْ تَسْجُدَ لِمَا خَلَقْتُ بِيَدَيَّ اسْتَكْبَرْتَ أَمْ كُنْتَ مِنَ الْعَالِينَ “হে ইবলীস! আমি যাকে নিজ হাতে সৃষ্টি করেছি, তার প্রতি সাজদাবনত হতে তোমায় কিসে বাধা দিলো? তুমি কি ঔদ্ধত্য প্রকাশ করলে না তুমি উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন।” (সূরাহ্ সোয়াদ ৩৮ : ৭৫)
'আলায়হিস আনাস বলেন, রসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: মানুষ শাফা'আত এর জন্যে আদম সালাম-এর নিকটে এসে বলবে হে আদম! আপনি মানব জাতির পিতা। আল্লাহ আপনাকে নিজ হাতে সৃষ্টি করেছেন। (সহীহুল বুখারী- হাঃ ৪৪৭৬, ৭৪১০, ৭৪৪0)
এ হাদীস প্রমাণ করে আল্লাহর প্রকৃত হাত আছে। তার হাতে অঙ্গুলি রয়েছে।

📘 প্রথমে বর্জন পরে গ্রহণ > 📄 মহান আল্লাহর হাতে পাঁচটি করে অঙ্গুলিও আছে

📄 মহান আল্লাহর হাতে পাঁচটি করে অঙ্গুলিও আছে


হাদীসে এসেছে,
'আনহু 'আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ইয়াহুদী নাবী- ﷺ এর কাছে এসে বললো, হে মুহাম্মাদ! ক্বিয়ামাতের দিন আল্লাহ আসমান সমূহকে এক আঙ্গুলের উপর, জমিনগুলোকে এক আঙ্গুলের উপর পাহাড়সমূহকে এক আঙ্গুলের উপর, বৃক্ষলতাকে এক আঙ্গুলের উপর এবং সমস্ত সৃষ্টি জীবকে এক আঙ্গুলের উপর উঠিয়ে বলবেন, আমিই একমাত্র বাদশাহ! এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ ﷺ হেসে ফেললেন, এমনকি তার মাড়ির দাত প্রকাশিত হয়ে পড়লো। অতঃপর তিনি পাঠ করলেন “তারা আল্লাহর যথোচিত সম্মান করে না”- (সূরাহ্ আয যুমার ৩৯: ৬৭)। (বুখারী- হাঃ ৭৪১৪, মুসলিম- হাঃ ২১-[২৭৮৬], আহমাদ হাঃ ৪০৮৭, তিরমিযী- হাঃ ৩২৩৮)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00